মানসিক দক্ষতা · পাতা ২
২১. কোন সংখ্যাটি পরে আসবে? ৮, ৪, ২, ১, ১/২, ১/৪, (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১/৮
- খ১/৪
- গ১/৫
- ঘ১/৬
সঠিক উত্তর: ক. ১/৮
এটা গুণোত্তর ধারার প্রশ্ন। প্রতিটি পদ আগের পদের একটা নির্দিষ্ট অংশ।
৮ থেকে ৪, ৪ থেকে ২, ২ থেকে ১, ১ থেকে ২ ভাগের ১, তারপর ৪ ভাগের ১। প্রতিবার আগের পদকে ২ দিয়ে ভাগ করা হচ্ছে, অর্থাৎ সাধারণ অনুপাত ২ ভাগের ১।
তাই পরের পদ ৪ ভাগের ১ এর অর্ধেক, মানে ৮ ভাগের ১। লক্ষ করুন, ভগ্নাংশকে অর্ধেক করতে হর দ্বিগুণ করতে হয়।
ফাঁদ হলো হরকে ১ করে বাড়িয়ে ৫ ভাগের ১ লেখা। কিন্তু ধারাটা যোগ বিয়োগের নয়, ভাগের; তাই হর দ্বিগুণ হয়।
মনে রাখুন: অনুপাত ১/২ হলে হর প্রতিবার দ্বিগুণ: ২, ৪, ৮।
২২. কাগজের প্রতি পাতা বিক্রি হয় ২১ পয়সায়। চার পাতা কত পয়সায় বিক্রি হবে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৪ পয়সা
- খ৯৪ পয়সা
- গ৮ পয়সা
- ঘ৮৪ পয়সা
সঠিক উত্তর: ঘ. ৮৪ পয়সা
এটা একক থেকে বহুকের সহজ হিসাব। একটির দাম জানা থাকলে কয়েকটির দাম পেতে একটির দামকে সংখ্যা দিয়ে গুণ করতে হয়।
এক পাতা ২১ পয়সা, তাই চার পাতা ২১ গুণ ৪। মাথায় ভাঙলে সহজ: ২০ গুণ ৪ সমান ৮০, আর ১ গুণ ৪ সমান ৪; মোট ৮৪ পয়সা।
উত্তরটা আন্দাজ দিয়ে যাচাই করুন: এক পাতা প্রায় ২০ পয়সা, তাই চার পাতা প্রায় ৮০ পয়সা। ৪ বা ৮ পয়সা অনেক কম, আর ৯৪ পয়সা দশ পয়সা বেশি।
ফাঁদ হলো ৯৪ পয়সা বিকল্পটি, যা ৮৪ এর খুব কাছাকাছি দেখতে। কিন্তু ৯৪ পেতে প্রতি পাতার দাম হতে হতো সাড়ে ২৩ পয়সা।
মনে রাখুন: ২১ × ৪ = (২০ × ৪) + (১ × ৪) = ৮৪; দুই অঙ্কের গুণ ভেঙে নিলে মুখে মুখেই হয়।
২৩. কোন সংখ্যাটি নিম্নের শ্রেণিতে সবচাইতে স্বল্প পরিমাণ উপস্থাপন করে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৭
- খ৮
- গ.৩৩
- ঘ.৩১
সঠিক উত্তর: ঘ. .৩১
প্রশ্নটা দশমিক সংখ্যার তুলনা যাচাই করছে। দশমিক বিন্দুর আগে কোনো অঙ্ক না থাকলে সংখ্যাটা ১ এর চেয়ে ছোট।
৭ আর ৮ পূর্ণসংখ্যা, দুটোই ১ এর চেয়ে বড়। দশমিক তিন তিন আর দশমিক তিন এক দুটোই ১ এর চেয়ে ছোট, তাই সবচেয়ে ছোটটা এদের মধ্যেই।
দশমিক তিন তিন আর দশমিক তিন এক তুলনা করতে দশমিকের পরের অঙ্কগুলো বাম থেকে মেলাই। প্রথম অঙ্ক দুটোতেই ৩, দ্বিতীয় অঙ্কে ১ ছোট ৩ এর চেয়ে। তাই দশমিক তিন এক সবচেয়ে ছোট।
