বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪
৬১. 'মৌন নয়' ছোটগল্পটি কার লেখা? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কশওকত ওসমান
- খমুনীর চৌধুরী
- গজহির রায়হান
- ঘরাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর: ক. শওকত ওসমান
প্রশ্নটা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য, অর্থাৎ একুশের গল্প যাচাই করছে। মৌন নয় গল্পটি লিখেছেন শওকত ওসমান। এটি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে লেখা ছোটগল্পগুলোর মধ্যে পরিচিত একটি।
শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। তাঁর সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস জননী আর ক্রীতদাসের হাসি; গল্পগ্রন্থের মধ্যে আছে জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প।
অন্য তিনজনও একই সময়ের পরিচিত লেখক, তাই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। মুনীর চৌধুরী লিখেছেন বিখ্যাত নাটক কবর। জহির রায়হানের একুশের গল্প ও সূর্যগ্রহণ গল্প আর আরেক ফাল্গুন উপন্যাস। রাবেয়া খাতুন পরিচিত মধুমতী ও ফেরারী সূর্য উপন্যাসের জন্য।
জহির রায়হানের নাম ভাষা আন্দোলনের সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত বলে অনেকে তাঁকেই বেছে নেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: একুশের রচনা জোড়ায় মনে রাখুন: কবর, মুনীর চৌধুরী; আরেক ফাল্গুন, জহির রায়হান; মৌন নয়, শওকত ওসমান।
৬২. 'Graphic' এর বাংলা পরিভাষা কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কনকশা
- খরৈখিক
- গখসড়া
- ঘঅঙ্কন
সঠিক উত্তর: খ. রৈখিক
প্রশ্নটা ইংরেজি শব্দের বাংলা পারিভাষিক প্রতিশব্দ যাচাই করছে। পরিভাষা মানে দাপ্তরিক বা বিজ্ঞানের লেখায় ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা বাংলা শব্দ।
Graphic শব্দটি বিশেষণ, অর্থ রেখা বা চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত। এর প্রচলিত পরিভাষা রৈখিক। Graph মানে লেখচিত্র।
অন্য অপশনগুলোর নিজস্ব ইংরেজি আছে: নকশা মানে Design বা Plan, খসড়া মানে Draft, আর অঙ্কন মানে Drawing।
ফাঁদ হলো অঙ্কন বা নকশা: graphic design শুনে ছবি আঁকা মনে হয়, কিন্তু পরিভাষা হিসেবে graphic-এর প্রতিশব্দ রৈখিক।
মনে রাখুন: পরিভাষার প্রশ্নে অপশনগুলোর ইংরেজি খুঁজুন; যার ইংরেজি অন্য শব্দ, সেটা বাদ।
৬৩. 'প্রত্যয়' এর বিপরীত শব্দ কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কউপচয়
- খঅপচয়
- গসংশয়
- ঘসন্দেহ
সঠিক উত্তর: গ. সংশয়
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। প্রত্যয় শব্দের একটি অর্থ বিশ্বাস বা দৃঢ় ধারণা, যেমন আমার মনে প্রত্যয় জন্মেছে যে সে সত্য বলছে। তাই এর বিপরীত হবে অবিশ্বাস বা দ্বিধা, অর্থাৎ সংশয়।
মনে রাখুন, প্রত্যয় শব্দের আরেকটি অর্থ ব্যাকরণের প্রত্যয়, যা শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে। কিন্তু বিপরীত শব্দের প্রশ্নে বিশ্বাস অর্থটাই ধরা হয়, আর ব্যাকরণ বইয়ের বিপরীত শব্দের তালিকায় প্রত্যয়ের বিপরীত সংশয়।
