বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২
২১. ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কইছামতি
- খঅশনি সংকেত
- গআরণ্যক
- ঘবিষাদসিন্ধু
সঠিক উত্তর: খ. অশনি সংকেত
প্রশ্নটি ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা উপন্যাস খুঁজতে বলেছে। ১৩৫০ বঙ্গাব্দ মানে ১৯৪৩ সাল, যাকে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অশনি সংকেত এই দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা। গ্রামবাংলায় ধীরে ধীরে নেমে আসা অভাব আর মানুষের অসহায়তা এর বিষয়। সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাস নিয়ে একই নামে চলচ্চিত্র বানিয়েছেন।
ইছামতী ও আরণ্যকও বিভূতিভূষণের উপন্যাস, কিন্তু বিষয় আলাদা। ইছামতীতে নীলকুঠির আমলের নদীতীরের জীবন, আর আরণ্যকে বিহারের অরণ্যজীবন। বিষাদ সিন্ধু মীর মশাররফ হোসেনের, কারবালার কাহিনি।
ফাঁদ হলো একই লেখকের তিনটি উপন্যাস রাখা। লেখক চিনলেই হবে না, বিষয় মেলাতে হবে: দুর্ভিক্ষ মানেই অশনি সংকেত।
মনে রাখুন: বঙ্গাব্দকে সালে নিতে ৫৯৩ যোগ করুন: ১৩৫০ যোগ ৫৯৩ সমান ১৯৪৩, পঞ্চাশের মন্বন্তর।
২২. 'আকাশ ও পৃথিবীর অন্তরাল'-এক কথায় প্রকাশ করলে সঠিক উত্তর কী হবে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কস্ফুলিঙ্গ
- খরোদসী
- গপীতাভ
- ঘআরক্ত
সঠিক উত্তর: খ. রোদসী
প্রশ্নটি এক কথায় প্রকাশ চেয়েছে। আকাশ ও পৃথিবীর অন্তরাল, মানে মাঝের স্থান, এক কথায় রোদসী। একই অর্থে ক্রন্দসী শব্দও ব্যবহার হয়।
শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, আর সাহিত্যে আকাশ ও পৃথিবী মিলিয়ে যে বিস্তার, তা বোঝাতে কবিরা রোদসী ব্যবহার করেন।
বাকি শব্দগুলোর অর্থ মিলিয়ে দেখুন: স্ফুলিঙ্গ মানে আগুনের ফুলকি, পীতাভ মানে হলুদ আভাযুক্ত, আর আরক্ত মানে ঈষৎ লাল।
ফাঁদ হলো অচেনা শব্দের ভিড়ে আন্দাজে উত্তর দেওয়া। চেনা অর্থগুলো বাদ দিলে রোদসীই একমাত্র শব্দ, যার সঙ্গে আকাশ পৃথিবীর সম্পর্ক আছে।
মনে রাখুন: আকাশ পৃথিবীর মাঝখান দুই নামে আসে: রোদসী ও ক্রন্দসী।
২৩. কোন্ কবি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কআল মাহমুদ
- খহেলাল হাফিজ
- গনির্মলেন্দু গুণ
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: ঘ. শামসুর রাহমান
প্রশ্নটি মজলুম আদিব ছদ্মনামের কবিকে চিনতে বলেছে। মজলুম আদিব মানে নির্যাতিত লেখক। এই নামে লিখতেন শামসুর রাহমান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ দেশ থেকে নিজের নাম লুকিয়ে তিনি কলকাতার দেশ পত্রিকায় মজলুম আদিব নামে কবিতা পাঠাতেন। পত্রিকার কলামে তিনি সিন্দবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, জনান্তিকে ইত্যাদি ছদ্মনামেও লিখেছেন।
শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়। তাঁর প্রথম কাব্য প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, আর বিখ্যাত কবিতা স্বাধীনতা তুমি ও তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা।
ফাঁদ হলো আল মাহমুদ বা নির্মলেন্দু গুণ, কারণ তাঁরাও সমকালের প্রধান কবি এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু মজলুম আদিব ছদ্মনামটি শুধু শামসুর রাহমানের।
মনে রাখুন: নির্যাতিত লেখক মানে মজলুম আদিব, আর এই নামে লিখেছেন নাগরিক কবি শামসুর রাহমান।
২৪. 'বেতার, বিপত্নীক'-শব্দ দুটি কোন্ সমাসের উদাহরণ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কনঞ তৎপুরুষ, বহুব্রীহি
- খকর্মধারয়, বহুব্রীহি
- গঅব্যয়ীভাব, তৎপুরুষ
- ঘতৃতীয়া তৎপুরুষ, দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর: ক. নঞ তৎপুরুষ, বহুব্রীহি
প্রশ্নটি দুটি সমস্তপদের সমাস একসঙ্গে জানতে চেয়েছে, আর পরীক্ষার উত্তর নঞ্ তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি। দুটি শব্দ আলাদা করে দেখলে উত্তরে পৌঁছানো সহজ।
বিপত্নীক মানে বিগত পত্নী যার, অর্থাৎ যাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। সমস্তপদটি পত্নী বা বিগত কাউকেই বোঝায় না, বোঝায় তৃতীয় একজন মানুষকে; তাই এটি বহুব্রীহি। এতে বিকল্প নেমে আসে দুটিতে, যেখানে দ্বিতীয় অংশ বহুব্রীহি।
বেতার শব্দের শুরুতে বে, যা না বোধক অর্থ দেয়, মানে তার নেই। না বোধক শব্দ দিয়ে গঠিত সমাস নঞ্ সমাস, তাই এখানে কর্মধারয় খাটে না। এ কারণে প্রশ্নকর্তা নঞ্ তৎপুরুষ ধরেছেন।
তবে সূক্ষ্ম বিচারে বেতারের ব্যাসবাক্য নেই তার যাতে, আর এটি বোঝায় একটি যন্ত্রকে; এমন হলে ব্যাকরণ বইয়ে একে নঞ্ বহুব্রীহি বলা হয়। তাই উত্তরটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়, তবে বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে কাছের।
মনে রাখুন: জোড়া সমাসের প্রশ্নে যে শব্দটি নিশ্চিত, সেটি দিয়ে আগে বিকল্প ছাঁটুন; বিপত্নীক বহুব্রীহি হওয়ায় দুটো বিকল্প এক ধাক্কায় বাদ।
২৫. কোন্ বাক্যে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কসে বই পড়ছে।
- খসে গভীর চিন্তায় মগ্ন।
- গআজ এমন ঘুম ঘুমিয়েছি!
- ঘসে খেলা করছে।
সঠিক উত্তর: গ. আজ এমন ঘুম ঘুমিয়েছি!
