বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৮
১৪১. 'মেনিমুখো' বলতে বুঝায় (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কভীতু
- খলাজুক
- গমুখরা
- ঘবিড়ালমুখো
সঠিক উত্তর: খ. লাজুক
প্রশ্নটা একটি বিশেষণের অর্থ জানতে চায়। ‘মেনিমুখো’ মানে লাজুক বা মুখচোরা, যে মুখ ফুটে কথা বলতে পারে না।
‘মেনি’ মানে মেয়ে বিড়াল। মেনি বিড়াল চুপচাপ, নিরীহ ভঙ্গিতে থাকে; তার মতো মুখ যার, অর্থাৎ যে সংকোচে কথা কম বলে, তাকে বলা হয় মেনিমুখো।
প্রয়োগ: ‘ছেলেটা এমন মেনিমুখো যে নিজের দাবির কথাটাও বলতে পারে না।’
ফাঁদ হলো বিড়ালমুখো: শব্দে বিড়াল আছে বলে আক্ষরিক অর্থে টানা। আর মুখরা ঠিক উল্টো, মানে যে বেশি ও কড়া কথা বলে। ভীতুর কাছাকাছি মনে হলেও শব্দটির মূল ভাব সংকোচ, ভয় নয়।
মনে রাখুন: মেনিমুখো = মুখচোরা = লাজুক; বিপরীত মুখরা, মুখফোড়।
১৪২. 'উচাটন' এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কঊর্ধ্বটান
- খউঁচুনিচু
- গপ্রশান্ত
- ঘউত্তাল
সঠিক উত্তর: গ. প্রশান্ত
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ নিয়ে। ‘উচাটন’ মানে উদ্বিগ্ন, অস্থির, চঞ্চল মন; এর বিপরীত শব্দ ‘প্রশান্ত’।
উচাটন শব্দটি এসেছে সংস্কৃত উচ্চাটন থেকে, যার মূল ভাব মনকে স্থান থেকে উপড়ে ফেলা, অর্থাৎ অস্থির করে দেওয়া। কবিতায় প্রায়ই আসে ‘মন উচাটন’, মানে মন আনচান বা ব্যাকুল।
প্রশান্ত মানে সম্পূর্ণ শান্ত, স্থির, উদ্বেগহীন। অস্থিরতার একদম উল্টো অবস্থা, তাই এটাই বিপরীত শব্দ।
ফাঁদ হলো ঊর্ধ্বটান ও উঁচুনিচু: ‘উচ’ ধ্বনির মিল থেকে উঁচু বা উপরের ধারণা মাথায় আসে। আর উত্তাল মানে অশান্ত, যা উচাটনের কাছাকাছি অর্থ, বিপরীত নয়।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দে আগে মূল শব্দের অর্থ এক শব্দে বলুন, তারপর তার উল্টোটা খুঁজুন: উচাটন = অস্থির, তাই প্রশান্ত।
১৪৩. কোনটি কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনকাল? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- ক১৮৭৬-১৯৩৮
- খ১৮৬৮-১৯৪১
- গ১৮৮১-১৯৪৬
- ঘ১৮৭২-১৯৩৯
সঠিক উত্তর: ক. ১৮৭৬-১৯৩৮
প্রশ্নটা কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনকাল নিয়ে। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭৬ সালে এবং মারা যান ১৯৩৮ সালে।
শরৎচন্দ্রের জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে; মৃত্যু ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮, কলকাতায়। তাঁকে বলা হয় অপরাজেয় কথাশিল্পী।
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবদাস’, ‘শ্রীকান্ত’, ‘গৃহদাহ’, ‘পথের দাবী’, ‘চরিত্রহীন’ ও ‘দেনাপাওনা’। ‘পথের দাবী’ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
মনে রাখার উপায়: রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১, শরৎচন্দ্রের ১৮৭৬; দুজনই ১৯৪০-এর আগে-পরে মারা যান, শরৎচন্দ্র ১৯৩৮ আর রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১। এই জোড়া মনে রাখলে কাছাকাছি সালের অপশনে বিভ্রান্ত হবেন না।
