সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ৮
১৪১. কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কডিজেল
- খপেট্রোল
- গঅকটেন
- ঘসিএনজি
সঠিক উত্তর: ক. ডিজেল
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন জ্বালানি পোড়ালে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড আসে। জ্বালানিতে সালফার থাকলে পোড়ানোর সময় তা অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
খনিজ তেলের ভারী অংশ ডিজেলে সালফারের পরিমাণ পেট্রোল বা অকটেনের তুলনায় সাধারণত বেশি থাকে। তাই প্রচলিত উত্তর ডিজেল; ডিজেলচালিত বাস-ট্রাকের ধোঁয়া শহরের বায়ুদূষণের বড় উৎস।
বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড জলীয়বাষ্পের সঙ্গে মিশে সালফিউরিক এসিড তৈরি করে, যা এসিড বৃষ্টির অন্যতম কারণ।
সিএনজি মূলত মিথেন, আর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে সালফার প্রায় নেই, তাই এটি সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বিকল্প। পেট্রোল ও অকটেনেও সামান্য সালফার থাকতে পারে, তবে ডিজেলের তুলনায় কম।
মনে রাখুন: সালফার ডাই-অক্সাইড ও এসিড বৃষ্টি দেখলে ডিজেল বা কয়লার কথা ভাবুন।
১৪২. মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশব্দশক্তি
- খতড়িৎশক্তি
- গআলোকশক্তি
- ঘচৌম্বকশক্তি
সঠিক উত্তর: গ. আলোকশক্তি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে মোবাইল টেলিফোনের লাইনে কোন শক্তি প্রবাহিত হয়। এখানে দেওয়া উত্তর আলোকশক্তি, তবে উত্তরটি নিয়ে গাইডগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে।
আলোকশক্তির পক্ষে যুক্তি হলো, মোবাইল ফোন থেকে টাওয়ার পর্যন্ত সংকেত যায় বেতার তরঙ্গে, যা আলোর মতোই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। আর টাওয়ার ও এক্সচেঞ্জের মধ্যকার মূল লাইনে অনেক ক্ষেত্রে সংকেত অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতর দিয়ে আলো হিসেবে চলে।
অন্যদিকে প্রথাগত তারের টেলিফোন লাইনে কথা যায় বিদ্যুৎ সংকেত হিসেবে, তাই অনেক গাইড তড়িৎশক্তিকে উত্তর দেয়।
শব্দশক্তি ভুল, কারণ মাইক্রোফোন শব্দকে আগেই বিদ্যুৎ সংকেতে বদলে দেয়; লাইনে শব্দ নিজে চলে না। চৌম্বকশক্তিও আলাদাভাবে প্রবাহিত হয় না।
মনে রাখুন: এ প্রশ্নে গাইডভেদে উত্তর আলাদা; ফাইবার অপটিক্স ধরলে আলো, সাধারণ তার ধরলে বিদ্যুৎ।
১৪৩. জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআলফা রশ্মি
- খবিটা রশ্মি
- গগামা রশ্মি
- ঘআলট্রাভায়োলেট রশ্মি
সঠিক উত্তর: গ. গামা রশ্মি
প্রশ্নটা জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর গামা রশ্মি, কারণ বিকল্পগুলোর মধ্যে এর শক্তি ও ভেদনক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এটি শরীরের গভীরে ঢুকে কোষের ডিএনএ ভেঙে দিতে পারে, ফলে ক্যান্সার ও জিনগত ক্ষতি হতে পারে; থামাতে পুরু সিসা বা কংক্রিট লাগে।
আলফা কণা কাগজ বা ত্বকের বাইরের স্তরেই আটকে যায়, আর বিটা কণা পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের পাতে থামে। অতিবেগুনি রশ্মি ত্বক পোড়ায় ও ত্বকের ক্যান্সার ঘটাতে পারে, কিন্তু এর শক্তি গামার চেয়ে অনেক কম এবং গভীরে যায় না।
ফাঁদ হলো অতিবেগুনি রশ্মি: রোদের ক্ষতির কারণে এটি বেশি পরিচিত। আলফা কণা খাবার বা শ্বাসের সঙ্গে দেহে ঢুকলে খুব ক্ষতিকর, তবে বাইরে থেকে সহজেই আটকে যায়।
