সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ১৫
২৮১. লোহাকে গ্যালভানাইজিং করতে ব্যবহৃত হয়- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কতামা
- খদস্তা
- গরূপা
- ঘএলুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর: খ. দস্তা
লোহার ওপর দস্তা বা জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। সাধারণত পরিষ্কার লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে এই প্রলেপ দেওয়া হয়।
দস্তা দুইভাবে লোহাকে বাঁচায়। প্রথমত প্রলেপটি বাতাস ও পানিকে লোহা থেকে দূরে রাখে। দ্বিতীয়ত দস্তা লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয়, তাই প্রলেপে আঁচড় লাগলেও আগে দস্তা ক্ষয় হয়, লোহা রক্ষা পায়।
আমাদের পরিচিত ঢেউটিন আসলে দস্তার প্রলেপ দেওয়া লোহার পাত, তাই একে জিআই বা গ্যালভানাইজড আয়রন শিটও বলে।
ফাঁদ হলো নামের ‘টিন’ শব্দটি। ঢেউটিনে টিন থাকে না, প্রলেপ দস্তার; টিনের প্রলেপ দেওয়া হয় খাবারের কৌটায়, সেটি গ্যালভানাইজিং নয়।
মনে রাখুন: গ্যালভানাইজিং মানেই দস্তা; ঢেউটিনের নামে টিন থাকলেও প্রলেপ দস্তার।
২৮২. সংকর ধাতু পিতলের(Brass) উপাদান- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কতামা ও টিন
- খতামা ও দস্তা
- গতামা ও সীসা
- ঘতামা ও নিকেল
সঠিক উত্তর: খ. তামা ও দস্তা
পিতল তামা ও দস্তার সংকর ধাতু। দস্তার পরিমাণ বদলে পিতলের রং ও কাঠিন্য বদলানো যায়; এজন্য দরজার কবজা, তালা, বাদ্যযন্ত্র ও শোপিসে পিতল ব্যবহার হয়।
তামার সঙ্গে মেশানো ধাতু বদলালেই সংকরের নাম বদলে যায়। তামা ও টিন মিলে ব্রোঞ্জ; বেশি টিনের ব্রোঞ্জকে আমরা কাঁসা বলি। তামা ও নিকেল মিলে কিউপ্রোনিকেল, যা মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
পিতল ও ব্রোঞ্জ দুটোতেই তামা থাকে বলে সহজে গুলিয়ে যায়। মনে রাখার উপায়: পিতলের দ্বিতীয় উপাদান দস্তা, ব্রোঞ্জের দ্বিতীয় উপাদান টিন।
ফাঁদ হলো তামা ও টিন। এটি পিতলের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ব্রোঞ্জের গঠন।
মনে রাখুন: পিতলে দস্তা, ব্রোঞ্জে টিন: তামা দুটোতেই আছে।
২৮৩. কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কজিপসাম
- খসালফার
- গসোডিয়াম
- ঘখনিজ লবণ
সঠিক উত্তর: ক. জিপসাম
সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল চুনাপাথর ও কাদামাটি। এগুলো খুব উচ্চ তাপে পুড়িয়ে তৈরি হয় দানাদার ক্লিংকার।
ক্লিংকারকে গুঁড়া করার সময় তার সঙ্গে অল্প পরিমাণ জিপসাম, অর্থাৎ ক্যালসিয়াম সালফেট, মেশানো হয়। জিপসাম না দিলে পানি মেশানোর সঙ্গে সঙ্গে সিমেন্ট খুব দ্রুত জমে যেত; জিপসাম জমাট বাঁধার সময় নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে কাজ করার সময় পাওয়া যায়।
তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল জিপসাম।
ফাঁদ হলো সালফার। জিপসামের সালফেট অংশে সালফার আছে বলে কেউ কেউ সালফার বেছে নেন, কিন্তু মৌলিক সালফার সিমেন্টের কাঁচামাল নয়।
মনে রাখুন: সিমেন্ট মানে চুনাপাথর, কাদামাটি আর জিপসাম; জিপসাম জমাট বাঁধার ঘড়ি।
