বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৯
১৬১. 'সাতপাঁচ ভেবে লাভ নেই।'- এখানে ব্যবহৃত বাগধারাটি কোন অর্থ প্রকাশ করছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কঅগ্র-পশ্চাৎ
- খএলোমেলো
- গসস্তা কথা
- ঘনানা প্রকার
সঠিক উত্তর: ক. অগ্র-পশ্চাৎ
সাতপাঁচ শব্দের কয়েকটি অর্থ আছে। বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে বিশেষণ হিসেবে এর অর্থ নানা প্রকার বা এলোমেলো, আর বিশেষ্য হিসেবে নানা বিষয় বা অগ্রপশ্চাৎ। অগ্রপশ্চাৎ অর্থের উদাহরণ হিসেবে অভিধানই দিয়েছে সাতপাঁচ ভাবা।
প্রশ্নের বাক্যে আছে সাতপাঁচ ভেবে লাভ নেই, মানে সাতপাঁচ ভাবা বাগধারাটিই ব্যবহার হয়েছে। এর অর্থ আগে-পরে, ভালো-মন্দ সব দিক ভেবে দ্বিধা করা। তাই এখানে সাতপাঁচ মানে অগ্রপশ্চাৎ।
বাক্যটির ভাব দাঁড়ায়: আগে-পিছে এত চিন্তা করে লাভ নেই। বাগধারার প্রশ্নে সবসময় দেখুন শব্দটি বাক্যে কোন ক্রিয়ার সঙ্গে বসেছে, তারপর অর্থ ঠিক করুন।
নানা প্রকার অর্থটিও অভিধানে আছে বলে অনেক উত্তরমালা সেটি দেয়; কিন্তু তা খাটে সাতপাঁচ জিনিস বা সাতপাঁচ কথার মতো প্রয়োগে। ভাবা ক্রিয়ার সঙ্গে বসলে অর্থ অগ্রপশ্চাৎ।
মনে রাখুন: বাগধারায় সংখ্যা জোড়া থাকলে পাশের ক্রিয়াটা দেখুন: ভাবা থাকলে অগ্রপশ্চাৎ বা দ্বিধা।
১৬২. কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কশর্মিষ্ঠা
- খতাসের ঘর
- গরক্তকরবী
- ঘচিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর: ক. শর্মিষ্ঠা
শর্মিষ্ঠা রবীন্দ্রনাথের নয়, মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা নাটক। এটি মধুসূদনের প্রথম নাটক, ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত, আর মহাভারতের যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার কাহিনি নিয়ে লেখা। পাশ্চাত্য রীতিতে লেখা প্রথম সার্থক বাংলা নাটক হিসেবে এটি পরিচিত।
রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত সাংকেতিক নাটক, যার প্রধান চরিত্র নন্দিনী। চিত্রাঙ্গদা মহাভারতের মণিপুর রাজকন্যার কাহিনি নিয়ে লেখা তাঁর কাব্যনাট্য, পরে একই কাহিনিতে নৃত্যনাট্যও লেখেন।
অপশনে ছাপা তাসের ঘর আসলে রবীন্দ্রনাথের রূপক নাটক তাসের দেশ, নামটি ভুল ছাপা হয়েছে। ১৯৩৩ সালের এই নাটকটি তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন।
পৌরাণিক কাহিনি দেখে শর্মিষ্ঠাকে চিত্রাঙ্গদার মতো রবীন্দ্রনাথের ভাবা সাধারণ ভুল। মধুসূদনের অন্য নাটক কৃষ্ণকুমারী ও পদ্মাবতী, আর প্রহসন একেই কি বলে সভ্যতা।
মনে রাখুন: পৌরাণিক নামের নাটক দেখলে দুজনকে আলাদা করুন: শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী মধুসূদনের; চিত্রাঙ্গদা, বিসর্জন রবীন্দ্রনাথের।
১৬৩. নিচের কোনটিকে ছড়ার ছন্দ বলা হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কমাত্রাবৃত্ত
- খস্বরবৃত্ত
- গঅক্ষরবৃত্ত
- ঘমুক্তক অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: খ. স্বরবৃত্ত
বাংলা কবিতার প্রধান তিন ছন্দ: স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর অক্ষরবৃত্ত। এর মধ্যে স্বরবৃত্তকে ছড়ার ছন্দ বলা হয়, কারণ আমাদের লোকছড়া আর ঘুমপাড়ানি ছড়ার বেশিরভাগই এই ছন্দে লেখা।
