বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১১
২০১. ভীষ্মদেব খোশনবীশ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থের চরিত্র? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ককমলাকান্ত
- খলোকরহস্য
- গমুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত
- ঘযুগলাঙ্গুরীয়
সঠিক উত্তর: ক. কমলাকান্ত
ভীষ্মদেব খোশনবীস বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্ত গ্রন্থের চরিত্র। আফিমসেবী কমলাকান্ত তাঁর লেখার দপ্তর ভীষ্মদেবের হাতে রেখে যান, আর তিনিই সেগুলো প্রকাশ করেন বলে বইটির কাঠামো।
কমলাকান্ত গ্রন্থে তিনটি অংশ: কমলাকান্তের দপ্তর, কমলাকান্তের পত্র ও কমলাকান্তের জোবানবন্দী। প্রসন্ন গোয়ালিনী আর মঙ্গলা গাভীও এর পরিচিত চরিত্র।
বঙ্কিমের অন্য ব্যঙ্গরচনা লোকরহস্য আর মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত; যুগলাঙ্গুরীয় তাঁর ছোট উপন্যাস। ব্যঙ্গরচনা বলে তিনটিই কাছাকাছি মনে হয়, তাই চরিত্রের নাম দিয়ে আলাদা করুন।
ফাঁদ লোকরহস্য, কারণ এটিও রসরচনা। কিন্তু ভীষ্মদেব খোশনবীস কমলাকান্তের লেখার প্রকাশক চরিত্র।
মনে রাখুন: কমলাকান্তের সঙ্গে তিন নাম: ভীষ্মদেব খোশনবীস, প্রসন্ন গোয়ালিনী, মঙ্গলা গাভী।
২০২. দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদক – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কজশুয়া মার্শম্যান
- খডেভিড হেয়ার
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘমাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটক ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র এতে এত তীব্র ছিল যে এটি নীল বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে ওঠে।
১৮৬১ সালে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ নীল দর্পণ, অর ইন্ডিগো প্ল্যান্টিং মিরর প্রকাশিত হয়। অনুবাদকের নাম ছাপা ছিল শুধু এ নেটিভ, তবে প্রচলিত মতে অনুবাদক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
অনুবাদটি প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস লং। এ জন্য তাঁর জরিমানা ও কারাদণ্ড হয়, আর জরিমানার টাকা কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিশোধ করেন বলে প্রচলিত আছে।
ফাঁদ বিদ্যাসাগর, কারণ তিনি অনুবাদে পারদর্শী ছিলেন; আর মার্শম্যান নাম মিশনারি প্রকাশনার জন্য পরিচিত। কিন্তু নীলদর্পণের অনুবাদের সঙ্গে প্রচলিতভাবে মধুসূদনের নামই যুক্ত।
মনে রাখুন: নীলদর্পণ: লেখক দীনবন্ধু, অনুবাদক মধুসূদন, প্রকাশক জেমস লং।
২০৩. রঞ্জন চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিসর্জন
- খরক্তকরবী
- গমুক্তধারা
- ঘডাকঘর
সঠিক উত্তর: খ. রক্তকরবী
রঞ্জন রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী নাটকের চরিত্র। যক্ষপুরীর যন্ত্রনির্ভর, লোভী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রাণের প্রতীক নন্দিনী, আর রঞ্জন তার প্রিয় মানুষ।
নাটকে রঞ্জন মঞ্চে প্রায় দেখাই যায় না, তবু পুরো নাটক তাকে ঘিরে আবর্তিত; শেষে রাজার হাতে তার মৃত্যু রাজাকে বিদ্রোহের পথে নিয়ে আসে। অন্য চরিত্র রাজা, বিশু পাগল, অধ্যাপক।
রবীন্দ্রনাথের নাটক চরিত্র দিয়ে মনে রাখুন: বিসর্জনে রঘুপতি, জয়সিংহ, গোবিন্দমাণিক্য; মুক্তধারায় অভিজিৎ ও ধনঞ্জয় বৈরাগী; ডাকঘরে অমল ও সুধা।
