সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ১৬
৩০১. কৃষি জমিতে প্রধানত চুন ব্যবহার করা হয়- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কমাটির ক্ষয় রোধের জন্য
- খমাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
- গমাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
- ঘমাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য
সঠিক উত্তর: গ. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
প্রশ্নটা মাটির রসায়ন যাচাই করছে। মাটির পিএইচ সাতের কম হলে মাটি অম্লীয়। বেশি অম্লীয় মাটিতে গাছের অনেক পুষ্টি উপাদান সহজে পাওয়া যায় না, ফলে ফলন কমে।
চুন ক্ষারধর্মী। ক্যালসিয়াম অক্সাইড, ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড বা চুনাপাথরের গুঁড়া মাটিতে মেশালে তা মাটির অম্লকে প্রশমিত করে এবং পিএইচ বাড়ায়। এজন্য কৃষি জমিতে চুন দেওয়া হয় মূলত মাটির অম্লতা কমাতে।
সঙ্গে বাড়তি সুবিধা হিসেবে গাছ ক্যালসিয়ামও পায়। তবে প্রয়োজনের বেশি চুন দিলে মাটি ক্ষারীয় হয়ে যেতে পারে, তাই পরীক্ষা করে পরিমাণ ঠিক করা ভালো।
ফাঁদ হলো ‘অম্লতা বৃদ্ধির জন্য’। কথাটি ঠিক উল্টো; ক্ষার অম্লতা কমায়, বাড়ায় না।
মনে রাখুন: চুন ক্ষার, ক্ষার অম্ল কমায়; তাই চুন মানেই অম্লতা হ্রাস।
৩০২. কোন আলোক তরঙ্গে (Light spectrum) মানব চোখে দেখতে পাওয়া যায়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১০ থেকে ৪০০ নেমি (nm)
- খ৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
- গ১০০ মাইক্রোমিটার (um) থেকে ১ মি(m)
- ঘ১ মি(m) – এর ঊর্ধ্বে
সঠিক উত্তর: খ. ৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
আলো তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের একটি অংশ। পুরো বর্ণালির মধ্যে মানুষের চোখ কেবল একটি সরু পরিসর দেখতে পায়, যাকে দৃশ্যমান আলো বলে: প্রায় চারশো থেকে সাতশো ন্যানোমিটার।
চারশো ন্যানোমিটারের কাছে বেগুনি আর সাতশোর কাছে লাল আলো; মাঝখানে নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা। কোনো কোনো সূত্রে সীমা সামান্য আলাদা, প্রায় তিনশো আশি থেকে সাতশো পঞ্চাশ, তবে প্রচলিত সংক্ষেপ চারশো থেকে সাতশো।
দৃশ্যমানের চেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিবেগুনি, প্রায় দশ থেকে চারশো ন্যানোমিটার। দৃশ্যমানের চেয়ে বড় দিকে অবলোহিত, তারপর এক মিলিমিটার থেকে এক মিটার পর্যন্ত মাইক্রোওয়েভ, আর আরও বড় তরঙ্গ রেডিও তরঙ্গ।
ফাঁদ হলো দশ থেকে চারশো ন্যানোমিটার। সংখ্যাগুলো কাছাকাছি দেখায়, কিন্তু এটি অতিবেগুনি রশ্মির এলাকা, যা চোখে দেখা যায় না।
মনে রাখুন: দৃশ্যমান আলো চারশো থেকে সাতশো ন্যানোমিটার: বেগুনি চারশো, লাল সাতশো।
৩০৩. হীরক উজ্জ্বল দেখার কারণ – (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কপূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
- খপ্রতিসরণের জন্য
- গপ্রতিফলনের জন্য
- ঘঅপবর্তনের জন্য
সঠিক উত্তর: ক. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
হীরা ঝলমল করে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য। আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাওয়ার সময় সীমায় সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে পড়লে একটুও বের হয় না, পুরোটাই ভেতরে ফিরে আসে।
