বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২
২১. ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কইছামতি
- খঅশনি সংকেত
- গআরণ্যক
- ঘবিষাদসিন্ধু
সঠিক উত্তর: খ. অশনি সংকেত
প্রশ্নটি ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা উপন্যাস খুঁজতে বলেছে। ১৩৫০ বঙ্গাব্দ মানে ১৯৪৩ সাল, যাকে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অশনি সংকেত এই দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা। গ্রামবাংলায় ধীরে ধীরে নেমে আসা অভাব আর মানুষের অসহায়তা এর বিষয়। সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাস নিয়ে একই নামে চলচ্চিত্র বানিয়েছেন।
ইছামতী ও আরণ্যকও বিভূতিভূষণের উপন্যাস, কিন্তু বিষয় আলাদা। ইছামতীতে নীলকুঠির আমলের নদীতীরের জীবন, আর আরণ্যকে বিহারের অরণ্যজীবন। বিষাদ সিন্ধু মীর মশাররফ হোসেনের, কারবালার কাহিনি।
ফাঁদ হলো একই লেখকের তিনটি উপন্যাস রাখা। লেখক চিনলেই হবে না, বিষয় মেলাতে হবে: দুর্ভিক্ষ মানেই অশনি সংকেত।
মনে রাখুন: বঙ্গাব্দকে সালে নিতে ৫৯৩ যোগ করুন: ১৩৫০ যোগ ৫৯৩ সমান ১৯৪৩, পঞ্চাশের মন্বন্তর।
২২. 'আকাশ ও পৃথিবীর অন্তরাল'-এক কথায় প্রকাশ করলে সঠিক উত্তর কী হবে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কস্ফুলিঙ্গ
- খরোদসী
- গপীতাভ
- ঘআরক্ত
সঠিক উত্তর: খ. রোদসী
প্রশ্নটি এক কথায় প্রকাশ চেয়েছে। আকাশ ও পৃথিবীর অন্তরাল, মানে মাঝের স্থান, এক কথায় রোদসী। একই অর্থে ক্রন্দসী শব্দও ব্যবহার হয়।
শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, আর সাহিত্যে আকাশ ও পৃথিবী মিলিয়ে যে বিস্তার, তা বোঝাতে কবিরা রোদসী ব্যবহার করেন।
বাকি শব্দগুলোর অর্থ মিলিয়ে দেখুন: স্ফুলিঙ্গ মানে আগুনের ফুলকি, পীতাভ মানে হলুদ আভাযুক্ত, আর আরক্ত মানে ঈষৎ লাল।
ফাঁদ হলো অচেনা শব্দের ভিড়ে আন্দাজে উত্তর দেওয়া। চেনা অর্থগুলো বাদ দিলে রোদসীই একমাত্র শব্দ, যার সঙ্গে আকাশ পৃথিবীর সম্পর্ক আছে।
মনে রাখুন: আকাশ পৃথিবীর মাঝখান দুই নামে আসে: রোদসী ও ক্রন্দসী।
২৩. কোন্ কবি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কআল মাহমুদ
- খহেলাল হাফিজ
- গনির্মলেন্দু গুণ
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: ঘ. শামসুর রাহমান
প্রশ্নটি মজলুম আদিব ছদ্মনামের কবিকে চিনতে বলেছে। মজলুম আদিব মানে নির্যাতিত লেখক। এই নামে লিখতেন শামসুর রাহমান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ দেশ থেকে নিজের নাম লুকিয়ে তিনি কলকাতার দেশ পত্রিকায় মজলুম আদিব নামে কবিতা পাঠাতেন। পত্রিকার কলামে তিনি সিন্দবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, জনান্তিকে ইত্যাদি ছদ্মনামেও লিখেছেন।
শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়। তাঁর প্রথম কাব্য প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, আর বিখ্যাত কবিতা স্বাধীনতা তুমি ও তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা।
