বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩
৪১. কোন বানানটি অশুদ্ধ নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কউর্মি
- খপুষ্করিণী
- গউদীচি
- ঘপ্রজ্জ্বলন
সঠিক উত্তর: খ. পুষ্করিণী
প্রশ্নটা উল্টো করে জিজ্ঞেস করেছে: কোন বানানটি অশুদ্ধ নয়, অর্থাৎ কোনটি শুদ্ধ। চারটির মধ্যে শুধু পুষ্করিণী সঠিক।
পুষ্করিণী মানে পুকুর। ষ-এর পরে ক, তারপর র, আর র-এর পরে ণত্ব বিধান মেনে মূর্ধন্য ণ বসেছে। শেষে স্ত্রীবাচক ইনী প্রত্যয়ের জন্য ঈ-কার।
উর্মি ভুল, শুদ্ধ ঊর্মি, মানে ঢেউ; শুরুতে দীর্ঘ ঊ। উদীচি ভুল, শুদ্ধ উদীচী, মানে উত্তর দিক; শেষেও দীর্ঘ ঈ-কার।
প্রজ্জ্বলন ভুল, শুদ্ধ প্রজ্বলন। প্র উপসর্গের সঙ্গে জ্বলন যুক্ত হয়েছে, তাই জ একবারই আসে। উজ্জ্বল শব্দে দুটি জ আসে কারণ সেখানে উৎ আর জ্বল মিলে ত্ বদলে জ হয়; এই মিল দেখেই অনেকে ভুল করেন।
মনে রাখুন: জ্জ্ব শুধু উৎ + জ্বল থেকে আসে (উজ্জ্বল); প্র, সম্ ইত্যাদির সঙ্গে জ্বল একবার জ: প্রজ্বলন, প্রজ্বলিত।
৪২. 'মুগ্ধ' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কমুগ্+ত্ব
- খমুগ্+অন
- গমুগ্ধ+শূন্য
- ঘমুহ্+ক্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. মুহ্+ক্ত
মুগ্ধ একটি কৃৎ-প্রত্যয়যুক্ত তৎসম শব্দ। এর প্রকৃতি মুহ্ ধাতু, অর্থ মোহিত হওয়া, আর প্রত্যয় ক্ত। মুহ্ আর ক্ত মিলে হয় মুগ্ধ, অর্থাৎ মোহিত।
ক্ত প্রত্যয় অতীত বা সম্পন্ন অবস্থা বোঝায়, যেমন কৃ থেকে কৃত, শ্রু থেকে শ্রুত। কিছু হ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ক্ত যুক্ত হলে ধ্বনি বদলে হয় গ্ধ।
একই ধাঁচের শব্দ: দুহ্ আর ক্ত মিলে দুগ্ধ, দহ্ আর ক্ত মিলে দগ্ধ, স্নিহ্ আর ক্ত মিলে স্নিগ্ধ। মুগ্ধ ঠিক এই দলেরই শব্দ।
ফাঁদ হলো মুগ্ ধরে নেওয়া। মুগ্ধ শব্দের বানান দেখে অনেকে মুগ্ ধাতু খোঁজেন, কিন্তু সংস্কৃতে এমন ধাতু নেই; আসল ধাতু মুহ্, যার থেকে মোহ, মোহন, মুগ্ধ সব এসেছে।
মনে রাখুন: শব্দে গ্ধ দেখলে হ-কারান্ত ধাতু আর ক্ত খুঁজুন: মুগ্ধ, দুগ্ধ, দগ্ধ, স্নিগ্ধ।
৪৩. কোন শব্দ-যুগলটি সঠিক নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কউহ্য : স্পষ্ট
- খঅস্তি : নাস্তি
- গচিন্ময় : চেতন
- ঘক্ষীণ : পুষ্ট
সঠিক উত্তর: গ. চিন্ময় : চেতন
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দের জোড়া নিয়ে। চারটি জোড়ার মধ্যে কোনটিতে দুটি শব্দ পরস্পরের বিপরীত নয়, সেটা খুঁজতে হবে।
চিন্ময় মানে চৈতন্যময়, জ্ঞানময়। এর বিপরীত শব্দ মৃন্ময়, অর্থাৎ মাটির তৈরি বা জড়। চেতন শব্দটি চিন্ময়ের বিপরীত নয়, বরং কাছাকাছি অর্থের; চেতনের বিপরীত অচেতন। তাই চিন্ময় আর চেতন জোড়াটি সঠিক নয়।