হীরার প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি, প্রায় দুই দশমিক চার দুই। তাই এর সংকট কোণ খুব ছোট, মাত্র প্রায় চব্বিশ দশমিক চার ডিগ্রি। ভেতরে ঢোকা আলোর বেশির ভাগ রশ্মি এর চেয়ে বড় কোণে তলে পড়ে এবং বারবার প্রতিফলিত হয়।
দক্ষ কারিগর হীরা এমনভাবে কাটেন যাতে বারবার প্রতিফলিত আলো শেষে ওপরের তল দিয়ে চোখের দিকে বেরিয়ে আসে। অল্প জায়গা থেকে অনেক আলো বের হয় বলে হীরা এত উজ্জ্বল দেখায়।
ফাঁদ হলো শুধু প্রতিফলন বা প্রতিসরণ। আলো ঢোকা ও বের হওয়ার সময় প্রতিসরণ ঘটে, তলে সাধারণ প্রতিফলনও হয়, কিন্তু উজ্জ্বলতার মূল কারণ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।
মনে রাখুন: প্রতিসরাঙ্ক যত বেশি, সংকট কোণ তত ছোট, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তত বেশি, ঝলক তত বেশি।
৩০৪. মানব দেহে সাধারণভাবে ক্রোমোজোম থাকে- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক২৫ জোড়া
- খ২৪ জোড়া
- গ২৩ জোড়া
- ঘ২০ জোড়া
সঠিক উত্তর: গ. ২৩ জোড়া
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে সাধারণত তেইশ জোড়া, অর্থাৎ ছেচল্লিশটি ক্রোমোজোম থাকে। ক্রোমোজোম জিন বহন করে, তাই বংশগতির বাহক।
এর মধ্যে বাইশ জোড়া অটোজোম, যারা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে; আর এক জোড়া লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। নারীর লিঙ্গ ক্রোমোজোম এক্স এক্স, পুরুষের এক্স ওয়াই।
জোড়ার একটি আসে মা থেকে, একটি বাবা থেকে। তাই শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে থাকে অর্ধেক, তেইশটি একক ক্রোমোজোম; নিষেকের পর আবার ছেচল্লিশটি হয়।
ফাঁদ হলো চব্বিশ জোড়া। মানব জিনোমে ক্রোমোজোমের ধরন চব্বিশটি, কারণ বাইশটি অটোজোমের সঙ্গে এক্স ও ওয়াই আলাদা গোনা হয়; কিন্তু একটি কোষে জোড়া থাকে তেইশটি।
মনে রাখুন: বাইশ যোগ এক সমান তেইশ জোড়া, গুণ দুই সমান ছেচল্লিশটি।
৩০৫. আলফ্রেড নোবেল কি আবিষ্কার করেন? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কডিনামাইট
- খবিদ্যুৎ
- গপোলিও টিকা
- ঘকয়লা
সঠিক উত্তর: ক. ডিনামাইট
প্রশ্নটা আলফ্রেড নোবেলের আবিষ্কার জানতে চেয়েছে। সুইডিশ রসায়নবিদ ও প্রকৌশলী আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট, যার পেটেন্ট তিনি নেন ১৮৬৭ সালে।
নাইট্রোগ্লিসারিন খুব শক্তিশালী বিস্ফোরক, কিন্তু সামান্য ঝাঁকুনিতেই বিস্ফোরিত হতে পারে বলে ব্যবহার ছিল বিপজ্জনক। নোবেল একে ছিদ্রময় এক ধরনের মাটিতে শুষিয়ে নিরাপদে বহনযোগ্য বিস্ফোরক বানান, এটাই ডিনামাইট। খনি, সুড়ঙ্গ ও রাস্তা তৈরিতে এটি বিপুল কাজে লাগে।
নোবেল তাঁর উইলে সম্পদের বড় অংশ দিয়ে পুরস্কার চালুর নির্দেশ দেন। ১৮৯৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
বিদ্যুৎ কোনো একক ব্যক্তির আবিষ্কার নয়; পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন জোনাস সল্ক, আর কয়লা প্রাকৃতিক জীবাশ্ম জ্বালানি, কারও আবিষ্কার নয়।
মনে রাখুন: ডিনামাইটের সম্পদ থেকেই নোবেল পুরস্কার।
৩০৬. রাসায়নিক অগ্নি নির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে – (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কহাইড্রোজেন সরবরাহ করে
