সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ১৩
২৪১. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কশূন্যতায়
- খকঠিন পদার্থে
- গতরল পদার্থে
- ঘবায়বীয় পদার্থে
সঠিক উত্তর: ঘ. বায়বীয় পদার্থে
শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ: মাধ্যমের এক কণার কম্পন পাশের কণায় যায়। তাই শব্দ চলতে মাধ্যম লাগে, আর মাধ্যম যত দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক, শব্দ তত দ্রুত চলে।
সাধারণ নিয়ম: কঠিনে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম, বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। যেমন শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের শুষ্ক বাতাসে শব্দের বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩৩১ মিটার, বিশ ডিগ্রির পানিতে প্রায় ১৪৮১ মিটার, আর লোহায় প্রায় ৫১২০ মিটার।
তাই মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বেগ বায়বীয় পদার্থে। এ কারণেই রেললাইনে কান পাতলে ট্রেনের শব্দ বাতাসের আগে পৌঁছায়।
ফাঁদ হলো শূন্যতা। শূন্যস্থানে কোনো কণা নেই, তাই সেখানে শব্দ চলেই না; বেগ কম নয়, শব্দই অনুপস্থিত। প্রশ্ন জানতে চেয়েছে যেসব মাধ্যমে শব্দ চলে, তাদের মধ্যে কোথায় বেগ সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন: শব্দের বেগ: কঠিন > তরল > বায়বীয়; শূন্যস্থানে শূন্য, কারণ শব্দ চলেই না।
২৪২. কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কপেপসিন
- খএমাইলেজ
- গরেনিন
- ঘট্রিপসিন
সঠিক উত্তর: গ. রেনিন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন পাচক এনজাইম দুধ জমাট বাঁধায়। প্রচলিত উত্তর রেনিন, যার আরেক নাম কাইমোসিন। এটি দুধের কেসিন প্রোটিনকে ভেঙে এমনভাবে বদলায় যে প্রোটিনের অংশগুলো জোট বেঁধে দইয়ের মতো দলা তৈরি করে।
রেনিন তৈরি হয় বাছুরের মতো সদ্যোজাত রোমন্থক প্রাণীর পাকস্থলীতে; পনির তৈরিতে এ কারণেই রেনিন ব্যবহৃত হয়। উল্লেখ্য, মানুষের দেহে কাইমোসিনের জিনটি সক্রিয় নয়; মানুষের পাকস্থলীতে দুধের প্রোটিন হজমে মূলত পেপসিন কাজ করে।
বাকি এনজাইমগুলোর কাজ আলাদা করে মনে রাখুন: পেপসিন পাকস্থলীতে প্রোটিন ভাঙে, অ্যামাইলেজ লালা ও অগ্ন্যাশয় রসে থেকে শ্বেতসার ভাঙে, আর ট্রিপসিন অগ্ন্যাশয় রস থেকে এসে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিন ভাঙে।
ফাঁদ হলো পেপসিন। এটিও পাকস্থলীর প্রোটিন ভাঙা এনজাইম, তাই অনেকে বেছে নেন; কিন্তু দুধ জমাট বাঁধানোর বিশেষ এনজাইম হিসেবে প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর রেনিন।
মনে রাখুন: দুধ জমাট মানেই রেনিন; পনির কারখানায় এর ব্যবহার মনে রাখলেই উত্তর মেলে।
২৪৩. স্টিফেন হকিন্স বিশ্বের একজন অতিশয় বিখ্যাত- (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কদার্শনিক
- খপদার্থবিদ
- গকবি
- ঘরসায়নবিদ
সঠিক উত্তর: খ. পদার্থবিদ
প্রশ্নে নামটি লেখা ‘হকিন্স’, প্রকৃত নাম স্টিফেন হকিং। তিনি ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ, যিনি কৃষ্ণগহ্বর ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
