বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫
৮১. অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কচাঁপা
- খচীনা
- গচামচ
- ঘচাল
সঠিক উত্তর: ক. চাঁপা
প্রশ্নটা বাংলা অভিধানে শব্দ সাজানোর নিয়ম যাচাই করছে। চারটি শব্দই চ দিয়ে শুরু, তাই পরের চিহ্নগুলো তুলনা করতে হবে।
বাংলা একাডেমির অভিধানে বর্ণক্রমে চন্দ্রবিন্দু, অনুস্বার ও বিসর্গ স্বরবর্ণের পরে কিন্তু ব্যঞ্জনবর্ণের আগে বসে। তাই একই বর্ণ ও কারের পর চন্দ্রবিন্দু থাকলে সেই শব্দ ব্যঞ্জনযুক্ত শব্দের আগে আসে।
চাঁপা, চামচ আর চাল তিনটিতেই চা আছে। চাঁপায় চা-এর পরে চন্দ্রবিন্দু, অন্য দুটিতে চা-এর পরে ম আর ল, যারা ব্যঞ্জন। তাই চাঁপা সবার আগে। চীনা আসবে সবার শেষে, কারণ ঈ-কার আ-কারের পরে।
চন্দ্রবিন্দুকে উপেক্ষা করে শুধু ম আর ল তুলনা করলে চামচকে প্রথম মনে হয়; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: অভিধানে ঁ ং ঃ থাকা শব্দ একই বর্ণের ব্যঞ্জনযুক্ত শব্দের আগে বসে: আঁকা আগে, আকাশ পরে।
৮২. কবি আল মাহমুদ প্রয়াত হন কোন তারিখে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- ক১৫ মার্চ ২০১৬
- খ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
- গ১৫ মার্চ ২০২০
- ঘ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
প্রশ্নটা কবি আল মাহমুদের মৃত্যুর তারিখ জানতে চেয়েছে। আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মারা যান।
তাঁর জন্ম ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইলে। আসল নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। লোক লোকান্তর, কালের কলস আর সোনালি কাবিন তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, আর কাবিলের বোন ও উপমহাদেশ তাঁর উপন্যাস।
অপশনগুলোতে ১৫ তারিখটা সব জায়গায় রেখে মাস আর বছর বদলানো হয়েছে। তাই শুধু তারিখ নয়, মাস ফেব্রুয়ারি আর বছর ২০১৯ দুটোই মনে রাখতে হবে।
মনে রাখুন: ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতেই বিদায় নেন সোনালি কাবিনের কবি।
৮৩. উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কগুণমান
- খঅনুমান
- গচলমান
- ঘবুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর: খ. অনুমান
উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে, আর প্রত্যয় বসে শব্দ বা ধাতুর পরে। তাই উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ চিনতে হলে শব্দের শুরুতে প্র, পরা, অনু, অপ, সম, নি জাতীয় কোনো অংশ আছে কিনা দেখতে হয়।
অনুমান শব্দটি তৎসম উপসর্গ অনু আর মান মিলে তৈরি। অনু উপসর্গ পশ্চাৎ বা সদৃশ অর্থ দেয়; মান মানে পরিমাপ বা ধারণা। ফলে অনুমান মানে কোনো কিছুর ভিত্তিতে পরে করা ধারণা।
বাকি তিনটিতে মান অংশটা শেষে বসেছে। বুদ্ধিমান হলো বুদ্ধি যোগ মান, এখানে মান হলো মতুপ প্রত্যয়জাত, অর্থ বুদ্ধি আছে যার। চলমান হলো চল ধাতু যোগ মান প্রত্যয়, মানে যা চলছে। গুণমান হলো গুণ আর মান দুটি শব্দের সমাস, মানে গুণের মান।
