বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৬
৫০১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- ক১৯১৮
- খ১৯২৬
- গ১৯৩২
- ঘ১৯৩৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৯২৬
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে কার্জন হলে বক্তৃতা দেন। তাই উত্তর ১৯২৬।
এই সফরে তিনি বুড়িগঙ্গায় নবাবদের হাউসবোট তুরাগে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিল্পের অর্থ বিষয়ে ইংরেজিতে বক্তৃতা দেন, আর আরেকটি বক্তৃতার বিষয় ছিল দানবের শাসন, মানে যন্ত্রসভ্যতার আধিপত্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর।
ফাঁদ ১৯৩৬। সে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি দেয়; বক্তৃতার বছরের সঙ্গে এটা গুলিয়ে ফেলা সহজ।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ছাব্বিশে বক্তৃতা, ছত্রিশে ডি.লিট।
৫০২. ‘সন্ধি’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কধ্বনিতত্ত্বে
- খঅর্থতত্ত্বে
- গবাক্যতত্ত্বে
- ঘরূপতত্ত্বে
সঠিক উত্তর: ক. ধ্বনিতত্ত্বে
সন্ধি মানে পাশাপাশি থাকা দুটি ধ্বনির মিলন। যেমন বিদ্যা আর আলয় মিলে বিদ্যালয়: এখানে আ আর আ মিলে একটি আ হয়েছে। যেহেতু এটা ধ্বনির পরিবর্তন, তাই সন্ধি আলোচিত হয় ধ্বনিতত্ত্বে।
বাংলা ব্যাকরণের প্রধান চারটি ভাগ। ধ্বনিতত্ত্বে আছে ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব ও ষত্ব বিধান। রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বে আছে শব্দ গঠন, প্রত্যয়, বিভক্তি, সমাস। বাক্যতত্ত্বে আছে বাক্য, বাচ্য, উক্তি, যতিচিহ্ন। অর্থতত্ত্বে আছে শব্দের অর্থ, সমার্থক ও বিপরীত শব্দ।
মনে রাখার উপায়: যেখানে শুধু ধ্বনি বা বর্ণ বদলায়, তা ধ্বনিতত্ত্ব; যেখানে শব্দ তৈরি হয়, তা রূপতত্ত্ব।
ফাঁদ রূপতত্ত্ব। সমাসেও দুটি শব্দ মিলে নতুন শব্দ হয়, তাই সমাস রূপতত্ত্বে; কিন্তু সন্ধিতে মেলে ধ্বনি, শব্দ নয়।
মনে রাখুন: ধ্বনিতত্ত্ব: ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব। রূপতত্ত্ব: প্রত্যয়, বিভক্তি, সমাস। একই রীতিতে হিমালয়, সূর্যোদয়, নরেশ সবই ধ্বনির মিলন।
৫০৩. কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কশিউলিমালা
- খবাঁধন হারা
- গমৃত্যুক্ষুধা
- ঘকুহেলিকা
সঠিক উত্তর: ক. শিউলিমালা
কাজী নজরুল ইসলাম তিনটি উপন্যাস লিখেছেন: বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা আর কুহেলিকা। শিউলিমালা উপন্যাস নয়, এটি তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ।
বাঁধনহারা নজরুলের প্রথম উপন্যাস, আর এটি চিঠির আকারে লেখা পত্রোপন্যাস। মৃত্যুক্ষুধায় কৃষ্ণনগরের দরিদ্র মানুষের জীবনসংগ্রাম, আর কুহেলিকায় বিপ্লবী রাজনীতির পটভূমি এসেছে।
নজরুলের গল্পগ্রন্থ তিনটি: ব্যথার দান, রিক্তের বেদন আর শিউলিমালা। তাই উপন্যাস আর গল্পগ্রন্থের তালিকা আলাদা করে মনে রাখলে এমন প্রশ্নে ভুল হয় না।