মনে রাখুন: শরৎচন্দ্র: ১৮৭৬ থেকে ১৯৩৮। শেষ দুই অঙ্ক উল্টো মিল: ৭৬ ও ৩৮, যেখানে ৩৮ হলো ৭৬-এর অর্ধেক।
১৪৪. কোন বাগধারাটির অর্থ 'চাতুরী করা'? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কলেজে খেলা
- খশেষ রক্ষা
- গআঁখি মুদা
- ঘছকড়া নকড়া
সঠিক উত্তর: ক. লেজে খেলা
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ নিয়ে। ‘চাতুরী করা’ অর্থের বাগ্ধারা হলো ‘লেজে খেলা’।
লেজে খেলা বলতে বোঝায় কাউকে সরাসরি না ধরে কৌশলে ঘুরিয়ে খেলানো, চালাকি করে নিজের কাজ আদায় করা। মাছ বড়শিতে লাগার পর যেমন সুতা ছেড়ে-টেনে খেলানো হয়, ভাবটা তেমন।
বাকি বাগ্ধারাগুলোর অর্থ আলাদা। শেষ রক্ষা মানে শেষ পর্যন্ত মান বা অবস্থা বাঁচানো; আঁখি মুদা মানে চোখ বোজা বা মারা যাওয়া; ছকড়া নকড়া মানে খুব সস্তা দর বা তুচ্ছ জ্ঞান করা।
বাগ্ধারার প্রশ্নে আক্ষরিক অর্থ ধরলে ভুল হয়; প্রতিটি বাগ্ধারার প্রচলিত অর্থ আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
মনে রাখুন: পশুর অঙ্গ দিয়ে বাগ্ধারা মনে রাখুন: লেজে খেলা = চাতুরী, লেজে-গোবরে = নাজেহাল।
১৪৫. বাংলা ভাষার বিখ্যাত কোন কবি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কশামসুর রাহমান
- খবুদ্ধদেব বসু
- গজীবনানন্দ দাশ
- ঘবর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর: ঘ. বর্ণিত সবাই
প্রশ্নটা জানতে চায়, বাংলা ভাষার কোন বিখ্যাত কবি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। উত্তর বর্ণিত সবাই, কারণ শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসু ও জীবনানন্দ দাশ তিনজনই ইংরেজি সাহিত্য পড়েছেন।
জীবনানন্দ দাশ কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজিতে অনার্স করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ করেন এবং পরে ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও এমএ করেন।
শামসুর রাহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করেন, যদিও অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা দেননি। তবু তিনি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন।
তিনজনের কবিতাতেই পাশ্চাত্য আধুনিকতার প্রভাব স্পষ্ট, যার একটা উৎস এই ইংরেজি সাহিত্য পাঠ। যখন সবগুলো অপশন আলাদাভাবে সত্য, তখন বর্ণিত সবাই বেছে নিন; একজনকে বেছে নেওয়াটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: তিরিশের কবিরা (জীবনানন্দ, বুদ্ধদেব, সুধীন্দ্রনাথ, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী) প্রায় সবাই ইংরেজি সাহিত্যের পাঠক ছিলেন।
১৪৬. বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের সময়কাল- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- ক৬৫০-১২০০ খ্রি:
- খ৪০০-৮০০ খ্রি:
- গ৫০০-১০০০ খ্রি:
- ঘ৭০০-১৪০০ খ্রি:
সঠিক উত্তর: ক. ৬৫০-১২০০ খ্রি:
প্রশ্নটা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়সীমা নিয়ে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন যুগ ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
শহীদুল্লাহ মনে করেন বাংলা ভাষার উদ্ভব সপ্তম শতকে, তাই তিনি প্রাচীন যুগ শুরু করেন ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে উদ্ভব দশম শতকে, তাই তাঁর হিসাবে প্রাচীন যুগ ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
এই যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ। এরপর আসে মধ্যযুগ, ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ, যার শুরুর অংশ ১২০১ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ নামে পরিচিত; আর ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগ।
অপশনে ৯৫০ থেকে ১২০০ নেই, তাই শহীদুল্লাহর মতটিই উত্তর। ৪০০ থেকে ৮০০ বা ৭০০ থেকে ১৪০০ কোনো স্বীকৃত মত নয়।
মনে রাখুন: শহীদুল্লাহ ৬৫০, সুনীতি ৯৫০; দুজনেরই শেষ ১২০০।
১৪৭. 'বঙ্গে সুফী প্রভাব' গ্রন্থটির রচয়িতা- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কআবুল ফজল
- খসুফী মোতাহার হোসেন
- গড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
- ঘমুহাম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর: ঘ. মুহাম্মদ এনামুল হক
প্রশ্নটা ‘বঙ্গে সুফী প্রভাব’ গ্রন্থের লেখক জানতে চায়। গ্রন্থটির রচয়িতা ভাষাবিদ ও গবেষক ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
এটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাগ্রন্থ। এতে বাংলায় সুফি সাধকদের আগমন, তাঁদের মতবাদ এবং বাংলার সমাজ, ধর্মচিন্তা ও সাহিত্যে তার প্রভাব আলোচনা করা হয়েছে।
এনামুল হকের আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘মুসলিম বাংলা সাহিত্য’, আর আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ‘আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য’। তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক এবং বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন।
ফাঁদ হলো সুফী মোতাহার হোসেন: নামে ‘সুফী’ থাকায় তাঁকে লেখক মনে হয়। কিন্তু তিনি সনেট রচয়িতা কবি; সুফিবাদ নিয়ে এই গবেষণা তাঁর নয়।
মনে রাখুন: এনামুল হক = সুফী প্রভাব, মুসলিম বাংলা সাহিত্য, আরাকান রাজসভা।
১৪৮. 'লাঠি' ও 'চাউল' শব্দ দুটি- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কদেশি শব্দ
- খতত্তব শব্দ
- গবিদেশি শব্দ
- ঘতৎসম শব্দ
সঠিক উত্তর: ক. দেশি শব্দ
প্রশ্নটা শব্দের উৎস অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ নিয়ে। প্রচলিত ব্যাকরণের তালিকা অনুযায়ী ‘লাঠি’ ও ‘চাউল’ দেশি শব্দ।
দেশি শব্দ হলো এই অঞ্চলের আদি অধিবাসী, যেমন কোল, মুণ্ডা, সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা থেকে আসা শব্দ, যাদের সংস্কৃতে কোনো স্পষ্ট মূল নেই। এ ধরনের পরিচিত উদাহরণ কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ঢেঁকি, ডাব, ডাগর, চোঙা।
তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত এসেছে, যেমন চন্দ্র, সূর্য। তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে রূপ বদলে এসেছে, যেমন হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ। বিদেশি শব্দ আসে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ প্রভৃতি ভাষা থেকে।
তবে জেনে রাখুন, ভাষাবিদদের একাংশ ‘লাঠি’ শব্দকে প্রাকৃত হয়ে আসা শব্দ মনে করেন, তাই একে তদ্ভবও বলা হয়। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর অবশ্য দেশি।
মনে রাখুন: গ্রামীণ ঘরোয়া জিনিসের পুরোনো নাম, যেমন কুলা, ঢেঁকি, চুলা, ডাব, চাউল: প্রায়ই দেশি শব্দ।
১৪৯. 'সদাশয়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কসদ+আশয়
- খসৎ+আশয়
- গসদা+শয়
- ঘসৎ-শয়
সঠিক উত্তর: খ. সৎ+আশয়
প্রশ্নটা ব্যঞ্জন সন্ধির বিচ্ছেদ। ‘সদাশয়’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ সৎ যোগ আশয়।
নিয়ম: ক, চ, ট, ত, প, মানে বর্গের প্রথম বর্ণের পরে কোনো স্বরধ্বনি এলে প্রথম বর্ণটি সেই বর্গের তৃতীয় বর্ণে বদলে যায়। এখানে সৎ শব্দের শেষে ত, পরে আশয়ের আ। তাই ত বদলে দ হয়, আর দ-এর সঙ্গে আ মিলে হয় দা। ফলে সৎ যোগ আশয় মিলে সদাশয়।
সদাশয় মানে উদার বা মহৎ হৃদয়ের মানুষ; আশয় মানে মন বা অভিপ্রায়। একই নিয়মে জগৎ যোগ ঈশ হয় জগদীশ, বাক্ যোগ আড়ম্বর হয় বাগাড়ম্বর, আর ষট্ যোগ আনন হয় ষড়ানন।
ফাঁদ হলো সদ যোগ আশয়: চূড়ান্ত শব্দে দ দেখা যায় বলে মূলেও দ ধরে ফেলা। কিন্তু মূল শব্দ ‘সৎ’, সন্ধির ফলে ত থেকে দ হয়েছে। আর সদা যোগ শয় ধরলে অর্থই বদলে যায়, সদা মানে সবসময়।
মনে রাখুন: শব্দের মাঝে দা, দী, গা, ড়া দেখলে মূলে ৎ, ক্, ট্ খুঁজুন: সদাশয়, জগদীশ, বাগাড়ম্বর, ষড়ানন।
১৫০. The poem 'Shadhinota Tumi' is written by- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কKazi Nazrul Islam
- খAhmed Sofa
- গShamsur Rahman
- ঘRabindranath Tagore
সঠিক উত্তর: গ. Shamsur Rahman
প্রশ্নটা “স্বাধীনতা তুমি” কবিতার কবিকে জানতে চেয়েছে। কবিতাটি শামসুর রাহমানের, মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা।
কবিতাটি তাঁর “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থে আছে। একই বইয়ে আছে আরেকটি বিখ্যাত কবিতা “তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা”। স্বাধীনতাকে নানা চেনা জিনিসের সঙ্গে তুলনা করে লেখা এই কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে পরিচিত কবিতার মধ্যে পড়ে।
শামসুর রাহমানকে বাংলাদেশের নাগরিক কবি বলা হয়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে”।