২৮৪. বিগব্যাঙ তত্ত্বের প্রবক্তা- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কআইনস্টাইন
- খজি. ল্যামেটার
- গস্টিফেন হকিং
- ঘগ্যালিলিও
সঠিক উত্তর: খ. জি. ল্যামেটার
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ও ক্যাথলিক যাজক জর্জ লেমেত্র। ১৯২৭ সালে তিনি প্রসারণশীল মহাবিশ্বের প্রস্তাব দেন, আর ১৯৩১ সালে বলেন মহাবিশ্বের শুরু একটি আদি পরমাণু থেকে।
যুক্তিটা সহজ: মহাবিশ্ব যদি প্রতিনিয়ত প্রসারিত হয়, তবে সময়ের উল্টো দিকে গেলে সবকিছু একসময় এক বিন্দুতে মিলিত ছিল। ১৯২৯ সালে এডউইন হাবলের পর্যবেক্ষণ দেখায় দূরের ছায়াপথগুলো সরে যাচ্ছে, যা এ ধারণাকে সমর্থন করে।
পরে জর্জ গ্যামো এ ধারণাকে বিকশিত করেন। আর ১৯৭০ সালে স্টিফেন হকিং ও রজার পেনরোজ গাণিতিকভাবে দেখান যে মহাবিশ্বের শুরু একটি অনন্যতা থেকে হওয়া অনিবার্য।
ফাঁদ হলো আইনস্টাইন ও হকিং। লেমেত্রের হিসাব আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার ওপর দাঁড়ানো, আর হকিং পরে এর তাত্ত্বিক ভিত্তি মজবুত করেন; কিন্তু প্রবক্তা লেমেত্র।
মনে রাখুন: বিগ ব্যাংয়ের জনক লেমেত্র; প্রমাণে হাবল; আধুনিক ব্যাখ্যায় হকিং।
২৮৫. মহাজাগতিক রশ্মির আবিস্কারক- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কহেস
- খআইনস্টাইন
- গটলেমি
- ঘহাবল
সঠিক উত্তর: ক. হেস
মহাজাগতিক রশ্মি হলো মহাকাশ থেকে আসা অতি উচ্চশক্তির কণার স্রোত। এর আবিষ্কারক অস্ট্রিয়ান পদার্থবিদ ভিক্টর হেস।
১৯১২ সালে হেস বেলুনে চড়ে পাঁচ কিলোমিটারের বেশি উচ্চতায় উঠে বাতাসের আয়নন মাপেন। দেখা গেল ওপরে উঠলে আয়নন কমে না, বরং ভূপৃষ্ঠের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এর মানে বিকিরণটি মাটি থেকে নয়, ওপর থেকে, অর্থাৎ মহাকাশ থেকে আসছে।
এ আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান; একই বছর পজিট্রন আবিষ্কারের জন্য কার্ল অ্যান্ডারসনও নোবেল পান।
বাকি বিজ্ঞানীদের অবদান আলাদা: টলেমি পৃথিবীকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের মডেল দেন, আইনস্টাইন আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, আর হাবল মহাবিশ্বের প্রসারণের পর্যবেক্ষণ।
মনে রাখুন: মহাজাগতিক রশ্মি মানেই হেসের বেলুন, ১৯১২।
২৮৬. ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্যে যান- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক১৯৫৬ সালে
- খ১৯৬১ সালে
- গ১৯৬৪ সালে
- ঘ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৬১ সালে
সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন ১৯৬১ সালের বারো এপ্রিল ভস্তক এক নভোযানে চড়ে প্রথম মানুষ হিসেবে মহাশূন্যে যান।
মহাকাশ দৌড়ের ক্রম মনে রাখলে উত্তর সহজ: ১৯৫৭ সালের চার অক্টোবর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক এক, ১৯৬১ সালে গ্যাগারিন, ১৯৬৩ সালের ষোলো জুন ভালেন্তিনা তেরেশকোভা প্রথম নারী হিসেবে মহাশূন্যে, আর ১৯৬৯ সালের কুড়ি জুলাই অ্যাপোলো এগারোর মাধ্যমে চাঁদে প্রথম মানুষের অবতরণ।
তাই প্রথম মানুষের মহাশূন্য যাত্রা প্রথম উপগ্রহের পরে, কিন্তু প্রথম নারীর যাত্রার আগে হতেই হবে।