বাকি জোড়াগুলো ঠিক আছে: অস্তি মানে আছে, নাস্তি মানে নেই। ক্ষীণ মানে রোগা বা দুর্বল, পুষ্ট মানে পরিপুষ্ট। উহ্য মানে যা বলা হয়নি, অনুক্ত; তার বিপরীতে স্পষ্ট বা ব্যক্ত।
দুটি শব্দেই চ থাকায় চিন্ময় আর চেতন দেখতে বিপরীত জোড়ার মতো লাগে, কিন্তু অর্থে এরা একই দিকের।
মনে রাখুন: ময় প্রত্যয়ের জোড়া মনে রাখুন: চিন্ময় বনাম মৃন্ময়; চিৎ মানে চেতনা, মৃৎ মানে মাটি।
৪৪. কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- করুপায়ন
- খরূপায়ন
- গরূপায়ণ
- ঘরুপায়ণ
সঠিক উত্তর: গ. রূপায়ণ
শুদ্ধ বানান রূপায়ণ। এতে দুটি জিনিস ঠিক রাখতে হয়: রূ-তে দীর্ঘ ঊ-কার, আর শেষে মূর্ধন্য ণ।
রূপ তৎসম শব্দ, এর বানানে সব সময় দীর্ঘ ঊ-কার: রূপ, রূপক, রূপান্তর। তাই রুপায়ন বা রুপায়ণ, যেখানে হ্রস্ব উ-কার, সেগুলো বাদ।
শেষের ণ এসেছে ণত্ব বিধান থেকে। র, ঋ বা ষ-এর পরে যদি মাঝখানে শুধু স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, য় বা হ থাকে, তবে পরের দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়ে যায়। রূপায়ণ শব্দে র-এর পরে আছে প, আ-কার, য় আর অ; সবই অনুমোদিত, তাই ন বদলে ণ।
একই নিয়মে রামায়ণ, নারায়ণ, পরায়ণ বানানেও ণ। রূপায়ন বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ এতে ঊ-কার ঠিক আছে, শুধু ণ ভুল।
মনে রাখুন: অয়ন যুক্ত হলে র-এর পরে প্রায়ই ণ: রামায়ণ, নারায়ণ, পরায়ণ, রূপায়ণ; তবে র না থাকলে ন: অধ্যয়ন, চয়ন।
৪৫. কোনটি শুদ্ধ বানান? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কপ্রনিপাত
- খনির্মান
- গকৃপান
- ঘক্ষীণজীবী
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্ষীণজীবী
চারটি বিকল্পেই প্রশ্ন একটাই: ন হবে না ণ। এর উত্তর দেয় ণত্ব বিধান। র, ঋ, ষ বা ক্ষ-এর পরে ন এলে, মাঝে বাধা না থাকলে, সেটি মূর্ধন্য ণ হয়।
প্রনিপাত ভুল, শুদ্ধ প্রণিপাত: প্র উপসর্গের র-এর পরে ণ। নির্মান ভুল, শুদ্ধ নির্মাণ: রেফের পরে ম আর আ-কার পেরিয়ে ণ। কৃপান ভুল, শুদ্ধ কৃপাণ: ঋ-কারের পরে প আর আ-কার পেরিয়ে ণ।
ক্ষীণজীবী শুদ্ধ। ক্ষ-এর পরে ঈ-কার, তারপর ণ, তাই ক্ষীণ বানানে মূর্ধন্য ণ। জীবী শব্দের শেষে ঈ-কার, কারণ এটি ইন্ প্রত্যয়ান্ত তৎসম শব্দ, যেমন সহযোগী, অভিমানী।
মনে রাখুন, ণত্ব বিধানে মাঝখানে প-বর্গ বা স্বরবর্ণ থাকলেও ণ হয়; কিন্তু চ-বর্গ, ট-বর্গ বা ত-বর্গ এসে গেলে ন-ই থাকে, যেমন অর্চনা।
মনে রাখুন: র, ঋ, ষ, ক্ষ চোখে পড়লে পরের ন-কে ণ বানানোর কথা ভাবুন: প্রণাম, নির্মাণ, কৃপাণ, ক্ষীণ, ভীষণ।
৪৬. 'তাৎক্ষণিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কতৎক্ষণিক
- খতাৎক্ষনিক
- গতৎক্ষণ+ইক
- ঘতৎক্ষন+ইক
সঠিক উত্তর: গ. তৎক্ষণ+ইক
