বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪
৬১. জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই- গঠন অনুসারে এটি কোন বাক্য? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কজটিল
- খসরল
- গযৌগিক
- ঘমিশ্র
সঠিক উত্তর: খ. সরল
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল আর যৌগিক। যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য আর একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তা সরল বাক্য।
জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই, এখানে উদ্দেশ্য কিছু, আর সমাপিকা ক্রিয়া একটিই, নেই। কোনো যে-সে, যদি-তবে জাতীয় সাপেক্ষ শব্দ বা এবং, কিন্তু জাতীয় সংযোজক দিয়ে দুটি বাক্যাংশ জোড়া হয়নি। তাই এটি সরল বাক্য।
এটাকে জটিল করলে হয়: জগতে এমন কিছু নেই যা অসম্ভব। যৌগিক করলে হয়: জগতে সবকিছুই সম্ভব, তাই অসম্ভব বলে কিছু নেই। মিশ্র বাক্য আর জটিল বাক্য একই জিনিসের দুই নাম।
ফাঁদ হলো অসম্ভব বলে অংশটিকে আলাদা খণ্ডবাক্য ভাবা। বলে এখানে অনুসর্গের মতো কাজ করে অসম্ভবকে কিছু-র সাথে জুড়ে দিয়েছে; এর কোনো আলাদা কর্তা নেই, তাই আলাদা খণ্ডবাক্যও নেই।
মনে রাখুন: সমাপিকা ক্রিয়া গুনুন: একটি হলে সরল; যে-সে থাকলে জটিল; এবং-কিন্তু থাকলে যৌগিক।
৬২. যে সব পদের সাহায্যে মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে কি বলে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- ককারক
- খশব্দ
- গবাক্য
- ঘবিভক্তি
সঠিক উত্তর: গ. বাক্য
যে পদ বা পদসমষ্টি দিয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে। এটি বাক্যের প্রচলিত সংজ্ঞা।
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়: আকাঙ্ক্ষা, মানে এক পদ শোনার পর পরের পদ শোনার যে ইচ্ছা জাগে, বাক্যে তা পূরণ হওয়া; আসত্তি, মানে পদগুলো ঠিক ক্রমে সাজানো; আর যোগ্যতা, মানে অর্থের দিক থেকে সংগতি।
শব্দ হলো অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি, যা একা পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না। বিভক্তি যুক্ত হলে শব্দ পদ হয়। কারক হলো বাক্যে ক্রিয়ার সাথে নামপদের সম্পর্ক।
ফাঁদ হলো শব্দ। শব্দের অর্থ থাকে, কিন্তু সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ হয় কেবল বাক্যে।
মনে রাখুন: সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ শব্দবন্ধ দেখলেই উত্তর বাক্য।
৬৩. 'আঘাত' এর সমার্থক নয় কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কপ্রতিঘাত
- খব্যথা
- গজ্বালা
- ঘযন্ত্রণা
সঠিক উত্তর: ক. প্রতিঘাত
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোনটি আঘাত শব্দের সমার্থক নয়। আঘাত শব্দের দুটি দিক আছে: শারীরিক আঘাত, মানে চোট বা ঘা; আর মনে আঘাত, মানে কষ্ট, ব্যথা, যন্ত্রণা।
ব্যথা, জ্বালা আর যন্ত্রণা আঘাত পাওয়ার অনুভূতি বোঝায়, তাই প্রচলিত অভিধান ও প্রতিশব্দের তালিকায় এগুলো আঘাতের কাছাকাছি অর্থে ধরা হয়। যেমন মনে আঘাত পাওয়া আর মনে ব্যথা পাওয়া প্রায় একই।