ফাঁদ হলো ১৯৬৯। এটি চাঁদে নামার বছর, মহাশূন্যে প্রথম যাওয়ার নয়।
মনে রাখুন: সাতান্ন উপগ্রহ, একষট্টি মানুষ, তেষট্টি নারী, ঊনসত্তর চাঁদ।
২৮৭. কোনটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কলোহা
- খসিলিকন
- গজার্মেনিয়াম
- ঘগ্যালিয়াম
সঠিক উত্তর: ক. লোহা
বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা অনুযায়ী পদার্থ তিন রকম: পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী ও অপরিবাহী। অর্ধপরিবাহীর পরিবাহিতা মাঝামাঝি; তাপমাত্রা বাড়লে এর রোধ কমে, আর সামান্য অপদ্রব্য মিশিয়ে এর পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এজন্যই ডায়োড, ট্রানজিস্টর ও চিপ বানানো সম্ভব।
সিলিকন ও জার্মেনিয়াম খাঁটি অর্ধপরিবাহী মৌল; এদের শেষ স্তরে চারটি ইলেকট্রন থাকে। গ্যালিয়াম মৌল হিসেবে ধাতু হলেও আর্সেনিকের সঙ্গে গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ও নাইট্রোজেনের সঙ্গে গ্যালিয়াম নাইট্রাইড নামের অর্ধপরিবাহী যৌগ তৈরি করে, আর সিলিকনে অপদ্রব্য হিসেবেও মেশানো হয়।
লোহা একটি সাধারণ ধাতু। এতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, তাই এটি সুপরিবাহী; অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তিতে এর কোনো ভূমিকা নেই। তাই উত্তর লোহা।
ফাঁদ হলো গ্যালিয়াম। নামটা অপরিচিত বলে কেউ কেউ একেই বাদ দিতে চান, কিন্তু এলইডি ও উচ্চগতির চিপে গ্যালিয়ামের যৌগই অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন: অর্ধপরিবাহীর তালিকায় সিলিকন, জার্মেনিয়াম ও গ্যালিয়ামের যৌগ; তামা, লোহা, রুপার মতো সাধারণ ধাতু থাকলে সেটিই বাদ।
২৮৮. আইসোটোপের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কভর সংখ্যা সমান থাকে
- খনিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
- গপ্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
- ঘপ্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
প্রশ্নটা যাচাই করছে আইসোটোপের সংজ্ঞা। একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা, মানে পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা আলাদা, সেগুলোকে আইসোটোপ বলে। নিউট্রন আলাদা হওয়ায় এদের ভর সংখ্যাও আলাদা হয়।
কেন প্রোটনই আসল শর্ত: প্রোটন সংখ্যাই ঠিক করে পরমাণুটি কোন মৌল। প্রোটন বদলালে মৌলই বদলে যায়, তাই একই মৌলের বিভিন্ন রূপ মানে প্রোটন স্থির রেখে নিউট্রনের পরিবর্তন।
উদাহরণ হাইড্রোজেন: প্রোটিয়ামে একটি প্রোটন ও কোনো নিউট্রন নেই, ডিউটেরিয়ামে একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন, ট্রিটিয়ামে একটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন। তিনটিই হাইড্রোজেন, কারণ প্রোটন একটিই।
কাছাকাছি তিনটি শব্দ গুলিয়ে যায়: ভর সংখ্যা সমান হলে আইসোবার, নিউট্রন সংখ্যা সমান হলে আইসোটোন। প্রোটন ও নিউট্রন দুটোই সমান হলে সেটি একই পরমাণু, আইসোটোপ নয়।
মনে রাখুন: আইসোটোপে প্রোটন, আইসোটোনে নিউট্রন, আইসোবারে ভর সংখ্যা সমান।
২৮৯. ভারী পানি (Heavy water) এর সংকেত হচ্ছে – (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক2H2O2