তাৎক্ষণিক শব্দটি তৎক্ষণ শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ইক যোগে গঠিত। তাই একে ভাঙলে পাই তৎক্ষণ যোগ ইক। প্রশ্নে সন্ধি বিচ্ছেদ বলা হলেও কাজটি আসলে প্রকৃতি-প্রত্যয় ভাঙা।
ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়: অ হয় আ, ই বা এ হয় ঐ, উ হয় ঔ। তাই তৎক্ষণের ত এর অ বেড়ে আ হয়ে হয় তাৎক্ষণিক। একইভাবে সমাজ থেকে সামাজিক, দেহ থেকে দৈহিক আর ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক।
বানানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে: ক্ষ আসলে ক আর ষ মিলে তৈরি, আর ষ এর পরে মূর্ধন্য ণ হয়। তাই শুদ্ধ বানান তৎক্ষণ, তৎক্ষন নয়; একই কারণে লক্ষণ, ক্ষণিক, শিক্ষণ।
ঘ অপশনটি ঠিক একই ভাঙন দেখালেও দন্ত্য ন দিয়ে বানান ভুল; ক আর খ অপশনে কোনো ভাঙনই নেই।
মনে রাখুন: ইক যুক্ত শব্দে প্রথম স্বর বেড়েছে দেখলে মূল শব্দে ফিরে যান: সাপ্তাহিক = সপ্তাহ + ইক, বার্ষিক = বর্ষ + ইক।
৪৭. 'ঈদৃশ' এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কসদৃশ
- খএরকম
- গসাদৃশ
- ঘতাদৃশ
সঠিক উত্তর: ঘ. তাদৃশ
ঈদৃশ শব্দের অর্থ এই রকম বা এমন। এর বিপরীত হলো তাদৃশ, যার অর্থ সেই রকম বা তেমন।
এই শব্দগুলো তৎসম, তৈরি হয়েছে দৃশ ধাতুর সঙ্গে সর্বনাম যুক্ত হয়ে। ইদম বা এই থেকে ঈদৃশ, তদ বা সেই থেকে তাদৃশ, যদ বা যে থেকে যাদৃশ, আর কিম বা কী থেকে কীদৃশ।
তাই এই আর সেই যেমন বিপরীত, ঈদৃশ আর তাদৃশও তেমনি বিপরীত শব্দজোড়।
ফাঁদ হলো এরকম অপশনটা; এটা ঈদৃশ এর সমার্থক, বিপরীত নয়। সদৃশ মানে একই রকম, যা আলাদা শব্দ।
মনে রাখুন: ঈদৃশ-তাদৃশ, ইহলোক-পরলোক, এই-সেই: কাছের বিপরীত দূর।
৪৮. নিচের কোন বিপরীত শব্দটি ঠিক নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কঅমৃত-গরল
- খতস্কর-সাধু
- গকৃশ-স্থূল
- ঘঅর্বাচীন-আধুনিক
সঠিক উত্তর: ঘ. অর্বাচীন-আধুনিক
প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে কোন জোড়াটি বিপরীত শব্দ হিসেবে ঠিক নয়। প্রতিটি জোড়ার দুই শব্দের অর্থ মিলিয়ে দেখতে হবে।
অমৃত মানে সুধা, আর গরল মানে বিষ; এরা বিপরীত। তস্কর মানে চোর, আর সাধু মানে সৎ মানুষ; এরাও বিপরীত। কৃশ মানে রোগা, স্থূল মানে মোটা; এটাও ঠিক।
অর্বাচীন মানে নবীন, আধুনিক বা অপরিপক্ব। তাই অর্বাচীন আর আধুনিক প্রায় সমার্থক। অর্বাচীন এর সঠিক বিপরীত হলো প্রাচীন।
যারা অর্বাচীন শব্দের অর্থ জানেন না, তারা আধুনিক শব্দটা দেখে বিপরীত ভেবে ফেলেন। এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: অর্বাচীন-প্রাচীন, নবীন-প্রবীণ জোড়াগুলো একসঙ্গে মনে রাখুন।
৪৯. বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম- (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কআসক্তি
