বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩
৪১. কোনটি বিমূর্ত বিশেষ্য? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কনদী
- খবই
- গসৌন্দর্য
- ঘকাঁঠাল
সঠিক উত্তর: গ. সৌন্দর্য
বিশেষ্য পদের একটি ভাগ ভাববাচক বা বিমূর্ত বিশেষ্য। যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো গুণ, অবস্থা বা ভাব বোঝায়, যাকে দেখা বা ছোঁয়া যায় না, কেবল অনুভব করা যায়, তাকে বিমূর্ত বিশেষ্য বলে।
সৌন্দর্য একটি গুণ। সুন্দর জিনিস দেখা যায়, কিন্তু সৌন্দর্যকে আলাদা করে হাতে ধরা যায় না। তাই সৌন্দর্য বিমূর্ত বিশেষ্য। একই রকম উদাহরণ: সুখ, দুঃখ, সততা, তারুণ্য।
নদী, বই, কাঁঠাল চোখে দেখা ও স্পর্শ করা যায়, তাই এগুলো মূর্ত বা বস্তুবাচক নাম; ব্যাকরণের ভাষায় নদী জাতিবাচক, বই ও কাঁঠাল বস্তু বা জাতিবাচক বিশেষ্য।
মনে রাখুন: মনে মনে প্রশ্ন করুন: এটা কি ব্যাগে ভরা যায়? না গেলে বিমূর্ত। আরও উদাহরণ: সাহস, ভালোবাসা, মধুরতা।
৪২. শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপ্রত্যয়
- খপদ
- গবিভক্তি
- ঘশব্দ
সঠিক উত্তর: খ. পদ
শব্দ যতক্ষণ একা থাকে, ততক্ষণ সে শুধু শব্দ। কিন্তু বিভক্তি যুক্ত হয়ে বাক্যে বসলে তাকে বলে পদ। যেমন “মা” একটি শব্দ, আর “মাকে ডাকো” বাক্যে “মাকে” একটি পদ।
বাংলায় পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, অব্যয় ও ক্রিয়া। বাক্যে বসার আগে কোনো শব্দ কোন পদ, তা পুরোপুরি ঠিক হয় না; বাক্যে তার ভূমিকাই পদ নির্ধারণ করে।
প্রত্যয় আর বিভক্তি হলো শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অংশ। প্রত্যয় নতুন শব্দ তৈরি করে, বিভক্তি শব্দকে বাক্যে ব্যবহারের যোগ্য করে। এগুলো পদ গঠনের উপকরণ, পদ নিজে নয়।
মনে রাখুন: বিভক্তিযুক্ত শব্দই পদ: “বিভক্তিহীন শব্দ বাক্যে বসে না।”
৪৩. বিশেষণ পদ এর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কচলন্ত
- খখেলোয়াড়
- গপানসে
- ঘলিখিত
সঠিক উত্তর: ক. চলন্ত
কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে, আর তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় শব্দের সঙ্গে। প্রশ্নটি চাইছে এমন শব্দ, যা ধাতুর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়ে বিশেষণ পদ হয়েছে।
চলন্ত শব্দটি গঠিত চল্ ধাতুর সঙ্গে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় অন্ত যোগে। অন্ত প্রত্যয় চলমান অবস্থা বোঝানো বিশেষণ তৈরি করে, যেমন চলন্ত গাড়ি, ফুটন্ত পানি, জীবন্ত মাছ, ঘুমন্ত শিশু।
খেলোয়াড় আর পানসে শব্দ দুটো তৈরি হয়েছে শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগে, ধাতুর সঙ্গে নয়: খেলা যোগ ওয়াড়, পানি যোগ সে। তাই এগুলো তদ্ধিত প্রত্যয়।
লিখিত শব্দটিও লিখ্ ধাতুর সঙ্গে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ক্ত যোগে গঠিত বিশেষণ, তাই এটিও যুক্তিসংগত বিকল্প। পরীক্ষার কি অনুযায়ী বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে চলন্ত ধরা হয়েছে।
মনে রাখুন: অন্ত দিয়ে শেষ হওয়া বিশেষণ, যেমন ফুটন্ত, ডুবন্ত, উড়ন্ত, প্রায় সবসময় ধাতু + অন্ত কৃৎ প্রত্যয়।