মনে রাখুন: ভেদনক্ষমতা: আলফা সবচেয়ে কম, গামা সবচেয়ে বেশি।
১৪৪. কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসাদা
- খকালো
- গহলুদ
- ঘলাল
সঠিক উত্তর: ঘ. লাল
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন রং সবচেয়ে দূর থেকে দেখা যায়। উত্তর লাল, কারণ দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লালের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
বাতাসের অণু ও ধূলিকণায় আলো বিক্ষিপ্ত হয়, আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, বিক্ষেপণ তত বেশি। লাল আলো সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয় বলে কুয়াশা বা ধোঁয়ার ভেতর দিয়েও অনেক দূর যেতে পারে।
এজন্যই বিপদসংকেত, ট্রাফিক সিগন্যালের থামার বাতি ও উঁচু টাওয়ারের সতর্কবাতি লাল হয়।
সাদা কোনো একক রং নয়, সব রঙের মিশ্রণ; কালো বস্তু প্রায় সব আলো শোষণ করে। হলুদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য লালের চেয়ে কম, তাই এটি লালের চেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়।
মনে রাখুন: বিপদসংকেত কেন লাল, সেই কারণটাই এখানে উত্তর।
১৪৫. ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআইসোটোন
- খআইসোটোপ
- গআইসোবার
- ঘরাসায়নিক পদার্থ
সঠিক উত্তর: খ. আইসোটোপ
প্রশ্নটা ক্যান্সার চিকিৎসার গামা রশ্মির উৎসের ধরন জানতে চেয়েছে। উত্তর তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, যার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ কোবাল্ট ষাট।
একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলে। কোবাল্ট ষাট অস্থিতিশীল আইসোটোপ, তাই ভেঙে যাওয়ার সময় উচ্চশক্তির গামা রশ্মি ছাড়ে, যা ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে কাজে লাগে।
আইসোটোন হলো ভিন্ন মৌলের এমন পরমাণু যাদের নিউট্রন সংখ্যা সমান, আর আইসোবার হলো ভিন্ন মৌলের এমন পরমাণু যাদের ভরসংখ্যা সমান। এগুলো পরমাণুর শ্রেণিবিভাগ, বিকিরণের উৎসের নাম নয়।
ফাঁদ হলো তিনটি নামের মিল। মনে রাখার উপায়: আইসোটোপে পি মানে প্রোটন সমান, আইসোটোনে এন মানে নিউট্রন সমান, আইসোবারে এ মানে ভরসংখ্যা সমান।
মনে রাখুন: আইসোটোপে পি, আইসোটোনে এন, আইসোবারে এ: যা সমান তার আদ্যক্ষর।
১৪৬. আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কধুলিকণা
- খবায়ুস্তর
- গবৃষ্টির কণা
- ঘঅতিবেগুনি রশ্মি
সঠিক উত্তর: গ. বৃষ্টির কণা
প্রশ্নটা রংধনু তৈরির কারণ জানতে চেয়েছে। উত্তর বৃষ্টির কণা: বাতাসে ভাসমান অসংখ্য ক্ষুদ্র পানির ফোঁটা প্রিজমের মতো কাজ করে।
সূর্যের সাদা আলো ফোঁটায় ঢোকার সময় প্রতিসৃত হয়, ভেতরে প্রতিফলিত হয় এবং বের হওয়ার সময় আবার প্রতিসৃত হয়। প্রতিটি রঙের বাঁকার পরিমাণ আলাদা বলে আলো সাত রঙে ভাগ হয়ে যায়; একে বিচ্ছুরণ বলে।
তাই রংধনু দেখতে সূর্যকে পেছনে রেখে বৃষ্টির দিকে তাকাতে হয়, আর সাধারণত সকালে বা বিকেলে সূর্য নিচে থাকলে দেখা যায়। প্রধান রংধনুর বাইরের দিকে লাল ও ভেতরের দিকে বেগুনি থাকে।
ধূলিকণা আলো ছড়িয়ে দেয় কিন্তু রং আলাদা করে ধনুক বানায় না; ভিন্ন ঘনত্বের বায়ুস্তরে হয় মরীচিকা। আর অতিবেগুনি রশ্মি চোখে দেখাই যায় না।
মনে রাখুন: রংধনুর তিন কাজ: প্রতিসরণ, প্রতিফলন, বিচ্ছুরণ; মাধ্যম বৃষ্টির ফোঁটা।