এখানে ফাঁদ হলো শিউলিমালা নামটাই; কাব্যিক নাম শুনে অনেকে একে কবিতা বা উপন্যাস ভাবেন, কিন্তু এটি গল্পের বই।
মনে রাখুন: নজরুলের উপন্যাস: ‘বাঁধন ছিঁড়ে মৃত্যুক্ষুধায় কুহেলিকা’। এর বাইরে সব গল্প বা কাব্য।
৫০৪. ‘মহুয়া’ কে রচনা করেছেন? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কমনসুর বয়াতি
- খদ্বিজ কানাই
- গদীনেশচন্দ্র সেন
- ঘদক্ষিণারঞ্জন মিত্র
সঠিক উত্তর: খ. দ্বিজ কানাই
মহুয়া মৈমনসিংহ গীতিকার সবচেয়ে বিখ্যাত পালা। এর রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকমুখে প্রচলিত এই পালাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে, আর দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা নামে প্রকাশ করেন। মহুয়া পালায় বেদে কন্যা মহুয়া আর জমিদারপুত্র নদের চাঁদের প্রেমের করুণ কাহিনি আছে।
এই গীতিকার আরেকটি বিখ্যাত পালা দেওয়ানা মদিনা, যার রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
ফাঁদ দীনেশচন্দ্র সেন। তিনি সম্পাদক, রচয়িতা নন। আর মনসুর বয়াতি একই গীতিকার কবি হলেও তাঁর পালা দেওয়ানা মদিনা।
মনে রাখুন: মহুয়া = দ্বিজ কানাই; দেওয়ানা মদিনা = মনসুর বয়াতি; সংগ্রহ = চন্দ্রকুমার দে; সম্পাদনা = দীনেশচন্দ্র সেন।
৫০৫. ‘কবিকঙ্কণ’ কোন কবির উপাধি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কমুকুন্দরাম চক্রবর্তী
- খভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
- গহরিদত্ত
- ঘমানিক দত্ত
সঠিক উত্তর: ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
কবিকঙ্কণ মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি। তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে কালকেতু-ফুল্লরা আর ধনপতি সদাগরের কাহিনি আছে। তাঁর লেখায় সমাজের সাধারণ মানুষের দুঃখ-দারিদ্র্যের বাস্তব ছবি আছে, যেমন ফুল্লরার বারমাস্যা।
মঙ্গলকাব্যের অন্য কবিদের পরিচয়ও মনে রাখুন: ভারতচন্দ্রের উপাধি রায়গুণাকর, তিনি অন্নদামঙ্গলের কবি। হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি, আর মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি।
ফাঁদ ভারতচন্দ্র। তাঁরও উপাধি আছে, কিন্তু সেটা রায়গুণাকর, যা প্রশ্নের অপশনেই তাঁর নামের সঙ্গে লেখা।
মনে রাখুন: চণ্ডীমঙ্গল: আদি কবি মানিক দত্ত, শ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম।
৫০৬. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কআগুনের পরশমণি
- খপায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- গএকাত্তরের দিনগুলি
- ঘজাহান্নাম হইতে বিদায়
সঠিক উত্তর: খ. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
অপশনের চারটি বই-ই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, কিন্তু প্রশ্নে জানতে চেয়েছে নাটক। এর মধ্যে নাটক কেবল পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, যার রচয়িতা সৈয়দ শামসুল হক।
