সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ১৫
২৮১. জীবজগতের জন্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক রশ্মি কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কআলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি
- খবিটা রশ্মি
- গআলফা রশ্মি
- ঘগামা রশ্মি
সঠিক উত্তর: ঘ. গামা রশ্মি
প্রশ্নটা বিভিন্ন বিকিরণের ক্ষতিকর ক্ষমতার তুলনা চায়। গামা রশ্মি উচ্চশক্তির তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, যার ভেদনক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। এটি দেহ ভেদ করে গভীরে কোষ ও ডিএনএর ক্ষতি করে, তাই একে জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ধরা হয়।
ভেদনক্ষমতার ক্রম মনে রাখুন: আলফা কণা এক টুকরো কাগজেই আটকে যায়, বিটা কণা আটকাতে কয়েক মিলিমিটার অ্যালুমিনিয়ামের পাত লাগে, আর গামা রশ্মি আটকাতে লাগে পুরু সিসা বা কংক্রিট।
অতিবেগুনি রশ্মিও ক্ষতিকর, ত্বকে পোড়া ও ক্যান্সার ঘটাতে পারে; তবে এর শক্তি গামার চেয়ে অনেক কম, এর বড় অংশ ওজোন স্তরে শোষিত হয়, আর এটি ত্বক পেরিয়ে দেহের গভীরে যায় না।
ফাঁদ হলো অতিবেগুনি রশ্মি, কারণ দৈনন্দিন জীবনে এর ক্ষতির কথাই বেশি শোনা যায়। তবে শক্তি ও ভেদনক্ষমতা বিচারে গামা রশ্মিই সবচেয়ে ক্ষতিকর।
মনে রাখুন: ভেদনক্ষমতা আলফা থেকে বিটা থেকে গামার দিকে বাড়ে; সবচেয়ে ক্ষতিকর গামা।
২৮২. ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কি বলে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কসৌর বছর
- খকসমিক ইয়ার
- গআলোক বর্ষ
- ঘপলিসার
সঠিক উত্তর: খ. কসমিক ইয়ার
প্রশ্নটা জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি সময়ের একক নিয়ে। সূর্য তার গ্রহগুলোকে নিয়ে আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার কেন্দ্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয়, তাকে কসমিক ইয়ার বা ছায়াপথ বছর বলে।
এই সময় প্রায় ২২ কোটি ৫০ লক্ষ বছর। অর্থাৎ সৌরজগৎ তৈরির পর থেকে সূর্য মাত্র প্রায় বিশ বার ছায়াপথ ঘুরে এসেছে।
প্রশ্নের ভাষায় বলা হয়েছে ছায়াপথের নিজ অক্ষে ঘোরা, যা নিখুঁত নয়। ছায়াপথ কঠিন বস্তুর মতো একসাথে ঘোরে না, কেন্দ্র থেকে দূরত্বভেদে নক্ষত্রের প্রদক্ষিণকাল আলাদা; তাই প্রচলিত সংজ্ঞায় সূর্যের প্রদক্ষিণকালকেই কসমিক ইয়ার ধরা হয়।
ফাঁদ হলো আলোকবর্ষ। নামে বর্ষ থাকলেও এটি সময় নয়, দূরত্বের একক: আলো এক বছরে যতটা পথ যায়। সৌর বছর হলো পৃথিবীর সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণের সময়।
মনে রাখুন: নামে বর্ষ থাকলেই সময় নয়: আলোকবর্ষ দূরত্ব, কসমিক ইয়ার সময়।
২৮৩. কোন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কপেট্রোল ইঞ্জিনে
- খডিজেল ইঞ্জিনে
- গরকেট ইঞ্জিনে
- ঘবিমান ইঞ্জিনে
সঠিক উত্তর: ক. পেট্রোল ইঞ্জিনে
প্রশ্নটা অন্তর্দহন ইঞ্জিনে জ্বালানি জ্বালানোর পদ্ধতি পরীক্ষা করছে। কার্বুরেটর এমন একটি যন্ত্রাংশ, যা বাতাসের সঙ্গে পেট্রোল সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে পাঠায়।