১৪৭. ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমদ্য শিল্পে
- খরুটি শিল্পে
- গসাইট্রিক এসিড উৎপাদন
- ঘএক কোষীয় প্রোটিন তৈরিতে
সঠিক উত্তর: গ. সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন শিল্পে ইস্টের ভূমিকা নেই। উত্তর সাইট্রিক এসিড উৎপাদন, কারণ বাণিজ্যিক সাইট্রিক এসিডের বেশির ভাগ তৈরি হয় অ্যাসপারজিলাস নাইজার নামের কালো ছত্রাক দিয়ে।
ইস্ট এককোষী ছত্রাক। এটি গাঁজন বা ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে চিনিকে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভাঙে; অ্যালকোহল কাজে লাগে মদ্য শিল্পে, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড রুটির খামির ফোলায়।
ইস্ট দ্রুত বাড়ে এবং কোষে প্রচুর আমিষ থাকে, তাই এককোষী প্রোটিন তৈরিতেও ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
ফাঁদ হলো এককোষী প্রোটিন: নামটা অপরিচিত বলে অনেকে এটিকেই বেছে নেন, অথচ এখানে ইস্ট বহুল ব্যবহৃত।
মনে রাখুন: সাইট্রিক এসিড মানেই অ্যাসপারজিলাস নাইজার।
১৪৮. চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদশ ভাগের একভাগ
- খছয় ভাগের একভাগ
- গতিন ভাগের একভাগ
- ঘচার ভাগের একভাগ
সঠিক উত্তর: খ. ছয় ভাগের একভাগ
প্রশ্নটা চাঁদে বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় কত তা জানতে চেয়েছে। ওজন হলো ভর গুণ অভিকর্ষজ ত্বরণ, তাই যেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ কম, সেখানে ওজনও কম।
পৃথিবীতে অভিকর্ষজ ত্বরণ প্রায় নয় দশমিক আট মিটার প্রতি বর্গসেকেন্ড, আর চাঁদে প্রায় এক দশমিক ছয় দুই। এক দশমিক ছয় দুইকে নয় দশমিক আট দিয়ে ভাগ করলে প্রায় শূন্য দশমিক এক সাত হয়, অর্থাৎ প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ।
তাই পৃথিবীতে যে মানুষের ওজন ষাট কেজি-ওজন, চাঁদে তা হবে প্রায় দশ কেজি-ওজন। তবে ভর সব জায়গায় একই থাকে; বদলায় শুধু ওজন।
ফাঁদ হলো ভর আর ওজন গুলিয়ে ফেলা, কিংবা চার বা দশ ভাগের মতো কাছাকাছি ভগ্নাংশে বিভ্রান্ত হওয়া।
মনে রাখুন: চাঁদে ওজন ছয় ভাগের এক, ভর অপরিবর্তিত।
১৪৯. মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের (First line of defence) অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কলাইসোজাইম
- খগ্যাসট্রিক জুস
- গসিলিয়া
- ঘলিস্ফোসাইট
সঠিক উত্তর: ঘ. লিস্ফোসাইট
প্রশ্নটা দেহের প্রতিরক্ষার স্তর নিয়ে। প্রথম প্রতিরক্ষাস্তর হলো জীবাণুকে দেহে ঢুকতেই না দেওয়ার বাধা, যেমন ত্বক, শ্লেষ্মা, সিলিয়া, চোখের পানি ও লালার লাইসোজাইম, আর পাকস্থলীর এসিড।
লাইসোজাইম একটি এনজাইম, যা ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ভেঙে দেয়। গ্যাস্ট্রিক জুসের হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সঙ্গে আসা জীবাণু মেরে ফেলে, আর শ্বাসনালির সিলিয়া শ্লেষ্মায় আটকা জীবাণু ঝেঁটিয়ে বাইরে পাঠায়।
দ্বিতীয় স্তরে আছে ফ্যাগোসাইট কোষ, প্রদাহ ও জ্বর। তৃতীয় স্তর হলো নির্দিষ্ট বা অর্জিত প্রতিরক্ষা, যেখানে লিম্ফোসাইট নির্দিষ্ট জীবাণু চিনে অ্যান্টিবডি তৈরি করে বা সংক্রমিত কোষ ধ্বংস করে।
তাই লিম্ফোসাইট প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত নয়; বিকল্পে ছাপা লিস্ফোসাইট বানানটি আসলে লিম্ফোসাইট। ফাঁদ হলো গ্যাস্ট্রিক জুস: এটি দেহের ভেতরে থাকে বলে অনেকে বাহ্যিক বাধা মনে করেন না, অথচ এটি প্রথম স্তরেরই অংশ।