ফাঁদ মুক্তধারা, কারণ এটিও যন্ত্রসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতীকী নাটক। কিন্তু মুক্তধারার নায়ক অভিজিৎ, রঞ্জন নয়।
মনে রাখুন: নন্দিনী বা রঞ্জন বা যক্ষপুরী দেখলেই রক্তকরবী।
২০৪. 'তৈল' প্রবন্ধটি লিখেছেন – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসুকুমার রায়
- খরমেশচন্দ্র মজুমদার
- গশিবনারায়ণ রায়
- ঘহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর: ঘ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
তৈল হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ। এতে তোষামোদকে তৈলমর্দন বলে কটাক্ষ করা হয়েছে; তেল দিলে সব কাজ সহজে চলে, এই বিদ্রূপই প্রবন্ধের প্রাণ।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আরও বড় কারণে স্মরণীয়: ১৯০৭ সালে তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে তা প্রকাশ করেন।
অন্য তিনজনের পরিচয়: সুকুমার রায় শিশুসাহিত্যিক, আবোল তাবোলের কবি; রমেশচন্দ্র মজুমদার ইতিহাসবিদ; শিবনারায়ণ রায় প্রাবন্ধিক ও জিজ্ঞাসা পত্রিকার সম্পাদক।
ফাঁদ সুকুমার রায়, কারণ রসরচনা শুনলেই তাঁর নাম মনে আসে। কিন্তু তৈল প্রবন্ধটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর।
মনে রাখুন: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: তৈল প্রবন্ধ, চর্যাপদ আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬।
২০৫. "নাম রেখেছি কোমল গান্ধার" কাব্যের রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খবিষ্ণু দে
- গঅমিয় চক্রবর্তী
- ঘপ্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর: খ. বিষ্ণু দে
নাম রেখেছি কোমল গান্ধার বিষ্ণু দে-র কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯৫৩ সালে। কোমল গান্ধার সংগীতের সাত স্বরের একটি, তৃতীয় স্বর গান্ধারের কোমল রূপ, সেখান থেকেই শিরোনাম।
বিষ্ণু দে তিরিশের দশকের আধুনিক পাঁচ কবির একজন; বাকিরা জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও অমিয় চক্রবর্তী। তাঁর অন্য কাব্য উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি; ১৯৭১ সালে তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান।
অন্য বিকল্পের কবিদের কাজ আলাদা। অমিয় চক্রবর্তীর কাব্য খসড়া, একমুঠো; প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য প্রথমা, সম্রাট, আর তিনি ঘনাদা চরিত্রের স্রষ্টা।
ফাঁদ রবীন্দ্রনাথ, কারণ সংগীতের পরিভাষা শুনলে তাঁর কথাই মনে আসে। কিন্তু এ শিরোনাম বিষ্ণু দে-র।
মনে রাখুন: তিরিশের পাঁচ কবি: জীবনানন্দ, সুধীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী।
২০৬. 'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ' -গানটির রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খগোলাম মোস্তফা
- গজসীমউদ্দীন
- ঘআব্বাস উদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর: ক. কাজী নজরুল ইসলাম
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ গানটি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ও সুর করা। শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের অনুরোধে তিনি গানটি লেখেন।
গানটি প্রথম রেকর্ড হয় আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে, আর তারপর থেকে এটি বাংলাভাষী মুসলমানদের ঈদের প্রধান গান। নজরুল বাংলা ইসলামি গানের ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