ফাঁদ হলো আল মাহমুদ বা নির্মলেন্দু গুণ, কারণ তাঁরাও সমকালের প্রধান কবি এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু মজলুম আদিব ছদ্মনামটি শুধু শামসুর রাহমানের।
মনে রাখুন: নির্যাতিত লেখক মানে মজলুম আদিব, আর এই নামে লিখেছেন নাগরিক কবি শামসুর রাহমান।
২৪. 'বেতার, বিপত্নীক'-শব্দ দুটি কোন্ সমাসের উদাহরণ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কনঞ তৎপুরুষ, বহুব্রীহি
- খকর্মধারয়, বহুব্রীহি
- গঅব্যয়ীভাব, তৎপুরুষ
- ঘতৃতীয়া তৎপুরুষ, দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর: ক. নঞ তৎপুরুষ, বহুব্রীহি
প্রশ্নটি দুটি সমস্তপদের সমাস একসঙ্গে জানতে চেয়েছে, আর পরীক্ষার উত্তর নঞ্ তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি। দুটি শব্দ আলাদা করে দেখলে উত্তরে পৌঁছানো সহজ।
বিপত্নীক মানে বিগত পত্নী যার, অর্থাৎ যাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। সমস্তপদটি পত্নী বা বিগত কাউকেই বোঝায় না, বোঝায় তৃতীয় একজন মানুষকে; তাই এটি বহুব্রীহি। এতে বিকল্প নেমে আসে দুটিতে, যেখানে দ্বিতীয় অংশ বহুব্রীহি।
বেতার শব্দের শুরুতে বে, যা না বোধক অর্থ দেয়, মানে তার নেই। না বোধক শব্দ দিয়ে গঠিত সমাস নঞ্ সমাস, তাই এখানে কর্মধারয় খাটে না। এ কারণে প্রশ্নকর্তা নঞ্ তৎপুরুষ ধরেছেন।
তবে সূক্ষ্ম বিচারে বেতারের ব্যাসবাক্য নেই তার যাতে, আর এটি বোঝায় একটি যন্ত্রকে; এমন হলে ব্যাকরণ বইয়ে একে নঞ্ বহুব্রীহি বলা হয়। তাই উত্তরটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়, তবে বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে কাছের।
মনে রাখুন: জোড়া সমাসের প্রশ্নে যে শব্দটি নিশ্চিত, সেটি দিয়ে আগে বিকল্প ছাঁটুন; বিপত্নীক বহুব্রীহি হওয়ায় দুটো বিকল্প এক ধাক্কায় বাদ।
২৫. কোন্ বাক্যে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কসে বই পড়ছে।
- খসে গভীর চিন্তায় মগ্ন।
- গআজ এমন ঘুম ঘুমিয়েছি!
- ঘসে খেলা করছে।
সঠিক উত্তর: গ. আজ এমন ঘুম ঘুমিয়েছি!
প্রশ্নটি সমধাতুজ কর্ম চিনতে বলেছে। বাক্যের ক্রিয়া যে ধাতু থেকে এসেছে, কর্মটিও সেই একই ধাতু থেকে এলে সেই কর্মকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
আজ এমন ঘুম ঘুমিয়েছি, এই বাক্যে ক্রিয়া ঘুমিয়েছি, আর কর্ম ঘুম; দুটোই ঘুম থেকে এসেছে। তাই ঘুম এখানে সমধাতুজ কর্ম। এমন কর্মের সঙ্গে প্রায়ই বিশেষণ থাকে, যেমন এমন, বেশ, কী।
আরও উদাহরণ: সে কী মার মারল, খুব এক চোট হাসি হাসল, কী গান গাইলে।
ফাঁদ হলো সে খেলা করছে। খেলা এখানে কর্ম ঠিকই, কিন্তু ক্রিয়া করছে, যা কর ধাতু থেকে; খেলা আর কর আলাদা ধাতু। সে খেলা খেলছে বললে তবেই সমধাতুজ কর্ম হতো।
মনে রাখুন: কর্ম আর ক্রিয়া শুনতে একই রকম হলে সমধাতুজ: ঘুম ঘুমানো, মার মারা, হাসি হাসা, গান গাওয়া।
