ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৫
৮১. বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
- খপশ্চিমাঞ্চল
- গউত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
- ঘউত্তর-পূর্বাঞ্চল
সঠিক উত্তর: ঘ. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
প্রশ্নটি বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয় তা জানতে চেয়েছে। উত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা।
আকস্মিক বন্যা হয় যখন খুব অল্প সময়ে প্রচুর পানি নেমে আসে। এই অঞ্চলের ঠিক উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের খাড়া পাহাড়, পূর্বে আসাম, আর মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি-মৌসিনরাম পৃথিবীর সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল এলাকাগুলোর একটি। সেখানে ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিচু হাওরে নেমে আসে।
এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় চৈত্র-বৈশাখে, যখন হাওরের বোরো ধান পাকার মুখে থাকে। কয়েক দিনের ঢলেই পুরো ফসল তলিয়ে যেতে পারে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নাম দেখে অনেকে ভুল করেন, কারণ সেখানে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে মৌসুমি বন্যা হয়। কিন্তু সেটা ধীরে আসা নদীর বন্যা; পাহাড়ি ঢলের আকস্মিক বন্যার মূল এলাকা উত্তর-পূর্বের হাওর অঞ্চল।
মনে রাখুন: আকস্মিক বন্যা শুনলেই মনে করুন হাওর আর মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢল।
৮২. বাংলাদেশের কোন জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসিলেট
- খকুমিল্লা
- গরাজশাহী
- ঘদিনাজপুর
সঠিক উত্তর: ঘ. দিনাজপুর
প্রশ্নটি খনিজ সম্পদের অবস্থান নিয়ে। বিকল্পগুলোর মধ্যে কয়লা সমৃদ্ধ জেলা দিনাজপুর।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়ায় দেশের একমাত্র চালু ভূগর্ভস্থ কয়লাখনি। একই জেলার ফুলবাড়ী ও দীঘিপাড়াতেও কয়লার মজুদ পাওয়া গেছে। আশপাশে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ আর রংপুরের খালাশপীরেও কয়লা আছে, তাই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকেই কয়লার অঞ্চল বলা হয়।
বড়পুকুরিয়ার কয়লা দিয়েই পাশের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র চলে। একই জেলার মধ্যপাড়ায় আছে কঠিন শিলার খনি।
সিলেট দেখে অনেকে ভুল করেন, কারণ সিলেট খনিজে সমৃদ্ধ। কিন্তু সিলেটের পরিচয় প্রাকৃতিক গ্যাস, চুনাপাথর ও পাথরের জন্য, কয়লার জন্য নয়।
মনে রাখুন: কয়লা মানেই উত্তর-পশ্চিম: বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, দীঘিপাড়া দিনাজপুরে।
৮৩. সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কোন দুর্যোগটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কভূমিকম্প
- খভূমিধস
- গটর্নেডো
- ঘখরা
সঠিক উত্তর: ক. ভূমিকম্প
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে কোন দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে বলে ধরা হয়। প্রচলিত উত্তর ভূমিকম্প।
বাংলাদেশ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের কাছাকাছি: ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা প্লেট। উত্তরে ডাউকি ফল্ট আর পূর্বে চট্টগ্রাম-মিয়ানমার সীমান্তের ফল্ট অঞ্চলে বিপুল শক্তি জমে আছে বলে ভূতত্ত্ববিদেরা সতর্ক করেন।