- খনাইট্রোজেন সরবরাহ করে
- গঅক্সিজেন সরবরাহ করে
- ঘঅক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর: ঘ. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
প্রশ্নটা আগুন জ্বলার শর্ত আর নেভানোর কৌশল পরীক্ষা করছে। আগুন জ্বলতে তিনটি জিনিস একসাথে লাগে: দাহ্য বস্তু, যথেষ্ট তাপ আর অক্সিজেন। এর যেকোনো একটি সরিয়ে দিলেই আগুন নিভে যায়।
রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক মূলত অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ করে। যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই আগুনের উপর চাদরের মতো ছড়িয়ে বাতাসের অক্সিজেনকে পৌঁছাতে দেয় না; ফোম বা শুকনো পাউডারও দাহ্য বস্তুর উপর আবরণ তৈরি করে।
পানি প্রধানত তাপ কমিয়ে আগুন নেভায়। তবে বৈদ্যুতিক বা তেলের আগুনে পানি বিপজ্জনক হতে পারে, তাই সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইড বা পাউডার নির্বাপক ব্যবহার হয়।
অক্সিজেন সরবরাহ করলে আগুন উল্টো আরও বাড়বে, আর হাইড্রোজেন নিজেই দাহ্য গ্যাস। কোথাও কোথাও নাইট্রোজেনের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার হলেও তার কাজও আসলে অক্সিজেন সরিয়ে দেওয়া; তাই মূল নীতি অক্সিজেন সরবরাহে বাধা।
মনে রাখুন: আগুন নেভানো মানে আগুনের তিন শর্তের একটি সরানো; রাসায়নিক নির্বাপক সরায় অক্সিজেন।
৩০৭. সংকর ধাতু পিতলের উপাদান – (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কতামা ও টিন
- খতামা ও দস্তা
- গতামা ও নিকেল
- ঘতামা ও সিসা
সঠিক উত্তর: খ. তামা ও দস্তা
প্রশ্নটা সংকর ধাতুর উপাদান পরীক্ষা করছে। পিতল হলো তামা আর দস্তার সংকর ধাতু; দস্তার আরেক নাম জিংক।
দুই বা ততোধিক ধাতু গলিয়ে মেশালে সংকর ধাতু তৈরি হয়, যার গুণ মূল ধাতুগুলোর চেয়ে আলাদা। পিতল তামার চেয়ে শক্ত, দেখতে সোনালি হলুদ এবং সহজে ক্ষয় হয় না; তাই বাসনপত্র, বাদ্যযন্ত্র আর কলকবজায় এর ব্যবহার।
তামা আর টিনের সংকর হলো ব্রোঞ্জ বা কাঁসা। তামা আর নিকেলের সংকরকে কিউপ্রোনিকেল বলে, যা অনেক দেশে মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহার হয়।
ফাঁদ হলো তামা ও টিন, কারণ পিতল আর কাঁসা দুটোই হলদেটে এবং দুটোতেই তামা আছে। মনে রাখুন, পিতলে দস্তা, কাঁসায় টিন।
মনে রাখুন: পিতলে দস্তা, কাঁসায় টিন।
৩০৮. বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ – (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ককম হয়
- খখুব কম হয়
- গএকই হয়
- ঘবেশি হয়
সঠিক উত্তর: গ. একই হয়
প্রশ্নটা পাখার গতি নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের কাজ পরীক্ষা করছে। প্রচলিত উত্তর হলো, পাখা ধীরে ঘুরলেও বিদ্যুৎ খরচ একই হয়।
এর পেছনের যুক্তি পুরোনো রোধক ধরনের রেগুলেটর। এতে পাখার সঙ্গে শ্রেণিতে একটি রোধ যুক্ত হয়; গতি কমাতে রোধ বাড়ানো হয়, ফলে পাখা কম বিদ্যুৎ পায়, কিন্তু শক্তির একটি অংশ রেগুলেটরের রোধে তাপ হিসেবে নষ্ট হয়। এজন্যই এমন রেগুলেটর গরম হয়ে ওঠে।
তাই মোট খরচ গতির অনুপাতে কমে না, আর গাইডে একে সরলভাবে একই হয় বলা হয়। তবে সঠিকভাবে হিসাব করলে রোধক রেগুলেটরেও ধীরগতিতে মোট খরচ কিছুটা কমে; আর আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটরে রোধে এমন অপচয় হয় না, ফলে খরচ স্পষ্টভাবে কমে।