এটি একটি কাব্যনাটক। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক গ্রামের মানুষ কীভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর মাতবরের মুখোশ খুলে দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ের আওয়াজে নতুন দিনের আশা দেখে, সেটাই এর কাহিনি। সৈয়দ শামসুল হকের আরেক বিখ্যাত কাব্যনাটক নূরলদীনের সারাজীবন।
বাকি তিনটি আলাদা ধরনের রচনা: আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস, পরে তাঁর পরিচালনায় চলচ্চিত্রও হয়। একাত্তরের দিনগুলি জাহানারা ইমামের দিনলিপি বা স্মৃতিকথা। জাহান্নাম হইতে বিদায় শওকত ওসমানের উপন্যাস।
ফাঁদ আগুনের পরশমণি। চলচ্চিত্র হিসেবে বেশি পরিচিত বলে অনেকে একে নাটক ভাবেন, কিন্তু মূল রচনাটি উপন্যাস।
মনে রাখুন: বিষয় এক হলেও ধরন আলাদা করে মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের নাটক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, আর মুনীর চৌধুরীর কবর হলো ভাষা আন্দোলনের নাটক।
৫০৭. “সাহিত্যিকী” পত্রিকাটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কবাংলা একাডেমি
- খবাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
- গঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্য পত্রিকা নিয়ে। “সাহিত্যিকী” প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। এটি একটি গবেষণাধর্মী সাহিত্য পত্রিকা, যেখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে প্রবন্ধ ছাপা হয়।
এ ধরনের প্রশ্নে নাম দুটো খুব কাছাকাছি হওয়ায় গোলমাল হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পত্রিকার নাম “সাহিত্য পত্রিকা”। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পত্রিকা “সাহিত্যিকী”।
বাংলা একাডেমির নিজস্ব পত্রিকা আলাদা: “উত্তরাধিকার”, “বাংলা একাডেমি পত্রিকা” আর শিশু-কিশোরদের জন্য “ধান শালিকের দেশ”।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাহিত্য পত্রিকা আর সাহিত্যিকী নাম দুটো প্রায় একই শোনায়; মনে রাখুন, ঢাকার পত্রিকা সাহিত্য পত্রিকা, রাজশাহীর পত্রিকা সাহিত্যিকী।
মনে রাখুন: নামের শেষে “-কী” থাকলে রাজশাহী: সাহিত্যিকী; সাদামাটা “সাহিত্য পত্রিকা” ঢাকার।
৫০৮. কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য নয়? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কচলন্ত
- খদর্শন
- গসৌন্দর্য
- ঘকরবে
সঠিক উত্তর: গ. সৌন্দর্য
ভাববাচক বিশেষ্য বোঝায় কোনো কাজের ভাব বা ক্রিয়ার নাম, যেমন গমন, ভোজন, দর্শন, শয়ন, চলন, করা। এগুলো ধাতু থেকে তৈরি, আর কাজটা করার অবস্থাকে নাম হিসেবে প্রকাশ করে।
অন্যদিকে গুণবাচক বিশেষ্য বোঝায় কোনো বস্তু বা ব্যক্তির গুণ বা দোষের নাম, যেমন সৌন্দর্য, মধুরতা, তারুণ্য, সততা। সুন্দর হলো বিশেষণ, আর তার গুণের নাম সৌন্দর্য। তাই সৌন্দর্য বিশেষ্য ঠিকই, কিন্তু ভাববাচক নয়, গুণবাচক।