ফাঁদ হলো কাজী নজরুল ইসলাম, কারণ তিনি বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার কবি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নজরুল ১৯৪২ সাল থেকেই অসুস্থ ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের কবিতা তাঁর নয়।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের দুই বিখ্যাত স্বাধীনতার কবিতা একই কবির, একই বইয়ের: শামসুর রাহমান, “বন্দী শিবির থেকে”।
১৫১. ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কধ্বনি
- খশব্দ
- গবাক্য
- ঘসবগুলোই
সঠিক উত্তর: ঘ. সবগুলোই
ব্যাকরণ ভাষার গঠন ও নিয়ম বিশ্লেষণ করে। আর ভাষার গঠন ছোট থেকে বড় এককে সাজানো: ধ্বনি দিয়ে শব্দ, শব্দ দিয়ে বাক্য। তাই ধ্বনি, শব্দ ও বাক্য তিনটিই ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।
বাংলা ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য বিষয় সাধারণত চারটি ভাগে পড়ানো হয়: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম, এবং অর্থতত্ত্ব।
ধ্বনিতত্ত্বে আসে ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান। শব্দতত্ত্বে আসে শব্দ গঠন, প্রকৃতি-প্রত্যয়, সমাস, উপসর্গ, কারক। বাক্যতত্ত্বে আসে বাক্যের গঠন, উক্তি, যতিচিহ্ন।
একটি অপশন ঠিক দেখে থেমে গেলেই ভুল হয়। এখানে ধ্বনি, শব্দ, বাক্য প্রতিটিই সত্য, তাই সবগুলোই উত্তর।
মনে রাখুন: ধ্বনি থেকে শব্দ, শব্দ থেকে বাক্য: পুরো সিঁড়িটাই ব্যাকরণের আলোচ্য।
১৫২. 'চির' ও 'চীর' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কচূর্ণ ও নেশাগ্রস্ত
- খচুরি ও স্বাভাবিক
- গদীর্ঘ ও ছিন্নবস্ত্র
- ঘছিন্নবস্ত্র ও দীর্ঘ
সঠিক উত্তর: গ. দীর্ঘ ও ছিন্নবস্ত্র
প্রশ্নটি প্রায় সমোচ্চারিত শব্দজোড় নিয়ে, যেখানে ই-কার আর ঈ-কারের পার্থক্যে অর্থ বদলে যায়। চির, হ্রস্ব ই-কার দিয়ে, মানে দীর্ঘকাল বা সব সময়; যেমন চিরকাল, চিরদিন, চিরসবুজ।
চীর, দীর্ঘ ঈ-কার দিয়ে, মানে ছেঁড়া কাপড়, জীর্ণ বস্ত্র বা গাছের বাকল। যেমন চীরবসন মানে ছিন্ন বা বাকলের তৈরি পোশাক, যা সন্ন্যাসীরা পরতেন।
প্রশ্নে বলা হয়েছে যথাক্রমে, তাই প্রথমে চির এর অর্থ, পরে চীর এর অর্থ। সঠিক ক্রম হলো দীর্ঘ ও ছিন্নবস্ত্র।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ শেষ অপশন: অর্থ দুটি ঠিক, কিন্তু ক্রম উল্টো। যথাক্রমে শব্দটি দেখলে ক্রম মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
মনে রাখুন: যথাক্রমে থাকলে অর্থ দুটি ঠিক কি না দেখার পর ক্রমও মিলান। একই ধরনের জোড়া: দিন (দিবস) ও দীন (দরিদ্র), কুল (বংশ) ও কূল (তীর)।
১৫৩. কোন দুটি শব্দ কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কপাল ও কুণ্ড
- খযূথ ও মালা
- গনিকর ও রাজি
- ঘপাল ও যূথ
সঠিক উত্তর: ঘ. পাল ও যূথ
বাংলায় বহুবচন বোঝাতে কিছু সমষ্টিবাচক শব্দ যোগ হয়, আর কোন শব্দ কোন ধরনের বিশেষ্যের সঙ্গে বসে তার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। পাল আর যূথ শুধু জন্তু বা পশুর বহুবচনে বসে; যেমন গরুর পাল, হস্তীযূথ।