ঝুঁকি বাড়ার মূল কারণ মানুষের তৈরি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দ্রুত ঘনবসতি বেড়েছে, অনেক ভবন বিল্ডিং কোড না মেনে বানানো, জলাশয় ভরাট করে নরম মাটির ওপর উঁচু ভবন উঠছে। তাই একই মাত্রার ভূমিকম্পে এখন ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হবে, আর ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি ধরা হয়।
ভূমিধসের ঝুঁকিও পাহাড়ি এলাকায় বেড়েছে, তাই এটি বিভ্রান্ত করে। কিন্তু সারা দেশের জন্য বড় আকারের যে ঝুঁকি নিয়ে বেশি আলোচনা, সেটি ভূমিকম্প।
মনে রাখুন: সাম্প্রতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রশ্নে বিসিএসের প্রচলিত উত্তর ভূমিকম্প, কারণ শহরের দুর্বল অবকাঠামো।
৮৪. নিম্নের কোন দুর্যোগ ‘hydro-meteorological’ দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবন্যা
- খখরা
- গঘূর্ণিঝড়
- ঘভূমিধস
সঠিক উত্তর: ক. বন্যা
প্রশ্নটি দুর্যোগের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে। পানি ও আবহাওয়ার কারণে যে দুর্যোগ ঘটে, তাকে হাইড্রো-মেটিওরোলজিক্যাল বা জল-আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ বলে। প্রচলিত গাইড-উত্তর বন্যা।
হাইড্রো মানে পানি আর মেটিওরোলজি মানে আবহাওয়াবিজ্ঞান। বন্যা এই দুইয়ের মিলনের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ: ভারী বৃষ্টি, উজানের ঢল আর নদীর পানি একসঙ্গে বেড়ে গিয়ে বন্যা হয়।
তবে খেয়াল রাখুন, খরা বৃষ্টির অভাবে আর ঘূর্ণিঝড় বায়ুমণ্ডলের নিম্নচাপে হয়, তাই এরাও একই শ্রেণির। অন্যদিকে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ও সুনামি হলো ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ। ভূমিধস বৃষ্টিতে হলে জল-আবহাওয়াজনিত, ভূমিকম্পে হলে ভূতাত্ত্বিক।
একাধিক বিকল্প সঠিক হওয়ায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছিল বলে একাধিক সমাধান-সূত্রে উল্লেখ আছে। তবু এ ধরনের প্রশ্নে পানি আর আবহাওয়া দুটোই সবচেয়ে সরাসরি জড়িত বলে বন্যাকেই প্রধান উদাহরণ ধরা হয়।
মনে রাখুন: হাইড্রো দেখলেই পানি: পানি আর আবহাওয়া মিললে বন্যা।
৮৫. ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কএকটি দেশের নাম
- খম্যানগ্রোভ বন
- গএকটি দ্বীপ
- ঘসাবমেরিন ক্যানিয়ন
সঠিক উত্তর: ঘ. সাবমেরিন ক্যানিয়ন
প্রশ্নটি বঙ্গোপসাগরের একটি বিশেষ ভূ-গঠন নিয়ে। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হলো একটি সাবমেরিন ক্যানিয়ন, মানে সমুদ্রতলের গভীর খাদ।
নামটিই ইঙ্গিত দেয়: নো গ্রাউন্ড মানে তল নেই, অর্থাৎ আশপাশের তুলনায় হঠাৎ অনেক গভীর জায়গা। খাদটির গভীরতা গড়ে প্রায় এক হাজার দুইশো মিটার, সবচেয়ে গভীর অংশে এক হাজার তিনশো মিটারেরও বেশি, যেখানে আশপাশের মহীসোপান অনেক অগভীর।
এটি সুন্দরবনের দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের উত্তর অংশে। এখানে ডলফিন, তিমি, হাঙর ও সামুদ্রিক কচ্ছপ থাকে বলে দুই হাজার চোদ্দ সালে এটি বাংলাদেশের প্রথম মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া বা সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।
ম্যানগ্রোভ বন বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ জায়গাটি সুন্দরবনের কাছে। কিন্তু সুন্দরবন স্থলভাগের বন, আর সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সমুদ্রের তলদেশের খাদ।
