সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ৫
৮১. গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ককার্বন
- খকার্বন ও অক্সিজেন
- গকার্বন ও হাইড্রোজেন
- ঘকার্বন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর: ক. কার্বন
প্রশ্নটি রূপভেদ বা বহুরূপতা নিয়ে। গ্রাফিন কার্বনের একটি রূপভেদ।
একই মৌলের পরমাণু ভিন্নভাবে সাজিয়ে ভিন্ন ধর্মের পদার্থ তৈরি হলে তাকে রূপভেদ বলে। কার্বনের পরিচিত রূপভেদ হলো হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিন ও গ্রাফিন। এদের সবকটিতে শুধু কার্বন পরমাণু আছে, পার্থক্য কেবল সাজানোর ধরনে।
গ্রাফিন হলো কার্বন পরমাণুর মাত্র এক পরমাণু পুরু একটি স্তর, যেখানে পরমাণুগুলো মৌচাকের মতো ষড়ভুজে সাজানো। গ্রাফাইট আসলে অসংখ্য গ্রাফিন স্তর একটার ওপর আরেকটা জমে তৈরি। দুই হাজার চার সালে আন্দ্রে গেইম ও কনস্তানতিন নভোসেলভ গ্রাফিন আলাদা করেন এবং দুই হাজার দশ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।
রূপভেদ সবসময় একটি মাত্র মৌলের হয়। তাই কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন বা নাইট্রোজেন থাকা বিকল্পগুলো যৌগ বোঝায়, রূপভেদ নয়।
মনে রাখুন: রূপভেদের প্রশ্নে দুই মৌলের নাম থাকলে সেটা বাদ, কারণ রূপভেদ এক মৌলের।
৮২. আইনস্টাইন নোবেল পুরস্কার পান- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
- খমহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
- গকৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
- ঘআলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
সঠিক উত্তর: ঘ. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
প্রশ্নটি আইনস্টাইনের নোবেল পুরস্কারের কারণ জানতে চেয়েছে। তিনি নোবেল পান আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার সূত্র আবিষ্কারের জন্য, আপেক্ষিক তত্ত্বের জন্য নয়।
আলোক তড়িৎ ক্রিয়া হলো ধাতুর ওপর আলো পড়লে ইলেকট্রন বেরিয়ে আসার ঘটনা। উনিশশো পাঁচ সালে আইনস্টাইন ব্যাখ্যা দেন, আলো ছোট ছোট শক্তির কণা বা ফোটন হিসেবে আসে, আর প্রতিটি ফোটনের শক্তি আলোর কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে। তাই নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের নিচে আলো যত তীব্রই হোক, ইলেকট্রন বের হয় না।
এই কাজের জন্য তাঁকে উনিশশো একুশ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল দেওয়া হয়, যা প্রদান করা হয় পরের বছর। এই ধারণা পরে কোয়ান্টাম তত্ত্বের অন্যতম ভিত্তি হয়, আর আলোক তড়িৎ কোষ বা ফটোসেল এই নীতিতে কাজ করে।
আপেক্ষিক তত্ত্ব তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ, তাই সেটাই বেছে নেওয়া সবচেয়ে সাধারণ ভুল। ইতিহাসবিদদের মতে, সে সময় আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক থাকায় নোবেলের উদ্ধৃতিতে সেটি রাখা হয়নি।
মনে রাখুন: আইনস্টাইনের নোবেল = ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট, সাল ১৯২১।
৮৩. কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কপুকুরের পানিতে
