সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ৪
৬১. আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৩৩
- খ৩৮
- গ৩৬
- ঘ৪৪
সঠিক উত্তর: ক. ৩৩
প্রশ্নটি আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা জানতে চাইছে। পারমাণবিক সংখ্যা মানে নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা, আর নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রনের সংখ্যাও তাই। আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩।
আর্সেনিকের ইলেকট্রন বিন্যাস খোলস অনুযায়ী দুই, আট, আঠারো ও পাঁচ; যোগ করলে ৩৩। বাইরের খোলসে পাঁচটি ইলেকট্রন থাকায় এটি নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো গ্রুপ ১৫-এ, চতুর্থ পর্যায়ে বসে।
আর্সেনিক একটি অর্ধধাতু বা ধাতুকল্প। বাংলাদেশের অনেক এলাকার নলকূপের ভূগর্ভস্থ পানিতে এর বিষাক্ত মাত্রা পাওয়া যায়, যা চামড়ায় ক্ষত ও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে; তাই প্রশ্নটি দেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য সংখ্যাগুলো আলাদা মৌলের: ৩৬ ক্রিপ্টন, ৩৮ স্ট্রনশিয়াম, ৪৪ রুথেনিয়াম।
মনে রাখুন: আর্সেনিক ৩৩, ঠিক ফসফরাসের নিচে গ্রুপ ১৫-এ।
৬২. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কট্যাকোমিটার
- খঅ্যালটিমিটার
- গওডোমিটার
- ঘঅডিওমিটার
সঠিক উত্তর: ক. ট্যাকোমিটার
প্রশ্নটি বিভিন্ন মাপযন্ত্রের নাম ও কাজ মেলানোর দক্ষতা যাচাই করছে। প্রচলিত উত্তরমালায় উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র হিসেবে ট্যাকোমিটার ধরা হয়।
ট্যাকোমিটার মূলত ঘূর্ণন গতি মাপে, অর্থাৎ ইঞ্জিন বা প্রপেলার মিনিটে কতবার ঘুরছে। উড়োজাহাজের ককপিটেও ইঞ্জিনের ঘূর্ণন দেখাতে ট্যাকোমিটার থাকে। এই কারণেই বইয়ে গতির সঙ্গে ট্যাকোমিটারের নাম যুক্ত হয়েছে।
অন্য তিনটি যন্ত্রের কাজ একেবারে আলাদা। অল্টিমিটার উচ্চতা মাপে, ওডোমিটার গাড়ি কত দূরত্ব পার হলো তা মাপে, আর অডিওমিটার মানুষের শ্রবণক্ষমতা পরীক্ষা করে।
ফাঁদ হলো অল্টিমিটার, কারণ এটিও উড়োজাহাজের পরিচিত যন্ত্র। কিন্তু অল্টিমিটার উচ্চতা মাপে, গতি নয়। কড়া অর্থে বাতাসের সাপেক্ষে বিমানের বেগ মাপে এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটর, যা বিকল্পে নেই।
মনে রাখুন: ট্যাকো গতি, অল্টি উচ্চতা, ওডো দূরত্ব, অডিও শব্দ বা শ্রবণ।
৬৩. টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় – (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করেডিও ওয়েভ
- খঅবলোহিত রশ্মি
- গআলট্রা ভায়োলেট
- ঘদৃশ্যমান রশ্মি
সঠিক উত্তর: ক. রেডিও ওয়েভ
প্রশ্নটি টেলিভিশন সম্প্রচারে কোন ধরনের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় তা জানতে চাইছে। উত্তর রেডিও তরঙ্গ।
টেলিভিশন কেন্দ্র ছবি ও শব্দের সংকেত রেডিও তরঙ্গের ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ও আল্ট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সি অংশে পাঠায়। রেডিও তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দীর্ঘ, তাই এটি দেয়াল ও বাতাস পেরিয়ে অনেক দূরের অ্যান্টেনায় পৌঁছাতে পারে।
তড়িৎচৌম্বক বর্ণালিতে দীর্ঘ থেকে খাটো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম হলো রেডিও, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, এক্সরে ও গামা রশ্মি। সম্প্রচারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী দীর্ঘ তরঙ্গের রেডিও অংশ।