৪৪. নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয় এর উদাহরণ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কনৈষ্ঠিক
- খশৈশব
- গসাহিত্যিক
- ঘঢাকাই
সঠিক উত্তর: ক. নৈষ্ঠিক
নিপাতনে সিদ্ধ মানে যে শব্দ ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম মেনে তৈরি হয়নি, কিন্তু প্রচলনের জোরে শুদ্ধ বলে গৃহীত। সন্ধি, সমাস, প্রত্যয় সব ক্ষেত্রেই এমন ব্যতিক্রম আছে।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় ষ্ণিক বা ষ্ণ যোগ হলে সাধারণত শব্দের প্রথম স্বরের বৃদ্ধি হয়: ই বা এ হয় ঐ, উ হয় ঔ, অ হয় আ। যেমন ধর্ম থেকে ধার্মিক, শিশু থেকে শৈশব।
পরীক্ষার কি অনুযায়ী নিষ্ঠা থেকে গঠিত নৈষ্ঠিক শব্দটিকে নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ ধরা হয়েছে। সাহিত্যিক সাহিত্য যোগ ষ্ণিক, শৈশব শিশু যোগ ষ্ণ, আর ঢাকাই ঢাকা যোগ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় আই; এগুলো সাধারণ নিয়মের উদাহরণ হিসেবে পড়ানো হয়।
এ ধরনের প্রশ্নে বিভিন্ন ব্যাকরণ বইয়ে উদাহরণ আলাদা হতে পারে, তাই প্রচলিত তালিকার শব্দগুলো আলাদা করে মুখস্থ রাখা নিরাপদ।
মনে রাখুন: নিপাতনে সিদ্ধের প্রশ্নে অপশনের প্রতিটি শব্দ ভেঙে দেখুন; যে ভাঙন সাধারণ নিয়মে মেলে, সেটি বাদ।
৪৫. 'চর্যাপদ' মূলত কোন ভাষার আদলে রচিত? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপ্রাকৃত
- খপালি
- গঅপভ্রংশ
- ঘসংস্কৃত
সঠিক উত্তর: গ. অপভ্রংশ
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে রচিত মোটামুটি দশম থেকে দ্বাদশ শতকে (মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে সপ্তম শতক থেকে)। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
এর ভাষা প্রাচীন বাংলা, তবে তখনো বাংলা অপভ্রংশ থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়ে ওঠেনি। তাই চর্যার ভাষায় অপভ্রংশ বা অবহট্টের ছাপ স্পষ্ট; অনেক পণ্ডিত এতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাবও দেখিয়েছেন। এ কারণেই বলা হয়, চর্যাপদ অপভ্রংশের আদলে রচিত।
ভাষার বিবর্তনের ধারা মনে রাখুন: প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ, অপভ্রংশ থেকে বাংলা। চর্যাপদ ঠিক অপভ্রংশ আর বাংলার সীমানায় দাঁড়িয়ে।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এর ভাষাকে বলেছেন সন্ধ্যাভাষা, মানে আলো-আঁধারির ভাষা, যার অর্থ কিছু বোঝা যায়, কিছু যায় না। প্রাকৃত চর্যার এক ধাপ আগের ভাষা, তাই প্রাকৃত বেছে নেওয়া ফাঁদ।
মনে রাখুন: ক্রম মনে রাখুন: সংস্কৃত, প্রাকৃত, অপভ্রংশ, বাংলা। চর্যাপদ বাংলার প্রথম ধাপ, তাই তার ঠিক আগের স্তর অপভ্রংশের ছাপ বেশি।
৪৬. 'কাজ' শব্দটি কোন পদ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কক্রিয়া
- খবিশেষ্য
- গসর্বনাম
- ঘবিশেষণ
সঠিক উত্তর: খ. বিশেষ্য
কাজ শব্দটি একটি কর্মের নাম বোঝায়, তাই এটি বিশেষ্য পদ। নির্দিষ্টভাবে এটি ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য, কারণ এতে কোনো কাজের ভাব প্রকাশ পায়।