২৬. মৈয়মনসিংহ গীতিকা কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক২৩টি
- খ২০টি
- গ২২টি
- ঘ২৫টি
সঠিক উত্তর: ক. ২৩টি
প্রশ্নটি মৈমনসিংহ গীতিকা কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে। প্রশ্নে নামটি মৈয়মনসিংহ লেখা, প্রচলিত বানান মৈমনসিংহ। প্রচলিত তথ্য হলো, এটি বিশ্বের ২৩টি ভাষায় অনূদিত বা মুদ্রিত হয়েছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের পূর্ব অংশ, এখনকার নেত্রকোনা আর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে লোকমুখে প্রচলিত পালাগানগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। ড. দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা নামে প্রকাশ করেন।
এর প্রথম খণ্ডে দশটি পালা আছে। বিখ্যাত পালার মধ্যে মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, দেওয়ানা মদিনা অন্যতম।
ফাঁদ হলো ২২ বা ২৫ এর মতো কাছাকাছি সংখ্যা। সংখ্যাটি মনে রাখার উপায়: গীতিকা প্রকাশের বছর ১৯২৩, আর অনূদিত ভাষাও ২৩টি।
মনে রাখুন: মৈমনসিংহ গীতিকা: ১৯২৩ সালে প্রকাশ, ২৩টি ভাষায় অনুবাদ; দুই তেইশ একসঙ্গে মনে রাখুন।
২৭. আধুনিক বাংলা নাটক মূলত কয়টি পর্বে বিভক্ত? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক৬টি
- খ৪টি
- গ৫টি
- ঘ৭টি
সঠিক উত্তর: গ. ৫টি
প্রশ্নটি আধুনিক বাংলা নাটকের ইতিহাসকে কয়টি পর্বে ভাগ করা হয়, তা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত গাইড উত্তর অনুযায়ী এই বিকাশ মূলত পাঁচটি পর্বে ভাগ করা হয়।
পর্ব ভাগের ভিত্তি হলো নাটকের ইতিহাসের কয়েকটি বড় মোড়। যেমন, আঠারো শতকের শেষে গেরাসিম লেবেদেফের উদ্যোগে কলকাতায় প্রথম বাংলা নাটক মঞ্চায়ন, তারাচরণ শিকদারের ভদ্রার্জুন দিয়ে মৌলিক নাটকের শুরু, মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা দিয়ে শিল্পসম্মত নাটকের সূচনা, আর দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণের মতো সমাজসচেতন নাটক।
পর্বগুলোর নাম আর সীমারেখা নিয়ে লেখকভেদে মত আলাদা, তাই পর্বের নাম মুখস্থ না করে সংখ্যাটি আর ওপরের মাইলফলকগুলো মনে রাখাই নিরাপদ।
ফাঁদ হলো ৪টি, কারণ কোনো কোনো আলোচনায় পর্ব কম ধরেও দেখানো হয়। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর ৫টি।
মনে রাখুন: আধুনিক বাংলা নাটক: প্রচলিত উত্তর পাঁচ পর্ব; মাইলফলক লেবেদেফ, ভদ্রার্জুন, শর্মিষ্ঠা, নীলদর্পণ।
২৮. 'প্রাচ্য' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কপ্রতীচ্য
- খপ্রাচ্যহীন
- গঅপ্রাচ্য
- ঘনবীন
সঠিক উত্তর: ক. প্রতীচ্য
প্রশ্নটি প্রাচ্য শব্দের বিপরীত শব্দ চেয়েছে। প্রাচ্য মানে পূর্বদেশীয়, আর এর বিপরীত প্রতীচ্য, মানে পশ্চিমদেশীয় বা পাশ্চাত্য।
দুটি শব্দই সংস্কৃত থেকে এসেছে: প্রাচী মানে পূর্ব দিক, আর প্রতীচী মানে পশ্চিম দিক। তাই প্রাচ্য আর প্রতীচ্য একজোড়া বিপরীত শব্দ, যেমন প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মিলন।