ফাঁদ হলো অবলোহিত রশ্মি, কারণ টিভির রিমোট কন্ট্রোলে এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রিমোট শুধু কয়েক মিটার দূরের টিভিকে নির্দেশ দেয়; সম্প্রচার আসে রেডিও তরঙ্গে।
মনে রাখুন: সম্প্রচার মানেই রেডিও তরঙ্গ; রিমোট মানে অবলোহিত।
৬৪. অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করবার্ট কক্
- খলুইস পাস্তুর
- গএডওয়ার্ড জেনার
- ঘএন্টনি ভন লিউয়েনহুক
সঠিক উত্তর: ঘ. এন্টনি ভন লিউয়েনহুক
প্রশ্নটি অণুজীববিজ্ঞানের জনক জানতে চাইছে। প্রচলিত উত্তর অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক, কারণ তিনিই প্রথম অণুজীব নিজ চোখে দেখে বর্ণনা করেন।
সপ্তদশ শতকে এই ওলন্দাজ বস্ত্রব্যবসায়ী নিজের হাতে লেন্স ঘষে শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেন। ১৬৭০ থেকে ১৬৮০-র দশকে তিনি পানি, দাঁতের ময়লা ইত্যাদিতে ক্ষুদ্র জীব দেখে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটিতে চিঠি পাঠান, যাদের তিনি বলেছিলেন অ্যানিম্যালকিউল বা ক্ষুদ্র প্রাণী।
বাকিদের অবদানও বড়, কিন্তু অন্য শিরোনামে। এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করে প্রতিরক্ষাবিদ্যার জনক হন। লুই পাস্তুর জীবাণুতত্ত্ব ও পাস্তুরাইজেশনের জন্য বিখ্যাত। রবার্ট কখ রোগের জন্য নির্দিষ্ট জীবাণু শনাক্ত করে ব্যাকটেরিওলজির জনক হন।
ফাঁদ হলো লুই পাস্তুর; কিছু বইয়ে তাঁকেও অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তবে প্রথম অণুজীব দেখার কৃতিত্ব লিউয়েনহুকের, তাই এই প্রশ্নে তিনিই প্রত্যাশিত উত্তর।
মনে রাখুন: প্রথম দেখেছেন যিনি, জনক তিনি: লিউয়েনহুক।
৬৫. বাতাস একটি – (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
- খপ্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
- গফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
- ঘঅ্যান্টিফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর: খ. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
প্রশ্নটি পদার্থের চৌম্বক ধর্মের শ্রেণিবিভাগ যাচাই করছে। যে পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে দুর্বলভাবে আকৃষ্ট হয়, তাকে প্যারাচুম্বকীয় বলে। বাতাস এমনই একটি পদার্থ।
এর কারণ বাতাসের অক্সিজেন। অক্সিজেন অণুতে দুটি অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকে, যাদের ছোট ছোট চৌম্বক ভ্রামক বাইরের চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে সারিবদ্ধ হয়। বাতাসের নাইট্রোজেন নিজে ডায়াচুম্বকীয়, কিন্তু অক্সিজেনের প্রভাব বেশি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে বাতাস প্যারাচুম্বকীয়।
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ চুম্বক থেকে দুর্বলভাবে বিকর্ষিত হয়, যেমন পানি, তামা ও বিসমাথ। ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয় ও নিজেও চুম্বক হতে পারে, যেমন লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট। অ্যান্টিফেরোচুম্বকে পাশাপাশি পরমাণুর চৌম্বক ভ্রামক উল্টো দিকে থাকে, যেমন ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড।
