বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৬
১০১. 'হ্ম' যুক্তবর্ণ গঠিত হয়েছে- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কহ্ + ম
- খহ্ + ষ
- গক্ + ষ
- ঘষ্ + ক
সঠিক উত্তর: ক. হ্ + ম
প্রশ্নের যুক্তবর্ণটি হ্ম। এটি একটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ, মানে যুক্ত হওয়ার পর মূল বর্ণগুলো দেখে আর চেনা যায় না। হ্ম গঠিত হয়েছে হ আর ম মিলে, যেমন ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম, ব্রাহ্মী শব্দে।
অনেক ছাপার হরফে হ্ম দেখতে প্রায় ক্ষ-এর মতো লাগে, তাই দুটো গুলিয়ে যায়। ক্ষ গঠিত হয় ক আর ষ মিলে, যেমন পক্ষ বা রক্ষা; আর হ্ম হয় হ আর ম মিলে।
অন্য পরিচিত অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: জ্ঞ হলো জ আর ঞ, হ্ন হলো হ আর দন্ত্য ন, হ্ণ হলো হ আর মূর্ধন্য ণ, ষ্ণ হলো ষ আর মূর্ধন্য ণ।
হ যোগ ষ দিয়ে কোনো প্রচলিত যুক্তবর্ণ নেই, এটি বানানো ফাঁদ। আর ক যোগ ষ উত্তর হতো প্রশ্নে ক্ষ থাকলে; তাই অক্ষরটি ভালো করে দেখে নিন।
মনে রাখুন: যুক্তবর্ণ চিনতে একটি পরিচিত শব্দ মনে করুন: হ্ম মানে ব্রাহ্মণ, ক্ষ মানে পক্ষ, জ্ঞ মানে জ্ঞান।
১০২. 'To do or die' বাংলা প্রবাদে এর অর্থ কী হতে পারে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- ককেঁচো খুঁড়তে সাপ
- খবিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী
- গমন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
- ঘপরাজয়ে ডরে না বীর
সঠিক উত্তর: গ. মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
To do or die মানে হয় কাজটি করব, নয়তো মরব; অর্থাৎ লক্ষ্য পূরণে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত থাকা। বাংলায় এর প্রচলিত রূপ মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে মন্ত্র মানে সংকল্প বা লক্ষ্য, সাধন মানে তা পূরণ করা, আর শরীর পাতন মানে দেহত্যাগ। হয় সংকল্প পূরণ, নয় মৃত্যু: হুবহু To do or die-এর ভাব।
বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী মানে যুদ্ধ ছাড়া সুচের ডগার সমান মাটিও ছাড়ব না; এটি মহাভারতে দুর্যোধনের জেদের উক্তি, আত্মত্যাগের নয়। পরাজয়ে ডরে না বীর মানে বীর হারকে ভয় পায় না।
কেঁচো খুঁড়তে সাপ মানে সামান্য খোঁজ করতে গিয়ে বড় বিপদ বেরিয়ে পড়া। দৃঢ় সংকল্প আর মৃত্যুর প্রস্তুতি দুটোই যে অপশনে আছে, সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: ইংরেজি প্রবাদের দুই অংশই বাংলায় মিলিয়ে দেখুন: do মানে সাধন, die মানে শরীর পাতন।
১০৩. সন্ধিতে ই/ঈ এর পরে অ/আ থাকলে উভয় মিলে কী হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কও-কার
- খএ-কার
- গয-ফলা
- ঘব-ফলা
সঠিক উত্তর: গ. য-ফলা
এটি স্বরসন্ধির নিয়ম। ই বা ঈ-এর পরে ই আর ঈ ছাড়া অন্য স্বর, যেমন অ বা আ, এলে ই বা ঈ বদলে য হয়, আর সেটি আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে য-ফলা হয়ে যুক্ত হয়।