প্রশ্নটি সমধাতুজ কর্ম চিনতে বলেছে। বাক্যের ক্রিয়া যে ধাতু থেকে এসেছে, কর্মটিও সেই একই ধাতু থেকে এলে সেই কর্মকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
আজ এমন ঘুম ঘুমিয়েছি, এই বাক্যে ক্রিয়া ঘুমিয়েছি, আর কর্ম ঘুম; দুটোই ঘুম থেকে এসেছে। তাই ঘুম এখানে সমধাতুজ কর্ম। এমন কর্মের সঙ্গে প্রায়ই বিশেষণ থাকে, যেমন এমন, বেশ, কী।
আরও উদাহরণ: সে কী মার মারল, খুব এক চোট হাসি হাসল, কী গান গাইলে।
ফাঁদ হলো সে খেলা করছে। খেলা এখানে কর্ম ঠিকই, কিন্তু ক্রিয়া করছে, যা কর ধাতু থেকে; খেলা আর কর আলাদা ধাতু। সে খেলা খেলছে বললে তবেই সমধাতুজ কর্ম হতো।
মনে রাখুন: কর্ম আর ক্রিয়া শুনতে একই রকম হলে সমধাতুজ: ঘুম ঘুমানো, মার মারা, হাসি হাসা, গান গাওয়া।
২৬. মৈয়মনসিংহ গীতিকা কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক২৩টি
- খ২০টি
- গ২২টি
- ঘ২৫টি
সঠিক উত্তর: ক. ২৩টি
প্রশ্নটি মৈমনসিংহ গীতিকা কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে। প্রশ্নে নামটি মৈয়মনসিংহ লেখা, প্রচলিত বানান মৈমনসিংহ। প্রচলিত তথ্য হলো, এটি বিশ্বের ২৩টি ভাষায় অনূদিত বা মুদ্রিত হয়েছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের পূর্ব অংশ, এখনকার নেত্রকোনা আর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে লোকমুখে প্রচলিত পালাগানগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। ড. দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা নামে প্রকাশ করেন।
এর প্রথম খণ্ডে দশটি পালা আছে। বিখ্যাত পালার মধ্যে মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, দেওয়ানা মদিনা অন্যতম।
ফাঁদ হলো ২২ বা ২৫ এর মতো কাছাকাছি সংখ্যা। সংখ্যাটি মনে রাখার উপায়: গীতিকা প্রকাশের বছর ১৯২৩, আর অনূদিত ভাষাও ২৩টি।
মনে রাখুন: মৈমনসিংহ গীতিকা: ১৯২৩ সালে প্রকাশ, ২৩টি ভাষায় অনুবাদ; দুই তেইশ একসঙ্গে মনে রাখুন।
২৭. আধুনিক বাংলা নাটক মূলত কয়টি পর্বে বিভক্ত? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক৬টি
- খ৪টি
- গ৫টি
- ঘ৭টি
সঠিক উত্তর: গ. ৫টি
প্রশ্নটি আধুনিক বাংলা নাটকের ইতিহাসকে কয়টি পর্বে ভাগ করা হয়, তা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত গাইড উত্তর অনুযায়ী এই বিকাশ মূলত পাঁচটি পর্বে ভাগ করা হয়।
পর্ব ভাগের ভিত্তি হলো নাটকের ইতিহাসের কয়েকটি বড় মোড়। যেমন, আঠারো শতকের শেষে গেরাসিম লেবেদেফের উদ্যোগে কলকাতায় প্রথম বাংলা নাটক মঞ্চায়ন, তারাচরণ শিকদারের ভদ্রার্জুন দিয়ে মৌলিক নাটকের শুরু, মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা দিয়ে শিল্পসম্মত নাটকের সূচনা, আর দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণের মতো সমাজসচেতন নাটক।
পর্বগুলোর নাম আর সীমারেখা নিয়ে লেখকভেদে মত আলাদা, তাই পর্বের নাম মুখস্থ না করে সংখ্যাটি আর ওপরের মাইলফলকগুলো মনে রাখাই নিরাপদ।
ফাঁদ হলো ৪টি, কারণ কোনো কোনো আলোচনায় পর্ব কম ধরেও দেখানো হয়। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর ৫টি।