পেট্রোল ইঞ্জিনে এই মিশ্রণ সিলিন্ডারে সংকুচিত হওয়ার পর স্পার্ক প্লাগের বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গে জ্বলে ওঠে। আধুনিক অনেক গাড়িতে অবশ্য কার্বুরেটরের জায়গায় ফুয়েল ইনজেকশন ব্যবস্থা ব্যবহার হয়।
ডিজেল ইঞ্জিনে কার্বুরেটর বা স্পার্ক প্লাগ নেই। সেখানে শুধু বাতাসকে খুব বেশি চাপে সংকুচিত করা হয়, এতে বাতাস এত গরম হয় যে ইনজেক্টর দিয়ে ছিটানো ডিজেল নিজে থেকেই জ্বলে যায়।
ফাঁদ হলো বিমান ইঞ্জিন। বড় বিমানের জেট বা টারবাইন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না; ছোট কিছু পিস্টনচালিত বিমানে কার্বুরেটর থাকলেও সেগুলো আসলে পেট্রোলজাতীয় জ্বালানির ইঞ্জিন। রকেট বাইরের বাতাসই নেয় না, তাই সেখানে বাতাস মেশানোর প্রশ্ন ওঠে না।
মনে রাখুন: স্পার্ক প্লাগ যেখানে, কার্বুরেটর সেখানে: পেট্রোল ইঞ্জিন।
২৮৪. সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে- (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কআলফা রশ্মি
- খবিটা রশ্মি
- গগামা রশ্মি
- ঘরঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর: গ. গামা রশ্মি
প্রশ্নটা তড়িৎচৌম্বক বর্ণালির ক্রম পরীক্ষা করছে। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, কম্পাঙ্ক আর শক্তি তত বেশি। বর্ণালির সবচেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রান্তে আছে গামা রশ্মি।
বড় থেকে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রমে বর্ণালি হলো বেতার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, রঞ্জন রশ্মি বা এক্স রে, আর সবশেষে গামা রশ্মি। গামা রশ্মি সাধারণত তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
আলফা আর বিটা আসলে তরঙ্গ নয়, কণার স্রোত। আলফা কণা হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ দুটি প্রোটন আর দুটি নিউট্রন; বিটা কণা সাধারণত দ্রুতগামী ইলেকট্রন। তাই এদের তড়িৎচৌম্বক বর্ণালিতে রাখা যায় না।
ফাঁদ হলো রঞ্জন রশ্মি। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্যও খুব ছোট, কিন্তু বর্ণালিতে এর অবস্থান গামা রশ্মির আগে, তাই সবচেয়ে ছোট নয়।
মনে রাখুন: তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট মানে শক্তি বেশি; সবচেয়ে শক্তিশালী গামা, তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সবচেয়ে ছোট।
২৮৫. মানুষের হৃৎপিণ্ডে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কদুটি
- খচারটি
- গছয়টি
- ঘআটটি
সঠিক উত্তর: খ. চারটি
প্রশ্নটা মানুষের হৃৎপিণ্ডের গঠন জানতে চেয়েছে। মানুষের হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ: উপরের দুটি অলিন্দ আর নিচের দুটি নিলয়।
ডান অলিন্দ দেহ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত গ্রহণ করে, আর ডান নিলয় সেই রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। বাম অলিন্দ ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত নেয়, আর বাম নিলয় তা সারা দেহে পাম্প করে। চারটি আলাদা প্রকোষ্ঠ থাকায় দুই ধরনের রক্ত মেশে না।