উপচয় মানে বৃদ্ধি, এর বিপরীত অপচয়; এ দুটো একে অপরের জোড়া, প্রত্যয়ের নয়। সন্দেহও কাছাকাছি অর্থের, তবে প্রমিত জোড়া হিসেবে প্রত্যয় আর সংশয়ই প্রচলিত; এখানে ফাঁদ হলো সন্দেহ।
মনে রাখুন: বিশ্বাস-জাতীয় শব্দ (প্রত্যয়, নিশ্চয়) দেখলেই বিপরীতে সংশয় খুঁজুন।
৬৪. 'অক্কাপাওয়া' বাগধারার ফারসি 'অক্কা' শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কপ্রভু
- খমৃত্যু
- গবেহেশত
- ঘআত্মা
সঠিক উত্তর: ক. প্রভু
অক্কা পাওয়া বাগধারার অর্থ মারা যাওয়া। কিন্তু প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে এর ভেতরের অক্কা শব্দটির নিজের অর্থ কী।
অক্কা এসেছে ফারসি আকা থেকে, যার অর্থ প্রভু বা মালিক। অক্কা পাওয়া মানে প্রভুকে পাওয়া, অর্থাৎ প্রভুর কাছে চলে যাওয়া; সেখান থেকেই অর্থ দাঁড়িয়েছে মৃত্যু।
এখানে ফাঁদ হলো মৃত্যু। বাগধারার সম্পূর্ণ অর্থ মৃত্যু হলেও অক্কা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ মৃত্যু নয়, প্রভু। বেহেশত বা আত্মা অর্থের সঙ্গেও শব্দটির কোনো উৎসগত যোগ নেই।
মনে রাখুন: শব্দের অর্থ আর বাগধারার অর্থ আলাদা প্রশ্ন; প্রশ্নে শব্দ চাইলে আক্ষরিক অর্থ খুঁজুন।
৬৫. শুদ্ধ বানান গুচ্ছ- (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কপরিস্কার, পুরষ্কার
- খবিকৃত, বিক্রীত
- গস্বিকার, শীকার
- ঘধরণ, ধারনা
সঠিক উত্তর: খ. বিকৃত, বিক্রীত
প্রশ্নে এমন জোড়া চাওয়া হয়েছে যার দুটি বানানই শুদ্ধ। বিকৃত আর বিক্রীত দুটোই শুদ্ধ; বিকৃত মানে বদলে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া, আর বিক্রীত মানে যা বিক্রি করা হয়েছে।
বাকি জোড়াগুলোতে ভুল আছে। পরিষ্কার শব্দে ষ বসে, কারণ পরি উপসর্গের ই-কারের পরে ষত্ব বিধানে স হয়ে যায় ষ। আবার পুরস্কার শব্দে পুরঃ-এর বিসর্গ স হয়, তাই দন্ত্য স।
স্বীকার বানানে স্ব-এর পরে দীর্ঘ ঈ-কার, আর শিকার বানানে তালব্য শ ও হ্রস্ব ই-কার। ধরন শব্দে দন্ত্য ন, কারণ এটি তৎসম নয়; ধারণা তৎসম শব্দ, র-এর পরে মূর্ধন্য ণ।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো পরিষ্কার আর পুরস্কার গুলিয়ে ফেলা: একটিতে ষ, অন্যটিতে স।
মনে রাখুন: ই-কারান্ত বা উ-কারান্ত উপসর্গের (নিঃ, দুঃ, পরি) পরে ষ: পরিষ্কার, নিষ্কর, দুষ্কর। কিন্তু পুরঃ, তিরঃ, নমঃ-এর বিসর্গ থেকে স: পুরস্কার, তিরস্কার, নমস্কার।
৬৬. 'ন্যূনতম' শব্দের উচ্চারণ- (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কনুনোতমো
- খনুন্নোতমো
- গনুনোতম্
- ঘনুন্নোতম্
সঠিক উত্তর: ক. নুনোতমো
প্রশ্নটা প্রমিত উচ্চারণ যাচাই করছে। শব্দের প্রথম বর্ণে য-ফলা থাকলে তার উচ্চারণ দ্বিত্ব হয় না, শুধু স্বরধ্বনি বদলায়। তাই ন্যূন উচ্চারিত হয় নুনো, নুন্নো নয়।
এরপর তম প্রত্যয়। তম-এর ম-এ যুক্ত অকার এখানে ও-কারের মতো উচ্চারিত হয়, কারণ তৎসম শব্দের শেষে তম, তর ইত্যাদি অনেক সময় ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়। ফলে পুরো শব্দের উচ্চারণ নুনোতমো।