- খলেকের পানিতে
- গনদীর পানিতে
- ঘসাগরের পানিতে
সঠিক উত্তর: গ. নদীর পানিতে
প্রশ্নটি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন নিয়ে। দেওয়া চারটির মধ্যে নদীর পানিতে অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি থাকে।
পানিতে অক্সিজেন ঢোকে মূলত বাতাস থেকে, পানির উপরিতল দিয়ে। নদীর পানি সবসময় বয়ে চলে, স্রোত ও ঘূর্ণিতে পানি ওলটপালট হয়, নতুন পানি বারবার বাতাসের সংস্পর্শে আসে। ফলে নদীর পানি বাতাস থেকে বেশি অক্সিজেন টেনে নিতে পারে।
পুকুর ও লেকের পানি প্রায় স্থির, মেশামেশি কম। তার ওপর পচা পাতা ও জৈব পদার্থ ভাঙতে জীবাণু অক্সিজেন খরচ করে, তাই নিচের স্তরে অক্সিজেন কমে যায়। সাগরের পানিতে লবণ বেশি; লবণ যত বেশি, পানিতে অক্সিজেন তত কম দ্রবীভূত হতে পারে।
সাগরের ঢেউ দেখে অনেকে সেটা বেছে নেন। কিন্তু লবণাক্ততার কারণে একই তাপমাত্রায় সমুদ্রের পানি মিঠা পানির চেয়ে কম অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে।
মনে রাখুন: পানি যত চলমান ও মিঠা, অক্সিজেন তত বেশি।
৮৪. হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কভেইন
- খআর্টারি
- গক্যাপিলারি
- ঘনার্ভ
সঠিক উত্তর: খ. আর্টারি
প্রশ্নটি রক্তনালির ধরন নিয়ে। হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহে নিয়ে যায় আর্টারি বা ধমনি।
হৃৎপিণ্ডের নিলয় সংকুচিত হলে প্রবল চাপে রক্ত ধমনিতে ঢোকে। তাই ধমনির প্রাচীর পুরু, পেশিবহুল ও স্থিতিস্থাপক, যাতে এই চাপ সহ্য করতে পারে। কবজিতে যে নাড়ির স্পন্দন পাওয়া যায়, সেটাও ধমনির।
ধমনি ভাগ হতে হতে সূক্ষ্ম কৈশিকনালিতে পরিণত হয়, যেখানে কোষের সঙ্গে অক্সিজেন, খাদ্য ও বর্জ্যের বিনিময় হয়। এরপর শিরা বা ভেইন রক্ত আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে; শিরায় চাপ কম, তাই উল্টো প্রবাহ ঠেকাতে কপাটিকা থাকে।
মনে রাখুন, ধমনি মানে সবসময় বিশুদ্ধ রক্ত নয়, বরং হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে যাওয়া রক্ত। যেমন ফুসফুসীয় ধমনি দূষিত রক্ত ফুসফুসে নেয়। নার্ভ বা স্নায়ু রক্তনালিই নয়।
মনে রাখুন: ধমনি দূরে নেয়, শিরা ফিরিয়ে আনে; রক্ত বিশুদ্ধ কি না সেটা মাপকাঠি নয়।
৮৫. প্রোটিন তৈরি হয়- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
- খনিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে
- গঅ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে
প্রশ্নটি প্রোটিনের গঠন একক জানতে চেয়েছে। প্রোটিন তৈরি হয় অ্যামিনো এসিড দিয়ে।
অ্যামিনো এসিডের অণুতে একটি অ্যামিনো গ্রুপ আর একটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে। একটির অ্যামিনো গ্রুপ পাশেরটির কার্বক্সিল গ্রুপের সঙ্গে এক অণু পানি বের করে জোড়া লাগে; এই সংযোগকে বলে পেপটাইড বন্ধন। এভাবে শত শত অ্যামিনো এসিড শিকলের মতো জুড়ে পলিপেপটাইড তৈরি হয়, যা ভাঁজ হয়ে প্রোটিনের আকার নেয়।
মানবদেহের প্রোটিনে মূলত বিশ ধরনের অ্যামিনো এসিড থাকে। এদের ক্রম ভিন্ন হলেই প্রোটিন ভিন্ন হয়, যেমন হিমোগ্লোবিন, ইনসুলিন বা চুলের কেরাটিন।