১৯৭০ সালে তিনি ও রজার পেনরোজ দেখান যে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব সত্য হলে মহাবিশ্বের শুরু একটি অনন্যতা বিন্দু থেকে হওয়া অনিবার্য। ১৯৭৯ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের লুকাসিয়ান অধ্যাপক হন।
সাধারণ পাঠকের কাছে তাঁকে পরিচিত করে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত বই ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’। পরীক্ষার সময় তিনি জীবিত ছিলেন; পরীক্ষার পরে, ২০১৮ সালের মার্চে তিনি মারা যান।
ফাঁদ হলো দার্শনিক। তাঁর বইয়ে সময় ও সৃষ্টির মতো দার্শনিক প্রশ্ন আছে, কিন্তু তাঁর পেশা ও খ্যাতি পদার্থবিজ্ঞানে।
মনে রাখুন: কৃষ্ণগহ্বর আর ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ শুনলেই স্টিফেন হকিং, পদার্থবিদ।
২৪৪. ফল পাকানোর জন্য দায়ী কী? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কইথিলিন
- খপ্রপিন
- গলাইকোপেন
- ঘমিথিলিন
সঠিক উত্তর: ক. ইথিলিন
প্রশ্নটা যাচাই করছে উদ্ভিদ হরমোনের জ্ঞান। ফল পাকানোর জন্য দায়ী ইথিলিন, দুই কার্বনের একটি সরল গ্যাসীয় যৌগ, যা উদ্ভিদ নিজেই তৈরি করে এবং হরমোনের মতো কাজ করে।
ইথিলিনের প্রভাবে ফল নরম হয়, রং বদলায় ও মিষ্টি হয়। একটি পাকা ফল থেকে বের হওয়া ইথিলিন পাশের কাঁচা ফলকেও দ্রুত পাকায়; এজন্য কাঁচা ফল পাকা ফলের সঙ্গে রাখলে তাড়াতাড়ি পাকে।
কৃত্রিমভাবে ফল পাকাতে ইথোফেন ব্যবহার হয়, যা ভেঙে ইথিলিন ছাড়ে। আর ক্যালসিয়াম কার্বাইড পানির সংস্পর্শে অ্যাসিটিলিন গ্যাস দেয়, যা ইথিলিনের মতো কাজ করে।
ফাঁদ হলো লাইকোপেন। এটি টমেটো ও তরমুজের লাল রঞ্জক; ফল পাকার সময় এটি তৈরি হয়, কিন্তু পাকার কারণ নয়।
মনে রাখুন: উদ্ভিদ হরমোনের মধ্যে একমাত্র গ্যাসীয়টি ইথিলিন, আর সেটিই ফল পাকায়।
২৪৫. ফটোইলেকট্রিক কোষের উপর আলো পড়লে কি উৎপন্ন হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কবিদ্যুৎ
- খতাপ
- গচুম্বক
- ঘকিছুই হয় না
সঠিক উত্তর: ক. বিদ্যুৎ
প্রশ্নটা আলোক তড়িৎ ক্রিয়া পরীক্ষা করছে। কিছু ধাতব পৃষ্ঠে উপযুক্ত কম্পাঙ্কের আলো পড়লে আলোর শক্তি নিয়ে ইলেকট্রন বেরিয়ে আসে, আর এই নির্গত ইলেকট্রনের প্রবাহই বিদ্যুৎপ্রবাহ।
ফটোইলেকট্রিক কোষ এই নীতিতে কাজ করে: আলো পড়লে বর্তনীতে বিদ্যুৎ চলে, আলো বন্ধ হলে প্রবাহ থামে। এভাবে এটি আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপ দেয়।
আলবার্ট আইনস্টাইন আলোকে ফোটন নামের শক্তিকণা ধরে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন, আর এই কাজের জন্যই তিনি ১৯২১ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
ফাঁদ হলো তাপ। আলো শোষণে পৃষ্ঠ সামান্য গরম হতে পারে, কিন্তু ফটোইলেকট্রিক কোষের কাজ ও পরিচয় বিদ্যুৎ উৎপাদন; স্বয়ংক্রিয় দরজা বা চোর ধরার অ্যালার্মে এই কোষ আলো থেকে বিদ্যুৎ সংকেত তৈরি করে।
মনে রাখুন: ফটো মানে আলো, ইলেকট্রিক মানে বিদ্যুৎ: আলো থেকে বিদ্যুৎ।
২৪৬. যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয়, তাদের কি বলা হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কআইসোটোপ
- খআইসোটোন
- গআইসোমার
- ঘআইসোবার
সঠিক উত্তর: খ. আইসোটোন
প্রশ্নটা নিউক্লিয়াসের শ্রেণিবিভাগ পরীক্ষা করছে। যেসব নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোন বলে।