দর্শন শব্দটি দৃশ্ ধাতু থেকে এসেছে, মানে দেখার কাজ; তাই এটি খাঁটি ভাববাচক বিশেষ্য। প্রশ্নকর্তা এখানে ভাববাচক আর গুণবাচক বিশেষ্যের পার্থক্যই যাচাই করতে চেয়েছেন।
তবে সতর্ক থাকুন, ছাপানো অপশনে চলন্ত হলো বিশেষণ আর করবে হলো ক্রিয়াপদ; এ দুটোও ভাববাচক বিশেষ্য নয়। চলন বা করা হলে সেগুলো ভাববাচক বিশেষ্য হতো। বিশেষ্যগুলোর মধ্যে যেটি ভাববাচক নয়, সেটি সৌন্দর্য, তাই উত্তর সৌন্দর্য।
মনে রাখুন: ধাতু থেকে কাজের নাম হলে ভাববাচক (গমন, শয়ন); বিশেষণ থেকে গুণের নাম হলে গুণবাচক (সৌন্দর্য, তারুণ্য, মধুরতা)।
৫০৯. প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ- (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কশীতা
- খভরপেট
- গলালপেড়ে
- ঘগ্রামীণ
সঠিক উত্তর: ঘ. গ্রামীণ
প্রশ্নটা জানতে চাইছে কোন শব্দ প্রত্যয় যোগে তৈরি, আর কোনগুলো সমাস দিয়ে। প্রত্যয় হলো শব্দ বা ধাতুর শেষে বসা শব্দাংশ, যার আলাদা অর্থ নেই। সমাসে দুই বা ততোধিক অর্থপূর্ণ শব্দ মিলে এক শব্দ হয়।
গ্রামীণ শব্দটি গ্রাম শব্দের সঙ্গে ঈন প্রত্যয় যোগে গঠিত। শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় বসেছে বলে এটি তদ্ধিত প্রত্যয়। ঈন-এর ন ণত্ব বিধানে র-এর প্রভাবে ণ হয়েছে, তাই বানান গ্রামীণ।
এই প্রত্যয়ের আরও উদাহরণ: কুল থেকে কুলীন, নব থেকে নবীন। প্রত্যেকটিতে মূল শব্দের সঙ্গে ঈন বসে নতুন বিশেষণ হয়েছে।
ভরপেট আর লালপেড়ে দুটোতেই দুটি অর্থপূর্ণ শব্দ জোড়া লেগেছে, তাই এগুলো সমাসবদ্ধ পদ। লালপেড়ে মানে লাল পাড় যার, এটি বহুব্রীহি সমাস; শেষের এ দেখে প্রত্যয় ভাবলে ভুল হবে।
মনে রাখুন: দুটো অংশই যদি আলাদা শব্দ হিসেবে অর্থ দেয়, তা সমাস; শেষ অংশ অর্থহীন হলে তা প্রত্যয়।
৫১০. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ: (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কগায়েপড়া
- খকানেখাটো
- গহাতেখড়ি
- ঘসেতার
সঠিক উত্তর: গ. হাতেখড়ি
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি হলো এমন বহুব্রীহি সমাস, যেখানে ব্যাসবাক্যের মাঝের একটি অংশ সমাস হওয়ার সময় লোপ পায়, আর পুরো সমাসটি অন্য কিছু বোঝায়।
হাতেখড়ি শব্দের ব্যাসবাক্য: হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে। মাঝের দেওয়া হয় যে অংশটি লোপ পেয়েছে, আর সমাসটি বোঝাচ্ছে একটি অনুষ্ঠানকে, হাত বা খড়িকে নয়। তাই এটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি। একই রকম উদাহরণ গায়েহলুদ: গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।
গায়েপড়া আর কানেখাটো দুটোতেই প্রথম পদের এ বিভক্তি লোপ পায়নি; গায়ে পড়ে যে, কানে খাটো যে। বিভক্তি থেকে যাওয়ায় এগুলো অলুক বহুব্রীহি।
সেতার মানে সে বা তিনটি তার যার, এখানে প্রথম পদ সংখ্যা, তাই এটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। হাতেখড়িতেও এ বিভক্তি আছে বলে অনেকে একে অলুক ভাবেন; আসল পরিচয় হলো মাঝের পদ লোপ।