প্রশ্নে আব্বাসউদ্দীন নামটি থাকায় ফাঁদ তৈরি হয়। তিনি গানটির শিল্পী ও প্রেরণাদাতা, গীতিকার নন।
গোলাম মোস্তফা ও জসীমউদ্দীনও কবি হিসেবে বিখ্যাত, কিন্তু এই ঈদের গানটির রচয়িতা নন।
মনে রাখুন: এ গানের গীতিকার নজরুল, শিল্পী আব্বাসউদ্দীন; ভূমিকা গুলিয়ে ফেলবেন না।
২০৭. শামসুর রাহমানের রচিত উপন্যাস – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কপতঙ্গ পিঞ্জর
- খপ্রেম একটি লাল গোলাপ
- গরৌদ্র করোটিতে
- ঘঅদ্ভুত আঁধার এক
সঠিক উত্তর: ঘ. অদ্ভুত আঁধার এক
শামসুর রাহমান মূলত কবি, তবে কয়েকটি উপন্যাসও লিখেছেন: অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ ও এলো সে অবেলায়। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে উপন্যাস অদ্ভুত আঁধার এক।
শিরোনামটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি থেকে নেওয়া, অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ। তাই নাম শুনে জীবনানন্দের কথা মনে আসতে পারে।
রৌদ্র করোটিতে শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস নয়। তাঁর অন্য বিখ্যাত কাব্য প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, বন্দী শিবির থেকে, বিধ্বস্ত নীলিমা।
ফাঁদ রৌদ্র করোটিতে, কারণ এটি সত্যিই শামসুর রাহমানের বই; কিন্তু প্রশ্ন চেয়েছে উপন্যাস। বাকি দুটি নাম তাঁর উপন্যাসের তালিকায় নেই।
মনে রাখুন: শামসুর রাহমানের উপন্যাস চারটি নাম: অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
২০৮. সেলিম আল দীনের নাটকে অনুসৃত শিল্পতত্ত্ব – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কঅস্তিত্ববাদ
- খঅভিব্যক্তিবাদ
- গপরাবাস্তববাদ
- ঘদ্বৈতাদ্বৈতবাদ
সঠিক উত্তর: ঘ. দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
সেলিম আল দীন বাংলা নাটকে নিজস্ব শিল্পতত্ত্ব হিসেবে দ্বৈতাদ্বৈতবাদ প্রবর্তন করেন। এতে নাটক, কবিতা, কথাসাহিত্য আর বর্ণনা আলাদা না থেকে একসঙ্গে মিশে যায়।
তিনি পশ্চিমা নাট্যরীতির বদলে বাংলার নিজস্ব কথকতা, পাঁচালি ও বর্ণনাত্মক রীতিকে আধুনিক নাটকে ফিরিয়ে আনেন। এর দৃষ্টান্ত কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাতহদাই, যৈবতী কন্যার মন।
অন্য বিকল্পগুলো ইউরোপীয় শিল্পতত্ত্ব। অস্তিত্ববাদ সার্ত্র ও কামুর দর্শন, অভিব্যক্তিবাদ অন্তরের আবেগকে বিকৃত তীব্র রূপে প্রকাশের রীতি, আর পরাবাস্তববাদ অবচেতন মনের স্বপ্নময় চিত্র।
ফাঁদ পরাবাস্তববাদ বা অভিব্যক্তিবাদ, কারণ আধুনিক নাটকের আলোচনায় এগুলো প্রায়ই আসে। কিন্তু সেলিম আল দীনের নিজস্ব তত্ত্বের নাম দ্বৈতাদ্বৈতবাদ।
মনে রাখুন: সেলিম আল দীন মানেই দ্বৈতাদ্বৈতবাদ, গ্রাম থিয়েটার আর ঢাকা থিয়েটার।
২০৯. 'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থের কবি – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআল মাহমুদ
- খরফিক আজাদ
- গআবুল হাসান
- ঘআবুল হোসেন
সঠিক উত্তর: গ. আবুল হাসান
পৃথক পালঙ্ক কবি আবুল হাসানের কাব্যগ্রন্থ। ষাটের দশকের এই কবি অল্প বয়সে মারা যান, কিন্তু নিঃসঙ্গতা আর বেদনার কাব্যভাষার জন্য স্মরণীয়।
আবুল হাসানের তিনটি কাব্যগ্রন্থ: রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো এবং পৃথক পালঙ্ক। তিনটিই প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