শব্দের মাঝে বা শেষে য-ফলা থাকলে দ্বিত্ব হয়, যেমন বিদ্যা বিদ্দা। কিন্তু শুরুতে থাকলে হয় না, যেমন ব্যয় ব্যায়। এই নিয়ম গুলিয়ে ফেললে নুন্নো ধরনের ভুল বিকল্প বেছে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মনে রাখুন: শুরুতে য-ফলা মানে দ্বিত্ব নেই; মাঝে বা শেষে য-ফলা মানে দ্বিত্ব (বিদ্যা → বিদ্দা)।
৬৭. 'তীক্ষ্ণ' শব্দের যুক্তব্যঞ্জনের সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কক্+ষ্+ণ
- খক্+ষ্+ন
- গক্+ষ্+ম
- ঘক্+হ্+ণ
সঠিক উত্তর: ক. ক্+ষ্+ণ
তীক্ষ্ণ শব্দে তিনটি ব্যঞ্জন মিলে একটি যুক্তবর্ণ: ক্ষ্ণ। প্রথমে ক্ষ, যা আসলে ক আর মূর্ধন্য ষ-এর যুক্তরূপ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূর্ধন্য ণ।
তাই বিশ্লেষণ হলো ক্ যোগ ষ্ যোগ ণ। তৎসম শব্দে ষ-এর পরে ন এলে তা ণ হয়ে যায়; এটাই ণত্ব বিধান। যেমন কৃষ্ণ, উষ্ণ, তৃষ্ণা, তীক্ষ্ণ।
অনেকে ক্ষ দেখে মনে করেন এতে হ আছে, কারণ উচ্চারণে খ-এর মতো শোনায়। কিন্তু লেখার গঠনে ক্ষ মানে ক আর ষ। আবার শেষের ণ-কে ন বা ম ধরলে ভুল হবে; ক্ষ্ম আলাদা যুক্তবর্ণ, যেমন লক্ষ্মী।
মনে রাখুন: ক্ষ্ণ = ক্ + ষ্ + ণ, ক্ষ্ম = ক্ + ষ্ + ম (লক্ষ্মী)।
৬৮. Empty vessels sound much এর সঠিক বঙ্গানুবাদ কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কযত কথা তত কাজ।
- খঅসারের তর্জন গর্জনই সার।
- গমুখে বুলি লম্বা, কাজে অষ্টরম্ভা।
- ঘএক মাঘে শীত যায় না।
সঠিক উত্তর: খ. অসারের তর্জন গর্জনই সার।
Empty vessels sound much মানে খালি পাত্র বেশি শব্দ করে। এটা একটা প্রবাদ: যার ভেতরে সার কম, সে বাইরে বেশি হইচই করে।
বাংলায় এর ভাবানুবাদ হলো অসারের তর্জন গর্জন সার। অসার মানে যার ভেতরে সার বা গুণ নেই; তার শুধু হুমকি আর গর্জনই সম্বল। দুটো প্রবাদের ভাব হুবহু মেলে।
মুখে বুলি লম্বা, কাজে অষ্টরম্ভা কাছাকাছি শোনালেও এর ইংরেজি সমতুল্য Great boast, little roast; এখানে জোর কথা আর কাজের অমিলে। যত কথা তত কাজ বা এক মাঘে শীত যায় না একেবারে ভিন্ন ভাবের প্রবাদ।
মনে রাখুন: Empty, hollow ইত্যাদি শব্দ দেখলে বাংলায় অসার খুঁজুন।
৬৯. এক কথায় প্রকাশ করুন: অক্ষির অভিমুখে- (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কপ্রত্যক্ষ
- খপরোক্ষ
- গসমক্ষ
- ঘচাক্ষুষ
সঠিক উত্তর: ক. প্রত্যক্ষ
অক্ষি মানে চোখ। প্রতি উপসর্গের একটি অর্থ অভিমুখে বা দিকে। তাই অক্ষির অভিমুখে, মানে চোখের সামনে, এই অর্থে প্রতি যোগ অক্ষি থেকে হয় প্রত্যক্ষ। এটা অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
সমাসে অক্ষি হয় অক্ষ, আর সন্ধিতে ই-কারের পরে অন্য স্বর এলে ই হয়ে যায় য-ফলা: প্রতি যোগ অক্ষ, ফলে প্রত্যক্ষ।
পাশের শব্দগুলোও জেনে রাখুন। অক্ষির অগোচরে বা অক্ষির পরে হলো পরোক্ষ। অক্ষির সমীপে হলো সমক্ষ। চক্ষু সম্বন্ধীয় বা চোখে দেখা হলো চাক্ষুষ। সমক্ষ আর প্রত্যক্ষ কাছাকাছি অর্থের বলেই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: অক্ষি দিয়ে চার শব্দ: প্রত্যক্ষ (অভিমুখে), সমক্ষ (সমীপে), পরোক্ষ (অগোচরে), চাক্ষুষ (চোখে দেখা)।
৭০. 'কানে-কলম' কোন সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কউপপদ তৎপুরুষ