প্রতিঘাত শব্দটি গঠিত প্রতি উপসর্গ আর ঘাত মিলে, মানে আঘাতের বদলে ফিরতি আঘাত বা পাল্টা আঘাত। এটি আঘাতের সমার্থক নয়, বরং আঘাতের জবাব।
ফাঁদ হলো ঘাত অংশটি। শব্দের ভেতরে ঘাত থাকায় একে আঘাতের সমার্থক মনে হয়, কিন্তু প্রতি উপসর্গ অর্থ বদলে দিয়েছে। অপশনের বানানটি প্রমিত রূপে যন্ত্রণা, র-এর পরে মূর্ধন্য ণ।
মনে রাখুন: প্রতি- যুক্ত শব্দ সাধারণত মূল শব্দের জবাব বা বিপরীত বোঝায়, সমার্থক নয়।
৬৪. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কশারীরীক
- খশারীরিক
- গশারিরিক
- ঘশারিরীক
সঠিক উত্তর: খ. শারীরিক
শারীরিক শব্দটি গঠিত শরীর শব্দের সাথে ইক প্রত্যয় যোগে। ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়, তাই শ-এর অ হয়ে যায় আ: শরীর থেকে শারীর।
মূল শব্দ শরীর-এ র-এর আগে দীর্ঘ ঈ-কার, তাই শারীর অংশেও রী থাকে। আর ইক প্রত্যয়ের ই সবসময় হ্রস্ব, তাই শেষে রিক। মিলিয়ে শুদ্ধ বানান শারীরিক।
একই নিয়মে: সমাজ থেকে সামাজিক, ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক, অর্থ থেকে আর্থিক, মাস থেকে মাসিক। ইক প্রত্যয় যুক্ত সব শব্দের শেষে হ্রস্ব ই-কার।
ফাঁদ হলো দুই জায়গার ই-কার উল্টে ফেলা। শারিরীক বানানে দুটি ভুলই আছে। মনে রাখুন: মাঝখানে শরীরের দীর্ঘ ঈ, শেষে প্রত্যয়ের হ্রস্ব ই।
মনে রাখুন: মূল শব্দের বানান অক্ষত রেখে শেষে হ্রস্ব ইক: শরীর থেকে শারীরিক, সমাজ থেকে সামাজিক, অর্থ থেকে আর্থিক।
৬৫. কোনটি 'সংগীত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কসম্+গীত
- খসং+গীত
- গসংগী+ত
- ঘসংগ+ইত
সঠিক উত্তর: ক. সম্+গীত
প্রশ্নটা ব্যঞ্জনসন্ধির একটি নিয়ম যাচাই করছে: ম্-এর পরে ক-বর্গের কোনো ধ্বনি, অর্থাৎ ক খ গ ঘ ঙ থাকলে ম্ বদলে অনুস্বার বা ঙ হয়।
সংগীত শব্দে আছে সম্ আর গীত। সম্-এর ম্-এর পরে গ, যা ক-বর্গের ধ্বনি; তাই ম্ বদলে ং হয়ে সংগীত। এভাবেই সম্ যোগ গতি থেকে সংগতি, সম্ যোগ কল্প থেকে সংকল্প।
সন্ধিবিচ্ছেদে আমরা বদলে যাওয়া ধ্বনিকে তার মূল রূপে ফিরিয়ে লিখি। তাই ং আবার ম্ হয়ে যায়, আর বিচ্ছেদ হয় সম্ যোগ গীত।
সং যোগ গীত লিখলে বদলে যাওয়া রূপটাই রেখে দেওয়া হয়, তাই সেটা প্রকৃত বিচ্ছেদ নয়; এটাই সবচেয়ে সাধারণ ফাঁদ।
মনে রাখুন: ং-এর পরে ক-বর্গের ধ্বনি থাকলে বিচ্ছেদে ং ফিরে ম্ হয়: সংগীত, সংকল্প, সংগতি, সংঘাত।
৬৬. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কনীরিহ
- খনিরিহ
- গনিরীহ
- ঘনীরীহ
সঠিক উত্তর: গ. নিরীহ
প্রশ্নটা তৎসম শব্দের শুদ্ধ বানান যাচাই করছে। শুদ্ধ বানান নিরীহ, মানে শান্ত, যে কারো ক্ষতি করে না।
শব্দটি এসেছে নির্ আর ঈহা থেকে; ঈহা মানে চেষ্টা বা আকাঙ্ক্ষা। নির্-এর ই হ্রস্ব, আর ঈহা-র ঈ দীর্ঘ। দুই অংশ মিলে নি-তে হ্রস্ব ই-কার, রী-তে দীর্ঘ ঈ-কার।
নির্ উপসর্গ যুক্ত অন্য শব্দেও প্রথমে হ্রস্ব ই থাকে, যেমন নিরাপদ, নিরুপায়, নিরর্থক। তাই নী দিয়ে শুরু বানান ভুল।
