সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ১৪
২৬১. নিচের কোনটির বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কতামা
- খরূপা
- গসোনা
- ঘকার্বন
সঠিক উত্তর: খ. রূপা
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন পদার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। ধাতুতে বিদ্যুৎ চলে মুক্ত ইলেকট্রনের মাধ্যমে, আর যে ধাতুতে ইলেকট্রন সবচেয়ে সহজে চলতে পারে তার পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি।
সব ধাতুর মধ্যে রুপার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। এরপর তামা, তারপর সোনা।
তাহলে বৈদ্যুতিক তারে রুপা কেন ব্যবহৃত হয় না? কারণ রুপা অনেক দামি; তামার পরিবাহিতা রুপার খুব কাছাকাছি অথচ দাম অনেক কম, তাই তারে তামাই চলে।
ফাঁদ হলো তামা: চারপাশের সব বৈদ্যুতিক তার তামার বলে অনেকে তামাকেই সেরা পরিবাহী ভাবেন। সোনা সহজে ক্ষয় হয় না বলে সংযোগস্থলে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু পরিবাহিতায় রুপা ও তামার পেছনে।
মনে রাখুন: পরিবাহিতার ক্রম মনে রাখুন: রুপা, তামা, সোনা, অ্যালুমিনিয়াম।
২৬২. কোন ডালের সংগে ল্যাথারাইজম রোগের সম্পর্ক আছে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কঅড়হর
- খছোলা
- গখেসারী
- ঘমটর
সঠিক উত্তর: গ. খেসারী
প্রশ্নটা একটি খাদ্যজনিত রোগ আর তার উৎস ডাল চিনতে চেয়েছে। ল্যাথারাইজম হয় খেসারি ডাল দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে খেলে।
খেসারি ডালে ওডিএপি নামে পরিচিত একটি স্নায়ুবিষ থাকে। এটি চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকোষ নষ্ট করে, ফলে ধীরে ধীরে পায়ের পেশি দুর্বল ও শক্ত হয়ে যায় এবং পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে।
খেসারি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাথাইরাস স্যাটিভাস, আর সেখান থেকেই রোগের নাম ল্যাথারাইজম। খরা সহ্য করতে পারে বলে দুর্ভিক্ষের সময় গরিব মানুষ খেসারির ওপর বেশি নির্ভর করে, তাই এ রোগও তখন বেশি দেখা যায়।
অড়হর, ছোলা ও মটরও ডাল, কিন্তু এগুলোতে এই বিষ নেই। উদ্ভিদের নাম আর রোগের নামের মিল মনে রাখলেই উত্তর নিশ্চিত।
মনে রাখুন: ল্যাথাইরাস থেকে ল্যাথারাইজম: নামেই উত্তর।
২৬৩. মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কপরিপাক
- খখাদ্য গ্রহণ
- গশ্বসন
- ঘরক্ত সংবহন
সঠিক উত্তর: গ. শ্বসন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে দেহে শক্তি আসলে কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। উত্তর শ্বসন: কোষের ভেতরে খাদ্যের গ্লুকোজ অক্সিজেনের সাহায্যে জারিত হয়ে শক্তি মুক্ত হয়।
এই শক্তি জমা থাকে এটিপি নামের অণুতে, যাকে কোষের শক্তির মুদ্রা বলা হয়। শ্বসনের বেশির ভাগ কাজ হয় মাইটোকন্ড্রিয়ায়, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলে; উপজাত হিসেবে তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি।
খাদ্য গ্রহণ শুধু কাঁচামাল দেহে আনে, পরিপাক সেই খাদ্য ভেঙে শোষণযোগ্য সরল উপাদানে পরিণত করে, আর রক্ত সংবহন সেই উপাদান ও অক্সিজেন কোষে পৌঁছে দেয়। কিন্তু শক্তি মুক্ত হয় কেবল শ্বসনে।
ফাঁদ হলো পরিপাক বা খাদ্য গ্রহণ: খাবার থেকেই শক্তি আসে বলে এগুলো সঠিক মনে হয়। খাবার হলো জ্বালানি, আর শ্বসন হলো সেই জ্বালানি পোড়ানো।