বিপরীত শব্দ তৈরির একটি পথ হলো অ বা হীন যোগ করা, কিন্তু সব শব্দে তা খাটে না। দিকের নাম বোঝানো শব্দের বিপরীত হয় উল্টো দিকের নাম দিয়ে।
ফাঁদ হলো অপ্রাচ্য, কারণ অ যোগ করে বিপরীত বানানোর অভ্যাস। অপ্রাচ্য বা প্রাচ্যহীন প্রমিত শব্দ নয়।
মনে রাখুন: দিকের শব্দের বিপরীত উল্টো দিক দিয়ে: প্রাচ্য প্রতীচ্য, উদীচী অবাচী, পূর্ব পশ্চিম।
২৯. পুঁথি সাহিত্যে প্রাচীনতম লেখক কে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কভারত চন্দ্র রায়
- খকাজী দৌলত
- গআবদুল হাকিম
- ঘফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর: ঘ. ফকির গরীবুল্লাহ
প্রশ্নটি পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক জানতে চেয়েছে। দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের প্রথম ও প্রাচীনতম সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ, আঠারো শতকের কবি।
পুঁথি সাহিত্যের ভাষা আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি শব্দে মেশানো, তাই একে দোভাষী পুঁথি বলে। গরীবুল্লাহর রচনা আমীর হামজার প্রথম অংশ, জঙ্গনামা, ইউসুফ জোলেখা, সোনাভান ও সত্যপীরের পুঁথি। তাঁর পরে এই ধারার প্রধান কবি সৈয়দ হামজা।
বাকি তিনজন অন্য ধারার কবি। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মঙ্গলকাব্যের কবি, অন্নদামঙ্গলের রচয়িতা। কাজী দৌলত আরাকান রাজসভার কবি, সতীময়না ও লোরচন্দ্রানীর রচয়িতা। আবদুল হাকিম নূরনামার কবি, মধ্যযুগের।
ফাঁদ হলো কাজী দৌলত আর আবদুল হাকিম, কারণ তাঁরা মুসলমান কবি এবং সময়ে গরীবুল্লাহর চেয়ে প্রাচীন। কিন্তু তাঁরা পুঁথি সাহিত্যের কবি নন; প্রশ্ন জানতে চেয়েছে পুঁথি ধারার প্রাচীনতম কবি।
মনে রাখুন: পুঁথির দুই নাম মনে রাখুন: প্রথম গরীবুল্লাহ, পরে সৈয়দ হামজা।
৩০. কোন্ বানানটি শুদ্ধ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কনিশিথিনি
- খকথোপকথন
- গপিপিলিকা
- ঘসমিচিন
সঠিক উত্তর: খ. কথোপকথন
প্রশ্নটি শুদ্ধ বানান চেয়েছে। চারটি শব্দই তৎসম, তাই ই কার না ঈ কার, সেটা সংস্কৃত মূল দেখে ঠিক হয়।
কথোপকথন শুদ্ধ। এটি সন্ধিজাত শব্দ: কথা আর উপকথন, আ আর উ মিলে হয় ও। একই নিয়মে মহা আর উৎসব মিলে মহোৎসব।
বাকি তিনটিতে দীর্ঘ ঈ কার বাদ পড়েছে। শুদ্ধ রূপ নিশীথিনী, পিপীলিকা আর সমীচীন। নিশীথিনী এসেছে নিশীথ থেকে, আর স্ত্রীবাচক ইনী প্রত্যয়েও শেষে দীর্ঘ ঈ। পিপীলিকা আর সমীচীন শব্দে দ্বিতীয় অক্ষরে দীর্ঘ ঈ।
ফাঁদ হলো তিনটি ভুল বানানই শুনতে স্বাভাবিক লাগে, কারণ উচ্চারণে হ্রস্ব দীর্ঘের পার্থক্য বোঝা যায় না। তৎসম শব্দে মূল শব্দটা মনে রাখাই উপায়।
মনে রাখুন: নিশীথিনী, পিপীলিকা, সমীচীন: তিনটিতেই দ্বিতীয় অক্ষরে দীর্ঘ ঈ।
৩১. কোন্ গুচ্ছের সবগুলো বানানই শুদ্ধ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কসারথী, নিরীহ, নীরোগ
