বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১০
১৮১. যোগরূঢ় শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ককলম
- খমলম
- গবাঁশি
- ঘশাখামৃগ
সঠিক উত্তর: ঘ. শাখামৃগ
প্রশ্নটা অর্থ অনুযায়ী শব্দের শ্রেণি পরীক্ষা করছে: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। যোগরূঢ় শব্দ সমাসে তৈরি, কিন্তু অংশগুলোর মিলিত অর্থ থেকে সরে একটা নির্দিষ্ট জিনিসকেই বোঝায়।
শাখামৃগ মানে আক্ষরিকভাবে শাখায় বিচরণকারী পশু। এমন পশু অনেক হতে পারে, যেমন কাঠবিড়ালি, কিন্তু শব্দটা শুধু বানরকেই বোঝায়। তাই এটা যোগরূঢ়, ঠিক যেমন পঙ্কজ মানে পদ্ম আর জলধি মানে সমুদ্র।
বাঁশি হলো রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ: বাঁশ থেকে তৈরি অনেক কিছু হতে পারে, কিন্তু বাঁশি বলতে শুধু বাদ্যযন্ত্রটাই বোঝায়, আর এটা সমাস নয়, প্রত্যয়ে গঠিত। কলম ও মলম আরবি থেকে আসা মৌলিক শব্দ, ভাঙা যায় না।
পার্থক্য মনে রাখুন: সমাসে গঠিত হয়ে বিশেষ অর্থ নিলে যোগরূঢ়, প্রত্যয়ে গঠিত হয়ে ভিন্ন অর্থ নিলে রূঢ়ি। বাঁশিকে যোগরূঢ় ভাবাই এখানে মূল ফাঁদ।
মনে রাখুন: অপশনে সমাসে গঠিত শব্দ খুঁজুন, যার অর্থ একটি জিনিসে সীমিত; বাকিরা সাধারণত মৌলিক বা রূঢ়ি।
১৮২. উপসর্গযুক্ত শব্দ – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিদ্যা
- খবিদ্রোহী
- গবিষয়
- ঘবিপুল
সঠিক উত্তর: খ. বিদ্রোহী
উপসর্গ হলো এমন অব্যয় শব্দাংশ, যা শব্দ বা ধাতুর আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে। চেনার উপায়: উপসর্গটি সরালে বাকি অংশটি নিজে একটি অর্থবহ শব্দ বা ধাতু থাকে।
বিদ্রোহী শব্দে বি সরালে থাকে দ্রোহী, যার অর্থ শত্রুতা করে যে। বি উপসর্গ যোগ হয়ে অর্থ দাঁড়ায় প্রবল বিরোধিতাকারী। তাই বিদ্রোহী স্পষ্টভাবে উপসর্গযুক্ত শব্দ।
বিদ্যা শব্দে বি আলাদা কিছু নয়; এটি জানা অর্থের বিদ্ ধাতুর অংশ। বিপুল ও বিষয় শব্দেও বি সরালে বাকি পুল বা ষয় বাংলায় কোনো অর্থবহ শব্দ থাকে না, শব্দ দুটি একক শব্দ হিসেবেই চলে।
একই বি উপসর্গের আরও দৃষ্টান্ত: বিদেশ, বিফল, বিজ্ঞান, বিনিময়। ফাঁদ হলো শুরুতে বি দেখলেই উপসর্গ ধরে নেওয়া।
মনে রাখুন: উপসর্গ চেনার পরীক্ষা: সরিয়ে দেখুন বাকিটা অর্থবহ কি না। বিদেশ, বিনিময়, বিজ্ঞান পাস করে; বিদ্যা, বিপুল পাস করে না।
১৮৩. বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসরোবরে
- খচশমা
- গসরোজ
- ঘচম্পক
সঠিক উত্তর: ক. সরোবরে
বিভক্তি হলো সেই বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে তাকে বাক্যে ব্যবহারযোগ্য পদ বানায় এবং কারক সম্পর্ক বোঝায়। যেমন এ, তে, কে, র।
সরোবরে শব্দটি সরোবর আর এ বিভক্তি মিলে গঠিত। এখানে এ বিভক্তি স্থান বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ অধিকরণ কারক: সরোবরে পদ্ম ফোটে।
বাকি তিনটিতে শেষের অংশ মূল শব্দেরই অংশ। চশমা ফারসি শব্দ; সরোজ মানে সরোবরে জন্মে যা, অর্থাৎ পদ্ম, এটি সমাসে গঠিত শব্দ; চম্পক মানে চাঁপা ফুল।
সূক্ষ্ম কথা: বাক্যে বসলে প্রতিটি শব্দেই বিভক্তি থাকে, কোথাও তা শূন্য বা অদৃশ্য। প্রশ্নটি দৃশ্যমান বিভক্তির কথা বলছে, তাই উত্তর সরোবরে। সরোজ বানানের মিল দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