মনে রাখুন: নো গ্রাউন্ড মানে তলাহীন খাদ, তাই উত্তর সাবমেরিন ক্যানিয়ন।
৮৬. নিম্নের কোন উপজেলাটি সবচেয়ে নদীভাঙ্গন-প্রবণ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবোয়ালমারী
- খনড়িয়া
- গআলমডাঙ্গা
- ঘনিকলি
সঠিক উত্তর: খ. নড়িয়া
প্রশ্নটি নদীভাঙনপ্রবণ উপজেলা চেনা নিয়ে। বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলা।
নড়িয়া পদ্মার ডান তীরে। পদ্মা বিশাল পরিমাণ পানি আর পলি বহন করে এবং প্রায়ই গতিপথ বদলায়, তাই তীর ভাঙে দ্রুত। দুই হাজার আঠারো সালের বর্ষায় নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়, বাজার, হাসপাতাল ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়। এই ঘটনা তখন সারা দেশে আলোচিত ছিল।
উত্তর মনে রাখার উপায়: বড় নদীর তীরে থাকা উপজেলাই ভাঙনের শিকার হয়। বাকি তিনটি পদ্মা, যমুনা বা মেঘনার মতো বড় নদীর তীরে নয়।
নিকলি নামটি অনেকে বেছে নেন, কারণ এটি হাওরে পানিবেষ্টিত। কিন্তু হাওরের সমস্যা বন্যা ও ঢেউয়ের আঘাত, পদ্মার মতো বড় নদীর তীরভাঙন নয়।
মনে রাখুন: ভাঙনের প্রশ্নে খুঁজুন কোন উপজেলা পদ্মা, যমুনা বা মেঘনার তীরে।
৮৭. নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ককরচ
- খহিজল
- গডুমুর
- ঘগজারী
সঠিক উত্তর: ঘ. গজারী
প্রশ্নটি জলজ বা জলাভূমির উদ্ভিদ চেনা নিয়ে। গজারি জলজ উদ্ভিদ নয়।
গজারি হলো শাল গাছের স্থানীয় নাম। এটি উঁচু, শুকনো, লালচে মাটির পত্রপতনশীল বনের গাছ; মধুপুর, ভাওয়াল ও দিনাজপুরের শালবনে জন্মায়। দাঁড়িয়ে থাকা পানি এটি সহ্য করতে পারে না।
করচ ও হিজল হাওর-বিলের জলাবনের প্রধান গাছ। বর্ষায় এদের কাণ্ড কয়েক মাস পানির নিচে থাকে, তবু বেঁচে থাকে। সিলেটের রাতারগুল জলাবন ও টাঙ্গুয়ার হাওরে এদের দেখা যায়। ডুমুর গোত্রের কিছু গাছও জলাবনে জন্মায়; রাতারগুল জলাবনের গাছের তালিকায় কাকডুমুরও আছে।
জলজ উদ্ভিদ বলতে অনেকে শুধু শাপলা, কচুরিপানা ভাবেন, তাই গাছগুলো দেখে বিভ্রান্ত হন। এখানে জলজ মানে জলাবদ্ধতা সহ্য করা জলাভূমির গাছ; সেই বিচারে শুকনো মাটির গজারি আলাদা।
মনে রাখুন: গজারি মানেই শাল, আর শাল মানেই শুকনো লাল মাটির বন।
৮৮. বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭) কোন সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৯৭৪
- খ১৯৮৮
- গ১৯৯৮
- ঘ২০০৭
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৯৮
প্রশ্নটি উনিশশো একাত্তর থেকে দুই হাজার সাত পর্যন্ত কোন বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ডুবেছিল তা নিয়ে। উত্তর উনিশশো আটানব্বই।
উনিশশো আটানব্বইয়ের বন্যায় দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, প্রায় এক লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। এটি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসেরও বেশি স্থায়ী ছিল, তাই অনেকে একে শতাব্দীর ভয়াবহতম বন্যা বলেন। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার উজানে টানা ভারী বৃষ্টিতে তিন অববাহিকাতেই একসঙ্গে পানি বেড়ে যাওয়া ছিল এর মূল কারণ।
এর আগে উনিশশো অষ্টাশির বন্যায় প্রায় অর্ধেক থেকে ষাট শতাংশ এলাকা ডুবেছিল, ঢাকা শহরের বড় অংশও তলিয়ে যায়। উনিশশো চুয়াত্তরের বন্যায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ডোবে, আর দুই হাজার সাতের বন্যাও বড় ছিল কিন্তু এলাকার হিসাবে আটানব্বইয়ের চেয়ে কম।