ফাঁদ হলো চারটি শব্দেই মান থাকা। মান যেখানে শেষে প্রত্যয় হিসেবে আছে সেগুলো প্রত্যয়জাত; শুধু অনুমান-এ শুরুতে উপসর্গ আছে।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুটা দেখুন: অনু-, প্র-, পরা-, অপ-, সম্- থাকলে উপসর্গ; শেষে -মান, -বান থাকলে প্রত্যয়।
৮৪. 'গণ্ডুষ' অর্থ কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- ককেঁচো
- খজোঁক
- গশুরু করা
- ঘঅল্প পানি
সঠিক উত্তর: ঘ. অল্প পানি
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। শব্দটির প্রমিত বানান গণ্ডূষ, দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে। এর অর্থ এক কোষ বা এক চুমুক পরিমাণ জল, মানে মুখে একবারে যতটুকু জল নেওয়া যায়।
সাহিত্যে এক গণ্ডূষ জল কথাটি খুব অল্প পরিমাণ জল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। কুলকুচি করার জন্য মুখে নেওয়া জলকেও গণ্ডূষ বলে। তাই এখানে সঠিক অর্থ অল্প পানি।
এ ধরনের অপরিচিত তৎসম শব্দের প্রশ্নে শব্দের ধ্বনি দেখে আন্দাজ না করে অর্থ মুখস্থ রাখা জরুরি। কাছাকাছি শব্দ: গণ্ডূপদ মানে কেঁচো, আর জলৌকা মানে জোঁক।
ফাঁদ হলো গণ্ডূষ আর গণ্ডূপদ গুলিয়ে ফেলা। গণ্ডূপদ মানে কেঁচো, তাই অনেকে কেঁচো দাগিয়ে ফেলেন।
মনে রাখুন: গণ্ডূষে জল, গণ্ডূপদে পা: পা-ওয়ালা শব্দটি কেঁচো।
৮৫. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নয় কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- ক'আরেক ফাল্গুন'
- খ'কবর'
- গ'আর্তনাদ'
- ঘ'চিলেকোঠার সেপাই'
সঠিক উত্তর: ঘ. 'চিলেকোঠার সেপাই'
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন রচনা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা নয়। এমন প্রশ্নে প্রতিটি রচনার লেখক ও বিষয় মনে রাখতে হয়।
জহির রায়হানের উপন্যাস আরেক ফাল্গুন ভাষা আন্দোলনের পরের বছর শহিদ দিবস পালনের ঘটনা নিয়ে লেখা। মুনীর চৌধুরীর নাটক কবর ১৯৫৩ সালে জেলে বসে লেখা, ভাষাশহিদদের নিয়ে। শওকত ওসমানের উপন্যাস আর্তনাদও ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক।
অন্যদিকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান। তাই এটি ভাষা আন্দোলনের রচনা নয়।
ফাঁদ হলো আর্তনাদ নামটি কম পরিচিত হওয়ায় একে বাদ দেওয়া। কিন্তু চিলেকোঠার সেপাই নিশ্চিতভাবে উনসত্তরের উপন্যাস।
মনে রাখুন: ইলিয়াসের দুই উপন্যাস মনে রাখুন: চিলেকোঠার সেপাই (উনসত্তর), খোয়াবনামা (তেভাগা ও দেশভাগ)।
৮৬. কোন বাক্যটি শুদ্ধ (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কউল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
- খলোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
- গতোমার দুরাবস্থা দেখে ব্যথিত হলাম।
- ঘতিনি আরোগ্য হলেন।
সঠিক উত্তর: ক. উল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
প্রশ্নটা শুদ্ধ বাক্য চিনতে বলছে। এমন প্রশ্নে প্রতিটি বাক্যের ভুল শব্দ বা ভুল প্রয়োগ খুঁজে বের করতে হয়। চারটির মধ্যে প্রথম বাক্যটি, উল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, শুদ্ধ।