ফাঁদ হলো ডায়াচুম্বকীয়, কারণ বাতাসের বেশির ভাগই নাইট্রোজেন। কিন্তু অক্সিজেনের প্যারাচুম্বকত্ব নাইট্রোজেনের দুর্বল ডায়াচুম্বকত্বকে ছাপিয়ে যায়।
মনে রাখুন: অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকলে প্যারা; অক্সিজেনের কারণে বাতাস প্যারাচুম্বকীয়।
৬৬. বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হল – (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅক্সিজেন
- খকার্বন-ডাইঅক্সাইড
- গনাইট্রোজেন
- ঘহাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর: ঘ. হাইড্রোজেন
প্রশ্নটি মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্যাস বা মৌল জানতে চাইছে। উত্তর হাইড্রোজেন।
মহাবিস্ফোরণের পর প্রথম কয়েক মিনিটে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম তৈরি হয়েছিল। তাই আজও সাধারণ পদার্থের ভরের প্রায় ৭৪ শতাংশ হাইড্রোজেন, প্রায় ২৪ শতাংশ হিলিয়াম, আর বাকি সব মৌল মিলে মাত্র প্রায় ২ শতাংশ।
সূর্যসহ সব নক্ষত্রের প্রধান জ্বালানিও হাইড্রোজেন; কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন বিক্রিয়ায় হিলিয়াম হয়ে আলো ও তাপ দেয়। কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেনের মতো ভারী মৌল পরে নক্ষত্রের ভেতরে তৈরি হয়েছে।
ফাঁদ হলো নাইট্রোজেন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮ শতাংশ, কিন্তু প্রশ্নটি পৃথিবীর নয়, পুরো মহাবিশ্বের।
মনে রাখুন: মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন, পৃথিবীর বাতাসে নাইট্রোজেন, ভূত্বকে অক্সিজেন।
৬৭. সুপরিবাহী পদার্থে valence band এবং conduction band – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কআলাদা থাকে
- খওভারল্যাপ থাকে
- গঅনেক দূরে থাকে
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. ওভারল্যাপ থাকে
প্রশ্নটি শক্তি ব্যান্ড তত্ত্ব নিয়ে। সুপরিবাহী বা ভালো পরিবাহী পদার্থে, যেমন ধাতুতে, যোজ্যতা ব্যান্ড আর পরিবহন ব্যান্ড একটি আরেকটির ওপর পড়ে থাকে, অর্থাৎ ওভারল্যাপ করে।
কঠিন পদার্থে ইলেকট্রনের শক্তিস্তর মিলে ব্যান্ড তৈরি হয়। নিচের যোজ্যতা ব্যান্ডে ইলেকট্রন পরমাণুর সঙ্গে আবদ্ধ থাকে, আর ওপরের পরিবহন ব্যান্ডে গেলে মুক্তভাবে চলে বিদ্যুৎ বহন করতে পারে। দুটির মাঝের ফাঁকা অংশকে বলে নিষিদ্ধ শক্তি ব্যবধান।
ধাতুতে এই ব্যবধান নেই, ব্যান্ড দুটি মিশে আছে, তাই ইলেকট্রন বাড়তি শক্তি ছাড়াই চলাচল করে এবং পদার্থটি ভালো পরিবাহী। অর্ধপরিবাহীতে ব্যবধান সরু, সিলিকনে প্রায় এক দশমিক এক ইলেকট্রন ভোল্ট, তাই তাপ বা আলো পেলে কিছু ইলেকট্রন লাফিয়ে যায়। অন্তরকে ব্যবধান চওড়া, হীরায় প্রায় সাড়ে পাঁচ ইলেকট্রন ভোল্ট, তাই প্রায় কোনো প্রবাহ নেই।
আলাদা থাকে বিকল্পটি অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে খাটে, আর অনেক দূরে থাকে অন্তরকের ক্ষেত্রে। এখানে সুপরিবাহী মানে ভালো পরিবাহী; শূন্য রোধের অতিপরিবাহীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
মনে রাখুন: ব্যবধান নেই = পরিবাহী, সরু = অর্ধপরিবাহী, চওড়া = অন্তরক।
৬৮. ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসিলভার ব্রোমাইডের
- খসিলভার ক্লোরাইডের
- গঅ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের
- ঘসিলভার ফ্লোরাইডের
সঠিক উত্তর: ক. সিলভার ব্রোমাইডের