- খপ্রমান, অঙ্গন, দর্পণ
- গঅনাথা, সুকণ্ঠী, অনুস্টেয়
- ঘএকত্রিত, স্থায়িত্ব, অর্ধাঙ্গিনী
সঠিক উত্তর: ঘ. একত্রিত, স্থায়িত্ব, অর্ধাঙ্গিনী
প্রশ্নটি এমন গুচ্ছ খুঁজতে বলেছে, যার তিনটি বানানই শুদ্ধ। এ ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি গুচ্ছে একটি ভুল খুঁজে পেলেই সেটি বাদ দেওয়া যায়।
প্রথম গুচ্ছে সারথী ভুল, শুদ্ধ রূপ সারথি, হ্রস্ব ই কার। দ্বিতীয় গুচ্ছে প্রমান ভুল, শুদ্ধ প্রমাণ; ণত্ব বিধান অনুযায়ী র এর পরে স্বর আর প বর্গের বর্ণ ব্যবধানে থাকলেও ন হয় ণ। তৃতীয় গুচ্ছে অনুস্টেয় ভুল, শুদ্ধ অনুষ্ঠেয়; ষত্ব বিধান অনুযায়ী ষ এর সঙ্গে যুক্ত হয় ট বর্গের বর্ণ, তাই ষ্ঠ।
শেষ গুচ্ছে স্থায়িত্ব শুদ্ধ: ঈ কারান্ত শব্দের সঙ্গে ত্ব প্রত্যয় যুক্ত হলে ঈ কার হ্রস্ব ই হয়, যেমন স্থায়ী থেকে স্থায়িত্ব, মন্ত্রী থেকে মন্ত্রিত্ব। একত্রিত আর অর্ধাঙ্গিনী নিয়ে কড়া ব্যাকরণে আপত্তি আছে, কারণ শুদ্ধতাবাদীরা একত্র বা একত্রীকৃত এবং অর্ধাঙ্গী লেখার পক্ষে। তবে শব্দ দুটি ব্যবহারে বহুল প্রচলিত, আর অন্য তিন গুচ্ছে স্পষ্ট ভুল থাকায় এই গুচ্ছটিকেই উত্তর ধরা হয়েছে।
ফাঁদ হলো প্রথম গুচ্ছ, কারণ নিরীহ ও নীরোগ দুটিই শুদ্ধ, আর সারথীর দীর্ঘ ঈ চোখে সহজে ধরা পড়ে না।
মনে রাখুন: গুচ্ছের প্রশ্নে প্রতিটি গুচ্ছে একটি ভুল খুঁজুন; যে গুচ্ছে স্পষ্ট ভুল নেই, সেটিই উত্তর।
৩২. কোনটি অপিনিহিতর উদাহরণ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কইস্কুল
- খধপাধপ
- গগেলাস
- ঘআইজ
সঠিক উত্তর: ঘ. আইজ
অপিনিহিতি হলো এমন ধ্বনি-পরিবর্তন, যেখানে শব্দের পরের দিকের ই বা উ আগেভাগেই উচ্চারিত হয়ে যায়। ফলে ই বা উ ধ্বনিটি নিজের জায়গার আগে, পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের আগে বসে পড়ে।
আজি শব্দে জ-এর পরে ই আছে। আঞ্চলিক উচ্চারণে সেই ই আগে চলে আসে, ফলে আজি হয়ে যায় আইজ। একইভাবে সাধু থেকে সাউধ, রাখিয়া থেকে রাইখ্যা, চারি থেকে চাইর।
অপিনিহিতি মূলত পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক ভাষার বৈশিষ্ট্য। আর এর পরের ধাপ হলো অভিশ্রুতি, যেখানে সরে আসা ধ্বনি পাশের স্বরকে বদলে দিয়ে চলিত রূপ দেয়, যেমন রাইখ্যা থেকে রেখে।
বাকি বিকল্পগুলো অন্য নিয়মের: ইস্কুল আদি স্বরাগম, গেলাস মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ। এগুলোতে নতুন স্বর যোগ হয়েছে, পরের স্বর আগে সরে আসেনি।
মনে রাখুন: শব্দে ই বা উ পিছন থেকে সামনে চলে এলে অপিনিহিতি; নতুন স্বর যোগ হলে স্বরাগম। আইজ, সাউধ, চাইর, কাইল সব অপিনিহিতি।
৩৩. 'মৃগশিশু' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কমৃগের শিশু
- খশিশুরূপ মৃগ
- গমৃগীর শিশু
- ঘমৃগ যে শিশু
সঠিক উত্তর: গ. মৃগীর শিশু
মৃগশিশু মানে হরিণের বাচ্চা। এখানে পূর্বপদ আর পরপদের সম্পর্ক সম্বন্ধের, অর্থাৎ কার শিশু। এমন সমাসে পূর্বপদের র বা এর বিভক্তি লোপ পায়, তাই এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