স্বরবৃত্তের লয় দ্রুত, মূল পর্ব সাধারণত চার মাত্রার, আর মুক্ত ও বদ্ধ দুই ধরনের অক্ষরই এক মাত্রা ধরা হয়। যেমন খোকন খোকন ডাক পাড়ি, খোকন মোদের কার বাড়ি। এর অন্য নাম দলবৃত্ত, লৌকিক ছন্দ বা শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ।
মাত্রাবৃত্তের লয় মাঝারি, এতে বদ্ধাক্ষর সবসময় দুই মাত্রা; একে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে। অক্ষরবৃত্তের লয় ধীর, একে তানপ্রধান ছন্দ বলে, আর এর প্রবহমান রূপ থেকেই অমিত্রাক্ষর ও মুক্তক ছন্দ।
মাত্রাবৃত্ত নামটি গোনার সহজ ছন্দ মনে হয় বলে অনেকে একে ছড়ার ছন্দ ধরেন। মনে রাখুন: ছড়া মানে দ্রুত লয়, আর দ্রুত লয় মানে স্বরবৃত্ত।
মনে রাখুন: ছড়া, লোকছড়া, শ্বাসাঘাত, দ্রুত লয়: এই শব্দগুলো দেখলেই স্বরবৃত্ত।
১৬৪. 'যদিও হাত কাঁপে তথাপি ছোট ছোট করে চারটা চিঠি লিখলাম।'- এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ কোন অর্থ প্রকাশ করছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কসামান্য
- খমার্জিত
- গপৌনঃপুনিকতা
- ঘআধিক্য
সঠিক উত্তর: ক. সামান্য
একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। দ্বিরুক্তি নানা অর্থ দেয়: আধিক্য, যেমন রাশি রাশি ধান; পৌনঃপুনিকতা, যেমন বার বার ডাকা; আবার সামান্যতা বা মৃদুতা, যেমন জ্বর জ্বর লাগা।
প্রশ্নের বাক্যে বক্তার হাত কাঁপে, তবু তিনি চারটি চিঠি লিখেছেন ছোট ছোট করে, মানে অল্প কথায়, ছোট আকারে। চিঠির সংখ্যা আগেই বলা আছে, চারটা; তাই ছোট ছোট এখানে সংখ্যার আধিক্য বোঝায় না, বোঝায় প্রতিটি চিঠির স্বল্পতা।
সে কারণে এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটির অর্থ সামান্য। একই শব্দ অন্য বাক্যে আধিক্য বোঝাতে পারে, যেমন গাছের ছোট ছোট ডালগুলো কেটে ফেলো, যেখানে অনেকগুলো ডাল বোঝায়।
আধিক্য উত্তরটি অনেক উত্তরমালায় আছে, কারণ বিশেষণের দ্বিরুক্তি সাধারণত বহুত্ব বোঝায়। কিন্তু বাক্যের প্রসঙ্গই অর্থ ঠিক করে; এখানে প্রসঙ্গ হাত কাঁপার কারণে লেখার স্বল্পতা।
মনে রাখুন: দ্বিরুক্তির অর্থ ঠিক করতে বাক্যে সংখ্যা বা মাত্রার ইঙ্গিত খুঁজুন; সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকলে আধিক্য বাদ।
১৬৫. 'ব্রজবুলি' ভাষা হলো- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কমিথিলার স্থানীয় ভাষা
- খকৃত্রিম ভাষা
- গকৃত্রিম কাব্যভাষা
- ঘব্রজভাষা
সঠিক উত্তর: গ. কৃত্রিম কাব্যভাষা
ব্রজবুলি হলো মৈথিলী আর বাংলা মিশিয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম কাব্যভাষা। এটি কোনো অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা ছিল না; শুধু কবিতা, বিশেষ করে বৈষ্ণব পদ লেখার জন্য ব্যবহৃত হতো।
মিথিলার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলীতে রাধাকৃষ্ণের পদ লিখেছিলেন। তাঁর পদের অনুকরণে বাংলার বৈষ্ণব কবিরা, যেমন গোবিন্দদাস, বাংলা আর মৈথিলী মিশিয়ে পদ লিখতে শুরু করেন; এভাবেই ব্রজবুলির জন্ম।