নীরব আর নীরস শব্দে নী দীর্ঘ, কারণ সেগুলো আলাদা গঠন; সেগুলোর সাথে গুলিয়ে নীরিহ বা নীরীহ লেখাই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: নির্ উপসর্গ মানেই হ্রস্ব ই (নিরাপদ, নিরীক্ষা, নিরীহ); ঈহা-র ঈ মনে রাখলে রী দীর্ঘ।
৬৭. 'অগ্নি' শব্দের সমার্থক কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- ককৃশানু
- খভানু
- গসবিতা
- ঘপ্রভা
সঠিক উত্তর: ক. কৃশানু
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ যাচাই করছে। অগ্নি মানে আগুন, আর এর একটি সমার্থক শব্দ কৃশানু।
অগ্নির আরও প্রচলিত সমার্থক শব্দ হলো অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর ও বিভাবসু। পরীক্ষায় এগুলো ঘুরে ফিরে আসে।
ভানু আর সবিতা দুটোই সূর্যের প্রতিশব্দ; প্রভা মানে আলো বা দীপ্তি। আগুন থেকেও আলো আসে, তাই এরা কাছাকাছি মনে হয়, কিন্তু সমার্থক নয়।
আগুন আর সূর্য দুটোই উজ্জ্বল ও তাপ দেয় বলে ভানু বা সবিতাকে অগ্নির প্রতিশব্দ ভেবে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: অগ্নির প্রতিশব্দ একসাথে মুখস্থ: অনল, বহ্নি, পাবক, কৃশানু, হুতাশন, বৈশ্বানর।
৬৮. 'আকাশ' শব্দের সমার্থক কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কময়ূখ
- খঅম্বর
- গনীলানু
- ঘবিভাবরী
সঠিক উত্তর: খ. অম্বর
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ যাচাই করছে। আকাশের একটি প্রতিশব্দ অম্বর। পীতাম্বর বা দিগম্বর শব্দেও অম্বর আছে, যদিও সেখানে অম্বর মানে বস্ত্র; অম্বরের দুটি অর্থই আছে, আকাশ ও কাপড়।
আকাশের আরও প্রচলিত প্রতিশব্দ হলো গগন, নভ, নভোমণ্ডল, ব্যোম, অন্তরীক্ষ ও দ্যুলোক।
ময়ূখ মানে কিরণ বা রশ্মি, আর বিভাবরী মানে রাত্রি। নীলানু কোনো প্রচলিত বাংলা শব্দ নয়; আকাশ নীল বলে নীল শব্দাংশ দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
আকাশের সাথে আলো আর রাতের যোগ আছে বলে ময়ূখ বা বিভাবরী কাছাকাছি মনে হয়, কিন্তু অর্থ আলাদা।
মনে রাখুন: আকাশ: অম্বর, গগন, নভ, ব্যোম, অন্তরীক্ষ, দ্যুলোক। রাত্রি: বিভাবরী, যামিনী, নিশি।
৬৯. 'নন্দিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কবিষণ্ণ
- খবিষাদ
- গপ্রচ্ছন্ন
- ঘনিন্দিত
সঠিক উত্তর: ঘ. নিন্দিত
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। নন্দিত মানে প্রশংসিত বা আনন্দিত, যাকে সবাই অভিনন্দন জানায়। এর বিপরীত নিন্দিত, মানে যার নিন্দা করা হয়েছে।
নন্দিত আর নিন্দিত দুটোই ইত প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ; একটির মূলে নন্দ মানে আনন্দ বা প্রশংসা, অন্যটির মূলে নিন্দা। গঠন একই, অর্থ উল্টো।
বিষণ্ণ মানে দুঃখিত বা মলিন, বিষাদ মানে দুঃখ, যা বিশেষ্য, আর প্রচ্ছন্ন মানে লুকানো, যার বিপরীত প্রকাশ্য বা স্পষ্ট।
নন্দিতকে শুধু আনন্দিত ভেবে বিষণ্ণ বেছে নেওয়াই এখানে ফাঁদ। প্রশংসার ঠিক উল্টো হলো নিন্দা।
মনে রাখুন: একই গঠনের জোড়া খুঁজুন: নন্দিত-নিন্দিত, প্রশংসা-নিন্দা, আদৃত-অনাদৃত।
৭০. পাশাপাশি অবস্থিত দুটো ধ্বনির মিলনে এক ধ্বনি সৃষ্টি হওয়াকে কি বলে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কস্বরসন্ধি