- খযোগ্যতা
- গআকাঙ্ক্ষা
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. যোগ্যতা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি বা আসক্তি, আর যোগ্যতা। প্রশ্নটা এই তিনটির সংজ্ঞা আলাদা করতে পারছেন কি না তা যাচাই করছে।
যোগ্যতা মানে বাক্যের পদগুলোর অর্থগত ও ভাবগত মিল, যাতে বাক্যটা বিশ্বাসযোগ্য হয়। যেমন, বর্ষায় নদী পানিতে ভরে গেছে, বাক্যটা বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু গরু আকাশে উড়ছে, বাক্যে পদ সাজানো ঠিক থাকলেও যোগ্যতা নেই।
আকাঙ্ক্ষা মানে বাক্য শুনে পরের অংশ শোনার আগ্রহ থেকে যাওয়া, যেমন শুধু আমি ভাত বললে অর্থ অসম্পূর্ণ লাগে। আসক্তি মানে পদগুলোর সঠিক ক্রমে বসা।
প্রশ্নের মূল শব্দ বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলন; বিশ্বাসযোগ্যতা দেখলেই যোগ্যতা বাছুন।
মনে রাখুন: ক্রম = আসক্তি, আগ্রহ = আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস = যোগ্যতা।
৫০. বিশেষণ বর্গের উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কঅসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
- খআমার ভাই পড়তে বসেছে।
- গপোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে ভালো আসবাব হয় না।
- ঘসে লিখছে আর হাসছে।
সঠিক উত্তর: গ. পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে ভালো আসবাব হয় না।
বর্গ মানে একাধিক পদ মিলে একটি পদের মতো কাজ করা। যে পদগুচ্ছ পুরোটা মিলে বিশেষ্যকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণ বর্গ বলে।
পোকায় খাওয়া কাঠ বাক্যাংশে পোকায় খাওয়া দুই পদ মিলে কাঠ কেমন তা বোঝাচ্ছে। একক কোনো বিশেষণ নয়, পুরো গুচ্ছটাই বিশেষণের কাজ করছে, তাই এটি বিশেষণ বর্গ।
অসুস্থ ছেলেটি বাক্যে অসুস্থ একটি মাত্র বিশেষণ পদ, তাই এটা বর্গ নয়; বরং অসুস্থ ছেলেটি পুরোটা মিলে বিশেষ্য বর্গ। আমার ভাই বিশেষ্য বর্গের উদাহরণ, আর লিখছে আর হাসছে ক্রিয়ার সংযোগ।
ফাঁদ হলো অসুস্থ শব্দটা বিশেষণ দেখে প্রথম অপশন বেছে নেওয়া। বর্গ হতে হলে একাধিক পদ লাগে।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: রোদে পোড়া মুখ, দুধে ভেজা ভাত, ঘামে ভেজা জামা।
৫১. নিচের কোন শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কআলপিন
- খজানালা
- গআনারস
- ঘলাশ
সঠিক উত্তর: ঘ. লাশ
বাংলায় অনেক বিদেশি শব্দ ঢুকেছে। পর্তুগিজরা ষোড়শ শতক থেকে বাংলায় বাণিজ্য করত, তাই তাদের ভাষা থেকে দৈনন্দিন জিনিসের অনেক নাম এসেছে।
আলপিন, জানালা আর আনারস তিনটিই পর্তুগিজ শব্দ। এই দলের আরও শব্দ হলো আলমারি, বালতি, চাবি, গির্জা, পাউরুটি, পেঁপে আর বোতাম।
