সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ৬
১০১. কোভিড-১৯ যে ধরনের ভাইরাস- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কDNA
- খDNA + RNA
- গmRNA
- ঘRNA
সঠিক উত্তর: ঘ. RNA
প্রশ্নটি কোভিড-উনিশের ভাইরাসের ধরন নিয়ে। কোভিড-উনিশের জন্য দায়ী সার্স-কোভ-টু একটি আরএনএ ভাইরাস।
ভাইরাসের বংশগত উপাদান হয় ডিএনএ, নয়তো আরএনএ, একসঙ্গে দুটো নয়। সার্স-কোভ-টু করোনাভাইরাস পরিবারের সদস্য, এর বংশগত উপাদান একসূত্রক আরএনএ। আরএনএ ভাইরাসে প্রতিলিপি তৈরির সময় ভুল বেশি হয়, তাই এদের নতুন নতুন ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত তৈরি হয়, যেমন ডেল্টা ও অমিক্রন।
এমআরএনএ বিকল্পটি ফাঁদ। এমআরএনএ হলো টিকার প্রযুক্তি: ফাইজার ও মডার্নার টিকায় ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরির নির্দেশ এমআরএনএ আকারে দেওয়া হয়। এটি ভাইরাসের শ্রেণি নয়।
ডিএনএ ভাইরাসের উদাহরণ গুটিবসন্ত ও হেপাটাইটিস-বি; আরএনএ ভাইরাসের উদাহরণ কোভিড-উনিশ, ডেঙ্গু ও পোলিও।
মনে রাখুন: করোনা, ডেঙ্গু, পোলিও, এইচআইভি: সব RNA ভাইরাস।
১০২. হৃদযন্ত্রের সংকোচন হওয়াকে বলা হয়- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কডায়াস্টল
- খসিস্টল
- গডায়াসিস্টল
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. সিস্টল
প্রশ্নটি হৃৎচক্রের পরিভাষা নিয়ে। হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে বলে সিস্টোল।
হৃৎপিণ্ড প্রতিটি স্পন্দনে একবার সংকুচিত হয়, একবার প্রসারিত হয়। সংকোচন বা সিস্টোলের সময় প্রকোষ্ঠ চেপে রক্ত বের করে দেয়, নিলয়ের সিস্টোলে রক্ত ধমনিতে যায়। প্রসারণ বা ডায়াস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ড ঢিলে হয় আর শিরা থেকে রক্তে ভরে ওঠে।
রক্তচাপের দুটি সংখ্যাও এখান থেকে আসে। স্বাভাবিক রক্তচাপ একশো বিশ বাই আশি বলতে বোঝায়, সিস্টোলের সময় চাপ একশো বিশ আর ডায়াস্টোলের সময় আশি মিলিমিটার পারদ।
ডায়াস্টোল এর ঠিক উল্টো, প্রসারণ। ডায়াসিস্টল নামে কোনো পরিভাষা নেই; দুটি শব্দ মিলিয়ে বানানো বিকল্পটি বিভ্রান্ত করার জন্য।
মনে রাখুন: রক্তচাপ ১২০ বাই ৮০: উপরেরটা সিস্টোলিক, নিচেরটা ডায়াস্টোলিক।
১০৩. নিম্নের কোন রোগটি DNA ভাইরাসঘটিত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কডেঙ্গুজ্বর
- খস্মলপক্স
- গকোভিড-১৯
- ঘপোলিও
সঠিক উত্তর: খ. স্মলপক্স
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন রোগ ডিএনএ ভাইরাসের কারণে হয়। উত্তর স্মলপক্স বা গুটিবসন্ত।
গুটিবসন্তের কারণ ভ্যারিওলা ভাইরাস, যা পক্স পরিবারের একটি বড় দ্বিসূত্রক ডিএনএ ভাইরাস। অন্য তিনটি রোগ, অর্থাৎ ডেঙ্গু, কোভিড-উনিশ ও পোলিও, সবই আরএনএ ভাইরাসের কারণে হয়।