মনে রাখুন: অনুষ্ঠানের নাম হলে প্রায় সব সময় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: হাতেখড়ি, গায়েহলুদ। বিভক্তি থেকে গিয়ে স্বভাব বোঝালে অলুক বহুব্রীহি: গায়েপড়া, কানেখাটো, মাথায়পাগড়ি।
৫১১. অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কসারারাত বৃষ্টি ছিল।
- খসুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু।
- গবাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
- ঘভোরে সূর্য উঠে।
সঠিক উত্তর: ক. সারারাত বৃষ্টি ছিল।
অধিকরণ কারক বোঝায় ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল বা বিষয়। সাধারণত এতে এ, য়, তে বিভক্তি বসে, যেমন ভোরে, ঘরে, বাড়িতে। কিন্তু কখনো কখনো কোনো বিভক্তি ছাড়াই অধিকরণ হয়, তাকে বলে শূন্য বিভক্তি।
সারারাত বৃষ্টি ছিল বাক্যে প্রশ্ন করি: কখন বৃষ্টি ছিল? উত্তর সারারাত। এটি সময় বোঝাচ্ছে, তাই কালাধিকরণ; আর সারারাত শব্দে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই শূন্য বিভক্তি।
একই রকম উদাহরণ: আমি সেদিন বাড়ি যাইনি, বছর বছর বন্যা হয়। সময় বা কালের পরিমাণ বোঝালে প্রায়ই শূন্য বিভক্তি দেখা যায়।
ভোরে সূর্য উঠে বাক্যেও কালাধিকরণ আছে, কিন্তু ভোরে শব্দে এ বিভক্তি আছে, শূন্য নয়; এটাই প্রধান ফাঁদ। বাড়ি থেকে অপাদান কারক, আর সুখের লাগিয়া নিমিত্ত বোঝায়।
মনে রাখুন: অধিকরণ খুঁজতে কখন বা কোথায় প্রশ্ন করুন; উত্তরের শব্দে কোনো বিভক্তি না থাকলে শূন্য বিভক্তি (সারারাত, সেদিন, বছর বছর)।
৫১২. Rabindranath Tagore received Nobel Prize in - (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- ক1910
- খ1913
- গ1920
- ঘ1921
সঠিক উত্তর: খ. 1913
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ১৯১৩ সালে। তিনি প্রথম এশীয় এবং প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পান।
পুরস্কার এসেছিল মূলত গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সং অফারিংস বইয়ের জন্য, যা ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস।
বাংলা গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে; তাই ১৯১০ অপশনটি বড় ফাঁদ। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার রবীন্দ্রনাথকে নাইট উপাধি দেয়, যা তিনি ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফিরিয়ে দেন।
মনে রাখুন: গীতাঞ্জলি: বাংলা ১৯১০, ইংরেজি ১৯১২, নোবেল ১৯১৩: তিন বছরে তিন ধাপ।
৫১৩. সেলিম আল দীনের যে সৃষ্টিকর্মটি ব্যতিক্রমধর্মী - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কনিমজ্জন
- খহরগজ
- গপ্রাচ্য
- ঘঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমনীগণ
সঠিক উত্তর: ঘ. ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমনীগণ
সেলিম আল দীন বাংলাদেশের নাট্যাচার্য হিসেবে পরিচিত; তাঁর প্রায় সব বিখ্যাত রচনাই মঞ্চনাটক। প্রশ্নটি তাই জানতে চেয়েছে কোন রচনাটি সাধারণ নাটকের ধারা থেকে আলাদা।
