বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২
২১. নিচের কোনটি অঘোষ ধ্বনি নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কচ
- খট
- গজ
- ঘথ
সঠিক উত্তর: গ. জ
ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কাঁপলে তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে, না কাঁপলে অঘোষ। বর্গীয় ব্যঞ্জনে প্রতিটি বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘোষ, আর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘোষ।
চ বর্গে চ ও ছ অঘোষ, জ, ঝ, ঞ ঘোষ। ট বর্গে ট ও ঠ অঘোষ। ত বর্গে ত ও থ অঘোষ।
তাই চ, ট আর থ তিনটিই অঘোষ, কিন্তু জ হলো চ বর্গের তৃতীয় বর্ণ, অর্থাৎ ঘোষ ধ্বনি। প্রশ্নে অঘোষ নয় এমনটি চাওয়া হয়েছে, তাই উত্তর জ।
থ মহাপ্রাণ বলে অনেকে একে ঘোষ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু মহাপ্রাণ আর ঘোষ আলাদা বিষয়; থ মহাপ্রাণ কিন্তু অঘোষ।
মনে রাখুন: প্রতি বর্গের প্রথম দুটি অঘোষ, শেষ তিনটি ঘোষ।
২২. অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে কোন চিহ্ন বসে? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কদাঁড়ি
- খকমা
- গসেমিকোলন
- ঘহাইফেন
সঠিক উত্তর: ক. দাঁড়ি
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য দিয়ে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ বা নিষেধ বোঝানো হয়। যেমন, দরজাটা বন্ধ করো, বা মিথ্যা কথা বলো না।
এ ধরনের বাক্যে বক্তব্য সম্পূর্ণ হয়, তাই সাধারণভাবে বাক্যের শেষে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে। আবেগ বা জোর বোঝাতে কখনো বিস্ময়চিহ্নও বসতে পারে, কিন্তু সেটি এখানে অপশনে নেই।
কমা, সেমিকোলন আর হাইফেন বাক্যের ভেতরে ব্যবহৃত হয়; কোনোটিই বাক্য শেষ করে না। তাই উত্তর দাঁড়ি।
মনে রাখুন: উদাহরণ: তুমি এখানে বসো। চুপ করো। দাঁড়ি দিয়েই বাক্য শেষ।
২৩. উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কগরুর গাড়ি
- খছাত্রাবাস
- গউপাচার্য
- ঘজাদুকর
সঠিক উত্তর: ঘ. জাদুকর
যে পদের পরে কৃদন্ত পদ বা কৃৎ প্রত্যয়সাধিত পদ বসে, তাকে উপপদ বলে। উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
জাদুকর শব্দের ব্যাসবাক্য হলো জাদু করে যে। এখানে জাদু উপপদ আর কর হলো কৃ ধাতু থেকে আসা কৃদন্ত পদ। তাই এটি উপপদ তৎপুরুষ।
একই নিয়মে কুম্ভকার মানে কুম্ভ করে যে, পঙ্কজ মানে পঙ্কে জন্মে যে, আর ছেলেধরা মানে ছেলে ধরে যে।
গরুর গাড়ি আর ছাত্রাবাস ষষ্ঠী তৎপুরুষ, কারণ এদের ব্যাসবাক্যে র বা দের বিভক্তি আসে; গরুর গাড়িতে বিভক্তি লোপ পায়নি বলে একে অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষও বলা হয়। উপাচার্য উপসর্গ উপ যোগে গঠিত প্রাদি সমাস, এখানে কোনো কৃদন্ত পদ নেই।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে করে যে, জন্মে যে, ধরে যে আসলে প্রায় নিশ্চিতভাবে উপপদ তৎপুরুষ।