ভুল হয় যখন কেউ দশমিক বিন্দুটা খেয়াল না করে একত্রিশ আর তেত্রিশ ভেবে সেগুলোকে ৭ ও ৮ এর চেয়ে বড় ধরে নেন।
মনে রাখুন: দশমিক তুলনায় বাম থেকে প্রথম যে অঙ্কে পার্থক্য, সেটাই ঠিক করে কে বড়।
২৪. যখন প্রতি ফুট দড়ি ১০ টাকায় বিক্রি হয়, তখন ৬০ টাকায় তুমি কত ফুট দড়ি ক্রয় করতে পারবে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৮ ফুট
- খ৭ ফুট
- গ৬ ফুট
- ঘ১০ ফুট
সঠিক উত্তর: গ. ৬ ফুট
এটা একক দাম থেকে পরিমাণ বের করার প্রশ্ন। মোট টাকাকে প্রতি এককের দাম দিয়ে ভাগ করলে কত একক কেনা যায় তা পাওয়া যায়।
প্রতি ফুট দড়ি ১০ টাকা, হাতে আছে ৬০ টাকা। তাই ৬০ কে ১০ দিয়ে ভাগ, মানে ৬ ফুট দড়ি কেনা যাবে।
যাচাই: ৬ ফুট গুণ ১০ টাকা সমান ৬০ টাকা, ঠিক হাতের টাকার সমান।
বাকি বিকল্পগুলো বাজেট ছাড়িয়ে যায়: ৭ ফুটে ৭০ টাকা, ৮ ফুটে ৮০ টাকা, আর ১০ ফুটে ১০০ টাকা লাগত।
মনে রাখুন: টাকা ÷ একক দাম = পরিমাণ।
২৫. নিম্নলিখিত সংখ্যা শ্রেণির সর্বশেষ সংখ্যার পরের সংখ্যাটি কত হবে? ১, ২, ৪, ৭, ১১, ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৪
- খ১৫
- গ১৬
- ঘ১৮
সঠিক উত্তর: গ. ১৬
এটা সংখ্যা ধারার প্রশ্ন। পদগুলো ধীরে বাড়লে পাশাপাশি দুই পদের পার্থক্য দেখুন।
১ থেকে ২ এ পার্থক্য ১, ২ থেকে ৪ এ পার্থক্য ২, ৪ থেকে ৭ এ পার্থক্য ৩, ৭ থেকে ১১ এ পার্থক্য ৪। পার্থক্য প্রতিবার ১ করে বাড়ছে।
তাই পরের পার্থক্য ৫, আর পরের পদ ১১ যোগ ৫, মানে ১৬।
ফাঁদ হলো ১৫ বিকল্পটি, যা শেষ পার্থক্য ৪ আবার যোগ করলে আসে। পার্থক্য স্থির নয়, প্রতি ধাপে বাড়ে।
মনে রাখুন: পার্থক্য ১, ২, ৩, ৪ হলে ধারার পদ = ১ + আগের সব পার্থক্যের যোগ; ১ + ১৫ = ১৬।
২৬. যদি চ × G = ৪২ হয় তবে J × ট = ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১২০
- খ৯২
- গ১১৫
- ঘ১১০
সঠিক উত্তর: ঘ. ১১০
এটা অক্ষরের ক্রমিক মান দিয়ে বানানো ধাঁধা। প্রথম সমীকরণ থেকে নিয়ম বের করতে হবে, তারপর দ্বিতীয়তে প্রয়োগ।
চ বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের ষষ্ঠ বর্ণ: ক খ গ ঘ ঙ চ। G ইংরেজি বর্ণমালার সপ্তম বর্ণ। ৬ গুণ ৭ সমান ৪২, তাই নিয়ম হলো দুই অক্ষরের ক্রমিক মানের গুণফল।
J ইংরেজির দশম বর্ণ। ট ব্যঞ্জনবর্ণের একাদশ বর্ণ, কারণ চ বর্গ শেষ হয় ঞ দিয়ে দশম স্থানে, আর ট বর্গ শুরু হয় এগারোতম স্থানে। তাই ১০ গুণ ১১ সমান ১১০।