আধুনিক কালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তরুণ বয়সে ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী লেখেন এই ব্রজবুলিতে।
নামের ব্রজ দেখে অনেকে একে মথুরা-বৃন্দাবন অঞ্চলের ব্রজভাষা ভেবে ভুল করেন; ব্রজভাষা আসল আঞ্চলিক ভাষা, ব্রজবুলি কৃত্রিম। আর শুধু কৃত্রিম ভাষা বললে অর্ধেক বলা হয়, কারণ এটি কাব্যের জন্যই তৈরি।
মনে রাখুন: ব্রজবুলি = মৈথিলী + বাংলা = কৃত্রিম কাব্যভাষা; ব্রজভাষা = মথুরার আসল আঞ্চলিক ভাষা।
১৬৬. উপমিত কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবজ্রকঠিন
- খসিংহপুরুষ
- গবরফশীতল
- ঘকাজলকালো
সঠিক উত্তর: খ. সিংহপুরুষ
কর্মধারয়ের এই দুই ভাগ গুলিয়ে যায় বলে প্রশ্নটা জনপ্রিয়। তুলনায় তিনটি জিনিস থাকে: যাকে তুলনা করা হয় সে উপমেয়, যার সঙ্গে তুলনা করা হয় সে উপমান, আর দুজনের মিলের গুণটি সাধারণ ধর্ম।
উপমান কর্মধারয়ে উপমান আর সাধারণ ধর্ম থাকে, উপমেয় থাকে না। যেমন বরফের মতো শীতল, বরফশীতল; কাজলের মতো কালো, কাজলকালো; বজ্রের মতো কঠিন, বজ্রকঠিন। এখানে দ্বিতীয় পদটি গুণবাচক বিশেষণ।
উপমিত কর্মধারয়ে উপমেয় আর উপমান থাকে, সাধারণ ধর্ম থাকে না। পুরুষ সিংহের ন্যায়: পুরুষ উপমেয়, সিংহ উপমান, আর সাহস বা বীরত্ব গুণটি উহ্য। বোর্ডের বইয়ে এটি পুরুষসিংহ রূপে আছে; একই রকম উদাহরণ মুখচন্দ্র, নরশার্দূল।
সহজ পরীক্ষা: সমস্তপদের একটি পদ শীতল, কালো, কঠিনের মতো গুণবাচক হলে উপমান কর্মধারয়; দুটো পদই বস্তু বা প্রাণীর নাম হলে উপমিত। অপশনের মধ্যে কেবল সিংহপুরুষে কোনো গুণবাচক পদ নেই।
মনে রাখুন: সমস্তপদে বিশেষণ আছে কি না দেখুন: থাকলে উপমান, না থাকলে উপমিত। যেমন মুখচন্দ্র, করকমল উপমিত।
১৬৭. 'হ্ম' যুক্তবর্ণ গঠিত হয়েছে- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কহ্ + ম
- খহ্ + ষ
- গক্ + ষ
- ঘষ্ + ক
সঠিক উত্তর: ক. হ্ + ম
প্রশ্নের যুক্তবর্ণটি হ্ম। এটি একটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ, মানে যুক্ত হওয়ার পর মূল বর্ণগুলো দেখে আর চেনা যায় না। হ্ম গঠিত হয়েছে হ আর ম মিলে, যেমন ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম, ব্রাহ্মী শব্দে।
অনেক ছাপার হরফে হ্ম দেখতে প্রায় ক্ষ-এর মতো লাগে, তাই দুটো গুলিয়ে যায়। ক্ষ গঠিত হয় ক আর ষ মিলে, যেমন পক্ষ বা রক্ষা; আর হ্ম হয় হ আর ম মিলে।
অন্য পরিচিত অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: জ্ঞ হলো জ আর ঞ, হ্ন হলো হ আর দন্ত্য ন, হ্ণ হলো হ আর মূর্ধন্য ণ, ষ্ণ হলো ষ আর মূর্ধন্য ণ।
হ যোগ ষ দিয়ে কোনো প্রচলিত যুক্তবর্ণ নেই, এটি বানানো ফাঁদ। আর ক যোগ ষ উত্তর হতো প্রশ্নে ক্ষ থাকলে; তাই অক্ষরটি ভালো করে দেখে নিন।
মনে রাখুন: যুক্তবর্ণ চিনতে একটি পরিচিত শব্দ মনে করুন: হ্ম মানে ব্রাহ্মণ, ক্ষ মানে পক্ষ, জ্ঞ মানে জ্ঞান।
১৬৮. 'To do or die' বাংলা প্রবাদে এর অর্থ কী হতে পারে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- ককেঁচো খুঁড়তে সাপ
- খবিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী
- গমন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
- ঘপরাজয়ে ডরে না বীর