অন্য কবিদের পরিচিত কাব্য: আল মাহমুদের সোনালী কাবিন ও লোক লোকান্তর, রফিক আজাদের অসম্ভবের পায়ে, আর আবুল হোসেনের নববসন্ত।
ফাঁদ আবুল হোসেন, কারণ নাম প্রায় একই। আবুল হোসেন চল্লিশের দশকের কবি, আর পৃথক পালঙ্কের কবি আবুল হাসান।
মনে রাখুন: আবুল হাসান মানে রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক।
২১০. কোন গল্পকারের গল্পে ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কজ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
- খরিজিয়া রহমান
- গশহীদুল জহির
- ঘদিলারা হাশেম
সঠিক উত্তর: গ. শহীদুল জহির
ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতা হলো এমন রীতি, যেখানে বাস্তব ঘটনার ভেতরে অলৌকিক বা অবাস্তব ঘটনা স্বাভাবিকভাবে মিশে যায়। লাতিন আমেরিকার গার্সিয়া মার্কেস এ রীতির সবচেয়ে পরিচিত লেখক।
বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে এ রীতির প্রধান নাম শহীদুল জহির। তাঁর সে রাতে পূর্ণিমা ছিল উপন্যাস এবং ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প গ্রন্থে জাদুবাস্তবতার স্পষ্ট ছাপ আছে।
শহীদুল জহিরের আরেকটি পরিচিত বই জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, যেখানে পুরান ঢাকার মানুষ আর একাত্তরের স্মৃতি ঘুরে ফিরে আসে।
রিজিয়া রহমান, দিলারা হাশেম ও জ্যোতিপ্রকাশ দত্তও গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিক, কিন্তু তাঁদের পরিচিতি বাস্তবধর্মী বা অন্য ধারার লেখায়, জাদুবাস্তবতায় নয়।
মনে রাখুন: বাংলা কথাসাহিত্যে জাদুবাস্তবতা বললে প্রথমে শহীদুল জহির।
২১১. "একুশ মানে মাথা নত না করা" – এই অমর পঙ্ক্তির রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআবদুল গাফফার চৌধুরী
- খআবুল ফজল
- গমুনীর চৌধুরী
- ঘসিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর: খ. আবুল ফজল
একুশ মানে মাথা নত না করা, এই অমর উক্তির রচয়িতা আবুল ফজল। ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে তিনি এক বাক্যে বেঁধেছেন: অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই একুশের শিক্ষা।
আবুল ফজল চট্টগ্রামের প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক, পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। মুক্তবুদ্ধি ও মানবতাবাদী চিন্তার জন্য তিনি পরিচিত।
একুশ নিয়ে অন্য অমর সৃষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে রাখুন: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর, আর কবর নাটক মুনীর চৌধুরীর, কারাগারে বসে লেখা।
ফাঁদ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, কারণ একুশের সবচেয়ে পরিচিত পঙ্ক্তিটি তাঁর। কিন্তু এই উক্তিটি আবুল ফজলের।
মনে রাখুন: একুশের গান গাফ্ফার চৌধুরী, নাটক মুনীর চৌধুরী, মাথা নত না করা আবুল ফজল।
২১২. 'কবর' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কঅক্ষরবৃত্ত
- খত্রিপদী
- গমাত্রাবৃত্ত
- ঘস্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: গ. মাত্রাবৃত্ত
প্রশ্নটা জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কবিতা “কবর” কোন ছন্দে লেখা, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর মাত্রাবৃত্ত ছন্দ, প্রতি পর্বে ছয় মাত্রা।
