বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৬২
১২২১. সবচেয়ে বেশি চর্যাপদ পাওয়া গেছে কোন কবির? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কলুইপা
- খশবরপা
- গভুসুকুপা
- ঘকাহ্নপা
সঠিক উত্তর: ঘ. কাহ্নপা
প্রশ্নটা চর্যাপদের কবিদের পদসংখ্যা নিয়ে। সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্নপা, মোট ১৩টি। এর মধ্যে ২৪ নম্বর পদটি পাওয়া যায়নি, তাই পাওয়া গেছে ১২টি; তবু সংখ্যায় তিনিই শীর্ষে।
দ্বিতীয় স্থানে ভুসুকুপা, ৮টি পদ। একটি পদে তিনি নিজেকে বাঙালি বলে উল্লেখ করেছেন বলে তাঁকে বাঙালি কবি ধরা হয়।
লুইপাকে চর্যার আদি কবি বা আদি সিদ্ধাচার্য ধরা হয়, প্রথম পদটি তাঁর; তবে তাঁর পদ মাত্র ২টি। শবরপারও পদ ২টি।
ফাঁদ হলো লুইপা, কারণ প্রথম কবি হিসেবে নামটা সবার আগে মনে আসে। প্রথম আর সবচেয়ে বেশি, দুটি আলাদা প্রশ্ন।
মনে রাখুন: চর্যার সংখ্যা জোড়া: কাহ্নপা ১৩, ভুসুকুপা ৮; আদি কবি লুইপা।
১২২২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কনিরঞ্জনের রুষ্মা
- খদোহাকোষ
- গগুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস
- ঘময়নামতির নাম
সঠিক উত্তর: খ. দোহাকোষ
প্রশ্নটা প্রাচীন যুগের সাহিত্য নিদর্শন চেনার। দোহাকোষ বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত দোহা বা ছোট পদের সংকলন, যা প্রাচীন যুগের নিদর্শন।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে চর্যাপদের সঙ্গে দোহাকোষও সংগ্রহ করেন। ১৯১৬ সালে চর্যাপদ, সরহপাদ ও কৃষ্ণাচার্যের দোহাকোষ আর ডাকার্ণব মিলিয়ে তিনি প্রকাশ করেন হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা। দোহাগুলোর ভাষা অবশ্য মূলত অপভ্রংশ।
নিরঞ্জনের রুষ্মা রামাই পণ্ডিতের শূন্যপুরাণের একটি অংশ, যাকে প্রাচীন যুগের পরে, সাধারণত তেরো শতকের রচনা ধরা হয়। গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস আর ময়নামতির গান মধ্যযুগের নাথসাহিত্যের কাহিনি; প্রশ্নপত্রে এ দুটি গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস আর ময়নামতির নাম হিসেবে ছাপা হয়েছে।
ফাঁদ হলো নিরঞ্জনের রুষ্মা, কারণ এটি পুরোনো ও তুর্কি আক্রমণের সময়ের বলে প্রাচীন মনে হয়। কিন্তু প্রাচীন যুগ শেষ ১২০০ সালে; এর নিদর্শন বলতে চর্যাপদ আর দোহাকোষ।
মনে রাখুন: প্রাচীন যুগের নিদর্শন মাত্র দুটি নাম: চর্যাপদ আর দোহাকোষ; বাকি যা আসে, তা পরের যুগের।
১২২৩. তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে। - -অর্থ কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কঠোঁটের পরশে পান লাল হল
- খপানের পরশে ঠোঁট লাল হল
- গঅস্তাচলগামী সূর্যের আভায় মুখ রক্তিম দেখা গেল
- ঘঅস্তাচলগামী সূর্য ও মুখ একই রকম লাল হয়ে গেল
সঠিক উত্তর: ক. ঠোঁটের পরশে পান লাল হল
প্রশ্নটা মধ্যযুগের কাব্যভাষার একটি পঙ্ক্তির অর্থ জানতে চেয়েছে। শব্দগুলোর মানে আলাদা করে জানলেই উত্তর বেরিয়ে আসে।
তাম্বুল মানে পান, রাতুল মানে লাল বা রক্তিম, অধর মানে ঠোঁট, আর পরশে মানে স্পর্শে। তাহলে পুরো লাইন দাঁড়ায়: ঠোঁটের স্পর্শে পান লাল হলো।
কবি এখানে নায়িকার রূপের বাড়াবাড়ি প্রশংসা করছেন: ঠোঁট এত লাল যে পান মুখে দিতেই পান নিজে লাল হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে পান খেলে ঠোঁট লাল হয়; কবি সেটাকে উল্টে দিয়েছেন, এটাই কাব্যের চমক।