- খঅলুক দ্বন্দ্ব
- গপ্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
- ঘঅলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ঘ. অলুক বহুব্রীহি
কানে-কলম মানে কানে কলম যার, অর্থাৎ এমন কেউ যিনি সব সময় কানে কলম গুঁজে রাখেন, যেমন হিসাবরক্ষক বা কেরানি। ব্যাসবাক্যে অন্য পদ বোঝায়, তাই এটা বহুব্রীহি সমাস।
সমাস হওয়ার সময় সাধারণত পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়। কিন্তু এখানে কানে শব্দের এ-বিভক্তি লোপ পায়নি, সমস্তপদেও থেকে গেছে। পূর্বপদের বিভক্তি না হারালে তাকে অলুক বলে, তাই কানে-কলম অলুক বহুব্রীহি।
একই ধরনের উদাহরণ: গায়ে-হলুদ, মাথায়-পাগড়ি, হাতে-খড়ি। অলুক দ্বন্দ্বে দুটি পদই প্রধান থাকে, যেমন দুধে-ভাতে, হাতে-পায়ে; কানে-কলম-এ কান আর কলম কেউ প্রধান নয়, তৃতীয় একজন বোঝায়।
মনে রাখুন: বিভক্তি রয়ে গেলে অলুক; যার বা যে দিয়ে ব্যাসবাক্য হলে বহুব্রীহি।
৭১. সে এখন যাবে না। এই বাক্যে 'না' কোন পদ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কবিশেষণ
- খঅব্যয়
- গক্রিয়া বিশেষণ
- ঘঅনুসর্গ
সঠিক উত্তর: গ. ক্রিয়া বিশেষণ
প্রশ্নটা পদ চেনার। “সে এখন যাবে না” বাক্যে না শব্দটি যাবে ক্রিয়াটিকে নাকচ করছে, অর্থাৎ জানাচ্ছে কাজটি ঘটবে না।
নবম-দশম শ্রেণির বর্তমান পাঠ্য ব্যাকরণে শব্দকে আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে; সেখানে অব্যয় নামে আলাদা শ্রেণি নেই। যে শব্দ ক্রিয়ার সময়, ধরন বা অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানায়, সেটাই ক্রিয়াবিশেষণ। না আর নি ক্রিয়াকে নেতিবাচক করে, তাই এদের বলা হয় নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
একই বাক্যে এখন শব্দটিও ক্রিয়াবিশেষণ, তবে কালবাচক; সে জানায় কাজটা কখন। আর না জানায় কাজটা হবে না। দুটোই যাবে ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
ফাঁদ হলো অব্যয়। পুরোনো ব্যাকরণে না-কে নঞর্থক অব্যয় বলা হতো, তাই অনেকে এটাই বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্নটা ক্রিয়ার সঙ্গে না-এর কাজ দেখতে চাইছে, আর বিকল্পে ক্রিয়াবিশেষণ আছে, তাই বর্তমান ব্যাকরণ অনুযায়ী উত্তর ক্রিয়াবিশেষণ।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার পরে বসে কাজটাকে নাকচ করলে না বা নি হলো নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ; যেমন: আমি খাইনি, সে আসবে না।
৭২. কোনটি বিমূর্ত বিশেষ্য? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কনদী
- খবই
- গসৌন্দর্য
- ঘকাঁঠাল
সঠিক উত্তর: গ. সৌন্দর্য
বিশেষ্য পদের একটি ভাগ ভাববাচক বা বিমূর্ত বিশেষ্য। যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো গুণ, অবস্থা বা ভাব বোঝায়, যাকে দেখা বা ছোঁয়া যায় না, কেবল অনুভব করা যায়, তাকে বিমূর্ত বিশেষ্য বলে।
সৌন্দর্য একটি গুণ। সুন্দর জিনিস দেখা যায়, কিন্তু সৌন্দর্যকে আলাদা করে হাতে ধরা যায় না। তাই সৌন্দর্য বিমূর্ত বিশেষ্য। একই রকম উদাহরণ: সুখ, দুঃখ, সততা, তারুণ্য।