কাজ নিজে ক্রিয়া নয়। ক্রিয়া হতে হলে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী রূপ বদলাতে হয়, যেমন করি, করছে, করবে। “কাজ করা” বললে করা হলো ক্রিয়া, কাজ তার কর্ম।
প্রশ্নের ফাঁদ হলো কাজ শব্দের অর্থ ক্রিয়ার কাছাকাছি হওয়ায় অনেকে ক্রিয়া বেছে নেন। একই রকম শব্দ: ভোজন, গমন, দর্শন, পড়াশোনা; এগুলোও কাজের নাম, তাই বিশেষ্য।
মনে রাখুন: যে শব্দ “করা” ক্রিয়ার কর্ম হতে পারে (কাজ করা, ভোজন করা, গমন করা) সেটি সাধারণত ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
৪৭. 'দ্রুত' শব্দটি কোন পদ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবিশেষ্য
- খক্রিয়া বিশেষণ
- গবিশেষণ
- ঘঅব্যয়
সঠিক উত্তর: খ. ক্রিয়া বিশেষণ
দ্রুত শব্দটি গতি বা তাড়াতাড়ি হওয়ার ভাব বোঝায়। বাক্যে যখন এটি ক্রিয়ার ধরন বোঝায়, যেমন “সে দ্রুত হাঁটে”, তখন এটি ক্রিয়া বিশেষণ।
ক্রিয়া বিশেষণ ক্রিয়া কীভাবে, কখন বা কোথায় ঘটছে তা বলে। এখানে হাঁটা কীভাবে, উত্তর দ্রুত; তাই এটি ভাববাচক বা রীতিবাচক ক্রিয়া বিশেষণ।
তবে বিশেষ্যের আগে বসলে, যেমন “দ্রুত গাড়ি” বা “দ্রুত গতি”, শব্দটি নাম বিশেষণ হিসেবে কাজ করে। পরীক্ষার কি অনুযায়ী এর প্রধান প্রয়োগ ক্রিয়া বিশেষণ ধরা হয়েছে।
বিশেষ্য বা অব্যয় বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; দ্রুত কোনো নাম নয়, আর এটি বাক্যে অপরিবর্তনীয় সংযোজক শব্দও নয়।
মনে রাখুন: ক্রিয়াকে “কীভাবে?” প্রশ্ন করুন; উত্তরে যে শব্দ আসে, সেটি ক্রিয়া বিশেষণ: ধীরে, জোরে, দ্রুত।
৪৮. 'প্রভাতচিন্তা' কার রচিত গ্রন্থ? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খপ্যারীচাঁদ মিত্র
- গকালীপ্রসন্ন ঘোষ
- ঘশিবনাথ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর: গ. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
প্রভাতচিন্তা কালীপ্রসন্ন ঘোষের প্রবন্ধগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৮৭৭ সালে। তিনি উনিশ শতকের ঢাকাকেন্দ্রিক বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক; জন্ম বিক্রমপুরে।
তাঁর “চিন্তা” নামের তিনটি বই একসঙ্গে মনে রাখুন: প্রভাতচিন্তা, নিভৃতচিন্তা আর নিশীথচিন্তা। তিনি ঢাকা থেকে “বান্ধব” নামে মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধগ্রন্থ লোকরহস্য, কমলাকান্তের দপ্তর; প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত বই আলালের ঘরের দুলাল; শিবনাথ শাস্ত্রীর বিখ্যাত বই রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।
মনে রাখুন: নামের শেষে “চিন্তা”: প্রভাত, নিভৃত, নিশীথ; তিনটিই কালীপ্রসন্ন ঘোষের।
৪৯. 'সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে' কার লেখা? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কআবুল হাসান
- খআবুল হোসেন
- গরফিক আজাদ
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: গ. রফিক আজাদ
“সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে” রফিক আজাদের কাব্যগ্রন্থ। তিনি ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা।