- খসন্ধি
- গব্যঞ্জন সন্ধি
- ঘবিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর: খ. সন্ধি
প্রশ্নটা সন্ধির সংজ্ঞা যাচাই করছে। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে; মিলনের ফলে কখনো দুটি ধ্বনি মিলে একটি নতুন ধ্বনি হয়, কখনো একটি লোপ পায় বা বদলায়।
সন্ধির উদ্দেশ্য উচ্চারণ সহজ ও শ্রুতিমধুর করা। যেমন বিদ্যা যোগ আলয় মিলে বিদ্যালয়, যেখানে আ আর আ মিলে একটিই আ।
স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি আর বিসর্গসন্ধি হলো সন্ধির প্রকারভেদ। স্বরের সাথে স্বরের মিলন স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনের সাথে কোনো ধ্বনির মিলন ব্যঞ্জনসন্ধি, আর বিসর্গের সাথে মিলন বিসর্গসন্ধি।
প্রশ্নে ধ্বনির ধরন বলা হয়নি, শুধু দুটি ধ্বনির মিলন বলা হয়েছে; তাই সাধারণ সংজ্ঞা সন্ধিই উত্তর। স্বরসন্ধির উদাহরণে এক ধ্বনি হওয়ার কথা বেশি শোনা যায় বলে অনেকে সেটি বেছে নেন।
মনে রাখুন: সংজ্ঞায় ধ্বনির ধরন না থাকলে উত্তর মূল নাম (সন্ধি); ধরন থাকলে তার প্রকারভেদ।
৭১. 'নাছোড়বান্দা' অর্থ প্রকাশ করে কোন বাগধারা? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কখয়ের খাঁ
- খতীর্থের কাক
- গচীনেজোঁক
- ঘমণিকাঞ্চন যোগ
সঠিক উত্তর: গ. চীনেজোঁক
প্রশ্নটা বাগধারার অর্থ জানতে চেয়েছে। নাছোড়বান্দা মানে এমন লোক যে কিছুতেই পিছু ছাড়ে না, লেগে থাকে।
চীনেজোঁক বাগধারার অর্থ ঠিক এটাই। জোঁক একবার গায়ে লাগলে সহজে ছাড়ে না; সেই ছবি থেকেই নাছোড়বান্দা লোককে চীনেজোঁক বলা হয়।
খয়ের খাঁ মানে তোষামোদকারী বা চাটুকার। তীর্থের কাক মানে প্রত্যাশী হয়ে বসে থাকা লোক। মণিকাঞ্চন যোগ মানে দুটো উপযুক্ত জিনিসের চমৎকার মিলন।
তীর্থের কাকও অপেক্ষা করে লেগে থাকে বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু তীর্থের কাকের মূল ভাব প্রত্যাশা, আর চীনেজোঁকের মূল ভাব নাছোড় লেগে থাকা।
মনে রাখুন: জোঁক যেমন গায়ে লেগে থাকে, চীনেজোঁক তেমনি নাছোড়বান্দা; একই অর্থে আঠার মতো লেগে থাকা।
৭২. 'মৈমনসিংহ গীতিকা'র "দেওয়ানা মদিনা" পালা কার তৈরি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কমনসুর বয়াতি
- খদ্বিজ কানাই
- গনয়ান চাঁদ
- ঘচন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর: ক. মনসুর বয়াতি
প্রশ্নটা মৈমনসিংহ গীতিকার একটি পালার রচয়িতা জানতে চেয়েছে। মৈমনসিংহ গীতিকা হলো ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকগাথার সংকলন, যা চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন এবং দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
দেওয়ানা মদিনা পালার রচয়িতা মনসুর বয়াতি। এটি দেওয়ান সোনাফরের ছেলে দুলাল আর মদিনার করুণ প্রেমকাহিনি, গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় পালা।
অন্য রচয়িতাদের পালাও মনে রাখুন: মহুয়া পালা দ্বিজ কানাইয়ের, মলুয়া ও দস্যু কেনারামের পালা চন্দ্রাবতীর বলে প্রচলিত, আর চন্দ্রাবতী পালা নয়ান চাঁদ ঘোষের।