নিউক্লিক এসিড বিকল্পটি ফাঁদ। ডিএনএ প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে, কিন্তু প্রোটিনের ইট হলো অ্যামিনো এসিড। ফ্যাটি এসিড দিয়ে তৈরি হয় চর্বি।
মনে রাখুন: বড় অণু আর তার একক: প্রোটিন-অ্যামিনো এসিড, শ্বেতসার-গ্লুকোজ, চর্বি-ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল।
৮৬. কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কগ্লিসারিন
- খফিটকিরি
- গসোডিয়াম ক্লোরাইড
- ঘক্যালসিয়াম কার্বোনেট
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
প্রশ্নটি দ্রাব্যতা নিয়ে। দেওয়া চারটির মধ্যে পানিতে দ্রবীভূত হয় না ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট হলো চুনাপাথর, মার্বেল পাথর, চক, ঝিনুক ও ডিমের খোসার মূল উপাদান। এর আয়নগুলো এত শক্তভাবে কেলাসে আটকে থাকে যে পানির অণু তাদের আলাদা করতে পারে না, তাই সাধারণ পানিতে এটি প্রায় অদ্রবণীয়। এজন্যই মার্বেলের মেঝে বা ঝিনুক পানিতে গলে যায় না।
তবে কার্বন ডাই-অক্সাইড মেশানো পানিতে এটি ধীরে ধীরে দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেটে পরিণত হয়। এভাবেই চুনাপাথরের গুহা তৈরি হয়, আর পানিতে অস্থায়ী খরতা আসে।
বাকি তিনটি পানিতে ভালোভাবে দ্রবীভূত হয়। গ্লিসারিন যেকোনো অনুপাতে পানির সঙ্গে মেশে, ফিটকিরি পানি পরিষ্কারে ব্যবহার হয় দ্রবীভূত হয়েই, আর খাবার লবণ তো প্রতিদিনই আমরা পানিতে গলাই।
মনে রাখুন: পাথর আর খোসার উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বোনেট; পানিতে গললে তো পাথর টিকত না।
৮৭. মানবদেহে লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কত দিন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৭ দিন
- খ৩০ দিন
- গ১৮০ দিন
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের কোনটিই নয়
প্রশ্নটি লোহিত রক্তকণিকার আয়ুষ্কাল জানতে চেয়েছে। এর গড় আয়ু প্রায় একশো বিশ দিন, যা কোনো বিকল্পে নেই; তাই উত্তর উপরের কোনটিই নয়।
লোহিত কণিকা তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায়। পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এরা নিজেদের মেরামত বা বিভাজন করতে পারে না। সরু কৈশিকনালি দিয়ে বারবার চাপাচাপি করে যেতে যেতে প্রায় চার মাসে এরা দুর্বল হয়ে পড়ে।
পুরোনো কণিকাগুলো প্রধানত প্লীহায় ধ্বংস হয়, তাই প্লীহাকে লোহিত কণিকার কবরস্থান বলা হয়। এদের হিমোগ্লোবিনের লোহা আবার নতুন কণিকা তৈরিতে কাজে লাগে।
সাত দিন বিকল্পটি ফাঁদ হতে পারে, কারণ অণুচক্রিকার আয়ু মোটামুটি সাত থেকে দশ দিন। তিনটি বিকল্পই ভুল হলে উপরের কোনটিই নয় বেছে নিতে দ্বিধা করবেন না।
মনে রাখুন: লোহিত কণিকা ১২০ দিন, অণুচক্রিকা ৭ থেকে ১০ দিন।
৮৮. নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কCOD > BOD
- খCOD < BOD
- গCOD = BOD
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. COD > BOD
প্রশ্নটি পানি দূষণের দুটি মাপকাঠি নিয়ে। নদীর পানিসহ প্রায় সব প্রাকৃতিক পানিতে সিওডি বিওডির চেয়ে বেশি হয়।