ফাঁদ হলো কম হয়। গতি কম মানে খরচ কম, এটি স্বাভাবিক ধারণা; কিন্তু প্রশ্নটি রোধক রেগুলেটরের যুগের, যেখানে বাঁচানো শক্তির একটা অংশ রেগুলেটরেই তাপ হয়ে যায়। বেশি হয় বিকল্পটির পক্ষে কোনো যুক্তি নেই।
মনে রাখুন: পুরোনো রোধক রেগুলেটরের প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর: খরচ একই।
৩০৯. রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কগামা রশ্মি
- খবিটা রশ্মি
- গকসমিক রশ্মি
- ঘরঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর: ঘ. রঞ্জন রশ্মি
প্রশ্নটা পুরোনো রঙিন টেলিভিশন থেকে কোন ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়, তা জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় প্রচলিত ছিল ক্যাথোড রশ্মি নল বা সিআরটি টেলিভিশন, আর এমন টেলিভিশন থেকে খুব সামান্য পরিমাণে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স রে বের হতে পারে।
সিআরটি নলে উচ্চ বিভবে ত্বরিত ইলেকট্রন খুব দ্রুত গিয়ে পর্দায় আঘাত করে। দ্রুতগামী ইলেকট্রন হঠাৎ থেমে গেলে রঞ্জন রশ্মি তৈরি হয়; এক্স রে যন্ত্রও মূলত এই নীতিতে কাজ করে।
তবে নলের কাচে সিসা মেশানো থাকায় এই রশ্মির বেশিরভাগ আটকে যায়, তাই সাধারণ ব্যবহারে ঝুঁকি খুব কম।
গামা ও বিটা রশ্মি আসে তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে, আর টেলিভিশনে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নেই। কসমিক রশ্মি আসে মহাশূন্য থেকে। আজকের এলসিডি বা এলইডি পর্দায় এমন ইলেকট্রন নল না থাকায় এই সমস্যাও নেই।
মনে রাখুন: দ্রুত ইলেকট্রন থামলেই এক্স রে: এক্স রে যন্ত্র আর সিআরটি টেলিভিশন একই নীতিতে।
৩১০. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় তা হলো- (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কএ রোগ মানবদেহের কিডনী নষ্ট করে।
- খচিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়।
- গএ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- ঘইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়।
সঠিক উত্তর: খ. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়।
প্রশ্নটা ডায়াবেটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা চিহ্নিত করতে বলেছে। ডায়াবেটিস হয় যখন অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, অথবা দেহের কোষ ইনসুলিনে ঠিকমতো সাড়া দেয় না। ফলে রক্তের গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে না পেরে রক্তে বেড়ে যায়।
তাই ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয় আর রক্তে গ্লুকোজ বাড়ে, এই দুটি তথ্য সত্য। দীর্ঘদিন রক্তে গ্লুকোজ বেশি থাকলে কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর ডায়াবেটিস কিডনি বিকলের একটি বড় কারণ; তাই কিডনি নষ্ট করার তথ্যটিও সত্য।
কিন্তু শুধু চিনিজাতীয় খাবার বেশি খেলেই ডায়াবেটিস হয়, কথাটি সত্য নয়। এর পেছনে বংশগতি, অতিরিক্ত ওজন, কায়িক পরিশ্রমের অভাবসহ নানা কারণ কাজ করে; বেশি চিনি খেলে ওজন বেড়ে ঝুঁকি বাড়তে পারে, এটুকুই।
ফাঁদ হলো প্রশ্নের ধরন: এখানে সত্য নয় এমন তথ্য চাওয়া হয়েছে। চিনি আর ডায়াবেটিস একসাথে শুনতে শুনতে অনেকে এই বাক্যটিকে সত্য ভেবে অন্য বিকল্প বেছে নেন।