মনে রাখুন: শব্দের শেষ অংশ সরালে বাকিটা পূর্ণ শব্দ হলে এবং সরানো অংশ কারক বোঝালে সেটি বিভক্তি: ঘরে, ছাদে, বাড়িতে।
১৮৪. কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কভাইবোন
- খরাজপথ
- গবকলম
- ঘঐকিক
সঠিক উত্তর: ঘ. ঐকিক
প্রত্যয় হলো শব্দ বা ধাতুর শেষে যুক্ত শব্দাংশ, যা নতুন শব্দ গঠন করে। শব্দের শেষে যুক্ত প্রত্যয়কে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
ঐকিক শব্দটি এক শব্দের সঙ্গে ইক প্রত্যয় যোগে গঠিত। ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়, তাই এ বদলে হয় ঐ: এক থেকে ঐকিক।
একই নিয়মে দেহ থেকে দৈহিক, বেদ থেকে বৈদিক, ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক, আর অ থাকলে আ হয়, যেমন সমাজ থেকে সামাজিক।
বাকিগুলোর গঠন আলাদা। ভাইবোন আর রাজপথ দুটি পদ জুড়ে তৈরি সমাস; বকলম ফারসি উপসর্গ ব যুক্ত হয়ে গঠিত। শব্দের আকার বদল দেখলে প্রত্যয় খুঁজুন।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে ইক আর শুরুর স্বর বদল দেখলেই তদ্ধিত প্রত্যয়: দৈহিক, বৈদিক, মানসিক।
১৮৫. 'শিরশ্ছেদ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কশির + ছেদ
- খশিরঃ + ছেদ
- গশিরশ্ + ছেদ
- ঘশির + উচ্ছেদ
সঠিক উত্তর: খ. শিরঃ + ছেদ
শিরশ্ছেদ বিসর্গ সন্ধির দৃষ্টান্ত, মূল দুটি শব্দ শিরঃ আর ছেদ। শিরঃ শব্দের শেষে বিসর্গ আছে, পরের শব্দ শুরু ছ দিয়ে।
নিয়ম: বিসর্গের পরে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ বদলে তালব্য শ হয়ে যায়। তাই শিরঃ আর ছেদ মিলে শিরশ্ছেদ।
একই নিয়মে নিঃ আর চয় মিলে নিশ্চয়, নিঃ আর চল মিলে নিশ্চল, দুঃ আর চরিত্র মিলে দুশ্চরিত্র। তুলনা করুন: পরে ট বা ঠ থাকলে বিসর্গ হয় ষ, যেমন ধনুষ্টঙ্কার; ত বা থ থাকলে হয় স, যেমন দুস্তর।
ফাঁদ শির আর ছেদ বিকল্পটি। স্বরান্ত শির আর ছেদ যুক্ত হলে নিয়মে হতো শিরচ্ছেদ, শ আসার কোনো কারণ থাকত না। আর শিরশ্ বিকল্পে শ সন্ধির ফল, মূল শব্দের অংশ নয়।
মনে রাখুন: যুক্তবর্ণে শ্চ বা শ্ছ দেখলে মূল শব্দে বিসর্গ খুঁজুন: নিশ্চয়, নিশ্চল, শিরশ্ছেদ।
১৮৬. 'নীলকর' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কদ্বন্দ্ব
- খবহুব্রীহি
- গনিত্য
- ঘউপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: ঘ. উপপদ তৎপুরুষ
নীলকর মানে নীল চাষ করে যে। এখানে পরপদ কর, যা করা অর্থের ধাতু থেকে প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত পদ, আর তার আগে বসেছে নীল।
নিয়ম: কৃদন্ত পদের আগে যে পদ বসে তাকে উপপদ বলে, আর উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের সমাসকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। ব্যাসবাক্য সাধারণত হয়, অমুক করে যে বা অমুকে চরে যে।
একই ধরনের উদাহরণ: কুম্ভকার মানে কুম্ভ করে যে, জলচর মানে জলে চরে যে, ছেলেধরা মানে ছেলে ধরে যে।
ফাঁদ বহুব্রীহি, কারণ নীলকর একজন মানুষকে বোঝায়। কিন্তু বহুব্রীহিতে পদগুলোর বাইরে তৃতীয় অর্থ আসে, যেমন দশানন মানে দশ আনন যার; নীলকরে পরপদ কৃদন্ত হওয়ায় সেটি উপপদ তৎপুরুষ।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে করে যে, চরে যে, ধরে যে এলে এবং পরপদ ধাতু থেকে গঠিত হলে উপপদ তৎপুরুষ।