উল্লিখিত শব্দটি গড়া উৎ উপসর্গ, লিখ্ ধাতু আর ক্ত প্রত্যয়ে, তাই লিখিত শব্দের মতোই এতে ই-কার থাকে। উল্লেখ শব্দের সঙ্গে ইত জুড়ে উল্লেখিত লেখা অশুদ্ধ।
দ্বিতীয় বাক্যে নির আর অপরাধ মিলে হয় নিরপরাধ, যা নিজেই বিশেষণ; নিরাপরাধী লিখলে আ-কার আর ই প্রত্যয় দুটোই বাড়তি। তৃতীয় বাক্যে দুর আর অবস্থা মিলে হয় দুরবস্থা, দুরাবস্থা নয়। চতুর্থ বাক্যে আরোগ্য মানে রোগমুক্তি, এটি বিশেষ্য; তাই বলতে হয় তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।
সতর্কতা: প্রশ্নপত্রের কোনো কোনো কপিতে প্রথম বাক্যে উল্লেখিত ছাপা দেখা যায়। সেভাবে ছাপা হলে চারটি বাক্যই অশুদ্ধ হয়ে যায়; উল্লিখিত লেখা থাকলে প্রথমটিই উত্তর।
মনে রাখুন: উল্লিখিত, নিরপরাধ, দুরবস্থা, আরোগ্য লাভ: এই চারটি শুদ্ধ রূপ একসাথে মুখস্থ রাখুন, প্রায়ই আসে।
৮৭. অশুদ্ধ কিন্তু প্রচলিত বাংলা শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কইতিমধ্যে
- খসঠিক
- গউপরোক্ত
- ঘআগের সবগুলো
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা এমন শব্দ খুঁজছে যা ব্যাকরণের দিক থেকে অশুদ্ধ, কিন্তু লেখায় ও কথায় বহুল প্রচলিত। বাংলা একাডেমির অভিধানে এমন শব্দের পাশে লেখা থাকে অশুদ্ধ প্রচলিত।
ইতিমধ্যে শব্দের শুদ্ধ রূপ ইতোমধ্যে। ইতঃ আর মধ্যে মিলে বিসর্গসন্ধিতে হয় ইতোমধ্যে, যেমন মনঃ আর যোগ মিলে মনোযোগ। ম ঘোষ ধ্বনি বলে ইতঃ-এর বিসর্গ ও হয়ে যায়। বাংলা একাডেমির অভিধান ইতিমধ্যে-কে অশুদ্ধ প্রচলিত রূপ বলেছে।
উপরোক্ত শব্দে বাংলা উপর আর সংস্কৃত উক্ত জোড়া হয়েছে। সংস্কৃত নিয়মে উপরি আর উক্ত মিলে হয় উপর্যুক্ত, অথবা সন্ধি ছাড়া উপরিউক্ত। তাই উপরোক্তও অশুদ্ধ কিন্তু বহুল প্রচলিত।
সঠিক শব্দটিকে অনেকে বাহুল্যদোষে অশুদ্ধ মনে করেন, কারণ ঠিক শব্দেই অর্থ পূর্ণ। কিন্তু বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে সঠিক প্রমিত শব্দ হিসেবে আছে। তাই আগের সবগুলো অপশনটি টেকে না, আবার ইতিমধ্যে ও উপরোক্ত দুটিই ঠিক; ফলে প্রশ্নটির একক উত্তর নেই।
মনে রাখুন: সন্ধির ভুলে প্রচলিত দুটি পরিচিত শব্দ: ইতিমধ্যে, শুদ্ধ ইতোমধ্যে; উপরোক্ত, শুদ্ধ উপর্যুক্ত বা উপরিউক্ত।
৮৮. 'মুক্তি' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় বিশ্লেষণ করলে হবে - (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কমুক্ + তি
- খমু + ক্তি
- গমুচ্ + ক্তি
- ঘমোচন + তি
সঠিক উত্তর: গ. মুচ্ + ক্তি
প্রকৃতি-প্রত্যয় মানে শব্দের মূল অংশ, অর্থাৎ ধাতু বা প্রকৃতি, আর তার শেষে যুক্ত প্রত্যয় আলাদা করে দেখানো। মুক্তি শব্দের মূলে আছে মুচ্ ধাতু, যার অর্থ ছেড়ে দেওয়া বা মুক্ত করা।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ক্তি যুক্ত হলে ধাতুর শেষের চ বা জ বদলে ক হয়ে যায়। তাই মুচ্ যোগ ক্তি থেকে মুক্তি। একই নিয়মে ভজ্ যোগ ক্তি থেকে ভক্তি, আর যুজ্ যোগ ক্তি থেকে যুক্তি।