বিওডি মানে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা: পানির জৈব পদার্থ ভাঙতে জীবাণুরা কতটা অক্সিজেন খরচ করে, সাধারণত বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পাঁচ দিন রেখে মাপা হয়। জীবাণু শুধু সেই অংশই ভাঙতে পারে যা জৈবভাবে ভাঙনযোগ্য।
সিওডি মানে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা: পটাশিয়াম ডাইক্রোমেটের মতো শক্তিশালী জারক দিয়ে জারণযোগ্য প্রায় সব পদার্থকেই জারিত করা হয়, জীবাণু ভাঙতে পারুক বা না পারুক। ফলে সিওডি মোট জারণযোগ্য অংশ মাপে, আর বিওডি তার একটা অংশ মাত্র।
অংশ সাধারণত পুরোটার চেয়ে বড় হতে পারে না, তাই নদীর পানিতে সিওডি সমান বিওডি বা সিওডি বিওডির চেয়ে কম, কোনোটাই প্রত্যাশিত নয়।
মনে রাখুন: বিওডি সিওডির ভেতরের অংশ, তাই সিওডি বড়।
৮৯. পাথফাইন্ডার-এর মঙ্গলে অবতরণ সাল- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯৯০
- খ১৯৯৫
- গ১৯৯৭
- ঘ২০০০
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৯৭
প্রশ্নটি মঙ্গল অভিযানের সাল নিয়ে। নাসার মার্স পাথফাইন্ডার মঙ্গলে অবতরণ করে উনিশশো সাতানব্বই সালের চার জুলাই।
পাথফাইন্ডার উৎক্ষেপণ করা হয় উনিশশো ছিয়ানব্বই সালের ডিসেম্বরে, প্রায় সাত মাস পর মঙ্গলে পৌঁছায়। এটি বিশাল বায়ুভর্তি বেলুনের আবরণে মুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে মাটিতে নামে, যা ছিল নতুন ধরনের অবতরণ কৌশল।
এর সঙ্গে ছিল সোজার্নার নামের ছোট রোভার, যা মঙ্গলের মাটিতে সফলভাবে চলা প্রথম রোভার। এর আগে উনিশশো ছিয়াত্তর সালে ভাইকিং-এক মঙ্গলে নেমেছিল, তবে সেটি স্থির ছিল। পরে দুই হাজার চার সালে স্পিরিট ও অপরচুনিটি, দুই হাজার বারো সালে কিউরিওসিটি নামে।
উৎক্ষেপণের সাল আর অবতরণের সাল আলাদা, তাই প্রশ্নে অবতরণ চাওয়া হয়েছে কি না খেয়াল রাখুন।
মনে রাখুন: মঙ্গলের প্রথম রোভার সোজার্নার, এসেছিল পাথফাইন্ডারে, ১৯৯৭ সালে।
৯০. কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কক্লোরোপিক্রিন
- খমিথেন
- গনাইট্রোজেন
- ঘইথেন
সঠিক উত্তর: ক. ক্লোরোপিক্রিন
প্রশ্নটি কাঁদুনে গ্যাস নিয়ে। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে কাঁদুনে গ্যাস হিসেবে পরিচিত ক্লোরোপিক্রিন।
ক্লোরোপিক্রিন হলো ট্রাইক্লোরোনাইট্রোমিথেন, একটি কার্বনের সঙ্গে তিনটি ক্লোরিন ও একটি নাইট্রো গ্রুপ যুক্ত যৌগ। এটি চোখ ও নাকের সংবেদী স্নায়ুকে তীব্রভাবে উত্তেজিত করে, ফলে চোখ জ্বলে আর অনবরত পানি পড়ে; এ ধরনের পদার্থকে অশ্রু উদ্রেককারী বলে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ক্লোরোপিক্রিন কাঁদুনে ও বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এখন এটি প্রধানত মাটি শোধনের কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার হয়। আধুনিক পুলিশ সাধারণত সিএস গ্যাস ব্যবহার করে, তবে পাঠ্যবইয়ে কাঁদুনে গ্যাসের উদাহরণ হিসেবে ক্লোরোপিক্রিনই আসে।
মিথেন, নাইট্রোজেন ও ইথেন চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে না; এগুলো বর্ণহীন, প্রায় গন্ধহীন গ্যাস।
মনে রাখুন: কাঁদুনে গ্যাস ক্লোরোপিক্রিন, হাসির গ্যাস নাইট্রাস অক্সাইড।