যেমন অতি যোগ অন্ত সমান অত্যন্ত: অতির ই আর অন্তর অ মিলে ত-এর সঙ্গে য-ফলা। ইতি যোগ আদি সমান ইত্যাদি, এখানে য-ফলার সঙ্গে আ-কার। নদী যোগ অম্বু সমান নদ্যম্বু।
উ-এর ক্ষেত্রেও একই ধাঁচের নিয়ম: উ বা ঊ-এর পরে অন্য স্বর এলে উ বদলে ব হয়, মানে ব-ফলা; যেমন সু যোগ আগত সমান স্বাগত, অনু যোগ এষণ সমান অন্বেষণ।
ব-ফলা অপশনটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ সেটি উ-এর নিয়ম। আর অ বা আ-এর পরে ই এলে হয় এ-কার, যেমন নর যোগ ইন্দ্র সমান নরেন্দ্র; অ বা আ-এর পরে উ এলে হয় ও-কার, যেমন সূর্য যোগ উদয় সমান সূর্যোদয়।
মনে রাখুন: ই-কারের জোড়া য-ফলা, উ-কারের জোড়া ব-ফলা: ইত্যাদি, অত্যন্ত, প্রত্যেক; স্বাগত, অন্বেষণ।
১০৪. 'কুম্ভীলক' শব্দের অর্থ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- ককুমিরের অশ্রু
- খযে মাটির জিনিস বানায়
- গযে অন্যের লেখা নিজের বলে চালায়
- ঘকুমিরের ছানা
সঠিক উত্তর: গ. যে অন্যের লেখা নিজের বলে চালায়
কুম্ভীলক মানে এমন ব্যক্তি, যে অন্যের লেখা বা ভাব নিজের নামে চালায়। ইংরেজিতে একে plagiarist বলে, আর এই চুরির কাজটি plagiarism, বাংলায় কুম্ভীলকবৃত্তি।
আজকের গবেষণা ও লেখালেখিতে সূত্র উল্লেখ না করে অন্যের লেখা হুবহু বা ভাব বদলে ব্যবহার করা কুম্ভীলকবৃত্তি হিসেবে ধরা হয়।
শব্দটির শুরু কুম্ভ দিয়ে, আর কুমিরের প্রতিশব্দ কুম্ভীর; এই মিল থেকেই প্রশ্নে কুমিরের অশ্রু ও কুমিরের ছানা অপশন রাখা হয়েছে। আবার কুম্ভ মানে কলসি, তাই মাটির জিনিস বানানো অপশনটিও ফাঁদ; মাটির জিনিস যে বানায় সে কুম্ভকার।
কুমিরের মিথ্যা কান্না বোঝাতে বাংলায় বলে মায়াকান্না, আর ইংরেজিতে crocodile tears। এক কথায় প্রকাশে শব্দের চেহারা নয়, অর্থ মুখস্থ রাখুন।
মনে রাখুন: কুম্ভীলক = লেখাচোর; কুম্ভীর = কুমির; কুম্ভকার = কুমার। তিনটি একসাথে মনে রাখুন।
১০৫. 'সদা সত্য কথা বলবে।' এটি কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবিবৃতিমূলক
- খপ্রশ্নবোধক
- গঅনুজ্ঞাসূচক
- ঘপ্রার্থনাসূচক
সঠিক উত্তর: গ. অনুজ্ঞাসূচক
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ বা নিষেধ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞাসূচক বা অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। সদা সত্য কথা বলবে বাক্যে বক্তা উপদেশ দিচ্ছেন, তাই এটি অনুজ্ঞাসূচক।
এখানে বলবে ক্রিয়াটি দেখতে ভবিষ্যৎ কালের, কিন্তু আসলে এটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: এখন বা পরে কী করতে হবে তার নির্দেশ। যেমন সময়মতো বাড়ি ফিরবে, মিথ্যা বলবে না।
বিবৃতিমূলক বাক্য শুধু কোনো তথ্য জানায়, যেমন সে সবসময় সত্য কথা বলে। প্রশ্নবোধক বাক্যে কিছু জানতে চাওয়া হয়, আর প্রার্থনাসূচক বা ইচ্ছাসূচক বাক্যে মঙ্গল কামনা থাকে, যেমন তোমার মঙ্গল হোক।
বলবে ক্রিয়ার ভবিষ্যৎ রূপ দেখে অনেকে একে সাধারণ বিবৃতি ভাবেন। কিন্তু বাক্যটি কিছু ঘটবে বলে জানাচ্ছে না, বরং করতে বলছে; তাই এটি অনুজ্ঞা।
মনে রাখুন: বাক্য শুনে যদি শ্রোতাকে কিছু করতে বা না করতে হয়, তবে সেটি অনুজ্ঞাসূচক; ক্রিয়া ভবিষ্যৎ রূপে থাকলেও।