১৮৭. 'pedagogy' শব্দের পরিভাষা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসহশিক্ষা
- খনারীশিক্ষা
- গশিক্ষাতত্ত্ব
- ঘশিক্ষানীতি
সঠিক উত্তর: গ. শিক্ষাতত্ত্ব
পেডাগজি শব্দের অর্থ শিক্ষাদানের তত্ত্ব ও পদ্ধতি, অর্থাৎ কীভাবে পড়ানো হবে তার বিজ্ঞান। তাই এর বাংলা পরিভাষা শিক্ষাতত্ত্ব, কোথাও শিক্ষণবিজ্ঞানও বলা হয়।
পরিভাষার প্রশ্নে ইংরেজি শব্দের মূল অর্থ ধরে মিলিয়ে নিন। অন্য তিনটি বিকল্পও শিক্ষাবিষয়ক, কিন্তু প্রত্যেকটির ইংরেজি প্রতিশব্দ আলাদা।
সহশিক্ষা মানে ছেলেমেয়ের একসঙ্গে পড়া, ইংরেজিতে কো এডুকেশন। নারীশিক্ষা মানে মেয়েদের শিক্ষা। শিক্ষানীতি মানে সরকারের শিক্ষা বিষয়ক নীতি, এডুকেশন পলিসি।
ফাঁদ শিক্ষানীতি, কারণ নীতি আর তত্ত্ব কাছাকাছি শোনায়। নীতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর তত্ত্ব হলো পড়ানোর জ্ঞানগত ভিত্তি।
মনে রাখুন: Pedagogy পড়ানোর বিজ্ঞান, Policy সরকারের নীতি; দুটো আলাদা রাখুন।
১৮৮. 'বঙ্কিম' এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবন্ধুর
- খঅসম
- গসুষম
- ঘঋজু
সঠিক উত্তর: ঘ. ঋজু
বঙ্কিম শব্দের অর্থ বাঁকা বা বক্র, যেমন বঙ্কিম চাহনি, বঙ্কিম রেখা। এর বিপরীত শব্দ ঋজু, যার অর্থ সোজা বা সরল।
ঋজু শব্দটি মানুষের দেহভঙ্গি ও স্বভাব দুইয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়, যেমন ঋজু দেহ, ঋজু চরিত্র। বাঁকা আর সোজা, এ জোড়াটাই বিপরীত।
অন্য বিকল্পগুলোর নিজস্ব বিপরীত আছে। বন্ধুর মানে উঁচুনিচু বা এবড়োখেবড়ো, এর বিপরীত মসৃণ বা সমতল। অসম আর সুষম মূলত সমান না থাকা আর সমভাবে বিন্যস্ত থাকার জোড়া।
ফাঁদ বন্ধুর, কারণ এবড়োখেবড়ো পথ আর বাঁকা পথ কাছাকাছি মনে হয়। কিন্তু বন্ধুরতা উচ্চতার অসমতা, বক্রতা দিকের।
মনে রাখুন: বঙ্কিম ও বক্র এক দলে, ঋজু ও সরল আরেক দলে।
১৮৯. বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' কত সালে প্রণীত হয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক১৯৯০
- খ১৯৯২
- গ১৯৯৪
- ঘ১৯৯৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৯২
বাংলা একাডেমি প্রথম প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে বানানের বিশৃঙ্খলা কমিয়ে একটি মান ঠিক করা।
এরপর ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে এর পরিমার্জিত সংস্করণ বের হয়, পরে ১৯৯৮ সালে আবার সংশোধন হয়ে ২০০০ সালে প্রকাশিত হয়। তাই প্রণয়নের সাল ১৯৯২, পরিমার্জনের সাল ১৯৯৪।
পটভূমি হিসেবে মনে রাখুন: বাংলা বানানের প্রথম সুসংবদ্ধ নিয়ম করেছিল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩৬ সালে, রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে।
ফাঁদ ১৯৯৪, কারণ পরিমার্জিত সংস্করণটিও বহুল আলোচিত। প্রশ্নে প্রণীত শব্দটি প্রথমবার তৈরির কথা বলছে।
মনে রাখুন: প্রণয়ন ১৯৯২, পরিমার্জন ১৯৯৪; প্রশ্নে প্রণীত থাকলে ১৯৯২।
১৯০. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমুলো
- খমুলা
- গধুলি
- ঘধূলো
সঠিক উত্তর: খ. মুলা
প্রশ্নটা হ্রস্ব উ আর দীর্ঘ ঊ এর নিয়ম যাচাই করছে। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতিতে তৎসম, মানে সংস্কৃত থেকে অবিকৃত আসা শব্দে মূল বানান থাকে; কিন্তু তদ্ভব ও খাঁটি বাংলা শব্দে সাধারণত হ্রস্ব ই আর হ্রস্ব উ লেখা হয়।