লাশ শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে এসেছে, পর্তুগিজ নয়। তুর্কি থেকে আসা আরও শব্দ হলো চাকর, চাকু, কাঁচি, দারোগা, বাবুর্চি, মুচলেকা ও কুর্নিশ।
এ ধরনের প্রশ্নে আগে চেনা পর্তুগিজ শব্দগুলো বাদ দিন; যে শব্দটা বাকি থাকে, সাধারণত সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: পর্তুগিজ শব্দের ছড়া: আলমারি, আলপিন, আনারস, জানালা, বালতি, চাবি, গির্জা, পাউরুটি।
৫২. নিচের কোনটি অঘোষ ধ্বনি নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কচ
- খট
- গজ
- ঘথ
সঠিক উত্তর: গ. জ
ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কাঁপলে তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে, না কাঁপলে অঘোষ। বর্গীয় ব্যঞ্জনে প্রতিটি বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘোষ, আর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘোষ।
চ বর্গে চ ও ছ অঘোষ, জ, ঝ, ঞ ঘোষ। ট বর্গে ট ও ঠ অঘোষ। ত বর্গে ত ও থ অঘোষ।
তাই চ, ট আর থ তিনটিই অঘোষ, কিন্তু জ হলো চ বর্গের তৃতীয় বর্ণ, অর্থাৎ ঘোষ ধ্বনি। প্রশ্নে অঘোষ নয় এমনটি চাওয়া হয়েছে, তাই উত্তর জ।
থ মহাপ্রাণ বলে অনেকে একে ঘোষ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু মহাপ্রাণ আর ঘোষ আলাদা বিষয়; থ মহাপ্রাণ কিন্তু অঘোষ।
মনে রাখুন: প্রতি বর্গের প্রথম দুটি অঘোষ, শেষ তিনটি ঘোষ।
৫৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে কোন চিহ্ন বসে? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কদাঁড়ি
- খকমা
- গসেমিকোলন
- ঘহাইফেন
সঠিক উত্তর: ক. দাঁড়ি
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য দিয়ে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ বা নিষেধ বোঝানো হয়। যেমন, দরজাটা বন্ধ করো, বা মিথ্যা কথা বলো না।
এ ধরনের বাক্যে বক্তব্য সম্পূর্ণ হয়, তাই সাধারণভাবে বাক্যের শেষে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে। আবেগ বা জোর বোঝাতে কখনো বিস্ময়চিহ্নও বসতে পারে, কিন্তু সেটি এখানে অপশনে নেই।
কমা, সেমিকোলন আর হাইফেন বাক্যের ভেতরে ব্যবহৃত হয়; কোনোটিই বাক্য শেষ করে না। তাই উত্তর দাঁড়ি।
মনে রাখুন: উদাহরণ: তুমি এখানে বসো। চুপ করো। দাঁড়ি দিয়েই বাক্য শেষ।
৫৪. উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কগরুর গাড়ি
- খছাত্রাবাস
- গউপাচার্য
- ঘজাদুকর
সঠিক উত্তর: ঘ. জাদুকর
যে পদের পরে কৃদন্ত পদ বা কৃৎ প্রত্যয়সাধিত পদ বসে, তাকে উপপদ বলে। উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