- খH2O
- গD2O
- ঘHD2O2
সঠিক উত্তর: গ. D2O
ভারী পানি হলো ডিউটেরিয়াম অক্সাইড। সাধারণ পানির অণুতে দুটি সাধারণ হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন থাকে; ভারী পানিতে হাইড্রোজেনের জায়গায় থাকে দুটি ডিউটেরিয়াম পরমাণু। ডিউটেরিয়ামের প্রতীক ডি, তাই সংকেত ডি টু ও।
ডিউটেরিয়াম হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ: এর নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটনের সঙ্গে একটি নিউট্রনও থাকে, তাই এর ভর সাধারণ হাইড্রোজেনের প্রায় দ্বিগুণ।
হিসাব করলে সাধারণ পানির আণবিক ভর আঠারো, আর ভারী পানির কুড়ি; অর্থাৎ একই সংখ্যক অণুর ভারী পানি প্রায় এগারো শতাংশ বেশি ভারী। পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি কমাতে, অর্থাৎ মডারেটর হিসেবে, ভারী পানি ব্যবহৃত হয়।
ফাঁদ হলো দুই এইচ টু ও টু লেখা বিকল্পটি। এর মানে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের দুটি অণু, পানি নয়।
মনে রাখুন: ‘ভারী’ শব্দ দেখলেই ডিউটেরিয়াম, প্রতীক D; তাই ভারী পানি D₂O।
২৯০. জারণ বিক্রিয়ায় ঘটে- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কইলেক্ট্রন বর্জন
- খইলেক্ট্রন গ্রহণ
- গইলেক্ট্রন আদান-প্রদান
- ঘতড়িৎ ধনাত্মক মৌলের বা মূলকের অপসারণ
সঠিক উত্তর: ক. ইলেক্ট্রন বর্জন
প্রশ্নটা জারণের আধুনিক সংজ্ঞা যাচাই করছে। ইলেকট্রনীয় তত্ত্ব অনুসারে যে বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু বা আয়ন ইলেকট্রন বর্জন করে, তাকে জারণ বলে; আর ইলেকট্রন গ্রহণ করলে বিজারণ।
পুরোনো সংজ্ঞাগুলো ছিল ভিন্ন ভিন্ন: অক্সিজেন যোগ বা হাইড্রোজেন অপসারণ, অথবা তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল যোগ বা তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ও মূলক অপসারণ। আধুনিক সংজ্ঞা এসব ক্ষেত্রকে এক কথায় ধরে: সবগুলোতেই আসলে ইলেকট্রন বর্জন ঘটে।
উদাহরণ: সোডিয়াম ও ক্লোরিন মিলে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরির সময় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়, তাই সোডিয়াম জারিত হয়; ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন নেয়, তাই ক্লোরিন বিজারিত হয়। জারণ ও বিজারণ সবসময় একসঙ্গে ঘটে, একে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।
ফাঁদ দুটি। ইলেকট্রন আদান প্রদান পুরো রেডক্স বিক্রিয়ার বর্ণনা, শুধু জারণের নয়। আর তড়িৎ ধনাত্মক মৌল অপসারণ পুরোনো আংশিক সংজ্ঞা; সব ক্ষেত্র ধরে না বলে আধুনিক উত্তর ইলেকট্রন বর্জন।
মনে রাখুন: জারণে ইলেকট্রন যায়, বিজারণে ইলেকট্রন আসে; বাকি সব পুরোনো সংজ্ঞা এরই বিশেষ রূপ।
২৯১. বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কট্রান্সমিটারের সাহায্যে
- খস্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
- গস্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
- ঘএডাপটারের সাহায্যে
সঠিক উত্তর: গ. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
