বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫
৮১. বাংলা সাহিত্যের 'দুঃখবাদী কবি' কে? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কগোবিন্দ দাস
- খযতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
- গসুকান্ত ভট্টাচার্য
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: খ. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
বাংলা সাহিত্যে দুঃখবাদী কবি বলা হয় যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তকে। তিনি রবীন্দ্রযুগে লিখেছেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের আনন্দ ও সৌন্দর্যবাদের বিপরীতে জীবনের দুঃখ, যন্ত্রণা আর হতাশাকে কবিতার মূল সুর করেছেন।
তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর নামেই মরুভূমির রুক্ষতা: মরীচিকা, মরুশিখা, মরুমায়া। এছাড়া সায়ম, ত্রিযামা, নিশান্তিকা তাঁর বই।
সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বলা হয় কিশোর কবি; গোবিন্দ দাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদকর্তা; বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্যসম্রাট।
মনে রাখুন: বইয়ের নামে “মরু” থাকলে (মরীচিকা, মরুশিখা, মরুমায়া) কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, দুঃখবাদী।
৮২. কাজী নজরুল ইসলাম পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কধ্রুব
- খধূপছায়া
- গরুদ্রমঙ্গল
- ঘশতদল
সঠিক উত্তর: খ. ধূপছায়া
কাজী নজরুল ইসলাম কেবল কবি নন, চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন: অভিনেতা, গীতিকার, সুরকার ও পরিচালক হিসেবে। তিনি ধূপছায়া চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন এবং এতে বিষ্ণুর ভূমিকায় অভিনয়ও করেন।
এর আগে ১৯৩৪ সালে মুক্তি পাওয়া ধ্রুব চলচ্চিত্রে নজরুল নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন, বেশিরভাগ গানের সুর দেন। ধ্রুব তিনি সত্যেন্দ্রনাথ দে-র সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়।
রুদ্রমঙ্গল নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ, আর শতদল চলচ্চিত্র নয়। তাই এককভাবে নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্র হিসেবে উত্তর ধূপছায়া।
মনে রাখুন: নজরুল অভিনীত প্রশ্নে ধ্রুব, নজরুল পরিচালিত প্রশ্নে ধূপছায়া; এভাবেই পরীক্ষায় দুটো আলাদা করা হয়।
৮৩. নিচের কোনটি সমার্থক শব্দ নয়? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কগোলাগুলি
- খলেনদেন
- গসাজসজ্জা
- ঘছাইভস্ম
সঠিক উত্তর: খ. লেনদেন
প্রশ্নটা শব্দজোড় বা শব্দদ্বৈত নিয়ে। বাংলায় দুটি শব্দ জোড়া লাগিয়ে নতুন শব্দ হয়; কখনো দুটির অর্থ একই রকম, কখনো উল্টো।
সাজসজ্জা: সাজ আর সজ্জা দুটোর অর্থই সাজানো। ছাইভস্ম: ছাই আর ভস্ম একই জিনিস। গোলাগুলি: গোলা আর গুলি দুটোই অস্ত্রের নিক্ষেপ্য। তাই এই তিনটি সমার্থক শব্দজোড়।