দ্রুত বাছাইয়ের কৌশল: J এর মান ১০, তাই উত্তর অবশ্যই ১০ দিয়ে বিভাজ্য। এতে ৯২ আর ১১৫ সঙ্গে সঙ্গে বাদ। ১২০ পেতে ট কে দ্বাদশ বর্ণ ধরতে হয়, কিন্তু দ্বাদশ বর্ণ হলো ঠ।
মনে রাখুন: J = ১০ দেখেই উত্তর ১০ এর গুণিতক; ট বর্গ শুরু ১১ থেকে, তাই ১১০।
২৭. একটি ট্রেন ১/৫ সেকেন্ডে চলে ২০ ফুট। একই দ্রুততায় ট্রেনটি ৩ সেকেন্ডে কত ফুট চলবে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১০০ ফুট
- খ১১০ ফুট
- গ৩০০ ফুট
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. ৩০০ ফুট
এটা গতিবেগের ঐকিক নিয়মের প্রশ্ন। একই দ্রুততায় চললে দূরত্ব সময়ের সমানুপাতিক, তাই আগে এক সেকেন্ডে কত যায় বের করা সবচেয়ে সহজ।
৫ ভাগের ১ সেকেন্ডে ২০ ফুট মানে এক সেকেন্ডে এর ৫ গুণ, অর্থাৎ ১০০ ফুট। কারণ এক সেকেন্ডে এমন পাঁচটি ছোট খণ্ড আছে।
তাই ৩ সেকেন্ডে ১০০ গুণ ৩, মানে ৩০০ ফুট।
ফাঁদ হলো ১০০ ফুট বিকল্পটি, যা শুধু এক সেকেন্ডের দূরত্ব; প্রশ্ন চেয়েছে ৩ সেকেন্ডের। আর উত্তর বিকল্পে থাকায় কোনোটিই নয় বিকল্পটিও বাদ।
মনে রাখুন: ৩ সেকেন্ডে ১/৫ সেকেন্ডের খণ্ড আছে ১৫টি; ১৫ × ২০ = ৩০০।
২৮. যাদের বুদ্ধ্যঙ্ক ১৪০ বা তার ঊর্ধ্বে তাদের বলা হয় - (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅতিশয় প্রতিভাশালী
- খপ্রতিভাশালী
- গসাধারণ
- ঘমানসিক প্রতিবন্ধী
সঠিক উত্তর: ক. অতিশয় প্রতিভাশালী
প্রশ্নটা বুদ্ধ্যঙ্ক বা IQ এর শ্রেণিবিভাগ যাচাই করছে। বুদ্ধ্যঙ্ক হলো মানসিক বয়সকে প্রকৃত বয়স দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করা মান; গড় মানুষের বুদ্ধ্যঙ্ক ১০০ এর কাছাকাছি।
মনোবিজ্ঞানী টারম্যানের প্রচলিত শ্রেণিবিভাগে ১৪০ বা তার বেশি বুদ্ধ্যঙ্ককে প্রতিভাবান বা প্রায় প্রতিভাবান ধরা হয়, যাকে বাংলায় বলা হয় অতিশয় প্রতিভাশালী। এটা সবচেয়ে উপরের ধাপ।
এর নিচে ১২০ থেকে ১৪০ অতি উচ্চ বুদ্ধির ধাপ, ৯০ থেকে ১১০ সাধারণ বা গড় বুদ্ধি, আর ৭০ এর নিচে মানসিক প্রতিবন্ধিতার ধাপ।
ফাঁদ হলো প্রতিভাশালী বিকল্পটি। ১২০ থেকে ১৪০ এর উচ্চ বুদ্ধির মানুষকেও প্রতিভাশালী বলা চলে; কিন্তু ১৪০ বা তার বেশি তার উপরের আলাদা, সর্বোচ্চ ধাপ, যা বোঝাতেই অতিশয় শব্দটি জোড়া হয়েছে।
মনে রাখুন: ১৪০ সংখ্যাটা দেখলেই সর্বোচ্চ ধাপ; ১০০ এর আশেপাশে সাধারণ।
২৯. RESENT, RESERVE এই শব্দগুলো কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কএকই অর্থে
- খবিপরীত ধর্মী অর্থ
- গনা এক না ভিন্ন অর্থ