ধূলি তৎসম শব্দ, তাই এতে দীর্ঘ ঊ। সুতরাং হ্রস্ব উ দিয়ে লেখা ধুলি ভুল।
ধুলা বা ধুলো তদ্ভব শব্দ, তাই হ্রস্ব উ। সুতরাং দীর্ঘ ঊ দিয়ে লেখা ধূলো ভুল। ধূলি এর দীর্ঘ ঊ টেনে এনে ধূলো লেখাই সাধারণ ভুল।
বাকি থাকে মুলা আর মুলো। দুটোই হ্রস্ব উ দিয়ে; তবে প্রমিত লিখিত রূপ হিসেবে মুলা ধরা হয়, আর মুলো কথ্য বা চলিত রূপ। তাই উত্তর মুলা।
মনে রাখুন: সংস্কৃত (তৎসম) না হলে সাধারণত হ্রস্ব উ; ধুলো আর মুলা দুটোই তদ্ভব, তাই হ্রস্ব উ।
১৯১. 'নদী'-র সমার্থক শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসিন্ধু
- খহিল্লোল
- গতটিনী
- ঘনির্ঝর
সঠিক উত্তর: গ. তটিনী
তটিনী শব্দের অর্থ নদী; তট মানে তীর, আর তীর আছে যার সে তটিনী। নদীর আরও সমার্থক শব্দ তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিণী, স্রোতস্বতী।
নদীর অনেক সমার্থক শব্দ একই ছাঁচে গড়া: কিছু আছে যার, তাকে স্ত্রীলিঙ্গে ইনী বা বতী দিয়ে বোঝানো। যেমন তরঙ্গ আছে যার সে তরঙ্গিণী, স্রোত আছে যার সে স্রোতস্বিনী বা স্রোতস্বতী।
বাকি তিনটি জলের সঙ্গে জড়িত বলে বিভ্রান্তি হয়। সিন্ধু মানে সমুদ্র, হিল্লোল মানে ঢেউ, আর নির্ঝর মানে ঝরনা।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ সিন্ধু, কারণ সিন্ধু একটি নদের নামও। কিন্তু শব্দ হিসেবে সিন্ধুর অর্থ সাগর, যেমন সিন্ধুতীর মানে সমুদ্রতীর।
মনে রাখুন: নদীর সমার্থক প্রায়ই ইনী দিয়ে শেষ: তটিনী, তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিণী।
১৯২. চর্যাপদের কবিরা ছিলেন – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমহাঘানী বৌদ্ধ
- খবজ্রঘানী বৌদ্ধ
- গবাউল
- ঘসহজঘানী বৌদ্ধ
সঠিক উত্তর: ঘ. সহজঘানী বৌদ্ধ
চর্যাপদের কবিরা ছিলেন সহজযানী বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য। তাঁরা গুরুর নির্দেশে দেহসাধনার মধ্য দিয়ে সহজ অবস্থা লাভের কথা গানের ভাষায় বলেছেন।
শাখাগুলো পরপর সাজালে বোঝা সহজ: বৌদ্ধধর্মের মহাযান থেকে এসেছে বজ্রযান, আর বজ্রযান থেকে জন্ম সহজযান বা সহজিয়া মতের। চর্যার পদে এই সহজিয়া সাধনতত্ত্ব রূপক আর সংকেতে প্রকাশ পেয়েছে।
চর্যার কবিদের পা বা পাদ উপাধি থাকে, যেমন লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা। পদগুলোর রহস্যময় ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যাভাষা।
ফাঁদ বজ্রযানী, কারণ সহজযান এরই উপশাখা। আর বাউলদের ভাবনায় সহজিয়া ছাপ থাকলেও তাঁরা অনেক পরের সাধক সম্প্রদায়। প্রশ্নপত্রে যানী শব্দটি ঘানী ছাপা হয়েছিল; এটি ছাপার ভুল, সঠিক শব্দ যান, মানে পথ বা মত।
মনে রাখুন: চর্যা = সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের গান; ভাষার নাম সন্ধ্যাভাষা।
১৯৩. 'শূন্যপূরাণের' রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করামাই পণ্ডিত
- খহলায়ূধ মিশ্র
- গকাহ্নপা
- ঘকুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর: ক. রামাই পণ্ডিত
শূন্যপুরাণের রচয়িতা রামাই পণ্ডিত। এটি ধর্মঠাকুরের পূজাপদ্ধতি বিষয়ক গ্রন্থ, যা অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় আসে।