গুটিবসন্ত মানুষের ইতিহাসে একমাত্র রোগ যা টিকার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে। সতেরোশো ছিয়ানব্বই সালে এডওয়ার্ড জেনার এর প্রথম টিকা উদ্ভাবন করেন, আর উনিশশো আশি সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে নির্মূল ঘোষণা করে। প্রাকৃতিকভাবে সংক্রমিত শেষ গুরুতর রোগী ছিল বাংলাদেশের ভোলার শিশু রহিমা বানু, উনিশশো পঁচাত্তর সালে।
কোভিড-উনিশ নতুন ও বহুল আলোচিত বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু এটি আরএনএ ভাইরাস।
মনে রাখুন: পক্স জাতীয় ভাইরাস, হার্পিস, হেপাটাইটিস-বি: DNA; বেশিরভাগ পরিচিত মহামারি ভাইরাস RNA।
১০৪. AC কে DC করার যন্ত্র- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- করেকটিফায়ার
- খঅ্যামপ্লিফায়ার
- গট্রানজিস্টর
- ঘডায়োড
সঠিক উত্তর: ক. রেকটিফায়ার
প্রশ্নটি পর্যায়বৃত্ত প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তরের যন্ত্রের নাম জানতে চেয়েছে। সেই যন্ত্র রেকটিফায়ার, বাংলায় একমুখীকারক।
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা এসি-তে প্রবাহের দিক বারবার উল্টে যায়; বাংলাদেশের বিদ্যুৎ লাইনে এটি সেকেন্ডে পঞ্চাশ বার পূর্ণ চক্র ঘোরে। কিন্তু মোবাইল, ল্যাপটপ বা ব্যাটারি চার্জ করতে লাগে একমুখী প্রবাহ বা ডিসি। রেকটিফায়ার এই কাজটা করে।
রেকটিফায়ারের ভেতরে মূল উপাদান হলো ডায়োড, যা প্রবাহকে শুধু এক দিকে যেতে দেয়। চারটি ডায়োড সাজিয়ে ব্রিজ রেকটিফায়ার বানানো হয়। উল্টো কাজ, অর্থাৎ একমুখী থেকে পর্যায়বৃত্ত করে ইনভার্টার, যেমন আইপিএস।
ডায়োড বিকল্পটি এখানে ফাঁদ। ডায়োড হলো একটি উপাদান, আর তা দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ রূপান্তর যন্ত্রের নাম রেকটিফায়ার।
মনে রাখুন: এসি থেকে ডিসি রেকটিফায়ার, ডিসি থেকে এসি ইনভার্টার।
১০৫. বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কলাউড স্পিকার
- খঅ্যামপ্লিফায়ার
- গজেনারেটর
- ঘমাল্টিমিটার
সঠিক উত্তর: ক. লাউড স্পিকার
প্রশ্নটি শক্তির রূপান্তর নিয়ে। বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে লাউডস্পিকার।
লাউডস্পিকারের ভেতরে একটি স্থায়ী চুম্বকের ক্ষেত্রে একটি তারের কুণ্ডলী থাকে, যা একটি পাতলা পর্দা বা কোণের সঙ্গে যুক্ত। কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ সংকেত গেলে চুম্বক বল তাকে সামনে-পেছনে কাঁপায়। পর্দাও কাঁপে, বাতাসে চাপের তরঙ্গ তৈরি হয়, আর সেটাই আমরা শব্দ হিসেবে শুনি।
মাইক্রোফোন ঠিক উল্টো কাজ করে: শব্দের কম্পনকে বিদ্যুৎ সংকেতে বদলায়। জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে আর মোটর বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
অ্যামপ্লিফায়ারকে অনেকে বেছে নেন, কারণ শব্দযন্ত্রে এটা থাকে। কিন্তু অ্যামপ্লিফায়ার শুধু বিদ্যুৎ সংকেতকে বড় করে, শব্দ তৈরি করে লাউডস্পিকার।
মনে রাখুন: মাইক্রোফোন শোনে, লাউডস্পিকার শোনায়।
১০৬. বাতাসের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কমাইকোমিটার
- খহাইগ্রোমিটার