সঠিক উত্তর: গ. মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
To do or die মানে হয় কাজটি করব, নয়তো মরব; অর্থাৎ লক্ষ্য পূরণে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত থাকা। বাংলায় এর প্রচলিত রূপ মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে মন্ত্র মানে সংকল্প বা লক্ষ্য, সাধন মানে তা পূরণ করা, আর শরীর পাতন মানে দেহত্যাগ। হয় সংকল্প পূরণ, নয় মৃত্যু: হুবহু To do or die-এর ভাব।
বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী মানে যুদ্ধ ছাড়া সুচের ডগার সমান মাটিও ছাড়ব না; এটি মহাভারতে দুর্যোধনের জেদের উক্তি, আত্মত্যাগের নয়। পরাজয়ে ডরে না বীর মানে বীর হারকে ভয় পায় না।
কেঁচো খুঁড়তে সাপ মানে সামান্য খোঁজ করতে গিয়ে বড় বিপদ বেরিয়ে পড়া। দৃঢ় সংকল্প আর মৃত্যুর প্রস্তুতি দুটোই যে অপশনে আছে, সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: ইংরেজি প্রবাদের দুই অংশই বাংলায় মিলিয়ে দেখুন: do মানে সাধন, die মানে শরীর পাতন।
১৬৯. সন্ধিতে ই/ঈ এর পরে অ/আ থাকলে উভয় মিলে কী হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কও-কার
- খএ-কার
- গয-ফলা
- ঘব-ফলা
সঠিক উত্তর: গ. য-ফলা
এটি স্বরসন্ধির নিয়ম। ই বা ঈ-এর পরে ই আর ঈ ছাড়া অন্য স্বর, যেমন অ বা আ, এলে ই বা ঈ বদলে য হয়, আর সেটি আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে য-ফলা হয়ে যুক্ত হয়।
যেমন অতি যোগ অন্ত সমান অত্যন্ত: অতির ই আর অন্তর অ মিলে ত-এর সঙ্গে য-ফলা। ইতি যোগ আদি সমান ইত্যাদি, এখানে য-ফলার সঙ্গে আ-কার। নদী যোগ অম্বু সমান নদ্যম্বু।
উ-এর ক্ষেত্রেও একই ধাঁচের নিয়ম: উ বা ঊ-এর পরে অন্য স্বর এলে উ বদলে ব হয়, মানে ব-ফলা; যেমন সু যোগ আগত সমান স্বাগত, অনু যোগ এষণ সমান অন্বেষণ।
ব-ফলা অপশনটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ সেটি উ-এর নিয়ম। আর অ বা আ-এর পরে ই এলে হয় এ-কার, যেমন নর যোগ ইন্দ্র সমান নরেন্দ্র; অ বা আ-এর পরে উ এলে হয় ও-কার, যেমন সূর্য যোগ উদয় সমান সূর্যোদয়।
মনে রাখুন: ই-কারের জোড়া য-ফলা, উ-কারের জোড়া ব-ফলা: ইত্যাদি, অত্যন্ত, প্রত্যেক; স্বাগত, অন্বেষণ।
১৭০. 'কুম্ভীলক' শব্দের অর্থ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- ককুমিরের অশ্রু
- খযে মাটির জিনিস বানায়
- গযে অন্যের লেখা নিজের বলে চালায়
- ঘকুমিরের ছানা
সঠিক উত্তর: গ. যে অন্যের লেখা নিজের বলে চালায়
কুম্ভীলক মানে এমন ব্যক্তি, যে অন্যের লেখা বা ভাব নিজের নামে চালায়। ইংরেজিতে একে plagiarist বলে, আর এই চুরির কাজটি plagiarism, বাংলায় কুম্ভীলকবৃত্তি।
আজকের গবেষণা ও লেখালেখিতে সূত্র উল্লেখ না করে অন্যের লেখা হুবহু বা ভাব বদলে ব্যবহার করা কুম্ভীলকবৃত্তি হিসেবে ধরা হয়।
শব্দটির শুরু কুম্ভ দিয়ে, আর কুমিরের প্রতিশব্দ কুম্ভীর; এই মিল থেকেই প্রশ্নে কুমিরের অশ্রু ও কুমিরের ছানা অপশন রাখা হয়েছে। আবার কুম্ভ মানে কলসি, তাই মাটির জিনিস বানানো অপশনটিও ফাঁদ; মাটির জিনিস যে বানায় সে কুম্ভকার।