২৪. 'আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই।'- কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কসরল
- খজটিল
- গযৌগিক
- ঘআশ্রিত
সঠিক উত্তর: ক. সরল
প্রশ্নটা গঠন অনুসারে বাক্যের শ্রেণি যাচাই করছে। গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল আর যৌগিক। পার্থক্য বোঝা যায় বাক্যে কয়টি সমাপিকা ক্রিয়া বা কয়টি খণ্ডবাক্য আছে তা গুনে।
সরল বাক্যে একটি মাত্র কর্তা আর একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সাথে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, সাধারণত যে, যদি, যখন-তখন ধরনের সাপেক্ষ শব্দ দিয়ে জোড়া। যৌগিক বাক্যে দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য এবং, কিন্তু, অথবা দিয়ে যুক্ত হয়।
আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই, এই বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া একটিই: নাই। কোনো সংযোজক বা সাপেক্ষ শব্দও নেই। মাঝের কমাটি শুধু উচ্চারণের বিরতি, নতুন খণ্ডবাক্য নয়। তাই এটি সরল বাক্য।
কমা দেখে অনেকে দুই অংশ ভেবে যৌগিক বা জটিল বেছে নেন, এটাই ফাঁদ। আর আশ্রিত কোনো বাক্যের শ্রেণি নয়, এটি জটিল বাক্যের ভেতরের খণ্ডবাক্যের নাম।
মনে রাখুন: আগে সমাপিকা ক্রিয়া গুনুন: একটি হলে সরল; যে-সে, যদি-তবে থাকলে জটিল; এবং, কিন্তু, অথবা থাকলে যৌগিক।
২৫. নিচের কোনটি ভিন্নার্থক? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কঅজগর বৃত্তি
- খগোঁফ-খেজুরে
- গঘরের ঢেঁকি
- ঘননীর পুতুল
সঠিক উত্তর: গ. ঘরের ঢেঁকি
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ যাচাই করছে: চারটির মধ্যে কোনটির অর্থ বাকিগুলোর থেকে আলাদা। তাই আগে প্রতিটির অর্থ জানতে হবে, তারপর মিলটা খুঁজতে হবে।
অজগর বৃত্তি মানে অজগরের মতো শুয়ে থেকে বিনা পরিশ্রমে খাবার পাওয়ার আশা, অর্থাৎ আলস্য। গোঁফ খেজুরে মানে এমন অলস যে মুখের কাছে খেজুর পড়লেও নিজে মুখে তোলে না। ননীর পুতুল মানে মাখনের পুতুলের মতো কোমল, শ্রমকাতর মানুষ। তিনটিই শ্রমবিমুখতা বা আলস্য বোঝায়।
ঘরের ঢেঁকি থেকে এসেছে ঘরের ঢেঁকি কুমির কথাটি, যার অর্থ আপন লোক হয়েও শত্রুতা করা, অর্থাৎ ঘরশত্রু বা বিভীষণ। কোনো কোনো বইয়ে ঘরের ঢেঁকি মানে ঘরজামাই বা পোষ্য লোক। কোনো অর্থেই এটি আলস্য বোঝায় না, তাই এটিই ভিন্নার্থক।
এমন প্রশ্নে তিনটি বিকল্পের একটি সাধারণ অর্থ থাকে; সেই মিলটা ধরতে পারলেই ব্যতিক্রমটি বেরিয়ে আসে।
মনে রাখুন: আলস্য বোঝায় আরও কিছু বাগ্ধারা: কুঁড়ের বাদশা, ভেরেণ্ডা ভাজা (অকাজে সময় কাটানো); ঘরশত্রু বোঝায়: ঘরের শত্রু বিভীষণ।