মনে রাখুন: সত্য নয় ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি বাক্য আলাদা যাচাই করুন; জনপ্রিয় ভুল ধারণাই সাধারণত উত্তর।
৩১১. এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে- (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কহৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
- খহৃৎপিণ্ডে নতুন শিরা সংযোজন
- গহৃৎপিণ্ডের মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেয়া
- ঘহৃৎপিণ্ডের টিস্যুতে নতুন টিস্যু সংযোজন
সঠিক উত্তর: ক. হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
প্রশ্নটা হৃদ্রোগের একটি চিকিৎসা পদ্ধতির সংজ্ঞা জানতে চেয়েছে। এনজিওপ্লাস্টিতে হৃৎপিণ্ডের সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালি বেলুনের সাহায্যে ফুলিয়ে প্রশস্ত করা হয়।
হাত বা ঊরুর ধমনী দিয়ে একটি সরু নল বা ক্যাথেটার ঢুকিয়ে হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনীর বাধার জায়গা পর্যন্ত নেওয়া হয়। সেখানে ক্যাথেটারের মাথার ছোট বেলুন ফোলালে জমে থাকা চর্বির স্তর দেয়ালের দিকে চেপে যায় এবং রক্তপ্রবাহ আবার চালু হয়। প্রায়ই সেখানে স্টেন্ট নামের জালির মতো নল বসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে নালিটি খোলা থাকে।
উল্লেখ্য, হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী এই নালিগুলো আসলে ধমনী, যদিও বিকল্পে চলতি ভাষায় শিরা লেখা হয়েছে।
ফাঁদ হলো নতুন শিরা সংযোজন। এটি বাইপাস সার্জারি, যেখানে দেহের অন্য জায়গার রক্তনালি এনে বাধার পাশ দিয়ে রক্তের নতুন পথ তৈরি করা হয়। মৃত টিস্যু কাটা বা নতুন টিস্যু বসানো এনজিওপ্লাস্টির কাজ নয়।
মনে রাখুন: এনজিওপ্লাস্টি মানে বেলুন, বাইপাস মানে নতুন পথ।
৩১২. অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কফিটকিরি
- খচুন
- গসেভিং সোপ
- ঘকস্টিক সোডা
সঠিক উত্তর: ক. ফিটকিরি
প্রশ্নটা যাচাই করছে একটি রাসায়নিক যৌগের চলতি বাংলা নাম। অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে শিল্পকারখানা ও পানি শোধনের কাজে সাধারণভাবে ফিটকিরি বা অ্যালাম বলা হয়।
রসায়নের কঠোর ভাষায় অ্যালাম বলতে একধরনের দ্বিলবণ বোঝায়, যেখানে অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের সঙ্গে পটাশিয়াম বা অ্যামোনিয়ামের সালফেট যুক্ত থাকে। বাজারের পরিচিত ফিটকিরি সাধারণত পটাশ অ্যালাম। দুটোরই মূল অংশ অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর ফিটকিরি।
এর কাজ কেন গুরুত্বপূর্ণ: অ্যালুমিনিয়াম সালফেট পানিতে ভাসমান সূক্ষ্ম ময়লাকে জোট বাঁধিয়ে ভারী করে, ফলে ময়লা তলায় থিতিয়ে পড়ে বা ছেঁকে ফেলা যায়। এজন্য খাবার পানি ও বর্জ্য পানি শোধনে এটি বহুল ব্যবহৃত।
ফাঁদ হলো কস্টিক সোডা। রাসায়নিক নাম শুনে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু কস্টিক সোডা হলো সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড; এতে অ্যালুমিনিয়াম বা সালফেট কোনোটিই নেই।
মনে রাখুন: পানি পরিষ্কারের প্রসঙ্গ এলেই ফিটকিরি, মানে অ্যালুমিনিয়ামের সালফেট লবণ।
৩১৩. ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ককিউলেক্স