লেনদেন: লেন মানে নেওয়া, দেন মানে দেওয়া; অর্থ পরস্পরবিরোধী। তাই লেনদেন বিপরীতার্থক শব্দজোড়, সমার্থক নয়। একই রকম উদাহরণ: আসা-যাওয়া, দেনা-পাওনা, ভালোমন্দ।
মনে রাখুন: শব্দজোড় ভেঙে দুই অংশের অর্থ মিলিয়ে দেখুন; উল্টো হলে বিপরীতার্থক: দেনা-পাওনা, আয়-ব্যয়, লেনদেন।
৮৪. 'ঋজু' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কসোজা
- খসরল
- গবক্র
- ঘআবক্র
সঠিক উত্তর: গ. বক্র
প্রশ্নটা বিপরীতার্থক শব্দ যাচাই করছে। ঋজু একটি তৎসম শব্দ, অর্থ সোজা, সরল বা খাড়া। যেমন ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়ানো মানে টানটান সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
সোজার বিপরীত হলো বাঁকা, তৎসম শব্দে বক্র। তাই ঋজুর বিপরীত শব্দ বক্র; কুটিলও একই অর্থে চলে।
সোজা আর সরল দুটোই ঋজুর সমার্থক, বিপরীত নয়। প্রশ্নে বিপরীতার্থক চাওয়া হয়েছে, এটা খেয়াল না করলেই এই ভুল হয়।
আবক্র শব্দে আ উপসর্গ ঈষৎ বা সামান্য অর্থ দেয়, তাই আবক্র মানে অল্প বাঁকা। পূর্ণ বিপরীত হিসেবে বক্রই সঠিক।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দের প্রশ্নে আগে মূল শব্দের সমার্থক অপশনগুলো বাদ দিন; বাকিটা থেকে পূর্ণ বিপরীত খুঁজুন।
৮৫. উপমান কর্মধারয় সমাস এর সঠিক উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কচাঁদমুখ
- খতুষারশুভ্র
- গসিংহপুরুষ
- ঘমুখচন্দ্র
সঠিক উত্তর: খ. তুষারশুভ্র
প্রশ্নটা কর্মধারয় সমাসের উপমা-ভিত্তিক তিন ভাগ চেনা যাচাই করছে: উপমান, উপমিত ও রূপক। এখানে মূল প্রশ্ন হলো সমাসবদ্ধ পদে সাধারণ ধর্ম আছে কি না।
উপমান কর্মধারয়ে উপমানের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের সমাস হয়, উপমেয় থাকে না। তুষারশুভ্র মানে তুষারের ন্যায় শুভ্র: তুষার উপমান, শুভ্রতা সাধারণ ধর্ম। একইভাবে কাজলকালো, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত।
উপমিত কর্মধারয়ে উপমেয় আর উপমান থাকে, কিন্তু সাধারণ ধর্ম উহ্য থাকে। মুখচন্দ্র মানে মুখ চন্দ্রের ন্যায়; সিংহপুরুষ বা পুরুষসিংহ, চাঁদমুখও এই ধরনের, কারণ মুখ আর চাঁদের মিলটা কোন গুণে তা পদে বলা নেই।
ফাঁদ হলো চাঁদমুখ বা মুখচন্দ্রে উপমা দেখে উপমান ভেবে নেওয়া। মনে রাখুন, শেষ পদটি গুণ বা বিশেষণ হলে উপমান, আর বিশেষ্য হলে সাধারণত উপমিত (রূপক কর্মধারয়েও শেষ পদ বিশেষ্য, তবে সেখানে উপমেয়-উপমানকে অভেদ ধরা হয়, যেমন বিদ্যাসাগর)।
মনে রাখুন: শেষ পদ বিশেষণ (শুভ্র, কালো, রাঙা) হলে উপমান; শেষ পদ বিশেষ্য (চন্দ্র, সিংহ, মুখ) আর ন্যায়/মতো অর্থ থাকলে উপমিত; অভেদ বোঝালে রূপক।
৮৬. 'দারোগা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কতুর্কি
- খওলন্দাজ
- গগুজরাটি
- ঘফরাসি
সঠিক উত্তর: ক. তুর্কি
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস যাচাই করছে। মুঘল আমলে ফারসির সঙ্গে প্রশাসনের ভাষা হিসেবে কিছু তুর্কি শব্দও বাংলায় আসে, বিশেষত পদবি ও সামরিক শব্দ।