২৬. 'করলাম' পদের 'লাম' শব্দাংশ কিসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কক্রিয়া-বিভক্তি
- খকারক-বিভক্তি
- গনাম প্রকৃতি
- ঘবলক
সঠিক উত্তর: ক. ক্রিয়া-বিভক্তি
প্রশ্নটা ক্রিয়াপদের গঠন যাচাই করছে। প্রতিটি ক্রিয়াপদের দুটি অংশ: মূল অংশ ধাতু বা ক্রিয়াপ্রকৃতি, আর তার সাথে যুক্ত বিভক্তি, যা কাল ও পুরুষ বোঝায়।
করলাম ভাঙলে পাই কর্ ধাতু আর লাম বিভক্তি। লাম অংশটি বলছে কাজটি অতীতে হয়েছে এবং কর্তা উত্তম পুরুষ, অর্থাৎ আমি বা আমরা। ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে কাল ও পুরুষ নির্দেশ করে বলে একে বলে ক্রিয়া-বিভক্তি। সাধু রূপে একই শব্দ করিলাম, সেখানে বিভক্তি ইলাম।
কারক-বিভক্তি যুক্ত হয় নাম শব্দের সাথে, যেমন রহিমকে শব্দের কে, ঘরে শব্দের এ। নাম প্রকৃতি হলো বিশেষ্য বা বিশেষণের মূল অংশ, যেমন হাতল শব্দের হাত; এটি বিভক্তি নয়।
লাম অংশটি যেহেতু ক্রিয়ার সাথে, তাই নাম শব্দের কারক-বিভক্তি বেছে নেওয়া ভুল।
মনে রাখুন: একই নিয়মে: খেলাম = খা + লাম, পড়লাম = পড় + লাম, গেলাম = যা (গে) + লাম। ক্রিয়ার শেষে যা যুক্ত হয় তা-ই ক্রিয়া-বিভক্তি।
২৭. 'একোন' এর ব্যাসবাক্য কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কএ কে কোন
- খএক দ্বারা উন
- গএককে কোন
- ঘএক হইতে উন
সঠিক উত্তর: খ. এক দ্বারা উন
প্রশ্নটা ব্যাসবাক্য দিয়ে সমাস চেনার। একোন শব্দে আছে এক আর ঊন। ঊন মানে কম বা কমতি; একোন মানে এক কম। যেমন একোনবিংশ মানে বিশের চেয়ে এক কম, অর্থাৎ উনিশ।
এক কম মানে একের দ্বারা কম, অর্থাৎ পূর্বপদে করণ অর্থের দ্বারা বিভক্তি লোপ পেয়েছে। তাই ব্যাসবাক্য: এক দ্বারা ঊন, আর সমাসটি তৃতীয়া তৎপুরুষ।
শব্দটি গঠনে সন্ধিও আছে: এক শব্দের শেষ অ আর ঊন শব্দের প্রথম ঊ মিলে ও হয়েছে, গুণ সন্ধির নিয়মে। তাই এক আর ঊন মিলে একোন। প্রশ্নের বিকল্পে উন লেখা হয়েছে, শুদ্ধ বানান দীর্ঘ ঊ দিয়ে ঊন।
এক হইতে ঊন বিকল্পটি পঞ্চমী তৎপুরুষের রূপ, অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি মনে হয় বলেই এটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: একই নিয়মের আরও উদাহরণ: মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
২৮. সন্ধির নিয়মানুসারে কোন বানানটি ভুল? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কমস্যাধার
- খপ্রত্যেক
- গনদ্যম্বু
- ঘপ্রত্যুষ
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রত্যুষ
প্রশ্নটা স্বরসন্ধির নিয়মে বানান যাচাই করছে। নিয়মটি হলো: ই বা ঈ-এর পর ভিন্ন স্বর এলে ই বা ঈ বদলে য-ফলা হয়, আর পরের স্বরটি য-ফলার সাথে কার হিসেবে যুক্ত হয়। একে বলে যণ্ সন্ধি।