- খএডিস
- গঅ্যানোফিলিস
- ঘসব ধরনের মশা
সঠিক উত্তর: খ. এডিস
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ডেঙ্গুর বাহক কোন মশা। বাহক মানে যে প্রাণী রোগের জীবাণু এক দেহ থেকে আরেক দেহে বয়ে নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় মূলত স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশা, কিছুটা এডিস অ্যালবোপিকটাসও।
স্ত্রী মশাই রক্ত খায়। আক্রান্ত মানুষকে কামড়ানোর সময় ভাইরাস মশার দেহে ঢোকে, পরে সেই মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে রোগ ছড়ায়। এডিস মশা ডিম পাড়ে বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে পানি জমা পাত্রে, যেমন ফেলে রাখা টায়ার, তাই জমা পানি সরানোই প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
অন্য মশাগুলোর রোগও জোড়া ধরে মনে রাখুন: অ্যানোফিলিস ছড়ায় ম্যালেরিয়া, আর কিউলেক্স ছড়ায় ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ এবং জাপানিজ এনকেফালাইটিস।
সব ধরনের মশা ডেঙ্গু ছড়ায় না; প্রতিটি রোগের বাহক নির্দিষ্ট প্রজাতি। মশা মানেই সব রোগ, এমন ভাবনা থেকে শেষ বিকল্পটি বেছে নেওয়াই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: এডিস ডেঙ্গু, অ্যানোফিলিস ম্যালেরিয়া, কিউলেক্স গোদ: তিন জোড়া মুখস্থ রাখলেই মশার সব প্রশ্ন মেলে।
৩১৪. কত বছর পর পর হ্যালির ধূমকেতু দেখা যায়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক৭০ বছর
- খ৬৫ বছর
- গ৭৬ বছর
- ঘ৮০ বছর
সঠিক উত্তর: গ. ৭৬ বছর
প্রশ্নটা হ্যালির ধূমকেতুর পর্যায়কাল জানতে চেয়েছে, মানে কত বছরে এটি সূর্যকে একবার ঘুরে আবার পৃথিবীর আকাশে ফেরে। প্রচলিত উত্তর প্রায় ছিয়াত্তর বছর।
ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ এডমন্ড হ্যালি হিসাব করে বলেছিলেন, এটি একই ধূমকেতু যা নির্দিষ্ট সময় পর পর ফেরে, এবং পরের আগমন হবে ১৭৫৮ সালে। ধূমকেতুটি সত্যিই ফিরে আসে, তাই তাঁর নামেই এর নাম।
পর্যায়কাল প্রতিবার ঠিক সমান হয় না; ইতিহাসে এটি ৭৪ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ওঠানামা করেছে। সর্বশেষ এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছে এসেছিল ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, পরের বার আসবে ২০৬১ সালের জুলাইয়ে।
ফাঁদ হলো আশি বছর। পর্যায়কালের ওঠানামার ঊর্ধ্বসীমা আশির কাছাকাছি হলেও প্রচলিত গড় মান ছিয়াত্তর।
মনে রাখুন: ১৯৮৬ সাল মনে রাখুন; সেখান থেকে ৭৬ বিয়োগ বা যোগ করলেই আগের ও পরের আগমন মোটামুটি মেলে।
৩১৫. কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কদস্তা
- খসালফার
- গনাইট্রোজেন
- ঘপটাশিয়াম
সঠিক উত্তর: খ. সালফার
প্রশ্নটা যাচাই করছে কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে কী লক্ষণ দেখা দেয়। প্রচলিত উত্তর সালফার: এর অভাবে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়, কচি পাতা হলদেটে বা ফ্যাকাশে সবুজ হয়, কাণ্ড সরু হয় এবং ফসল পাকতে দেরি হয়।
কারণ সালফার প্রোটিন তৈরির কয়েকটি অ্যামিনো অ্যাসিডের অংশ। প্রোটিন কম তৈরি হলে গাছের বৃদ্ধি ও বিকাশ পিছিয়ে যায়; ধানের ক্ষেত্রে পরিপক্বতা এক থেকে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধানের পুষ্টি-ঘাটতি নির্ণয়ের সহায়িকা জানায়।