প্রশ্নটি আলোক-সংবেদী রাসায়নিক নিয়ে। ফটোগ্রাফিক প্লেট ও ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইডের আবরণ থাকে।
সিলভার ব্রোমাইড আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। জিলাটিনে মেশানো এর ক্ষুদ্র কেলাসে আলো পড়লে কিছু সিলভার আয়ন ধাতব রুপায় পরিণত হয় এবং একটি অদৃশ্য প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়। ডেভেলপার দ্রবণে সেই অংশে আরও রুপা জমে, ফলে আলো পড়া অংশ কালো দেখায়।
এরপর হাইপো, অর্থাৎ সোডিয়াম থায়োসালফেট দিয়ে আলো না পড়া সিলভার ব্রোমাইড ধুয়ে ফেলা হয়, যাতে পরে আলো পড়লেও ছবি নষ্ট না হয়। একে বলে স্থায়ীকরণ।
সিলভার ক্লোরাইডও আলো-সংবেদী এবং কিছু ছাপার কাগজে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি কাছাকাছি ফাঁদ। তবে এর সংবেদনশীলতা কম; প্লেট ও ফিল্মে প্রধানত সিলভার ব্রোমাইডই থাকে।
মনে রাখুন: ছবির প্রশ্নে রুপা আর ব্রোমিন: সিলভার ব্রোমাইড; স্থায়ীকরণে হাইপো।
৬৯. বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কনাইট্রোজেন
- খপটাশিয়াম
- গঅক্সিজেন
- ঘফসফরাস
সঠিক উত্তর: ক. নাইট্রোজেন
প্রশ্নটি প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন নিয়ে। বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন বাড়ে।
বাতাসের প্রায় আটাত্তর শতাংশ নাইট্রোজেন, কিন্তু উদ্ভিদ এই গ্যাস সরাসরি নিতে পারে না, কারণ নাইট্রোজেন অণুর দুই পরমাণুর বন্ধন খুব শক্ত। বজ্রপাতের প্রচণ্ড তাপ ও বিদ্যুৎ এই বন্ধন ভেঙে দেয়, ফলে নাইট্রোজেন বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে।
নাইট্রিক অক্সাইড আরও অক্সিজেন নিয়ে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হয়, যা বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে লঘু নাইট্রিক এসিড হিসেবে মাটিতে পড়ে। মাটিতে তা নাইট্রেট লবণে পরিণত হয়, আর উদ্ভিদ মূল দিয়ে এই নাইট্রেট শোষণ করে প্রোটিন তৈরি করে।
অক্সিজেন বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ বিক্রিয়ায় অক্সিজেন লাগে; কিন্তু অক্সিজেন উদ্ভিদের মাটির খাদ্য উপাদান হিসেবে যোগ হয় না। পটাশিয়াম ও ফসফরাস আসে শিলা ও খনিজ থেকে, বাতাস থেকে নয়।
মনে রাখুন: বজ্রপাত হলো আকাশের সার কারখানা: বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট বানায়।
৭০. ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কভিটামিন বি ১২
- খভিটামিন বি ৬
- গভিটামিন বি ১
- ঘভিটামিন বি ৯
সঠিক উত্তর: ঘ. ভিটামিন বি ৯
ভিটামিন বি আসলে একটা পরিবার, যার প্রতিটি সদস্যের একটা নম্বর আর একটা রাসায়নিক নাম আছে। ফলিক এসিড, যার প্রাকৃতিক রূপকে ফোলেট বলে, সেটি হলো ভিটামিন বি ৯।
ফলিক নামটা এসেছে লাতিন শব্দ ফোলিয়াম থেকে, যার মানে পাতা; কারণ এটি প্রথম পাওয়া গিয়েছিল সবুজ শাকপাতায়। তাই পালং শাক, ডাল, কলিজায় এটি বেশি থাকে।
ফলিক এসিড কোষ বিভাজন আর লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে দরকার। অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, আর গর্ভাবস্থায় অভাব হলে শিশুর স্নায়ুনালির ত্রুটি হতে পারে; তাই গর্ভবতী মায়েদের ফলিক এসিড দেওয়া হয়।
ফাঁদ হলো ভিটামিন বি ১২। দুটোই রক্তকণিকা তৈরিতে কাজ করে বলে একসাথে পড়ানো হয়, কিন্তু বি ১২-এর নাম সায়ানোকোবালামিন, এতে কোবাল্ট থাকে।
মনে রাখুন: ফলিক = ফোলিয়াম = পাতা; শাকপাতার ভিটামিন বি ৯।