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. না এক না ভিন্ন অর্থ
প্রশ্নটা দুটি ইংরেজি শব্দের অর্থের সম্পর্ক যাচাই করছে: সমার্থক, বিপরীতার্থক, নাকি কোনোটাই নয়।
Resent মানে কোনো কিছুতে ক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট হওয়া, যেমন He resented the remark। Reserve মানে সংরক্ষণ করা বা পরে ব্যবহারের জন্য আলাদা রেখে দেওয়া, যেমন reserve a seat।
দুটির অর্থ এক নয়, আবার একটি অন্যটির উল্টোও নয়; তারা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় নিয়ে কথা বলে। Resent এর বিপরীত হতো appreciate, আর reserve এর বিপরীত হতো release বা spend। তাই সঠিক উত্তর না এক না ভিন্ন অর্থ, মানে সমার্থকও নয়, বিপরীতার্থকও নয়।
ফাঁদ হলো বানানের মিল। দুটো শব্দই res দিয়ে শুরু বলে অনেকে ভাবেন অর্থেও সম্পর্ক আছে, এক বা উল্টো। বানানের মিল অর্থের মিল নয়।
মনে রাখুন: বিপরীত কিনা যাচাই: একটির বিপরীত শব্দ লিখুন; সেটা অন্যটির সমান না হলে বিপরীতার্থক নয়।
৩০. P এবং Q দুই ভাই। R এবং S দুই বোন। P-এর ছেলে হলো S-এর ভাই। তাহলে Q হলো R-এর – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপুত্র
- খভাই
- গপিতা
- ঘচাচা
সঠিক উত্তর: ঘ. চাচা
এটা রক্তের সম্পর্কের প্রশ্ন। প্রথমে প্রত্যেকের লিঙ্গ আর প্রজন্ম ঠিক করতে হয়: P ও Q দুই ভাই, মানে দুজনেই পুরুষ ও একই প্রজন্ম; R ও S দুই বোন, দুজনেই নারী।
P এর ছেলে S এর ভাই। তাহলে S হলো P এর সন্তান, আর S নারী, তাই S হলো P এর মেয়ে। R আর S বোন, তাই R ও P এর মেয়ে।
Q হলো P এর ভাই, অর্থাৎ R এর বাবার ভাই। বাবার ভাইকে বলে চাচা, তাই Q হলো R এর চাচা।
ফাঁদ হলো পিতা বিকল্পটি। পিতা আসলে P, Q নয়। আর ভাই বিকল্পটি P এর ছেলের জন্য সঠিক, Q এর জন্য নয়।
মনে রাখুন: যার ভাই বাবা, সে চাচা: R এর বাবা P, আর P এর ভাই Q।
৩১. স্টেপলারের সাথে যেমন স্টেপল, সুচের সাথে তেমন – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কছিদ্র
- খকাপড়
- গসুতা
- ঘসেলাই মেশিন
সঠিক উত্তর: গ. সুতা
এটা সাদৃশ্য প্রশ্ন। প্রথম জোড়ার সম্পর্কটা এক বাক্যে বলুন, তারপর দ্বিতীয় জোড়ায় একই বাক্য বসান।
স্টেপলার একটি যন্ত্র, আর স্টেপল হলো সেই উপকরণ যা যন্ত্রটার ভেতরে ভরে ব্যবহার করা হয় এবং যা কাগজে থেকে যায়। অর্থাৎ যন্ত্র আর তার ব্যবহার্য উপকরণ।