মসি আর আধার মিলে মস্যাধার, প্রতি আর এক মিলে প্রত্যেক, নদী আর অম্বু মিলে নদ্যম্বু; তিনটিই এই নিয়মে ঠিক আছে।
প্রত্যূষ শব্দটি প্রতি আর ঊষ মিলে তৈরি। পরের স্বরটি দীর্ঘ ঊ, তাই য-ফলার সাথে দীর্ঘ ঊ-কার বসবে। শুদ্ধ বানান প্রত্যূষ; বিকল্পে হ্রস্ব উ-কার দিয়ে লেখা প্রত্যুষ, যা সন্ধির নিয়মে ভুল।
হ্রস্ব উ-কারের প্রত্যুৎপন্নমতি, অভ্যুদয় শব্দের সাথে মিল দেখে অনেকে প্রত্যুষ ঠিক ভাবেন; কিন্তু সেখানে মূল শব্দে হ্রস্ব উ আছে, এখানে আছে দীর্ঘ ঊ।
মনে রাখুন: য-ফলার পরের কার মূল শব্দের প্রথম স্বর থেকেই আসে: অভি + উদয় = অভ্যুদয় (হ্রস্ব), প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ (দীর্ঘ)।
২৯. নিচের কোনটি 'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েও স্ত্রীবাচকতা না বুঝিয়ে ভিন্ন অর্থ বোঝাচ্ছে? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কমাতুলানী
- খইন্দ্রানী
- গহিমানী
- ঘক্ষত্রিয়ানী
সঠিক উত্তর: গ. হিমানী
প্রশ্নটা আনী প্রত্যয়ের দুই রকম ব্যবহার যাচাই করছে। আনী সাধারণত স্ত্রীবাচক প্রত্যয়, যা পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীবাচক করে। কিন্তু কিছু শব্দে আনী যুক্ত হয়ে স্ত্রীলিঙ্গ নয়, বরং বিশালতা বা মহত্ত্ব বোঝায়।
মাতুল মানে মামা, মাতুল আর আনী মিলে মাতুলানী মানে মামি। ইন্দ্র আর আনী মিলে ইন্দ্রাণী মানে ইন্দ্রের স্ত্রী। ক্ষত্রিয় আর আনী মিলে ক্ষত্রিয়াণী মানে ক্ষত্রিয়ের স্ত্রী। এই তিনটিতে প্রত্যয়টি স্ত্রীবাচক।
হিম আর আনী মিলে হিমানী মানে বিশাল হিমরাশি বা তুষারস্তূপ; এখানে কোনো নারী বোঝায় না, বোঝায় বিশালতা। একই রকম অরণ্য আর আনী মিলে অরণ্যানী মানে বিশাল অরণ্য। তাই উত্তর হিমানী।
বিকল্পে ইন্দ্রানী ও ক্ষত্রিয়ানী দন্ত্য ন দিয়ে লেখা; ণত্ব বিধান অনুযায়ী র বা ষ-এর পরে বলে শুদ্ধ বানান মূর্ধন্য ণ দিয়ে ইন্দ্রাণী ও ক্ষত্রিয়াণী। তবে উত্তর নির্ণয়ে এতে কোনো প্রভাব নেই।
মনে রাখুন: আনী যুক্ত হয়ে বিশালতা বোঝানোর জোড়া মনে রাখুন: হিমানী আর অরণ্যানী; প্রশ্নে এ দুটির কোনোটি থাকলেই সেটিই উত্তর।
৩০. 'মৌন নয়' ছোটগল্পটি কার লেখা? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কশওকত ওসমান
- খমুনীর চৌধুরী
- গজহির রায়হান
- ঘরাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর: ক. শওকত ওসমান
প্রশ্নটা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য, অর্থাৎ একুশের গল্প যাচাই করছে। মৌন নয় গল্পটি লিখেছেন শওকত ওসমান। এটি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে লেখা ছোটগল্পগুলোর মধ্যে পরিচিত একটি।
শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। তাঁর সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস জননী আর ক্রীতদাসের হাসি; গল্পগ্রন্থের মধ্যে আছে জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প।