৭১. যে কারণে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে তা হলো – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কএইচআইভি/এইডস
- খম্যালেরিয়া
- গহাম
- ঘযক্ষা
সঠিক উত্তর: গ. হাম
প্রশ্নটি শিশুদের অন্ধত্বের একটি প্রতিরোধযোগ্য কারণ নিয়ে। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর হাম।
হাম হলে শিশুর দেহে ভিটামিন এ দ্রুত কমে যায়। ভিটামিন এ চোখের কর্নিয়া সুস্থ রাখতে আর অল্প আলোয় দেখতে অপরিহার্য। তাই আগে থেকেই অপুষ্টি বা ভিটামিন এ-র ঘাটতি থাকলে হামের সময় কর্নিয়ায় ঘা হয়, দাগ পড়ে, এবং শিশু চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে হাম শৈশব-অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হামে আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়ার পরামর্শ দেয়, আর হামের টিকা এই অন্ধত্ব অনেকটাই কমিয়েছে।
এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা গুরুতর রোগ হলেও শিশুদের অন্ধত্বের প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত নয়।
মনে রাখুন: শৈশব-অন্ধত্ব মানেই ভিটামিন এ-র ঘাটতি, আর হাম সেই ঘাটতিকে তীব্র করে।
৭২. শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয় – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবছরে একবার
- খবছরে দুইবার
- গবছরে তিনবার
- ঘএর কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. বছরে দুইবার
প্রশ্নটি শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর নিয়ম নিয়ে। বাংলাদেশে শিশুদের বছরে দুইবার, অর্থাৎ প্রতি ছয় মাসে একবার, ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ছয় থেকে ঊনষাট মাস বয়সী শিশুরা এই ক্যাপসুল পায়। ছয় থেকে এগারো মাসের শিশুকে দেওয়া হয় নীল রঙের ক্যাপসুল, আর বারো থেকে ঊনষাট মাসের শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল, যাতে মাত্রা বেশি।
কেন ছয় মাস পরপর? ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবণীয়, একটি বড় মাত্রা খেলে তা যকৃতে জমা থাকে এবং প্রায় চার থেকে ছয় মাস দেহের চাহিদা মেটায়। তাই বছরে দুবার দিলে সারা বছর সুরক্ষা থাকে। এটি রাতকানা ও শিশু-অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে এবং হাম ও ডায়রিয়ায় মৃত্যুঝুঁকি কমায়।
বছরে একবার দিলে মাঝের কয়েক মাস সুরক্ষা থাকে না, আর বেশি ঘন ঘন দিলে মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন এ ক্ষতিকর হতে পারে।
মনে রাখুন: ভিটামিন এ ক্যাপসুল: ছয় মাস পরপর, বছরে দুবার; নীল ছোটদের, লাল বড়দের।
৭৩. ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার জন্য তার যে গঠন দায়ী তা হলো - (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপিল্লি
- খফ্লাজেলা
- গশীথ
- ঘক্যাপসুলস
সঠিক উত্তর: খ. ফ্লাজেলা
প্রশ্নটি ব্যাকটেরিয়ার কোষের অংশ ও তাদের কাজ নিয়ে। ব্যাকটেরিয়ার চলনের জন্য দায়ী ফ্লাজেলা।
ফ্লাজেলা হলো কোষের গা থেকে বের হওয়া লম্বা, চাবুকের মতো সূত্র। এর গোড়ায় একটি ক্ষুদ্র ঘূর্ণায়মান মোটরের মতো কাঠামো থাকে, যা ফ্লাজেলামকে প্রপেলারের মতো ঘুরিয়ে ব্যাকটেরিয়াকে তরলে সামনে ঠেলে দেয়। ফ্লাজেলার সংখ্যা ও অবস্থান দেখে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাসও করা হয়।