নাইট্রোজেনের অভাবের সঙ্গে সালফারের অভাব দেখতে প্রায় একই রকম, তবে পার্থক্য আছে: নাইট্রোজেনের অভাবে আগে পুরোনো নিচের পাতা হলুদ হয়, আর সালফারের অভাবে আগে কচি পাতা।
সতর্কতা: ধানে দস্তার তীব্র অভাবেও পরিপক্বতা দেরি হতে পারে। তবে দস্তার অভাবের পরিচিত চিহ্ন হলো পাতায় মরিচার মতো বাদামি দাগ; পরীক্ষায় পরিপক্বতা বিলম্বের প্রচলিত উত্তর সালফার।
মনে রাখুন: হলুদ কচি পাতা আর দেরিতে পাকা: সালফার। হলুদ পুরোনো পাতা: নাইট্রোজেন।
৩১৬. নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কপরমাণু শক্তি
- খকয়লা
- গপেট্রোল
- ঘপ্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর: ক. পরমাণু শক্তি
নবায়নযোগ্য শক্তি হলো সেই উৎস যা প্রকৃতিতে বারবার পূরণ হয় এবং ব্যবহার করলে ফুরিয়ে যায় না, যেমন সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ ও পানিপ্রবাহ।
কয়লা, পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া জীবদেহ থেকে এগুলো তৈরি; একবার পোড়ালে আর ফিরে আসে না। তাই এ তিনটি নিশ্চিতভাবে অনবায়নযোগ্য।
পরমাণু শক্তি কঠোর অর্থে নবায়নযোগ্য নয়, কারণ এর জ্বালানি ইউরেনিয়ামের খনিজ মজুত সীমিত। তবু এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয় এবং খুব অল্প জ্বালানি থেকে বিপুল শক্তি দেয়। বাকি তিনটি বাদ পড়ায় প্রচলিত উত্তর পরমাণু শক্তি।
মনে রাখুন, বিকল্পে সৌরশক্তি, বায়ু বা জলবিদ্যুৎ থাকলে সেটিই সঠিক নবায়নযোগ্য উত্তর; তখন পরমাণু শক্তি বেছে নেওয়া ভুল হবে।
মনে রাখুন: তিনটি জীবাশ্ম জ্বালানি একসঙ্গে থাকলে যেটি জীবাশ্ম নয় সেটিই উত্তর।
৩১৭. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কশূন্যতায়
- খকঠিন পদার্থে
- গতরল পদার্থে
- ঘবায়বীয় পদার্থে
সঠিক উত্তর: ঘ. বায়বীয় পদার্থে
শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ: মাধ্যমের এক কণার কম্পন পাশের কণায় যায়। তাই শব্দ চলতে মাধ্যম লাগে, আর মাধ্যম যত দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক, শব্দ তত দ্রুত চলে।
সাধারণ নিয়ম: কঠিনে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম, বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। যেমন শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের শুষ্ক বাতাসে শব্দের বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩৩১ মিটার, বিশ ডিগ্রির পানিতে প্রায় ১৪৮১ মিটার, আর লোহায় প্রায় ৫১২০ মিটার।
তাই মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বেগ বায়বীয় পদার্থে। এ কারণেই রেললাইনে কান পাতলে ট্রেনের শব্দ বাতাসের আগে পৌঁছায়।
ফাঁদ হলো শূন্যতা। শূন্যস্থানে কোনো কণা নেই, তাই সেখানে শব্দ চলেই না; বেগ কম নয়, শব্দই অনুপস্থিত। প্রশ্ন জানতে চেয়েছে যেসব মাধ্যমে শব্দ চলে, তাদের মধ্যে কোথায় বেগ সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন: শব্দের বেগ: কঠিন > তরল > বায়বীয়; শূন্যস্থানে শূন্য, কারণ শব্দ চলেই না।
৩১৮. কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কপেপসিন
- খএমাইলেজ
- গরেনিন
- ঘট্রিপসিন