অন্য তিনজনও একই সময়ের পরিচিত লেখক, তাই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। মুনীর চৌধুরী লিখেছেন বিখ্যাত নাটক কবর। জহির রায়হানের একুশের গল্প ও সূর্যগ্রহণ গল্প আর আরেক ফাল্গুন উপন্যাস। রাবেয়া খাতুন পরিচিত মধুমতী ও ফেরারী সূর্য উপন্যাসের জন্য।
জহির রায়হানের নাম ভাষা আন্দোলনের সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত বলে অনেকে তাঁকেই বেছে নেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: একুশের রচনা জোড়ায় মনে রাখুন: কবর, মুনীর চৌধুরী; আরেক ফাল্গুন, জহির রায়হান; মৌন নয়, শওকত ওসমান।
৩১. 'Graphic' এর বাংলা পরিভাষা কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কনকশা
- খরৈখিক
- গখসড়া
- ঘঅঙ্কন
সঠিক উত্তর: খ. রৈখিক
প্রশ্নটা ইংরেজি শব্দের বাংলা পারিভাষিক প্রতিশব্দ যাচাই করছে। পরিভাষা মানে দাপ্তরিক বা বিজ্ঞানের লেখায় ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা বাংলা শব্দ।
Graphic শব্দটি বিশেষণ, অর্থ রেখা বা চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত। এর প্রচলিত পরিভাষা রৈখিক। Graph মানে লেখচিত্র।
অন্য অপশনগুলোর নিজস্ব ইংরেজি আছে: নকশা মানে Design বা Plan, খসড়া মানে Draft, আর অঙ্কন মানে Drawing।
ফাঁদ হলো অঙ্কন বা নকশা: graphic design শুনে ছবি আঁকা মনে হয়, কিন্তু পরিভাষা হিসেবে graphic-এর প্রতিশব্দ রৈখিক।
মনে রাখুন: পরিভাষার প্রশ্নে অপশনগুলোর ইংরেজি খুঁজুন; যার ইংরেজি অন্য শব্দ, সেটা বাদ।
৩২. 'প্রত্যয়' এর বিপরীত শব্দ কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কউপচয়
- খঅপচয়
- গসংশয়
- ঘসন্দেহ
সঠিক উত্তর: গ. সংশয়
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। প্রত্যয় শব্দের একটি অর্থ বিশ্বাস বা দৃঢ় ধারণা, যেমন আমার মনে প্রত্যয় জন্মেছে যে সে সত্য বলছে। তাই এর বিপরীত হবে অবিশ্বাস বা দ্বিধা, অর্থাৎ সংশয়।
মনে রাখুন, প্রত্যয় শব্দের আরেকটি অর্থ ব্যাকরণের প্রত্যয়, যা শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে। কিন্তু বিপরীত শব্দের প্রশ্নে বিশ্বাস অর্থটাই ধরা হয়, আর ব্যাকরণ বইয়ের বিপরীত শব্দের তালিকায় প্রত্যয়ের বিপরীত সংশয়।
উপচয় মানে বৃদ্ধি, এর বিপরীত অপচয়; এ দুটো একে অপরের জোড়া, প্রত্যয়ের নয়। সন্দেহও কাছাকাছি অর্থের, তবে প্রমিত জোড়া হিসেবে প্রত্যয় আর সংশয়ই প্রচলিত; এখানে ফাঁদ হলো সন্দেহ।
মনে রাখুন: বিশ্বাস-জাতীয় শব্দ (প্রত্যয়, নিশ্চয়) দেখলেই বিপরীতে সংশয় খুঁজুন।
৩৩. 'অক্কাপাওয়া' বাগধারার ফারসি 'অক্কা' শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কপ্রভু