প্রশ্নটা সূক্ষ্ম জায়গায় হাত দিয়েছে: শিশুর সম্পর্ক তার মায়ের সঙ্গে। তাই প্রচলিত ব্যাকরণ ও পরীক্ষার উত্তরে ব্যাসবাক্য ধরা হয় মৃগীর শিশু, অর্থাৎ হরিণীর শিশু। সমস্তপদে স্ত্রীবাচক মৃগী সংক্ষিপ্ত হয়ে মৃগ রূপে বসে।
একই রকম ষষ্ঠী তৎপুরুষ: রাজপুত্র মানে রাজার পুত্র, বিদ্যালয় মানে বিদ্যার আলয়, গঙ্গাজল মানে গঙ্গার জল।
শিশুরূপ মৃগ আর মৃগ যে শিশু কর্মধারয়ের ধাঁচে লেখা, কিন্তু মৃগশিশু অর্থে হরিণ আর শিশু একই জিনিস নয়, তাই এগুলো বাদ। মৃগের শিশু রূপটিও শুনতে স্বাভাবিক, তাই এটি মূল ফাঁদ।
মনে রাখুন: ষষ্ঠী তৎপুরুষে কার জিনিস জিজ্ঞেস করুন; মৃগশিশুতে শিশু মায়ের, তাই মৃগীর শিশু।
৩৪. বাংলা বর্ণমালায় অর্ধ-মাত্রাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ কতটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- ক১০
- খ৮
- গ৭
- ঘ৯
সঠিক উত্তর: গ. ৭
বাংলা বর্ণমালার ৫০টি বর্ণকে মাত্রা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা আর মাত্রাহীন। মাত্রা হলো বর্ণের মাথার উপরের আনুভূমিক রেখা।
অর্ধমাত্রার বর্ণ মোট ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ মাত্র একটি, ঋ। বাকি ৭টি ব্যঞ্জনবর্ণ: খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ। প্রশ্ন শুধু ব্যঞ্জনবর্ণ জানতে চেয়েছে, তাই উত্তর ৭।
মাত্রাহীন বর্ণ মোট ১০টি: স্বরবর্ণে এ, ঐ, ও, ঔ এই ৪টি, আর ব্যঞ্জনবর্ণে ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ এই ৬টি। বাকি ৩২টি পূর্ণমাত্রার।
ফাঁদ হলো ৮: এটা অর্ধমাত্রার মোট সংখ্যা, ঋ-সহ। আর ১০ হলো মাত্রাহীন বর্ণের মোট সংখ্যা। প্রশ্নে ব্যঞ্জনবর্ণ শব্দটি খেয়াল করলেই এই ভুল এড়ানো যায়।
মনে রাখুন: অর্ধমাত্রার ব্যঞ্জন মুখস্থ করতে বাক্য বানান: “খগ ণথধ পশ”।
৩৫. যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ- (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কসন্দেশ
- খগবাক্ষ
- গদৌহিত্র
- ঘরাজপুত
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজপুত
অর্থ অনুযায়ী শব্দ তিন রকম: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। যৌগিক শব্দে গঠন থেকে যে অর্থ আসে, সেটাই আসল অর্থ। রূঢ়ি শব্দে গঠনের অর্থের সঙ্গে আসল অর্থের মিল নেই। আর যোগরূঢ় শব্দে গঠনের অর্থ থাকে, কিন্তু সেটা একটি বিশেষ অর্থে সীমিত হয়ে যায়।
রাজপুত গঠনে মানে রাজার পুত্র, কিন্তু শব্দটি দিয়ে যেকোনো রাজার ছেলে বোঝায় না; বোঝায় ভারতের একটি বিশেষ জাতিগোষ্ঠী। গঠনের অর্থ আছে, তবে বিশেষ অর্থে আটকে গেছে, তাই এটি যোগরূঢ়।
একই রকম উদাহরণ: পঙ্কজ মানে পাঁকে জন্মে যা, কিন্তু বোঝায় শুধু পদ্ম; জলধি মানে জল ধারণ করে যা, কিন্তু বোঝায় শুধু সমুদ্র।
সন্দেশ আর গবাক্ষ রূঢ়ি: সন্দেশের গঠনগত অর্থ সংবাদ, অথচ বোঝায় মিষ্টি; গবাক্ষের গঠনগত অর্থ গরুর চোখ, অথচ বোঝায় জানালা। দৌহিত্র যৌগিক, কারণ মেয়ের ছেলে অর্থটাই আসল অর্থ।