রফিক আজাদের পরিচিত কাব্যগ্রন্থ: অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি। দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা তাঁর কবিতা “ভাত দে হারামজাদা” খুব বিখ্যাত।
আবুল হাসান আর আবুল হোসেন নাম দুটো কাছাকাছি হওয়ায় ফাঁদ তৈরি হয়। আবুল হাসানের বই রাজা যায় রাজা আসে, পৃথক পালঙ্ক; আবুল হোসেনের বই নববসন্ত; শামসুর রাহমানের বই প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, বন্দী শিবির থেকে।
মনে রাখুন: রফিক আজাদের বইয়ের নামে প্রায়ই অনুপ্রাস: সীমাবদ্ধ-সীমিত, চুনিয়া-আর্কেডিয়া।
৫০. বাংলা সাহিত্যের 'দুঃখবাদী কবি' কে? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কগোবিন্দ দাস
- খযতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
- গসুকান্ত ভট্টাচার্য
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: খ. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
বাংলা সাহিত্যে দুঃখবাদী কবি বলা হয় যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তকে। তিনি রবীন্দ্রযুগে লিখেছেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের আনন্দ ও সৌন্দর্যবাদের বিপরীতে জীবনের দুঃখ, যন্ত্রণা আর হতাশাকে কবিতার মূল সুর করেছেন।
তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর নামেই মরুভূমির রুক্ষতা: মরীচিকা, মরুশিখা, মরুমায়া। এছাড়া সায়ম, ত্রিযামা, নিশান্তিকা তাঁর বই।
সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বলা হয় কিশোর কবি; গোবিন্দ দাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদকর্তা; বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্যসম্রাট।
মনে রাখুন: বইয়ের নামে “মরু” থাকলে (মরীচিকা, মরুশিখা, মরুমায়া) কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, দুঃখবাদী।
৫১. কাজী নজরুল ইসলাম পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কধ্রুব
- খধূপছায়া
- গরুদ্রমঙ্গল
- ঘশতদল
সঠিক উত্তর: খ. ধূপছায়া
কাজী নজরুল ইসলাম কেবল কবি নন, চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন: অভিনেতা, গীতিকার, সুরকার ও পরিচালক হিসেবে। তিনি ধূপছায়া চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন এবং এতে বিষ্ণুর ভূমিকায় অভিনয়ও করেন।
এর আগে ১৯৩৪ সালে মুক্তি পাওয়া ধ্রুব চলচ্চিত্রে নজরুল নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন, বেশিরভাগ গানের সুর দেন। ধ্রুব তিনি সত্যেন্দ্রনাথ দে-র সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়।
রুদ্রমঙ্গল নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ, আর শতদল চলচ্চিত্র নয়। তাই এককভাবে নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্র হিসেবে উত্তর ধূপছায়া।
মনে রাখুন: নজরুল অভিনীত প্রশ্নে ধ্রুব, নজরুল পরিচালিত প্রশ্নে ধূপছায়া; এভাবেই পরীক্ষায় দুটো আলাদা করা হয়।
৫২. নিচের কোনটি সমার্থক শব্দ নয়? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কগোলাগুলি
- খলেনদেন
- গসাজসজ্জা
- ঘছাইভস্ম
সঠিক উত্তর: খ. লেনদেন