১০৬. 'অংশ' শব্দের উচ্চারণ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কঅংশো
- খওঙ্শো
- গঅঙ্শো
- ঘঅংসো
সঠিক উত্তর: গ. অঙ্শো
প্রশ্নটা অংশ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ জানতে চেয়েছে। উচ্চারণ লেখার সময় দুটি জিনিস দেখতে হয়: অনুস্বার কীভাবে উচ্চারিত হয়, আর শব্দের শেষে অ লুপ্ত হয় নাকি ও হয়ে যায়।
বাংলায় অনুস্বার আসলে ঙ্ ধ্বনি, তাই উচ্চারণ অভিধানে ং-কে হসন্তযুক্ত ঙ্ দিয়ে লেখা হয়। আর শব্দের শেষে যুক্ত ব্যঞ্জন বা সংযুক্ত ধ্বনির পরে অ থাকলে সেটি সাধারণত ও-এর মতো উচ্চারিত হয়, যেমন সত্য হয় শোত্তো, তাই শ হয় শো।
শুরুর অ এখানে অ-ই থাকে, ও হয় না, কারণ পরে ই, উ, য-ফলা বা ক্ষ জাতীয় কিছু নেই। তাই অংশ শব্দের উচ্চারণ দাঁড়ায় অঙ্শো।
অংশো অপশনটিও শুনতে একই, কিন্তু উচ্চারণ লেখার রীতিতে অনুস্বারকে ঙ্ দিয়ে দেখানো হয়, তাই অঙ্শো বেশি নির্ভুল। ওঙ্শো লিখলে শুরুর অ-কে ভুলভাবে ও বানানো হয়, আর অংসো লিখলে শ-কে দন্ত্য স ধরা হয়।
মনে রাখুন: উচ্চারণের প্রশ্নে অনুস্বার থাকলে যে অপশনে ঙ্ লেখা আছে সেটি আগে দেখুন; বংশ, হংস, মাংস একই নিয়মে চলে।
১০৭. 'সন্দেশ' পত্রিকার সম্পাদক কে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
- খদ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গমীর মশাররফ হোসেন
- ঘসুকুমার রায়
সঠিক উত্তর: ঘ. সুকুমার রায়
প্রশ্নটা শিশু-কিশোর পত্রিকা সন্দেশের সম্পাদক জানতে চেয়েছে। সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে, কলকাতা থেকে, প্রতিষ্ঠা করেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
১৯১৫ সালে উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সুকুমার রায় পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। আবোল তাবোল, হ য ব র ল-এর মতো লেখার অনেকটাই সন্দেশে প্রকাশিত হয়েছিল।
পরে ১৯৬১ সালে সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায় পত্রিকাটি আবার চালু করেন। অপশনে উপেন্দ্রকিশোর বা সত্যজিৎ নেই, তাই সঠিক উত্তর সুকুমার রায়।
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদনা করতেন আজিজন নেহার ও হিতকরী, আর দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর যুক্ত ছিলেন ভারতী ও তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সঙ্গে। এই নামগুলো চেনা বলে বিভ্রান্তি হয়।
মনে রাখুন: সন্দেশ মানে রায় পরিবার: দাদা উপেন্দ্রকিশোর, বাবা সুকুমার, নাতি সত্যজিৎ।
১০৮. কোনটি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের লেখা ভ্রমণকাহিনি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কবিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
- খরাশিয়ার চিঠি
- গদেশে-বিদেশে
- ঘতুরস্ক ভ্রমণ
সঠিক উত্তর: ক. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
প্রশ্নটা ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের ভ্রমণকাহিনি জানতে চেয়েছে। তিনি ধ্বনিবিজ্ঞান নিয়ে পড়তে লন্ডন গিয়েছিলেন, আর সেই প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা লিখেছেন বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন বইয়ে।