মনে রাখুন: শক্তি উৎপাদন মানেই শ্বসন, শক্তিঘর মানেই মাইটোকন্ড্রিয়া।
২৬৪. বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কঘনত্ব কম
- খঘনত্ব বেশি
- গতাপমাত্রা বেশি
- ঘদ্রবণীয়তা বেশি
সঠিক উত্তর: খ. ঘনত্ব বেশি
প্রশ্নটা ভাসার নিয়ম জানতে চেয়েছে। যে বস্তুর ঘনত্ব তরলের চেয়ে কম, সেটি ওই তরলে ভাসে; তাই বরফ ভাসে মানে বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
বেশির ভাগ পদার্থ জমে কঠিন হলে সংকুচিত হয়, কিন্তু পানি উল্টো আচরণ করে। জমার সময় পানির অণুগুলো হাইড্রোজেন বন্ধনে ফাঁকা ষড়ভুজাকার কাঠামো তৈরি করে, ফলে আয়তন প্রায় নয় শতাংশ বেড়ে যায় এবং ঘনত্ব কমে।
বরফের ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে প্রায় শূন্য দশমিক নয় দুই গ্রাম, আর পানির প্রায় এক গ্রাম। পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি চার ডিগ্রি সেলসিয়াসে; এজন্য শীতের দেশে পুকুর ওপর থেকে জমে, নিচের পানিতে মাছ বেঁচে থাকে।
ফাঁদ হলো ঘনত্ব কম বিকল্পটি: প্রশ্নে তুলনা করা হয়েছে বরফের তুলনায় পানির, তাই বাক্যের দিক উল্টে পড়লেই ভুল হয়।
মনে রাখুন: ভাসা-ডোবার প্রশ্নে সবসময় ঘনত্ব তুলনা করুন; বরফ পানির চেয়ে হালকা।
২৬৫. গাড়ির ব্যাটারিতে কোন এসিড ব্যবহৃত হয়? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কনাইট্রিক
- খসালফিউরিক
- গহাইড্রোক্লোরিক
- ঘপারক্লোরিক
সঠিক উত্তর: খ. সালফিউরিক
প্রশ্নটা গাড়ির ব্যাটারির তড়িৎ বিশ্লেষ্য জানতে চেয়েছে। গাড়িতে সাধারণত লেড-এসিড ব্যাটারি থাকে, যার ভেতরে লঘু সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
এ ব্যাটারির ধনাত্মক পাত লেড ডাই-অক্সাইডের এবং ঋণাত্মক পাত স্পঞ্জের মতো সীসার। বিদ্যুৎ নিলে দুই পাতই সালফিউরিক এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়ায় লেড সালফেট হয়, আর চার্জ দিলে বিক্রিয়া উল্টে যায়; তাই ব্যাটারিটি বারবার চার্জ করা যায়।
বিদ্যুৎ নেওয়ার সময় এসিড খরচ হয়ে পানি তৈরি হয়, তাই এসিডের ঘনত্ব মেপে ব্যাটারিতে কতটা চার্জ আছে তা বোঝা যায়।
নাইট্রিক, হাইড্রোক্লোরিক বা পারক্লোরিক এসিডও তীব্র এসিড, কিন্তু সীসার পাতের এই বিশেষ বিক্রিয়া লেড সালফেটের ওপর নির্ভর করে। তাই এখানে সালফিউরিক এসিডই লাগে।
মনে রাখুন: গাড়ির ব্যাটারি, লেড-এসিড, সালফিউরিক এসিড: তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
২৬৬. Lunar eclipse occurs on- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কA new moon day
- খA full moon day
- গA half moon day
- ঘA moonless day
সঠিক উত্তর: খ. A full moon day
প্রশ্নটা চন্দ্রগ্রহণ কোন তিথিতে হয় তা জানতে চেয়েছে। চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ প্রায় এক সরলরেখায় আসে এবং পৃথিবী থাকে মাঝখানে; তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে।
পৃথিবী মাঝখানে থাকলে চাঁদ থাকে সূর্যের ঠিক বিপরীত দিকে, আর তখন চাঁদের পুরো আলোকিত অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায়। এটাই পূর্ণিমা, তাই চন্দ্রগ্রহণ কেবল পূর্ণিমাতেই সম্ভব।
তবে প্রতি পূর্ণিমায় গ্রহণ হয় না, কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষতলের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ডিগ্রি হেলানো। তাই বেশির ভাগ পূর্ণিমায় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার একটু ওপর বা নিচ দিয়ে চলে যায়।