হরগজ, প্রাচ্য ও নিমজ্জন তিনটিই তাঁর মঞ্চনাটক। হরগজ ১৯৯২ সালের, প্রাচ্য ১৯৯৮ সালের এবং নিমজ্জন ২০০২ সালের রচনা।
ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ একটি নৃত্যনাট্য, প্রকাশ ২০০৭ সালে। নাচ ও গানের মাধ্যমে কাহিনি বলার এই রূপ সাধারণ সংলাপনির্ভর নাটক থেকে আলাদা, তাই নাটকের ভিড়ে এটিই ব্যতিক্রম।
সেলিম আল দীনের অন্য বিখ্যাত নাটক কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাতহদাই, চাকা ও যৈবতী কন্যার মন; তাঁর উপন্যাস অমৃত উপাখ্যান। নাম শুনে অচেনা লাগলেই বাদ দেওয়া নয়, রচনার ধরন দেখে বিচার করতে হয়।
মনে রাখুন: নাট্যকারের ব্যতিক্রমী রচনা খুঁজতে বললে ভিন্ন ধরনের রচনাটি খুঁজুন: নৃত্যনাট্য, উপন্যাস বা কবিতা।
৫১৪. বাংলা ভাষায় ব্যাকরণ রচনা করেননি- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কজন বিমস
- খডানকান ফোর্বস
- গজর্জ গ্রিয়ারসন
- ঘজেমস কিথ
সঠিক উত্তর: গ. জর্জ গ্রিয়ারসন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন বিদেশি পণ্ডিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেননি। উত্তর জর্জ গ্রিয়ারসন; অপশনে নামটি গ্রিয়ারমন ছাপা হয়েছে।
গ্রিয়ারসনের বিখ্যাত কাজ লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া, যেখানে উপমহাদেশের শত শত ভাষা ও উপভাষার জরিপ আছে। এটি ভাষা জরিপ, বাংলা ব্যাকরণ নয়।
অন্যদিকে জেমস কিথ ১৮২০ সালে বাংলায় ব্যাকরণ লেখেন, ডানকান ফোর্বস ১৮৬১ সালে A Grammar of the Bengali Language লেখেন, আর জন বিমস ১৮৯১ সালে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
মনে রাখুন, প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও, ১৭৪৩ সালে, আর ইংরেজিতে প্রথম মুদ্রিত বাংলা ব্যাকরণ হ্যালহেডের, ১৭৭৮ সালে। গ্রিয়ারসনের নাম ভাষাতত্ত্বে খুব পরিচিত বলেই তাঁকে ব্যাকরণবিদ ভাবার ফাঁদ।
মনে রাখুন: গ্রিয়ারসন মানেই লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে; ব্যাকরণ প্রশ্নে তিনি সাধারণত উত্তরের বাইরে।
৫১৫. সরল বাক্যে রূপান্তর করুন- ‘ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে, এর বিরাম নেই।’ (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅবিরাম ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে।
- খবিরামহীন ভয়াল শব্দ হচ্ছে আর বাজ পড়ছে।
- গভয়াল শব্দ তবু বাজ পড়ার বিরাম নেই।
- ঘবাজ পড়ছে ভয়াল শব্দে, অবিরাম।
সঠিক উত্তর: ক. অবিরাম ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে।
প্রদত্ত বাক্যে দুটি স্বাধীন অংশ আছে: ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে, আর এর বিরাম নেই। তাই এটি যৌগিক ধরনের বাক্য। সরল বাক্যে থাকে মাত্র একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