নদী, বই, কাঁঠাল চোখে দেখা ও স্পর্শ করা যায়, তাই এগুলো মূর্ত বা বস্তুবাচক নাম; ব্যাকরণের ভাষায় নদী জাতিবাচক, বই ও কাঁঠাল বস্তু বা জাতিবাচক বিশেষ্য।
মনে রাখুন: মনে মনে প্রশ্ন করুন: এটা কি ব্যাগে ভরা যায়? না গেলে বিমূর্ত। আরও উদাহরণ: সাহস, ভালোবাসা, মধুরতা।
৭৩. শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপ্রত্যয়
- খপদ
- গবিভক্তি
- ঘশব্দ
সঠিক উত্তর: খ. পদ
শব্দ যতক্ষণ একা থাকে, ততক্ষণ সে শুধু শব্দ। কিন্তু বিভক্তি যুক্ত হয়ে বাক্যে বসলে তাকে বলে পদ। যেমন “মা” একটি শব্দ, আর “মাকে ডাকো” বাক্যে “মাকে” একটি পদ।
বাংলায় পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, অব্যয় ও ক্রিয়া। বাক্যে বসার আগে কোনো শব্দ কোন পদ, তা পুরোপুরি ঠিক হয় না; বাক্যে তার ভূমিকাই পদ নির্ধারণ করে।
প্রত্যয় আর বিভক্তি হলো শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অংশ। প্রত্যয় নতুন শব্দ তৈরি করে, বিভক্তি শব্দকে বাক্যে ব্যবহারের যোগ্য করে। এগুলো পদ গঠনের উপকরণ, পদ নিজে নয়।
মনে রাখুন: বিভক্তিযুক্ত শব্দই পদ: “বিভক্তিহীন শব্দ বাক্যে বসে না।”
৭৪. বিশেষণ পদ এর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কচলন্ত
- খখেলোয়াড়
- গপানসে
- ঘলিখিত
সঠিক উত্তর: ক. চলন্ত
কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে, আর তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় শব্দের সঙ্গে। প্রশ্নটি চাইছে এমন শব্দ, যা ধাতুর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়ে বিশেষণ পদ হয়েছে।
চলন্ত শব্দটি গঠিত চল্ ধাতুর সঙ্গে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় অন্ত যোগে। অন্ত প্রত্যয় চলমান অবস্থা বোঝানো বিশেষণ তৈরি করে, যেমন চলন্ত গাড়ি, ফুটন্ত পানি, জীবন্ত মাছ, ঘুমন্ত শিশু।
খেলোয়াড় আর পানসে শব্দ দুটো তৈরি হয়েছে শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগে, ধাতুর সঙ্গে নয়: খেলা যোগ ওয়াড়, পানি যোগ সে। তাই এগুলো তদ্ধিত প্রত্যয়।
লিখিত শব্দটিও লিখ্ ধাতুর সঙ্গে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ক্ত যোগে গঠিত বিশেষণ, তাই এটিও যুক্তিসংগত বিকল্প। পরীক্ষার কি অনুযায়ী বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে চলন্ত ধরা হয়েছে।
মনে রাখুন: অন্ত দিয়ে শেষ হওয়া বিশেষণ, যেমন ফুটন্ত, ডুবন্ত, উড়ন্ত, প্রায় সবসময় ধাতু + অন্ত কৃৎ প্রত্যয়।
৭৫. নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয় এর উদাহরণ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কনৈষ্ঠিক
- খশৈশব
- গসাহিত্যিক
- ঘঢাকাই
সঠিক উত্তর: ক. নৈষ্ঠিক
নিপাতনে সিদ্ধ মানে যে শব্দ ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম মেনে তৈরি হয়নি, কিন্তু প্রচলনের জোরে শুদ্ধ বলে গৃহীত। সন্ধি, সমাস, প্রত্যয় সব ক্ষেত্রেই এমন ব্যতিক্রম আছে।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় ষ্ণিক বা ষ্ণ যোগ হলে সাধারণত শব্দের প্রথম স্বরের বৃদ্ধি হয়: ই বা এ হয় ঐ, উ হয় ঔ, অ হয় আ। যেমন ধর্ম থেকে ধার্মিক, শিশু থেকে শৈশব।