অন্য প্রাণীর সঙ্গে মিলিয়ে মনে রাখা সহজ: মাছের হৃৎপিণ্ডে দুটি প্রকোষ্ঠ, ব্যাঙের তিনটি, আর পাখি ও স্তন্যপায়ীর চারটি।
দুটি প্রকোষ্ঠের হৃৎপিণ্ড মাছের, মানুষের নয়; আর ছয় বা আটটি সংখ্যা অলিন্দ ও নিলয়ের হিসাবের সঙ্গে মেলে না, শুধু বিভ্রান্ত করার জন্য।
মনে রাখুন: পাখি ও স্তন্যপায়ী চার, ব্যাঙ তিন, মাছ দুই।
২৮৬. প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয়, কারণ- (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- করান্নার জন্য শুধু তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
- খবদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
- গউচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
- ঘসঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নার সহায়ক
সঠিক উত্তর: গ. উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
প্রশ্নটা চাপ আর স্ফুটনাঙ্কের সম্পর্ক পরীক্ষা করছে। কোনো তরলের উপর চাপ বাড়লে তার স্ফুটনাঙ্কও বাড়ে, অর্থাৎ ফুটতে আরও বেশি তাপমাত্রা লাগে।
খোলা পাত্রে স্বাভাবিক বায়ুচাপে পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে, এরপর যত তাপই দেওয়া হোক পানির তাপমাত্রা আর বাড়ে না। প্রেসার কুকারের ঢাকনা বায়ুরোধী, তাই বাষ্প আটকে থেকে ভেতরের চাপ বাড়ায়, আর পানি প্রায় ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ফোটে।
বেশি তাপমাত্রার পানি ও বাষ্পে খাবার অনেক তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়। উল্টো ঘটনা ঘটে উঁচু পাহাড়ে: সেখানে বায়ুচাপ কম, পানি ১০০ ডিগ্রির কমেই ফোটে, তাই রান্নায় সময় বেশি লাগে।
ফাঁদ হলো চাপই রান্না করে, এমন ভাবা। চাপ নিজে খাবার সেদ্ধ করে না; চাপ শুধু স্ফুটনাঙ্ক বাড়িয়ে পানির তাপমাত্রা বেশি রাখে, আর সেই বাড়তি তাপমাত্রাই রান্না দ্রুত করে।
মনে রাখুন: চাপ বাড়লে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে, চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে।
২৮৭. বিলিরুবিন তৈরি হয়- (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কপিত্তথলিতে
- খকিডনীতে
- গপ্লীহায়
- ঘযকৃতে
সঠিক উত্তর: ঘ. যকৃতে
প্রশ্নটা বিলিরুবিন কোথা থেকে আসে, তা জানতে চেয়েছে। লোহিত রক্তকণিকা প্রায় ১২০ দিন বাঁচে; পুরোনো কণিকা ভাঙলে তার হিমোগ্লোবিনের হিম অংশ ভেঙে তৈরি হয় হলুদ রঙের রঞ্জক বিলিরুবিন।
এই ভাঙন ঘটে মূলত প্লীহা, যকৃৎ ও অস্থিমজ্জার ম্যাক্রোফেজ কোষে। তৈরি হওয়া বিলিরুবিন রক্তের মাধ্যমে যকৃতে আসে; যকৃৎ একে প্রক্রিয়াজাত করে পানিতে দ্রবণীয় করে এবং পিত্তরসের সঙ্গে অন্ত্রে পাঠিয়ে দেয়।
বিলিরুবিনের প্রক্রিয়াকরণ যকৃৎকেন্দ্রিক বলে প্রচলিত উত্তর ধরা হয় যকৃৎ। রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়, একে জন্ডিস বলে; যকৃতের রোগ এর একটি বড় কারণ।