- গব্যারোমিটার
- ঘগ্রাভিমিটার
সঠিক উত্তর: খ. হাইগ্রোমিটার
প্রশ্নটি পরিমাপক যন্ত্রের নাম নিয়ে। বাতাসের আর্দ্রতা, অর্থাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ মাপা হয় হাইগ্রোমিটার দিয়ে।
নামের শব্দমূল থেকেই কাজ বোঝা যায়। গ্রিক হাইগ্রোস মানে ভেজা বা আর্দ্র, আর মিটার মানে মাপক। একইভাবে ব্যারো মানে ভার বা চাপ, তাই ব্যারোমিটার বায়ুচাপ মাপে; গ্রাভি এসেছে অভিকর্ষ থেকে, তাই গ্রাভিমিটার অভিকর্ষ মাপে।
আবহাওয়া অফিসে আর্দ্রতা মাপার একটি প্রচলিত হাইগ্রোমিটার হলো ভেজা ও শুকনো বাল্বের থার্মোমিটার। ভেজা বাল্ব থেকে পানি বাষ্প হয়ে তাপ কমায়; বাতাস যত শুকনো, দুই থার্মোমিটারের পাঠে পার্থক্য তত বেশি।
মূল প্রশ্নপত্রেই বিকল্পটি মাইকোমিটার ছাপা হয়েছিল; এ নামে কোনো যন্ত্র নেই, সম্ভবত মাইক্রোমিটার বোঝানো হয়েছে, যা দিয়ে তারের ব্যাস বা পাতের পুরুত্বের মতো খুব ছোট দৈর্ঘ্য মাপা হয়।
মনে রাখুন: হাইগ্রো আর্দ্রতা, ব্যারো চাপ, থার্মো তাপ।
১০৭. একটি বাল্বে ”60 W- 220 V” লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম ( Ohm) ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক16.36
- খ160
- গ280
- ঘ806.67
সঠিক উত্তর: ঘ. 806.67
প্রশ্নটি বাল্বের গায়ের লেখা থেকে রোধ বের করতে বলেছে। ষাট ওয়াট দুইশো বিশ ভোল্ট মানে, দুইশো বিশ ভোল্টে চালালে বাল্বটি ষাট ওয়াট ক্ষমতা খরচ করে।
ক্ষমতা, ভোল্টেজ আর রোধের সম্পর্ক হলো: ক্ষমতা সমান ভোল্টেজের বর্গ ভাগ রোধ। তাই রোধ সমান ভোল্টেজের বর্গ ভাগ ক্ষমতা।
দুইশো বিশের বর্গ ৪৮৪০০। একে ষাট দিয়ে ভাগ করলে পাই প্রায় ৮০৬ দশমিক ৬৭ ওহম। এই সূত্রটা আসে দুটো সূত্র মিলিয়ে: ক্ষমতা সমান ভোল্টেজ গুণ প্রবাহ, আর ওহমের সূত্রে প্রবাহ সমান ভোল্টেজ ভাগ রোধ।
ভোল্টেজ আর ক্ষমতা জায়গা বদল করে ফেললে, মানে ষাটের বর্গকে দুইশো বিশ দিয়ে ভাগ করলে আসে ১৬ দশমিক ৩৬; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: বাল্বের রোধ = (ভোল্ট)² ÷ ওয়াট। ২২০ ভোল্টের বাল্বে ৪৮৪০০ কে ওয়াট দিয়ে ভাগ করলেই হয়।
১০৮. নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উৎস- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কতেল
- খগ্যাস
- গকয়লা
- ঘবায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর: ঘ. বায়োগ্যাস
প্রশ্নটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি চিনতে বলেছে। উত্তর বায়োগ্যাস।
বায়োগ্যাস তৈরি হয় গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট বা পচনশীল জৈব বর্জ্য থেকে। বায়ুরোধী ডাইজেস্টারের ভেতরে অক্সিজেন ছাড়া ব্যাকটেরিয়া এসব ভেঙে মিথেন-প্রধান গ্যাস তৈরি করে, সঙ্গে থাকে কার্বন ডাই-অক্সাইড। যতদিন গবাদিপশু ও জৈব বর্জ্য আছে, ততদিন নতুন করে বায়োগ্যাস বানানো যায়; তাই এটি নবায়নযোগ্য।
ডাইজেস্টার থেকে যে তলানি বের হয়, তা ভালো জৈব সার। তাই গ্রামে বায়োগ্যাস একসঙ্গে রান্নার জ্বালানি আর জমির সার দুটোই দেয়।