- খমৃত্যু
- গবেহেশত
- ঘআত্মা
সঠিক উত্তর: ক. প্রভু
অক্কা পাওয়া বাগধারার অর্থ মারা যাওয়া। কিন্তু প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে এর ভেতরের অক্কা শব্দটির নিজের অর্থ কী।
অক্কা এসেছে ফারসি আকা থেকে, যার অর্থ প্রভু বা মালিক। অক্কা পাওয়া মানে প্রভুকে পাওয়া, অর্থাৎ প্রভুর কাছে চলে যাওয়া; সেখান থেকেই অর্থ দাঁড়িয়েছে মৃত্যু।
এখানে ফাঁদ হলো মৃত্যু। বাগধারার সম্পূর্ণ অর্থ মৃত্যু হলেও অক্কা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ মৃত্যু নয়, প্রভু। বেহেশত বা আত্মা অর্থের সঙ্গেও শব্দটির কোনো উৎসগত যোগ নেই।
মনে রাখুন: শব্দের অর্থ আর বাগধারার অর্থ আলাদা প্রশ্ন; প্রশ্নে শব্দ চাইলে আক্ষরিক অর্থ খুঁজুন।
৩৪. শুদ্ধ বানান গুচ্ছ- (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কপরিস্কার, পুরষ্কার
- খবিকৃত, বিক্রীত
- গস্বিকার, শীকার
- ঘধরণ, ধারনা
সঠিক উত্তর: খ. বিকৃত, বিক্রীত
প্রশ্নে এমন জোড়া চাওয়া হয়েছে যার দুটি বানানই শুদ্ধ। বিকৃত আর বিক্রীত দুটোই শুদ্ধ; বিকৃত মানে বদলে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া, আর বিক্রীত মানে যা বিক্রি করা হয়েছে।
বাকি জোড়াগুলোতে ভুল আছে। পরিষ্কার শব্দে ষ বসে, কারণ পরি উপসর্গের ই-কারের পরে ষত্ব বিধানে স হয়ে যায় ষ। আবার পুরস্কার শব্দে পুরঃ-এর বিসর্গ স হয়, তাই দন্ত্য স।
স্বীকার বানানে স্ব-এর পরে দীর্ঘ ঈ-কার, আর শিকার বানানে তালব্য শ ও হ্রস্ব ই-কার। ধরন শব্দে দন্ত্য ন, কারণ এটি তৎসম নয়; ধারণা তৎসম শব্দ, র-এর পরে মূর্ধন্য ণ।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো পরিষ্কার আর পুরস্কার গুলিয়ে ফেলা: একটিতে ষ, অন্যটিতে স।
মনে রাখুন: ই-কারান্ত বা উ-কারান্ত উপসর্গের (নিঃ, দুঃ, পরি) পরে ষ: পরিষ্কার, নিষ্কর, দুষ্কর। কিন্তু পুরঃ, তিরঃ, নমঃ-এর বিসর্গ থেকে স: পুরস্কার, তিরস্কার, নমস্কার।
৩৫. 'ন্যূনতম' শব্দের উচ্চারণ- (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কনুনোতমো
- খনুন্নোতমো
- গনুনোতম্
- ঘনুন্নোতম্
সঠিক উত্তর: ক. নুনোতমো
প্রশ্নটা প্রমিত উচ্চারণ যাচাই করছে। শব্দের প্রথম বর্ণে য-ফলা থাকলে তার উচ্চারণ দ্বিত্ব হয় না, শুধু স্বরধ্বনি বদলায়। তাই ন্যূন উচ্চারিত হয় নুনো, নুন্নো নয়।
এরপর তম প্রত্যয়। তম-এর ম-এ যুক্ত অকার এখানে ও-কারের মতো উচ্চারিত হয়, কারণ তৎসম শব্দের শেষে তম, তর ইত্যাদি অনেক সময় ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়। ফলে পুরো শব্দের উচ্চারণ নুনোতমো।