উনিশশো অষ্টাশির বন্যা খুব পরিচিত বলে অনেকে সেটাই বেছে নেন। মনে রাখুন, বিস্তার ও স্থায়িত্ব দুই দিক থেকেই আটানব্বই সবার ওপরে।
মনে রাখুন: বন্যার বিস্তারে রেকর্ড উনিশশো আটানব্বই।
৮৯. সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কনয়াদিল্লি
- খকলম্বো
- গঢাকা
- ঘকাঠমাণ্ডু
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: নয়াদিল্লি। এখন: গান্ধীনগর, গুজরাট (অন্তর্বর্তী ইউনিট, ২০১৬ থেকে)।
প্রশ্নটি সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে। পরীক্ষার সময়কার প্রচলিত উত্তর ভারতের নয়াদিল্লি।
দুই হাজার পাঁচ সালে ঢাকায় ত্রয়োদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রস্তাবে কেন্দ্রটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়, আর দুই হাজার ছয় সালের দশ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে উদ্বোধন হয়। এর কাজ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নীতি সহায়তা দেওয়া।
দুই হাজার ষোলো সালের নভেম্বর থেকে কেন্দ্রের অন্তর্বর্তী ইউনিট গুজরাটের গান্ধীনগরে চলছে। তবু দেশ হিসেবে ভারতই এর আয়োজক, আর বিকল্পে গান্ধীনগর না থাকায় উত্তর নয়াদিল্লি।
কাঠমাণ্ডুতে সার্ক সচিবালয় আর ঢাকায় সার্ক কৃষি কেন্দ্র; এ দুটি নাম চেনা বলে ভুল বেছে নেওয়া হয়।
মনে রাখুন: সার্ক সচিবালয় কাঠমাণ্ডু, কৃষি কেন্দ্র ঢাকা, দুর্যোগ কেন্দ্র নয়াদিল্লি।
৯০. বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরণের বন্যা কবলিত হয় তার নাম- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কনদীজ বন্যা
- খআকস্মিক বন্যা
- গবৃষ্টিজনিত বন্যা
- ঘজলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
সঠিক উত্তর: ঘ. জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
প্রশ্নটি উপকূলের মানুষ কোন ধরনের বন্যার শিকার হয় তা নিয়ে। উত্তর জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বায়ুচাপ খুব কম থাকে আর প্রচণ্ড বাতাস সাগরের পানি উপকূলের দিকে ঠেলে দেয়। এতে সমুদ্রের পানি কয়েক মিটার ফুলে উঠে স্থলভাগে ঢুকে পড়ে; একেই জলোচ্ছ্বাস বলে। জোয়ারের সময় এলে উচ্চতা আরও বাড়ে। বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহীসোপান আর ফানেলের মতো উপকূলের গড়নের জন্য বাংলাদেশে জলোচ্ছ্বাস খুব উঁচু হয়।
উনিশশো সত্তর ও উনিশশো একানব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়ে বেশিরভাগ মানুষ মারা গিয়েছিলেন এই জলোচ্ছ্বাসের পানিতেই। লবণাক্ত পানি ঢুকে ফসল ও মিঠা পানির উৎসও নষ্ট করে দেয়।
অন্য বন্যাগুলোর এলাকা আলাদা: আকস্মিক বন্যা উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলে, নদীজ বন্যা বড় নদীর অববাহিকায়, আর বৃষ্টিজনিত বন্যা টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় পানি জমে।
মনে রাখুন: উপকূল মানেই জলোচ্ছ্বাস, হাওর মানেই আকস্মিক বন্যা।
৯১. নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কমার্বেল
- খকয়লা
- গগ্রানাইট
- ঘনিস
সঠিক উত্তর: খ. কয়লা
প্রশ্নটি পাললিক শিলা চেনা নিয়ে। উত্তর কয়লা।
শিলা তিন ধরনের। আগ্নেয় শিলা তৈরি হয় গলিত ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে জমে, যেমন গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট। পাললিক শিলা তৈরি হয় পলি, বালি বা জৈব পদার্থ স্তরে স্তরে জমে চাপে শক্ত হয়ে, যেমন বেলেপাথর, চুনাপাথর, কয়লা। রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয় আগের কোনো শিলা প্রচণ্ড তাপ ও চাপে বদলে গিয়ে, যেমন মার্বেল, নিস, স্লেট।