কুমিরের মিথ্যা কান্না বোঝাতে বাংলায় বলে মায়াকান্না, আর ইংরেজিতে crocodile tears। এক কথায় প্রকাশে শব্দের চেহারা নয়, অর্থ মুখস্থ রাখুন।
মনে রাখুন: কুম্ভীলক = লেখাচোর; কুম্ভীর = কুমির; কুম্ভকার = কুমার। তিনটি একসাথে মনে রাখুন।
১৭১. 'সদা সত্য কথা বলবে।' এটি কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবিবৃতিমূলক
- খপ্রশ্নবোধক
- গঅনুজ্ঞাসূচক
- ঘপ্রার্থনাসূচক
সঠিক উত্তর: গ. অনুজ্ঞাসূচক
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ বা নিষেধ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞাসূচক বা অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। সদা সত্য কথা বলবে বাক্যে বক্তা উপদেশ দিচ্ছেন, তাই এটি অনুজ্ঞাসূচক।
এখানে বলবে ক্রিয়াটি দেখতে ভবিষ্যৎ কালের, কিন্তু আসলে এটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: এখন বা পরে কী করতে হবে তার নির্দেশ। যেমন সময়মতো বাড়ি ফিরবে, মিথ্যা বলবে না।
বিবৃতিমূলক বাক্য শুধু কোনো তথ্য জানায়, যেমন সে সবসময় সত্য কথা বলে। প্রশ্নবোধক বাক্যে কিছু জানতে চাওয়া হয়, আর প্রার্থনাসূচক বা ইচ্ছাসূচক বাক্যে মঙ্গল কামনা থাকে, যেমন তোমার মঙ্গল হোক।
বলবে ক্রিয়ার ভবিষ্যৎ রূপ দেখে অনেকে একে সাধারণ বিবৃতি ভাবেন। কিন্তু বাক্যটি কিছু ঘটবে বলে জানাচ্ছে না, বরং করতে বলছে; তাই এটি অনুজ্ঞা।
মনে রাখুন: বাক্য শুনে যদি শ্রোতাকে কিছু করতে বা না করতে হয়, তবে সেটি অনুজ্ঞাসূচক; ক্রিয়া ভবিষ্যৎ রূপে থাকলেও।
১৭২. 'অংশ' শব্দের উচ্চারণ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কঅংশো
- খওঙ্শো
- গঅঙ্শো
- ঘঅংসো
সঠিক উত্তর: গ. অঙ্শো
প্রশ্নটা অংশ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ জানতে চেয়েছে। উচ্চারণ লেখার সময় দুটি জিনিস দেখতে হয়: অনুস্বার কীভাবে উচ্চারিত হয়, আর শব্দের শেষে অ লুপ্ত হয় নাকি ও হয়ে যায়।
বাংলায় অনুস্বার আসলে ঙ্ ধ্বনি, তাই উচ্চারণ অভিধানে ং-কে হসন্তযুক্ত ঙ্ দিয়ে লেখা হয়। আর শব্দের শেষে যুক্ত ব্যঞ্জন বা সংযুক্ত ধ্বনির পরে অ থাকলে সেটি সাধারণত ও-এর মতো উচ্চারিত হয়, যেমন সত্য হয় শোত্তো, তাই শ হয় শো।
শুরুর অ এখানে অ-ই থাকে, ও হয় না, কারণ পরে ই, উ, য-ফলা বা ক্ষ জাতীয় কিছু নেই। তাই অংশ শব্দের উচ্চারণ দাঁড়ায় অঙ্শো।
অংশো অপশনটিও শুনতে একই, কিন্তু উচ্চারণ লেখার রীতিতে অনুস্বারকে ঙ্ দিয়ে দেখানো হয়, তাই অঙ্শো বেশি নির্ভুল। ওঙ্শো লিখলে শুরুর অ-কে ভুলভাবে ও বানানো হয়, আর অংসো লিখলে শ-কে দন্ত্য স ধরা হয়।
মনে রাখুন: উচ্চারণের প্রশ্নে অনুস্বার থাকলে যে অপশনে ঙ্ লেখা আছে সেটি আগে দেখুন; বংশ, হংস, মাংস একই নিয়মে চলে।
১৭৩. 'সন্দেশ' পত্রিকার সম্পাদক কে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
- খদ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গমীর মশাররফ হোসেন
- ঘসুকুমার রায়
সঠিক উত্তর: ঘ. সুকুমার রায়
প্রশ্নটা শিশু-কিশোর পত্রিকা সন্দেশের সম্পাদক জানতে চেয়েছে। সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে, কলকাতা থেকে, প্রতিষ্ঠা করেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