এই প্রশ্নে প্লীহা নিয়ে সংশয় আছে, কারণ পুরোনো লোহিত কণিকা ভাঙার বড় অংশ প্লীহাতেই ঘটে, তাই কিছু গাইড প্লীহাকে উত্তর ধরে। পিত্তথলি শুধু পিত্তরস জমা রাখে, আর কিডনি বিলিরুবিন তৈরি করে না।
মনে রাখুন: বিলিরুবিনের প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর যকৃৎ; বিকল্পে প্লীহা থাকলে মনে রাখুন, গাইডভেদে উত্তর ভিন্ন।
২৮৮. মানুষের গায়ের রং কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমেলানিন
- খথায়ামিন
- গক্যারোটিন
- ঘহিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর: ক. মেলানিন
প্রশ্নটা ত্বকের রঙের উৎস জানতে চেয়েছে। ত্বকের বাইরের স্তরের মেলানোসাইট কোষ মেলানিন নামের রঞ্জক তৈরি করে, আর এর পরিমাণের উপরই গায়ের রং নির্ভর করে।
মেলানিন বেশি হলে ত্বক গাঢ়, কম হলে হালকা হয়। রোদে থাকলে মেলানিন তৈরি বাড়ে, তাই রোদে পোড়া ত্বক কালচে হয়; মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে কিছুটা রক্ষা করে।
জন্মগতভাবে মেলানিন তৈরি না হলে ত্বক, চুল ও চোখ খুব ফ্যাকাশে হয়, একে অ্যালবিনিজম বলে।
ক্যারোটিন আর হিমোগ্লোবিনও ত্বকে সামান্য হলুদাভ বা লালচে আভা দেয়, তাই এগুলো ফাঁদ; কিন্তু মূল নির্ধারক মেলানিন। থায়ামিন তো রঞ্জকই নয়, এটি ভিটামিন বি ১।
মনে রাখুন: চামড়ার রং মানে মেলানিন; মেলানিন না থাকলে অ্যালবিনিজম।
২৮৯. বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কতীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
- খক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
- গসৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
- ঘঅলৌকিকভাবে
সঠিক উত্তর: গ. সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
প্রশ্নটা প্রতিধ্বনির ব্যবহার পরীক্ষা করছে। বাদুড় অন্ধকারে চলে প্রতিধ্বনির সাহায্যে; একে বলে ইকোলোকেশন, অর্থাৎ প্রতিধ্বনি দিয়ে অবস্থান নির্ণয়।
বাদুড় উড়তে উড়তে খুব উঁচু কম্পাঙ্কের শব্দ, অর্থাৎ শব্দোত্তর তরঙ্গ, ছাড়ে। মানুষ বিশ হাজার হার্জের বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায় না, তাই আমরা এ ডাক শুনি না।
শব্দ কোনো দেয়াল, গাছ বা পোকায় লেগে ফিরে আসে। প্রতিধ্বনি ফিরতে কত সময় লাগল আর কোন দিক থেকে এলো, তা শুনে বাদুড় বুঝে নেয় বাধা বা শিকার কত দূরে ও কোথায়। জাহাজের সোনার যন্ত্রও এই নীতিতে কাজ করে।
ফাঁদ হলো শব্দ উৎপন্ন করার বিকল্পটি। শুধু শব্দ ছাড়লেই অবস্থান জানা যায় না; ফিরে আসা প্রতিধ্বনি শুনেই বাদুড় দূরত্ব বোঝে, তাই পূর্ণ উত্তর প্রতিধ্বনি শোনা।
মনে রাখুন: বাদুড়, ডলফিন আর সোনার যন্ত্র: তিনটিই প্রতিধ্বনির নীতিতে চলে।
২৯০. গাছের খাদ্য তালিকায় আছে (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কN, P, K, S ও Zn
- খNa, P, K, S ও Zn
- গN, B, K, S ও Al
- ঘN, P, K, S ও Al
সঠিক উত্তর: ক. N, P, K, S ও Zn
প্রশ্নটা উদ্ভিদের অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান চেনা পরীক্ষা করছে। যে মৌল ছাড়া উদ্ভিদ স্বাভাবিকভাবে বাড়তে ও জীবনচক্র শেষ করতে পারে না, তাকে অত্যাবশ্যক উপাদান বলে।