সরল করার কৌশল হলো দ্বিতীয় অংশটিকে একটি শব্দে পরিণত করা। বিরাম নেই মানে অবিরাম, এটি একটি বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণ। তখন বাক্য দাঁড়ায়: অবিরাম ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে। এখানে সমাপিকা ক্রিয়া একটিই, পড়ছে।
খ ও গ অপশনে দুটি অংশ আর বা তবু দিয়ে যুক্ত, তাই সেগুলো যৌগিক বাক্য। ঘ অপশনেও একটিই ক্রিয়া, কিন্তু পদক্রম উল্টো ও কাব্যিক; প্রমিত গদ্যে বিশেষণ বসে বিশেষ্যের আগে, ক্রিয়া থাকে শেষে।
ফাঁদ হলো খ, কারণ সেখানে বিরামহীন শব্দটি আছে; কিন্তু আর দিয়ে দুটি বাক্য জোড়া থাকায় এটি সরল নয়।
মনে রাখুন: যৌগিক থেকে সরল করতে দ্বিতীয় বাক্যাংশকে বিশেষণ বা অসমাপিকা ক্রিয়ায় নিন: সে গরিব, কিন্তু সৎ → সে গরিব হলেও সৎ।
৫১৬. ‘স্রবণ’ শব্দের অর্থ হলো - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনুধ্যান
- খক্ষরণ
- গক্ষুরধার
- ঘঅভিনিবেশ
সঠিক উত্তর: খ. ক্ষরণ
স্রবণ শব্দের অর্থ ক্ষরণ, অর্থাৎ ধীরে ধীরে চুইয়ে বা ঝরে পড়া। শব্দটি এসেছে সংস্কৃত স্রু ধাতু থেকে, যার অর্থ প্রবাহিত হওয়া।
একই ধাতু থেকে এসেছে স্রোত, স্রাব ও প্রস্রবণ। প্রস্রবণ মানে ঝরনা, যেখান থেকে পানি অনবরত ঝরে। এই পরিবার মনে রাখলে স্রবণের অর্থ সহজে মনে থাকে।
অন্য অপশনগুলো আলাদা অর্থের শব্দ: অনুধ্যান মানে গভীর চিন্তা, ক্ষুরধার মানে খুব তীক্ষ্ণ, আর অভিনিবেশ মানে মনোযোগ।
ক্ষরণ আর ক্ষুরধার দুটোই ক্ষ দিয়ে শুরু, তাই তাড়াহুড়োয় গুলিয়ে যেতে পারে; কিন্তু ঝরে পড়ার ভাব আছে শুধু ক্ষরণে।
মনে রাখুন: স্রু ধাতু মানেই প্রবাহ: স্রোত, স্রাব, প্রস্রবণ, স্রবণ।
৫১৭. নিচের যে প্রতিশব্দটি বেমানান- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কবিবস্বান
- খবিটপী
- গদ্রুম
- ঘপাদপ
সঠিক উত্তর: ক. বিবস্বান
প্রশ্নটি চায় চারটি শব্দের মধ্যে কোনটি অন্যদের থেকে আলাদা অর্থের। বিটপী, দ্রুম ও পাদপ তিনটিই গাছের প্রতিশব্দ; বিবস্বান মানে সূর্য।
পাদপ মানে যে পা দিয়ে, অর্থাৎ শিকড় দিয়ে পানি পান করে, তাই গাছ। বিটপ মানে শাখা-পল্লব, আর যার বিটপ আছে সে বিটপী, অর্থাৎ গাছ। দ্রুম সংস্কৃত শব্দ, এর অর্থও গাছ।
বিবস্বান সূর্যের প্রতিশব্দ, যেমন রবি, ভানু, তপন, দিবাকর, ভাস্কর। সূর্যের বৈদিক নাম বিবস্বান।
বিবস্বান আর বিটপী দুটোই বি দিয়ে শুরু, তাই চেহারা দেখে গুলিয়ে যায়; অর্থ মনে রাখলেই উত্তর পরিষ্কার। অপশনে ছাপা পাদম আসলে পাদপ।
মনে রাখুন: গাছের প্রতিশব্দ: তরু, বৃক্ষ, পাদপ, দ্রুম, বিটপী, মহীরুহ, শাখী। সূর্যের: রবি, ভানু, তপন, বিবস্বান, দিবাকর।
৫১৮. নিচের পত্রিকাগুলোর মধ্যে যেটি ব্যতিক্রমধর্মী- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপ্রগতি
- খকালিকলম
- গসীমান্ত
- ঘপূর্বাশা
সঠিক উত্তর: গ. সীমান্ত
প্রশ্নটি চার পত্রিকার মধ্যে কোনটি আলাদা জানতে চায়। প্রগতি, কালিকলম ও পূর্বাশা তিনটিই দেশভাগের আগের, কল্লোল যুগ ও তিরিশের আধুনিক সাহিত্য আন্দোলনের পত্রিকা।