দারোগা মূলত পুলিশ বা তদারকি কর্মকর্তার পদবি, আর বাংলা ব্যাকরণে এটিকে তুর্কি শব্দ হিসেবেই পড়ানো হয়। একই দলের অন্য তুর্কি শব্দ: বাবুর্চি, কাঁচি, চাকু, বেগম, তোপ, লাশ, কুলি।
ওলন্দাজ, মানে ডাচ, থেকে এসেছে তাসের শব্দ: ইস্কাপন, রুইতন, হরতন, তুরুপ। গুজরাটি থেকে খদ্দর ও হরতাল। ফরাসি থেকে কার্তুজ, কুপন, রেস্তোরাঁ, ডিপো।
অনেকে পদবি শুনে ফারসি ভাবেন, আর ফরাসি ও ফারসি গুলিয়ে ফেলে ফরাসি বেছে নেন। ফরাসি মানে ফ্রান্সের ভাষা, এখানে তা ভুল।
মনে রাখুন: তুর্কি শব্দ মনে রাখার দল: দারোগা, বাবুর্চি, বেগম, কাঁচি, চাকু, তোপ, লাশ।
৮৭. যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন- তাকে এক কথায় কী বলে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- ককৃতবিদ্য
- খজ্ঞানী
- গবিদ্বান
- ঘসর্বজ্ঞানী
সঠিক উত্তর: ক. কৃতবিদ্য
এক কথায় প্রকাশের প্রশ্নে বাক্যাংশের প্রতিটি অর্থ শব্দে মিলতে হয়। যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন, এখানে মূল কথা হলো বিদ্যা অর্জন সম্পন্ন হয়েছে।
কৃতবিদ্য শব্দটি কৃত আর বিদ্যা মিলে গঠিত। কৃত মানে সম্পন্ন বা করা হয়েছে, তাই কৃতবিদ্য মানে যাঁর বিদ্যা অর্জন সম্পন্ন হয়েছে, অর্থাৎ যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন। এটি বহুব্রীহি সমাসের ধাঁচে গঠিত।
বিদ্বান মানে বিদ্যা আছে যার, জ্ঞানী মানে জ্ঞান আছে যার, আর সর্বজ্ঞ মানে যিনি সব জানেন। এগুলো কাছাকাছি হলেও বিদ্যা লাভ করা ক্রিয়াটি ঠিক প্রকাশ করে কৃতবিদ্য।
ফাঁদ হলো বিদ্বান। অর্থ কাছাকাছি বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু প্রচলিত এক কথায় প্রকাশে যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন বোঝাতে কৃতবিদ্য-ই নির্ধারিত।
মনে রাখুন: লাভ করেছেন বা সম্পন্ন অর্থ থাকলে কৃত- দিয়ে শুরু শব্দ খুঁজুন: কৃতবিদ্য, কৃতকার্য, কৃতজ্ঞ।
৮৮. 'অজর' শব্দের প্রকৃত অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কঅস্থির
- খকাঁপনহীন
- গচিরসবুজ
- ঘবার্ধক্যহীন
সঠিক উত্তর: ঘ. বার্ধক্যহীন
অজর শব্দটি গঠিত না-বাচক অ আর জরা মিলে। জরা মানে বার্ধক্য বা বয়সজনিত ক্ষয়। তাই অজর মানে যার জরা নেই, অর্থাৎ বার্ধক্যহীন, চিরযৌবন।
সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যে অজর ও অমর প্রায়ই একসাথে আসে: অজর মানে যে বুড়ো হয় না, অমর মানে যে মরে না। ব্যাসবাক্য হলো নেই জরা যার, তাই এটি নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস; এখানে না-বাচক অ অভাব বোঝায়।
একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ: অমর, যার মৃত্যু নেই; অক্ষয়, যার ক্ষয় নেই; অজেয়, যাকে জয় করা যায় না।
ফাঁদ হলো চিরসবুজ। অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি মনে হলেও চিরসবুজ গাছপালার বেলায় বলা হয়, অজরের আক্ষরিক অর্থ বার্ধক্যহীন।
মনে রাখুন: অ- দিয়ে শুরু তৎসম শব্দে পরের অংশের অর্থ বের করুন, তারপর নেই জুড়ে দিন।