তাঁর অন্য বিখ্যাত বই ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব। সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্তও লিখেছেন।
বাকি তিনটিও ভ্রমণকাহিনি, তাই এখানে ধরন দেখে নয়, লেখক মিলিয়ে উত্তর দিতে হবে। রাশিয়ার চিঠি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের, দেশে-বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলীর, আর তুরস্ক ভ্রমণ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর লেখা।
মনে রাখুন: বিলেতে পড়তে যাওয়া ভাষাবিজ্ঞানী আবদুল হাই, তাই বিলেতের দিনগুনতি তাঁর বই।
১০৯. যতিচিহ্ন ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কধ্বনিতত্ত্ব
- খশব্দতত্ত্ব
- গবাক্যতত্ত্ব
- ঘঅর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: গ. বাক্যতত্ত্ব
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ব্যাকরণের কোন অংশে যতিচিহ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলা ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য ভাগ চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব।
যতিচিহ্ন বসে বাক্যের ভেতরে ও শেষে; এটি ঠিক করে কোথায় থামতে হবে আর বাক্যটি প্রশ্ন, বিস্ময় না বিবৃতি। যেহেতু এর কাজ পুরো বাক্যের গঠন ও পাঠের সঙ্গে জড়িত, তাই নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণে যতিচিহ্ন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত।
বাক্যতত্ত্বে আরও আছে বাক্যের গঠন, উক্তি, বাচ্য, কারক বিশ্লেষণ আর বাক্যের রূপান্তর। ধ্বনিতত্ত্বে থাকে ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান; শব্দতত্ত্বে প্রত্যয়, উপসর্গ, সমাস, পদ; অর্থতত্ত্বে প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগ্ধারা।
অনেকে যতিচিহ্নকে লেখার চিহ্ন ভেবে ধ্বনিতত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন, কারণ বর্ণমালাও সেখানে পড়ে। কিন্তু যতিচিহ্ন বর্ণ নয়, বাক্যের বিরাম।
মনে রাখুন: যে বিষয় পুরো বাক্য ছাড়া বোঝা যায় না (উক্তি, বাচ্য, যতিচিহ্ন, কারক), তা বাক্যতত্ত্বে।
১১০. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বলে মনে করা হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কঅসমিয়া
- খসংস্কৃত
- গবঙ্গকামরূপী
- ঘকেন্তম
সঠিক উত্তর: গ. বঙ্গকামরূপী
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলা ভাষা কোন ভাষা থেকে জন্ম নিয়েছে। বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের সদস্য; বহু ধাপ পেরিয়ে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ থেকে এর উদ্ভব।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশ, আর তা থেকে বঙ্গকামরূপী ভাষা হয়ে আনুমানিক সপ্তম শতকে বাংলা আলাদা রূপ পায়। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত ও অপভ্রংশ থেকে বাংলার উৎপত্তি। নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণে দেখানো ছকেও বাংলার ঠিক আগের ধাপ বঙ্গকামরূপী।