সুচও একটি যন্ত্র, আর তার সাথে যে উপকরণ পরিয়ে ব্যবহার করা হয় এবং যা কাপড়ে থেকে যায়, সেটা সুতা। তাই উত্তর সুতা।
ফাঁদ হলো কাপড় বিকল্পটি। কাপড় হলো যার উপর কাজ হয়, ঠিক যেমন স্টেপলারের ক্ষেত্রে কাগজ; স্টেপল এর জোড়া নয়।
মনে রাখুন: তিন কলাম ভাবুন: যন্ত্র, উপকরণ, লক্ষ্যবস্তু। প্রশ্নের জোড়া কোন দুই কলামের, সেটা ধরলেই উত্তর।
৩২. 165135 যদি Peace হয়, তবে 1215225 – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কLead
- খLove
- গLoop
- ঘCastle
সঠিক উত্তর: খ. Love
এটা সংখ্যা দিয়ে অক্ষর কোড করার প্রশ্ন। প্রথম শব্দ থেকে নিয়ম বের করে দ্বিতীয় কোড উল্টো দিকে পড়তে হয়।
Peace এর অক্ষরগুলোর ইংরেজি বর্ণমালায় ক্রমিক অবস্থান: P ষোলো, E পাঁচ, A এক, C তিন, E পাঁচ। পাশাপাশি লিখলে হয় ১৬, ৫, ১, ৩, ৫; ঠিক দেওয়া কোড।
এখন ১২, ১৫, ২২, ৫ এভাবে ভেঙে পড়ি: ১২ হলো L, ১৫ হলো O, ২২ হলো V, ৫ হলো E। তাই শব্দটি Love।
কোড ভাঙার সময় সমস্যা হলো কোথায় এক অঙ্ক আর কোথায় দুই অঙ্ক নেবেন। বিকল্পগুলোর কোড বানিয়ে মিলিয়ে নিলে সন্দেহ থাকে না: শুধু Love এর কোডই মেলে।
মনে রাখুন: শেষ অঙ্ক ৫ মানে শেষ অক্ষর E; Lead আর Loop বাদ, Castle অনেক লম্বা।
৩৩. ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি শুক্রবার হলে, একই বছরের ১৭ মার্চ কী বার ছিল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কশনিবার
- খসোমবার
- গবৃহস্পতিবার
- ঘশুক্রবার
সঠিক উত্তর: ক. শনিবার
এটা ক্যালেন্ডারের বার বের করার প্রশ্ন। মূল নিয়ম: প্রতি ৭ দিনে একই বার ফিরে আসে, তাই মাঝের দিনসংখ্যাকে ৭ দিয়ে ভাগ করে ভাগশেষ দেখতে হয়।
১২ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত দিন গুনি। জানুয়ারির বাকি ১৯ দিন, ফেব্রুয়ারির ২৮ দিন, কারণ ২০১৮ অধিবর্ষ নয়, আর মার্চের ১৭ দিন। মোট ৬৪ দিন।
৬৪ কে ৭ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ৯, ভাগশেষ ১। অর্থাৎ ৯ সপ্তাহ পুরো ঘুরে আরও ১ দিন এগোয়। শুক্রবারের এক দিন পর শনিবার।
ফাঁদ হলো ফেব্রুয়ারিকে ২৯ দিন ধরা। তাহলে ভাগশেষ ২ হয়ে উত্তর আসে রবিবার। আরেকটা ভুল হলো জানুয়ারির বাকি দিন গুনতে ১২ তারিখকেও ধরা।
মনে রাখুন: শুধু অতিরিক্ত দিন যোগ করুন: জানুয়ারির ১৯ এর অতিরিক্ত ৫, ফেব্রুয়ারি ০, মার্চ ১৭ এর অতিরিক্ত ৩; ৫ + ০ + ৩ = ৮, ভাগশেষ ১।