সঠিক উত্তর: গ. রেনিন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন পাচক এনজাইম দুধ জমাট বাঁধায়। প্রচলিত উত্তর রেনিন, যার আরেক নাম কাইমোসিন। এটি দুধের কেসিন প্রোটিনকে ভেঙে এমনভাবে বদলায় যে প্রোটিনের অংশগুলো জোট বেঁধে দইয়ের মতো দলা তৈরি করে।
রেনিন তৈরি হয় বাছুরের মতো সদ্যোজাত রোমন্থক প্রাণীর পাকস্থলীতে; পনির তৈরিতে এ কারণেই রেনিন ব্যবহৃত হয়। উল্লেখ্য, মানুষের দেহে কাইমোসিনের জিনটি সক্রিয় নয়; মানুষের পাকস্থলীতে দুধের প্রোটিন হজমে মূলত পেপসিন কাজ করে।
বাকি এনজাইমগুলোর কাজ আলাদা করে মনে রাখুন: পেপসিন পাকস্থলীতে প্রোটিন ভাঙে, অ্যামাইলেজ লালা ও অগ্ন্যাশয় রসে থেকে শ্বেতসার ভাঙে, আর ট্রিপসিন অগ্ন্যাশয় রস থেকে এসে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিন ভাঙে।
ফাঁদ হলো পেপসিন। এটিও পাকস্থলীর প্রোটিন ভাঙা এনজাইম, তাই অনেকে বেছে নেন; কিন্তু দুধ জমাট বাঁধানোর বিশেষ এনজাইম হিসেবে প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর রেনিন।
মনে রাখুন: দুধ জমাট মানেই রেনিন; পনির কারখানায় এর ব্যবহার মনে রাখলেই উত্তর মেলে।
৩১৯. স্টিফেন হকিন্স বিশ্বের একজন অতিশয় বিখ্যাত- (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কদার্শনিক
- খপদার্থবিদ
- গকবি
- ঘরসায়নবিদ
সঠিক উত্তর: খ. পদার্থবিদ
প্রশ্নে নামটি লেখা ‘হকিন্স’, প্রকৃত নাম স্টিফেন হকিং। তিনি ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ, যিনি কৃষ্ণগহ্বর ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
১৯৭০ সালে তিনি ও রজার পেনরোজ দেখান যে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব সত্য হলে মহাবিশ্বের শুরু একটি অনন্যতা বিন্দু থেকে হওয়া অনিবার্য। ১৯৭৯ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের লুকাসিয়ান অধ্যাপক হন।
সাধারণ পাঠকের কাছে তাঁকে পরিচিত করে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত বই ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’। পরীক্ষার সময় তিনি জীবিত ছিলেন; পরীক্ষার পরে, ২০১৮ সালের মার্চে তিনি মারা যান।
ফাঁদ হলো দার্শনিক। তাঁর বইয়ে সময় ও সৃষ্টির মতো দার্শনিক প্রশ্ন আছে, কিন্তু তাঁর পেশা ও খ্যাতি পদার্থবিজ্ঞানে।
মনে রাখুন: কৃষ্ণগহ্বর আর ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ শুনলেই স্টিফেন হকিং, পদার্থবিদ।
৩২০. ফল পাকানোর জন্য দায়ী কী? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কইথিলিন
- খপ্রপিন
- গলাইকোপেন
- ঘমিথিলিন
সঠিক উত্তর: ক. ইথিলিন
প্রশ্নটা যাচাই করছে উদ্ভিদ হরমোনের জ্ঞান। ফল পাকানোর জন্য দায়ী ইথিলিন, দুই কার্বনের একটি সরল গ্যাসীয় যৌগ, যা উদ্ভিদ নিজেই তৈরি করে এবং হরমোনের মতো কাজ করে।
ইথিলিনের প্রভাবে ফল নরম হয়, রং বদলায় ও মিষ্টি হয়। একটি পাকা ফল থেকে বের হওয়া ইথিলিন পাশের কাঁচা ফলকেও দ্রুত পাকায়; এজন্য কাঁচা ফল পাকা ফলের সঙ্গে রাখলে তাড়াতাড়ি পাকে।
কৃত্রিমভাবে ফল পাকাতে ইথোফেন ব্যবহার হয়, যা ভেঙে ইথিলিন ছাড়ে। আর ক্যালসিয়াম কার্বাইড পানির সংস্পর্শে অ্যাসিটিলিন গ্যাস দেয়, যা ইথিলিনের মতো কাজ করে।
ফাঁদ হলো লাইকোপেন। এটি টমেটো ও তরমুজের লাল রঞ্জক; ফল পাকার সময় এটি তৈরি হয়, কিন্তু পাকার কারণ নয়।
মনে রাখুন: উদ্ভিদ হরমোনের মধ্যে একমাত্র গ্যাসীয়টি ইথিলিন, আর সেটিই ফল পাকায়।