ভর সংখ্যা মানে প্রোটন আর নিউট্রনের যোগফল। তিনটি শব্দ একসাথে মনে রাখুন: প্রোটন সংখ্যা সমান হলে আইসোটোপ, ভর সংখ্যা সমান হলে আইসোবার, আর নিউট্রন সংখ্যা সমান হলে আইসোটোন।
উদাহরণ: কার্বন ১৪ নিউক্লিয়াসে প্রোটন ৬টি, নিউট্রন ৮টি; নাইট্রোজেন ১৫ নিউক্লিয়াসে প্রোটন ৭টি, নিউট্রনও ৮টি। দুটির নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ১৪ আর ১৫, তাই এরা আইসোটোন।
নিউক্লীয় আইসোমারে প্রোটন ও নিউট্রন দুটোই সমান, পার্থক্য শুধু শক্তিস্তরে। ফাঁদ হলো আইসোটোপ, কারণ নামটা সবচেয়ে পরিচিত; কিন্তু আইসোটোপে সমান থাকে প্রোটন, নিউট্রন নয়।
মনে রাখুন: আইসোটোপে P (প্রোটন), আইসোবারে A (ভর সংখ্যা), আইসোটোনে N (নিউট্রন) সমান।
২৪৭. চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কবায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
- খআলোর বিচ্ছুরণে
- গঅপাবর্তনে
- ঘদৃষ্টিভ্রমে
সঠিক উত্তর: ক. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
প্রশ্নটা দিগন্তের কাছে চাঁদ বড় দেখানোর কারণ জানতে চেয়েছে। প্রচলিত গাইডের উত্তর বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ: দিগন্তের কাছে চাঁদের আলোকে বায়ুমণ্ডলের অনেক পুরু স্তর তির্যকভাবে পেরিয়ে আসতে হয়, আর বায়ুর ঘনত্বের তারতম্যে আলো বেঁকে যায়।
প্রতিসরণের একটি সত্যিকার প্রভাব আছে: দিগন্তের কাছে চাঁদ বা সূর্যকে প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে কিছুটা উপরে মনে হয়, আর খাড়া দিকে সামান্য চ্যাপ্টা দেখায়।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে চাঁদ বড় দেখানোর মূল কারণ দৃষ্টিভ্রম, যাকে মুন ইলিউশন বলে। ছবি তুলে মাপলে দিগন্তের চাঁদ আর মাথার উপরের চাঁদের আকার প্রায় একই পাওয়া যায়; একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো, দিগন্তে গাছপালা ও বাড়িঘরের সঙ্গে তুলনা করে মস্তিষ্ক চাঁদকে বড় ভাবে।
তাই এই প্রশ্নে পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর প্রতিসরণ, যদিও বিজ্ঞানসম্মত উত্তর দৃষ্টিভ্রম। আলোর বিচ্ছুরণ রংধনুর মতো রং আলাদা করে, আর অপবর্তন আলোকে বাধার কিনারায় বাঁকায়; এদের কোনোটিই চাঁদকে বড় দেখায় না।
মনে রাখুন: পরীক্ষায় দিগন্তে চাঁদ বড় দেখানোর প্রচলিত উত্তর প্রতিসরণ; বিকল্পে দৃষ্টিভ্রম থাকলে সাবধান।
২৪৮. লাল আলোতে নীল রঙের বস্তু কেমন দেখায়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কবেগুনী
- খসবুজ
- গহলুদ
- ঘকালো
সঠিক উত্তর: ঘ. কালো
প্রশ্নটা বস্তুর রং কীভাবে তৈরি হয়, তা পরীক্ষা করছে। কোনো বস্তু যে রঙের আলো প্রতিফলিত করে, আমরা তাকে সেই রঙের দেখি; বাকি রঙের আলো সে শোষণ করে নেয়।
নীল বস্তু সাদা আলোর মধ্য থেকে শুধু নীল আলো প্রতিফলিত করে, অন্য সব রং শোষণ করে। তাই সাদা আলোতে একে নীল দেখায়।
লাল আলোতে নীল আলো একেবারেই নেই। নীল বস্তু লাল আলো শোষণ করে নেয়, প্রতিফলিত করার মতো কোনো আলো থাকে না, তাই বস্তুটি কালো দেখায়।
ফাঁদ হলো বেগুনি; লাল আর নীল আলো মেশালে বেগুনি ধরনের রং হয় বলে এটি মনে আসে। কিন্তু এখানে আলো মিশছে না, বস্তুটি লাল আলো শুধু শোষণ করছে। একই নিয়মে লাল আলোতে সাদা বা লাল বস্তু লাল দেখায়।