ফাঁদ হলো নতুন চাঁদ বা চাঁদহীন দিন: দুটোই আসলে অমাবস্যা। অমাবস্যায় চাঁদ থাকে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে, তাই তখন হয় সূর্যগ্রহণ।
মনে রাখুন: চন্দ্রগ্রহণ পূর্ণিমায়, সূর্যগ্রহণ অমাবস্যায়।
২৬৭. Dengue fever is spread by- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কAedes aegypti mosquito
- খCommon House flies
- গAnopheles mosquito
- ঘRats and squirrels
সঠিক উত্তর: ক. Aedes aegypti mosquito
প্রশ্নটা ডেঙ্গুর বাহক জানতে চেয়েছে। ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ, আর এর ভাইরাস মানুষে ছড়ায় মূলত এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির স্ত্রী মশার কামড়ে; এডিস অ্যালবোপিক্টাসও কিছুটা ছড়ায়।
সংক্রমিত মানুষকে কামড়ানোর পর মশার দেহে ভাইরাস বাড়ে, পরে সেই মশা অন্যকে কামড়ালে রোগ ছড়ায়। এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে, যেমন ফুলের টব, পুরোনো টায়ার বা ডাবের খোসায়, এবং সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়।
তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায় হলো জমা পানি সরিয়ে মশার প্রজননস্থল নষ্ট করা।
ফাঁদ হলো অ্যানোফিলিস: মশা শুনেই অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ছড়ায় ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু নয়।
মনে রাখুন: এডিস মানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া, অ্যানোফিলিস মানে ম্যালেরিয়া।
২৬৮. Photosynthesis takes place in- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কRoots of the plants
- খStems of the plants
- গGreen parts of the plants
- ঘAll parts of the plants
সঠিক উত্তর: গ. Green parts of the plants
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে উদ্ভিদের কোন অংশে সালোকসংশ্লেষণ হয়। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে।
আলো ধরার কাজটি করে ক্লোরোফিল নামের সবুজ রঞ্জক, যা থাকে কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে। তাই যেখানে ক্লোরোফিল আছে, অর্থাৎ উদ্ভিদের সবুজ অংশে, সেখানেই সালোকসংশ্লেষণ হয়; প্রধানত পাতায়, তবে কচি সবুজ কাণ্ডেও।
মাটির নিচের মূলে আলো পৌঁছায় না এবং সাধারণত ক্লোরোফিল থাকে না, আর পুরোনো কাঠময় কাণ্ডও সবুজ নয়। তাই উদ্ভিদের সব অংশে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
ফাঁদ হলো সব অংশ বিকল্পটি: উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজে তৈরি করে শুনে মনে হয় পুরো গাছই এ কাজ করে, কিন্তু শর্ত হলো ক্লোরোফিল।
মনে রাখুন: সবুজ মানে ক্লোরোফিল, ক্লোরোফিল মানে সালোকসংশ্লেষণ।
২৬৯. কোনটি এন্টিবায়োটিক? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কইনসুলিন
- খপেপসিন
- গপেনিসিলিন
- ঘইথিলিন
সঠিক উত্তর: গ. পেনিসিলিন
অ্যান্টিবায়োটিক হলো অণুজীব থেকে পাওয়া বা কৃত্রিমভাবে তৈরি এমন ওষুধ, যা ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে বা তাদের বৃদ্ধি থামায়। ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।