মনে রাখুন: লিম্ফোসাইট ও অ্যান্টিবডি মানেই তৃতীয় বা নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা।
১৫০. নিচের কোনটি ভাইরাসের জন্য সত্য নয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কডিএনএ বা আরএনএ থাকে
- খশুধুমাত্র জীবদেহের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করে
- গস্ফটিক দানায় রূপান্তরিত
- ঘরাইবোজোম থাকে
সঠিক উত্তর: ঘ. রাইবোজোম থাকে
প্রশ্নটা ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য থেকে ভুল বাক্যটি খুঁজতে বলেছে। ভাইরাসে রাইবোজোম থাকে না, তাই এ বাক্যটিই সত্য নয়।
ভাইরাস হলো আমিষের আবরণে মোড়া নিউক্লিক এসিড, আর এতে ডিএনএ অথবা আরএনএ, যেকোনো একটি থাকে। এর নিজস্ব রাইবোজোম ও বিপাকীয় ব্যবস্থা নেই, তাই নিজে আমিষ তৈরি করতে পারে না।
এ কারণেই ভাইরাস শুধু জীবিত কোষের ভেতরে ঢুকে সেই কোষের রাইবোজোম ব্যবহার করে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। কোষের বাইরে এটি জড়ের মতো থাকে; ১৯৩৫ সালে ওয়েন্ডেল স্ট্যানলি তামাকের মোজাইক ভাইরাসকে স্ফটিক আকারে আলাদা করেন।
অন্য তিনটি বাক্য ভাইরাসের জন্য সত্য। নেতিবাচক প্রশ্নে সত্য বাক্য বেছে ফেলাই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: ভাইরাস কোষ নয়: রাইবোজোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষপ্রাচীর কিছুই নেই।
১৫১. তাপ ইঞ্জিনের কাজ – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কযান্ত্রিকশক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর
- খতাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
- গবিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
- ঘতাপশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর
সঠিক উত্তর: খ. তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
প্রশ্নটা তাপ ইঞ্জিনের কাজ জানতে চেয়েছে। তাপ ইঞ্জিন জ্বালানি পুড়িয়ে পাওয়া তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে, অর্থাৎ গতিতে, রূপান্তর করে।
ইঞ্জিনে গরম গ্যাস বা বাষ্প প্রসারিত হয়ে পিস্টন ঠেলে বা টারবাইন ঘুরিয়ে কাজ করে। বাষ্প ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন ও ডিজেল ইঞ্জিন সবই তাপ ইঞ্জিন।
তাপগতিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী কোনো তাপ ইঞ্জিন গৃহীত সব তাপ কাজে লাগাতে পারে না; কিছু তাপ সবসময় শীতল আধারে ছেড়ে দিতে হয়, তাই দক্ষতা কখনো শতভাগ হয় না।
উল্টোটা, অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তি থেকে তাপ, ঘটে ঘর্ষণে, যেমন দুই হাত ঘষলে গরম হয়। বিদ্যুৎ থেকে যান্ত্রিক শক্তি দেয় বৈদ্যুতিক মোটর, আর তাপ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ দেয় তাপযুগল বা থার্মোকাপল।
মনে রাখুন: যন্ত্রের নামের প্রথম শব্দই ইনপুট: তাপ ইঞ্জিনে তাপ ঢোকে, গতি বের হয়।
১৫২. শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২৮০ m/s
- খ০
- গ৩৩২ m/s
- ঘ১১২০ m/s
সঠিক উত্তর: খ. ০
প্রশ্নটা শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ জানতে চেয়েছে। শব্দ হলো যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে এগোয়; তাই চলার জন্য কঠিন, তরল বা বায়বীয় মাধ্যম লাগে।