ফাঁদ হলো উল্টো অর্থ, পানের পরশে ঠোঁট লাল হলো। বাস্তবে সেটাই ঘটে বলে ওটাকেই ঠিক মনে হয়, কিন্তু বাক্যে রাতুল হয়েছে তাম্বুল, মানে পান। সূর্য বা অস্তাচলের কোনো শব্দই পঙ্ক্তিতে নেই, তাই শেষ দুটি বিকল্প সহজেই বাদ।
মনে রাখুন: পুরোনো কাব্যের পঙ্ক্তিতে প্রতিটি শব্দের মানে বসিয়ে বাক্যটা আবার সাজান; কে কী হলো, তা কর্তা দেখে ঠিক করুন।
১২২৪. ‘হপ্তপয়কর’ কার রচনা? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসৈয়দ আলাওল
- খজৈনুদ্দিন
- গদীনবন্ধু মিত্র
- ঘঅমিয় দেব
সঠিক উত্তর: ক. সৈয়দ আলাওল
প্রশ্নটা মধ্যযুগের এক অনুবাদ কাব্যের কবি জানতে চেয়েছে। হপ্তপয়কর, যাকে সপ্তপয়করও বলা হয়, আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের রচনা।
কাব্যটি ফারসি কবি নিজামী গঞ্জভীর হপ্ত পয়কর অবলম্বনে লেখা। হপ্ত মানে সাত; কাহিনিতে রাজা বাহরাম সাত রাজকন্যার কাছ থেকে সাতটি গল্প শোনেন।
আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য পদ্মাবতী, হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ অবলম্বনে। তাঁর অন্য রচনা তোহফা, সিকান্দরনামা ও সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল।
জৈনুদ্দিন মধ্যযুগের কবি, রসুলবিজয় কাব্যের রচয়িতা; একই যুগের বলে এটি ফাঁদ। দীনবন্ধু মিত্র উনিশ শতকের নাট্যকার, আর অমিয় দেব আধুনিক কালের মানুষ; সতেরো শতকের এ কাব্যের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: আলাওলের কাব্যের নাম মুখস্থ রাখুন: পদ্মাবতী, সতীময়না লোরচন্দ্রানীর শেষাংশ, সপ্তপয়কর, তোহফা, সিকান্দরনামা।
১২২৫. মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককানাহরি দত্ত
- খমানিক দত্ত
- গভারতচন্দ্র
- ঘদাশু রায়
সঠিক উত্তর: ঘ. দাশু রায়
প্রশ্নটা মঙ্গলকাব্যের কবিদের চেনার। মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগের দেবদেবীর মাহাত্ম্যকীর্তনের কাব্য; মনসা, চণ্ডী, অন্নদা, ধর্মঠাকুর এর প্রধান দেবতা। দাশু রায় এই ধারার কবি নন।
কানাহরি দত্তকে মনসামঙ্গলের আদি কবি ধরা হয়, আর মানিক দত্তকে চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর অন্নদামঙ্গল লিখে মঙ্গলকাব্যের শেষ বড় কবি হিসেবে পরিচিত।
দাশু রায়ের আসল নাম দাশরথি রায়। তিনি উনিশ শতকের পাঁচালিকার; গান, ছড়া আর ব্যঙ্গ মিশিয়ে আসরে গাওয়ার পাঁচালি লিখে জনপ্রিয় হন।
ফাঁদ হলো পাঁচালি শব্দটি, কারণ মঙ্গলকাব্যকেও অনেক সময় পাঁচালি বলা হয়। কিন্তু দাশু রায়ের পাঁচালি দেবতার মাহাত্ম্যকাব্য নয়, আসরের গান।
মনে রাখুন: আদি কবি জোড়া: মনসামঙ্গলে কানাহরি দত্ত, চণ্ডীমঙ্গলে মানিক দত্ত; শেষ বড় কবি ভারতচন্দ্র।
১২২৬. ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কজন ক্লার্ক মার্শম্যান
- খজর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
- গউইলিয়াম কেরি
- ঘডেভিড হেয়ার
সঠিক উত্তর: ক. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
প্রশ্নটা বাংলা সংবাদপত্রের শুরুর ইতিহাস নিয়ে। সমাচার দর্পণ ১৮১৮ সালের ২৩ মে শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়, সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