গ্রন্থটির নিরঞ্জনের রুষ্মা অংশ বিখ্যাত; এতে উচ্চবর্ণের অত্যাচার আর মুসলমান শাসকদের আগমনের একটি চিত্র পাওয়া যায়।
অন্ধকার যুগের আরেকটি পরিচিত রচনা সেক শুভোদয়া, যা হলায়ুধ মিশ্রের নামে প্রচলিত। আর কাহ্নপা ও কুক্কুরীপা চর্যাপদের কবি; কাহ্নপার পদ চর্যায় সবচেয়ে বেশি।
ফাঁদ হলায়ুধ মিশ্র, কারণ তিনিও একই সময়ের সংস্কৃতঘেঁষা রচনার সঙ্গে যুক্ত। শূন্যপুরাণ মানেই রামাই পণ্ডিত। প্রশ্নপত্রে শূন্যপূরাণ ও হলায়ূধ ছাপা হয়েছিল; শুদ্ধ বানান শূন্যপুরাণ ও হলায়ুধ, দুটিতেই হ্রস্ব উ-কার।
মনে রাখুন: শূন্যপুরাণ রামাই পণ্ডিত, সেক শুভোদয়া হলায়ুধ মিশ্র; দুটিই অন্ধকার যুগের আলোচনায় আসে।
১৯৪. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কশ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান
- খবড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
- গচর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান
- ঘশ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
সঠিক উত্তর: ঘ. শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
কাঁকিল্যা পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি গ্রাম। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এখানে এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
পুঁথিটি ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষার প্রথম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
আবিষ্কারের দুটি জোড়া একসঙ্গে মনে রাখুন: চর্যাপদ ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার কাঁকিল্যায়, বসন্তরঞ্জন রায়।
ফাঁদ বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান বিকল্পটি, কারণ কবি আর কাব্য একই। কিন্তু কাঁকিল্যা কাব্যের পুঁথি পাওয়ার জায়গা, কবির জন্মস্থান নয়।
মনে রাখুন: চর্যাপদ নেপাল ১৯০৭, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাঁকিল্যা ১৯০৯।
১৯৫. 'যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।' – কবিতাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কনূরনামা
- খনসিহতনামা
- গমধুমালতী
- ঘইউসুফ-জুলেখা
সঠিক উত্তর: ক. নূরনামা
পঙ্ক্তিটি মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যের। এতে কবি বলছেন, বাংলায় জন্মেও যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে, তাদের জন্মপরিচয় নিয়েই সন্দেহ জাগে।
পরের পঙ্ক্তিতে তিনি আরও কঠোর: দেশি ভাষা যার মনে ধরে না, সে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যায় না কেন। মাতৃভাষার প্রতি এমন দৃঢ় অনুরাগের জন্যই অংশটি বিখ্যাত।
আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতকের কবি; তাঁর অন্য রচনার মধ্যে ইউসুফ জোলেখা ও লালমতি সয়ফুলমুলুক আছে। মধুমালতী মুহম্মদ কবিরের প্রণয়কাব্য। নসিহতনামা নামের উপদেশমূলক কাব্য আফজল আলীর নামে বেশি পরিচিত, যদিও আবদুল হাকিমের নামেও এ নামের একটি রচনা পাওয়া যায়।
ফাঁদ ইউসুফ জোলেখা, কারণ আবদুল হাকিমেরও এ নামে কাব্য আছে। কিন্তু বঙ্গবাণী বিষয়ক এই বিখ্যাত চরণ নূরনামার।
মনে রাখুন: বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী: আবদুল হাকিম, নূরনামা।
১৯৬. আলাওল কোন শতাব্দীর কবি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কপঞ্চদশ