শব্দের মাঝে বা শেষে য-ফলা থাকলে দ্বিত্ব হয়, যেমন বিদ্যা বিদ্দা। কিন্তু শুরুতে থাকলে হয় না, যেমন ব্যয় ব্যায়। এই নিয়ম গুলিয়ে ফেললে নুন্নো ধরনের ভুল বিকল্প বেছে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মনে রাখুন: শুরুতে য-ফলা মানে দ্বিত্ব নেই; মাঝে বা শেষে য-ফলা মানে দ্বিত্ব (বিদ্যা → বিদ্দা)।
৩৬. 'তীক্ষ্ণ' শব্দের যুক্তব্যঞ্জনের সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কক্+ষ্+ণ
- খক্+ষ্+ন
- গক্+ষ্+ম
- ঘক্+হ্+ণ
সঠিক উত্তর: ক. ক্+ষ্+ণ
তীক্ষ্ণ শব্দে তিনটি ব্যঞ্জন মিলে একটি যুক্তবর্ণ: ক্ষ্ণ। প্রথমে ক্ষ, যা আসলে ক আর মূর্ধন্য ষ-এর যুক্তরূপ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূর্ধন্য ণ।
তাই বিশ্লেষণ হলো ক্ যোগ ষ্ যোগ ণ। তৎসম শব্দে ষ-এর পরে ন এলে তা ণ হয়ে যায়; এটাই ণত্ব বিধান। যেমন কৃষ্ণ, উষ্ণ, তৃষ্ণা, তীক্ষ্ণ।
অনেকে ক্ষ দেখে মনে করেন এতে হ আছে, কারণ উচ্চারণে খ-এর মতো শোনায়। কিন্তু লেখার গঠনে ক্ষ মানে ক আর ষ। আবার শেষের ণ-কে ন বা ম ধরলে ভুল হবে; ক্ষ্ম আলাদা যুক্তবর্ণ, যেমন লক্ষ্মী।
মনে রাখুন: ক্ষ্ণ = ক্ + ষ্ + ণ, ক্ষ্ম = ক্ + ষ্ + ম (লক্ষ্মী)।
৩৭. Empty vessels sound much এর সঠিক বঙ্গানুবাদ কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কযত কথা তত কাজ।
- খঅসারের তর্জন গর্জনই সার।
- গমুখে বুলি লম্বা, কাজে অষ্টরম্ভা।
- ঘএক মাঘে শীত যায় না।
সঠিক উত্তর: খ. অসারের তর্জন গর্জনই সার।
Empty vessels sound much মানে খালি পাত্র বেশি শব্দ করে। এটা একটা প্রবাদ: যার ভেতরে সার কম, সে বাইরে বেশি হইচই করে।
বাংলায় এর ভাবানুবাদ হলো অসারের তর্জন গর্জন সার। অসার মানে যার ভেতরে সার বা গুণ নেই; তার শুধু হুমকি আর গর্জনই সম্বল। দুটো প্রবাদের ভাব হুবহু মেলে।
মুখে বুলি লম্বা, কাজে অষ্টরম্ভা কাছাকাছি শোনালেও এর ইংরেজি সমতুল্য Great boast, little roast; এখানে জোর কথা আর কাজের অমিলে। যত কথা তত কাজ বা এক মাঘে শীত যায় না একেবারে ভিন্ন ভাবের প্রবাদ।
মনে রাখুন: Empty, hollow ইত্যাদি শব্দ দেখলে বাংলায় অসার খুঁজুন।
৩৮. এক কথায় প্রকাশ করুন: অক্ষির অভিমুখে- (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কপ্রত্যক্ষ
- খপরোক্ষ
- গসমক্ষ
- ঘচাক্ষুষ
সঠিক উত্তর: ক. প্রত্যক্ষ
অক্ষি মানে চোখ। প্রতি উপসর্গের একটি অর্থ অভিমুখে বা দিকে। তাই অক্ষির অভিমুখে, মানে চোখের সামনে, এই অর্থে প্রতি যোগ অক্ষি থেকে হয় প্রত্যক্ষ। এটা অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
সমাসে অক্ষি হয় অক্ষ, আর সন্ধিতে ই-কারের পরে অন্য স্বর এলে ই হয়ে যায় য-ফলা: প্রতি যোগ অক্ষ, ফলে প্রত্যক্ষ।
পাশের শব্দগুলোও জেনে রাখুন। অক্ষির অগোচরে বা অক্ষির পরে হলো পরোক্ষ। অক্ষির সমীপে হলো সমক্ষ। চক্ষু সম্বন্ধীয় বা চোখে দেখা হলো চাক্ষুষ। সমক্ষ আর প্রত্যক্ষ কাছাকাছি অর্থের বলেই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: অক্ষি দিয়ে চার শব্দ: প্রত্যক্ষ (অভিমুখে), সমক্ষ (সমীপে), পরোক্ষ (অগোচরে), চাক্ষুষ (চোখে দেখা)।