শূন্য মাধ্যম বা ভ্যাকুয়ামে কম্পন বহনের মতো কোনো কণা নেই, ফলে শব্দ সেখানে চলতেই পারে না; তাই বেগ শূন্য। এজন্যই মহাশূন্যে নভোচারীরা রেডিওর মাধ্যমে কথা বলেন, কারণ বেতার তরঙ্গ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, যা মাধ্যম ছাড়াই চলে।
শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় তিনশো বত্রিশ মিটার প্রতি সেকেন্ড; পানিতে এর চেয়ে অনেক বেশি, আর কঠিন পদার্থে সাধারণত আরও বেশি।
ফাঁদ হলো তিনশো বত্রিশ মিটার প্রতি সেকেন্ড: এটি বাতাসে শব্দের পরিচিত বেগ, শূন্য মাধ্যমের নয়।
মনে রাখুন: শব্দের মাধ্যম লাগে, আলোর লাগে না।
১৫৩. দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কহাইপো-থাইরয়ডিজম
- খরাতকানা
- গএনিমিয়া
- ঘকোয়াশিয়রকর
সঠিক উত্তর: ক. হাইপো-থাইরয়ডিজম
প্রশ্নটা খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান আর তার অভাবজনিত রোগ মেলাতে বলেছে। সামুদ্রিক মাছ ও শৈবাল আয়োডিনের ভালো প্রাকৃতিক উৎস।
আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন থাইরক্সিন তৈরির অপরিহার্য উপাদান। আয়োডিনের অভাবে এই হরমোন কমে যায়, যাকে হাইপো-থাইরয়ডিজম বলে; এর সঙ্গে গলগণ্ড দেখা দিতে পারে, আর শিশুদের বৃদ্ধি ও বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়।
এজন্যই বাংলাদেশে খাবার লবণে আয়োডিন মেশানো বাধ্যতামূলক, আর খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ বা শৈবাল রাখলে রোগটির প্রাদুর্ভাব কমে।
রাতকানা হয় ভিটামিন এ-র অভাবে, এনিমিয়া প্রধানত লৌহের অভাবে, আর কোয়াশিয়রকর আমিষের অভাবে। সামুদ্রিক মাছে আমিষও আছে, কিন্তু আমিষ যেকোনো মাছ, মাংস বা ডাল থেকেই মেলে; সামুদ্রিক খাবারের বিশেষত্ব হলো আয়োডিন।
মনে রাখুন: সামুদ্রিক খাবার বা আয়োডিনযুক্ত লবণ দেখলেই থাইরয়েড ও গলগণ্ড।
১৫৪. গ্রিনহাউজ কি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ককাচের তৈরি ঘর
- খসবুজ আলোর আলোকিত ঘর
- গসবুজ ভবনের নাম
- ঘসবুজ গাছপালা
সঠিক উত্তর: ক. কাচের তৈরি ঘর
প্রশ্নটা গ্রিনহাউস শব্দের মূল অর্থ জানতে চেয়েছে। গ্রিনহাউস হলো কাচ বা স্বচ্ছ আবরণে তৈরি ঘর, যেখানে শীতপ্রধান দেশে চারা ও গাছ জন্মানো হয়।
সূর্যের আলো কাচ ভেদ করে ভেতরে ঢোকে এবং মাটি ও গাছকে গরম করে। ভেতরের তাপ বের হতে চাইলে কাচ সেটা অনেকটা আটকে রাখে, তাই বাইরে ঠান্ডা থাকলেও ভেতরটা উষ্ণ থাকে।
এ ধারণা থেকেই এসেছে গ্রিনহাউস প্রভাব নামটি: বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও জলীয়বাষ্প কাচের মতো পৃথিবীর তাপ আটকে রাখে।
নামে গ্রিন বা সবুজ থাকায় সবুজ আলো, সবুজ ভবন বা সবুজ গাছপালা মনে হতে পারে, কিন্তু এখানে সবুজ বলতে গাছ জন্মানোর ঘর বোঝায়, ঘরের রং বা আলো নয়।
মনে রাখুন: গ্রিনহাউস মানে কাচের ঘর; সেখান থেকেই গ্রিনহাউস প্রভাব।
১৫৫. কোনটি জারক পদার্থ নয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কহাইড্রোজেন
- খঅক্সিজেন
- গক্লোরিন
- ঘব্রোমিন
সঠিক উত্তর: ক. হাইড্রোজেন
প্রশ্নটা জারক ও বিজারক চেনার নিয়ম যাচাই করছে। জারক পদার্থ অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বা তাকে অক্সিজেন দেয়; বিজারক করে উল্টোটা, ইলেকট্রন দান করে।
অক্সিজেন, ক্লোরিন ও ব্রোমিন অধাতু এবং ইলেকট্রন গ্রহণে খুব আগ্রহী, তাই এরা জারক। ক্লোরিন দিয়ে পানি জীবাণুমুক্ত করা বা কাপড় ব্লিচ করা এর জারণ ক্ষমতার উদাহরণ।