১৯১৫ সালে উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সুকুমার রায় পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। আবোল তাবোল, হ য ব র ল-এর মতো লেখার অনেকটাই সন্দেশে প্রকাশিত হয়েছিল।
পরে ১৯৬১ সালে সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায় পত্রিকাটি আবার চালু করেন। অপশনে উপেন্দ্রকিশোর বা সত্যজিৎ নেই, তাই সঠিক উত্তর সুকুমার রায়।
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদনা করতেন আজিজন নেহার ও হিতকরী, আর দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর যুক্ত ছিলেন ভারতী ও তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সঙ্গে। এই নামগুলো চেনা বলে বিভ্রান্তি হয়।
মনে রাখুন: সন্দেশ মানে রায় পরিবার: দাদা উপেন্দ্রকিশোর, বাবা সুকুমার, নাতি সত্যজিৎ।
১৭৪. কোনটি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের লেখা ভ্রমণকাহিনি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
- খরাশিয়ার চিঠি
- গদেশে-বিদেশে
- ঘতুরস্ক ভ্রমণ
সঠিক উত্তর: ক. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
প্রশ্নটা ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের ভ্রমণকাহিনি জানতে চেয়েছে। তিনি ধ্বনিবিজ্ঞান নিয়ে পড়তে লন্ডন গিয়েছিলেন, আর সেই প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা লিখেছেন বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন বইয়ে।
তাঁর অন্য বিখ্যাত বই ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব। সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্তও লিখেছেন।
বাকি তিনটিও ভ্রমণকাহিনি, তাই এখানে ধরন দেখে নয়, লেখক মিলিয়ে উত্তর দিতে হবে। রাশিয়ার চিঠি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের, দেশে-বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলীর, আর তুরস্ক ভ্রমণ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর লেখা।
মনে রাখুন: বিলেতে পড়তে যাওয়া ভাষাবিজ্ঞানী আবদুল হাই, তাই বিলেতের দিনগুনতি তাঁর বই।
১৭৫. যতিচিহ্ন ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কধ্বনিতত্ত্ব
- খশব্দতত্ত্ব
- গবাক্যতত্ত্ব
- ঘঅর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: গ. বাক্যতত্ত্ব
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ব্যাকরণের কোন অংশে যতিচিহ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলা ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য ভাগ চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব।
যতিচিহ্ন বসে বাক্যের ভেতরে ও শেষে; এটি ঠিক করে কোথায় থামতে হবে আর বাক্যটি প্রশ্ন, বিস্ময় না বিবৃতি। যেহেতু এর কাজ পুরো বাক্যের গঠন ও পাঠের সঙ্গে জড়িত, তাই নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণে যতিচিহ্ন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত।