কয়লা তৈরি হয়েছে কোটি কোটি বছর আগের জলাভূমির গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে, স্তরে স্তরে জমে এবং চাপ ও তাপে কার্বনসমৃদ্ধ হয়ে। তাই এটি জৈব পাললিক শিলা। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা এর উদাহরণ।
মার্বেল আর নিস দুটোই রূপান্তরিত শিলা: চুনাপাথর থেকে মার্বেল, গ্রানাইট থেকে নিস। আর গ্রানাইট আগ্নেয় শিলা।
মনে রাখুন: স্তর দেখলে পাললিক: বেলেপাথর, চুনাপাথর, কয়লা।
৯২. নিম্নের কোনটি বৃহৎ স্কেল মানচিত্র ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১ : ১০,০০০
- খ১ : ১০০,০০০
- গ১ : ১০০০,০০০
- ঘ১ : ২৫,০০০
সঠিক উত্তর: ক. ১ : ১০,০০০
প্রশ্নটি বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র চেনা নিয়ে। উত্তর এক অনুপাত দশ হাজার।
স্কেল মানে মানচিত্রের এক একক দূরত্ব বাস্তবে কত একক। এক অনুপাত দশ হাজার মানে মানচিত্রের এক সেন্টিমিটার বাস্তবে দশ হাজার সেন্টিমিটার, মানে একশো মিটার। স্কেলকে ভগ্নাংশ ধরলে, এক ভাগ দশ হাজার একটি বড় ভগ্নাংশ, আর এক ভাগ দশ লাখ খুব ছোট ভগ্নাংশ।
যে স্কেলের ভগ্নাংশের মান বড়, অর্থাৎ হর ছোট, সেটিই বৃহৎ স্কেল। বৃহৎ স্কেলে ছোট এলাকা অনেক বিস্তারিতভাবে দেখা যায়, যেমন মৌজা বা শহরের নকশা। ক্ষুদ্র স্কেলে বড় এলাকা অল্প বিস্তারিতভাবে দেখা যায়, যেমন বিশ্বের মানচিত্র।
সাধারণ ভুল হলো বড় সংখ্যা দেখে বড় স্কেল ভাবা। আসলে এক অনুপাত দশ লাখ ক্ষুদ্র স্কেল, কারণ সেখানে মানচিত্রের প্রতিটি সেন্টিমিটারে অনেক বেশি এলাকা ঠাসা।
মনে রাখুন: স্কেলের ডান পাশের সংখ্যা যত ছোট, মানচিত্র তত বৃহৎ স্কেলের।
৯৩. সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহকে যোগকারী রেখাকে বলা হয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কআইসোথার্ম
- খআইসোবার
- গআইসোহাইট
- ঘআইসোহেলাইন
সঠিক উত্তর: গ. আইসোহাইট
প্রশ্নটি সমান বৃষ্টিপাতের স্থানগুলো যোগ করা রেখার নাম নিয়ে। উত্তর আইসোহাইট।
আইসো মানে সমান। এর সঙ্গে যে শব্দমূল যোগ হয়, সেটাই বলে দেয় কোন জিনিস সমান। হাইট এসেছে গ্রিক হুয়েটোস থেকে, যার অর্থ বৃষ্টি; তাই আইসোহাইট মানে সমবৃষ্টিপাত রেখা।
একইভাবে থার্ম মানে তাপ, তাই আইসোথার্ম সমতাপ রেখা। বার মানে চাপ, তাই আইসোবার সমচাপ রেখা, আবহাওয়ার মানচিত্রে ঘূর্ণিঝড় বোঝাতে কাজে লাগে। হ্যালাইন মানে লবণ, তাই আইসোহ্যালাইন সমলবণাক্ততা রেখা, সমুদ্রের মানচিত্রে ব্যবহার হয়।
শব্দমূল মনে না থাকলে চারটি নাম গুলিয়ে যায়; শব্দমূল দিয়ে মনে রাখলে এ ধরনের সব প্রশ্ন সহজ।
মনে রাখুন: আইসো মানে সমান; শেষের অংশ দেখুন: থার্ম তাপ, বার চাপ, হাইট বৃষ্টি, হ্যালাইন লবণ।
৯৪. নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কবায়ু দূষণ
- খদুর্ভিক্ষ
- গমহামারী
- ঘকালবৈশাখী
সঠিক উত্তর: ঘ. কালবৈশাখী
প্রশ্নটি মানবসৃষ্ট আর প্রাকৃতিক আপদের পার্থক্য নিয়ে। কালবৈশাখী মানবসৃষ্ট আপদ নয়।
কালবৈশাখী চৈত্র-বৈশাখে, মানে মার্চ থেকে মে মাসে, বিকেলের দিকে হঠাৎ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা তীব্র বজ্রঝড়। গ্রীষ্মে ভূপৃষ্ঠ খুব গরম হলে নিচের আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে বিশাল কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি করে, আর ওপরের শুকনো ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে ঝড় হয়। এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা।