৯১. আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কদূরত্ব
- খসময়
- গভর
- ঘওজন
সঠিক উত্তর: ক. দূরত্ব
প্রশ্নটি আলোকবর্ষের মানে জানতে চেয়েছে। আলোকবর্ষ দূরত্বের একক, সময়ের নয়।
আলোকবর্ষ হলো আলো শূন্য মাধ্যমে এক বছরে যতটা পথ যায়। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার চলে, আর এক বছরে প্রায় তিন কোটি পনেরো লক্ষ সেকেন্ড। দুটো গুণ করলে এক আলোকবর্ষ দাঁড়ায় প্রায় ৯ লক্ষ ৪৬ হাজার কোটি কিলোমিটার।
নক্ষত্র আর ছায়াপথের দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটারে লিখলে সংখ্যা অসম্ভব বড় হয়ে যায়; তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানে আলোকবর্ষ ব্যবহার হয়। যেমন সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টাউরি প্রায় চার দশমিক দুই আলোকবর্ষ দূরে। আরও বড় একক পারসেক, যা প্রায় তিন দশমিক দুই ছয় আলোকবর্ষ।
নামে বর্ষ শব্দটা থাকায় অনেকে একে সময় ভেবে ফেলেন; এটাই এই প্রশ্নের মূল ফাঁদ।
মনে রাখুন: বেগ গুণ সময় = দূরত্ব; আলোর বেগ গুণ এক বছর, তাই দূরত্ব।
৯২. সূর্যের নিকটতম নক্ষত্রের নাম- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কভেলা
- খপ্রক্সিমা সেন্টাউরি
- গআলফা সেন্টাউরি A
- ঘআলফা সেন্টাউরি B
সঠিক উত্তর: খ. প্রক্সিমা সেন্টাউরি
প্রশ্নটি সূর্যের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর প্রক্সিমা সেন্টাউরি।
প্রক্সিমা সেন্টাউরি আমাদের থেকে প্রায় চার দশমিক দুই আলোকবর্ষ দূরে। এটি একটি ছোট, অনুজ্জ্বল লাল বামন নক্ষত্র, খালি চোখে দেখা যায় না। লাতিন প্রক্সিমা শব্দের অর্থই নিকটতম।
এটি আলফা সেন্টাউরি নামের তিন নক্ষত্রের ব্যবস্থার সদস্য। বাকি দুটি, আলফা সেন্টাউরি এ ও বি, একে অপরকে ঘিরে ঘোরে এবং প্রায় চার দশমিক তিন আলোকবর্ষ দূরে, অর্থাৎ প্রক্সিমার চেয়ে একটু বেশি দূরে। খালি চোখে এরা একসঙ্গে একটি উজ্জ্বল তারা হিসেবে দেখা যায়।
আলফা সেন্টাউরি এ বা বি অনেকে বেছে নেন, কারণ এরা একই ব্যবস্থার এবং অনেক উজ্জ্বল। কিন্তু সবচেয়ে কাছের সদস্য প্রক্সিমা। আর পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র জানতে চাইলে উত্তর হবে সূর্য।
মনে রাখুন: প্রক্সিমা মানে নিকটতম; নামের মধ্যেই উত্তর।
৯৩. ১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে কত শক্তি ব্যয় হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১০০ জুল
- খ৬০ জুল
- গ৬০০০ জুল
- ঘ৩৬০০০০ জুল
সঠিক উত্তর: ঘ. ৩৬০০০০ জুল
প্রশ্নটি ক্ষমতা আর শক্তির সম্পর্ক নিয়ে। একশো ওয়াটের বাল্ব এক ঘণ্টা জ্বললে খরচ হয় তিন লক্ষ ষাট হাজার জুল শক্তি।
ওয়াট হলো ক্ষমতার একক; এক ওয়াট মানে প্রতি সেকেন্ডে এক জুল শক্তি খরচ। তাই শক্তি সমান ক্ষমতা গুণ সময়, আর সময় নিতে হবে সেকেন্ডে।
এক ঘণ্টায় তিন হাজার ছয়শো সেকেন্ড। একশো গুণ তিন হাজার ছয়শো সমান তিন লক্ষ ষাট হাজার জুল। বিদ্যুৎ বিলের হিসাবে এটি শূন্য দশমিক এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা, মানে এক ইউনিটের দশ ভাগের এক ভাগ।