এটি বাংলা ভাষার প্রথম দিকের সাপ্তাহিক সংবাদপত্র, প্রায়ই একে প্রথম বাংলা সংবাদপত্র বলা হয়। সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন শ্রীরামপুরের মিশনারি জোশুয়া মার্শম্যানের ছেলে, আর পত্রিকাটি ছাপা হতো শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে।
একই বছর একই মিশন থেকে বের হয় মাসিক দিগ্দর্শন, এরও সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান। দুটি নামই দর্শন বা দর্পণ, দেখার জিনিস, তাই একসাথে মনে রাখা সহজ।
ফাঁদ হলো উইলিয়াম কেরি, কারণ তিনিও শ্রীরামপুর মিশনের প্রধান মানুষ। কিন্তু কেরির পরিচয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে। গ্রিয়ারসন ভারতের ভাষা জরিপের জন্য, আর ডেভিড হেয়ার এদেশে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য পরিচিত।
মনে রাখুন: ১৮১৮ সালে মার্শম্যানের দুই পত্রিকা: মাসিক দিগ্দর্শন আর সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ।
১২২৭. কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কস্মৃতি কথামালা
- খআত্মচরিত
- গআত্মকথা
- ঘআমার কথা
সঠিক উত্তর: খ. আত্মচরিত
প্রশ্নটা বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীর নাম জানতে চেয়েছে। তিনি নিজের জীবনের কথা লিখেছিলেন বিদ্যাসাগর চরিত নামে, যা স্বরচিত জীবনী বা আত্মচরিত নামে পরিচিত।
লেখাটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি; অসমাপ্ত অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্য বিখ্যাত রচনা বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস আর বর্ণপরিচয়। কথামালা নামে তাঁর একটি বইও আছে, ঈশপের গল্পের অনুবাদ, তবে সেটি আত্মজীবনী নয়।
আমার কথা নটী বিনোদিনীর আত্মজীবনী, তাই এটি বাদ। স্মৃতি কথামালা আর আত্মকথা নামে বিদ্যাসাগরের কোনো আত্মজীবনী নেই; আত্ম বা কথা শব্দ দেখে সব বিকল্প একই রকম লাগে, তাই চরিত শব্দটি মনে রাখুন।
মনে রাখুন: বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী মানেই চরিত: বিদ্যাসাগর চরিত, স্বরচিত জীবনী বা আত্মচরিত।
১২২৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষের আদিবসতি কোথায় ছিল? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কখুলনার পিঠাভোগ
- খযশোরের কেশবপুর
- গছোটনাগপুর মালভূমি
- ঘকুষ্টিয়ার শিলাইদহ
সঠিক উত্তর: ক. খুলনার পিঠাভোগ
প্রশ্নটা রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের আদি নিবাস জানতে চেয়েছে। ঠাকুর পরিবারের আদি বসতি ছিল খুলনার পিঠাভোগ গ্রামে।
তাঁদের আদি পদবি ছিল কুশারী। পরিবারের এক পূর্বপুরুষ এখান থেকে কলকাতা অঞ্চলে গিয়ে বসতি গড়েন, আর সেখানেই লোকমুখে ঠাকুর পদবি চালু হয়।
খুলনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আরেকটি যোগ: তাঁর শ্বশুরবাড়ি ফুলতলার দক্ষিণডিহিতে। দুটো জায়গাই খুলনার বলে একসাথে প্রশ্ন আসে; পিঠাভোগ পূর্বপুরুষের, দক্ষিণডিহি স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর।