অন্যদিকে বায়ু দূষণ আসে কলকারখানা, যানবাহন ও ইটভাটার ধোঁয়া থেকে। দুর্ভিক্ষ শুধু ফসলহানিতে হয় না, খাদ্য বণ্টন, মজুতদারি ও ভুল নীতির মতো মানুষের কারণেই তীব্র হয়। মহামারি ছড়ায় অপরিচ্ছন্নতা, ঘনবসতি ও মানুষের চলাচলে। তাই এগুলোকে মানবসৃষ্ট আপদ হিসেবে ধরা হয়েছে।
মহামারি জীবাণু থেকে হয় বলে কেউ একে প্রাকৃতিক ভাবতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নে একমাত্র নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক আপদ কালবৈশাখী।
মনে রাখুন: আবহাওয়ার ঝড়, যেমন কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, সবই প্রাকৃতিক আপদ।
৯৫. বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কী ধরণের বনভূমি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা – চিরহরিৎ জাতীয়
- খক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল জাতীয়
- গপত্র পতনশীল জাতীয়
- ঘম্যানগ্রোভ জাতীয়
সঠিক উত্তর: ক. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা – চিরহরিৎ জাতীয়
প্রশ্নটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনের ধরন নিয়ে। উত্তর ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বন।
লাউয়াছড়া মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায়, উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত, আয়তন প্রায় বারোশো পঞ্চাশ হেক্টর। সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনগুলো প্রচুর বৃষ্টির জন্য সারা বছর সবুজ থাকে; এদেরই বলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বন। আধা-চিরহরিৎ মানে কিছু গাছ শুকনো মৌসুমে পাতা ঝরায়, কিন্তু বন কখনো পুরো ন্যাড়া হয় না।
লাউয়াছড়া বিখ্যাত উল্লুক বা পশ্চিমা হুলক গিবনের জন্য, যা বাংলাদেশের একমাত্র বনমানুষ। চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানরও এখানে আছে।
পত্রপতনশীল বন হলো মধুপুর-ভাওয়ালের শালবন, যেখানে শীতে গাছ পাতা ঝরায়। ম্যানগ্রোভ হলো সুন্দরবনের মতো লবণাক্ত জোয়ার-ভাটার বন।
মনে রাখুন: পাহাড়ি বন চিরহরিৎ, গড়ের বন পত্রপতনশীল, উপকূলের বন ম্যানগ্রোভ।
৯৬. বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসিলেটের বনভূমি
- খপার্বত্য চট্রগ্রামের বনভূমি
- গভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
- ঘখুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি
সঠিক উত্তর: গ. ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
প্রশ্নটি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত বনভূমি নিয়ে। উত্তর ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি।
ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জুড়ে বিস্তৃত ভাওয়াল-মধুপুর গড় প্লাইস্টোসিন যুগের উঁচু লাল মাটির চত্বরভূমি। এই শুকনো, পানি সরে যাওয়া মাটি শাল বা গজারি গাছের জন্য আদর্শ। শীতে গাছ পাতা ঝরায় বলে একে ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্রপতনশীল বন বলে। দিনাজপুর ও রংপুরের দিকেও শালবন আছে।
শাল কাঠ খুব শক্ত ও টেকসই, তাই ঘরের খুঁটি, রেলের স্লিপার ও আসবাবে ব্যবহার হয়েছে। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও মধুপুর জাতীয় উদ্যান এই শালবন রক্ষার জন্য গঠিত।
সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বন পাহাড়ি চিরহরিৎ বন, গর্জন, চাপালিশ, সেগুনের জন্য পরিচিত। খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালীর বন ম্যানগ্রোভ, সুন্দরী ও গেওয়ার জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখুন: শাল মানেই গড়: ভাওয়াল, মধুপুর।
৯৭. ঢাকা থেকে হংকং হয়ে প্লেন নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় দিনের সময়কালকে অপেক্ষাকৃত ছোট মনে হয়, কেন? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপৃথিবী পশ্চিম দিকে ঘুরছে বলে
- খপৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে বলে
- গএক্ষেত্রে এসব ঘূর্ণনের কোন প্রভাব নেই
- ঘঅন্য কোন কারণ আছে
সঠিক উত্তর: ঘ. অন্য কোন কারণ আছে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ঢাকা থেকে হংকং হয়ে নিউইয়র্কে উড়ে গেলে দিন ছোট মনে হয় কেন। দেওয়া উত্তর অন্য কোনো কারণ আছে, কারণ বিকল্পগুলোর কোনোটিই আসল কারণ ঠিকভাবে বলেনি।
আসল কারণ দুটি জিনিস মিলিয়ে। পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, তাই পূর্ব দিকের জায়গায় আগে সকাল হয়। আর এই পথে বিমান ঢাকা থেকে পূর্বে হংকং, তারপর প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে আরও পূর্বে চলে, অর্থাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণনের দিকেই এগিয়ে সূর্যের দিকে ছুটে যায়।
ফলে যাত্রীর জন্য সূর্য স্বাভাবিকের চেয়ে তাড়াতাড়ি ডোবে; প্রতি পনেরো ডিগ্রি দ্রাঘিমা পূর্বে গেলে ঘড়ি এক ঘণ্টা এগিয়ে যায়। তাই দিনের দৈর্ঘ্য কম মনে হয়। উল্টো দিকে, পশ্চিমে উড়লে সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যায় এবং দিন লম্বা মনে হয়।
প্রথম বিকল্পে পৃথিবী পশ্চিম দিকে ঘোরে বলা হয়েছে, যা ভুল তথ্য; তাই অনেক গাইড সেটি দিলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। পৃথিবীর বার্ষিক গতি দিয়ে কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় দিনের এই পরিবর্তন ব্যাখ্যা হয় না।
মনে রাখুন: পূর্বে উড়লে দিন ছোট, পশ্চিমে উড়লে দিন লম্বা।
৯৮. ‘পলল পাখা’ জাতীয় ভূমিরূপ গড়ে উঠে- (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপাহাড়ের পাদদেশে
- খনদীর নিম্ন অববাহিকায়
- গনদীর উৎপত্তিস্থলে
- ঘনদী মোহনায়
সঠিক উত্তর: ক. পাহাড়ের পাদদেশে
প্রশ্নটি পলল পাখা বা অ্যালুভিয়াল ফ্যান কোথায় গড়ে ওঠে তা নিয়ে। উত্তর পাহাড়ের পাদদেশে।
পাহাড়ি নদী খাড়া ঢাল বেয়ে দ্রুত নামে, তাই সঙ্গে প্রচুর নুড়ি, বালি ও পলি বয়ে আনে। পাহাড় থেকে সমভূমিতে নামার মুখে ঢাল হঠাৎ কমে যায়, স্রোতের গতি ও বহন ক্ষমতাও কমে যায়। তখন নদী বোঝা ফেলে দিতে থাকে।
এই জমা পলি পাহাড়ের মুখ থেকে হাতপাখার মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে; মাথার দিকটা সরু ও উঁচু, নিচের দিকটা চওড়া। এ আকৃতির জন্যই নাম পলল পাখা। বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নামা তিস্তার পলিতে এমন পাদদেশীয় সমভূমি গড়ে উঠেছে।
নদীর মোহনায় পলি জমে যে ত্রিভুজাকার ভূমি গড়ে, তা ব-দ্বীপ, পলল পাখা নয়। দুটোই পলি জমার ফল বলে গুলিয়ে যায়; পার্থক্য হলো পাখা পাহাড়ের গোড়ায়, ব-দ্বীপ সাগরের মুখে।
মনে রাখুন: পাখা পাহাড়ের গোড়ায়, ব-দ্বীপ নদীর মোহনায়।