অন্যদের ব্যবহার আলাদা। গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ বসে উন্নত প্রাণী বা মানুষের সঙ্গে: ছাত্রগণ, শিক্ষকবৃন্দ। কুল, সকল, সব, সমূহ বসে প্রাণী ও অপ্রাণী দুইয়ের সঙ্গেই: পক্ষীকুল, বৃক্ষসমূহ।
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি বসে কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে: পর্বতমালা, বৃক্ষরাজি, পুষ্পনিকর, মেঘপুঞ্জ।
তাই মালা, নিকর, রাজি থাকা অপশনগুলো বাদ, কারণ এরা অপ্রাণীর বহুবচন। প্রথম অপশনে পাল ঠিক হলেও কুণ্ড বহুবচনবাচক শব্দ নয়; জোড়ার দুটি শব্দই মিলতে হবে।
মনে রাখুন: পশুর জন্য দুটি: পাল আর যূথ। বাকি তালিকা মনে রাখার দরকার নেই, কেবল এ দুটি চিনলেই প্রশ্ন শেষ।
১৫৪. নিচের কোনটি দেশি শব্দ? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কচন্দ্র
- খডাব
- গহরতাল
- ঘচিনি
সঠিক উত্তর: খ. ডাব
দেশি শব্দ হলো বাংলা অঞ্চলের আদি অধিবাসী, যেমন কোল, মুন্ডা, সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে আসা শব্দ। এগুলো সংস্কৃত বা বিদেশি কোনো উৎস থেকে আসেনি। ডাব এমনই একটি দেশি শব্দ।
আরও কিছু পরিচিত দেশি শব্দ: কুলা, ঢেঁকি, ডিঙ্গি, চোঙ্গা, খোকা, ঝিঙা, পেট। এগুলো সাধারণত গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ জিনিসের নাম।
চন্দ্র তৎসম শব্দ, মানে সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত রূপে বাংলায় এসেছে। হরতাল এসেছে গুজরাটি ভাষা থেকে, তাই এটি বিদেশি শব্দ। চিনি এসেছে চীনা ভাষা থেকে, চীন দেশের নাম থেকেই।
হরতাল শব্দটিই বড় ফাঁদ, কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত পরিচিত যে একে দেশি মনে হয়। কিন্তু উৎস গুজরাটি।
মনে রাখুন: দেশি শব্দ চিনুন গ্রামের জিনিস দিয়ে: ডাব, কুলা, ঢেঁকি, ডিঙ্গি, ঝিঙা।
১৫৫. লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন। বাক্যটির প্রত্যক্ষ উক্তি হলো- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কলোকটি আমাকে বললেন, “আগে আসুন সামনে বসুন।”
- খলোকটি আমাকে বললেন, “আপনি সামনের আসনে বসুন।”
- গলোকটি আমাকে বললেন, “অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।”
- ঘলোকটি আমাকে বললেন, “অনুগ্রহ করুন এবং সামনের আসনে বসুন।”
সঠিক উত্তর: গ. লোকটি আমাকে বললেন, “অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।”
প্রশ্নটি পরোক্ষ উক্তি থেকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে রূপান্তর। পরোক্ষ উক্তির অনুরোধ করলেন ক্রিয়াটি জানিয়ে দেয় যে মূল কথাটি ছিল একটি অনুরোধসূচক বাক্য।
পরোক্ষ থেকে প্রত্যক্ষে নেওয়ার সময় অনুরোধ করলেন বদলে হয় বললেন, আর অনুরোধের ভাবটি উদ্ধৃতির ভেতরে অনুগ্রহ করে বা দয়া করে শব্দ দিয়ে প্রকাশ পায়। আমাকে শ্রোতা বলে উদ্ধৃতির ভেতরে আসে আপনি, আর বসতে হয়ে যায় বসুন।
তাই সঠিক রূপ: লোকটি আমাকে বললেন, অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন। এখানে অনুরোধ, শ্রোতা ও ক্রিয়া তিনটিই ঠিকঠাক এসেছে।