পরীক্ষার কি অনুযায়ী নিষ্ঠা থেকে গঠিত নৈষ্ঠিক শব্দটিকে নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ ধরা হয়েছে। সাহিত্যিক সাহিত্য যোগ ষ্ণিক, শৈশব শিশু যোগ ষ্ণ, আর ঢাকাই ঢাকা যোগ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় আই; এগুলো সাধারণ নিয়মের উদাহরণ হিসেবে পড়ানো হয়।
এ ধরনের প্রশ্নে বিভিন্ন ব্যাকরণ বইয়ে উদাহরণ আলাদা হতে পারে, তাই প্রচলিত তালিকার শব্দগুলো আলাদা করে মুখস্থ রাখা নিরাপদ।
মনে রাখুন: নিপাতনে সিদ্ধের প্রশ্নে অপশনের প্রতিটি শব্দ ভেঙে দেখুন; যে ভাঙন সাধারণ নিয়মে মেলে, সেটি বাদ।
৭৬. 'চর্যাপদ' মূলত কোন ভাষার আদলে রচিত? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপ্রাকৃত
- খপালি
- গঅপভ্রংশ
- ঘসংস্কৃত
সঠিক উত্তর: গ. অপভ্রংশ
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে রচিত মোটামুটি দশম থেকে দ্বাদশ শতকে (মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে সপ্তম শতক থেকে)। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
এর ভাষা প্রাচীন বাংলা, তবে তখনো বাংলা অপভ্রংশ থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়ে ওঠেনি। তাই চর্যার ভাষায় অপভ্রংশ বা অবহট্টের ছাপ স্পষ্ট; অনেক পণ্ডিত এতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাবও দেখিয়েছেন। এ কারণেই বলা হয়, চর্যাপদ অপভ্রংশের আদলে রচিত।
ভাষার বিবর্তনের ধারা মনে রাখুন: প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ, অপভ্রংশ থেকে বাংলা। চর্যাপদ ঠিক অপভ্রংশ আর বাংলার সীমানায় দাঁড়িয়ে।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এর ভাষাকে বলেছেন সন্ধ্যাভাষা, মানে আলো-আঁধারির ভাষা, যার অর্থ কিছু বোঝা যায়, কিছু যায় না। প্রাকৃত চর্যার এক ধাপ আগের ভাষা, তাই প্রাকৃত বেছে নেওয়া ফাঁদ।
মনে রাখুন: ক্রম মনে রাখুন: সংস্কৃত, প্রাকৃত, অপভ্রংশ, বাংলা। চর্যাপদ বাংলার প্রথম ধাপ, তাই তার ঠিক আগের স্তর অপভ্রংশের ছাপ বেশি।
৭৭. 'কাজ' শব্দটি কোন পদ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কক্রিয়া
- খবিশেষ্য
- গসর্বনাম
- ঘবিশেষণ
সঠিক উত্তর: খ. বিশেষ্য
কাজ শব্দটি একটি কর্মের নাম বোঝায়, তাই এটি বিশেষ্য পদ। নির্দিষ্টভাবে এটি ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য, কারণ এতে কোনো কাজের ভাব প্রকাশ পায়।
কাজ নিজে ক্রিয়া নয়। ক্রিয়া হতে হলে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী রূপ বদলাতে হয়, যেমন করি, করছে, করবে। “কাজ করা” বললে করা হলো ক্রিয়া, কাজ তার কর্ম।
প্রশ্নের ফাঁদ হলো কাজ শব্দের অর্থ ক্রিয়ার কাছাকাছি হওয়ায় অনেকে ক্রিয়া বেছে নেন। একই রকম শব্দ: ভোজন, গমন, দর্শন, পড়াশোনা; এগুলোও কাজের নাম, তাই বিশেষ্য।
মনে রাখুন: যে শব্দ “করা” ক্রিয়ার কর্ম হতে পারে (কাজ করা, ভোজন করা, গমন করা) সেটি সাধারণত ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
৭৮. 'দ্রুত' শব্দটি কোন পদ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবিশেষ্য