উচ্চ ভোল্টেজকে নিম্ন ভোল্টেজে নামাতে ব্যবহৃত হয় স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। ট্রান্সফরমার তড়িৎচৌম্বক আবেশের নীতিতে কাজ করে, তাই এটি কেবল পরিবর্তী প্রবাহে চলে, একমুখী প্রবাহে নয়।
ট্রান্সফরমারে দুটি কুণ্ডলী থাকে: মুখ্য কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ ঢোকে, গৌণ কুণ্ডলী থেকে বের হয়। দুই কুণ্ডলীর ভোল্টেজের অনুপাত তাদের পাকসংখ্যার অনুপাতের সমান। গৌণ কুণ্ডলীর পাক কম হলে ভোল্টেজ কমে, সেটিই স্টেপ ডাউন; বেশি হলে ভোল্টেজ বাড়ে, সেটি স্টেপ আপ।
উদাহরণ: মুখ্য কুণ্ডলীতে দুইশো কুড়ি ভোল্ট ও এক হাজার পাক, গৌণ কুণ্ডলীতে পঞ্চাশ পাক হলে বের হবে এগারো ভোল্ট। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উচ্চ ভোল্টেজে পাঠানো বিদ্যুৎ বাড়িতে পৌঁছানোর আগে এভাবেই নামানো হয়।
ফাঁদ হলো অ্যাডাপ্টার। অ্যাডাপ্টার একটি সম্পূর্ণ যন্ত্র, যার ভেতরে ভোল্টেজ কমানোর ব্যবস্থার সঙ্গে প্রবাহকে একমুখী করার অংশও থাকতে পারে; ভোল্টেজ নামানোর মূল যন্ত্র হিসেবে উত্তর স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।
মনে রাখুন: গৌণ কুণ্ডলীর পাক কম মানে স্টেপ ডাউন, বেশি মানে স্টেপ আপ।
২৯২. কাজ ও বলের একক যথাক্রমে- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কনিউটন ও মিটার
- খজুল ও ডাইন
- গওয়াট ও পাউন্ড
- ঘপ্যাসকেল ও কিলোগ্রাম
সঠিক উত্তর: খ. জুল ও ডাইন
প্রশ্নটা যথাক্রমে কাজের একক ও বলের একক চেয়েছে, তাই প্রথমটি কাজের ও দ্বিতীয়টি বলের একক হতে হবে।
আন্তর্জাতিক বা এসআই পদ্ধতিতে কাজের একক জুল, সিজিএস পদ্ধতিতে আর্গ। বলের একক এসআই পদ্ধতিতে নিউটন, সিজিএস পদ্ধতিতে ডাইন। এক নিউটন বল কোনো বস্তুকে বলের দিকে এক মিটার সরালে এক জুল কাজ হয়।
বিকল্প ‘জুল ও ডাইন’ দুই পদ্ধতির একক মিশিয়েছে, তবু প্রথমটি কাজের ও দ্বিতীয়টি বলের সঠিক একক; ক্রম মেলে কেবল এই বিকল্পেই।
ফাঁদ হলো ‘নিউটন ও মিটার’। কাজের সূত্রে বল গুণ সরণ থাকে বলে নিউটন আর মিটার চোখে পড়ে, কিন্তু নিউটন বলের একক আর মিটার দৈর্ঘ্যের; কাজের একক কোনোটিই নয়।
মনে রাখুন: ‘যথাক্রমে’ দেখলে প্রতিটি বিকল্পের প্রথম শব্দ আগে মিলিয়ে নিন; কাজের একক জুল দিয়ে শুরু একটিই।
২৯৩. আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় – (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কমেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
- খদুখণ্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষ হলে
- গমেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে
- ঘমেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
সঠিক উত্তর: ক. মেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
বিদ্যুৎ চমকানো হলো মেঘে জমা বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক চার্জের হঠাৎ নির্গমন। প্রশ্ন জানতে চেয়েছে সেই চার্জ কোথা থেকে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী বজ্রমেঘের ভেতরের ঊর্ধ্বমুখী বাতাসে অতিশীতল জলকণা, ছোট বরফকণা ও নরম শিলাকণা মিশে থাকে। এগুলোর সংঘর্ষে ছোট বরফকণা ধনাত্মক আর ভারী শিলাকণা ঋণাত্মক চার্জ পায়।