মনে রাখুন: গঠনের অর্থ পুরো মিললে যৌগিক, একদম না মিললে রূঢ়ি, মিলে কিন্তু সরু হয়ে গেলে যোগরূঢ়: পঙ্কজ, জলধি, রাজপুত, মহাযাত্রা।
৩৬. কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কপ্রতিপক্ষ
- খপ্রতিদ্বন্দ্বী
- গপ্রতিবিম্ব
- ঘপ্রতিবাদ
সঠিক উত্তর: গ. প্রতিবিম্ব
প্রশ্নটা প্রতি উপসর্গের অর্থ নিয়ে। একই উপসর্গ ভিন্ন শব্দে ভিন্ন অর্থ দিতে পারে; এখানে খুঁজতে হবে কোন শব্দে প্রতি অন্য তিনটির থেকে আলাদা অর্থে বসেছে।
প্রতিপক্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী আর প্রতিবাদ, তিনটিতেই প্রতি মানে বিপরীত বা বিরুদ্ধ। প্রতিপক্ষ মানে বিরুদ্ধ পক্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী মানে বিরুদ্ধে লড়ে যে, প্রতিবাদ মানে বিরুদ্ধ বক্তব্য।
প্রতিবিম্বে প্রতি মানে সদৃশ বা অনুরূপ: বিম্বের মতো আরেকটি বিম্ব, অর্থাৎ ছায়া বা প্রতিচ্ছবি। একই অর্থে প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি, প্রতিচ্ছবি।
প্রতি উপসর্গের আরও অর্থ আছে: প্রতিদিন শব্দে প্রতি মানে প্রত্যেক, আর প্রতিদান বা প্রত্যুত্তর শব্দে মানে বিনিময়ে বা পাল্টা।
মনে রাখুন: প্রতি-যুক্ত শব্দ থেকে প্রতি বাদ দিয়ে মূল শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক ভাবুন: বিরোধ না মিল, না প্রত্যেক।
৩৭. কোনটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কনিক্কন
- খদিশারী
- গনভোচর
- ঘদুর্গ
সঠিক উত্তর: ঘ. দুর্গ
চারটি বানানের মধ্যে শুধু দুর্গ শুদ্ধ। দুর্গ তৎসম শব্দ, অর্থ কেল্লা; দুর্ উপসর্গের সঙ্গে গম্ ধাতু থেকে এর উৎপত্তি, রেফ বসে গ-এর উপরে।
নিক্কন ভুল, শুদ্ধ নিক্বণ। নি উপসর্গের সঙ্গে ক্বণ ধাতু, অর্থ অলংকারের শব্দ; তাই ক-এর সঙ্গে ব-ফলা, দুটি ক নয়। আর ণত্ব বিধান মেনে মূর্ধন্য ণ।
নভোচর ভুল, শুদ্ধ নভশ্চর। নভঃ শব্দের বিসর্গের পরে চ থাকায় বিসর্গ শ্ হয়ে যায়, যেমন নিঃ আর চয় মিলে নিশ্চয়।
দিশারী বানানটিও ভুল, শুদ্ধ দিশারি। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানে অ-তৎসম শব্দের শেষে ই-কার দেওয়া হয়, যেমন সরকারি, কান্ডারি।
মনে রাখুন: বিসর্গের পরে চ বা ছ এলে শ্ হয়: নিশ্চয়, নভশ্চর, দুশ্চিন্তা, শিরশ্ছেদ।
৩৮. 'আসমুদ্রহিমাচল' কোন সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কদ্বন্দ্ব
- খবহুব্রীহি
- গঅব্যয়ীভাব
- ঘদ্বিগু
সঠিক উত্তর: গ. অব্যয়ীভাব
আসমুদ্রহিমাচল মানে সমুদ্র থেকে হিমালয় পর্যন্ত, অর্থাৎ গোটা দেশজুড়ে। এখানে আ একটি অব্যয় উপসর্গ, যার অর্থ পর্যন্ত বা ব্যাপ্তি।
পূর্বপদে অব্যয় থাকলে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হলে সমাসটি অব্যয়ীভাব। এখানে সমুদ্র বা হিমাচল কোনোটার নয়, পুরো সীমানা জুড়ে বিস্তৃতির ভাবটাই মুখ্য।