বঙ্গকামরূপী থেকে একই সঙ্গে বাংলা আর অসমিয়া, দুটি ভাষা জন্ম নেয়। তাই অসমিয়া বাংলার জননী নয়, বোন।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ সংস্কৃত। বাংলায় অনেক তৎসম শব্দ থাকলেও বাংলা সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসেনি; এসেছে প্রাকৃতের ধারায়। কেন্তম হলো ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের পশ্চিমের শাখা, বাংলা পড়ে শতম শাখায়।
মনে রাখুন: বাংলার উৎস প্রশ্নে প্রাকৃত, অপভ্রংশ বা বঙ্গকামরূপী থাকলে সেটিই উত্তর; সংস্কৃত প্রায় সবসময় ফাঁদ।
১১১. 'কবর' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কঅক্ষরবৃত্ত
- খত্রিপদী
- গমাত্রাবৃত্ত
- ঘস্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: গ. মাত্রাবৃত্ত
প্রশ্নটা জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কবিতা “কবর” কোন ছন্দে লেখা, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর মাত্রাবৃত্ত ছন্দ, প্রতি পর্বে ছয় মাত্রা।
মাত্রাবৃত্তে মুক্তাক্ষর বা স্বরান্ত অক্ষর এক মাত্রা, আর বদ্ধাক্ষর বা ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর সবসময় দুই মাত্রা। প্রথম চরণে গুনে দেখি: “এই খানে তোর” এই, খা, নে, তোর মিলে দুই, এক, এক, দুই, মোট ছয়। “দাদির কবর” দা এক, দির দুই, ক এক, বর দুই, মোট ছয়। “ডালিম গাছের” আবারও ছয়, আর শেষে “তলে” দুই মাত্রার অপূর্ণ পর্ব।
কবিতাটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ “রাখালী”-তে আছে, যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। জসীমউদ্দীন তখনো ছাত্র থাকা অবস্থাতেই কবিতাটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তাঁকে পল্লীকবি বলা হয়।
ফাঁদ হলো অক্ষরবৃত্ত, কারণ চরণগুলো লম্বা। কিন্তু অক্ষরবৃত্তে শব্দের ভেতরের বদ্ধাক্ষর এক মাত্রা ধরা হয়, তাতে এই ছয় ছয় মাত্রার পর্ব মেলে না। আর ত্রিপদী আসলে ছন্দ নয়, তিন পদের এক ধরনের স্তবক বিন্যাস।
মনে রাখুন: বদ্ধাক্ষর সব জায়গায় দুই মাত্রা ধরে পর্ব মিলে গেলে মাত্রাবৃত্ত; শব্দের শেষে শুধু দুই মাত্রা হলে অক্ষরবৃত্ত; সব অক্ষর এক মাত্রা হলে স্বরবৃত্ত।
১১২. 'সংশয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কবিস্ময়
- খনির্ভয়
- গদ্বিধা
- ঘপ্রত্যয়
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রত্যয়
প্রশ্নটা “সংশয়” শব্দের বিপরীত শব্দ জানতে চেয়েছে। সংশয় মানে সন্দেহ, দ্বিধা, নিশ্চিত হতে না পারা। এর উল্টো হলো দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা, অর্থাৎ প্রত্যয়।
প্রত্যয় শব্দের অর্থ বিশ্বাস, আস্থা, নিশ্চিত জ্ঞান। যেমন: সংশয় কাটিয়ে সে প্রত্যয়ের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিল। নিঃসংশয় শব্দটিও সংশয়ের বিপরীত অর্থ দেয়।
এখানে খেয়াল রাখুন, ব্যাকরণে প্রত্যয় মানে শব্দের শেষে যুক্ত শব্দাংশও হয়। কিন্তু এই প্রশ্নে প্রত্যয় এসেছে বিশ্বাস অর্থে।