জাদুকর শব্দের ব্যাসবাক্য হলো জাদু করে যে। এখানে জাদু উপপদ আর কর হলো কৃ ধাতু থেকে আসা কৃদন্ত পদ। তাই এটি উপপদ তৎপুরুষ।
একই নিয়মে কুম্ভকার মানে কুম্ভ করে যে, পঙ্কজ মানে পঙ্কে জন্মে যে, আর ছেলেধরা মানে ছেলে ধরে যে।
গরুর গাড়ি আর ছাত্রাবাস ষষ্ঠী তৎপুরুষ, কারণ এদের ব্যাসবাক্যে র বা দের বিভক্তি আসে; গরুর গাড়িতে বিভক্তি লোপ পায়নি বলে একে অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষও বলা হয়। উপাচার্য উপসর্গ উপ যোগে গঠিত প্রাদি সমাস, এখানে কোনো কৃদন্ত পদ নেই।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে করে যে, জন্মে যে, ধরে যে আসলে প্রায় নিশ্চিতভাবে উপপদ তৎপুরুষ।
৫৫. 'আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই।'- কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কসরল
- খজটিল
- গযৌগিক
- ঘআশ্রিত
সঠিক উত্তর: ক. সরল
প্রশ্নটা গঠন অনুসারে বাক্যের শ্রেণি যাচাই করছে। গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল আর যৌগিক। পার্থক্য বোঝা যায় বাক্যে কয়টি সমাপিকা ক্রিয়া বা কয়টি খণ্ডবাক্য আছে তা গুনে।
সরল বাক্যে একটি মাত্র কর্তা আর একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সাথে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, সাধারণত যে, যদি, যখন-তখন ধরনের সাপেক্ষ শব্দ দিয়ে জোড়া। যৌগিক বাক্যে দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য এবং, কিন্তু, অথবা দিয়ে যুক্ত হয়।
আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই, এই বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া একটিই: নাই। কোনো সংযোজক বা সাপেক্ষ শব্দও নেই। মাঝের কমাটি শুধু উচ্চারণের বিরতি, নতুন খণ্ডবাক্য নয়। তাই এটি সরল বাক্য।
কমা দেখে অনেকে দুই অংশ ভেবে যৌগিক বা জটিল বেছে নেন, এটাই ফাঁদ। আর আশ্রিত কোনো বাক্যের শ্রেণি নয়, এটি জটিল বাক্যের ভেতরের খণ্ডবাক্যের নাম।
মনে রাখুন: আগে সমাপিকা ক্রিয়া গুনুন: একটি হলে সরল; যে-সে, যদি-তবে থাকলে জটিল; এবং, কিন্তু, অথবা থাকলে যৌগিক।
৫৬. নিচের কোনটি ভিন্নার্থক? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কঅজগর বৃত্তি
- খগোঁফ-খেজুরে
- গঘরের ঢেঁকি
- ঘননীর পুতুল
সঠিক উত্তর: গ. ঘরের ঢেঁকি
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ যাচাই করছে: চারটির মধ্যে কোনটির অর্থ বাকিগুলোর থেকে আলাদা। তাই আগে প্রতিটির অর্থ জানতে হবে, তারপর মিলটা খুঁজতে হবে।
অজগর বৃত্তি মানে অজগরের মতো শুয়ে থেকে বিনা পরিশ্রমে খাবার পাওয়ার আশা, অর্থাৎ আলস্য। গোঁফ খেজুরে মানে এমন অলস যে মুখের কাছে খেজুর পড়লেও নিজে মুখে তোলে না। ননীর পুতুল মানে মাখনের পুতুলের মতো কোমল, শ্রমকাতর মানুষ। তিনটিই শ্রমবিমুখতা বা আলস্য বোঝায়।