৩৪. ৫, ৭, ১০, ১৪, ……… ২৫ ধারার শূন্যস্থানের সংখ্যাটি কত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১৭
- খ১৮
- গ১৯
- ঘ২১
সঠিক উত্তর: গ. ১৯
এটা সংখ্যা ধারার প্রশ্ন। যখন পদগুলো খুব ধীরে বাড়ে, তখন পাশাপাশি দুই পদের পার্থক্য দেখলেই নিয়ম ধরা যায়।
৫ থেকে ৭ এ পার্থক্য ২, ৭ থেকে ১০ এ পার্থক্য ৩, ১০ থেকে ১৪ এ পার্থক্য ৪। পার্থক্য প্রতিবার ১ করে বাড়ছে।
তাই পরের পার্থক্য ৫, ফাঁকা পদ ১৪ যোগ ৫, মানে ১৯। যাচাই: তার পরের পার্থক্য ৬, আর ১৯ যোগ ৬ সমান ২৫, যা ধারার শেষ পদ। মিলে গেল।
উত্তর পাওয়ার পর সবসময় শেষ দেওয়া পদ দিয়ে যাচাই করুন। এখানে ২৫ দেওয়া আছে বলেই ভুল বিকল্পগুলো নিশ্চিতভাবে বাদ দেওয়া যায়।
মনে রাখুন: দুই দিক থেকে যাচাই: সামনে থেকে ১৪ + ৫, পেছন থেকে ২৫ − ৬; দুটোতেই ১৯।
৩৫. কোনো কিছুর কারণ জানতে হলে আমরা ইংরেজিতে যে প্রশ্ন করি তা সাধারণত কোন শব্দটি দিয়ে শুরু হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কhow
- খwhat
- গwhy
- ঘwho
সঠিক উত্তর: গ. why
প্রশ্নটা ইংরেজি প্রশ্নবোধক শব্দ বা wh word এর কাজ যাচাই করছে। প্রতিটি wh word একটি নির্দিষ্ট ধরনের তথ্য জানতে চায়।
কারণ জানতে চাইলে ব্যবহার হয় why, যেমন Why are you late, তুমি দেরি করলে কেন। উত্তরে সাধারণত because দিয়ে কারণ বলা হয়।
তুলনার জন্য: how দিয়ে উপায় বা পদ্ধতি জানতে চাওয়া হয়, what দিয়ে কোনো জিনিস বা বিষয়, আর who দিয়ে ব্যক্তি।
ফাঁদ হলো how বিকল্পটি, কারণ How come দিয়েও কারণ জিজ্ঞেস করা যায়। কিন্তু সাধারণ নিয়মে কারণের প্রশ্ন why দিয়েই শুরু হয়।
মনে রাখুন: উত্তরে “because” বসলে প্রশ্নটা why দিয়ে শুরু।
৩৬. নিম্নের কোন গুচ্ছের শব্দগুলো বর্ণনানুক্রমিকভাবে সাজানো রয়েছে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কনিম্নোক্ত, নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিরাময়, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
- খনিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
- গনিষ্ক্রিয়, নিসর্গ, নিম্নোক্ত, নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিরাময়
- ঘনিদর্শন, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ, নিম্নোক্ত, নিরাময়
সঠিক উত্তর: খ. নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