মাত্রাবৃত্তে মুক্তাক্ষর বা স্বরান্ত অক্ষর এক মাত্রা, আর বদ্ধাক্ষর বা ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর সবসময় দুই মাত্রা। প্রথম চরণে গুনে দেখি: “এই খানে তোর” এই, খা, নে, তোর মিলে দুই, এক, এক, দুই, মোট ছয়। “দাদির কবর” দা এক, দির দুই, ক এক, বর দুই, মোট ছয়। “ডালিম গাছের” আবারও ছয়, আর শেষে “তলে” দুই মাত্রার অপূর্ণ পর্ব।
কবিতাটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ “রাখালী”-তে আছে, যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। জসীমউদ্দীন তখনো ছাত্র থাকা অবস্থাতেই কবিতাটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তাঁকে পল্লীকবি বলা হয়।
ফাঁদ হলো অক্ষরবৃত্ত, কারণ চরণগুলো লম্বা। কিন্তু অক্ষরবৃত্তে শব্দের ভেতরের বদ্ধাক্ষর এক মাত্রা ধরা হয়, তাতে এই ছয় ছয় মাত্রার পর্ব মেলে না। আর ত্রিপদী আসলে ছন্দ নয়, তিন পদের এক ধরনের স্তবক বিন্যাস।
মনে রাখুন: বদ্ধাক্ষর সব জায়গায় দুই মাত্রা ধরে পর্ব মিলে গেলে মাত্রাবৃত্ত; শব্দের শেষে শুধু দুই মাত্রা হলে অক্ষরবৃত্ত; সব অক্ষর এক মাত্রা হলে স্বরবৃত্ত।
২১৩. 'সংশয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কবিস্ময়
- খনির্ভয়
- গদ্বিধা
- ঘপ্রত্যয়
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রত্যয়
প্রশ্নটা “সংশয়” শব্দের বিপরীত শব্দ জানতে চেয়েছে। সংশয় মানে সন্দেহ, দ্বিধা, নিশ্চিত হতে না পারা। এর উল্টো হলো দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা, অর্থাৎ প্রত্যয়।
প্রত্যয় শব্দের অর্থ বিশ্বাস, আস্থা, নিশ্চিত জ্ঞান। যেমন: সংশয় কাটিয়ে সে প্রত্যয়ের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিল। নিঃসংশয় শব্দটিও সংশয়ের বিপরীত অর্থ দেয়।
এখানে খেয়াল রাখুন, ব্যাকরণে প্রত্যয় মানে শব্দের শেষে যুক্ত শব্দাংশও হয়। কিন্তু এই প্রশ্নে প্রত্যয় এসেছে বিশ্বাস অর্থে।
ফাঁদ হলো দ্বিধা, কারণ এটা সংশয়ের কাছাকাছি শব্দ, মানে সমার্থক, বিপরীত নয়। আর নির্ভয় হলো ভয়ের বিপরীত, সংশয়ের নয়।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দের প্রশ্নে আগে প্রতিটি অপশন সমার্থক কিনা দেখে বাদ দিন; সমার্থকটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
২১৪. 'আভরণ' শব্দের অর্থ কি? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কআচ্ছাদন
- খরমণীয়
- গঅনবরত
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনটিই নয়
প্রশ্নটা “আভরণ” শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। আভরণ মানে অলংকার, গয়না বা ভূষণ। যেমন: রাজকন্যার গায়ে নানা রত্নের আভরণ।
অপশনে অলংকার, গয়না বা ভূষণ কোনোটিই নেই। আচ্ছাদন মানে ঢাকনা, রমণীয় মানে মনোরম, আর অনবরত মানে একটানা। তাই সঠিক উত্তর কোনটিই নয়।
শব্দটি থেকে আরও কিছু শব্দ চেনা যায়। নিরাভরণ মানে অলংকারহীন, সাদামাটা। আভরণ আর আবরণ দেখতে প্রায় এক, কিন্তু অর্থ আলাদা।
ফাঁদ হলো আচ্ছাদন। আবরণ শব্দের অর্থ আচ্ছাদন বা ঢাকনা, আর আভরণ ও আবরণ একই রকম শোনায় বলে অনেকে আচ্ছাদন দাগান। ভ আর ব-এর পার্থক্যই এখানে আসল।
মনে রাখুন: আভরণ ভ দিয়ে, ভূষণও ভ দিয়ে: আভরণ মানে ভূষণ।
২১৫. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধিকে কতভাগে ভাগ করেছেন? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- ক৩