বাক্যতত্ত্বে আরও আছে বাক্যের গঠন, উক্তি, বাচ্য, কারক বিশ্লেষণ আর বাক্যের রূপান্তর। ধ্বনিতত্ত্বে থাকে ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান; শব্দতত্ত্বে প্রত্যয়, উপসর্গ, সমাস, পদ; অর্থতত্ত্বে প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগ্ধারা।
অনেকে যতিচিহ্নকে লেখার চিহ্ন ভেবে ধ্বনিতত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন, কারণ বর্ণমালাও সেখানে পড়ে। কিন্তু যতিচিহ্ন বর্ণ নয়, বাক্যের বিরাম।
মনে রাখুন: যে বিষয় পুরো বাক্য ছাড়া বোঝা যায় না (উক্তি, বাচ্য, যতিচিহ্ন, কারক), তা বাক্যতত্ত্বে।
১৭৬. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বলে মনে করা হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কঅসমিয়া
- খসংস্কৃত
- গবঙ্গকামরূপী
- ঘকেন্তম
সঠিক উত্তর: গ. বঙ্গকামরূপী
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলা ভাষা কোন ভাষা থেকে জন্ম নিয়েছে। বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের সদস্য; বহু ধাপ পেরিয়ে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ থেকে এর উদ্ভব।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশ, আর তা থেকে বঙ্গকামরূপী ভাষা হয়ে আনুমানিক সপ্তম শতকে বাংলা আলাদা রূপ পায়। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত ও অপভ্রংশ থেকে বাংলার উৎপত্তি। নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণে দেখানো ছকেও বাংলার ঠিক আগের ধাপ বঙ্গকামরূপী।
বঙ্গকামরূপী থেকে একই সঙ্গে বাংলা আর অসমিয়া, দুটি ভাষা জন্ম নেয়। তাই অসমিয়া বাংলার জননী নয়, বোন।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ সংস্কৃত। বাংলায় অনেক তৎসম শব্দ থাকলেও বাংলা সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসেনি; এসেছে প্রাকৃতের ধারায়। কেন্তম হলো ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের পশ্চিমের শাখা, বাংলা পড়ে শতম শাখায়।
মনে রাখুন: বাংলার উৎস প্রশ্নে প্রাকৃত, অপভ্রংশ বা বঙ্গকামরূপী থাকলে সেটিই উত্তর; সংস্কৃত প্রায় সবসময় ফাঁদ।
১৭৭. বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআ
- খএ
- গউ
- ঘও
সঠিক উত্তর: গ. উ
প্রশ্নটা স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ নিয়ে। উচ্চারণের সময় জিভ মুখের ভেতরে কতটা উঁচুতে ওঠে, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে উচ্চ, উচ্চ-মধ্য, নিম্ন-মধ্য আর নিম্ন, এই চার ভাগে ভাগ করা হয়।
ই আর উ উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে উঁচুতে ওঠে, আর মুখ সবচেয়ে কম খোলে; তাই এরা উচ্চ স্বরধ্বনি। এ আর ও উচ্চ-মধ্য, অ্যা আর অ নিম্ন-মধ্য।
আ উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে নিচে থাকে আর মুখ সবচেয়ে বেশি খোলে; তাই আ নিম্ন স্বরধ্বনি।
নিজে বলে যাচাই করা যায়: ই আর আ পরপর উচ্চারণ করলে টের পাবেন জিভ উঁচু থেকে নিচে নামছে। ফাঁদ হলো ও বেছে নেওয়া, কারণ উ আর ও দুটোই পশ্চাৎ স্বর; কিন্তু ও উচ্চারণে জিভ উ এর চেয়ে একটু নিচে থাকে।
মনে রাখুন: উচ্চ স্বরধ্বনি মাত্র দুটি: ই আর উ। অপশনে এদের একটি থাকলেই সেটা উত্তর।