৩৯. 'কানে-কলম' কোন সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কউপপদ তৎপুরুষ
- খঅলুক দ্বন্দ্ব
- গপ্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
- ঘঅলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ঘ. অলুক বহুব্রীহি
কানে-কলম মানে কানে কলম যার, অর্থাৎ এমন কেউ যিনি সব সময় কানে কলম গুঁজে রাখেন, যেমন হিসাবরক্ষক বা কেরানি। ব্যাসবাক্যে অন্য পদ বোঝায়, তাই এটা বহুব্রীহি সমাস।
সমাস হওয়ার সময় সাধারণত পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়। কিন্তু এখানে কানে শব্দের এ-বিভক্তি লোপ পায়নি, সমস্তপদেও থেকে গেছে। পূর্বপদের বিভক্তি না হারালে তাকে অলুক বলে, তাই কানে-কলম অলুক বহুব্রীহি।
একই ধরনের উদাহরণ: গায়ে-হলুদ, মাথায়-পাগড়ি, হাতে-খড়ি। অলুক দ্বন্দ্বে দুটি পদই প্রধান থাকে, যেমন দুধে-ভাতে, হাতে-পায়ে; কানে-কলম-এ কান আর কলম কেউ প্রধান নয়, তৃতীয় একজন বোঝায়।
মনে রাখুন: বিভক্তি রয়ে গেলে অলুক; যার বা যে দিয়ে ব্যাসবাক্য হলে বহুব্রীহি।
৪০. সে এখন যাবে না। এই বাক্যে 'না' কোন পদ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, সোনালী ও জনতা): অফিসার (আইটি) (২০২৬)
- কবিশেষণ
- খঅব্যয়
- গক্রিয়া বিশেষণ
- ঘঅনুসর্গ
সঠিক উত্তর: গ. ক্রিয়া বিশেষণ
প্রশ্নটা পদ চেনার। “সে এখন যাবে না” বাক্যে না শব্দটি যাবে ক্রিয়াটিকে নাকচ করছে, অর্থাৎ জানাচ্ছে কাজটি ঘটবে না।
নবম-দশম শ্রেণির বর্তমান পাঠ্য ব্যাকরণে শব্দকে আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে; সেখানে অব্যয় নামে আলাদা শ্রেণি নেই। যে শব্দ ক্রিয়ার সময়, ধরন বা অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানায়, সেটাই ক্রিয়াবিশেষণ। না আর নি ক্রিয়াকে নেতিবাচক করে, তাই এদের বলা হয় নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
একই বাক্যে এখন শব্দটিও ক্রিয়াবিশেষণ, তবে কালবাচক; সে জানায় কাজটা কখন। আর না জানায় কাজটা হবে না। দুটোই যাবে ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
ফাঁদ হলো অব্যয়। পুরোনো ব্যাকরণে না-কে নঞর্থক অব্যয় বলা হতো, তাই অনেকে এটাই বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্নটা ক্রিয়ার সঙ্গে না-এর কাজ দেখতে চাইছে, আর বিকল্পে ক্রিয়াবিশেষণ আছে, তাই বর্তমান ব্যাকরণ অনুযায়ী উত্তর ক্রিয়াবিশেষণ।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার পরে বসে কাজটাকে নাকচ করলে না বা নি হলো নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ; যেমন: আমি খাইনি, সে আসবে না।