হাইড্রোজেন সাধারণত ইলেকট্রন দান করে বা অক্সিজেন সরিয়ে নেয়। যেমন উত্তপ্ত কপার অক্সাইডের ওপর দিয়ে হাইড্রোজেন চালালে তা অক্সিজেন সরিয়ে কপার ধাতু ফিরিয়ে আনে, তাই হাইড্রোজেন বিজারক।
সূত্রটি মনে রাখুন: জারণ মানে ইলেকট্রন হারানো, বিজারণ মানে ইলেকট্রন পাওয়া; যে অন্যকে জারিত করে, সে নিজে বিজারিত হয়।
মনে রাখুন: হ্যালোজেন ও অক্সিজেন জারক, হাইড্রোজেন ও কার্বন বিজারক।
১৫৬. নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কি বলা হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কফিশন
- খমেসন
- গফিউশন
- ঘফিউশন ও মেসন
সঠিক উত্তর: ক. ফিশন
প্রশ্নটা নিউক্লিয়াসের বিভাজনের নাম জানতে চেয়েছে। একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি মাঝারি নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়াকে নিউক্লীয় ফিশন বলে।
যেমন ইউরেনিয়াম দুইশো পঁয়ত্রিশ একটি নিউট্রন শোষণ করে ভেঙে যায় এবং বিপুল শক্তি ও নতুন কয়েকটি নিউট্রন ছাড়ে। সেই নিউট্রন আবার অন্য নিউক্লিয়াস ভাঙে, ফলে শিকল বিক্রিয়া চলে; পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত ফিশনে চলে।
ফিউশন ঠিক উল্টো: হালকা নিউক্লিয়াস, যেমন হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস, মিলে ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে এই বিক্রিয়ায় শক্তি তৈরি হয়।
মেসন একটি অতিপারমাণবিক কণা, যার অস্তিত্বের কথা জাপানি বিজ্ঞানী হিদেকি ইউকাওয়া প্রথম বলেন; এটি কোনো বিক্রিয়ার নাম নয়। ফিশন ও ফিউশন নামে কাছাকাছি বলেই এখানে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: ফিশন মানে ভাঙা, ফিউশন মানে জোড়া।
১৫৭. বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমেরু অঞ্চলে
- খবিষুব অঞ্চলে
- গপাহাড়ের ওপর
- ঘপৃথিবীর কেন্দ্রে
সঠিক উত্তর: ক. মেরু অঞ্চলে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে পৃথিবীর কোথায় বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি। ওজন নির্ভর করে অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর, আর পৃথিবীপৃষ্ঠে এর মান সবচেয়ে বেশি মেরু অঞ্চলে।
প্রথম কারণ, পৃথিবী পুরো গোল নয়, মেরুর দিকে একটু চাপা আর বিষুব অঞ্চলে স্ফীত; তাই মেরু থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব কম, ফলে আকর্ষণ বেশি। দ্বিতীয় কারণ, পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাব বিষুব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি এবং মেরুতে প্রায় নেই।
মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণ প্রায় নয় দশমিক আট তিন, আর বিষুব অঞ্চলে প্রায় নয় দশমিক সাত আট মিটার প্রতি বর্গসেকেন্ড। পাহাড়ের ওপরে কেন্দ্র থেকে দূরত্ব বাড়ে বলে ওজন কমে।
ফাঁদ হলো পৃথিবীর কেন্দ্র: সব আকর্ষণ কেন্দ্রের দিকে বলে মনে হয় সেখানে ওজন সবচেয়ে বেশি, কিন্তু কেন্দ্রে চারদিকের ভর সব দিকে সমানভাবে টানে, তাই অভিকর্ষজ ত্বরণ ও ওজন শূন্য।
মনে রাখুন: ওজন: মেরুতে সবচেয়ে বেশি, বিষুবে কম, কেন্দ্রে শূন্য।
১৫৮. প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন কি পরিমাণ থাকে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৪০-৫০ ভাগ
- খ৬০-৭০ ভাগ
- গ৮০-৯০ ভাগ