মহুয়া পালার কারণে দ্বিজ কানাই নামটা সবচেয়ে পরিচিত, তাই অনেকে সব পালাই তাঁর বলে ধরে নেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: মদিনা আর মনসুর: দুটোই ম দিয়ে শুরু।
৭৩. চন্দ্রাবতী কোন শতকের কবি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কপনেরো
- খষোলো
- গসতেরো
- ঘআঠারো
সঠিক উত্তর: খ. ষোলো
প্রশ্নটা চন্দ্রাবতীর সময়কাল জানতে চেয়েছে। চন্দ্রাবতীকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি বলা হয়, আর তিনি ষোলো শতকের কবি।
তিনি মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা, বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাতুয়ারী গ্রামে। বাবা বংশীদাস ষোলো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মনসামঙ্গল লেখেন, তাই কন্যার সময়ও সেই শতকে।
তাঁর প্রধান রচনা রামায়ণ, আর মৈমনসিংহ গীতিকার মলুয়া ও দস্যু কেনারামের পালা তাঁর রচনা বলে প্রচলিত। তাঁর নিজের জীবনের কাহিনি নিয়ে নয়ান চাঁদ ঘোষ লেখেন চন্দ্রাবতী পালা।
সতেরো বা আঠারো শতক ভেবে ভুল করা সাধারণ, কারণ গীতিকাগুলো সংগ্রহ হয়েছে বিশ শতকে। কিন্তু রচনাকাল আর সংগ্রহকাল আলাদা জিনিস।
মনে রাখুন: বাবা বংশীদাস ষোলো শতকের, মেয়ে চন্দ্রাবতীও ষোলো শতকের।
৭৪. দ্বিস্বরধ্বনিযুক্ত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কমৌল
- খস্বর্ণ
- গসোনালি
- ঘখেলা
সঠিক উত্তর: ক. মৌল
প্রশ্নটা দ্বিস্বরধ্বনি বা যৌগিক স্বরধ্বনি চিনতে বলেছে। পাশাপাশি দুটো স্বর একটানে এক অক্ষরে উচ্চারিত হলে তাকে দ্বিস্বরধ্বনি বলে।
বাংলা বর্ণমালায় দ্বিস্বরধ্বনির চিহ্ন মাত্র দুটি: ঐ, যা অ আর ই মিলে হয়, এবং ঔ, যা অ আর উ মিলে হয়।
মৌল শব্দে ম-এর সঙ্গে ঔ-কার আছে, অর্থাৎ অ আর উ মিলে একটানা উচ্চারণ। তাই মৌল দ্বিস্বরধ্বনিযুক্ত শব্দ।
স্বর্ণ, সোনালি আর খেলা শব্দে প্রতিটি স্বর আলাদা অক্ষরে উচ্চারিত হয়, কোনো ঐ বা ঔ নেই। সোনালি-তে ও আছে বলে ঔ ভেবে ভুল করা যায়, কিন্তু ও মৌলিক স্বর।
মনে রাখুন: শব্দে ঐ-কার বা ঔ-কার খুঁজুন: বৈঠা, কৈ, নৌকা, মৌমাছি সবই দ্বিস্বরযুক্ত।
৭৫. 'অশ্বের চালক' - এককথায় কী হবে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কজকি
- খসারথি
- গসাদি
- ঘঘটক
সঠিক উত্তর: গ. সাদি
প্রশ্নটা এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন যাচাই করছে। অশ্বের চালক, অর্থাৎ যে ঘোড়া চালায় বা ঘোড়ায় চড়ে, তাকে এককথায় বলে সাদি।
সাদি শব্দের অর্থ অশ্বারোহী বা ঘোড়সওয়ার। একই ধরনের আরও কিছু শব্দ: হাতির চালক মাহুত, রথের চালক সারথি, নৌকার চালক মাঝি বা কান্ডারি।
সারথি শব্দটি চালক অর্থে খুব পরিচিত বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু সারথি চালায় রথ, ঘোড়া নয়। জকি ইংরেজি শব্দ, ঘোড়দৌড়ের পেশাদার আরোহী বোঝায়, বাংলা এককথা নয়। ঘটক বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক করে দেন।
মনে রাখুন: রথে সারথি, হাতিতে মাহুত, ঘোড়ায় সাদি।