৮৯. 'অন্তরীক্ষ' শব্দের প্রকৃত অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কমনের গভীরতা
- খঅন্তস্থ স্থান
- গমহাশূন্য
- ঘআকাশের নিচে
সঠিক উত্তর: গ. মহাশূন্য
অন্তরীক্ষ একটি তৎসম শব্দ, অর্থ আকাশ, নভোমণ্ডল বা পৃথিবী ও স্বর্গের মাঝের শূন্যস্থান। আধুনিক বাংলায় একে মহাশূন্য অর্থেও ব্যবহার করা হয়, যেমন অন্তরীক্ষ অভিযান।
শব্দটির বানান মনে রাখার মতো: র-এর পরে দীর্ঘ ঈ-কার, অন্তরীক্ষ। আকাশের আরও প্রতিশব্দ হলো গগন, নভ, অম্বর, ব্যোম, আসমান।
অন্তর শব্দটি থাকায় অনেকে মনের ভেতর বা অন্তস্থ স্থান মনে করেন, কিন্তু এখানে অন্তর মানে মাঝখান, মন নয়।
ফাঁদ হলো মনের গভীরতা। অন্তর মানে হৃদয় ধরে নিলেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: অন্তরীক্ষ, গগন, নভ, অম্বর, ব্যোম: সবই আকাশের প্রতিশব্দ।
৯০. সন্ধিতে কিসের সংকোচন হয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কপদের
- খবাক্যের
- গশব্দের
- ঘধ্বনির
সঠিক উত্তর: ঘ. ধ্বনির
সন্ধি মানে পরপর দুটি ধ্বনির মিলন। পাশাপাশি দুটি ধ্বনি মিলে এক হয়ে যায় বা একটি বদলে যায়, ফলে উচ্চারণ সহজ হয় এবং শব্দ ছোট হয়। তাই সন্ধিতে ধ্বনির সংকোচন হয়।
যেমন বিদ্যা আর আলয় মিলে বিদ্যালয়। এখানে আ আর আ দুটি ধ্বনি মিলে একটি আ হয়েছে। আবার হিম আর আলয় মিলে হিমালয়।
এর বিপরীতে সমাসে পদের সংকোচন হয়: দুই বা ততোধিক পদ বিভক্তি হারিয়ে এক পদ হয়, যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন। সন্ধি ধ্বনির মিলন, সমাস পদের মিলন।
ফাঁদ হলো পদের, কারণ সমাস আর সন্ধি গুলিয়ে ফেললে এটাই সবার আগে মনে আসে।
মনে রাখুন: সন্ধিতে ধ্বনি, সমাসে পদ: প্রশ্নে সন্ধি থাকলে ধ্বনি, সমাস থাকলে পদ বেছে নিন।
৯১. মা রান্না করছেন- এখানে 'করছেন' কোন ক্রিয়া? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কসকর্মক
- খঅকর্মক
- গসমাপিকা
- ঘঅসমাপিকা
সঠিক উত্তর: গ. সমাপিকা
ক্রিয়াকে দুইভাবে ভাগ করা যায়। অর্থ সম্পূর্ণ হয় কিনা দেখে: সমাপিকা আর অসমাপিকা। আর কর্ম আছে কিনা দেখে: সকর্মক আর অকর্মক। এই প্রশ্নে মূল বিবেচনা হলো বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা।
মা রান্না করছেন, এখানে করছেন ক্রিয়াটির পরে আর কিছু না বললেও বাক্যের অর্থ পুরো বোঝা যায়। যে ক্রিয়া দিয়ে বাক্যের মনোভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। তাই করছেন সমাপিকা ক্রিয়া।
তুলনা করুন: মা রান্না করে, এই অংশে থামলে মনে হয় আরও কিছু বাকি, যেমন মা রান্না করে খাওয়ালেন। এখানে করে অসমাপিকা। সাধারণত ইয়া, ইলে, ইতে বা এ, লে, তে যুক্ত ক্রিয়া অসমাপিকা হয়।
এখানে রান্না শব্দটিকে কর্ম ধরলে করছেন সকর্মকও বলা যায়, তাই সকর্মক অপশনটিও কেউ কেউ যুক্তিসংগত মনে করেন। তবে পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর সমাপিকা, কারণ বাক্যটি ক্রিয়াতেই পূর্ণ হয়েছে। অকর্মক বা অসমাপিকা বেছে নেওয়া স্পষ্টতই ভুল।
মনে রাখুন: ক্রিয়ায় বাক্য থেমে গেলেও অর্থ পুরো হলে সমাপিকা; ইয়া, ইলে, ইতে থাকলে সাধারণত অসমাপিকা।