মনে রাখুন: বস্তু নিজের রঙের আলো না পেলে কালো দেখায়।
২৪৯. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট কি ধাতু দিয়ে তৈরি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কসংকর ধাতু
- খসীসা
- গটাংস্টেন
- ঘতামা
সঠিক উত্তর: গ. টাংস্টেন
প্রশ্নটা বাল্বের ফিলামেন্টের ধাতু জানতে চেয়েছে। সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেনের তৈরি। ফিলামেন্ট দিয়ে বিদ্যুৎ চললে এটি এত গরম হয় যে উজ্জ্বল আলো দেয়।
এত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে খুব কম ধাতু। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৪২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সব ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি; তাই এটি গলে না।
বাতাসের অক্সিজেনে গরম ফিলামেন্ট জারিত হয়ে পুড়ে যেত, তাই বাল্বের ভেতর থেকে বাতাস সরিয়ে আর্গন বা নাইট্রোজেনের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস ভরা হয়।
সিসার গলনাঙ্ক মাত্র প্রায় ৩২৭ ডিগ্রি, তামার প্রায় ১০৮৫ ডিগ্রি; ফিলামেন্টের তাপমাত্রায় এরা গলে যাবে। আর নাইক্রোমের মতো সংকর ধাতু ব্যবহার হয় হিটারে, বাল্বের ফিলামেন্টে নয়।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বেশি গলনাঙ্কের ধাতু টাংস্টেন, তাই বাল্বের ফিলামেন্ট।
২৫০. জারণ বিক্রিয়ায় কি ঘটে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কইলেক্ট্রন গ্রহণ
- খইলেক্ট্রন আদান-প্রদান
- গইলেক্ট্রন বর্জন
- ঘশুধু তাপ উৎপন্ন হয়
সঠিক উত্তর: গ. ইলেক্ট্রন বর্জন
প্রশ্নটা জারণের ইলেকট্রনীয় সংজ্ঞা পরীক্ষা করছে। আধুনিক সংজ্ঞায় যে বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু বা আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে, তাকে জারণ বলে; আর যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাকে বিজারণ।
উদাহরণ: সোডিয়াম আর ক্লোরিনের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ছেড়ে ধনাত্মক আয়ন হয়, অর্থাৎ সোডিয়ামের জারণ ঘটে; ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন নিয়ে ঋণাত্মক ক্লোরাইড আয়ন হয়, অর্থাৎ ক্লোরিনের বিজারণ ঘটে।
একজন ইলেকট্রন ছাড়লে আরেকজনকে তা নিতে হয়, তাই জারণ আর বিজারণ সবসময় একসাথে ঘটে; পুরো বিক্রিয়াকে বলে জারণ বিজারণ বা রেডক্স বিক্রিয়া।
ফাঁদ হলো ইলেকট্রন আদান প্রদান। এটি পুরো রেডক্স বিক্রিয়ার বর্ণনা, শুধু জারণের নয়। আর তাপ উৎপন্ন হওয়া জারণের সংজ্ঞা নয়; নাইট্রোজেন থেকে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির মতো কিছু জারণে তাপ বরং শোষিত হয়।
মনে রাখুন: ইংরেজি কৌশল OIL RIG: Oxidation Is Loss, Reduction Is Gain।
২৫১. নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কP4O10
- খMgO
- গCO
- ঘZnO
সঠিক উত্তর: খ. MgO
প্রশ্নটা অক্সাইডের শ্রেণিবিভাগ পরীক্ষা করছে। যে অক্সাইড এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে, তাকে ক্ষারকীয় অক্সাইড বলে। সক্রিয় ধাতুর অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয় হয়।
ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এমন একটি ধাতব অক্সাইড; পানির সঙ্গে বিক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড তৈরি করে আর এসিডকে প্রশমিত করে। এজন্যই ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড অ্যান্টাসিডে ব্যবহার হয়।
অধাতুর অক্সাইড সাধারণত অম্লীয়: ফসফরাস পেন্টক্সাইড পানির সঙ্গে মিশে ফসফরিক এসিড তৈরি করে। কার্বন মনোক্সাইড নিরপেক্ষ অক্সাইড, এসিড বা ক্ষার কারও সঙ্গে লবণ তৈরি করে না। আর জিংক অক্সাইড উভধর্মী, এসিড ও ক্ষার দুটোর সঙ্গেই বিক্রিয়া করে।
ফাঁদ হলো জিংক অক্সাইড। এটিও ধাতব অক্সাইড বলে ক্ষারকীয় মনে হয়, কিন্তু ক্ষারের সঙ্গেও বিক্রিয়া করে বলে এটি উভধর্মী।
মনে রাখুন: সক্রিয় ধাতুর অক্সাইড ক্ষারকীয়, অধাতুর অক্সাইড অম্লীয়; জিংক ও অ্যালুমিনিয়ামের অক্সাইড উভধর্মী।
২৫২. কোন ধাতু পানি অপেক্ষা হালকা? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কম্যাগনেসিয়াম
- খক্যালসিয়াম
- গসোডিয়াম
- ঘপটাসিয়াম
সঠিক উত্তর: গ. সোডিয়াম
প্রশ্নটা ধাতুর ঘনত্ব পরীক্ষা করছে। পানির ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে এক গ্রাম; কোনো ধাতুর ঘনত্ব এর কম হলে সেটি পানির চেয়ে হালকা এবং পানিতে ভাসে।
সোডিয়ামের ঘনত্ব প্রায় শূন্য দশমিক ৯৭ গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার, তাই এটি পানিতে ভাসে, আর ভাসতে ভাসতেই পানির সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করে।
ম্যাগনেসিয়ামের ঘনত্ব প্রায় ১ দশমিক ৭৪, আর ক্যালসিয়ামের প্রায় ১ দশমিক ৫৫; দুটোই পানির চেয়ে ভারী।
সমস্যা হলো পটাশিয়াম। এর ঘনত্ব প্রায় শূন্য দশমিক ৮৯, অর্থাৎ এটিও পানির চেয়ে হালকা, এমনকি সোডিয়ামের চেয়েও হালকা। তাই প্রশ্নে দুটি সঠিক বিকল্প আছে; প্রচলিত উত্তরে সোডিয়াম ধরা হয়, আর কোনো কোনো সমাধানে প্রশ্নটিকে বাতিল দেখানো হয়।
মনে রাখুন: লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম: এই তিন ধাতুই পানিতে ভাসে।
২৫৩. পারমাণবিক চুল্লীতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কসোডিয়াম
- খপটাসিয়াম
- গম্যাগনেসিয়াম
- ঘজিংক
সঠিক উত্তর: ক. সোডিয়াম
প্রশ্নটা পারমাণবিক চুল্লির তাপ পরিবাহক নিয়ে, আর প্রায় একই প্রশ্ন আটাশতম বিসিএসেও এসেছিল। চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়ায় যে বিপুল তাপ তৈরি হয়, তা জ্বালানি থেকে সরিয়ে বাষ্প তৈরিতে কাজে লাগাতে একটি তাপ পরিবাহক বা কুল্যান্ট লাগে।
ফাস্ট ব্রিডার বা দ্রুত প্রজনন চুল্লিতে এই কাজে ব্যবহার হয় গলিত ধাতু সোডিয়াম। সাধারণ চুল্লিতে পানিই কুল্যান্ট, তবে প্রশ্নে ধাতু জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোডিয়াম প্রায় ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গলে আর প্রায় ৮৮৩ ডিগ্রিতে ফোটে, তাই অনেক বড় তাপমাত্রার পরিসরে তরল থাকে; ধাতু বলে তাপও খুব ভালো পরিবহন করে।
ফাঁদ হলো পটাশিয়াম, কারণ এটিও সোডিয়ামের মতো ক্ষার ধাতু। ম্যাগনেসিয়ামের সংকর ব্রিটিশ ম্যাগনক্স চুল্লিতে জ্বালানির আবরণ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে, আর জিংকের পরিচিত ব্যবহার লোহায় দস্তার প্রলেপ বা গ্যালভানাইজিং।
মনে রাখুন: পারমাণবিক চুল্লি আর ধাতব তাপ পরিবাহক একসাথে দেখলেই সোডিয়াম।