তেল, গ্যাস ও কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি, লক্ষ লক্ষ বছরে তৈরি, তাই অনবায়নযোগ্য। প্রাকৃতিক গ্যাস আর বায়োগ্যাস দুটোরই মূল উপাদান মিথেন, তবু উৎসের কারণে একটি অনবায়নযোগ্য, অন্যটি নবায়নযোগ্য।
মনে রাখুন: জ্বালানির নামের আগে ‘বায়ো’ থাকলে বুঝবেন উৎস জীবন্ত, তাই নবায়নযোগ্য।
১০৯. কার্বোহাইড্রেট C, H এবং O- এর অনুপাত কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১: ১ : ২
- খ১ : ২ : ১
- গ১ : ৩ : ২
- ঘ১ : ৩ : ১
সঠিক উত্তর: খ. ১ : ২ : ১
প্রশ্নটি কার্বোহাইড্রেটের অণুতে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণুর অনুপাত জানতে চেয়েছে। উত্তর এক অনুপাত দুই অনুপাত এক।
কার্বোহাইড্রেট নামটাই সূত্র বলে দেয়: কার্বনের হাইড্রেট, অর্থাৎ প্রতিটি কার্বনের সঙ্গে যেন এক অণু পানি। পানিতে হাইড্রোজেন দুটি, অক্সিজেন একটি; তাই প্রতি একটি কার্বনে দুটি হাইড্রোজেন আর একটি অক্সিজেন।
উদাহরণ গ্লুকোজ: এতে ছয়টি কার্বন, বারোটি হাইড্রোজেন আর ছয়টি অক্সিজেন। ছয় দিয়ে ভাগ করলে অনুপাত দাঁড়ায় এক, দুই, এক।
এক, এক, দুই বিকল্পে সংখ্যাগুলো ঠিক আছে কিন্তু ক্রম উল্টো; অনুপাতের প্রশ্নে ক্রমটা খেয়াল না করাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের অনুপাত সবসময় পানির মতো ২ : ১; কার্বন অক্সিজেনের সমান।
১১০. সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কCH2COONa
- খ(CH3COO)2Ca
- গCH3COONa
- ঘCHCOONa
সঠিক উত্তর: গ. CH3COONa
প্রশ্নটি সোডিয়াম অ্যাসিটেটের সংকেত জানতে চেয়েছে। সঠিক সংকেত, পড়লে দাঁড়ায় সি এইচ থ্রি সি ও ও এন এ।
সোডিয়াম অ্যাসিটেট হলো অ্যাসিটিক এসিড বা ভিনেগারের এসিডের সোডিয়াম লবণ। অ্যাসিটিক এসিডে একটি মিথাইল গ্রুপ, যাতে এক কার্বনে তিনটি হাইড্রোজেন, আর একটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে। কার্বক্সিল গ্রুপের প্রতিস্থাপনযোগ্য হাইড্রোজেনটির জায়গায় সোডিয়াম বসলেই সোডিয়াম অ্যাসিটেট।
যেমন অ্যাসিটিক এসিড সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করলে তৈরি হয় সোডিয়াম অ্যাসিটেট ও পানি। এটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া।
সোডিয়াম একযোজী, তাই একটি অ্যাসিটেট আয়নের সঙ্গে একটি সোডিয়াম যুক্ত হয়। দুটি অ্যাসিটেটের সঙ্গে একটি ক্যালসিয়াম থাকা বিকল্পটি আসলে ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট; ক্যালসিয়াম দ্বিযোজী বলে সেখানে দুটি অ্যাসিটেট লাগে।
মনে রাখুন: অ্যাসিটেট আয়ন = CH₃COO⁻; যে ধাতু বসবে তার যোজনী অনুযায়ী অ্যাসিটেটের সংখ্যা।
১১১. ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কি ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কআইসোটোন
- খআইসোটোপ
- গআইসোবার
- ঘআইসোমার