পিলি ফ্লাজেলার চেয়ে ছোট ও সরু, এগুলো দিয়ে ব্যাকটেরিয়া কোনো তলে আঁকড়ে থাকে; বিশেষ ধরনের পিলি দিয়ে দুটি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে জিন আদান-প্রদান বা কনজুগেশন হয়। ক্যাপসুল কোষপ্রাচীরের বাইরের পিচ্ছিল আবরণ, যা শ্বেত রক্তকণিকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। শীথ কিছু সূত্রাকার ব্যাকটেরিয়ার নলের মতো সুরক্ষা আবরণ।
পিলিও কোষের বাইরের সূত্র বলে ফ্লাজেলার সঙ্গে গুলিয়ে যায়; কিন্তু পিলি আঁকড়ে ধরে, ফ্লাজেলা সাঁতার কাটায়।
মনে রাখুন: চলন মানেই ফ্লাজেলা; আঁকড়ে ধরা পিলি, সুরক্ষা ক্যাপসুল।
৭৪. ‘কেপলার-৪৫২বি’ কী? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কএকটি মহাকাশযান
- খপৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
- গসূর্যের মতো একটি নক্ষত্র
- ঘNASA-এর অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর: খ. পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
প্রশ্নটি একটি বহির্গ্রহ নিয়ে। কেপলার-চারশো বাহান্ন-বি পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ।
নাসার কেপলার মহাকাশ টেলিস্কোপের তথ্য থেকে দুই হাজার পনেরো সালের জুলাইয়ে এই গ্রহের কথা ঘোষণা করা হয়। এটি কেপলার-চারশো বাহান্ন নামের এক সূর্যসদৃশ নক্ষত্রকে প্রায় তিনশো পঁচাশি দিনে একবার ঘোরে, যা পৃথিবীর বছরের খুব কাছাকাছি। গ্রহটির ব্যাস পৃথিবীর প্রায় দেড় গুণের একটু বেশি।
গ্রহটি নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থিত, অর্থাৎ এমন দূরত্বে যেখানে তরল পানি থাকা সম্ভব। এই মিলগুলোর জন্য সংবাদমাধ্যম একে পৃথিবীর বড় ও বয়স্ক জ্ঞাতিভাই বলে ডাকে।
নামের শেষের বি অক্ষর দেখেই বোঝা যায় এটি গ্রহ: কোনো নক্ষত্রের প্রথম আবিষ্কৃত গ্রহের নামে বি যোগ হয়। কেপলার নাম দেখে মহাকাশযান বা টেলিস্কোপ ভাবা এখানে প্রধান ফাঁদ; কেপলার টেলিস্কোপটি আবিষ্কারের যন্ত্র, গ্রহটি নয়।
মনে রাখুন: নক্ষত্রের নামের শেষে ছোট হাতের বি, সি, ডি থাকলে সেটি গ্রহ।
৭৫. ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভাল পদ্ধতি – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবয়লিং
- খবেনজিন ওয়াশ
- গফরমালিন ওয়াশ
- ঘকেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
সঠিক উত্তর: ঘ. কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
প্রশ্নটি ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন, অর্থাৎ রাসায়নিক জীবাণুমুক্তকরণ।
জীবাণুমুক্তকরণ মানে ব্যাকটেরিয়ার কঠিন স্পোরসহ সব জীবাণু ধ্বংস করা। শুধু পানিতে ফোটালে তাপমাত্রা একশো ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠে না, তাতে অনেক স্পোর বেঁচে যায়; আবার বারবার ফোটালে ও ভেজা অবস্থায় রাখলে কাঁচি, ব্লেড বা সূক্ষ্ম ধারালো যন্ত্রে মরিচা ধরে, ধার কমে।
রাসায়নিক পদ্ধতিতে যন্ত্রকে গ্লুটারালডিহাইডের মতো শক্তিশালী জীবাণুনাশক দ্রবণে নির্দিষ্ট সময় ডুবিয়ে রাখা হয়। এতে তাপ লাগে না, তাই ধার নষ্ট হয় না। তবে বাস্তবে হাসপাতালে তাপ সহনশীল অনেক যন্ত্র অটোক্লেভে, অর্থাৎ চাপযুক্ত বাষ্পে, আর ধারালো যন্ত্র শুষ্ক তাপের হট এয়ার ওভেনেও জীবাণুমুক্ত করা হয়; এগুলো এখানে বিকল্পে নেই।