২৫৪. কোন বিজ্ঞানী রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কডারউইন
- খলুইপাস্তুর
- গপ্রিস্টলী
- ঘল্যাভয়সিয়ে
সঠিক উত্তর: খ. লুইপাস্তুর
প্রশ্নটা রোগজীবাণু তত্ত্বের প্রবর্তক জানতে চেয়েছে। এই তত্ত্ব বলে, অনেক রোগের কারণ চোখে দেখা যায় না এমন অণুজীব বা জীবাণু। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর পরীক্ষার মাধ্যমে এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
পাস্তুর দেখান যে খাবার পচা বা গাঁজন অণুজীবের কাজ, আপনা থেকে হয় না। এর ভিত্তিতে তিনি তাপ দিয়ে দুধের মতো তরলের জীবাণু কমানোর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা তাঁর নামে পাস্তুরায়ন। জলাতঙ্কের টিকাও তাঁর আবিষ্কার।
জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ অ্যানথ্রাক্স ও যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত করে এই তত্ত্বকে আরও মজবুত করেন।
চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদ বা প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত। জোসেফ প্রিস্টলি অক্সিজেনের আবিষ্কারকদের একজন, আর ল্যাভয়সিয়ে সেই গ্যাসের নাম দেন অক্সিজেন এবং ভরের সংরক্ষণশীলতার ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন।
মনে রাখুন: জীবাণু, পাস্তুরায়ন, জলাতঙ্ক: তিনটিতেই পাস্তুর।
২৫৫. সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক৪ টি
- খ৫ টি
- গ৬ টি
- ঘ৮ টি
সঠিক উত্তর: গ. ৬ টি
প্রশ্নটা খাদ্যের উপাদানের সংখ্যা জানতে চেয়েছে, আর একই প্রশ্ন আটাশতম বিসিএসেও এসেছিল। খাদ্যের উপাদান ছয়টি: শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ আর পানি।
কাজের ভিত্তিতে এদের তিন দলে ভাবা যায়। শক্তি দেয় শর্করা ও স্নেহ পদার্থ; দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে আমিষ; আর ভিটামিন ও খনিজ লবণ রোগ প্রতিরোধ ও দেহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। পানি এদের সবার বাহক ও বিক্রিয়ার মাধ্যম।
এই ছয়টি উপাদান যখন বয়স, পরিশ্রম ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক অনুপাতে খাবারে থাকে, তখন তাকে সুষম খাদ্য বলে।
ফাঁদ হলো পাঁচটি, কারণ অনেকে পানিকে খাদ্যের উপাদান ধরেন না। কিন্তু পানি ছাড়া দেহের কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়াই চলে না, তাই এটি ষষ্ঠ উপাদান।
মনে রাখুন: শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ, পানি: ছয়।
২৫৬. গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কউষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
- খঅত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
- গআলো থেকে রক্ষার জন্য
- ঘঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
সঠিক উত্তর: খ. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
প্রশ্নটা গ্রিনহাউস বা সবুজঘরের ব্যবহার জানতে চেয়েছে। গ্রিনহাউস হলো কাচ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকে ঘেরা ঘর, যার ভেতরে গাছ লাগানো হয়।
সূর্যের আলো স্বচ্ছ দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢোকে এবং মাটি ও গাছকে গরম করে। গরম বস্তু থেকে বের হওয়া অবলোহিত তাপ কাচ সহজে বের হতে দেয় না, আর বদ্ধ ঘরে গরম বাতাসও আটকে থাকে। ফলে বাইরের চেয়ে ভেতর উষ্ণ থাকে।