ঘরের ঢেঁকি থেকে এসেছে ঘরের ঢেঁকি কুমির কথাটি, যার অর্থ আপন লোক হয়েও শত্রুতা করা, অর্থাৎ ঘরশত্রু বা বিভীষণ। কোনো কোনো বইয়ে ঘরের ঢেঁকি মানে ঘরজামাই বা পোষ্য লোক। কোনো অর্থেই এটি আলস্য বোঝায় না, তাই এটিই ভিন্নার্থক।
এমন প্রশ্নে তিনটি বিকল্পের একটি সাধারণ অর্থ থাকে; সেই মিলটা ধরতে পারলেই ব্যতিক্রমটি বেরিয়ে আসে।
মনে রাখুন: আলস্য বোঝায় আরও কিছু বাগ্ধারা: কুঁড়ের বাদশা, ভেরেণ্ডা ভাজা (অকাজে সময় কাটানো); ঘরশত্রু বোঝায়: ঘরের শত্রু বিভীষণ।
৫৭. 'করলাম' পদের 'লাম' শব্দাংশ কিসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কক্রিয়া-বিভক্তি
- খকারক-বিভক্তি
- গনাম প্রকৃতি
- ঘবলক
সঠিক উত্তর: ক. ক্রিয়া-বিভক্তি
প্রশ্নটা ক্রিয়াপদের গঠন যাচাই করছে। প্রতিটি ক্রিয়াপদের দুটি অংশ: মূল অংশ ধাতু বা ক্রিয়াপ্রকৃতি, আর তার সাথে যুক্ত বিভক্তি, যা কাল ও পুরুষ বোঝায়।
করলাম ভাঙলে পাই কর্ ধাতু আর লাম বিভক্তি। লাম অংশটি বলছে কাজটি অতীতে হয়েছে এবং কর্তা উত্তম পুরুষ, অর্থাৎ আমি বা আমরা। ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে কাল ও পুরুষ নির্দেশ করে বলে একে বলে ক্রিয়া-বিভক্তি। সাধু রূপে একই শব্দ করিলাম, সেখানে বিভক্তি ইলাম।
কারক-বিভক্তি যুক্ত হয় নাম শব্দের সাথে, যেমন রহিমকে শব্দের কে, ঘরে শব্দের এ। নাম প্রকৃতি হলো বিশেষ্য বা বিশেষণের মূল অংশ, যেমন হাতল শব্দের হাত; এটি বিভক্তি নয়।
লাম অংশটি যেহেতু ক্রিয়ার সাথে, তাই নাম শব্দের কারক-বিভক্তি বেছে নেওয়া ভুল।
মনে রাখুন: একই নিয়মে: খেলাম = খা + লাম, পড়লাম = পড় + লাম, গেলাম = যা (গে) + লাম। ক্রিয়ার শেষে যা যুক্ত হয় তা-ই ক্রিয়া-বিভক্তি।
৫৮. 'একোন' এর ব্যাসবাক্য কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কএ কে কোন
- খএক দ্বারা উন
- গএককে কোন
- ঘএক হইতে উন
সঠিক উত্তর: খ. এক দ্বারা উন
প্রশ্নটা ব্যাসবাক্য দিয়ে সমাস চেনার। একোন শব্দে আছে এক আর ঊন। ঊন মানে কম বা কমতি; একোন মানে এক কম। যেমন একোনবিংশ মানে বিশের চেয়ে এক কম, অর্থাৎ উনিশ।
এক কম মানে একের দ্বারা কম, অর্থাৎ পূর্বপদে করণ অর্থের দ্বারা বিভক্তি লোপ পেয়েছে। তাই ব্যাসবাক্য: এক দ্বারা ঊন, আর সমাসটি তৃতীয়া তৎপুরুষ।
শব্দটি গঠনে সন্ধিও আছে: এক শব্দের শেষ অ আর ঊন শব্দের প্রথম ঊ মিলে ও হয়েছে, গুণ সন্ধির নিয়মে। তাই এক আর ঊন মিলে একোন। প্রশ্নের বিকল্পে উন লেখা হয়েছে, শুদ্ধ বানান দীর্ঘ ঊ দিয়ে ঊন।
এক হইতে ঊন বিকল্পটি পঞ্চমী তৎপুরুষের রূপ, অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি মনে হয় বলেই এটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: একই নিয়মের আরও উদাহরণ: মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