ফরমালিন ওয়াশ বিকল্পটি কাছাকাছি ফাঁদ। ফরমালিন রাসায়নিক জীবাণুনাশক ঠিকই, কিন্তু শুধু ধুয়ে নিলে যথেষ্ট সংস্পর্শ হয় না, আর এর বাষ্প বিষাক্ত ও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। পূর্ণ রাসায়নিক পদ্ধতিটিই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন: তাপে ক্ষতি হয় এমন যন্ত্র মানেই রাসায়নিক জীবাণুমুক্তকরণ।
৭৬. সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো - (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কR3NH+
- খSO3-Na+
- গR2NH2+
- ঘCOO-Na+
সঠিক উত্তর: ঘ. COO-Na+
প্রশ্নটি সাবানের রাসায়নিক গঠন নিয়ে। সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো কার্বক্সিলেট আয়ন ও সোডিয়াম আয়ন, পড়লে সি ও ও মাইনাস, এন এ প্লাস।
সাবান তৈরি হয় চর্বি বা তেলকে কস্টিক সোডা দিয়ে ফুটিয়ে; একে বলে সাবানীকরণ। এতে তৈরি হয় দীর্ঘ শিকলের ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ, সঙ্গে গ্লিসারিন। সাবানের অণুর এক প্রান্তে লম্বা হাইড্রোকার্বন লেজ, যা তেল ও ময়লার দিকে টানে; অন্য প্রান্তে আয়নিক কার্বক্সিলেট মাথা, যা পানির দিকে টানে।
এভাবে সাবানের অণু তেলের কণাকে ঘিরে ছোট বলের মতো মাইসেল তৈরি করে, আর পানিতে ধুয়ে ময়লা বেরিয়ে যায়। খর পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন কার্বক্সিলেটের সঙ্গে অদ্রবণীয় গাদ তৈরি করে, তাই সাবানে ফেনা কম হয়।
সালফোনেট গ্রুপটি ফাঁদ; এটি সিন্থেটিক ডিটারজেন্টের আয়নিক গ্রুপ, সাবানের নয়। ডিটারজেন্ট খর পানিতেও ভালো কাজ করে এ কারণেই। নাইট্রোজেনযুক্ত ধনাত্মক গ্রুপগুলো ক্যাটায়নিক পরিষ্কারকের, যেমন কাপড় নরম করার দ্রব্যে।
মনে রাখুন: সাবানে কার্বক্সিলেট, ডিটারজেন্টে সালফোনেট।
৭৭. কোন জোড়াটি বেমানান? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কযক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কচ
- খহোমিওপ্যাথি: হ্যানিম্যান
- গব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
- ঘএনাটমি : ভেসলিয়াস
সঠিক উত্তর: গ. ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
প্রশ্নটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে কে কী আবিষ্কার বা প্রবর্তন করেছেন, সেই জোড়া মেলানোর দক্ষতা যাচাই করছে। চারটির মধ্যে যে জোড়ায় বিজ্ঞানী ও আবিষ্কার মেলে না, সেটিই বেমানান।
ব্যাকটেরিয়া প্রথম দেখেন ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক, ১৬৭৬ সালের দিকে, নিজের বানানো অণুবীক্ষণ যন্ত্রে। রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে কর্কের পাতলা টুকরায় ছোট ছোট খোপ দেখে তার নাম দেন কোষ। তাই ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে হুকের জোড়াটি ভুল।
বাকি তিনটি জোড়া ঠিক। রবার্ট কখ ১৮৮২ সালে যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত করেন। জার্মান চিকিৎসক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রবর্তক। আন্দ্রেয়াস ভেসালিয়াস ১৫৪৩ সালে মানবদেহের ব্যবচ্ছেদভিত্তিক বই লিখে আধুনিক শারীরস্থানবিদ্যা বা এনাটমির জনক হন।
ফাঁদ হলো দুই নামের মিল: হুক আর লিউয়েনহুক। দুজনেই প্রথম যুগের অণুবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু হুক দেখেছেন কোষ, লিউয়েনহুক দেখেছেন জীবাণু।
মনে রাখুন: নামে হুক থাকলেই কোষ নয়: শুধু রবার্ট হুক কোষ, লিউয়েনহুক জীবাণু।
৭৮. এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপ্রোটিন