আপনি সামনের আসনে বসুন অপশনটি সবচেয়ে কাছের ফাঁদ: এটি আদেশ বা সাধারণ নির্দেশের মতো শোনায়, অনুরোধের ভাব হারিয়ে যায়। আর অনুগ্রহ করুন এবং বসুন অপশনে অনুরোধটি অস্বাভাবিকভাবে আলাদা ক্রিয়া হয়ে গেছে।
মনে রাখুন: পরোক্ষে অনুরোধ করল দেখলে প্রত্যক্ষে খুঁজুন অনুগ্রহ করে বা দয়া করে; আদেশ করল দেখলে শুধু অনুজ্ঞা।
১৫৬. সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। এখানে 'সারারাত' কোন কারকে কোন বিভক্তি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- ককর্মে শূন্য
- খকর্তায় শূন্য
- গঅধিকরণে শূন্য
- ঘঅপাদানে শূন্য
সঠিক উত্তর: গ. অধিকরণে শূন্য
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময় বা স্থানকে বলে অধিকরণ কারক। প্রশ্ন করে খুঁজে নেওয়া যায়: বৃষ্টি কখন হয়েছে? উত্তর সারারাত। তাই সারারাত সময় বোঝাচ্ছে, এটি কালাধিকরণ।
এবার বিভক্তি দেখি। সারারাত শব্দে এ, য়, তে এমন কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি; শব্দটি খালি অবস্থায় বসেছে। বিভক্তি না থাকলে তাকে বলে শূন্য বিভক্তি। তাই উত্তর অধিকরণে শূন্য।
তুলনা করুন: রাতে বৃষ্টি হয়েছে বাক্যে রাতে শব্দে এ বিভক্তি আছে, সেটা অধিকরণে সপ্তমী বা এ বিভক্তি। আবার আমি রোজ সকালে হাঁটি বাক্যে রোজ অধিকরণে শূন্য।
ফাঁদ হলো কর্তায় শূন্য। এই বাক্যে কর্তায় শূন্য আছে ঠিকই, কিন্তু সেটি বৃষ্টি শব্দ, কারণ বৃষ্টিই হয়েছে। প্রশ্ন জানতে চেয়েছে সারারাত শব্দের কারক।
মনে রাখুন: কখন বা কোথায় প্রশ্নের উত্তর হলে অধিকরণ; এরপর শুধু দেখুন শব্দে বিভক্তি আছে কি না।
১৫৭. 'ধৃষ্ট' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কনম্র
- খমৌন
- গসদয়
- ঘসজীব
সঠিক উত্তর: ক. নম্র
ধৃষ্ট মানে উদ্ধত, বেয়াদব বা নির্লজ্জভাবে সাহসী; যে বড়দের সম্মান না করে স্পর্ধা দেখায়। এর বিপরীত হলো নম্র বা বিনীত, মানে ভদ্র ও বিনয়ী।
যেমন: ছেলেটির ধৃষ্ট আচরণে সবাই বিরক্ত, কিন্তু তার ভাই খুবই নম্র। ধৃষ্ট থেকে বিশেষ্য ধৃষ্টতা, আর নম্র থেকে নম্রতা।
অন্য অপশনগুলোরও নিজস্ব বিপরীত শব্দ আছে। মৌন মানে নীরব, এর বিপরীত মুখর। সদয় এর বিপরীত নির্দয়। সজীব এর বিপরীত নির্জীব।
বিপরীত শব্দের প্রশ্নে আগে মূল শব্দের অর্থ নিশ্চিত করুন। ধৃষ্ট মানে স্পর্ধা দেখানো, তাই বিপরীতে চাই বিনয়।
মনে রাখুন: ধৃষ্টতা বনাম নম্রতা: একটি আচরণের দুই প্রান্ত।
১৫৮. বাক্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে কোন দোষ ঘটে? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কগুরুচণ্ডালী দোষ
- খদুর্বোধ্যতা
- গউপমার ভুল প্রয়োগ
- ঘবাহুল্য দোষ
সঠিক উত্তর: ঘ. বাহুল্য দোষ
বাক্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে যে দোষ হয়, তাকে বলে বাহুল্য দোষ। একই অর্থ দুবার প্রকাশ পেলে বাক্য ভারী হয়, যোগ্যতা নষ্ট হয়।