কালিকলম ১৯২৬ সালে কলকাতা থেকে বের হয়, সম্পাদক ছিলেন মুরলীধর বসু, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। প্রগতি ১৯২৭ সালে ঢাকা থেকে বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায়। পূর্বাশা ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে সঞ্জয় ভট্টাচার্যের সম্পাদনায়।
সীমান্ত বের হয় ১৯৪৭ সালে, দেশভাগের পর চট্টগ্রাম থেকে, মাহবুব উল আলম চৌধুরীর সম্পাদনায়। এটি পূর্ব বাংলার প্রগতিশীল সাহিত্যের পত্রিকা, পুরনো আধুনিকতাবাদী ধারার নয়। তাই সীমান্তই ব্যতিক্রম।
প্রগতি ঢাকা থেকে বের হওয়ায় অনেকে একে পূর্ব বাংলার পত্রিকা হিসেবে আলাদা ভাবেন; কিন্তু এটি কল্লোলেরই সহযাত্রী, দেশভাগের অনেক আগের।
মনে রাখুন: কল্লোল (১৯২৩), কালিকলম (১৯২৬), প্রগতি (১৯২৭), পূর্বাশা (১৯৩২): এক দল। সীমান্ত (১৯৪৭) দেশভাগের পরের।
৫১৯. বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তির উদাহরণ হলো- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কহাঁড়িপাতিল
- খনিভুনিভু
- গবকাঝকা
- ঘমাঠেঘাটে
সঠিক উত্তর: গ. বকাঝকা
দ্বিরুক্তি মানে একই বা প্রায় একই শব্দ দুবার ব্যবহার। বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তিতে প্রথম শব্দটি ঠিক থাকে, আর দ্বিতীয়টি প্রথমটির ধ্বনি একটু বদলে বা বিকৃত করে তৈরি হয়।
বকাঝকা শব্দে প্রথম অংশ বকা, আর দ্বিতীয় অংশ ঝকা তারই ধ্বনি-বদলানো রূপ। এভাবেই তৈরি হয় মিটমাট, ফিটফাট, তেলটেল, জলটল ইত্যাদি।
হাঁড়িপাতিল দুটি আলাদা কিন্তু সম্পর্কিত বস্তুর নাম, তাই এটি সহচর বা সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি। মাঠেঘাটেও একইভাবে দুটি সহচর শব্দ, বিভক্তিসহ। নিভুনিভু একই শব্দ দুবার, অর্থাৎ পূর্ণ দ্বিরুক্তি।
মাঠেঘাটে দেখে মনে হতে পারে দ্বিতীয় শব্দটি বদলানো, কিন্তু ঘাট নিজেই একটি স্বাধীন অর্থপূর্ণ শব্দ; বিকারজাত দ্বিতীয় শব্দের প্রায়ই আলাদা অর্থ থাকে না।
মনে রাখুন: দ্বিতীয় অংশের নিজের অর্থ না থাকলে বা প্রথমটির ছায়া হলে বিকারজাত: মিটমাট, ফিটফাট, তেলটেল, বকাঝকা।
৫২০. চর্মকার >-------> চামার এ শূণ্যস্থানে বসবে - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কচম্মআর
- খচম্মকার
- গচর্মআর
- ঘচর্মসার
সঠিক উত্তর: ক. চম্মআর
প্রশ্নটি তৎসম শব্দ চর্মকার থেকে তদ্ভব শব্দ চামার হওয়ার মাঝের ধাপ জানতে চায়। এই পরিবর্তন ঘটেছে প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে।
প্রথম ধাপে চর্ম শব্দের র্ম যুক্তবর্ণে র লোপ পেয়ে ম দ্বিত্ব হয়: চর্ম থেকে চম্ম। একে বলে সমীভবন। একই সঙ্গে কার অংশের ক লোপ পেয়ে থাকে শুধু আর। ফলে পাওয়া যায় চম্মআর।
দ্বিতীয় ধাপে দ্বিত্ব ম্ম সরল হয়ে একটি ম থাকে, আর তার ক্ষতিপূরণে আগের অ দীর্ঘ হয়ে আ হয়। তখন চম্মআর থেকে চামার।
চম্মকার অপশনটিতে ক এখনো রয়ে গেছে, তাই এটি অর্ধেক কাজ; আর চর্মআর-এ র্ম রয়েছে, সমীভবন হয়নি। এ দুটিই ফাঁদ।
মনে রাখুন: একই নিয়ম: কর্মকার > কম্মআর > কামার, হস্ত > হত্থ > হাত, চন্দ্র > চন্দ > চাঁদ।