মনে রাখুন: আধুনিক বাংলা নাটক: প্রচলিত উত্তর পাঁচ পর্ব; মাইলফলক লেবেদেফ, ভদ্রার্জুন, শর্মিষ্ঠা, নীলদর্পণ।
২৮. 'প্রাচ্য' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কপ্রতীচ্য
- খপ্রাচ্যহীন
- গঅপ্রাচ্য
- ঘনবীন
সঠিক উত্তর: ক. প্রতীচ্য
প্রশ্নটি প্রাচ্য শব্দের বিপরীত শব্দ চেয়েছে। প্রাচ্য মানে পূর্বদেশীয়, আর এর বিপরীত প্রতীচ্য, মানে পশ্চিমদেশীয় বা পাশ্চাত্য।
দুটি শব্দই সংস্কৃত থেকে এসেছে: প্রাচী মানে পূর্ব দিক, আর প্রতীচী মানে পশ্চিম দিক। তাই প্রাচ্য আর প্রতীচ্য একজোড়া বিপরীত শব্দ, যেমন প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মিলন।
বিপরীত শব্দ তৈরির একটি পথ হলো অ বা হীন যোগ করা, কিন্তু সব শব্দে তা খাটে না। দিকের নাম বোঝানো শব্দের বিপরীত হয় উল্টো দিকের নাম দিয়ে।
ফাঁদ হলো অপ্রাচ্য, কারণ অ যোগ করে বিপরীত বানানোর অভ্যাস। অপ্রাচ্য বা প্রাচ্যহীন প্রমিত শব্দ নয়।
মনে রাখুন: দিকের শব্দের বিপরীত উল্টো দিক দিয়ে: প্রাচ্য প্রতীচ্য, উদীচী অবাচী, পূর্ব পশ্চিম।
২৯. পুঁথি সাহিত্যে প্রাচীনতম লেখক কে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কভারত চন্দ্র রায়
- খকাজী দৌলত
- গআবদুল হাকিম
- ঘফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর: ঘ. ফকির গরীবুল্লাহ
প্রশ্নটি পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক জানতে চেয়েছে। দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের প্রথম ও প্রাচীনতম সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ, আঠারো শতকের কবি।
পুঁথি সাহিত্যের ভাষা আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি শব্দে মেশানো, তাই একে দোভাষী পুঁথি বলে। গরীবুল্লাহর রচনা আমীর হামজার প্রথম অংশ, জঙ্গনামা, ইউসুফ জোলেখা, সোনাভান ও সত্যপীরের পুঁথি। তাঁর পরে এই ধারার প্রধান কবি সৈয়দ হামজা।
বাকি তিনজন অন্য ধারার কবি। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মঙ্গলকাব্যের কবি, অন্নদামঙ্গলের রচয়িতা। কাজী দৌলত আরাকান রাজসভার কবি, সতীময়না ও লোরচন্দ্রানীর রচয়িতা। আবদুল হাকিম নূরনামার কবি, মধ্যযুগের।
ফাঁদ হলো কাজী দৌলত আর আবদুল হাকিম, কারণ তাঁরা মুসলমান কবি এবং সময়ে গরীবুল্লাহর চেয়ে প্রাচীন। কিন্তু তাঁরা পুঁথি সাহিত্যের কবি নন; প্রশ্ন জানতে চেয়েছে পুঁথি ধারার প্রাচীনতম কবি।
মনে রাখুন: পুঁথির দুই নাম মনে রাখুন: প্রথম গরীবুল্লাহ, পরে সৈয়দ হামজা।
৩০. কোন্ বানানটি শুদ্ধ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কনিশিথিনি
- খকথোপকথন
- গপিপিলিকা
- ঘসমিচিন
সঠিক উত্তর: খ. কথোপকথন
প্রশ্নটি শুদ্ধ বানান চেয়েছে। চারটি শব্দই তৎসম, তাই ই কার না ঈ কার, সেটা সংস্কৃত মূল দেখে ঠিক হয়।
কথোপকথন শুদ্ধ। এটি সন্ধিজাত শব্দ: কথা আর উপকথন, আ আর উ মিলে হয় ও। একই নিয়মে মহা আর উৎসব মিলে মহোৎসব।
বাকি তিনটিতে দীর্ঘ ঈ কার বাদ পড়েছে। শুদ্ধ রূপ নিশীথিনী, পিপীলিকা আর সমীচীন। নিশীথিনী এসেছে নিশীথ থেকে, আর স্ত্রীবাচক ইনী প্রত্যয়েও শেষে দীর্ঘ ঈ। পিপীলিকা আর সমীচীন শব্দে দ্বিতীয় অক্ষরে দীর্ঘ ঈ।