প্রশ্নটা শব্দজোড় বা শব্দদ্বৈত নিয়ে। বাংলায় দুটি শব্দ জোড়া লাগিয়ে নতুন শব্দ হয়; কখনো দুটির অর্থ একই রকম, কখনো উল্টো।
সাজসজ্জা: সাজ আর সজ্জা দুটোর অর্থই সাজানো। ছাইভস্ম: ছাই আর ভস্ম একই জিনিস। গোলাগুলি: গোলা আর গুলি দুটোই অস্ত্রের নিক্ষেপ্য। তাই এই তিনটি সমার্থক শব্দজোড়।
লেনদেন: লেন মানে নেওয়া, দেন মানে দেওয়া; অর্থ পরস্পরবিরোধী। তাই লেনদেন বিপরীতার্থক শব্দজোড়, সমার্থক নয়। একই রকম উদাহরণ: আসা-যাওয়া, দেনা-পাওনা, ভালোমন্দ।
মনে রাখুন: শব্দজোড় ভেঙে দুই অংশের অর্থ মিলিয়ে দেখুন; উল্টো হলে বিপরীতার্থক: দেনা-পাওনা, আয়-ব্যয়, লেনদেন।
৫৩. 'ঋজু' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কসোজা
- খসরল
- গবক্র
- ঘআবক্র
সঠিক উত্তর: গ. বক্র
প্রশ্নটা বিপরীতার্থক শব্দ যাচাই করছে। ঋজু একটি তৎসম শব্দ, অর্থ সোজা, সরল বা খাড়া। যেমন ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়ানো মানে টানটান সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
সোজার বিপরীত হলো বাঁকা, তৎসম শব্দে বক্র। তাই ঋজুর বিপরীত শব্দ বক্র; কুটিলও একই অর্থে চলে।
সোজা আর সরল দুটোই ঋজুর সমার্থক, বিপরীত নয়। প্রশ্নে বিপরীতার্থক চাওয়া হয়েছে, এটা খেয়াল না করলেই এই ভুল হয়।
আবক্র শব্দে আ উপসর্গ ঈষৎ বা সামান্য অর্থ দেয়, তাই আবক্র মানে অল্প বাঁকা। পূর্ণ বিপরীত হিসেবে বক্রই সঠিক।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দের প্রশ্নে আগে মূল শব্দের সমার্থক অপশনগুলো বাদ দিন; বাকিটা থেকে পূর্ণ বিপরীত খুঁজুন।
৫৪. উপমান কর্মধারয় সমাস এর সঠিক উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কচাঁদমুখ
- খতুষারশুভ্র
- গসিংহপুরুষ
- ঘমুখচন্দ্র
সঠিক উত্তর: খ. তুষারশুভ্র
প্রশ্নটা কর্মধারয় সমাসের উপমা-ভিত্তিক তিন ভাগ চেনা যাচাই করছে: উপমান, উপমিত ও রূপক। এখানে মূল প্রশ্ন হলো সমাসবদ্ধ পদে সাধারণ ধর্ম আছে কি না।
উপমান কর্মধারয়ে উপমানের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের সমাস হয়, উপমেয় থাকে না। তুষারশুভ্র মানে তুষারের ন্যায় শুভ্র: তুষার উপমান, শুভ্রতা সাধারণ ধর্ম। একইভাবে কাজলকালো, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত।
উপমিত কর্মধারয়ে উপমেয় আর উপমান থাকে, কিন্তু সাধারণ ধর্ম উহ্য থাকে। মুখচন্দ্র মানে মুখ চন্দ্রের ন্যায়; সিংহপুরুষ বা পুরুষসিংহ, চাঁদমুখও এই ধরনের, কারণ মুখ আর চাঁদের মিলটা কোন গুণে তা পদে বলা নেই।
ফাঁদ হলো চাঁদমুখ বা মুখচন্দ্রে উপমা দেখে উপমান ভেবে নেওয়া। মনে রাখুন, শেষ পদটি গুণ বা বিশেষণ হলে উপমান, আর বিশেষ্য হলে সাধারণত উপমিত (রূপক কর্মধারয়েও শেষ পদ বিশেষ্য, তবে সেখানে উপমেয়-উপমানকে অভেদ ধরা হয়, যেমন বিদ্যাসাগর)।
মনে রাখুন: শেষ পদ বিশেষণ (শুভ্র, কালো, রাঙা) হলে উপমান; শেষ পদ বিশেষ্য (চন্দ্র, সিংহ, মুখ) আর ন্যায়/মতো অর্থ থাকলে উপমিত; অভেদ বোঝালে রূপক।
৫৫. 'দারোগা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কতুর্কি
- খওলন্দাজ
- গগুজরাটি
- ঘফরাসি
সঠিক উত্তর: ক. তুর্কি