এজন্য শীতপ্রধান দেশে অত্যধিক ঠান্ডা থেকে গাছ রক্ষা করতে এবং শীতকালেও সবজি ও ফুল ফলাতে গ্রিনহাউস ব্যবহার হয়। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো গ্যাসও একইভাবে পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে, তাই একে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।
ফাঁদ হলো উষ্ণতা থেকে রক্ষা; গ্রিনহাউস আসলে উল্টো কাজ করে, ভেতরের তাপমাত্রা বাড়ায়। আর কাচের ঘর আলো আটকায় না, বরং আলো ঢুকতে দেয় বলেই কাজ করে।
মনে রাখুন: গ্রিনহাউস মানে তাপ আটকানো ঘর; কাজ ঠান্ডা থেকে গাছ বাঁচানো।
২৫৭. পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কআর্লিবার্ড
- খএস্ট্রোলার
- গওবেরী হল
- ঘকসমস
সঠিক উত্তর: ক. আর্লিবার্ড
প্রশ্নটা মহাকাশ যুগের একটি প্রথম অর্জন নিয়ে। বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ আর্লি বার্ড, যার আনুষ্ঠানিক নাম ইন্টেলস্যাট ওয়ান। এটি উৎক্ষেপণ করা হয় ১৯৬৫ সালের এপ্রিলে।
আর্লি বার্ড ছিল ভূস্থির কক্ষপথের উপগ্রহ, অর্থাৎ পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘোরে বলে আকাশের একই জায়গায় স্থির মনে হয়। আটলান্টিকের উপরে থেকে এটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে টেলিফোন ও টেলিভিশন সংকেত আদান প্রদান করত।
এর আগে, ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে সোভিয়েত ইউনিয়ন উৎক্ষেপণ করে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক ওয়ান; তবে সেটি বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ ছিল না।
ফাঁদ হলো কসমস; এটি ১৯৬২ সাল থেকে উৎক্ষেপিত সোভিয়েত উপগ্রহ সিরিজের সাধারণ নাম, প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ নয়। বাকি দুটি নামের সঙ্গেও এই অর্জনের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: প্রথম উপগ্রহ স্পুটনিক, প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ আর্লি বার্ড।
২৫৮. সূর্য পৃষ্ঠের উত্তাপ কত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- খ৮০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- গ১০০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- ঘ১২০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
সঠিক উত্তর: ক. ৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
প্রশ্নটা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা জানতে চেয়েছে। সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠকে আলোকমণ্ডল বা ফটোস্ফিয়ার বলে; এর তাপমাত্রা প্রায় ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মোটা দাগে প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি ধরা হয়। বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে কাছের মান তাই ৬০০০ ডিগ্রি।
সূর্যের শক্তি তৈরি হয় কেন্দ্রে, যেখানে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে হিলিয়াম তৈরি হয়। এই নিউক্লীয় সংযোজনের জায়গা, অর্থাৎ কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি।