৫৯. সন্ধির নিয়মানুসারে কোন বানানটি ভুল? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কমস্যাধার
- খপ্রত্যেক
- গনদ্যম্বু
- ঘপ্রত্যুষ
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রত্যুষ
প্রশ্নটা স্বরসন্ধির নিয়মে বানান যাচাই করছে। নিয়মটি হলো: ই বা ঈ-এর পর ভিন্ন স্বর এলে ই বা ঈ বদলে য-ফলা হয়, আর পরের স্বরটি য-ফলার সাথে কার হিসেবে যুক্ত হয়। একে বলে যণ্ সন্ধি।
মসি আর আধার মিলে মস্যাধার, প্রতি আর এক মিলে প্রত্যেক, নদী আর অম্বু মিলে নদ্যম্বু; তিনটিই এই নিয়মে ঠিক আছে।
প্রত্যূষ শব্দটি প্রতি আর ঊষ মিলে তৈরি। পরের স্বরটি দীর্ঘ ঊ, তাই য-ফলার সাথে দীর্ঘ ঊ-কার বসবে। শুদ্ধ বানান প্রত্যূষ; বিকল্পে হ্রস্ব উ-কার দিয়ে লেখা প্রত্যুষ, যা সন্ধির নিয়মে ভুল।
হ্রস্ব উ-কারের প্রত্যুৎপন্নমতি, অভ্যুদয় শব্দের সাথে মিল দেখে অনেকে প্রত্যুষ ঠিক ভাবেন; কিন্তু সেখানে মূল শব্দে হ্রস্ব উ আছে, এখানে আছে দীর্ঘ ঊ।
মনে রাখুন: য-ফলার পরের কার মূল শব্দের প্রথম স্বর থেকেই আসে: অভি + উদয় = অভ্যুদয় (হ্রস্ব), প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ (দীর্ঘ)।
৬০. নিচের কোনটি 'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েও স্ত্রীবাচকতা না বুঝিয়ে ভিন্ন অর্থ বোঝাচ্ছে? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কমাতুলানী
- খইন্দ্রানী
- গহিমানী
- ঘক্ষত্রিয়ানী
সঠিক উত্তর: গ. হিমানী
প্রশ্নটা আনী প্রত্যয়ের দুই রকম ব্যবহার যাচাই করছে। আনী সাধারণত স্ত্রীবাচক প্রত্যয়, যা পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীবাচক করে। কিন্তু কিছু শব্দে আনী যুক্ত হয়ে স্ত্রীলিঙ্গ নয়, বরং বিশালতা বা মহত্ত্ব বোঝায়।
মাতুল মানে মামা, মাতুল আর আনী মিলে মাতুলানী মানে মামি। ইন্দ্র আর আনী মিলে ইন্দ্রাণী মানে ইন্দ্রের স্ত্রী। ক্ষত্রিয় আর আনী মিলে ক্ষত্রিয়াণী মানে ক্ষত্রিয়ের স্ত্রী। এই তিনটিতে প্রত্যয়টি স্ত্রীবাচক।
হিম আর আনী মিলে হিমানী মানে বিশাল হিমরাশি বা তুষারস্তূপ; এখানে কোনো নারী বোঝায় না, বোঝায় বিশালতা। একই রকম অরণ্য আর আনী মিলে অরণ্যানী মানে বিশাল অরণ্য। তাই উত্তর হিমানী।
বিকল্পে ইন্দ্রানী ও ক্ষত্রিয়ানী দন্ত্য ন দিয়ে লেখা; ণত্ব বিধান অনুযায়ী র বা ষ-এর পরে বলে শুদ্ধ বানান মূর্ধন্য ণ দিয়ে ইন্দ্রাণী ও ক্ষত্রিয়াণী। তবে উত্তর নির্ণয়ে এতে কোনো প্রভাব নেই।
মনে রাখুন: আনী যুক্ত হয়ে বিশালতা বোঝানোর জোড়া মনে রাখুন: হিমানী আর অরণ্যানী; প্রশ্নে এ দুটির কোনোটি থাকলেই সেটিই উত্তর।