ফাঁদ হলো তিনটি ভুল বানানই শুনতে স্বাভাবিক লাগে, কারণ উচ্চারণে হ্রস্ব দীর্ঘের পার্থক্য বোঝা যায় না। তৎসম শব্দে মূল শব্দটা মনে রাখাই উপায়।
মনে রাখুন: নিশীথিনী, পিপীলিকা, সমীচীন: তিনটিতেই দ্বিতীয় অক্ষরে দীর্ঘ ঈ।
৩১. কোন্ গুচ্ছের সবগুলো বানানই শুদ্ধ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কসারথী, নিরীহ, নীরোগ
- খপ্রমান, অঙ্গন, দর্পণ
- গঅনাথা, সুকণ্ঠী, অনুস্টেয়
- ঘএকত্রিত, স্থায়িত্ব, অর্ধাঙ্গিনী
সঠিক উত্তর: ঘ. একত্রিত, স্থায়িত্ব, অর্ধাঙ্গিনী
প্রশ্নটি এমন গুচ্ছ খুঁজতে বলেছে, যার তিনটি বানানই শুদ্ধ। এ ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি গুচ্ছে একটি ভুল খুঁজে পেলেই সেটি বাদ দেওয়া যায়।
প্রথম গুচ্ছে সারথী ভুল, শুদ্ধ রূপ সারথি, হ্রস্ব ই কার। দ্বিতীয় গুচ্ছে প্রমান ভুল, শুদ্ধ প্রমাণ; ণত্ব বিধান অনুযায়ী র এর পরে স্বর আর প বর্গের বর্ণ ব্যবধানে থাকলেও ন হয় ণ। তৃতীয় গুচ্ছে অনুস্টেয় ভুল, শুদ্ধ অনুষ্ঠেয়; ষত্ব বিধান অনুযায়ী ষ এর সঙ্গে যুক্ত হয় ট বর্গের বর্ণ, তাই ষ্ঠ।
শেষ গুচ্ছে স্থায়িত্ব শুদ্ধ: ঈ কারান্ত শব্দের সঙ্গে ত্ব প্রত্যয় যুক্ত হলে ঈ কার হ্রস্ব ই হয়, যেমন স্থায়ী থেকে স্থায়িত্ব, মন্ত্রী থেকে মন্ত্রিত্ব। একত্রিত আর অর্ধাঙ্গিনী নিয়ে কড়া ব্যাকরণে আপত্তি আছে, কারণ শুদ্ধতাবাদীরা একত্র বা একত্রীকৃত এবং অর্ধাঙ্গী লেখার পক্ষে। তবে শব্দ দুটি ব্যবহারে বহুল প্রচলিত, আর অন্য তিন গুচ্ছে স্পষ্ট ভুল থাকায় এই গুচ্ছটিকেই উত্তর ধরা হয়েছে।
ফাঁদ হলো প্রথম গুচ্ছ, কারণ নিরীহ ও নীরোগ দুটিই শুদ্ধ, আর সারথীর দীর্ঘ ঈ চোখে সহজে ধরা পড়ে না।
মনে রাখুন: গুচ্ছের প্রশ্নে প্রতিটি গুচ্ছে একটি ভুল খুঁজুন; যে গুচ্ছে স্পষ্ট ভুল নেই, সেটিই উত্তর।
৩২. ’লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান।’- এখানে ’ভণই’ শব্দের অর্থ কী? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবলে
- খভাবে
- গচায়
- ঘদেখে
সঠিক উত্তর: ক. বলে
চরণটি চর্যাপদের প্রথম পদ থেকে, লুইপার রচনা। এখানে ভণই মানে বলে বা বলেন; সংস্কৃত ভণ ধাতুর অর্থ বলা।
পুরো চরণের অর্থ দাঁড়ায়: লুই বলেন, গুরুকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও। পুছিঅ মানে জিজ্ঞেস করে, জান মানে জানো।
চর্যার প্রায় প্রতিটি পদের শেষে কবি নিজের নাম জুড়ে দিয়ে বলেন অমুক ভণই, অর্থাৎ অমুক বলেন। কবির নাম যুক্ত এই অংশকে বলে ভণিতা, শব্দটিও এসেছে একই ভণ ধাতু থেকে।
ভাবে বা দেখে বিকল্পগুলো শুনতে কাছাকাছি মনে হতে পারে, কিন্তু ভণ ধাতু কেবল বলা বোঝায়।
মনে রাখুন: চর্যায় কবির নামের পরে ভণই এলে অর্থ সবসময় বলেন; ভণিতা শব্দও এখান থেকে।
৩৩. ’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের অংশ নয় কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কনৌকা খণ্ড
- খহার খণ্ড
- গরাধা বিরহ
- ঘপ্রণয় খণ্ড
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রণয় খণ্ড
বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য তেরোটি অংশে বিভক্ত। বারোটি অংশের নাম খণ্ড, আর শেষ অংশটির নাম রাধাবিরহ, যাকে খণ্ড বলা হয় না।
খণ্ডগুলো ক্রমে: জন্ম, তাম্বুল, দান, নৌকা, ভার, ছত্র, বৃন্দাবন, কালিয়দমন, যমুনা, হার, বাণ ও বংশী খণ্ড; শেষে রাধাবিরহ।
এ তালিকায় প্রণয় খণ্ড নামে কোনো অংশ নেই। কাব্যটি রাধা কৃষ্ণের প্রণয়কাহিনি বলে নামটা বিশ্বাসযোগ্য শোনায়, এটাই ফাঁদ।
তালিকা মনে রাখার কৌশল: কাহিনির জিনিসপত্র ধরে এগোন। পান মানে তাম্বুল, তারপর দান, নৌকা, ভার, ছাতা, হার, বাণ আর বাঁশি।
মনে রাখুন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: বারো খণ্ড আর এক রাধাবিরহ, মোট তেরো।
৩৪. বিবৃত স্বরধ্বনি বলতে বোঝায় - (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কযে স্বরধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁট বেশি খোলে
- খযে স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ উঁচু হয়
- গযে স্বরধ্বনি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়
- ঘযে স্বরধ্বনি উচ্চারণে বিকৃতি ঘটে
সঠিক উত্তর: ক. যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁট বেশি খোলে
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ কতটা উঁচু বা নিচু থাকে এবং মুখ কতটা খোলে, তার ভিত্তিতে স্বরকে সংবৃত ও বিবৃত ভাগ করা হয়। বিবৃত মানে খোলা।
যে স্বর উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে নিচে নামে এবং মুখ ও ঠোঁট বেশি খোলে, সেটি বিবৃত স্বরধ্বনি; যেমন আ। এর একটু ওপরে অ্যা ও অ, এদের বলে অর্ধবিবৃত।
উল্টো দিকে, জিভ উঁচুতে উঠে মুখ কম খুললে সংবৃত স্বর, যেমন ই ও উ; আর এ ও ও হলো অর্ধসংবৃত।
ফাঁদ শব্দের মিল। বিবৃত আর বিকৃত শুনতে কাছাকাছি, তাই বিকৃতি বা অবিকৃত উচ্চারণের বিকল্প দুটি টানতে পারে; কিন্তু এখানে বিবৃত মানে খোলা, বিকৃতি নয়।
মনে রাখুন: সংবৃত মানে বন্ধ, বিবৃত মানে খোলা; আ বলতে মুখ সবচেয়ে বেশি খোলে।
৩৫. মনোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও অভিধান প্রকাশের আগে কত বছর ধরে শব্দ সংগ্রহ করেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক২-৩ বছর
- খ৫-৭ বছর
- গ৯-১০ বছর
- ঘ১৪-১৫ বছর
সঠিক উত্তর: গ. ৯-১০ বছর
পর্তুগিজ পাদ্রি মনোয়েল দা আসসুম্পসাঁও ঢাকার কাছে ভাওয়াল অঞ্চলে থাকার সময় বাংলা শব্দ সংগ্রহ ও ব্যাকরণ রচনার কাজ করেন, ১৭৩৪ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত।
কাজটি ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন থেকে রোমান হরফে ছাপা হয়, বাংলা পর্তুগিজ শব্দকোষ ও বাংলা ব্যাকরণ হিসেবে। এটিকে প্রথম মুদ্রিত বাংলা শব্দকোষ ধরা হয়।
হিসাব: ১৭৩৪ থেকে ১৭৪২, দুই প্রান্তের সাল ধরে গুনলে নয়টি বছর জুড়ে কাজ চলেছে। ছাপা হওয়ার সাল ১৭৪৩ পর্যন্ত ধরলে হয় দশ বছর। তাই উত্তর ৯ থেকে ১০ বছর।
অন্য বিকল্পগুলো এই সময়সীমার সঙ্গে মেলে না: ২ থেকে ৩ বা ৫ থেকে ৭ বছর অনেক কম, আর ১৪ থেকে ১৫ বছর অনেক বেশি।