ফাঁদ হলো কুষ্টিয়ার শিলাইদহ। সেখানে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখতে থাকতেন এবং অনেক লেখা লিখেছেন, কিন্তু এটি পূর্বপুরুষের বসতি নয়। যশোরের কেশবপুরে মধুসূদনের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি, আর ছোটনাগপুর মালভূমির সঙ্গে ঠাকুর পরিবারের বসতির সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: খুলনায় রবীন্দ্রনাথের দুই ঠিকানা: পিঠাভোগ পূর্বপুরুষের, দক্ষিণডিহি শ্বশুরবাড়ি।
১২২৯. ‘তেল নুন লকড়ি’ কার রচিত গ্রন্থ? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপ্রবোধচন্দ্র সেন
- খপ্রমথনাথ বিশি
- গপ্রমথ চৌধুরী
- ঘপ্রদ্যুম্ন মিত্র
সঠিক উত্তর: গ. প্রমথ চৌধুরী
প্রশ্নটি লেখক আর গ্রন্থ মেলানোর। তেল নুন লকড়ি প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি বীরবল ছদ্মনামে লিখতেন এবং ১৯১৪ সালে সবুজপত্র পত্রিকা বের করে বাংলা গদ্যে চলিত রীতি প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর অন্য পরিচিত রচনা হলো চার ইয়ারী কথা নামের গল্পগ্রন্থ আর বীরবলের হালখাতা নামের প্রবন্ধ সংকলন। তেল নুন লকড়ি নামটিতেই তাঁর ঘরোয়া, রসিক, চলিত ভঙ্গির ছাপ আছে।
এখানে ফাঁদ নামের মিল। চারটি বিকল্পের নামই প্র দিয়ে শুরু, আর প্রমথনাথ বিশি ও প্রমথ চৌধুরী শুনতে প্রায় এক রকম। প্রমথনাথ বিশি কেরী সাহেবের মুন্সী উপন্যাসের লেখক, এই প্রবন্ধগ্রন্থের নয়।
মনে রাখুন: প্রমথ চৌধুরী মানেই বীরবল, সবুজপত্র, চলিত রীতি; সঙ্গে তেল নুন লকড়ি ও চার ইয়ারী কথা।
১২৩০. বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককৃষ্ণকুমারী
- খশর্মিষ্ঠা
- গসধবার একাদশী
- ঘনীলদর্পণ
সঠিক উত্তর: ক. কৃষ্ণকুমারী
প্রশ্নটি বাংলা নাটকের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি জানতে চেয়েছে। উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী, প্রকাশ ১৮৬১ সালে। রাজপুত রাজকন্যা কৃষ্ণকুমারী দুই রাজার বিরোধ থামাতে নিজের জীবন দেন, এই করুণ পরিণতিই একে ট্র্যাজেডি করেছে।
ট্র্যাজেডি মানে বিয়োগান্ত নাটক, যেখানে প্রধান চরিত্রের পরিণতি দুঃখের। মধুসূদনের আগের নাটক শর্মিষ্ঠা, ১৮৫৯ সালের; একে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক বলা হয়, কিন্তু এর সমাপ্তি মিলনাত্মক।
বাকি দুটি দীনবন্ধু মিত্রের লেখা। নীলদর্পণ ১৮৬০ সালে নীলকরদের অত্যাচার নিয়ে লেখা নাটক, আর সধবার একাদশী একটি প্রহসন, মানে ব্যঙ্গ ও হাসির নাটক।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ শর্মিষ্ঠা বিকল্পটি। প্রথম সার্থক নাটক আর প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি আলাদা জিনিস; দুটিই মধুসূদনের বলে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: মধুসূদনের জোড়া প্রথম: সার্থক নাটক শর্মিষ্ঠা, সার্থক ট্র্যাজেডি কৃষ্ণকুমারী।
১২৩১. ‘কপালকুণ্ডলা’ কোন প্রকৃতির রচনা? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- করোমান্সমূলক উপন্যাস
- খবিয়োগান্তক নাটক
- গঐতিহাসিক উপন্যাস
- ঘসামাজিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর: ক. রোমান্সমূলক উপন্যাস
প্রশ্নটি উপন্যাসের ধরন জানতে চেয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত রোমান্সধর্মী উপন্যাস। এটি বঙ্কিমের দ্বিতীয় উপন্যাস; প্রথমটি দুর্গেশনন্দিনী, ১৮৬৫ সালে।