শুধু একশো জুল বেছে নিলে সময়টাই বাদ পড়ে, আর ছয় হাজার জুল আসে ঘণ্টাকে ভুল করে ষাট সেকেন্ড ধরলে।
মনে রাখুন: ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬ লক্ষ জুল; ১০০ ওয়াট এক ঘণ্টা = ০.১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩.৬ লক্ষ জুল।
৯৪. ইলেক্ট্রনিক বাল্ব-এর ফিলামেন্ট যারা দ্বারা তৈরি- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআয়রন
- খকার্বন
- গটাংস্টেন
- ঘলেড
সঠিক উত্তর: গ. টাংস্টেন
প্রশ্নে ইলেক্ট্রনিক বাল্ব বলতে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতি বোঝানো হয়েছে। এর ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি।
বাল্বের ফিলামেন্টে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে তার এত উত্তপ্ত হয় যে সাদা আলো দিতে শুরু করে। এ জন্য ফিলামেন্টের ধাতুকে প্রচণ্ড তাপেও না গলে টিকে থাকতে হয়। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক প্রায় তিন হাজার চারশো বাইশ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ধাতুগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
তামার তুলনায় টাংস্টেনের রোধ কয়েক গুণ বেশি, ফলে সরু ফিলামেন্টে অল্প জায়গায় বেশি তাপ তৈরি হয়। বাল্বের ভেতরে আর্গনের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস রাখা হয়, যাতে গরম ফিলামেন্ট অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পুড়ে না যায় এবং ধীরে বাষ্পীভূত হয়।
কার্বন বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ এডিসনের প্রথম দিকের বাল্বে কার্বন ফিলামেন্ট ছিল। কিন্তু তা ভঙ্গুর ও দ্রুত ক্ষয় হতো, তাই পরে টাংস্টেন এর জায়গা নেয়।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বেশি গলনাঙ্কের ধাতু টাংস্টেন, তাই বাল্বের ফিলামেন্ট।
৯৫. সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক০%
- খ১০ – ১৫%
- গ৩ – ৬%
- ঘ১০০%
সঠিক উত্তর: গ. ৩ – ৬%
প্রশ্নটি সালোকসংশ্লেষণের দক্ষতা নিয়ে। উদ্ভিদ যে সূর্যালোক পায়, তার মাত্র প্রায় তিন থেকে ছয় শতাংশ রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
কম হওয়ার কারণ কয়েকটি। সূর্যালোকের প্রায় অর্ধেক অংশই এমন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যা ক্লোরোফিল শোষণ করতে পারে না। যা শোষিত হয়, তারও একটা অংশ পাতার উপরিতল থেকে প্রতিফলিত হয় বা তাপ হিসেবে হারায়। আবার উদ্ভিদ নিজের শ্বসনেও কিছু শক্তি খরচ করে।
তিন থেকে ছয় শতাংশ হলো বাস্তবে উদ্ভিদের সর্বোচ্চ দক্ষতা। মাঠের সাধারণ ফসলে বাস্তবে দক্ষতা আরও কম, মোটামুটি এক থেকে দুই শতাংশ। তুলনায় ভালো সৌর প্যানেল এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দক্ষ।
শূন্য শতাংশ হলে উদ্ভিদ কোনো খাদ্যই তৈরি করতে পারত না, আর একশো শতাংশ কোনো রূপান্তর প্রক্রিয়াতেই সম্ভব নয়। দশ থেকে পনেরো শতাংশ শুনতে যুক্তিসংগত লাগলেও তা প্রকৃত মানের প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি।
মনে রাখুন: সালোকসংশ্লেষণের সর্বোচ্চ দক্ষতা ৩ থেকে ৬ শতাংশ; সাধারণ ফসলে ১ থেকে ২ শতাংশ।