৯২. জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই- গঠন অনুসারে এটি কোন বাক্য? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কজটিল
- খসরল
- গযৌগিক
- ঘমিশ্র
সঠিক উত্তর: খ. সরল
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল আর যৌগিক। যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য আর একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তা সরল বাক্য।
জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই, এখানে উদ্দেশ্য কিছু, আর সমাপিকা ক্রিয়া একটিই, নেই। কোনো যে-সে, যদি-তবে জাতীয় সাপেক্ষ শব্দ বা এবং, কিন্তু জাতীয় সংযোজক দিয়ে দুটি বাক্যাংশ জোড়া হয়নি। তাই এটি সরল বাক্য।
এটাকে জটিল করলে হয়: জগতে এমন কিছু নেই যা অসম্ভব। যৌগিক করলে হয়: জগতে সবকিছুই সম্ভব, তাই অসম্ভব বলে কিছু নেই। মিশ্র বাক্য আর জটিল বাক্য একই জিনিসের দুই নাম।
ফাঁদ হলো অসম্ভব বলে অংশটিকে আলাদা খণ্ডবাক্য ভাবা। বলে এখানে অনুসর্গের মতো কাজ করে অসম্ভবকে কিছু-র সাথে জুড়ে দিয়েছে; এর কোনো আলাদা কর্তা নেই, তাই আলাদা খণ্ডবাক্যও নেই।
মনে রাখুন: সমাপিকা ক্রিয়া গুনুন: একটি হলে সরল; যে-সে থাকলে জটিল; এবং-কিন্তু থাকলে যৌগিক।
৯৩. যে সব পদের সাহায্যে মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে কি বলে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- ককারক
- খশব্দ
- গবাক্য
- ঘবিভক্তি
সঠিক উত্তর: গ. বাক্য
যে পদ বা পদসমষ্টি দিয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে। এটি বাক্যের প্রচলিত সংজ্ঞা।
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়: আকাঙ্ক্ষা, মানে এক পদ শোনার পর পরের পদ শোনার যে ইচ্ছা জাগে, বাক্যে তা পূরণ হওয়া; আসত্তি, মানে পদগুলো ঠিক ক্রমে সাজানো; আর যোগ্যতা, মানে অর্থের দিক থেকে সংগতি।
শব্দ হলো অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি, যা একা পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না। বিভক্তি যুক্ত হলে শব্দ পদ হয়। কারক হলো বাক্যে ক্রিয়ার সাথে নামপদের সম্পর্ক।
ফাঁদ হলো শব্দ। শব্দের অর্থ থাকে, কিন্তু সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ হয় কেবল বাক্যে।
মনে রাখুন: সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ শব্দবন্ধ দেখলেই উত্তর বাক্য।
৯৪. 'আঘাত' এর সমার্থক নয় কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কপ্রতিঘাত
- খব্যথা
- গজ্বালা
- ঘযন্ত্রণা
সঠিক উত্তর: ক. প্রতিঘাত
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোনটি আঘাত শব্দের সমার্থক নয়। আঘাত শব্দের দুটি দিক আছে: শারীরিক আঘাত, মানে চোট বা ঘা; আর মনে আঘাত, মানে কষ্ট, ব্যথা, যন্ত্রণা।
ব্যথা, জ্বালা আর যন্ত্রণা আঘাত পাওয়ার অনুভূতি বোঝায়, তাই প্রচলিত অভিধান ও প্রতিশব্দের তালিকায় এগুলো আঘাতের কাছাকাছি অর্থে ধরা হয়। যেমন মনে আঘাত পাওয়া আর মনে ব্যথা পাওয়া প্রায় একই।