নায়িকা কপালকুণ্ডলা সমুদ্রতীরের জঙ্গলে এক কাপালিকের কাছে বড় হয়েছে। নবকুমারের সঙ্গে বিয়ের পর সংসারে মানিয়ে নিতে না পারা, রহস্যময় প্রকৃতি আর কল্পনার জগৎই একে রোমান্স করেছে; বাস্তব ইতিহাস বা সমাজসমস্যা এখানে মুখ্য নয়।
তুলনার জন্য মনে রাখুন: বঙ্কিমের ঐতিহাসিক উপন্যাস রাজসিংহ, আর সামাজিক উপন্যাস বিষবৃক্ষ ও কৃষ্ণকান্তের উইল।
ফাঁদ হলো বিয়োগান্তক নাটক বিকল্পটি। গল্পের শেষ করুণ বলে কেউ কেউ ট্র্যাজেডি ভাবেন, কিন্তু কপালকুণ্ডলা নাটক নয়, গদ্যে লেখা উপন্যাস।
মনে রাখুন: বঙ্কিমের উপন্যাস তিন ভাগে মনে রাখুন: ইতিহাস রাজসিংহ, সমাজ বিষবৃক্ষ, রোমান্স কপালকুণ্ডলা।
১২৩২. কোনটি রবীন্দ্ররচনার অন্তর্গত নয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?
- খঅগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।
- গপ্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে?
- ঘকি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে।
সঠিক উত্তর: খ. অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।
প্রশ্নটি চারটি চরণ দিয়ে জানতে চেয়েছে কোনটি রবীন্দ্রনাথের লেখা নয়। উত্তর অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান চরণটি; রবীন্দ্ররচনায় এই চরণ পাওয়া যায় না।
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে চরণটি সবচেয়ে সহজে চেনা যায়, কারণ এটি আমাদের জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা থেকে নেওয়া, যা রবীন্দ্রনাথের লেখা।
আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, তাই হেরি তায় সকল খানে একটি রবীন্দ্রসংগীত। এর বাউল সুরের ভাব দেখে অনেকে লালনের গান ভাবেন, কিন্তু এটি রবীন্দ্রনাথের। কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও চরণটিও রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে।
এমন প্রশ্নে আগে যে চরণগুলো নিশ্চিত চেনেন সেগুলো বাদ দিন। জাতীয় সংগীতের চরণ সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র; বাকি থাকা অচেনা চরণটিই সাধারণত উত্তর।
মনে রাখুন: নিশ্চিত চেনা চরণ, বিশেষ করে জাতীয় সংগীতের লাইন, আগে বাদ দিন; অচেনা চরণটিই উত্তর।
১২৩৩. দ্রৌপদী কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- করামায়ণে সীতার সহচরী
- খমহাভারতে দুর্যোধনের স্ত্রী
- গরামায়ণে লক্ষ্মণের প্রণয়প্রার্থী নারী
- ঘমহাভারতে পাঁচ ভাইয়ের একক স্ত্রী
সঠিক উত্তর: ঘ. মহাভারতে পাঁচ ভাইয়ের একক স্ত্রী
প্রশ্নটি মহাকাব্যের চরিত্র চেনার। দ্রৌপদী মহাভারতের নারী চরিত্র, পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের কন্যা; তাই তাঁর আরেক নাম পাঞ্চালী।
স্বয়ংবর সভায় অর্জুন লক্ষ্যভেদ করে দ্রৌপদীকে জয় করেন। পরে মা কুন্তীর কথায় তিনি পাঁচ পাণ্ডব ভাই যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেবের একক স্ত্রী হন।
বিকল্পগুলোতে রামায়ণ আর মহাভারত মিশিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মণের কাছে প্রণয় চেয়েছিলেন রামায়ণের শূর্পণখা, আর দুর্যোধনের স্ত্রী ভানুমতী।
প্রথমে দেখুন চরিত্রটি কোন মহাকাব্যের। দ্রৌপদী মহাভারতের, তাই রামায়ণের দুটি বিকল্প এক নজরেই বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: আগে মহাকাব্য ঠিক করুন: দ্রৌপদী, কুন্তী, দুর্যোধন মহাভারতের; সীতা, লক্ষ্মণ, শূর্পণখা রামায়ণের।