পেনিসিলিন প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি। ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং লক্ষ করেন, পেনিসিলিয়াম ছত্রাক জন্মানো জায়গার চারপাশে ব্যাকটেরিয়া বাড়ছে না। ১৯৪০ সালে হাওয়ার্ড ফ্লোরি ও আর্নস্ট চেইন দেখান যে এটি দিয়ে বহু ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ সারানো যায়; ১৯৪৫ সালে ফ্লেমিং নোবেল পুরস্কার পান।
বাকি তিনটির পরিচয় আলাদা: ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের হরমোন, পেপসিন পাকস্থলীর পাচক এনজাইম, আর ইথিলিন ফল পাকানোর গ্যাসীয় উদ্ভিদ হরমোন।
ফাঁদ হলো ইনসুলিন। এটিও ইনজেকশন হিসেবে ওষুধের মতো দেওয়া হয়, কিন্তু এটি জীবাণু মারে না, রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে।
মনে রাখুন: নামের শেষে ‘সিলিন’ বা ‘মাইসিন’ থাকলে প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক, যেমন পেনিসিলিন, অ্যামোক্সিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন।
২৭০. জন্ডিসে আক্রান্ত হয়- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কযকৃত
- খকিডনি
- গপাকস্থলী
- ঘহৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর: ক. যকৃত
জন্ডিস মূলত যকৃতের সমস্যার লক্ষণ। রক্তে বিলিরুবিন নামের হলুদ রঞ্জক বেড়ে গেলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়; এটাই জন্ডিস।
বিলিরুবিন কোথা থেকে আসে: পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভাঙলে বিলিরুবিন তৈরি হয়। যকৃৎ একে প্রক্রিয়া করে পিত্তরসের সঙ্গে অন্ত্রে পাঠায়। যকৃৎ ঠিকমতো কাজ না করলে বা পিত্তনালি বন্ধ হলে বিলিরুবিন রক্তে জমে।
যকৃতের প্রদাহ, অর্থাৎ হেপাটাইটিস, জন্ডিসের একটি প্রধান কারণ; হেপাটাইটিস এ, বি ও ই ভাইরাস এ রোগ ঘটায়। এজন্য জন্ডিস হলে যকৃতের পরীক্ষা করা হয়।
ফাঁদ হলো কিডনি। জন্ডিসে প্রস্রাব হলুদ হয় বলে অনেকে কিডনির রোগ ভাবেন, কিন্তু প্রস্রাবের রং বদলায় রক্তের বাড়তি বিলিরুবিনের কারণে, কিডনির দোষে নয়।
মনে রাখুন: জন্ডিস, হেপাটাইটিস, সিরোসিস: তিনটিই যকৃতের সঙ্গে যুক্ত।
২৭১. কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কতামা
- খলোহা
- গরূপা
- ঘরাবার
সঠিক উত্তর: ঘ. রাবার
যে পদার্থের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে চলে তাকে পরিবাহী, আর যার ভেতর দিয়ে প্রায় চলে না তাকে অপরিবাহী বা অন্তরক বলে। প্রশ্নটা অপরিবাহী খুঁজছে, উত্তর রাবার।
ধাতুতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, যারা সহজে চলাচল করে বিদ্যুৎ বয়ে নেয়। তাই তামা, লোহা ও রুপা তিনটিই পরিবাহী। এদের মধ্যে রুপা সবচেয়ে ভালো পরিবাহী, তারপর তামা; দামে সস্তা বলে বৈদ্যুতিক তারে তামাই বেশি ব্যবহৃত হয়।
রাবারের অণুতে ইলেকট্রন শক্তভাবে বাঁধা থাকে, মুক্ত ইলেকট্রন প্রায় নেই। তাই বিদ্যুৎ চলে না, আর এজন্যই তারের আবরণ, বৈদ্যুতিক কাজের দস্তানা ও জুতায় রাবার ব্যবহার করা হয়।
লোহা অনেকের কাছে কম পরিবাহী মনে হয়, কারণ তারে ব্যবহার হয় না; কিন্তু ধাতু হিসেবে লোহাও পরিবাহী, শুধু তামার চেয়ে কম।
মনে রাখুন: ধাতু মানেই পরিবাহী; বিকল্পে একমাত্র অধাতু খুঁজুন।
২৭২. কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কসূর্যরশ্মি
- খপীট কয়লা
- গপেট্রোল
- ঘপ্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর: ক. সূর্যরশ্মি
নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হলো যা প্রকৃতিতে নিয়মিত পূরণ হয় এবং ব্যবহারে ফুরায় না। সূর্যরশ্মি প্রতিদিন নতুন করে আসে, তাই এটি নবায়নযোগ্য।
সৌর প্যানেলে সূর্যের আলো সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। বায়ু ও পানিপ্রবাহ থেকেও নবায়নযোগ্য শক্তি মেলে।
পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি, লক্ষ লক্ষ বছরে মাটির নিচে তৈরি; একবার পুড়লে আর ফেরে না। পিট হলো কয়লা গঠনের প্রথম ধাপ, জলাভূমিতে আধা পচা উদ্ভিদ জমে তৈরি।
ফাঁদ হলো পিট কয়লা। তত্ত্বগতভাবে পিট আবার জমতে পারে, কিন্তু বছরে মাত্র প্রায় এক মিলিমিটার করে; তোলার হার এর চেয়ে বহু গুণ বেশি বলে বাস্তবে এটি নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে গণ্য নয়।
মনে রাখুন: সূর্য, বায়ু, পানি: প্রকৃতি যা রোজ ফেরত দেয়, সেটাই নবায়নযোগ্য।
২৭৩. MKS পদ্ধতিতে ভরের একক- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ককিলোগ্রাম
- খপাউন্ড
- গগ্রাম
- ঘআউন্স
সঠিক উত্তর: ক. কিলোগ্রাম
এমকেএস পদ্ধতির নামেই উত্তর লুকানো: মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক মিটার, ভরের একক কিলোগ্রাম, সময়ের একক সেকেন্ড।
অন্য দুটি পুরোনো পদ্ধতিও একইভাবে নামকরণ করা: সিজিএস মানে সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড; এফপিএস মানে ফুট, পাউন্ড, সেকেন্ড। আধুনিক আন্তর্জাতিক এসআই পদ্ধতিতেও ভরের একক কিলোগ্রাম।
তাই গ্রাম সিজিএস পদ্ধতির, পাউন্ড এফপিএস পদ্ধতির ভরের একক। আউন্স ব্রিটিশ ও মার্কিন প্রচলিত ভরের ছোট একক; ষোলো আউন্সে এক পাউন্ড।
ফাঁদ হলো গ্রাম। গ্রামও মেট্রিক একক বলে মনে হয় ঠিক, কিন্তু এটি সিজিএস পদ্ধতির; এমকেএস পদ্ধতির নামের ‘কে’ মানেই কিলোগ্রাম।
মনে রাখুন: পদ্ধতির নামের মাঝের অক্ষরই ভরের একক: এমকেএসে কে, সিজিএসে জি, এফপিএসে পি।
২৭৪. কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কতামা
- খইস্পাত
- গপিতল
- ঘস্বর্ণ
সঠিক উত্তর: খ. ইস্পাত
সব পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না। যেসব পদার্থ চুম্বক দৃঢ়ভাবে আকর্ষণ করে এবং নিজেরা চুম্বক হতে পারে, তাদের চৌম্বক পদার্থ বলে: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ও এদের সংকর।
ইস্পাত লোহা ও কার্বনের সংকর, তাই এটি চৌম্বক পদার্থ। ইস্পাতকে একবার চুম্বকিত করলে চুম্বকত্ব দীর্ঘদিন ধরে রাখে, তাই স্থায়ী চুম্বক বানাতে ইস্পাত ব্যবহৃত হয়। কাঁচা লোহা সহজে চুম্বক হয় আবার সহজে হারায়, তাই এটি তড়িৎচুম্বকে ব্যবহৃত হয়।
তামা ও স্বর্ণ অচৌম্বক মৌল; চুম্বক এদের প্রায় টানে না। পিতল তামা ও দস্তার সংকর, এতে কোনো চৌম্বক ধাতু নেই।
ফাঁদ হলো পিতল। দেখতে ধাতব ও শক্ত বলে লোহার মতো মনে হয়, কিন্তু এর দুই উপাদানের কোনোটিই চৌম্বক নয়।
মনে রাখুন: যে বিকল্পে লোহা, নিকেল বা কোবাল্ট আছে, সেটিই চুম্বক হয়।
২৭৫. অ্যালটিমিটার (Altimeter) কি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কতাপ পরিমাপক যন্ত্র
- খউষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র
- গগ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র
- ঘউচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
সঠিক উত্তর: ঘ. উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