প্রতিঘাত শব্দটি গঠিত প্রতি উপসর্গ আর ঘাত মিলে, মানে আঘাতের বদলে ফিরতি আঘাত বা পাল্টা আঘাত। এটি আঘাতের সমার্থক নয়, বরং আঘাতের জবাব।
ফাঁদ হলো ঘাত অংশটি। শব্দের ভেতরে ঘাত থাকায় একে আঘাতের সমার্থক মনে হয়, কিন্তু প্রতি উপসর্গ অর্থ বদলে দিয়েছে। অপশনের বানানটি প্রমিত রূপে যন্ত্রণা, র-এর পরে মূর্ধন্য ণ।
মনে রাখুন: প্রতি- যুক্ত শব্দ সাধারণত মূল শব্দের জবাব বা বিপরীত বোঝায়, সমার্থক নয়।
৯৫. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কশারীরীক
- খশারীরিক
- গশারিরিক
- ঘশারিরীক
সঠিক উত্তর: খ. শারীরিক
শারীরিক শব্দটি গঠিত শরীর শব্দের সাথে ইক প্রত্যয় যোগে। ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়, তাই শ-এর অ হয়ে যায় আ: শরীর থেকে শারীর।
মূল শব্দ শরীর-এ র-এর আগে দীর্ঘ ঈ-কার, তাই শারীর অংশেও রী থাকে। আর ইক প্রত্যয়ের ই সবসময় হ্রস্ব, তাই শেষে রিক। মিলিয়ে শুদ্ধ বানান শারীরিক।
একই নিয়মে: সমাজ থেকে সামাজিক, ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক, অর্থ থেকে আর্থিক, মাস থেকে মাসিক। ইক প্রত্যয় যুক্ত সব শব্দের শেষে হ্রস্ব ই-কার।
ফাঁদ হলো দুই জায়গার ই-কার উল্টে ফেলা। শারিরীক বানানে দুটি ভুলই আছে। মনে রাখুন: মাঝখানে শরীরের দীর্ঘ ঈ, শেষে প্রত্যয়ের হ্রস্ব ই।
মনে রাখুন: মূল শব্দের বানান অক্ষত রেখে শেষে হ্রস্ব ইক: শরীর থেকে শারীরিক, সমাজ থেকে সামাজিক, অর্থ থেকে আর্থিক।
৯৬. কোনটি 'সংগীত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কসম্+গীত
- খসং+গীত
- গসংগী+ত
- ঘসংগ+ইত
সঠিক উত্তর: ক. সম্+গীত
প্রশ্নটা ব্যঞ্জনসন্ধির একটি নিয়ম যাচাই করছে: ম্-এর পরে ক-বর্গের কোনো ধ্বনি, অর্থাৎ ক খ গ ঘ ঙ থাকলে ম্ বদলে অনুস্বার বা ঙ হয়।
সংগীত শব্দে আছে সম্ আর গীত। সম্-এর ম্-এর পরে গ, যা ক-বর্গের ধ্বনি; তাই ম্ বদলে ং হয়ে সংগীত। এভাবেই সম্ যোগ গতি থেকে সংগতি, সম্ যোগ কল্প থেকে সংকল্প।
সন্ধিবিচ্ছেদে আমরা বদলে যাওয়া ধ্বনিকে তার মূল রূপে ফিরিয়ে লিখি। তাই ং আবার ম্ হয়ে যায়, আর বিচ্ছেদ হয় সম্ যোগ গীত।
সং যোগ গীত লিখলে বদলে যাওয়া রূপটাই রেখে দেওয়া হয়, তাই সেটা প্রকৃত বিচ্ছেদ নয়; এটাই সবচেয়ে সাধারণ ফাঁদ।
মনে রাখুন: ং-এর পরে ক-বর্গের ধ্বনি থাকলে বিচ্ছেদে ং ফিরে ম্ হয়: সংগীত, সংকল্প, সংগতি, সংঘাত।
৯৭. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কনীরিহ
- খনিরিহ
- গনিরীহ
- ঘনীরীহ
সঠিক উত্তর: গ. নিরীহ
প্রশ্নটা তৎসম শব্দের শুদ্ধ বানান যাচাই করছে। শুদ্ধ বানান নিরীহ, মানে শান্ত, যে কারো ক্ষতি করে না।
শব্দটি এসেছে নির্ আর ঈহা থেকে; ঈহা মানে চেষ্টা বা আকাঙ্ক্ষা। নির্-এর ই হ্রস্ব, আর ঈহা-র ঈ দীর্ঘ। দুই অংশ মিলে নি-তে হ্রস্ব ই-কার, রী-তে দীর্ঘ ঈ-কার।
নির্ উপসর্গ যুক্ত অন্য শব্দেও প্রথমে হ্রস্ব ই থাকে, যেমন নিরাপদ, নিরুপায়, নিরর্থক। তাই নী দিয়ে শুরু বানান ভুল।