১২৩৪. ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ - -গল্পটি কার লেখা? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- খশহীদুল জহির
- গশওকত ওসমান
- ঘশওকত আলী
সঠিক উত্তর: ক. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
প্রশ্নটি একটি ছোটগল্পের লেখক জানতে চেয়েছে। মিলির হাতে স্টেনগান আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্প, যা তাঁর দুধভাতে উৎপাত গল্পগ্রন্থে সংকলিত। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ঢাকার মধ্যবিত্ত জীবনের অস্থিরতা এতে উঠে এসেছে।
ইলিয়াস কম লিখেছেন, কিন্তু যা লিখেছেন সবই আলোচিত। তাঁর উপন্যাস দুটি: চিলেকোঠার সেপাই, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে, আর খোয়াবনামা। গল্পগ্রন্থের মধ্যে আছে অন্য ঘরে অন্য স্বর, দুধভাতে উৎপাত ও দোজখের ওম।
বাকি তিনজনও বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক বলে বিকল্পগুলো কাছাকাছি। শওকত ওসমানের বিখ্যাত উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আর শহীদুল জহিরের সে রাতে পূর্ণিমা ছিল।
ফাঁদ হলো দুই শওকত। নাম প্রায় এক রকম বলে গুলিয়ে যায়; দুজনের প্রধান বই আলাদা করে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: ইলিয়াস মানে দুই উপন্যাস, চিলেকোঠার সেপাই আর খোয়াবনামা; গল্পে দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম।
১২৩৫. ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কার রচিত গ্রন্থ? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- খশেখ হাসিনা
- গমওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
- ঘএ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
প্রশ্নটি একটি আত্মজীবনীর লেখক জানতে চেয়েছে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা। ১৯৬৭ সাল থেকে কারাবন্দি অবস্থায় তিনি এটি লিখতে শুরু করেন, আর বই আকারে প্রকাশ পায় ২০১২ সালে।
বইটিতে তাঁর ছেলেবেলা থেকে শুরু করে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজনৈতিক জীবনের কথা আছে; লেখা শেষ হয়নি বলেই নাম অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
বঙ্গবন্ধুর লেখা আরও দুটি বই পরীক্ষায় আসে: কারাগারের রোজনামচা, যা ২০১৭ সালে প্রকাশিত, আর আমার দেখা নয়াচীন, যা ২০২০ সালে প্রকাশিত।
ফাঁদ শেখ হাসিনা বিকল্পটি। বইটির ভূমিকা লিখেছেন তিনি এবং পাণ্ডুলিপি প্রকাশে তাঁর ভূমিকা ছিল, কিন্তু লেখক বঙ্গবন্ধু নিজে।
মনে রাখুন: বঙ্গবন্ধুর তিন বই, প্রকাশের ক্রমে: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন।
১২৩৬. প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে। - – গানটির গীতিকার কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কশাহ আবদুল করিম
- খরাধারমন
- গশেখ ওয়াহিদ
- ঘকুদ্দুস বয়াতি
সঠিক উত্তর: গ. শেখ ওয়াহিদ
প্রশ্নটি একটি জনপ্রিয় লোকগানের গীতিকার জানতে চেয়েছে। প্রাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে গানটির গীতিকার শেখ ওয়াহিদুর রহমান, যিনি শেখ ওয়াহিদ নামে পরিচিত। গানটি প্রথম গেয়ে জনপ্রিয় করেন কাঙালিনী সুফিয়া।