- খক্যালসিয়াম
- গভিটামিন
- ঘলবণ
সঠিক উত্তর: ক. প্রোটিন
প্রশ্নটি জানতে চাইছে দেহের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব অণু, এনজাইম, অ্যান্টিবডি ও হরমোন, মূলত কী দিয়ে তৈরি। উত্তর প্রোটিন বা আমিষ।
এনজাইম হলো জৈব অনুঘটক, যেমন লালার অ্যামাইলেজ; প্রায় সব এনজাইমই প্রোটিন। অ্যান্টিবডি হলো ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামের ইংরেজি ওয়াই আকৃতির প্রোটিন, যা জীবাণু চিনে আটকে দেয়।
অনেক হরমোন, যেমন ইনসুলিন ও বৃদ্ধি হরমোন, প্রোটিন বা পেপটাইড দিয়ে তৈরি। তবে সব হরমোন প্রোটিন নয়; যৌন হরমোন ও কর্টিসল স্টেরয়েড জাতীয়। তিনটিকে একসঙ্গে ধরলে সাধারণ মৌলিক উপাদান প্রোটিনই।
ক্যালসিয়াম ও লবণ খনিজ উপাদান, আর ভিটামিন নিজে এনজাইমের সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এদের কোনোটিই এই অণুগুলোর মূল কাঠামো নয়।
মনে রাখুন: এনজাইম, অ্যান্টিবডি, হরমোন একসঙ্গে এলে উত্তর প্রোটিন।
৭৯. পরম শূন্য তাপমাত্রা কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২৭৩° সেন্টিগ্রেড
- খ-২৭৩° ফারেনহাইট
- গ০° সেন্টিগ্রেড
- ঘ০° কেলভিন
সঠিক উত্তর: ঘ. ০° কেলভিন
পরম শূন্য হলো তাপমাত্রার সর্বনিম্ন সম্ভাব্য সীমা, যেখানে অণু-পরমাণুর তাপীয় গতি ন্যূনতম। কেলভিন স্কেল এই বিন্দু থেকেই গোনা শুরু হয়, তাই পরম শূন্য মানে শূন্য কেলভিন।
সেলসিয়াস থেকে কেলভিনে যেতে ২৭৩ দশমিক ১৫ যোগ করতে হয়। তাই শূন্য কেলভিন সমান ঋণাত্মক ২৭৩ দশমিক ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইটে এটি ঋণাত্মক ৪৫৯ দশমিক ৬৭ ডিগ্রি।
কেলভিন স্কেলে ঋণাত্মক তাপমাত্রা নেই, এবং কেলভিনের সঙ্গে ডিগ্রি চিহ্ন লেখা হয় না। শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস হলো পানির বরফ হওয়ার তাপমাত্রা, পরম শূন্য নয়।
ফাঁদ হলো ঋণাত্মক ২৭৩ ফারেনহাইট বিকল্পটি। সংখ্যাটা ঠিক মনে হলেও একক ভুল; ঋণাত্মক ২৭৩ হয় সেলসিয়াসে। আবার ধনাত্মক ২৭৩ সেলসিয়াসে চিহ্নই ভুল।
মনে রাখুন: পরম শূন্য: শূন্য কেলভিন, ঋণাত্মক ২৭৩ সেলসিয়াস, ঋণাত্মক ৪৬০ ফারেনহাইটের কাছাকাছি।
৮০. আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ কত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅসীম
- খশূন্য
- গঅতি ক্ষুদ্র
- ঘঅনেক বড়
সঠিক উত্তর: খ. শূন্য
প্রতিটি বাস্তব ব্যাটারি বা উৎসের ভেতরে কিছু রোধ থাকে, যাকে অভ্যন্তরীণ রোধ বলে। প্রবাহ চললে এই রোধে কিছু ভোল্টেজ খরচ হয়, ফলে বাইরের প্রান্তে ভোল্টেজ কমে যায়।
সূত্রটি হলো: প্রান্তীয় ভোল্টেজ সমান তড়িচ্চালক শক্তি বিয়োগ প্রবাহ গুণ অভ্যন্তরীণ রোধ। অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য হলে বিয়োগের অংশটা শূন্য হয়, তখন লোড যত বড় বা ছোটই হোক, ভোল্টেজ একই থাকে।
যে উৎস সব অবস্থায় একই ভোল্টেজ দেয়, সেটিই আদর্শ ভোল্টেজ উৎস। তাই এর অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য। উল্টো দিকে আদর্শ প্রবাহ বা কারেন্ট উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম।
ফাঁদ হলো অতি ক্ষুদ্র বিকল্পটি। বাস্তব ভালো ব্যাটারির রোধ অতি ক্ষুদ্র হয়, কিন্তু আদর্শ মানে পুরোপুরি শূন্য। আর অসীম রোধ আদর্শ কারেন্ট উৎসের বৈশিষ্ট্য।
মনে রাখুন: আদর্শ ভোল্টেজ উৎস শূন্য, আদর্শ কারেন্ট উৎস অসীম অভ্যন্তরীণ রোধ।