নীরব আর নীরস শব্দে নী দীর্ঘ, কারণ সেগুলো আলাদা গঠন; সেগুলোর সাথে গুলিয়ে নীরিহ বা নীরীহ লেখাই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: নির্ উপসর্গ মানেই হ্রস্ব ই (নিরাপদ, নিরীক্ষা, নিরীহ); ঈহা-র ঈ মনে রাখলে রী দীর্ঘ।
৯৮. 'অগ্নি' শব্দের সমার্থক কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- ককৃশানু
- খভানু
- গসবিতা
- ঘপ্রভা
সঠিক উত্তর: ক. কৃশানু
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ যাচাই করছে। অগ্নি মানে আগুন, আর এর একটি সমার্থক শব্দ কৃশানু।
অগ্নির আরও প্রচলিত সমার্থক শব্দ হলো অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর ও বিভাবসু। পরীক্ষায় এগুলো ঘুরে ফিরে আসে।
ভানু আর সবিতা দুটোই সূর্যের প্রতিশব্দ; প্রভা মানে আলো বা দীপ্তি। আগুন থেকেও আলো আসে, তাই এরা কাছাকাছি মনে হয়, কিন্তু সমার্থক নয়।
আগুন আর সূর্য দুটোই উজ্জ্বল ও তাপ দেয় বলে ভানু বা সবিতাকে অগ্নির প্রতিশব্দ ভেবে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: অগ্নির প্রতিশব্দ একসাথে মুখস্থ: অনল, বহ্নি, পাবক, কৃশানু, হুতাশন, বৈশ্বানর।
৯৯. 'আকাশ' শব্দের সমার্থক কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কময়ূখ
- খঅম্বর
- গনীলানু
- ঘবিভাবরী
সঠিক উত্তর: খ. অম্বর
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ যাচাই করছে। আকাশের একটি প্রতিশব্দ অম্বর। পীতাম্বর বা দিগম্বর শব্দেও অম্বর আছে, যদিও সেখানে অম্বর মানে বস্ত্র; অম্বরের দুটি অর্থই আছে, আকাশ ও কাপড়।
আকাশের আরও প্রচলিত প্রতিশব্দ হলো গগন, নভ, নভোমণ্ডল, ব্যোম, অন্তরীক্ষ ও দ্যুলোক।
ময়ূখ মানে কিরণ বা রশ্মি, আর বিভাবরী মানে রাত্রি। নীলানু কোনো প্রচলিত বাংলা শব্দ নয়; আকাশ নীল বলে নীল শব্দাংশ দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
আকাশের সাথে আলো আর রাতের যোগ আছে বলে ময়ূখ বা বিভাবরী কাছাকাছি মনে হয়, কিন্তু অর্থ আলাদা।
মনে রাখুন: আকাশ: অম্বর, গগন, নভ, ব্যোম, অন্তরীক্ষ, দ্যুলোক। রাত্রি: বিভাবরী, যামিনী, নিশি।
১০০. 'নন্দিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কবিষণ্ণ
- খবিষাদ
- গপ্রচ্ছন্ন
- ঘনিন্দিত
সঠিক উত্তর: ঘ. নিন্দিত
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। নন্দিত মানে প্রশংসিত বা আনন্দিত, যাকে সবাই অভিনন্দন জানায়। এর বিপরীত নিন্দিত, মানে যার নিন্দা করা হয়েছে।
নন্দিত আর নিন্দিত দুটোই ইত প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ; একটির মূলে নন্দ মানে আনন্দ বা প্রশংসা, অন্যটির মূলে নিন্দা। গঠন একই, অর্থ উল্টো।
বিষণ্ণ মানে দুঃখিত বা মলিন, বিষাদ মানে দুঃখ, যা বিশেষ্য, আর প্রচ্ছন্ন মানে লুকানো, যার বিপরীত প্রকাশ্য বা স্পষ্ট।
নন্দিতকে শুধু আনন্দিত ভেবে বিষণ্ণ বেছে নেওয়াই এখানে ফাঁদ। প্রশংসার ঠিক উল্টো হলো নিন্দা।
মনে রাখুন: একই গঠনের জোড়া খুঁজুন: নন্দিত-নিন্দিত, প্রশংসা-নিন্দা, আদৃত-অনাদৃত।