এদের দুই ভাগ। বেশি পরিমাণে লাগে এমন মুখ্য উপাদানের মধ্যে আছে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার। অল্প পরিমাণে লাগে এমন গৌণ উপাদানের উদাহরণ লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, তামা, বোরন, মলিবডেনাম ও ক্লোরিন।
প্রথম বিকল্পে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার ও জিংক, পাঁচটিই অত্যাবশ্যক। বাকি তিন বিকল্পে অন্তত একটি করে এমন মৌল আছে যা উদ্ভিদের অত্যাবশ্যক উপাদান নয়: সোডিয়াম বা অ্যালুমিনিয়াম।
সমাধানের কৌশল হলো বাদ দেওয়া: প্রতিটি বিকল্পে সোডিয়াম আর অ্যালুমিনিয়াম খুঁজুন। অ্যালুমিনিয়াম বরং অম্লীয় মাটিতে বেশি দ্রবীভূত হয়ে শিকড়ের ক্ষতি করে।
মনে রাখুন: সেটে Na বা Al দেখলেই বাদ।
২৯১. নিচের কোনটি DNA এর নাইট্রোজেন বেস? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কইউরাসিল
- খগোয়ানিন
- গপিরিডক্সিন
- ঘঅ্যাসপারাজিন
সঠিক উত্তর: খ. গোয়ানিন
প্রশ্নটা ডিএনএর গঠন পরীক্ষা করছে। ডিএনএতে চারটি নাইট্রোজেন বেস থাকে: অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন আর থাইমিন।
এরা দুই দলে ভাগ: অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন দুই বলয়ের পিউরিন, আর সাইটোসিন ও থাইমিন এক বলয়ের পিরিমিডিন। দ্বিসূত্রক ডিএনএতে অ্যাডেনিন জোড় বাঁধে থাইমিনের সঙ্গে, আর গুয়ানিন সাইটোসিনের সঙ্গে।
আরএনএতে থাইমিনের জায়গায় থাকে ইউরাসিল। তাই ইউরাসিল নাইট্রোজেন বেস হলেও ডিএনএর নয়, এটাই এখানে ফাঁদ।
পিরিডক্সিন হলো ভিটামিন বি ৬, আর অ্যাসপারাজিন একটি অ্যামাইনো এসিড; দুটির কোনোটিই নিউক্লিক এসিডের বেস নয়।
মনে রাখুন: ডিএনএর বেস A, G, C, T; আরএনএ-র A, G, C, U।
২৯২. নিচের কোনটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কmeson
- খneutron
- গproton
- ঘelectron
সঠিক উত্তর: ঘ. electron
প্রশ্নটা পরমাণুর গঠন পরীক্ষা করছে। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে অতি ক্ষুদ্র কিন্তু ভারী নিউক্লিয়াস, যাতে থাকে ধনাত্মক প্রোটন আর চার্জহীন নিউট্রন। ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ঘোরে।
প্রোটনগুলো সবাই ধনাত্মক, তাই পরস্পরকে বিকর্ষণ করে; তবু নিউক্লিয়াস ভাঙে না সবল নিউক্লীয় বলের কারণে। জাপানি বিজ্ঞানী হিদেকি ইউকাওয়ার তত্ত্ব অনুযায়ী এই বল কাজ করে প্রোটন আর নিউট্রনের মধ্যে মেসন কণা আদান প্রদানের মাধ্যমে; তাই নিউক্লিয়াসের আলোচনায় মেসনও আসে।
ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং ভরে প্রোটনের প্রায় ১৮৩৬ ভাগের এক ভাগ। এটি নিউক্লিয়াসে থাকে না, থাকে বাইরের কক্ষপথে।
ফাঁদ হলো মেসন। নামটা অপরিচিত বলে অনেকে একেই বাইরের কণা ভেবে বেছে নেন, অথচ নিউক্লীয় বলের বাহক হিসেবে একে নিউক্লিয়াসের সঙ্গেই যুক্ত ধরা হয়।
মনে রাখুন: নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন, বাইরে ইলেকট্রন; মেসন এদের বাঁধনের বাহক।