ক্তি প্রত্যয়ের ক আসলে চিহ্ন মাত্র, শব্দে বসে শুধু তি। তবু প্রকৃতি-প্রত্যয় লেখার সময় পুরো প্রত্যয়টি লিখতে হয়: মুচ্ যোগ ক্তি।
মুক্ যোগ তি দেখতে মিলে যায় বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু মুক্ কোনো ধাতু নয়; ক এসেছে চ বদলে। আর মোচন নিজেই মুচ্ ধাতু থেকে গড়া আরেকটি শব্দ, মুক্তির প্রকৃতি নয়।
মনে রাখুন: শব্দে ক্ত বা ক্তি দেখলে ধাতুর শেষে চ বা জ ছিল কি না ভাবুন: মুক্তি, ভক্তি, যুক্তি; ক্ত-তেও একই: সিচ্ + ক্ত = সিক্ত।
৮৯. বাংলা লিপির উৎস - (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কগুপ্ত লিপি
- খদেবনাগরী লিপি
- গনাগরী লিপি
- ঘব্রাহ্মী লিপি
সঠিক উত্তর: ঘ. ব্রাহ্মী লিপি
বাংলা লিপির মূল উৎস ব্রাহ্মী লিপি। উপমহাদেশের প্রায় সব লিপি, যেমন দেবনাগরী, বাংলা, তামিল, ব্রাহ্মী থেকে নানা ধাপে জন্ম নিয়েছে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিও এই লিপিতে লেখা।
ব্রাহ্মী থেকে প্রথমে আসে গুপ্ত লিপি, তারপর পূর্ব ভারতে কুটিল লিপি। কুটিল লিপি থেকেই ধীরে ধীরে বাংলা লিপির রূপ তৈরি হয়।
দেবনাগরী বাংলা লিপির সহোদর, পূর্বপুরুষ নয়: দুটোই একই উৎস থেকে আলাদা পথে এসেছে। নাগরী লিপি দেবনাগরীরই পুরোনো রূপ।
গুপ্ত লিপি মাঝের ধাপ বলে এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। প্রশ্নে মূল উৎস চাইলে উত্তর ব্রাহ্মী; সরাসরি পূর্বরূপ চাইলে কুটিল লিপি।
মনে রাখুন: মূল উৎস = ব্রাহ্মী; সরাসরি পূর্বরূপ = কুটিল। প্রশ্নের শব্দটা দেখে বেছে নিন।
৯০. 'খ্রিষ্টাব্দ' কোন কোন শব্দ যোগে গঠিত? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কইংরেজি+তৎসম
- খতৎসম+ফারসি
- গতৎসম+ইংরেজি
- ঘফারসি+তৎসম
সঠিক উত্তর: ক. ইংরেজি+তৎসম
খ্রিষ্টাব্দ শব্দটি দুটি অংশে গড়া: খ্রিষ্ট আর অব্দ। খ্রিষ্ট এসেছে ইংরেজি Christ থেকে, তাই এটি বিদেশি, এখানে ইংরেজি শব্দ। অব্দ সংস্কৃত শব্দ, মানে বছর বা সাল; তাই এটি তৎসম।
প্রথম অংশ ইংরেজি আর দ্বিতীয় অংশ তৎসম, তাই উত্তর ইংরেজি যোগ তৎসম। এখানে ক্রম গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উল্টো ক্রমের অপশনও রাখা হয়েছে।
এমন মিশ্র শব্দের আরও উদাহরণ: হেড-পণ্ডিত, ইংরেজি যোগ তৎসম; রাজা-বাদশা, তৎসম যোগ ফারসি; হাট-বাজার, বাংলা যোগ ফারসি।
তৎসম যোগ ইংরেজি অপশনে উৎস দুটো ঠিক থাকলেও ক্রম উল্টো, এটিই মূল ফাঁদ। শব্দের অংশগুলো বাঁ থেকে ডানে যে ক্রমে আছে, উৎসও সেই ক্রমে লিখুন।
মনে রাখুন: মিশ্র শব্দে প্রতিটি অংশের উৎস আলাদা করে ঠিক করুন, তারপর বাঁ থেকে ডানে সেই ক্রমেই উত্তর মেলান।
৯১. 'ময়মনসিংহ গীতিকা' কে সম্পাদনা করেন? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- খদীনেশচন্দ্র সেন
- গরামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
- ঘরামমোহন রায়
সঠিক উত্তর: খ. দীনেশচন্দ্র সেন