১৭৮. বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কতৎসম
- খতদ্ভব
- গদেশি
- ঘবিদেশি
সঠিক উত্তর: গ. দেশি
প্রশ্নটি উৎস অনুযায়ী বাংলা শব্দের শ্রেণি নিয়ে। এ দেশের আদি অধিবাসী অনার্য জনগোষ্ঠী, যেমন কোল, মুন্ডা, সাঁওতাল, তাদের ভাষা থেকে যে শব্দ বাংলায় এসেছে, তাকে দেশি শব্দ বলে।
উদাহরণ: কুড়ি অর্থাৎ বিশ, কোল ভাষা থেকে; চুলা, মুন্ডারি থেকে; এ ছাড়া ঢেঁকি, কুলা, ডাব, ডিঙি। এগুলো সংস্কৃত থেকে আসেনি, এ মাটির নিজস্ব শব্দ।
বাকি শ্রেণিগুলোর মাপকাঠি আলাদা। তৎসম মানে সংস্কৃত থেকে অবিকৃত, যেমন চন্দ্র, সূর্য; তদ্ভব মানে সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের পথ ধরে বদলে আসা, যেমন হস্ত থেকে হাত; বিদেশি মানে আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা থেকে আসা।
ফাঁদ বিদেশি বিকল্পটি, কারণ অনার্যরা আর্যদের চোখে বাইরের মানুষ মনে হতে পারে। কিন্তু তারাই এ দেশের আদি বাসিন্দা, তাই তাদের শব্দ দেশি।
মনে রাখুন: শব্দের উৎস আদিবাসী অনার্য ভাষা হলে দেশি; আরও উদাহরণ: খোকা, ঝিঙা, টোপর।
১৭৯. 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমুহম্মদ আবদুল হাই
- খমুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
- গমুনীর চৌধুরী
- ঘমুহম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর: ক. মুহম্মদ আবদুল হাই
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের লেখা। বাংলা ধ্বনির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এটি একটি মৌলিক কাজ।
আবদুল হাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। ধ্বনিতত্ত্বই ছিল তাঁর মূল গবেষণার ক্ষেত্র।
চার ভাষাবিদকে তাঁদের প্রধান কাজ দিয়ে মনে রাখুন: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, মুনীর চৌধুরী কবর নাটক ও বাংলা টাইপরাইটারের মুনীর অপটিমা কিবোর্ড, মুহম্মদ এনামুল হক মুসলিম বাংলা সাহিত্য।
ফাঁদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, কারণ ভাষাতত্ত্বে তাঁর নামই সবচেয়ে পরিচিত। কিন্তু ধ্বনিতত্ত্বের এই বইটি আবদুল হাইয়ের।
মনে রাখুন: ধ্বনি শব্দ দেখলেই আবদুল হাই; সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকও তিনি।
১৮০. বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বর কয়টি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক১টি
- খ২টি
- গ৩টি
- ঘ৪টি
সঠিক উত্তর: খ. ২টি
যৌগিক স্বর মানে দুটি স্বরধ্বনি একসঙ্গে, এক টানে উচ্চারিত হওয়া। বাংলা বর্ণমালায় এমন স্বরের জন্য আলাদা বর্ণ আছে মাত্র দুটি: ঐ এবং ঔ।
ঐ উচ্চারণে ও আর ই মিলে হয় ওই; ঔ উচ্চারণে ও আর উ মিলে হয় ওউ। বর্ণমালার মোট এগারোটি স্বরবর্ণের মধ্যে বাকি নয়টি স্বরবর্ণ যৌগিক নয়।
সাবধান: প্রশ্নটি বর্ণমালার কথা বলছে। উচ্চারণে বাংলায় যৌগিক স্বরধ্বনি অনেক, যেমন খাই শব্দের আই বা যাও শব্দের আও; কিন্তু তাদের জন্য আলাদা বর্ণ নেই।
তাই উচ্চারণের যৌগিক স্বর গুনে বেশি সংখ্যা ধরলে ভুল হবে; বর্ণ হিসেবে উত্তর দুই।
মনে রাখুন: বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি, তার মধ্যে যৌগিক ২টি: ঐ, ঔ।