৯৬. জারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅ্যানোডে
- খক্যাথোডে
- গঅ্যানোড এবং ক্যাথোড উভয়টিতে
- ঘবর্ণিত কোনটিতেই নয়
সঠিক উত্তর: ক. অ্যানোডে
প্রশ্নটি তড়িৎ রসায়নের একটি মূল নিয়ম নিয়ে: জারণ সবসময় অ্যানোডে ঘটে।
জারণ মানে ইলেকট্রন ত্যাগ, বিজারণ মানে ইলেকট্রন গ্রহণ। সংজ্ঞা অনুযায়ীই যে তড়িৎদ্বারে জারণ হয় তাকে অ্যানোড আর যেখানে বিজারণ হয় তাকে ক্যাথোড বলে। তাই কোষ যেমনই হোক, অ্যানোডে জারণ।
মজার ব্যাপার হলো চিহ্ন বদলায়, নিয়ম বদলায় না। তড়িৎ বিশ্লেষণ কোষে অ্যানোড ধনাত্মক, কারণ বাইরের ব্যাটারি সেখান থেকে ইলেকট্রন টেনে নেয়। আর ব্যাটারি বা গ্যালভানিক কোষে অ্যানোড ঋণাত্মক, কারণ সেখানে ধাতু নিজেই ইলেকট্রন ছেড়ে বাইরের তারে পাঠায়, যেমন দস্তা-তামার কোষে দস্তা। দুই ক্ষেত্রেই অ্যানোডে ইলেকট্রন ত্যাগ, অর্থাৎ জারণ।
ক্যাথোড বিকল্পটি উল্টো; সেখানে বিজারণ হয়। একই বিক্রিয়ার দুই অর্ধেক দুই তড়িৎদ্বারে ভাগ হয়ে যায়, তাই উভয়টিতে জারণ বলাও ভুল।
মনে রাখুন: চিহ্ন যা-ই হোক, অ্যানোডে জারণ আর ক্যাথোডে বিজারণ।
৯৭. পানির অণু একটি- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপ্যারাচুম্বক
- খডায়াচুম্বক
- গফেরোচুম্বক
- ঘঅ্যান্টিফেরোচুম্বক
সঠিক উত্তর: খ. ডায়াচুম্বক
প্রশ্নটি পদার্থের চৌম্বক ধর্ম নিয়ে। পানির অণু ডায়াচুম্বক।
কোনো পদার্থ চুম্বকের প্রতি কেমন আচরণ করবে তা নির্ভর করে অযুগ্ম ইলেকট্রনের ওপর। পানির অণুর সব ইলেকট্রন জোড়ায় জোড়ায় থাকে, জোড়ার দুই ইলেকট্রনের চুম্বকত্ব একে অপরকে বাতিল করে। বাইরের চৌম্বকক্ষেত্রে এমন পদার্থে সামান্য বিপরীতমুখী চুম্বকত্ব তৈরি হয়, ফলে চুম্বক একে খুব দুর্বলভাবে বিকর্ষণ করে; একেই বলে ডায়াচুম্বকত্ব।
প্রভাবটি দুর্বল, কিন্তু খুব শক্তিশালী চুম্বকে বোঝা যায়। উনিশশো সাতানব্বই সালে আন্দ্রে গেইমের দল জীবন্ত ব্যাঙকে চুম্বকক্ষেত্রে ভাসিয়ে দেখিয়েছিলেন, কারণ ব্যাঙের দেহের বেশিরভাগই পানি।
প্যারাচুম্বক পদার্থে অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকে, যেমন অক্সিজেন অণু বা অ্যালুমিনিয়াম; এরা চুম্বকের দিকে সামান্য আকৃষ্ট হয়। ফেরোচুম্বক যেমন লোহা প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়। পানিতে অক্সিজেন আছে বলে প্যারাচুম্বক ভাবাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: সব ইলেকট্রন জোড়বদ্ধ হলেই ডায়াচুম্বক; পানি, তামা, সোনা এই দলে।
৯৮. একটি আদর্শ তড়িৎ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ কত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কশূন্য
- খঅসীম
- গঅতিক্ষুদ্র
- ঘযে কোনো মান
সঠিক উত্তর: ক. শূন্য
প্রশ্নটি আদর্শ তড়িৎ উৎস নিয়ে। আদর্শ উৎস বলতে এখানে আদর্শ ভোল্টেজ উৎস বোঝানো হয়েছে, যার অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য।
বাস্তব ব্যাটারির ভেতরেও কিছু রোধ থাকে। প্রবাহ চললে এই রোধে কিছু ভোল্টেজ হারায়, তাই টার্মিনালে পাওয়া ভোল্টেজ সমান তড়িৎচালক বল বিয়োগ প্রবাহ গুণ অভ্যন্তরীণ রোধ। লোড বেশি টানলে ব্যাটারির ভোল্টেজ নেমে যায় এ কারণেই।