প্রশ্নটা বাংলা শব্দের বর্ণানুক্রম যাচাই করছে, যেভাবে অভিধানে শব্দ সাজানো থাকে। সব শব্দ নি দিয়ে শুরু, তাই তৃতীয় বর্ণ দেখে ক্রম ঠিক করতে হবে।
বাংলা বর্ণমালার ক্রমে দ আগে, তারপর ম, তারপর র, তারপর ষ, শেষে স। তাই নিদর্শন, তারপর নিম্নোক্ত, তারপর র দিয়ে দুটি শব্দ, তারপর নিষ্ক্রিয়, শেষে নিসর্গ।
র দিয়ে দুটি শব্দ, নিরাময় আর নিরাসক্ত; দুটোতেই রা পর্যন্ত মিল। পরের বর্ণ ম আর স, আর ম আগে আসে। তাই নিরাময় আগে, নিরাসক্ত পরে।
এই ক্রম মেলে নিদর্শন দিয়ে শুরু, তারপর নিম্নোক্ত, এমন বিকল্পটির সাথে। নিম্নোক্ত দিয়ে শুরু হওয়া বিকল্পটি ফাঁদ: বাকি অংশ প্রায় ঠিক, কিন্তু নিম্নোক্ত নিদর্শনের আগে বসানো আর নিরাসক্ত নিরাময়ের আগে।
মনে রাখুন: শুধু প্রথম শব্দ দেখুন: ‘দ’ সবার আগে, তাই নিদর্শন দিয়ে শুরু হওয়া বিকল্প; তারপর দ্বিতীয় শব্দ নিম্নোক্ত কিনা দেখুন।
৩৭. যদি PLAY-এর কোড ৮১২৩ এবং RHYME-এর কোড ৪৯৩৬৭ হয়, তাহলে MALE-এর কোড হবে - (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক৬৩২৩
- খ৬১৯৮
- গ৬২১৭
- ঘ৬২৮৫
সঠিক উত্তর: গ. ৬২১৭
এটা কোডিং ডিকোডিং প্রশ্ন। দেওয়া শব্দ আর কোডের অক্ষরগুলো একটা একটা করে মিলিয়ে প্রতিটি অক্ষরের মান বের করতে হয়।
PLAY সমান ৮, ১, ২, ৩; তাই P আট, L এক, A দুই, Y তিন। RHYME সমান ৪, ৯, ৩, ৬, ৭; তাই R চার, H নয়, Y তিন, M ছয়, E সাত। Y দুই শব্দেই তিন, তাই নিয়মটা সংগত।
MALE এর জন্য M ছয়, A দুই, L এক, E সাত। তাই কোড ৬, ২, ১, ৭।
ভুল বিকল্পগুলোতে কোনো অক্ষরের জায়গায় অন্য অক্ষরের মান বসানো হয়েছে, যেমন A এর জায়গায় Y এর তিন, বা L এর জায়গায় P এর আট।
মনে রাখুন: শুধু দ্বিতীয় অক্ষর A = ২ দেখলেই দুটি বিকল্প বাদ; শেষ অক্ষর E = ৭ দিয়ে চূড়ান্ত।
৩৮. এই সিরিজটিতে পরের সংখ্যাটি কত? ৩ ৫ ৮ ১৩ ২১ (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২৪
- খ২৬
- গ২৯
- ঘ৩৪
সঠিক উত্তর: ঘ. ৩৪
এটা সংখ্যা ধারার প্রশ্ন, আর এটি ফিবোনাচি ধরনের ধারা। এখানে প্রতিটি পদ আগের দুই পদের যোগফল।
যাচাই: ৩ যোগ ৫ সমান ৮, ৫ যোগ ৮ সমান ১৩, ৮ যোগ ১৩ সমান ২১। তাই পরের পদ ১৩ যোগ ২১, মানে ৩৪।
অন্যভাবেও দেখা যায়: পার্থক্যগুলো ২, ৩, ৫, ৮, যা নিজেরাই ফিবোনাচি ধারা। পরের পার্থক্য ৫ যোগ ৮, মানে ১৩, তাই ২১ যোগ ১৩ সমান ৩৪।
ফাঁদ হলো ২৯ বিকল্পটি, যা শেষ পার্থক্য ৮ আবার যোগ করলে আসে। পার্থক্য স্থির নয়, বাড়ছে।