ফাঁদ হলো দ্বিধা, কারণ এটা সংশয়ের কাছাকাছি শব্দ, মানে সমার্থক, বিপরীত নয়। আর নির্ভয় হলো ভয়ের বিপরীত, সংশয়ের নয়।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দের প্রশ্নে আগে প্রতিটি অপশন সমার্থক কিনা দেখে বাদ দিন; সমার্থকটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
১১৩. 'আভরণ' শব্দের অর্থ কি? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কআচ্ছাদন
- খরমণীয়
- গঅনবরত
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনটিই নয়
প্রশ্নটা “আভরণ” শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। আভরণ মানে অলংকার, গয়না বা ভূষণ। যেমন: রাজকন্যার গায়ে নানা রত্নের আভরণ।
অপশনে অলংকার, গয়না বা ভূষণ কোনোটিই নেই। আচ্ছাদন মানে ঢাকনা, রমণীয় মানে মনোরম, আর অনবরত মানে একটানা। তাই সঠিক উত্তর কোনটিই নয়।
শব্দটি থেকে আরও কিছু শব্দ চেনা যায়। নিরাভরণ মানে অলংকারহীন, সাদামাটা। আভরণ আর আবরণ দেখতে প্রায় এক, কিন্তু অর্থ আলাদা।
ফাঁদ হলো আচ্ছাদন। আবরণ শব্দের অর্থ আচ্ছাদন বা ঢাকনা, আর আভরণ ও আবরণ একই রকম শোনায় বলে অনেকে আচ্ছাদন দাগান। ভ আর ব-এর পার্থক্যই এখানে আসল।
মনে রাখুন: আভরণ ভ দিয়ে, ভূষণও ভ দিয়ে: আভরণ মানে ভূষণ।
১১৪. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধিকে কতভাগে ভাগ করেছেন? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- ক৩
- খ৪
- গ৫
- ঘ৬
সঠিক উত্তর: গ. ৫
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধি বা আলোচ্য বিষয়কে কয় ভাগে ভাগ করেছেন। উত্তর পাঁচ ভাগ।
সাধারণভাবে ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব। ড. শহীদুল্লাহ তাঁর “বাঙ্গালা ব্যাকরণ” বইয়ে ব্যাকরণের পরিধি আরও বড় করে দেখিয়েছেন, ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যের পাশাপাশি ছন্দ ও অলংকারকেও ব্যাকরণের আওতায় এনেছেন। এভাবে ভাগ দাঁড়ায় পাঁচটি।
বাংলা ব্যাকরণের প্রশ্নে কোন ব্যাকরণবিদ কী বলেছেন, তা আলাদা করে মনে রাখতে হয়। কারণ একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিশেষজ্ঞ ভিন্ন সংখ্যা দেন।
ফাঁদ হলো ৪, কারণ পাঠ্যবইয়ে সাধারণত চারটি আলোচ্য বিষয়ই পড়ানো হয়। কিন্তু প্রশ্নে বিশেষভাবে ড. শহীদুল্লাহর কথা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন: শহীদুল্লাহর হাতের পাঁচ আঙুল: ব্যাকরণও পাঁচ ভাগ।
১১৫. শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম কি? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কচরিত্রহীন
- খমন্দির
- গনিষ্কৃতি
- ঘচন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর: খ. মন্দির
প্রশ্নটা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর “মন্দির”।
গল্পটি ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পায়। তবে শরৎচন্দ্র তখন নিজের নামে নয়, মামা সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে লেখাটি জমা দিয়েছিলেন। প্রকাশিত হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম গল্প।