- খষোড়শ
- গসপ্তদশ
- ঘঅষ্টাদশ
সঠিক উত্তর: গ. সপ্তদশ
আলাওল সপ্তদশ শতকের কবি। তিনি আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন এবং অমাত্য মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন।
পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ কাব্যের ভাবানুবাদ। আরাকান রাজসভার আরেক বিখ্যাত কবি দৌলত কাজী, যাঁর অসমাপ্ত সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য আলাওল শেষ করেন।
শতক মনে রাখতে প্রতিটি শতকের একজন পরিচিত কবিকে নোঙর হিসেবে ধরুন: পঞ্চদশে কৃত্তিবাস, ষোড়শে মুকুন্দরাম, সপ্তদশে আলাওল, অষ্টাদশে ভারতচন্দ্র।
ফাঁদ অষ্টাদশ শতক, কারণ মধ্যযুগের শেষ ভাগের কবিদের সঙ্গে আলাওলকে গুলিয়ে ফেলা হয়। ভারতচন্দ্র অষ্টাদশের, আলাওল তাঁর আগের শতকের।
মনে রাখুন: আরাকান রাজসভা মানেই সপ্তদশ শতক: দৌলত কাজী, আলাওল।
১৯৭. কোন বাংলা গানকে ইউনেস্কো Heritage of Humanity অভিধায় ভূষিত করেছে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করবীন্দ্র সংগীত
- খনজরুল সংগীত
- গভাটিয়ালি গান
- ঘবাউল গান
সঠিক উত্তর: ঘ. বাউল গান
ইউনেস্কো ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বাউল গানকে মানবতার মৌখিক ও অধরা ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ঘোষণা করে। পরে ২০০৮ সালে এটি অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় যুক্ত হয়।
বাউল গান মরমি সাধনার গান; দেহতত্ত্ব আর মনের মানুষের খোঁজ এর মূল বিষয়। লালন সাঁই এ ধারার সবচেয়ে পরিচিত নাম।
বাংলাদেশের অন্য অধরা ঐতিহ্যও একসঙ্গে মনে রাখুন: জামদানি বুননশিল্প, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, সিলেটের শীতলপাটি, আর ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র।
ভাটিয়ালিও লোকগান হওয়ায় ফাঁদ তৈরি করে, কিন্তু ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে বাউল গান। রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত ব্যক্তিস্রষ্টার গান, এ তালিকায় নেই।
মনে রাখুন: ইউনেস্কোর তালিকায় বাংলাদেশের প্রথম নাম বাউল গান; পরে জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, শীতলপাটি, রিকশাচিত্র।
১৯৮. চন্ডীচরণ মুন্সী কে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কশ্রীরামপুর মিশনের লিপিকর
- খফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
- গকেরী সাহেবের মুন্সী গ্রন্থের রচয়িতা
- ঘসমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক
সঠিক উত্তর: খ. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
চণ্ডীচরণ মুন্সী ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের মুন্সী বা পণ্ডিত। উইলিয়াম কেরির তত্ত্বাবধানে এই কলেজের পণ্ডিতেরা ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য বাংলা গদ্যের পাঠ্যবই লিখতেন।
চণ্ডীচরণের বিখ্যাত গ্রন্থ তোতা ইতিহাস, ১৮০৫ সালে প্রকাশিত; এটি ফারসি তুতিনামার অনুবাদ। একই কলেজের অন্য পণ্ডিত রামরাম বসু ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