মনে রাখুন: ধারার পদগুলো যদি ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩ চেনা লাগে, সোজা আগের দুই পদ যোগ করুন।
৩৯. একটি দেয়ালঘড়িতে যখন ৩টা বাজে তখন ঘণ্টার কাঁটা যদি পূর্বদিকে থাকে তবে মিনিটের কাঁটা কোন দিকে থাকবে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কউত্তর
- খপশ্চিম
- গদক্ষিণ
- ঘপূর্ব
সঠিক উত্তর: ক. উত্তর
এটা দিক নির্ণয়ের প্রশ্ন, যেখানে ঘড়ির কাঁটা দিয়ে দিক বোঝানো হয়েছে। ঘড়ির মুখ আর কম্পাসের মুখ একই রকম ঘোরে: ১২ থেকে ৩ ঘড়ির কাঁটার দিকে ৯০ ডিগ্রি, আর উত্তর থেকে পূর্বও ঘড়ির কাঁটার দিকে ৯০ ডিগ্রি।
৩টায় ঘণ্টার কাঁটা থাকে ৩ এ, আর মিনিটের কাঁটা থাকে ঠিক ১২ তে। ঘণ্টার কাঁটা পূর্বে, তাই ৩ এর ঘরটা পূর্ব।
মিনিটের কাঁটা ৩ থেকে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে ৯০ ডিগ্রি পিছনে। পূর্ব থেকে উল্টো দিকে ৯০ ডিগ্রি ঘুরলে উত্তর। তাই মিনিটের কাঁটা উত্তর দিকে।
ফাঁদ হলো দক্ষিণ বিকল্পটি, যা ঘোরার দিক উল্টে ফেললে আসে। পশ্চিম আসে কাঁটা দুটো পরস্পর বিপরীত ধরে নিলে, কিন্তু ৩টায় তারা সমকোণে থাকে, বিপরীতে নয়।
মনে রাখুন: ঘড়িটা মানচিত্রের মতো রাখুন: ৩ যদি পূর্ব হয়, ১২ উত্তর, ৬ দক্ষিণ, ৯ পশ্চিম।
৪০. নিচের কোন অক্ষরগুলো পুনর্বিন্যাস করে একটি অর্থবোধক শব্দ তৈরি করা যায়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করা ত্র হো অ
- খর বা ধী প নি
- গদ্র তা রি দা
- ঘসা ব ব অ ধ্যা
সঠিক উত্তর: ক. রা ত্র হো অ
এখানে প্রতিটি বিকল্পে কয়েকটি অক্ষর বা যুক্তাক্ষর এলোমেলোভাবে দেওয়া আছে। সবগুলো ঠিক একবার ব্যবহার করে একটি শুদ্ধ, অর্থবোধক শব্দ কোনটি থেকে বানানো যায়, তা খুঁজতে হবে।
অ, হো, রা, ত্র সাজালে হয় অহোরাত্র। এর অর্থ দিন ও রাত, বা সারাক্ষণ; অহঃ মানে দিন আর রাত্র মানে রাত।
বাকিগুলো মেলে না। দ্র, তা, রি, দা দিয়ে দারিদ্রতা বানানো যায়, কিন্তু এটি অশুদ্ধ; শুদ্ধ শব্দ দারিদ্র্য বা দরিদ্রতা। সা, ব, ব, অ, ধ্যা থেকে অধ্যবসায় হয় না, কারণ য় নেই আর একটা ব বাড়তি। র, বা, ধী, প, নি দিয়েও কোনো শুদ্ধ শব্দ হয় না।
ফাঁদ হলো দারিদ্রতা, যা লোকমুখে চলে বলে শব্দ মনে হয়। কিন্তু দারিদ্র্য শব্দেই ভাব বোঝায়, তার সঙ্গে আবার তা যোগ করা ব্যাকরণে ভুল।
মনে রাখুন: আগে স্বরবর্ণ ‘অ’ কে শুরুতে বসিয়ে চেষ্টা করুন; শব্দের মাঝে স্বরবর্ণ সাধারণত আলাদা অক্ষর হিসেবে থাকে না।