অপশনের বাকি তিনটিও শরৎচন্দ্রের লেখা, কিন্তু এগুলো উপন্যাস এবং অনেক পরে প্রকাশিত। চরিত্রহীন প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবে সাধারণত বড়দিদির নাম আসে।
ফাঁদ হলো বাকি তিনটি নামও শরৎচন্দ্রের হওয়া। তাই কে লিখেছেন দিয়ে বাদ দেওয়া যায় না, মনে রাখতে হয় গল্প না উপন্যাস, আর কোনটি আগে।
মনে রাখুন: শরৎচন্দ্রের প্রথম: গল্প মন্দির, উপন্যাস বড়দিদি।
১১৬. 'যার ঋণ আছে' এর এক কথায় প্রকাশ কি হবে? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কঋণী
- খঅধমর্ণ
- গখাতক
- ঘসবকটি
সঠিক উত্তর: ঘ. সবকটি
প্রশ্নটা “যার ঋণ আছে” কথাটির এক কথায় প্রকাশ জানতে চেয়েছে। অপশনের তিনটি শব্দই এই অর্থ দেয়, তাই উত্তর সবকটি।
ঋণী মানে যে ঋণ নিয়েছে, ঋণ শব্দের সঙ্গে ইন প্রত্যয় যোগে তৈরি। অধমর্ণ মানে যে টাকা ধার নিয়েছে, অর্থাৎ দেনাদার। খাতক শব্দেরও অর্থ দেনাদার বা ঋণগ্রহীতা।
জোড়া শব্দটা মনে রাখুন। যে ঋণ দেয় সে উত্তমর্ণ বা মহাজন, আর যে ঋণ নেয় সে অধমর্ণ বা খাতক। ঋণ দেওয়া পক্ষ উত্তম, নেওয়া পক্ষ অধম: এভাবে মনে রাখলে ভুল হবে না।
ফাঁদ হলো প্রথম অপশন ঋণী দেখেই উত্তর দিয়ে দেওয়া। বাকি দুটি শব্দ কম পরিচিত হলেও একই অর্থের, তাই সবকটি সঠিক।
মনে রাখুন: অধম নেয়, উত্তম দেয়: অধমর্ণ ঋণগ্রহীতা, উত্তমর্ণ ঋণদাতা।
১১৭. নিচের কোন শব্দদ্বয় শুদ্ধ? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কউপরিউক্ত-উল্লিখিত
- খউপরোক্ত-উল্লেখিত
- গজাদুঘর-শুধুমাত্র
- ঘআইনজীবী-মৌনতা
সঠিক উত্তর: ক. উপরিউক্ত-উল্লিখিত
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন জোড়ার দুটো শব্দই শুদ্ধ। উত্তর উপরিউক্ত ও উল্লিখিত।
উপরিউক্ত শব্দটি সন্ধিজাত: উপরি যোগ উক্ত। উপরি শব্দের শেষে ই, আর পরে উ থাকলে ই বদলে য হয়, তাই হয় উপর্যুক্ত, আবার উপরিউক্তও প্রচলিত শুদ্ধ রূপ। কিন্তু উপরোক্ত ভুল, কারণ উপর শব্দটি তৎসম নয়; তৎসম উক্ত শব্দের সঙ্গে সন্ধি করতে হলে তৎসম রূপ উপরি নিতে হয়। উল্লিখিত শব্দটি এসেছে উৎ যোগ লিখিত থেকে, তাই উল্লেখিত ভুল।
অন্য জোড়াগুলোতে একটি করে ভুল শব্দ আছে। জাদুঘর শুদ্ধ, কিন্তু শুধুমাত্র শব্দে শুধু আর মাত্র একই অর্থ বহন করে, ফলে বাহুল্য দোষ ঘটে; লিখতে হয় শুধু বা মাত্র। আইনজীবী শুদ্ধ, কিন্তু মৌনতা ভুল; মৌন শব্দটিই বিশেষ্য, তার সঙ্গে আবার তা যোগ করা বাহুল্য।
ফাঁদ হলো উপরোক্ত ও উল্লেখিত, কারণ এ দুটি কথ্য ভাষায় খুব প্রচলিত। প্রচলিত হলেও ব্যাকরণের নিয়মে এরা অশুদ্ধ।
মনে রাখুন: জোড়া শব্দের প্রশ্নে একটি ভুল শব্দ পেলেই পুরো অপশন বাদ; প্রতিটি অপশনে সবচেয়ে সন্দেহজনক শব্দটি আগে যাচাই করুন।
১১৮. নিচের কোন ভাষাটি স্বতন্ত্র ভাষা? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কসংস্কৃত
- খবাংলা
- গসংস্কৃত ও বাংলা উভয়ই
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. বাংলা
প্রশ্নটার মূল কথা হলো বাংলা ভাষার উৎপত্তি। একসময় ধারণা ছিল বাংলা সংস্কৃতের কন্যা, কিন্তু ভাষাবিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন বাংলা সংস্কৃত থেকে সরাসরি জন্মায়নি; এটি নিজস্ব ধারায় গড়ে ওঠা স্বতন্ত্র ভাষা।