সঠিক উত্তর: খ. আইসোটোপ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ক্যান্সার চিকিৎসার গামা রশ্মি কোথা থেকে আসে। উত্তর তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, বিশেষ করে কোবাল্ট-ষাট।
আইসোটোপ হলো একই মৌলের এমন পরমাণু, যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা আলাদা, ফলে ভরসংখ্যাও আলাদা। কোবাল্টের স্থিতিশীল রূপ কোবাল্ট-ঊনষাট; নিউক্লিয়াসে আরেকটি নিউট্রন বেশি থাকা কোবাল্ট-ষাট অস্থিতিশীল, ভেঙে যাওয়ার সময় শক্তিশালী গামা রশ্মি ছাড়ে।
এই গামা রশ্মি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ ভেঙে দেয়, ফলে কোষ আর বিভাজিত হতে পারে না; একে বলে রেডিওথেরাপি। কোবাল্ট-ষাটের অর্ধায়ু প্রায় সোয়া পাঁচ বছর। একইভাবে থাইরয়েড রোগে আয়োডিন-একশো একত্রিশ আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
আইসোটোন, আইসোবার, আইসোমার নামগুলো শুনতে কাছাকাছি বলে গুলিয়ে যায়। মনে রাখুন: আইসোটোপে প্রোটন সমান, আইসোবারে ভরসংখ্যা সমান, আইসোটোনে নিউট্রন সমান।
মনে রাখুন: চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয়তার প্রশ্ন এলে উত্তর প্রায় সবসময় আইসোটোপ: ক্যান্সারে কোবাল্ট-৬০, থাইরয়েডে আয়োডিন-১৩১।
১১২. খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঅক্সিজেন
- খকার্বন ডাই-অক্সাইড
- গনাইট্রোজেন
- ঘজলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর: খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
প্রশ্নটি সালোকসংশ্লেষণ নিয়ে। খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে নেয় কার্বন ডাই-অক্সাইড।
সালোকসংশ্লেষণে পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকে, আর মূল দিয়ে আসে মাটির পানি। ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে সেই শক্তিতে এ দুটি থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়।
হিসাবটি এমন: ছয় অণু কার্বন ডাই-অক্সাইড আর ছয় অণু পানি মিলে তৈরি হয় এক অণু গ্লুকোজ আর ছয় অণু অক্সিজেন। গ্লুকোজের কার্বন পুরোটাই আসে বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে।
অক্সিজেন বিকল্পটি ফাঁদ। উদ্ভিদ শ্বসনের জন্য অক্সিজেন নেয় ঠিকই, কিন্তু খাদ্য তৈরির সময় অক্সিজেন তৈরি করে ছেড়ে দেয়। বাতাসের নাইট্রোজেন উদ্ভিদ সরাসরি নিতে পারে না।
মনে রাখুন: খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ নেয় কার্বন ডাই-অক্সাইড, দেয় অক্সিজেন; শ্বসনে ঠিক উল্টো।
১১৩. ³⁵₁₇Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক17
- খ18
- গ35
- ঘ70
সঠিক উত্তর: খ. 18
প্রশ্নটি ক্লোরিন-পঁয়ত্রিশ পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা জানতে চেয়েছে। উত্তর আঠারো।
মৌলের প্রতীকের ওপরে লেখা থাকে ভরসংখ্যা, নিচে পারমাণবিক সংখ্যা। ভরসংখ্যা হলো নিউক্লিয়াসের প্রোটন আর নিউট্রনের মোট সংখ্যা, আর পারমাণবিক সংখ্যা হলো শুধু প্রোটনের সংখ্যা।