ময়মনসিংহ গীতিকা হলো পূর্ববঙ্গের, বিশেষ করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকমুখে প্রচলিত পালাগানের সংকলন। এটি সম্পাদনা করেন দীনেশচন্দ্র সেন, আর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২৩ সালে এটি প্রকাশ করে।
পালাগুলো গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে; দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। এতে আছে মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কাজলরেখা, দেওয়ানা মদিনার মতো বিখ্যাত পালা।
পরে একই ধারায় পূর্ববঙ্গ গীতিকা নামে আরও কয়েক খণ্ড প্রকাশিত হয়। দীনেশচন্দ্র সেনের আরেকটি বিখ্যাত বই বঙ্গভাষা ও সাহিত্য।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ তিনিও প্রাচীন সাহিত্য উদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন, গীতিকা নয়।
মনে রাখুন: সংগ্রহ চন্দ্রকুমার দে, সম্পাদনা দীনেশচন্দ্র সেন; চর্যাপদ হলে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
৯২. শুদ্ধ বানানগুচ্ছ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপূণ্য, শূন্য
- খদূর্যোগ, দুর্বার
- গবাধা, বাঁধা
- ঘযন্ত্রণা, মন্ত্রনা
সঠিক উত্তর: গ. বাধা, বাঁধা
বানানগুচ্ছের প্রশ্নে জোড়ার দুটি শব্দই শুদ্ধ হতে হয়; একটিও ভুল থাকলে পুরো জোড়া বাদ। বাধা আর বাঁধা দুটিই শুদ্ধ শব্দ, শুধু অর্থ আলাদা।
চন্দ্রবিন্দু ছাড়া বাধা মানে প্রতিবন্ধকতা বা আটকানো। চন্দ্রবিন্দু দিয়ে বাঁধা মানে বন্ধন বা বেঁধে রাখা, যেমন দড়ি দিয়ে বাঁধা। চন্দ্রবিন্দু বদলালে অর্থ বদলায়, কিন্তু কোনোটিই ভুল বানান নয়।
বাকি জোড়াগুলোতে একটি করে ভুল আছে। পুণ্য শব্দে প-এ হ্রস্ব উ-কার, তাই পূণ্য ভুল, শূন্য ঠিক। দুর্যোগ শব্দে দুর্ উপসর্গ, তাই দূর্যোগ ভুল, দুর্বার ঠিক। মন্ত্রণা শব্দে র-এর প্রভাবে মূর্ধন্য ণ, তাই মন্ত্রনা ভুল, যন্ত্রণা ঠিক।
প্রতিটি ভুল জোড়ায় একটি শব্দ শুদ্ধ রেখে ফাঁদ পাতা হয়েছে, যেমন শূন্য, দুর্বার, যন্ত্রণা। তাই জোড়ার দুটো শব্দই আলাদা করে যাচাই করুন।
মনে রাখুন: দুর্ উপসর্গ সবসময় হ্রস্ব উ-কার: দুর্যোগ, দুর্নীতি, দুর্বার; দূর মানে কেবল দূরত্ব।
৯৩. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদিযুগ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- ক৫০০-৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
- খ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
- গ১৩০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
- ঘ১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: খ. ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস তিন যুগে ভাগ করা হয়: আদিযুগ, মধ্যযুগ আর আধুনিক যুগ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে আদিযুগ ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ। শহীদুল্লাহ চর্যার রচনা শুরু ধরেছেন সপ্তম শতকে, তাই শুরু ৬৫০; সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় আদিযুগ ধরেছেন ৯৫০ থেকে ১২০০।