হালকা ধনাত্মক বরফকণা বাতাসে মেঘের চূড়ায় ওঠে, ভারী ঋণাত্মক কণা থাকে মেঘের মাঝখানে ও নিচে; নিচের মাটিতে আবিষ্ট হয় ধনাত্মক চার্জ। চার্জের এই পার্থক্য খুব বেড়ে গেলে বাতাসের মধ্য দিয়ে বিশাল স্ফুলিঙ্গের মতো নির্গমন ঘটে, সেটাই বিদ্যুৎ চমক।
ফাঁদ হলো দুই খণ্ড মেঘের সংঘর্ষ। প্রচলিত ধারণা হলেও আসল সংঘর্ষ ঘটে একই মেঘের ভেতরের জলকণা ও বরফকণার মধ্যে, মেঘের খণ্ডে খণ্ডে নয়।
মনে রাখুন: বিদ্যুৎ চমকের মূল কথা চার্জ জমা ও চার্জের পার্থক্য; সংঘর্ষ হয় কণায় কণায়, মেঘে মেঘে নয়।
২৯৪. কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসে (Inert gas) আটটি ইলেকট্রন নেই? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কহিলিয়াম
- খনিয়ন
- গআর্গন
- ঘজেনন
সঠিক উত্তর: ক. হিলিয়াম
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো পর্যায় সারণির শেষ কলামে থাকে। এদের শেষ শক্তিস্তর ইলেকট্রনে পূর্ণ, তাই এরা সহজে বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
অধিকাংশ নিষ্ক্রিয় গ্যাসের শেষ স্তরে আটটি ইলেকট্রন থাকে, যাকে অষ্টক বলে। নিয়নের পারমাণবিক সংখ্যা দশ, বিন্যাস দুই ও আট; আর্গনের আঠারো, বিন্যাস দুই, আট, আট; জেননের চুয়ান্ন, শেষ স্তরেও আট।
হিলিয়াম ব্যতিক্রম। এর পারমাণবিক সংখ্যা দুই, ইলেকট্রন মাত্র দুটি, আর প্রথম স্তরে সর্বোচ্চ দুটি ইলেকট্রনই ধরে। তাই হিলিয়ামের একমাত্র স্তর দুটি ইলেকট্রনেই পূর্ণ; এটিও অষ্টকের মতো স্থিতিশীল বিন্যাস।
ফাঁদ হলো সব নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে অষ্টকের উদাহরণ ভাবা; শেষ স্তর পূর্ণ হওয়াই আসল শর্ত, আটটি ইলেকট্রন নয়।
মনে রাখুন: নিষ্ক্রিয় গ্যাসের তালিকায় হিলিয়ামই একমাত্র দুই ইলেকট্রনের, বাকি সবার শেষ স্তরে আট।
২৯৫. এপিকালচার বলতে বুঝায়- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- করেশমের চাষ
- খমৎস্য চাষ
- গমৌমাছির চাষ
- ঘপাখিপালন বিদ্যা
সঠিক উত্তর: গ. মৌমাছির চাষ
প্রশ্নটা কৃষি ও প্রাণিপালনের পারিভাষিক শব্দ যাচাই করছে। এপিকালচার মানে মৌমাছি পালন, অর্থাৎ মধু ও মোম সংগ্রহের জন্য পরিকল্পিতভাবে মৌমাছির চাষ।
শব্দটা ভাঙলেই অর্থ মেলে: এপিস হলো মধু মৌমাছির গণের বৈজ্ঞানিক নাম, আর কালচার মানে চাষ বা পালন।
একই ছাঁচের অন্য শব্দগুলো: সেরিকালচার মানে রেশম চাষ, পিসিকালচার মানে মাছ চাষ, এভিকালচার মানে পাখি পালন। প্রতিটির শুরুর অংশটি প্রাণী বা পণ্যের লাতিন বা গ্রিক মূল থেকে এসেছে।
ফাঁদ হলো রেশম চাষ। রেশম পোকা ও মৌমাছি দুটোই পতঙ্গ বলে গুলিয়ে যায়, কিন্তু রেশম চাষের নাম সেরিকালচার।
মনে রাখুন: কালচারের আগের অংশটি দেখুন: এপি মৌমাছি, সেরি রেশম, পিসি মাছ, এভি পাখি।
২৯৬. বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন – (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কস্টিফেন হকিং
- খজি লেমেটার
- গআব্দুস সালাম
- ঘএডুইন হাবল
সঠিক উত্তর: ক. স্টিফেন হকিং
প্রশ্নের ভাষা একটু জটিল: বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা কে দিয়েছেন। এখানে দুই পর্ব আলাদা করে বোঝা দরকার: তত্ত্বের জন্ম আর তার আধুনিক তাত্ত্বিক ভিত্তি।
বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ও যাজক জর্জ লেমেত্র ১৯২৭ সালে প্রসারণশীল মহাবিশ্বের প্রস্তাব দেন এবং ১৯৩১ সালে আদি পরমাণু থেকে মহাবিশ্বের শুরুর ধারণা দেন; তাঁকেই বিগ ব্যাংয়ের জনক বলা হয়। ১৯২৯ সালে এডউইন হাবলের পর্যবেক্ষণ দেখায় যে দূরের ছায়াপথগুলো সরে যাচ্ছে।
১৯৭০ সালে স্টিফেন হকিং ও রজার পেনরোজ গাণিতিকভাবে দেখান যে সাধারণ আপেক্ষিকতা সত্য হলে মহাবিশ্বের শুরু একটি অনন্যতা বিন্দু থেকে হওয়া অনিবার্য। এ কারণে আধুনিক ব্যাখ্যার প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর স্টিফেন হকিং।
ফাঁদ হলো লেমেত্র। প্রবর্তক জানতে চাইলে উত্তর লেমেত্র, কিন্তু এই প্রশ্ন আধুনিক ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে। প্রশ্নে ‘প্রবক্তা’ না ‘আধুনিক ব্যাখ্যা’, সেটি খেয়াল করুন।
মনে রাখুন: ‘প্রবক্তা’ বা ‘জনক’ মানে লেমেত্র; ‘আধুনিক ব্যাখ্যা’ মানে স্টিফেন হকিং।
২৯৭. বায়ুমন্ডলে যে স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কস্ট্রাটোস্ফিয়ার
- খট্রাপোস্ফিয়ার
- গআয়োনোস্ফিয়ার
- ঘওজোন স্তর
সঠিক উত্তর: গ. আয়োনোস্ফিয়ার
প্রশ্নটা বায়ুমণ্ডলের স্তর আর তাদের কাজ পরীক্ষা করছে। নিচ থেকে উপরে স্তরগুলো হলো ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার আর এক্সোস্ফিয়ার; আয়নোস্ফিয়ার হলো মেসোস্ফিয়ারের উপরের অংশ থেকে থার্মোস্ফিয়ার জুড়ে বিস্তৃত আয়নিত অঞ্চল।
আয়নোস্ফিয়ারে সূর্যের অতিবেগুনি ও এক্স-রে রশ্মি গ্যাসের অণুকে আয়নিত করে, ফলে সেখানে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। এই চার্জযুক্ত কণার স্তর বেতার তরঙ্গকে, বিশেষ করে শর্টওয়েভকে, পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে দেয়।
এজন্যই রেডিও সংকেত পৃথিবীর বাঁক পেরিয়ে অনেক দূরে পৌঁছাতে পারে। আয়নোস্ফিয়ারের এই আয়নিত অবস্থার জন্যই নাম আয়নোস্ফিয়ার।
ফাঁদ হলো ওজোন স্তর আর স্ট্রাটোস্ফিয়ার। ওজোন স্তর স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ভেতরে থাকে, আর তার কাজ অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা, বেতার তরঙ্গ ফেরানো নয়।
মনে রাখুন: আয়ন মানে চার্জ; চার্জিত স্তরই বেতার তরঙ্গ ফেরায়।
২৯৮. অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fibre) হচ্ছে- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কখুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল
- খখুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তার তন্তু নল
- গখুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
- ঘসূক্ষ্ম প্লাস্টিক ঘটিত নল
সঠিক উত্তর: ক. খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল
অপটিক্যাল ফাইবার হলো চুলের মতো সরু ও নমনীয় স্বচ্ছ কাচের তন্তু, যার ভেতর দিয়ে আলোর আকারে সংকেত বহুদূর যায়। ইন্টারনেট ও টেলিফোনের দূরপাল্লার সংযোগে এটি ব্যবহৃত হয়।
এর মাঝখানের অংশকে কোর বলে, যার প্রতিসরাঙ্ক বেশি; চারপাশে কম প্রতিসরাঙ্কের কাচের আরেকটি স্তর থাকে, যাকে ক্ল্যাডিং বলে। এর ওপর থাকে সুরক্ষার আবরণ।