তাই নিউট্রন সংখ্যা সমান ভরসংখ্যা বিয়োগ পারমাণবিক সংখ্যা। এখানে পঁয়ত্রিশ বিয়োগ সতেরো, অর্থাৎ আঠারো। নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রনও প্রোটনের সমান, সতেরোটি, যা দুই, আট, সাত করে কক্ষপথে সাজানো।
সতেরো বেছে নিলে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা বলা হয়, আর পঁয়ত্রিশ বেছে নিলে ভরসংখ্যা। প্রশ্ন কোন কণার সংখ্যা চেয়েছে, সেটা খেয়াল রাখুন।
মনে রাখুন: নিউট্রন = উপরের সংখ্যা − নিচের সংখ্যা।
১১৪. কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঘনীভবন
- খবাষ্পীভবন
- গগলনাংক
- ঘস্ফুটনাংক
সঠিক উত্তর: গ. গলনাংক
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা কোন ধর্ম দিয়ে যাচাই করা হয়। উত্তর গলনাঙ্ক।
প্রতিটি বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ, তীক্ষ্ণভাবে গলে যায়। কিন্তু তাতে অপদ্রব্য মিশে থাকলে কেলাসের নিয়মিত সাজানো গঠন বিঘ্নিত হয়, ফলে পদার্থটি তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং একটি তাপমাত্রার পরিসর জুড়ে ধীরে গলে।
তাই পরীক্ষাগারে নমুনার গলনাঙ্ক মেপে বইয়ে দেওয়া মানের সঙ্গে মেলানো হয়। মিললে আর তীক্ষ্ণ হলে পদার্থ বিশুদ্ধ, কম বা ছড়ানো হলে অবিশুদ্ধ।
স্ফুটনাঙ্ক দিয়েও বিশুদ্ধতা যাচাই হয়, তবে সেটা তরলের ক্ষেত্রে; প্রশ্নে কঠিন পদার্থ বলা হয়েছে বলে স্ফুটনাঙ্ক ফাঁদ। ঘনীভবন ও বাষ্পীভবন অবস্থার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পরীক্ষা নয়।
মনে রাখুন: কঠিনের বিশুদ্ধতা গলনাঙ্কে, তরলের বিশুদ্ধতা স্ফুটনাঙ্কে।
১১৫. অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কজারণ
- খবিজারণ
- গপ্রশমন
- ঘপানি যোজন
সঠিক উত্তর: ক. জারণ
প্রশ্নটি তড়িৎদ্বারে কোন বিক্রিয়া ঘটে তা নিয়ে। অ্যানোডে ঘটে জারণ।
জারণ মানে ইলেকট্রন ত্যাগ, বিজারণ মানে ইলেকট্রন গ্রহণ। তড়িৎ বিশ্লেষণে অ্যানোড হলো ধনাত্মক তড়িৎদ্বার; ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন সেখানে গিয়ে নিজের বাড়তি ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়, তাই অ্যানোডে জারণ হয়।
উদাহরণ: গলিত সোডিয়াম ক্লোরাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্লোরাইড আয়ন অ্যানোডে ইলেকট্রন ছেড়ে ক্লোরিন গ্যাস হয়, এটি জারণ। একই সময় ক্যাথোডে সোডিয়াম আয়ন ইলেকট্রন নিয়ে সোডিয়াম ধাতু হয়, এটি বিজারণ।
বিজারণ বিকল্পটি ক্যাথোডের বিক্রিয়া, অ্যানোডের নয়। প্রশমন ও পানি যোজন তড়িৎদ্বারের বিক্রিয়াই নয়।
মনে রাখুন: অ্যানোডে জারণ, ক্যাথোডে বিজারণ; ইংরেজিতে মনে রাখার ছড়া AN OX, RED CAT।
১১৬. কোথায় সাঁতার কাটা সহজ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপুকুরে
- খখালে
- গনদীতে
- ঘসাগরে
সঠিক উত্তর: ঘ. সাগরে
প্রশ্নটি প্লবতা নিয়ে। সাঁতার কাটা সবচেয়ে সহজ সাগরে।