শিল্পী আর গীতিকার আলাদা মানুষ হতে পারেন, এটাই এই প্রশ্নের মূল শিক্ষা। কণ্ঠে যিনি গানটিকে বিখ্যাত করেছেন, তিনি সবসময় গানের রচয়িতা নন।
বাকি বিকল্পরাও লোকসংগীতের বড় নাম। শাহ আবদুল করিম সুনামগঞ্জের বাউল, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম তাঁর গান। রাধারমণ দত্ত সিলেট অঞ্চলের ধামাইল গানের জন্য বিখ্যাত, আর কুদ্দুস বয়াতি একজন জনপ্রিয় বয়াতি শিল্পী।
ফাঁদ শাহ আবদুল করিম বিকল্পটি। ভাটি অঞ্চলের বাউল গান মানেই করিম, এমন ধারণা থেকে অনেকে তাঁকে বেছে নেন; কিন্তু এই গানটি শেখ ওয়াহিদের।
মনে রাখুন: গানের প্রশ্নে খেয়াল করুন গীতিকার চাওয়া হয়েছে, না শিল্পী। এই গানের শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া, গীতিকার শেখ ওয়াহিদ।
১২৩৭. ‘মাটির ময়না’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআলমগীর কবির
- খহুমায়ূন আহমেদ
- গতারেক মাসুদ
- ঘশেখ নিয়ামত আলী
সঠিক উত্তর: গ. তারেক মাসুদ
প্রশ্নটি একটি চলচ্চিত্রের নির্মাতা জানতে চেয়েছে। মাটির ময়না তারেক মাসুদ পরিচালিত, মুক্তি ২০০২ সালে। ষাটের দশকের শেষ ভাগে এক মাদ্রাসাছাত্রের চোখে দেখা পূর্ব বাংলার সমাজ ও রাজনীতি এর কাহিনি, যার অনেকটা পরিচালকের নিজের ছেলেবেলা থেকে নেওয়া।
ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপরেস্কি আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কার পায় এবং অস্কারে বিদেশি ভাষার ছবির বিভাগে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রথম ছবি। তারেক মাসুদের আরেকটি পরিচিত কাজ মুক্তির গান প্রামাণ্যচিত্র।
বাকি তিনজনও বাংলাদেশের নামী নির্মাতা। আলমগীর কবিরের ধীরে বহে মেঘনা, হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি, আর শেখ নিয়ামত আলীর দহন উল্লেখযোগ্য ছবি।
হুমায়ূন আহমেদ বিকল্পটি ফাঁদ হতে পারে, কারণ তিনিও মুক্তিযুদ্ধ ও গ্রামীণ পটভূমিতে ছবি বানিয়েছেন; কিন্তু মাটির ময়না তাঁর নয়।
মনে রাখুন: তারেক মাসুদ মানে মাটির ময়না, মুক্তির গান, রানওয়ে; সঙ্গে কানের ফিপরেস্কি পুরস্কার।
১২৩৮. ‘হুলিয়া’ কবিতা কার রচনা? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআবুল হাসান
- খআবুল হোসেন
- গমহাদেব সাহা
- ঘনির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর: ঘ. নির্মলেন্দু গুণ
প্রশ্নটি একটি কবিতার কবি জানতে চেয়েছে। হুলিয়া নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতা, যা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই, ১৯৭০ সালে প্রকাশিত, তাতে আছে।
হুলিয়া মানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। কবিতায় মাথার ওপর হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক রাজনৈতিক কর্মীর গোপনে নিজের গ্রামে ফেরার গল্প আছে। নির্মলেন্দু গুণের আরেকটি বহুল পঠিত কবিতা স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো।
বাকি তিনজনও বাংলাদেশের কবি; আবুল হোসেন চল্লিশের দশকের, আবুল হাসান ও মহাদেব সাহা ষাট ও সত্তরের দশকের। আবুল হাসানের কাব্য রাজা যায় রাজা আসে, মহাদেব সাহার এই গৃহ এই সন্ন্যাস, আর আবুল হোসেনের নববসন্ত।