মজার ব্যাপার হলো, পৃষ্ঠের উপরের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনার তাপমাত্রা আবার পৃষ্ঠের চেয়ে অনেক বেশি, দশ লক্ষ ডিগ্রিরও বেশি।
আট হাজার, দশ হাজার বা বারো হাজার ডিগ্রি পৃষ্ঠের প্রকৃত মানের চেয়ে অনেক বেশি, আবার কেন্দ্র বা করোনার মানের ধারেকাছেও নয়; প্রশ্নে শুধু পৃষ্ঠ জানতে চাওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন: সূর্যের পৃষ্ঠ প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি, কেন্দ্র প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি।
২৫৯. কোনটি বায়ুর উপাদান নহে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কনাইট্রোজেন
- খহাইড্রোজেন
- গকার্বন
- ঘফসফরাস
সঠিক উত্তর: ঘ. ফসফরাস
প্রশ্নটা বায়ুর উপাদান চেনা পরীক্ষা করছে। শুষ্ক বায়ুর প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন আর প্রায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন; বাকি সামান্য অংশে আছে আর্গন, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং খুব অল্প পরিমাণে নিয়ন, হিলিয়াম, মিথেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি গ্যাস।
হাইড্রোজেন বায়ুতে খুবই সামান্য পরিমাণে থাকে, তবু এটি বায়ুর উপাদান। কার্বন মৌল হিসেবে নয়, কার্বন ডাইঅক্সাইড আর মিথেনের মতো যৌগের ভেতরে বায়ুতে থাকে।
ফসফরাস বায়ুর উপাদান নয়। এটি মূলত শিলা ও মাটিতে ফসফেট খনিজ হিসেবে থাকে। সাদা ফসফরাস বাতাসের সংস্পর্শে নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে বলে একে পানির নিচে রাখা হয়।
ফাঁদ হলো কার্বন। মৌল হিসেবে কার্বন বায়ুতে ভাসে না বলে অনেকে একে বেছে নেন, কিন্তু কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাধ্যমে কার্বন বায়ুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মনে রাখুন: চারটির মধ্যে যেটির বায়ুতে কোনো গ্যাসীয় রূপ বা যৌগ নেই, সেটিই উত্তর: ফসফরাস।
২৬০. অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কি বলে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কচুন
- খসেভিং সোপ
- গফিটকিরি
- ঘকস্টিক সোডা
সঠিক উত্তর: গ. ফিটকিরি
প্রশ্নটা কয়েকটি রাসায়নিক পদার্থের চলতি নাম পরীক্ষা করছে। প্রশ্নে অ্যালুমিনিয়াম সালফেট বলা হলেও আমরা যাকে ফিটকিরি বলি, সেটি আসলে পটাশিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট: পটাশিয়াম সালফেট আর অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের একটি দ্বিলবণ, যাতে কেলাস পানিও থাকে।
অ্যালুমিনিয়াম সালফেট ফিটকিরির মূল উপাদান, আর পানি পরিষ্কারে দুটোই ব্যবহার হয়; তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে ফিটকিরিই সঠিক।
ঘোলা পানিতে ফিটকিরি দিলে ভাসমান কাদা ও ময়লার কণা জমাট বেঁধে তলানিতে বসে যায়, তাই পানি বিশুদ্ধকরণে এর ব্যবহার।
চুন বলতে সাধারণত ক্যালসিয়াম অক্সাইড বোঝায়, আর কস্টিক সোডা হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড। সেভিং সোপ বা দাড়ি কামানোর সাবান কোনো একক রাসায়নিকের নাম নয়।
মনে রাখুন: পানি পরিষ্কারের ফিটকিরি মানেই অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের দ্বিলবণ।