কোরের আলো ক্ল্যাডিংয়ের সীমায় সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে পড়ে, তাই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে বারবার ভেতরেই ফিরে আসে। এজন্য তন্তু বাঁকালেও আলো বের হয়ে যায় না।
ফাঁদ হলো তামার তার। তামার তার বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে সংকেত নেয়, অপটিক্যাল ফাইবার নেয় আলো দিয়ে। কম দূরত্বের জন্য প্লাস্টিকের অপটিক্যাল ফাইবারও আছে, তবে প্রচলিত সংজ্ঞা কাচের তন্তু।
মনে রাখুন: অপটিক্যাল মানে আলো; তাই যে বিকল্পে আলো ও কাচ আছে, সেটিই উত্তর।
২৯৯. সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কক্রোনোমিটার
- খকম্পাস
- গসিসমোগ্রাফ
- ঘসেক্সট্যান্ট
সঠিক উত্তর: ক. ক্রোনোমিটার
প্রশ্নটা সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্র জানতে চেয়েছে। উত্তর ক্রোনোমিটার, একটি অত্যন্ত নিখুঁত ঘড়ি যা জাহাজের দোলা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনেও ঠিক সময় রাখে।
পদ্ধতিটা সময়ের হিসাব। পৃথিবী চব্বিশ ঘণ্টায় তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘোরে, তাই প্রতি এক ঘণ্টা সময়ের পার্থক্য মানে পনেরো ডিগ্রি দ্রাঘিমার পার্থক্য। ক্রোনোমিটারে গ্রিনিচের সময় রাখা হয়, আর সূর্য দেখে জাহাজের স্থানীয় সময় বের করা হয়।
যেমন জাহাজে স্থানীয় দুপুর বারোটা, ক্রোনোমিটারে গ্রিনিচে তখন বিকেল তিনটা। পার্থক্য তিন ঘণ্টা, মানে পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি; স্থানীয় সময় পিছিয়ে আছে বলে জাহাজটি গ্রিনিচের পশ্চিমে, পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমায়।
ফাঁদ হলো সেক্সট্যান্ট। এটিও জাহাজের যন্ত্র, কিন্তু এটি দিগন্ত থেকে সূর্য বা তারার কৌণিক উচ্চতা মাপে, যা থেকে মূলত অক্ষাংশ বের হয়।
মনে রাখুন: দ্রাঘিমা মানেই সময়ের পার্থক্য, আর সময় মাপে ঘড়ি; তাই ক্রোনোমিটার।
৩০০. কোলেস্টেরল এক ধরনের ____ । (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কঅসম্পৃক্ত এলকোহল
- খজৈব এসিড
- গপলিমার
- ঘএমিনো এসিড
সঠিক উত্তর: ক. অসম্পৃক্ত এলকোহল
কোলেস্টেরল প্রাণীদেহের প্রধান স্টেরল। স্টেরল মানে স্টেরয়েড অ্যালকোহল: স্টেরয়েডের চার বলয়ের কাঠামোয় একটি হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত থাকে, আর হাইড্রক্সিল মূলক থাকাই অ্যালকোহলের পরিচয়।
কোলেস্টেরলের বলয়ে একটি কার্বন কার্বন দ্বিবন্ধন আছে। দ্বিবন্ধন থাকলে যৌগকে অসম্পৃক্ত বলা হয়, তাই কোলেস্টেরল একটি অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল।
দেহে এর কাজ গুরুত্বপূর্ণ: এটি কোষঝিল্লির উপাদান এবং ভিটামিন ডি ও স্টেরয়েড হরমোন তৈরির কাঁচামাল। রক্তে মাত্রা বেশি হলে অবশ্য রক্তনালিতে জমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ফাঁদ হলো জৈব অ্যাসিড। চর্বি বা লিপিডের কথা শুনে অনেকে ফ্যাটি অ্যাসিড ভাবেন, কিন্তু কোলেস্টেরলে অ্যাসিডের কার্বক্সিল মূলক নেই, আছে অ্যালকোহলের হাইড্রক্সিল মূলক।
মনে রাখুন: নামের শেষে ‘অল’ মানে অ্যালকোহল: কোলেস্টেরল, যেমন ইথানল।