মনে রাখুন: ভাওয়াল ১৭৩৪ থেকে লিসবন ১৭৪৩: সাল গুনলে ৯ থেকে ১০ বছর।
৩৬. 'আলালের ঘরের দুলাল' প্রথমে কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবিবিধার্থ সংগ্রহ
- খসংবাদ প্রভাকর
- গমাসিক পত্রিকা
- ঘবঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর: গ. মাসিক পত্রিকা
প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল প্রথমে ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয় মাসিক পত্রিকায়। পত্রিকাটি প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদার যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন, ১৮৫৪ সাল থেকে।
প্যারীচাঁদ লিখতেন টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে। আলালের ঘরের দুলালকে বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ধরা হয়, যদিও প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী। এর কথ্যঘেঁষা ভাষাকে বলা হয় আলালি ভাষা।
অন্য পত্রিকাগুলো চিনে রাখুন: বিবিধার্থ সংগ্রহ রাজেন্দ্রলাল মিত্রের, সংবাদ প্রভাকর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের, বঙ্গদর্শন বঙ্কিমচন্দ্রের।
ফাঁদ বঙ্গদর্শন, কারণ সেখানে বঙ্কিমের অনেক উপন্যাস ধারাবাহিক ছাপা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গদর্শন শুরু হয় ১৮৭২ সালে, আলালের অনেক পরে।
মনে রাখুন: আলাল আর মাসিক পত্রিকা একই মানুষের হাতে: প্যারীচাঁদ মিত্র।
৩৭. 'সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'- কোন কবিতার অংশ? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপরার্থে
- খপাছে লোকে কিছু বলে
- গবড় কে
- ঘসুখ
সঠিক উত্তর: ঘ. সুখ
সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে, এই চরণ কামিনী রায়ের সুখ কবিতার। কবিতায় তিনি বলেছেন, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে কেউ পৃথিবীতে আসেনি, অন্যের জন্য বাঁচাতেই প্রকৃত সুখ।
কামিনী রায় ব্রিটিশ ভারতের প্রথম নারী অনার্স স্নাতক, ১৮৮৬ সালে বেথুন কলেজ থেকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া।
তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কবিতা পাছে লোকে কিছু বলে, যেখানে লোকলজ্জার ভয়ে কাজ করতে না পারার কথা আছে। আর বড় কে কবিতাটি হরিশ্চন্দ্র মিত্রের, যার বিখ্যাত চরণ আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়।
ফাঁদ পরার্থে, কারণ পরের তরে কথাটির অর্থই পরার্থে। কিন্তু চরণটি যে কবিতায় আছে তার নাম সুখ।
মনে রাখুন: পরের তরে চরণ দেখে পরার্থে বেছে নেবেন না; কবিতার নাম সুখ।
৩৮. কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত হয়নি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅগ্নিবীণা
- খবিষের বাঁশি
- গভাঙার গান
- ঘচন্দ্রবিন্দু
সঠিক উত্তর: ক. অগ্নিবীণা
ব্রিটিশ সরকার নজরুলের পাঁচটি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করেছিল: যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা ও চন্দ্রবিন্দু। প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে কোনটি বাজেয়াপ্ত হয়নি।