৯৯. ‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০’ হচ্ছে একটি- (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কজাপানের উন্নয়ন কৌশল
- খসুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
- গদুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
- ঘভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
সঠিক উত্তর: গ. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
প্রশ্নটি সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক কী তা নিয়ে। এটি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য জাতিসংঘের বৈশ্বিক কৌশল, পুরো নাম দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সেন্দাই কাঠামো, দুই হাজার পনেরো থেকে দুই হাজার ত্রিশ।
দুই হাজার পনেরো সালের মার্চে জাপানের সেন্দাই শহরে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক তৃতীয় জাতিসংঘ বিশ্ব সম্মেলনে এটি গৃহীত হয়। এতে সাতটি বৈশ্বিক লক্ষ্য ও চারটি অগ্রাধিকার আছে, যেমন দুর্যোগে মৃত্যু ও আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা বাড়ানো।
এটি আগের হিয়োগো কর্মকাঠামোর, যা দুই হাজার পাঁচ থেকে দুই হাজার পনেরো পর্যন্ত চলেছিল, উত্তরসূরি। দুটোই জাপানে গৃহীত: হিয়োগো কাঠামো কোবে শহরে, সেন্দাই কাঠামো সেন্দাই শহরে।
সেন্দাই অঞ্চলে দুই হাজার এগারো সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি হয়েছিল, তাই অনেকে একে শুধু সুনামি বা ভূমিকম্পের কৌশল ভাবেন। কিন্তু এটি সব ধরনের দুর্যোগের জন্য।
মনে রাখুন: হিয়োগো তারপর সেন্দাই, দুটোই দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের বৈশ্বিক কাঠামো।
১০০. ক্রমহ্রাসমান হারে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী উপদান বিলীনের বিষয়টি কোন চুক্তিতে বলা হয়েছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কমন্ট্রিল প্রটোকল
- খক্লোরোফ্লোরো কার্বন চুক্তি
- গIPCC চুক্তি
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. মন্ট্রিল প্রটোকল
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন চুক্তিতে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী উপাদান ধাপে ধাপে কমিয়ে বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। উত্তর মন্ট্রিল প্রটোকল। প্রশ্নে ছাপা উপদান শব্দটির সঠিক বানান উপাদান।
উনিশশো পঁচাশি সালের ভিয়েনা কনভেনশন ছিল ওজোনস্তর রক্ষার কাঠামো চুক্তি, কিন্তু সেখানে নির্দিষ্ট সময়সূচি ছিল না। উনিশশো সাতাশি সালে কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত প্রটোকলে প্রথমবার ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ও হ্যালনের মতো পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়সূচি ধরে কমানোর বাধ্যবাধকতা আসে।
এটিকে সবচেয়ে সফল পরিবেশ চুক্তি ধরা হয়; জাতিসংঘের সব সদস্য দেশ এটি অনুমোদন করেছে, আর ওজোনস্তর ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। দুই হাজার ষোলো সালের কিগালি সংশোধনীতে হাইড্রোফ্লোরোকার্বনও কমানোর তালিকায় আসে।
ক্লোরোফ্লোরোকার্বন চুক্তি নামে আলাদা কোনো চুক্তি নেই; এটি মন্ট্রিল প্রটোকলের নিয়ন্ত্রিত পদার্থের নাম দিয়ে বানানো ফাঁদ। আইপিসিসি একটি বিজ্ঞানী প্যানেল, চুক্তি নয়।
মনে রাখুন: ওজোন রক্ষায় ভিয়েনা কাঠামো, মন্ট্রিল বাস্তবায়ন।