ধারাটা এরকম: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে প্রাচীন ভারতীয় আর্য, তারপর প্রাকৃত, তারপর অপভ্রংশ, আর সেখান থেকে আনুমানিক দশম শতকের দিকে বাংলা। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে, আর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে।
ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে সংস্কৃত বাংলার মা নয়, বড়জোর দূর অতীতের পূর্বপুরুষ। বাংলায় সংস্কৃত থেকে প্রচুর তৎসম শব্দ এসেছে, কিন্তু শব্দ ধার নেওয়া আর ভাষা থেকে জন্ম নেওয়া এক জিনিস নয়।
সতর্কতা: সংস্কৃতও নিজে একটি পৃথক প্রাচীন ভাষা, তাই উভয়ই অপশনটিকে একেবারে ভুল বলা কঠিন। তবে প্রশ্নকর্তা বাংলার স্বাতন্ত্র্যই যাচাই করতে চেয়েছেন, তাই প্রচলিত উত্তর বাংলা।
মনে রাখুন: বাংলা এসেছে প্রাকৃত-অপভ্রংশ হয়ে; সংস্কৃত তার মা নয়, তাই বাংলা স্বতন্ত্র ভাষা।
১১৯. 'তরোয়াল' শব্দটিতে কোন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কধ্বনি বিপর্যয়
- খবর্ণলোপ
- গবর্ণ বিপর্যয়
- ঘসবকটি
সঠিক উত্তর: ক. ধ্বনি বিপর্যয়
তরোয়াল শব্দটি এসেছে তলোয়ার থেকে। খেয়াল করুন, তলোয়ারে ল আগে আর র পরে, কিন্তু তরোয়ালে র আগে আর ল পরে। দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করেছে।
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর স্থান বদল করলে তাকে বলে ধ্বনি বিপর্যয়। এটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ধরন।
আরও উদাহরণ: পিশাচ থেকে পিচাশ, লাফ থেকে ফাল, বাক্স থেকে বাস্ক, রিকশা থেকে রিসকা। প্রতিটিতে দুটি ধ্বনি জায়গা বদল করেছে।
বর্ণ বিপর্যয় শুনতে কাছাকাছি, কিন্তু প্রমিত ব্যাকরণে পরিভাষাটি ধ্বনি বিপর্যয়। আর এখানে কোনো ধ্বনি হারায়নি, তাই বর্ণলোপও নয়।
মনে রাখুন: পিশাচ → পিচাশ, লাফ → ফাল, বাক্স → বাস্ক, তলোয়ার → তরোয়াল: সব ধ্বনি বিপর্যয়।
১২০. নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কনূন্য = নি+উন
- খনিচেষ্ট = নি+চেষ্ট
- গনয়ন = ন+অন
- ঘতন্মধ্যে = তদ্+মধ্যে
সঠিক উত্তর: ঘ. তন্মধ্যে = তদ্+মধ্যে
সঠিক বিচ্ছেদটি তন্মধ্যে সমান তদ্ যোগ মধ্যে। এটি ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম: বর্গের প্রথম বা তৃতীয় বর্ণের পরে ন বা ম থাকলে প্রথম বর্ণটি সেই বর্গের নাসিক্য বর্ণে বদলে যায়। তাই দ্ যোগ ম হয়ে ন্ম।
একই নিয়মের আরও উদাহরণ: জগৎ যোগ নাথ সমান জগন্নাথ, উৎ যোগ মুখ সমান উন্মুখ, চিৎ যোগ ময় সমান চিন্ময়, বাক্ যোগ ময় সমান বাঙ্ময়।
অন্য অপশনগুলো ভুল। ন্যূন শব্দের বিচ্ছেদ নি যোগ ঊন, আর ছাপা অপশনে শব্দ ও স্বর দুটোই ভুল। নিশ্চেষ্ট শব্দের বিচ্ছেদ নিঃ যোগ চেষ্ট, বিসর্গ সন্ধি; নি যোগ চেষ্ট নয়।
নয়ন শব্দের বিচ্ছেদ নে যোগ অন, ন যোগ অন নয়। এ যোগ অ মিলে অয় হয়, তাই নে যোগ অন থেকে নয়ন। এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ ন যোগ অন দেখতে সহজ লাগে।
মনে রাখুন: দ্/ৎ + ম/ন → ন্ম/ন্ন: তন্মধ্যে, উন্মুখ, জগন্নাথ, চিন্ময়।