অগ্নিবীণা নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯২২ সালে প্রকাশিত। এতে প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, কামাল পাশার মতো বিদ্রোহী সুরের কবিতা থাকলেও বইটি বাজেয়াপ্ত হয়নি।
মনে রাখুন, বিদ্রোহী কবিতা অগ্নিবীণাতে থাকায় অনেকেই ধরে নেন বইটিও নিষিদ্ধ ছিল। এটাই প্রধান ফাঁদ।
নজরুলের বাজেয়াপ্ত বইয়ের নামগুলো ছোট ছন্দে মনে রাখা যায়: যুগের বাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়ের শিখা আর চন্দ্রবিন্দু।
মনে রাখুন: বাজেয়াপ্ত পাঁচটি: যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা, চন্দ্রবিন্দু; অগ্নিবীণা নয়।
৩৯. জসীম উদ্দীনের 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবালুচর
- খরাখালী
- গধানক্ষেত
- ঘমা যে জননী কান্দে
সঠিক উত্তর: খ. রাখালী
জসীমউদ্দীনের কবর কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালীর অন্তর্গত, যা ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
কবিতাটিতে এক বৃদ্ধ দাদু নাতিকে একে একে প্রিয়জনদের কবর দেখিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। কবি ছাত্র থাকা অবস্থাতেই এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকার বাংলা সংকলনে পাঠ্য হয়।
জসীমউদ্দীনের অন্য কাব্য: নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, ধানক্ষেত, মা যে জননী কান্দে। কবর আর নকশী কাঁথার মাঠ সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় আসে।
বাকি তিনটি বিকল্পও জসীমউদ্দীনের বই, তাই লেখক চিনে উত্তর হবে না; কবর মানেই রাখালী, এই জোড়াটি মনে রাখুন।
মনে রাখুন: কবর = রাখালী; নকশী কাঁথার মাঠ আলাদা কাহিনিকাব্য।
৪০. গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কগৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
- খগৌড় সাহিত্যের স্বাভাবিক রীতি
- গগৌড় ভাষার লিখিত নমুনা
- ঘগৌড় ভাষার বিকৃত উচ্চারণ
সঠিক উত্তর: ক. গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
প্রাকৃত শব্দের মূল অর্থ স্বাভাবিক বা সাধারণ; প্রাচীন ভারতে সংস্কৃতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাগুলোকে প্রাকৃত বলা হতো। গৌড় অঞ্চলের মানুষের মুখে প্রচলিত প্রাকৃতই গৌড়ী প্রাকৃত।
বাংলা ভাষার উৎস নিয়ে দুটি মত আছে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড় অপভ্রংশ, তা থেকে বাংলা। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে বাংলা।
সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রে গৌড়ী রীতি নামে একটি কাব্যরীতিও আছে। তাই সাহিত্যের রীতি বিকল্পটি বিভ্রান্ত করতে পারে, কিন্তু প্রাকৃত বলতে রীতি নয়, ভাষা বোঝায়।
প্রাকৃতকে সংস্কৃতের বিকৃত রূপ ভাবাও ভুল; এটি স্বাভাবিকভাবে বিবর্তিত কথ্য ভাষা। আর এর মূল পরিচয় মুখের ভাষা, লিখিত নমুনা নয়।
মনে রাখুন: গৌড়ী শহীদুল্লাহ্র, মাগধী সুনীতিকুমারের; আর প্রাকৃত মানেই মুখের ভাষা।