১২০১ থেকে ১৩৫০ সময়টিকে বলা হয় অন্ধকার যুগ, কারণ এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সাহিত্য নিদর্শন মেলেনি। মধ্যযুগ ১২০১ থেকে ১৮০০, আর এর পর থেকে আধুনিক যুগ।
১২০০ থেকে ১৩৫০ অপশনটি আসলে অন্ধকার যুগ, আদিযুগ নয়; এটিই বড় ফাঁদ। পরীক্ষায় শহীদুল্লাহর হিসাবটিই প্রত্যাশিত।
মনে রাখুন: শহীদুল্লাহ: ৬৫০; সুনীতিকুমার: ৯৫০। শেষ দুজনেরই ১২০০।
৯৪. 'পয়ঃ' শব্দের অর্থ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপানি
- খবাতাস
- গবর্জ্য
- ঘকাগজ
সঠিক উত্তর: ক. পানি
পয়ঃ সংস্কৃত শব্দ, এর অর্থ পানি বা জল; দুধ অর্থেও এর ব্যবহার আছে। অপশনে পানি আছে, তাই সেটিই উত্তর।
এই শব্দ থেকে গড়া কয়েকটি পরিচিত শব্দ: পয়ঃপ্রণালি, মানে পানি নিষ্কাশনের নালা; পয়োধি, মানে সমুদ্র; পয়োধর, মানে মেঘ।
পানির আরও সমার্থক শব্দ পরীক্ষায় আসে: জল, সলিল, নীর, বারি, অম্বু, উদক, তোয়।
পয়ঃপ্রণালি দিয়ে নোংরা পানি যায় বলে অনেকে বর্জ্য বেছে নেন। কিন্তু পয়ঃ মানে পানি; বর্জ্যের ধারণা এসেছে নালার কাজ থেকে, শব্দের অর্থ থেকে নয়।
মনে রাখুন: পয়ো বা পয়ঃ দিয়ে শুরু শব্দ মানেই পানির সঙ্গে সম্পর্ক: পয়োধি, পয়ঃপ্রণালি।
৯৫. 'সাতপাঁচ ভেবে লাভ নেই।'- এখানে ব্যবহৃত বাগধারাটি কোন অর্থ প্রকাশ করছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কঅগ্র-পশ্চাৎ
- খএলোমেলো
- গসস্তা কথা
- ঘনানা প্রকার
সঠিক উত্তর: ক. অগ্র-পশ্চাৎ
সাতপাঁচ শব্দের কয়েকটি অর্থ আছে। বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে বিশেষণ হিসেবে এর অর্থ নানা প্রকার বা এলোমেলো, আর বিশেষ্য হিসেবে নানা বিষয় বা অগ্রপশ্চাৎ। অগ্রপশ্চাৎ অর্থের উদাহরণ হিসেবে অভিধানই দিয়েছে সাতপাঁচ ভাবা।
প্রশ্নের বাক্যে আছে সাতপাঁচ ভেবে লাভ নেই, মানে সাতপাঁচ ভাবা বাগধারাটিই ব্যবহার হয়েছে। এর অর্থ আগে-পরে, ভালো-মন্দ সব দিক ভেবে দ্বিধা করা। তাই এখানে সাতপাঁচ মানে অগ্রপশ্চাৎ।
বাক্যটির ভাব দাঁড়ায়: আগে-পিছে এত চিন্তা করে লাভ নেই। বাগধারার প্রশ্নে সবসময় দেখুন শব্দটি বাক্যে কোন ক্রিয়ার সঙ্গে বসেছে, তারপর অর্থ ঠিক করুন।
নানা প্রকার অর্থটিও অভিধানে আছে বলে অনেক উত্তরমালা সেটি দেয়; কিন্তু তা খাটে সাতপাঁচ জিনিস বা সাতপাঁচ কথার মতো প্রয়োগে। ভাবা ক্রিয়ার সঙ্গে বসলে অর্থ অগ্রপশ্চাৎ।
মনে রাখুন: বাগধারায় সংখ্যা জোড়া থাকলে পাশের ক্রিয়াটা দেখুন: ভাবা থাকলে অগ্রপশ্চাৎ বা দ্বিধা।
৯৬. কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কশর্মিষ্ঠা
- খতাসের ঘর
- গরক্তকরবী
- ঘচিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর: ক. শর্মিষ্ঠা
শর্মিষ্ঠা রবীন্দ্রনাথের নয়, মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা নাটক। এটি মধুসূদনের প্রথম নাটক, ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত, আর মহাভারতের যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার কাহিনি নিয়ে লেখা। পাশ্চাত্য রীতিতে লেখা প্রথম সার্থক বাংলা নাটক হিসেবে এটি পরিচিত।
রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত সাংকেতিক নাটক, যার প্রধান চরিত্র নন্দিনী। চিত্রাঙ্গদা মহাভারতের মণিপুর রাজকন্যার কাহিনি নিয়ে লেখা তাঁর কাব্যনাট্য, পরে একই কাহিনিতে নৃত্যনাট্যও লেখেন।
অপশনে ছাপা তাসের ঘর আসলে রবীন্দ্রনাথের রূপক নাটক তাসের দেশ, নামটি ভুল ছাপা হয়েছে। ১৯৩৩ সালের এই নাটকটি তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন।
পৌরাণিক কাহিনি দেখে শর্মিষ্ঠাকে চিত্রাঙ্গদার মতো রবীন্দ্রনাথের ভাবা সাধারণ ভুল। মধুসূদনের অন্য নাটক কৃষ্ণকুমারী ও পদ্মাবতী, আর প্রহসন একেই কি বলে সভ্যতা।
মনে রাখুন: পৌরাণিক নামের নাটক দেখলে দুজনকে আলাদা করুন: শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী মধুসূদনের; চিত্রাঙ্গদা, বিসর্জন রবীন্দ্রনাথের।
৯৭. নিচের কোনটিকে ছড়ার ছন্দ বলা হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কমাত্রাবৃত্ত
- খস্বরবৃত্ত
- গঅক্ষরবৃত্ত
- ঘমুক্তক অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: খ. স্বরবৃত্ত
বাংলা কবিতার প্রধান তিন ছন্দ: স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর অক্ষরবৃত্ত। এর মধ্যে স্বরবৃত্তকে ছড়ার ছন্দ বলা হয়, কারণ আমাদের লোকছড়া আর ঘুমপাড়ানি ছড়ার বেশিরভাগই এই ছন্দে লেখা।
স্বরবৃত্তের লয় দ্রুত, মূল পর্ব সাধারণত চার মাত্রার, আর মুক্ত ও বদ্ধ দুই ধরনের অক্ষরই এক মাত্রা ধরা হয়। যেমন খোকন খোকন ডাক পাড়ি, খোকন মোদের কার বাড়ি। এর অন্য নাম দলবৃত্ত, লৌকিক ছন্দ বা শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ।
মাত্রাবৃত্তের লয় মাঝারি, এতে বদ্ধাক্ষর সবসময় দুই মাত্রা; একে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে। অক্ষরবৃত্তের লয় ধীর, একে তানপ্রধান ছন্দ বলে, আর এর প্রবহমান রূপ থেকেই অমিত্রাক্ষর ও মুক্তক ছন্দ।
মাত্রাবৃত্ত নামটি গোনার সহজ ছন্দ মনে হয় বলে অনেকে একে ছড়ার ছন্দ ধরেন। মনে রাখুন: ছড়া মানে দ্রুত লয়, আর দ্রুত লয় মানে স্বরবৃত্ত।
মনে রাখুন: ছড়া, লোকছড়া, শ্বাসাঘাত, দ্রুত লয়: এই শব্দগুলো দেখলেই স্বরবৃত্ত।
৯৮. 'যদিও হাত কাঁপে তথাপি ছোট ছোট করে চারটা চিঠি লিখলাম।'- এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ কোন অর্থ প্রকাশ করছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কসামান্য
- খমার্জিত
- গপৌনঃপুনিকতা
- ঘআধিক্য
সঠিক উত্তর: ক. সামান্য
একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। দ্বিরুক্তি নানা অর্থ দেয়: আধিক্য, যেমন রাশি রাশি ধান; পৌনঃপুনিকতা, যেমন বার বার ডাকা; আবার সামান্যতা বা মৃদুতা, যেমন জ্বর জ্বর লাগা।
প্রশ্নের বাক্যে বক্তার হাত কাঁপে, তবু তিনি চারটি চিঠি লিখেছেন ছোট ছোট করে, মানে অল্প কথায়, ছোট আকারে। চিঠির সংখ্যা আগেই বলা আছে, চারটা; তাই ছোট ছোট এখানে সংখ্যার আধিক্য বোঝায় না, বোঝায় প্রতিটি চিঠির স্বল্পতা।