একই রকম আ-যুক্ত অব্যয়ীভাব: আজীবন মানে জীবন পর্যন্ত, আপাদমস্তক মানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত, আকণ্ঠ মানে কণ্ঠ পর্যন্ত।
দুটি নাম পাশাপাশি দেখে অনেকে দ্বন্দ্ব সমাস ধরে নেন, কিন্তু দ্বন্দ্বে দুই পদ সমান গুরুত্বের আর মাঝে ও বা এবং থাকে। এখানে মাঝে আছে থেকে-পর্যন্ত সম্পর্ক, আর শুরুতে অব্যয় আ।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুতে আ মানে পর্যন্ত হলে চোখ বুজে অব্যয়ীভাব: আজীবন, আকণ্ঠ, আপাদমস্তক, আসমুদ্রহিমাচল।
৩৯. 'বাংলাদেশ' শব্দটি কোন ধরনের সমাস? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কদ্বন্দ্ব
- খকর্মধারয়
- গতৎপুরুষ
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: খ. কর্মধারয়
বাংলাদেশ শব্দটির ব্যাসবাক্য বাংলা নামক দেশ। মাঝের নামক শব্দটি লোপ পেয়ে সমস্তপদ হয়েছে বাংলাদেশ।
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝখানের ব্যাখ্যামূলক পদ লোপ পায়, তাকে বলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়। এখানে বাংলা আর দেশ একই জিনিস নির্দেশ করে, আর মাঝের নামক পদটি বাদ পড়েছে।
একই রকম মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: সিংহাসন মানে সিংহ চিহ্নিত আসন, ঘিভাত মানে ঘি মিশ্রিত ভাত, স্মৃতিসৌধ মানে স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ।
ফাঁদ হলো তৎপুরুষ: কেউ কেউ বাঙালির দেশ ধরে ষষ্ঠী তৎপুরুষ বলেন। কিন্তু প্রচলিত ব্যাকরণ ও পরীক্ষায় বাংলা নামক দেশ, অর্থাৎ কর্মধারয়ই গৃহীত।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে নামক, চিহ্নিত, মিশ্রিত, রক্ষার্থে এমন মাঝের শব্দ লুকিয়ে থাকলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
৪০. উপমান কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কআয়কর
- খফুটিফাটা
- গপ্রস্তরকঠিন
- ঘগজমূর্খ
সঠিক উত্তর: ক. আয়কর
উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি উপমান, অর্থাৎ যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, আর একটি সাধারণ ধর্ম, অর্থাৎ যে গুণে তুলনা, একসঙ্গে মিলে যায়। ব্যাসবাক্যে মাঝে থাকে ন্যায় বা মতো।
প্রস্তরকঠিন মানে প্রস্তরের ন্যায় কঠিন; পাথর উপমান, কঠিন সাধারণ ধর্ম। গজমূর্খ মানে গজের ন্যায় মূর্খ। ফুটিফাটা মানে ফুটির ন্যায় ফাটা; ফুটি এক ধরনের ফল, যা পাকলে ফেটে যায়। তিনটিই উপমান কর্মধারয়।
আয়কর মানে আয়ের উপর ধার্য কর। এখানে কোনো তুলনা নেই, আয় কোনো কিছুর উপমান নয়। তাই এটি উপমান কর্মধারয় নয়; একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বা তৎপুরুষ হিসেবে পড়া হয়।
চেনার কৌশল: ব্যাসবাক্যে ন্যায় বা মতো বসিয়ে অর্থ ঠিক থাকে কি না দেখুন। আয়ের ন্যায় কর বললে অর্থই দাঁড়ায় না।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে “ন্যায়” বসিয়ে দেখুন: অর্থ ঠিক থাকলে উপমান কর্মধারয়, যেমন তুষারশুভ্র, কাজলকালো।