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস যাচাই করছে। মুঘল আমলে ফারসির সঙ্গে প্রশাসনের ভাষা হিসেবে কিছু তুর্কি শব্দও বাংলায় আসে, বিশেষত পদবি ও সামরিক শব্দ।
দারোগা মূলত পুলিশ বা তদারকি কর্মকর্তার পদবি, আর বাংলা ব্যাকরণে এটিকে তুর্কি শব্দ হিসেবেই পড়ানো হয়। একই দলের অন্য তুর্কি শব্দ: বাবুর্চি, কাঁচি, চাকু, বেগম, তোপ, লাশ, কুলি।
ওলন্দাজ, মানে ডাচ, থেকে এসেছে তাসের শব্দ: ইস্কাপন, রুইতন, হরতন, তুরুপ। গুজরাটি থেকে খদ্দর ও হরতাল। ফরাসি থেকে কার্তুজ, কুপন, রেস্তোরাঁ, ডিপো।
অনেকে পদবি শুনে ফারসি ভাবেন, আর ফরাসি ও ফারসি গুলিয়ে ফেলে ফরাসি বেছে নেন। ফরাসি মানে ফ্রান্সের ভাষা, এখানে তা ভুল।
মনে রাখুন: তুর্কি শব্দ মনে রাখার দল: দারোগা, বাবুর্চি, বেগম, কাঁচি, চাকু, তোপ, লাশ।
৫৬. যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন- তাকে এক কথায় কী বলে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- ককৃতবিদ্য
- খজ্ঞানী
- গবিদ্বান
- ঘসর্বজ্ঞানী
সঠিক উত্তর: ক. কৃতবিদ্য
এক কথায় প্রকাশের প্রশ্নে বাক্যাংশের প্রতিটি অর্থ শব্দে মিলতে হয়। যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন, এখানে মূল কথা হলো বিদ্যা অর্জন সম্পন্ন হয়েছে।
কৃতবিদ্য শব্দটি কৃত আর বিদ্যা মিলে গঠিত। কৃত মানে সম্পন্ন বা করা হয়েছে, তাই কৃতবিদ্য মানে যাঁর বিদ্যা অর্জন সম্পন্ন হয়েছে, অর্থাৎ যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন। এটি বহুব্রীহি সমাসের ধাঁচে গঠিত।
বিদ্বান মানে বিদ্যা আছে যার, জ্ঞানী মানে জ্ঞান আছে যার, আর সর্বজ্ঞ মানে যিনি সব জানেন। এগুলো কাছাকাছি হলেও বিদ্যা লাভ করা ক্রিয়াটি ঠিক প্রকাশ করে কৃতবিদ্য।
ফাঁদ হলো বিদ্বান। অর্থ কাছাকাছি বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু প্রচলিত এক কথায় প্রকাশে যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন বোঝাতে কৃতবিদ্য-ই নির্ধারিত।
মনে রাখুন: লাভ করেছেন বা সম্পন্ন অর্থ থাকলে কৃত- দিয়ে শুরু শব্দ খুঁজুন: কৃতবিদ্য, কৃতকার্য, কৃতজ্ঞ।
৫৭. 'অজর' শব্দের প্রকৃত অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কঅস্থির
- খকাঁপনহীন
- গচিরসবুজ
- ঘবার্ধক্যহীন
সঠিক উত্তর: ঘ. বার্ধক্যহীন
অজর শব্দটি গঠিত না-বাচক অ আর জরা মিলে। জরা মানে বার্ধক্য বা বয়সজনিত ক্ষয়। তাই অজর মানে যার জরা নেই, অর্থাৎ বার্ধক্যহীন, চিরযৌবন।
সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যে অজর ও অমর প্রায়ই একসাথে আসে: অজর মানে যে বুড়ো হয় না, অমর মানে যে মরে না। ব্যাসবাক্য হলো নেই জরা যার, তাই এটি নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস; এখানে না-বাচক অ অভাব বোঝায়।
একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ: অমর, যার মৃত্যু নেই; অক্ষয়, যার ক্ষয় নেই; অজেয়, যাকে জয় করা যায় না।
ফাঁদ হলো চিরসবুজ। অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি মনে হলেও চিরসবুজ গাছপালার বেলায় বলা হয়, অজরের আক্ষরিক অর্থ বার্ধক্যহীন।
মনে রাখুন: অ- দিয়ে শুরু তৎসম শব্দে পরের অংশের অর্থ বের করুন, তারপর নেই জুড়ে দিন।