- খ৪
- গ৫
- ঘ৬
সঠিক উত্তর: গ. ৫
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধি বা আলোচ্য বিষয়কে কয় ভাগে ভাগ করেছেন। উত্তর পাঁচ ভাগ।
সাধারণভাবে ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব। ড. শহীদুল্লাহ তাঁর “বাঙ্গালা ব্যাকরণ” বইয়ে ব্যাকরণের পরিধি আরও বড় করে দেখিয়েছেন, ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যের পাশাপাশি ছন্দ ও অলংকারকেও ব্যাকরণের আওতায় এনেছেন। এভাবে ভাগ দাঁড়ায় পাঁচটি।
বাংলা ব্যাকরণের প্রশ্নে কোন ব্যাকরণবিদ কী বলেছেন, তা আলাদা করে মনে রাখতে হয়। কারণ একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিশেষজ্ঞ ভিন্ন সংখ্যা দেন।
ফাঁদ হলো ৪, কারণ পাঠ্যবইয়ে সাধারণত চারটি আলোচ্য বিষয়ই পড়ানো হয়। কিন্তু প্রশ্নে বিশেষভাবে ড. শহীদুল্লাহর কথা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন: শহীদুল্লাহর হাতের পাঁচ আঙুল: ব্যাকরণও পাঁচ ভাগ।
২১৬. শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম কি? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কচরিত্রহীন
- খমন্দির
- গনিষ্কৃতি
- ঘচন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর: খ. মন্দির
প্রশ্নটা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর “মন্দির”।
গল্পটি ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পায়। তবে শরৎচন্দ্র তখন নিজের নামে নয়, মামা সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে লেখাটি জমা দিয়েছিলেন। প্রকাশিত হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম গল্প।
অপশনের বাকি তিনটিও শরৎচন্দ্রের লেখা, কিন্তু এগুলো উপন্যাস এবং অনেক পরে প্রকাশিত। চরিত্রহীন প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবে সাধারণত বড়দিদির নাম আসে।
ফাঁদ হলো বাকি তিনটি নামও শরৎচন্দ্রের হওয়া। তাই কে লিখেছেন দিয়ে বাদ দেওয়া যায় না, মনে রাখতে হয় গল্প না উপন্যাস, আর কোনটি আগে।
মনে রাখুন: শরৎচন্দ্রের প্রথম: গল্প মন্দির, উপন্যাস বড়দিদি।
২১৭. 'যার ঋণ আছে' এর এক কথায় প্রকাশ কি হবে? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কঋণী
- খঅধমর্ণ
- গখাতক
- ঘসবকটি
সঠিক উত্তর: ঘ. সবকটি
প্রশ্নটা “যার ঋণ আছে” কথাটির এক কথায় প্রকাশ জানতে চেয়েছে। অপশনের তিনটি শব্দই এই অর্থ দেয়, তাই উত্তর সবকটি।
ঋণী মানে যে ঋণ নিয়েছে, ঋণ শব্দের সঙ্গে ইন প্রত্যয় যোগে তৈরি। অধমর্ণ মানে যে টাকা ধার নিয়েছে, অর্থাৎ দেনাদার। খাতক শব্দেরও অর্থ দেনাদার বা ঋণগ্রহীতা।
জোড়া শব্দটা মনে রাখুন। যে ঋণ দেয় সে উত্তমর্ণ বা মহাজন, আর যে ঋণ নেয় সে অধমর্ণ বা খাতক। ঋণ দেওয়া পক্ষ উত্তম, নেওয়া পক্ষ অধম: এভাবে মনে রাখলে ভুল হবে না।
ফাঁদ হলো প্রথম অপশন ঋণী দেখেই উত্তর দিয়ে দেওয়া। বাকি দুটি শব্দ কম পরিচিত হলেও একই অর্থের, তাই সবকটি সঠিক।
মনে রাখুন: অধম নেয়, উত্তম দেয়: অধমর্ণ ঋণগ্রহীতা, উত্তমর্ণ ঋণদাতা।
২১৮. নিচের কোন শব্দদ্বয় শুদ্ধ? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কউপরিউক্ত-উল্লিখিত
- খউপরোক্ত-উল্লেখিত
- গজাদুঘর-শুধুমাত্র
- ঘআইনজীবী-মৌনতা
সঠিক উত্তর: ক. উপরিউক্ত-উল্লিখিত
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন জোড়ার দুটো শব্দই শুদ্ধ। উত্তর উপরিউক্ত ও উল্লিখিত।