আর্কিমিডিসের নীতি অনুযায়ী, কোনো বস্তু তরলে ডুবলে তার ওপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল কাজ করে, যা বস্তুটি যতটুকু তরল সরায় তার ওজনের সমান। একে প্লবতা বলে। তরলের ঘনত্ব যত বেশি, একই আয়তনের তরলের ওজন তত বেশি, তাই প্লবতাও তত বেশি।
সাগরের পানিতে প্রচুর লবণ দ্রবীভূত থাকে, তাই এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ১০২৫ কিলোগ্রাম, যেখানে মিঠা পানির ঘনত্ব প্রায় ১০০০ কিলোগ্রাম। বেশি প্লবতা শরীরকে ভাসিয়ে রাখে, ফলে সাঁতারে কম পরিশ্রম লাগে। মৃত সাগরের পানি এত লবণাক্ত যে মানুষ সেখানে না সাঁতরেই ভেসে থাকতে পারে।
পুকুর, খাল আর নদীর পানি তিনটিই মিঠা পানি, ঘনত্ব প্রায় সমান। নদীতে স্রোত থাকায় সাঁতার আরও কঠিন হতে পারে।
মনে রাখুন: যে পানিতে লবণ বেশি, সেখানে ভাসা সহজ।
১১৭. ডিমে কোন ভিটামিন নেই? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কভিটামিন -এ
- খভিটামিন-বি
- গভিটামিন-সি
- ঘভিটামিন-ডি
সঠিক উত্তর: গ. ভিটামিন-সি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ডিমে কোন ভিটামিন নেই। উত্তর ভিটামিন সি।
ডিম পুষ্টিকর খাবার: এতে উন্নত মানের প্রোটিন আছে, কুসুমে আছে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এ ও ডি, আর ডিমে ভিটামিন বি-এর কয়েকটি রূপ, যেমন রিবোফ্লেভিন ও বি-বারো আছে। ভিটামিন ডি খুব কম খাবারে প্রাকৃতিকভাবে থাকে, ডিমের কুসুম তাদের একটি।
কিন্তু মার্কিন কৃষি বিভাগের পুষ্টি তালিকায় ডিমে ভিটামিন সি-র পরিমাণ শূন্য। ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় এবং মূলত টক ফল ও শাকসবজিতে থাকে, যেমন আমলকী, পেয়ারা, লেবু ও কমলা। এর অভাবে স্কার্ভি হয়, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে।
এ ধরনের প্রশ্নে মনে রাখার মতো আরেকটি তথ্য: দুধেও ভিটামিন সি ও লোহা খুব কম থাকে। প্রাণিজ খাবারকে ভিটামিন সি-র উৎস ভাবাই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: প্রাণিজ খাবার, যেমন ডিম ও দুধে ভিটামিন সি প্রায় থাকে না।
১১৮. কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কক্রোমোপ্লাস্ট
- খক্লোরোপ্লাস্ট
- গক্রোমাটোপ্লাস্ট
- ঘলিউকোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর: ক. ক্রোমোপ্লাস্ট
প্রশ্নটি উদ্ভিদকোষের প্লাস্টিড নিয়ে। ফুল রঙিন ও সুন্দর হয় ক্রোমোপ্লাস্টের জন্য।
প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষের একটি অঙ্গাণু, রং অনুযায়ী এর তিন ধরন। ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এটি সবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণ করে। ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের মতো রঞ্জক থাকে, তাই এটি হলুদ, কমলা বা লাল। লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন, খাদ্য জমা রাখে, যেমন আলুতে শ্বেতসার।