অ্যালটিমিটার উচ্চতা মাপার যন্ত্র; বিমানে ও পর্বতারোহণে ব্যবহৃত হয়। শব্দটির প্রথম অংশ এসেছে লাতিন আল্টাস থেকে, যার মানে উঁচু।
সাধারণ অ্যালটিমিটার বায়ুচাপ দেখে কাজ করে। ওপরে উঠলে বায়ুর চাপ কমে, তাই চাপের মান থেকে উচ্চতা হিসাব করে কাঁটায় দেখানো হয়। রেডিও তরঙ্গ পাঠিয়ে মাটি থেকে প্রতিফলন মেপেও উচ্চতা বের করা যায়।
অন্য যন্ত্রগুলো মনে রাখুন: তাপের পরিমাণ মাপে ক্যালরিমিটার, উষ্ণতা মাপে থার্মোমিটার, বদ্ধ গ্যাসের চাপ মাপে ম্যানোমিটার, বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপে ব্যারোমিটার।
ফাঁদ হলো গ্যাসের চাপ পরিমাপক। অ্যালটিমিটার ভেতরে বায়ুচাপ ব্যবহার করে ঠিকই, কিন্তু এর কাজ ও পাঠ উচ্চতা; গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র ম্যানোমিটার।
মনে রাখুন: অ্যালটি মানে উঁচু, অল্টিচিউড মানে উচ্চতা; তাই অ্যালটিমিটার উচ্চতা মাপে।
২৭৬. কোনটি মৌলিক পদার্থ? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কলোহা
- খব্রোঞ্জ
- গপানি
- ঘইস্পাত
সঠিক উত্তর: ক. লোহা
মৌলিক পদার্থ হলো যাকে রাসায়নিকভাবে ভেঙে আর সরল কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না; এতে একই ধরনের পরমাণু থাকে। লোহা একটি মৌল, তাই এটিই উত্তর।
যৌগিক পদার্থে দুই বা ততোধিক মৌল নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত থাকে। পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের যৌগ; এর প্রতিটি অণুতে দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণু।
সংকর ধাতু হলো ধাতুর সঙ্গে অন্য ধাতু বা অধাতুর মিশ্রণ, যৌগ নয়, আর এতে উপাদানের অনুপাত বদলানো যায়। ব্রোঞ্জ তামা ও টিনের সংকর, ইস্পাত লোহা ও কার্বনের সংকর।
ফাঁদ হলো ইস্পাত। এর বেশির ভাগই লোহা, তাই অনেকে লোহার মতোই মৌল ভাবেন; কিন্তু কার্বন মেশানো বলে এটি সংকর ধাতু।
মনে রাখুন: পর্যায় সারণিতে যার নাম আছে সেটিই মৌল; ব্রোঞ্জ, ইস্পাত, পানি সারণিতে নেই।
২৭৭. কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কপারদ
- খলিথিয়াম
- গজার্মেনিয়াম
- ঘইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর: ক. পারদ
সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে তরল থাকে এমন একমাত্র ধাতু পারদ। এটি শূন্যের নিচে প্রায় ঊনচল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে জমে, তাই ঘরের তাপমাত্রায় তরল।
তরল ও ভারী বলে এবং তাপে সমানভাবে প্রসারিত হয় বলে পারদ পুরোনো থার্মোমিটার ও ব্যারোমিটারে ব্যবহৃত হতো। পারদের বাষ্প বিষাক্ত, তাই ভাঙা থার্মোমিটার সাবধানে পরিষ্কার করতে হয়।
অধাতুর মধ্যে ব্রোমিন সাধারণ তাপমাত্রায় তরল। গ্যালিয়াম ও সিজিয়ামের মতো কিছু ধাতু ঘরের তাপমাত্রার একটু ওপরেই গলে, কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন থাকে।
বাকি বিকল্পগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন: লিথিয়াম সবচেয়ে হালকা ধাতু, জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী উপধাতু, ইউরেনিয়াম ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু।
মনে রাখুন: তরল ধাতু পারদ, তরল অধাতু ব্রোমিন: এই জোড়াটাই মনে রাখুন।
২৭৮. স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কতামা
- খদস্তা
- গক্রোমিয়াম
- ঘএলুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর: গ. ক্রোমিয়াম
স্টেইনলেস স্টিল হলো মরিচারোধী ইস্পাত: লোহার সঙ্গে অন্তত সাড়ে দশ শতাংশ ক্রোমিয়াম মেশানো সংকর। ক্রোমিয়ামই একে মরিচা থেকে রক্ষা করে, তাই এটি অন্যতম প্রধান উপাদান।
কেন মরিচা পড়ে না: ক্রোমিয়াম বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ইস্পাতের ওপর খুব পাতলা, অদৃশ্য ক্রোমিয়াম অক্সাইডের আস্তরণ তৈরি করে। এই আস্তরণ অক্সিজেনকে ভেতরের লোহায় পৌঁছাতে দেয় না, আর আঁচড় লাগলে নিজে থেকে আবার তৈরি হয়।
সাধারণ লোহার মরিচা ঝুরঝুরে, খসে পড়ে নতুন ধাতু উন্মুক্ত করে, তাই মরিচা ছড়াতেই থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্টেইনলেস স্টিলে নিকেল ও মলিবডেনামও মেশানো হয়, যা ক্ষয়রোধ আরও বাড়ায়।
ফাঁদ হলো দস্তা। দস্তার প্রলেপও লোহাকে মরিচা থেকে বাঁচায়, তবে সেটি গ্যালভানাইজিং, যেমন ঢেউটিনে; স্টেইনলেস স্টিলের সংজ্ঞাগত উপাদান ক্রোমিয়াম।
মনে রাখুন: স্টেইনলেস মানে দাগহীন, আর দাগহীনতার চাবি ক্রোমিয়াম।
২৭৯. সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কঅক্সিজেন
- খহাইড্রোজেন
- গর্যাডন
- ঘনাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর: খ. হাইড্রোজেন
একই তাপমাত্রা ও চাপে সমান আয়তনের গ্যাসে সমান সংখ্যক অণু থাকে। তাই কোন গ্যাস কত হালকা, তা বোঝা যায় অণুর ভর দেখে: যার আণবিক ভর কম, সে তত হালকা।
হাইড্রোজেন অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু, আণবিক ভর মাত্র দুই। নাইট্রোজেন অণুর ভর আটাশ, অক্সিজেন অণুর বত্রিশ, আর র্যাডনের পরমাণুর ভর প্রায় দুইশো বাইশ। তাই সবচেয়ে হালকা গ্যাস হাইড্রোজেন।
হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা মৌলও, কারণ এর পরমাণুতে মাত্র একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন। হালকা বলে একসময় বেলুন ও আকাশযানে ব্যবহৃত হতো, তবে এটি সহজে দাহ্য।
র্যাডন ঠিক উল্টো প্রান্তে: প্রকৃতিতে পাওয়া নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভারী এবং তেজস্ক্রিয়।
মনে রাখুন: গ্যাসের হালকা ভারী বোঝার শর্টকাট: আণবিক ভর তুলনা করুন; পর্যায় সারণির প্রথম মৌলই সবচেয়ে হালকা।
২৮০. ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক2H2O2
- খH2O
- গD2O
- ঘHD2O2
সঠিক উত্তর: গ. D2O
ভারী পানির রাসায়নিক নাম ডিউটেরিয়াম অক্সাইড। সাধারণ পানির অণুর দুটি হাইড্রোজেনের জায়গায় এখানে থাকে হাইড্রোজেনের ভারী আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম, যার প্রতীক ডি। তাই সংকেত ডি টু ও।
ডিউটেরিয়ামের নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটনের সঙ্গে একটি নিউট্রন থাকে, তাই এর ভর প্রায় দুই, সাধারণ হাইড্রোজেনের দ্বিগুণ। এ কারণে ভারী পানির আণবিক ভর কুড়ি, সাধারণ পানির আঠারো।
রাসায়নিক আচরণে ভারী পানি প্রায় সাধারণ পানির মতো, কিন্তু নিউট্রনকে কম শোষণ করে তার গতি কমাতে পারে। এজন্য কিছু পারমাণবিক চুল্লিতে একে মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ফাঁদ হলো শেষ বিকল্পটি, যেখানে এইচ ও ডি দুটোই আছে। দেখতে বৈজ্ঞানিক লাগলেও এমন সংকেতের কোনো যৌগ পানি হিসেবে প্রচলিত নয়; পানিতে অক্সিজেন থাকে একটি।
মনে রাখুন: ভারী পানি = ডিউটেরিয়াম অক্সাইড = D₂O; ডিউটেরিয়ামের প্রতীক D।