৭৬. 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য কার শাসন আমলে রচিত হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কগিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- খআলাউদ্দিন হোসেন শাহ
- গফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
- ঘশামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর: ক. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
প্রশ্নটা মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান ইউসুফ-জোলেখা কোন সুলতানের সময়ে রচিত, তা জানতে চেয়েছে। কাব্যটি লেখেন শাহ মুহম্মদ সগীর, যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি হিসেবে পরিচিত।
কবি কাব্যে গৌড়ের সুলতানের প্রশস্তি করেছেন, যাকে গবেষকেরা গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ বলে শনাক্ত করেছেন। তিনি ১৩৮৯ থেকে ১৪১০ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন, তাই কাব্যটি চৌদ্দ শতকের শেষ থেকে পনেরো শতকের শুরুর রচনা।
মনে রাখুন, গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান, আর তাঁর সঙ্গে পারস্যের কবি হাফিজের পত্রালাপের কাহিনিও প্রসিদ্ধ।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নাম বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বেশি শোনা যায় বলে অনেকে সেটি বেছে নেন, কিন্তু তিনি এর প্রায় একশো বছর পরের।
মনে রাখুন: সগীর আর গিয়াসউদ্দিন: দুটো নামেই গ-এর ছোঁয়া, আর দুজনেই চৌদ্দ শতকের শেষের।
৭৭. 'বিদ্রোহী' কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কধূর্জটি
- খইসরাফিল
- গঅর্ফিয়াস
- ঘনটরাজ
সঠিক উত্তর: গ. অর্ফিয়াস
প্রশ্নে প্রতীচ্য মানে পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা। নজরুল বিদ্রোহী কবিতায় হিন্দু, মুসলিম, গ্রিক নানা পুরাণের চরিত্র ব্যবহার করেছেন; প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোনটি পশ্চিমা পুরাণ থেকে।
অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের অমর সংগীতশিল্পী, যার বাঁশি বা বীণার সুরে পশুপাখি, গাছপালা পর্যন্ত মুগ্ধ হতো। কবিতায় আছে, আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী। গ্রিক পুরাণ পাশ্চাত্য পুরাণ, তাই উত্তর অর্ফিয়াস।
ধূর্জটি আর নটরাজ দুটোই শিবের নাম, অর্থাৎ ভারতীয় হিন্দু পুরাণের। ইসরাফিল ইসলামি ঐতিহ্যের ফেরেশতা, যিনি কিয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁ দেবেন।
চারটি নামই বিদ্রোহী কবিতায় আছে, তাই শুধু কবিতায় আছে কি না দেখে উত্তর হবে না; দেখতে হবে কোনটি পশ্চিমা।
মনে রাখুন: প্রতীচ্য মানে পশ্চিম, প্রাচ্য মানে পূর্ব; গ্রিক-রোমান নাম খুঁজলেই উত্তর।
৭৮. ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ আছে কোন বাক্যে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কভালো করে কাজ কর।
- খতোমার কাছে এসেছি।
- গআমার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
- ঘসে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসেছে
সঠিক উত্তর: ক. ভালো করে কাজ কর।
অনুসর্গ হলো যে অব্যয় শব্দ বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে কারকের সম্পর্ক বোঝায়। উৎস অনুযায়ী অনুসর্গ দুই রকম: নামজাত, যা বিশেষ্য থেকে এসেছে, আর ক্রিয়াজাত, যা অসমাপিকা ক্রিয়া থেকে এসেছে।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ: দিয়ে, করে, থেকে, হতে, চেয়ে, ধরে, পেয়ে। ভালো করে কাজ কর বাক্যে করে শব্দটি করিয়া ক্রিয়া থেকে এসেছে, তাই এটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
কাছে, পক্ষে আর জন্য তিনটিই বিশেষ্য থেকে আসা, তাই নামজাত অনুসর্গ। যেমন কাছে এসেছে কক্ষ থেকে, পক্ষে এসেছে পক্ষ থেকে।
জন্য শব্দটি কারণ বোঝায় বলে অনেকে একে ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ভাবেন, কিন্তু এটি নামজাত। মূল প্রশ্ন সবসময়: শব্দটি কোনো ক্রিয়ার অসমাপিকা রূপ কি না।
মনে রাখুন: শব্দটির পেছনে দিয়া, করিয়া, থাকিয়া, চাহিয়া এমন অসমাপিকা রূপ থাকলে ক্রিয়াজাত।
৭৯. কোন দুটি শব্দ 'পদ্ম' শব্দের সমার্থক? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কউদক, পয়ঃ
- খনলিন, রাজীব
- গজায়া, দার
- ঘমিহির, মিত্র
সঠিক উত্তর: খ. নলিন, রাজীব
প্রশ্নে ছাপা আছে পর, কিন্তু কোনো অপশনই পর মানে অন্য বা অনাত্মীয়ের সমার্থক নয়। অপশন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় মূল শব্দ পদ্ম, তাই এখানে পদ্মের সমার্থক জোড়া খুঁজতে হবে।
নলিন ও রাজীব দুটোই পদ্মের প্রতিশব্দ। পদ্মের আরও প্রতিশব্দ: কমল, পঙ্কজ, অরবিন্দ, শতদল, উৎপল, কুবলয়, সরোজ।
বাকি জোড়াগুলোও কোনো না কোনো শব্দের সমার্থক, যা চিনে রাখা দরকার। উদক ও পয়ঃ মানে পানি। জায়া ও দার মানে স্ত্রী। মিহির ও মিত্র মানে সূর্য।
প্রতিটি জোড়া নিজের মধ্যে সমার্থক বলে না পড়ে চোখ বুলালে যেকোনো একটিকে ঠিক মনে হতে পারে; তাই আগে মূল শব্দের অর্থ নিশ্চিত করুন।
মনে রাখুন: পদ্মের অনেক প্রতিশব্দের মানে পাঁক বা জলে জন্মানো: পঙ্কজ, সরোজ, নীরজ, অম্বুজ; এ ছাড়া কমল, নলিন, রাজীব, শতদল।
৮০. 'Epistemology' শব্দের বাংলা পরিভাষা কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কজ্ঞানতত্ত্ব
- খবাগর্থতত্ত্ব
- গভূতত্ত্ব
- ঘপ্রত্নতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: ক. জ্ঞানতত্ত্ব
প্রশ্নটা ইংরেজি পরিভাষার বাংলা জানতে চেয়েছে। Epistemology দর্শনের সেই শাখা যা জ্ঞানের প্রকৃতি, উৎস ও সীমা নিয়ে আলোচনা করে; এর বাংলা পরিভাষা জ্ঞানতত্ত্ব।
শব্দটি গ্রিক episteme, মানে জ্ঞান, আর logy, মানে বিদ্যা বা তত্ত্ব থেকে এসেছে। তাই অংশ ধরে অনুবাদ করলেও দাঁড়ায় জ্ঞানতত্ত্ব।
বাকি পরিভাষাগুলো: Semantics হলো বাগর্থতত্ত্ব বা শব্দার্থতত্ত্ব, Geology হলো ভূতত্ত্ব, Archaeology হলো প্রত্নতত্ত্ব। সব অপশনে তত্ত্ব শব্দ থাকায় শব্দের প্রথম অংশটাই আসল সূত্র।
মনে রাখুন: -logy মানে তত্ত্ব; সামনের অংশটার অর্থ জানলেই পরিভাষা মেলে: geo ভূ, archaeo প্রাচীন, episteme জ্ঞান।