উপরিউক্ত শব্দটি সন্ধিজাত: উপরি যোগ উক্ত। উপরি শব্দের শেষে ই, আর পরে উ থাকলে ই বদলে য হয়, তাই হয় উপর্যুক্ত, আবার উপরিউক্তও প্রচলিত শুদ্ধ রূপ। কিন্তু উপরোক্ত ভুল, কারণ উপর শব্দটি তৎসম নয়; তৎসম উক্ত শব্দের সঙ্গে সন্ধি করতে হলে তৎসম রূপ উপরি নিতে হয়। উল্লিখিত শব্দটি এসেছে উৎ যোগ লিখিত থেকে, তাই উল্লেখিত ভুল।
অন্য জোড়াগুলোতে একটি করে ভুল শব্দ আছে। জাদুঘর শুদ্ধ, কিন্তু শুধুমাত্র শব্দে শুধু আর মাত্র একই অর্থ বহন করে, ফলে বাহুল্য দোষ ঘটে; লিখতে হয় শুধু বা মাত্র। আইনজীবী শুদ্ধ, কিন্তু মৌনতা ভুল; মৌন শব্দটিই বিশেষ্য, তার সঙ্গে আবার তা যোগ করা বাহুল্য।
ফাঁদ হলো উপরোক্ত ও উল্লেখিত, কারণ এ দুটি কথ্য ভাষায় খুব প্রচলিত। প্রচলিত হলেও ব্যাকরণের নিয়মে এরা অশুদ্ধ।
মনে রাখুন: জোড়া শব্দের প্রশ্নে একটি ভুল শব্দ পেলেই পুরো অপশন বাদ; প্রতিটি অপশনে সবচেয়ে সন্দেহজনক শব্দটি আগে যাচাই করুন।
২১৯. নিচের কোন ভাষাটি স্বতন্ত্র ভাষা? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কসংস্কৃত
- খবাংলা
- গসংস্কৃত ও বাংলা উভয়ই
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. বাংলা
প্রশ্নটার মূল কথা হলো বাংলা ভাষার উৎপত্তি। একসময় ধারণা ছিল বাংলা সংস্কৃতের কন্যা, কিন্তু ভাষাবিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন বাংলা সংস্কৃত থেকে সরাসরি জন্মায়নি; এটি নিজস্ব ধারায় গড়ে ওঠা স্বতন্ত্র ভাষা।
ধারাটা এরকম: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে প্রাচীন ভারতীয় আর্য, তারপর প্রাকৃত, তারপর অপভ্রংশ, আর সেখান থেকে আনুমানিক দশম শতকের দিকে বাংলা। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে, আর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে।
ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে সংস্কৃত বাংলার মা নয়, বড়জোর দূর অতীতের পূর্বপুরুষ। বাংলায় সংস্কৃত থেকে প্রচুর তৎসম শব্দ এসেছে, কিন্তু শব্দ ধার নেওয়া আর ভাষা থেকে জন্ম নেওয়া এক জিনিস নয়।
সতর্কতা: সংস্কৃতও নিজে একটি পৃথক প্রাচীন ভাষা, তাই উভয়ই অপশনটিকে একেবারে ভুল বলা কঠিন। তবে প্রশ্নকর্তা বাংলার স্বাতন্ত্র্যই যাচাই করতে চেয়েছেন, তাই প্রচলিত উত্তর বাংলা।
মনে রাখুন: বাংলা এসেছে প্রাকৃত-অপভ্রংশ হয়ে; সংস্কৃত তার মা নয়, তাই বাংলা স্বতন্ত্র ভাষা।
২২০. 'তরোয়াল' শব্দটিতে কোন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কধ্বনি বিপর্যয়
- খবর্ণলোপ
- গবর্ণ বিপর্যয়
- ঘসবকটি
সঠিক উত্তর: ক. ধ্বনি বিপর্যয়
তরোয়াল শব্দটি এসেছে তলোয়ার থেকে। খেয়াল করুন, তলোয়ারে ল আগে আর র পরে, কিন্তু তরোয়ালে র আগে আর ল পরে। দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করেছে।
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর স্থান বদল করলে তাকে বলে ধ্বনি বিপর্যয়। এটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ধরন।
আরও উদাহরণ: পিশাচ থেকে পিচাশ, লাফ থেকে ফাল, বাক্স থেকে বাস্ক, রিকশা থেকে রিসকা। প্রতিটিতে দুটি ধ্বনি জায়গা বদল করেছে।
বর্ণ বিপর্যয় শুনতে কাছাকাছি, কিন্তু প্রমিত ব্যাকরণে পরিভাষাটি ধ্বনি বিপর্যয়। আর এখানে কোনো ধ্বনি হারায়নি, তাই বর্ণলোপও নয়।
মনে রাখুন: পিশাচ → পিচাশ, লাফ → ফাল, বাক্স → বাস্ক, তলোয়ার → তরোয়াল: সব ধ্বনি বিপর্যয়।