- খক্রিয়া বিশেষণ
- গবিশেষণ
- ঘঅব্যয়
সঠিক উত্তর: খ. ক্রিয়া বিশেষণ
দ্রুত শব্দটি গতি বা তাড়াতাড়ি হওয়ার ভাব বোঝায়। বাক্যে যখন এটি ক্রিয়ার ধরন বোঝায়, যেমন “সে দ্রুত হাঁটে”, তখন এটি ক্রিয়া বিশেষণ।
ক্রিয়া বিশেষণ ক্রিয়া কীভাবে, কখন বা কোথায় ঘটছে তা বলে। এখানে হাঁটা কীভাবে, উত্তর দ্রুত; তাই এটি ভাববাচক বা রীতিবাচক ক্রিয়া বিশেষণ।
তবে বিশেষ্যের আগে বসলে, যেমন “দ্রুত গাড়ি” বা “দ্রুত গতি”, শব্দটি নাম বিশেষণ হিসেবে কাজ করে। পরীক্ষার কি অনুযায়ী এর প্রধান প্রয়োগ ক্রিয়া বিশেষণ ধরা হয়েছে।
বিশেষ্য বা অব্যয় বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; দ্রুত কোনো নাম নয়, আর এটি বাক্যে অপরিবর্তনীয় সংযোজক শব্দও নয়।
মনে রাখুন: ক্রিয়াকে “কীভাবে?” প্রশ্ন করুন; উত্তরে যে শব্দ আসে, সেটি ক্রিয়া বিশেষণ: ধীরে, জোরে, দ্রুত।
৭৯. 'প্রভাতচিন্তা' কার রচিত গ্রন্থ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খপ্যারীচাঁদ মিত্র
- গকালীপ্রসন্ন ঘোষ
- ঘশিবনাথ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর: গ. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
প্রভাতচিন্তা কালীপ্রসন্ন ঘোষের প্রবন্ধগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৮৭৭ সালে। তিনি উনিশ শতকের ঢাকাকেন্দ্রিক বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক; জন্ম বিক্রমপুরে।
তাঁর “চিন্তা” নামের তিনটি বই একসঙ্গে মনে রাখুন: প্রভাতচিন্তা, নিভৃতচিন্তা আর নিশীথচিন্তা। তিনি ঢাকা থেকে “বান্ধব” নামে মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধগ্রন্থ লোকরহস্য, কমলাকান্তের দপ্তর; প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত বই আলালের ঘরের দুলাল; শিবনাথ শাস্ত্রীর বিখ্যাত বই রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।
মনে রাখুন: নামের শেষে “চিন্তা”: প্রভাত, নিভৃত, নিশীথ; তিনটিই কালীপ্রসন্ন ঘোষের।
৮০. 'সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে' কার লেখা? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কআবুল হাসান
- খআবুল হোসেন
- গরফিক আজাদ
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: গ. রফিক আজাদ
“সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে” রফিক আজাদের কাব্যগ্রন্থ। তিনি ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা।
রফিক আজাদের পরিচিত কাব্যগ্রন্থ: অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি। দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা তাঁর কবিতা “ভাত দে হারামজাদা” খুব বিখ্যাত।
আবুল হাসান আর আবুল হোসেন নাম দুটো কাছাকাছি হওয়ায় ফাঁদ তৈরি হয়। আবুল হাসানের বই রাজা যায় রাজা আসে, পৃথক পালঙ্ক; আবুল হোসেনের বই নববসন্ত; শামসুর রাহমানের বই প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, বন্দী শিবির থেকে।
মনে রাখুন: রফিক আজাদের বইয়ের নামে প্রায়ই অনুপ্রাস: সীমাবদ্ধ-সীমিত, চুনিয়া-আর্কেডিয়া।