আদর্শ উৎস এমন একটি কল্পিত উৎস যা যতই প্রবাহ দিক, ভোল্টেজ একই থাকে। সেটা সম্ভব কেবল যদি অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য হয়, কারণ তখন বিয়োগ করার অংশটি শূন্য হয়ে যায়।
অসীম বিকল্পটি ফাঁদ: আদর্শ প্রবাহ উৎস বা কারেন্ট সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম ধরা হয়। অতিক্ষুদ্র রোধ ভালো বাস্তব উৎসের বৈশিষ্ট্য, আদর্শের নয়।
মনে রাখুন: আদর্শ ভোল্টেজ উৎস: রোধ শূন্য; আদর্শ কারেন্ট উৎস: রোধ অসীম।
৯৯. প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কহাইড্রোজেন
- খনাইট্রোজেন
- গমিথেন
- ঘইথেন
সঠিক উত্তর: গ. মিথেন
প্রশ্নটি আবার প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান জানতে চেয়েছে, এবার বিকল্পে ইথেনও আছে। উত্তর মিথেন।
প্রাকৃতিক গ্যাস হলো ছোট হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, যার সিংহভাগ মিথেন। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে বাংলাদেশের গ্যাসে গড়ে প্রায় ৯৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ মিথেন, আর ইথেন মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বিভিন্ন গ্যাসীয় জ্বালানির মূল উপাদান আলাদা করে মনে রাখা দরকার। গাড়ির সিএনজি হলো চাপে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস, তাই মিথেন। সিলিন্ডারের এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন। বায়োগ্যাসেও মিথেন প্রধান, সঙ্গে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড।
ইথেন বিকল্পটি এখানে ফাঁদ, কারণ ইথেন সত্যিই প্রাকৃতিক গ্যাসে থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে এবং খুব সামান্য পরিমাণে।
মনে রাখুন: প্রাকৃতিক গ্যাস, সিএনজি, বায়োগ্যাস: তিনটিতেই প্রধান মিথেন; এলপিজি আলাদা।
১০০. প্রোটিন তৈরি হয়- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কফ্যাটি এসিড দিয়ে
- খসাইট্রিক এসিড দিয়ে
- গঅ্যামিনো এসিড দিয়ে
- ঘঅক্সালিক এসিড দিয়ে
সঠিক উত্তর: গ. অ্যামিনো এসিড দিয়ে
প্রশ্নটি প্রোটিনের গঠন একক নিয়ে, এবার বিকল্পে চারটিই এসিড। প্রোটিন তৈরি হয় অ্যামিনো এসিড দিয়ে।
দেহের বড় জৈব অণুগুলো ছোট ছোট এককের শিকল। প্রোটিনের একক অ্যামিনো এসিড, যা পেপটাইড বন্ধনে একটার পর একটা জুড়ে যায়। শ্বেতসারের একক গ্লুকোজ, চর্বির একক ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল, আর নিউক্লিক এসিডের একক নিউক্লিওটাইড।
অন্য দুটি এসিড আমাদের পরিচিত হলেও প্রোটিনের একক নয়। সাইট্রিক এসিড লেবু ও কমলার টক স্বাদের কারণ, আবার কোষের শ্বসনে ক্রেবস চক্রের একটি ধাপেও থাকে। অক্সালিক এসিড পালং শাকসহ কিছু সবজিতে থাকে, আর এর লবণ ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনির পাথরের সাধারণ উপাদান।
ফ্যাটি এসিড বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ এটিও একটি পুষ্টি উপাদানের একক, তবে চর্বির, প্রোটিনের নয়।
মনে রাখুন: প্রোটিন মানেই অ্যামিনো এসিড; বিকল্পে অন্য যত এসিডই থাকুক।