৫৮. 'অন্তরীক্ষ' শব্দের প্রকৃত অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কমনের গভীরতা
- খঅন্তস্থ স্থান
- গমহাশূন্য
- ঘআকাশের নিচে
সঠিক উত্তর: গ. মহাশূন্য
অন্তরীক্ষ একটি তৎসম শব্দ, অর্থ আকাশ, নভোমণ্ডল বা পৃথিবী ও স্বর্গের মাঝের শূন্যস্থান। আধুনিক বাংলায় একে মহাশূন্য অর্থেও ব্যবহার করা হয়, যেমন অন্তরীক্ষ অভিযান।
শব্দটির বানান মনে রাখার মতো: র-এর পরে দীর্ঘ ঈ-কার, অন্তরীক্ষ। আকাশের আরও প্রতিশব্দ হলো গগন, নভ, অম্বর, ব্যোম, আসমান।
অন্তর শব্দটি থাকায় অনেকে মনের ভেতর বা অন্তস্থ স্থান মনে করেন, কিন্তু এখানে অন্তর মানে মাঝখান, মন নয়।
ফাঁদ হলো মনের গভীরতা। অন্তর মানে হৃদয় ধরে নিলেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: অন্তরীক্ষ, গগন, নভ, অম্বর, ব্যোম: সবই আকাশের প্রতিশব্দ।
৫৯. সন্ধিতে কিসের সংকোচন হয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কপদের
- খবাক্যের
- গশব্দের
- ঘধ্বনির
সঠিক উত্তর: ঘ. ধ্বনির
সন্ধি মানে পরপর দুটি ধ্বনির মিলন। পাশাপাশি দুটি ধ্বনি মিলে এক হয়ে যায় বা একটি বদলে যায়, ফলে উচ্চারণ সহজ হয় এবং শব্দ ছোট হয়। তাই সন্ধিতে ধ্বনির সংকোচন হয়।
যেমন বিদ্যা আর আলয় মিলে বিদ্যালয়। এখানে আ আর আ দুটি ধ্বনি মিলে একটি আ হয়েছে। আবার হিম আর আলয় মিলে হিমালয়।
এর বিপরীতে সমাসে পদের সংকোচন হয়: দুই বা ততোধিক পদ বিভক্তি হারিয়ে এক পদ হয়, যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন। সন্ধি ধ্বনির মিলন, সমাস পদের মিলন।
ফাঁদ হলো পদের, কারণ সমাস আর সন্ধি গুলিয়ে ফেললে এটাই সবার আগে মনে আসে।
মনে রাখুন: সন্ধিতে ধ্বনি, সমাসে পদ: প্রশ্নে সন্ধি থাকলে ধ্বনি, সমাস থাকলে পদ বেছে নিন।
৬০. মা রান্না করছেন- এখানে 'করছেন' কোন ক্রিয়া? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কসকর্মক
- খঅকর্মক
- গসমাপিকা
- ঘঅসমাপিকা
সঠিক উত্তর: গ. সমাপিকা
ক্রিয়াকে দুইভাবে ভাগ করা যায়। অর্থ সম্পূর্ণ হয় কিনা দেখে: সমাপিকা আর অসমাপিকা। আর কর্ম আছে কিনা দেখে: সকর্মক আর অকর্মক। এই প্রশ্নে মূল বিবেচনা হলো বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা।
মা রান্না করছেন, এখানে করছেন ক্রিয়াটির পরে আর কিছু না বললেও বাক্যের অর্থ পুরো বোঝা যায়। যে ক্রিয়া দিয়ে বাক্যের মনোভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। তাই করছেন সমাপিকা ক্রিয়া।
তুলনা করুন: মা রান্না করে, এই অংশে থামলে মনে হয় আরও কিছু বাকি, যেমন মা রান্না করে খাওয়ালেন। এখানে করে অসমাপিকা। সাধারণত ইয়া, ইলে, ইতে বা এ, লে, তে যুক্ত ক্রিয়া অসমাপিকা হয়।
এখানে রান্না শব্দটিকে কর্ম ধরলে করছেন সকর্মকও বলা যায়, তাই সকর্মক অপশনটিও কেউ কেউ যুক্তিসংগত মনে করেন। তবে পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর সমাপিকা, কারণ বাক্যটি ক্রিয়াতেই পূর্ণ হয়েছে। অকর্মক বা অসমাপিকা বেছে নেওয়া স্পষ্টতই ভুল।
মনে রাখুন: ক্রিয়ায় বাক্য থেমে গেলেও অর্থ পুরো হলে সমাপিকা; ইয়া, ইলে, ইতে থাকলে সাধারণত অসমাপিকা।