ক্রোমোপ্লাস্টের রঙিন ফুল পোকামাকড় আকর্ষণ করে, যা পরাগায়নে সাহায্য করে। পাকা টমেটো বা গাজরের রংও ক্রোমোপ্লাস্ট থেকে আসে। তবে নীল ও বেগুনি রং সাধারণত কোষগহ্বরের অ্যান্থোসায়ানিন থেকে আসে, প্লাস্টিড থেকে নয়।
ক্রোমাটোপ্লাস্ট নামে কোনো প্লাস্টিড নেই; ক্রোমাটিন আর ক্রোমোপ্লাস্ট মিলিয়ে বানানো এই শব্দটিই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: ক্রোমো মানে রং, ক্লোরো মানে সবুজ, লিউকো মানে সাদা।
১১৯. রাস্তা সমান করার রোলার সরাবার জন্য সহজ হবে , যদি রোলারকে – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঠেলে নিয়ে যাওয়া যায়
- খটেনে নিয়ে যাওয়া যায়
- গতুলে নিয়ে যাওয়া যায়
- ঘসমান সহজ হয়
সঠিক উত্তর: খ. টেনে নিয়ে যাওয়া যায়
প্রশ্নটি ঘর্ষণ আর বলের উপাংশ নিয়ে। রোলার ঠেলার চেয়ে টেনে নেওয়া সহজ।
রোলারের হাতল সাধারণত তির্যকভাবে ধরা হয়। ঠেলার সময় হাতের বল সামনের দিকে আর নিচের দিকে, দুই দিকেই কাজ করে। নিচের দিকের অংশটা রোলারের ওজনের সঙ্গে যোগ হয়ে মাটির ওপর চাপ বাড়ায়, ফলে ঘর্ষণও বাড়ে।
টানার সময় হাতল ওপরের দিকে থাকে, তাই বলের একটা অংশ রোলারকে ওপরে তোলে। এতে মাটির ওপর চাপ কমে, ঘর্ষণ কমে, আর সামনে নিতে কম বল লাগে। ঘর্ষণ বল মাটির ওপরের লম্ব চাপের সমানুপাতিক, এটাই মূল কথা।
সমান সহজ বিকল্পটি ফাঁদ; শুধু সামনের দিকের বল বিবেচনা করলে এমন মনে হয়, কিন্তু উল্লম্ব অংশটি ঘর্ষণ বদলে দেয়। পুরো রোলার তুলে নিতে হলে তো পুরো ওজনই তুলতে হবে, সেটা সবচেয়ে কঠিন।
মনে রাখুন: ঠেলায় ওজন বাড়ে, টানায় ওজন কমে; তাই লন মোয়ার বা রোলার টানা সহজ।
১২০. কোন গ্যাসটি “ড্রাই আইস” তৈরিতে ব্যবহার করা হয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কঅক্সিজেন
- খকার্ব ডাই-অক্সাইড
- গসালফার ডাই-অক্সাই
- ঘনাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর: খ. কার্ব ডাই-অক্সাইড
প্রশ্নটা ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ কী দিয়ে তৈরি তা জানতে চেয়েছে। ড্রাই আইস হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড।
সাধারণ বায়ুচাপে কার্বন ডাই-অক্সাইড তরল হয় না। কঠিন অবস্থা থেকে এটি সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, যাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে; এটি ঘটে প্রায় মাইনাস আটাত্তর দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
গলে পানি না হয়ে গ্যাস হয়ে উড়ে যায় বলে এটি শুকনো থাকে, তাই নাম ড্রাই আইস। এজন্য খাদ্য ও ওষুধ হিমায়িত রাখতে এবং মঞ্চে ধোঁয়ার মতো কুয়াশা তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
অক্সিজেন, সালফার ডাই-অক্সাইড বা নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড দিয়ে ড্রাই আইস হয় না। শেষ দুটি বিষাক্ত দূষক গ্যাস, হিমায়নের কাজের উপযুক্ত নয়।
মনে রাখুন: ড্রাই আইস মানেই কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড, আর ঊর্ধ্বপাতন।