অন্য বিকল্পগুলোর পরিচয় আলাদা। শ্রীরামপুর মিশনের বাংলা হরফ তৈরি করেন পঞ্চানন কর্মকার। কেরী সাহেবের মুন্সী প্রমথনাথ বিশীর উপন্যাস, রামরাম বসুকে নিয়ে। সমাচার চন্দ্রিকার সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফাঁদ কেরী সাহেবের মুন্সী, কারণ নামে মুন্সী আর কেরি দুটোই আছে। কিন্তু সেটি পরের যুগের একটি উপন্যাস, আর চণ্ডীচরণ তার লেখক নন।
মনে রাখুন: ফোর্ট উইলিয়ামের পণ্ডিত ও বই: রামরাম বসু রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র, চণ্ডীচরণ তোতা ইতিহাস, মৃত্যুঞ্জয় প্রবোধচন্দ্রিকা।
১৯৯. 'রত্নপরীক্ষা' গ্রন্থের রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করামমোহন রায়
- খঅক্ষয়কুমার দত্ত
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘরাধানাথ শিকদার
সঠিক উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
রত্নপরীক্ষা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা একটি বেনামি ব্যঙ্গরচনা। বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রতিপক্ষের যুক্তির জবাব দিতে তিনি এ ধরনের রচনা ছদ্মনামে প্রকাশ করেন।
তাঁর এই ধারার অন্য বেনামি রচনা অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল ও ব্রজবিলাস। এগুলো প্রকাশিত হয় কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য ছদ্মনামে।
বিদ্যাসাগরকে মনে রাখুন দুই রূপে: একদিকে শকুন্তলা, সীতার বনবাস, বর্ণপরিচয়ের মতো গম্ভীর গদ্য, অন্যদিকে এই তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গরচনা।
বাকি তিনজনও উনিশ শতকের গদ্যের মানুষ, তাই ফাঁদ। রামমোহনের পরিচয় বেদান্ত গ্রন্থ ও গৌড়ীয় ব্যাকরণ, অক্ষয়কুমার দত্তের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, আর রাধানাথ শিকদারের মাসিক পত্রিকা।
মনে রাখুন: কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য ছদ্মনাম দেখলেই বিদ্যাসাগর।
২০০. স্বর্ণকুমারী দেবীর পিতার নাম – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কদ্বারকানাথ ঠাকুর
- খদেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গরথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘপ্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: খ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
স্বর্ণকুমারী দেবীর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি রবীন্দ্রনাথের দিদি, অর্থাৎ বড় বোন।
স্বর্ণকুমারী বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য নারী ঔপন্যাসিক; তাঁর উপন্যাস দীপনির্বাণ। তিনি দীর্ঘদিন ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
ঠাকুর পরিবারের প্রজন্ম সাজালে উত্তর পরিষ্কার: দ্বারকানাথ দাদা, দেবেন্দ্রনাথ পিতা, রবীন্দ্রনাথ ভাই, আর রথীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথের ছেলে, মানে স্বর্ণকুমারীর ভাইপো।
ফাঁদ দ্বারকানাথ, কারণ তিনি পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত পূর্বপুরুষ। প্রমথ চৌধুরী ঠাকুর পরিবারের জামাতা, সত্যেন্দ্রনাথের কন্যা ইন্দিরা দেবীর স্বামী।
মনে রাখুন: ঠাকুর পরিবার: দ্বারকানাথ থেকে দেবেন্দ্রনাথ, তাঁর সন্তান স্বর্ণকুমারী ও রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথের পুত্র রথীন্দ্রনাথ।