- ঘ৩০-২৫ ভাগ
সঠিক উত্তর: গ. ৮০-৯০ ভাগ
প্রশ্নটা প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ জানতে চেয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, আর বিকল্পগুলোর মধ্যে সঠিক পরিসর আশি থেকে নব্বই ভাগ।
মিথেনের সঙ্গে সাধারণত অল্প ইথেন, প্রোপেন ও অন্যান্য হাইড্রোকার্বন, এবং নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো অপদ্রব্য থাকে। উৎসভেদে এই অনুপাত বদলায়।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস খুব বিশুদ্ধ: এতে মিথেন প্রায় পঁচানব্বই থেকে নিরানব্বই ভাগ এবং সালফার প্রায় নেই।
চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বা ষাট থেকে সত্তর ভাগ ধরলে প্রধান উপাদান মিথেনকে খাটো করে দেখা হয়; আর ত্রিশ থেকে পঁচিশ পরিসরটি অনেক কম এবং অস্বাভাবিকভাবে লেখা।
মনে রাখুন: প্রাকৃতিক গ্যাস মানেই প্রধানত মিথেন; বিকল্পে সবচেয়ে বড় পরিসরটি বাছুন।
১৫৯. চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কভিটামিন ই
- খভিটামিন কে
- গভিটামিন বি কমপ্লিক্স
- ঘভিটামিন এ
সঠিক উত্তর: গ. ভিটামিন বি কমপ্লিক্স
প্রশ্নটা চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে তা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
শ্রীলঙ্কা চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী চায়ে থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নায়াসিন ও বায়োটিনের মতো ভিটামিন থাকে। এগুলো সবই বি কমপ্লেক্সের সদস্য।
চায়ের সতেজ ভাব আসে ক্যাফেইন থেকে, যাকে চায়ের ক্ষেত্রে থিন বলা হয়; আর চায়ের কষ স্বাদ ও রঙের জন্য দায়ী ট্যানিন বা পলিফেনল।
মনে রাখবেন, একই সূত্রে চায়ে ভিটামিন ই থাকার কথাও আছে, তাই প্রশ্নটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। তবে বিকল্পগুলোর মধ্যে বি কমপ্লেক্সই প্রচলিত উত্তর।
মনে রাখুন: চা মানে ক্যাফেইন, ট্যানিন আর বি কমপ্লেক্স।
১৬০. ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর জনক কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কস্যাংগার ও পলিং
- খওয়াটসন ও ক্রিক
- গলুই পাস্তুর ও ওয়াটসন
- ঘপলিং ও ক্রিক
সঠিক উত্তর: খ. ওয়াটসন ও ক্রিক
প্রশ্নটা ডিএনএর দ্বি-হেলিক্স, অর্থাৎ দুই সূত্রের পেঁচানো সিঁড়ির মতো কাঠামোর আবিষ্কারক জানতে চেয়েছে। ১৯৫৩ সালে কেমব্রিজে কর্মরত জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক এই মডেল প্রকাশ করেন।
মডেল অনুযায়ী দুটি সূত্র পরস্পরকে পেঁচিয়ে থাকে, আর মাঝখানে ক্ষারকগুলো জোড়ায় জোড়ায় যুক্ত থাকে: অ্যাডেনিনের সঙ্গে থাইমিন, গুয়ানিনের সঙ্গে সাইটোসিন। এ কাজে রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন ও মরিস উইলকিন্সের এক্স-রে ছবির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এ আবিষ্কারের জন্য ১৯৬২ সালে ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিন্স চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
ফাঁদ হলো লিনাস পলিং: তিনিও একই সময়ে ডিএনএর মডেল খুঁজছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রস্তাবিত তিন সূত্রের মডেলটি ভুল ছিল। স্যাংগার বিখ্যাত প্রোটিন ও ডিএনএর অনুক্রম নির্ণয়ের জন্য, আর লুই পাস্তুর জীবাণুতত্ত্ব ও টিকার জন্য।
মনে রাখুন: দ্বি-হেলিক্স মানেই ওয়াটসন ও ক্রিক, ১৯৫৩।