সে কারণে এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটির অর্থ সামান্য। একই শব্দ অন্য বাক্যে আধিক্য বোঝাতে পারে, যেমন গাছের ছোট ছোট ডালগুলো কেটে ফেলো, যেখানে অনেকগুলো ডাল বোঝায়।
আধিক্য উত্তরটি অনেক উত্তরমালায় আছে, কারণ বিশেষণের দ্বিরুক্তি সাধারণত বহুত্ব বোঝায়। কিন্তু বাক্যের প্রসঙ্গই অর্থ ঠিক করে; এখানে প্রসঙ্গ হাত কাঁপার কারণে লেখার স্বল্পতা।
মনে রাখুন: দ্বিরুক্তির অর্থ ঠিক করতে বাক্যে সংখ্যা বা মাত্রার ইঙ্গিত খুঁজুন; সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকলে আধিক্য বাদ।
৯৯. 'ব্রজবুলি' ভাষা হলো- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কমিথিলার স্থানীয় ভাষা
- খকৃত্রিম ভাষা
- গকৃত্রিম কাব্যভাষা
- ঘব্রজভাষা
সঠিক উত্তর: গ. কৃত্রিম কাব্যভাষা
ব্রজবুলি হলো মৈথিলী আর বাংলা মিশিয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম কাব্যভাষা। এটি কোনো অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা ছিল না; শুধু কবিতা, বিশেষ করে বৈষ্ণব পদ লেখার জন্য ব্যবহৃত হতো।
মিথিলার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলীতে রাধাকৃষ্ণের পদ লিখেছিলেন। তাঁর পদের অনুকরণে বাংলার বৈষ্ণব কবিরা, যেমন গোবিন্দদাস, বাংলা আর মৈথিলী মিশিয়ে পদ লিখতে শুরু করেন; এভাবেই ব্রজবুলির জন্ম।
আধুনিক কালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তরুণ বয়সে ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী লেখেন এই ব্রজবুলিতে।
নামের ব্রজ দেখে অনেকে একে মথুরা-বৃন্দাবন অঞ্চলের ব্রজভাষা ভেবে ভুল করেন; ব্রজভাষা আসল আঞ্চলিক ভাষা, ব্রজবুলি কৃত্রিম। আর শুধু কৃত্রিম ভাষা বললে অর্ধেক বলা হয়, কারণ এটি কাব্যের জন্যই তৈরি।
মনে রাখুন: ব্রজবুলি = মৈথিলী + বাংলা = কৃত্রিম কাব্যভাষা; ব্রজভাষা = মথুরার আসল আঞ্চলিক ভাষা।
১০০. উপমিত কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবজ্রকঠিন
- খসিংহপুরুষ
- গবরফশীতল
- ঘকাজলকালো
সঠিক উত্তর: খ. সিংহপুরুষ
কর্মধারয়ের এই দুই ভাগ গুলিয়ে যায় বলে প্রশ্নটা জনপ্রিয়। তুলনায় তিনটি জিনিস থাকে: যাকে তুলনা করা হয় সে উপমেয়, যার সঙ্গে তুলনা করা হয় সে উপমান, আর দুজনের মিলের গুণটি সাধারণ ধর্ম।
উপমান কর্মধারয়ে উপমান আর সাধারণ ধর্ম থাকে, উপমেয় থাকে না। যেমন বরফের মতো শীতল, বরফশীতল; কাজলের মতো কালো, কাজলকালো; বজ্রের মতো কঠিন, বজ্রকঠিন। এখানে দ্বিতীয় পদটি গুণবাচক বিশেষণ।
উপমিত কর্মধারয়ে উপমেয় আর উপমান থাকে, সাধারণ ধর্ম থাকে না। পুরুষ সিংহের ন্যায়: পুরুষ উপমেয়, সিংহ উপমান, আর সাহস বা বীরত্ব গুণটি উহ্য। বোর্ডের বইয়ে এটি পুরুষসিংহ রূপে আছে; একই রকম উদাহরণ মুখচন্দ্র, নরশার্দূল।
সহজ পরীক্ষা: সমস্তপদের একটি পদ শীতল, কালো, কঠিনের মতো গুণবাচক হলে উপমান কর্মধারয়; দুটো পদই বস্তু বা প্রাণীর নাম হলে উপমিত। অপশনের মধ্যে কেবল সিংহপুরুষে কোনো গুণবাচক পদ নেই।
মনে রাখুন: সমস্তপদে বিশেষণ আছে কি না দেখুন: থাকলে উপমান, না থাকলে উপমিত। যেমন মুখচন্দ্র, করকমল উপমিত।