উদাহরণ: সকল ছাত্রগণ উপস্থিত। এখানে সকল আর গণ দুটিই বহুবচন বোঝায়, তাই একটি বাড়তি; শুদ্ধ রূপ সকল ছাত্র বা ছাত্রগণ। আবার অশ্রুজল শব্দে অশ্রু মানেই চোখের জল, তাই জল বাড়তি। দৈন্যতা শব্দেও দৈন্য যথেষ্ট।
গুরুচণ্ডালী দোষ হলো সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ, কিংবা তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশি বা তদ্ভব শব্দের বেমানান জোড়া, যেমন গরুর গাড়ি না বলে গরুর শকট। দুর্বোধ্যতা মানে অপ্রচলিত বা কঠিন শব্দের কারণে বাক্য বোঝা কঠিন হওয়া। উপমার ভুল প্রয়োগ মানে ভুল তুলনা টানা।
এই চারটিই বাক্যের যোগ্যতা নষ্ট করে, তাই নাম ও উদাহরণ জোড়ায় জোড়ায় মনে রাখলে বিভ্রান্তি হবে না।
মনে রাখুন: বাহুল্য মানেই বাড়তি: একই অর্থের দুই শব্দ একসঙ্গে দেখলে বাহুল্য দোষ।
১৫৯. কোনটি শুদ্ধ বানান? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কঅনাবাদী
- খঅপদস্ত
- গঅব্যার্থ
- ঘঅভাগিনি
সঠিক উত্তর: ঘ. অভাগিনি
এই প্রশ্ন বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের নিয়ম যাচাই করে। নিয়মটি হলো, তৎসম নয় এমন শব্দে, মানে তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দে, শেষে ই-কার বসে; ঈ-কার নয়। স্ত্রীবাচক শব্দেও এই নিয়ম খাটে, যেমন রানি, পাগলি, বাঘিনি।
অভাগা শব্দটি তদ্ভব, তার স্ত্রীবাচক রূপ অভাগিনি; নিয়ম অনুযায়ী শেষে হ্রস্ব ই-কার। তাই অভাগিনি শুদ্ধ।
অনাবাদী বানানটি পুরোনো রীতির। আবাদ শব্দটি ফারসি, অর্থাৎ বিদেশি; তাই প্রমিত বানানে আবাদি ও অনাবাদি, যেমন সরকারি, দরকারি। অপদস্ত এর শুদ্ধ রূপ অপদস্থ, আর অব্যার্থ এর শুদ্ধ রূপ অব্যর্থ, যেখানে ব্যর্থ শব্দে কোনো আ-কার নেই।
ফাঁদ হলো অনাবাদী। পুরোনো বই ও পত্রিকায় ঈ-কারে লেখা বেশি দেখা যায়, তাই চোখে পরিচিত লাগে। কিন্তু প্রমিত নিয়মে বিদেশি শব্দের শেষে ই-কার।
মনে রাখুন: তৎসম নয় তো ই-কার: সরকারি, দরকারি, অনাবাদি, রানি, অভাগিনি।
১৬০. “কি হেতু এসেছ তুমি কহ বিস্তারিয়া” - “হেতু” অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কনিমিত্ত
- খপ্রার্থনা
- গব্যাপার
- ঘপ্রসঙ্গ
সঠিক উত্তর: ক. নিমিত্ত
অনুসর্গ হলো সেই অব্যয় শব্দ, যা বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে এবং বাক্যের অন্য অংশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। যেমন: দ্বারা, দিয়ে, জন্য, হেতু, নিমিত্ত, কারণে।
হেতু শব্দের অর্থ কারণ। বাক্যে কি হেতু এসেছ মানে কী কারণে বা কী জন্য এসেছ। তাই এখানে হেতু অনুসর্গটি নিমিত্ত বা কারণ অর্থ প্রকাশ করেছে।
নিমিত্ত, হেতু, জন্য, কারণে, তরে: এই অনুসর্গগুলো সবই কারণ বা উদ্দেশ্য বোঝায়। যেমন: দেশের তরে প্রাণ দিল, কী নিমিত্ত এই আয়োজন।
প্রার্থনা, ব্যাপার বা প্রসঙ্গ অর্থে হেতু ব্যবহৃত হয় না। কহ বিস্তারিয়া, মানে বিস্তারিত বলো, অংশটি দেখে প্রসঙ্গ বা ব্যাপার মনে হতে পারে, কিন্তু অনুসর্গটির নিজের অর্থ কারণ।
মনে রাখুন: হেতু, নিমিত্ত, জন্য, কারণে, তরে: সবই কারণ বা উদ্দেশ্যের অনুসর্গ।