ফাঁদ আবুল হাসান আর আবুল হোসেন, নাম কাছাকাছি বলে। কিন্তু দুজনের কারও কবিতা হুলিয়া নয়।
মনে রাখুন: নির্মলেন্দু গুণ: হুলিয়া, স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো, প্রেমাংশুর রক্ত চাই।
১২৩৯. নিচের কোন সাহিত্যিক আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআবুল হাসান
- খহুমায়ুন কবির
- গসোমেন চন্দ
- ঘকল্যাণ মিত্র
সঠিক উত্তর: গ. সোমেন চন্দ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন সাহিত্যিক ঢাকায় আততায়ীর হাতে নিহত হন। প্রচলিত উত্তর সোমেন চন্দ। ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী এক সম্মেলনে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে হত্যা করা হয়; তখন তাঁর বয়স মাত্র একুশ।
সোমেন চন্দ প্রগতিশীল লেখক ও কমিউনিস্ট কর্মী ছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গল্প ইঁদুর, আর উপন্যাস বন্যা।
আবুল হাসান ১৯৭৫ সালে অসুস্থ হয়ে মারা যান, আততায়ীর হাতে নয়। কল্যাণ মিত্র নাট্যকার; আততায়ীর হাতে মৃত্যুর কোনো তথ্য তাঁর ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
সাবধান থাকুন: হুমায়ুন কবির নামে দুজন আছেন। শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবির ভারতে মারা যান, কিন্তু কবি হুমায়ুন কবির ১৯৭২ সালে ঢাকায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর অবশ্য সোমেন চন্দ।
মনে রাখুন: সোমেন চন্দ: ইঁদুর গল্প, ১৯৪২ সালে ঢাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহিদ।
১২৪০. নিম্নোক্ত কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কদেবেশ রায়ের ‘তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত’
- খসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’
- গশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘যাও পাখি’
- ঘঅভিজিৎ সেনের ‘রহুচণ্ডালের হাড়’
সঠিক উত্তর: খ. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের পরের বাংলাদেশের ছবি আছে। উত্তর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব-পশ্চিম। এর কাহিনি দেশভাগ থেকে শুরু করে দুই বাংলার মানুষের জীবন ধরে মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরের সময় পর্যন্ত এসেছে।
উপন্যাসের নামেই সূত্র আছে: পূর্ব মানে পূর্ব বাংলা, পরে বাংলাদেশ; পশ্চিম মানে পশ্চিমবঙ্গ। দুই পারের পরিবারগুলোর ভাঙন, উদ্বাস্তু জীবন আর স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা এখানে পাশাপাশি এসেছে।
অন্য তিনটির বিষয় আলাদা। দেবেশ রায়ের তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত উত্তরবঙ্গের তিস্তা অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের কাহিনি। অভিজিৎ সেনের রহু চণ্ডালের হাড় যাযাবর বাজিকর সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের যাও পাখি পশ্চিমবঙ্গের পটভূমির উপন্যাস।
চারটিই পশ্চিমবঙ্গের লেখকের উপন্যাস বলে বিভ্রান্তি হয়। বাংলাদেশ শব্দ শুনলে খুঁজুন কোন উপন্যাসের কাহিনি সীমান্ত পেরিয়ে পূর্ব বাংলায় এসেছে।
মনে রাখুন: নামেই উত্তর: পূর্ব-পশ্চিম মানে দুই বাংলা, তাই বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এখানেই।