বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৭
৫২১. ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত হলো - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কডেকে ডেকে
- খবারে বারে
- গযায় যায়
- ঘদেখতে দেখতে
সঠিক উত্তর: গ. যায় যায়
প্রশ্নটি চায় এমন উদাহরণ যেখানে ক্রিয়াপদ দুবার বসে বিশেষণের কাজ করছে। উত্তর যায় যায়, যেমন যায় যায় অবস্থা; এখানে যায় যায় বিশেষ্য অবস্থাকে বিশেষিত করছে।
এ ধরনের আরও উদাহরণ: পড়ি পড়ি বাড়ি, মরমর রোগী, ডুবুডুবু নৌকা। প্রতিটিতে ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি একটি বিশেষ্যের আগে বসে তার অবস্থা বোঝায়।
ডেকে ডেকে ও দেখতে দেখতে অসমাপিকা ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি, এগুলো ক্রিয়া-বিশেষণ হিসেবে কাজ করে, যেমন দেখতে দেখতে দিন চলে গেল। বারে বারে বিশেষ্যের দ্বিরুক্তি, এটিও ক্রিয়া-বিশেষণ।
ফাঁদ হলো ডেকে ডেকে বা দেখতে দেখতে, কারণ এগুলোও ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি; কিন্তু এরা বিশেষ্যকে নয়, ক্রিয়াকে বিশেষিত করে।
মনে রাখুন: দ্বিরুক্তির পরে বিশেষ্য বসলে বিশেষণ (যায় যায় অবস্থা, পড়ি পড়ি বাড়ি), ক্রিয়া বসলে ক্রিয়া-বিশেষণ।
৫২২. শামসুর রাহমান রচিত ‘ইলেক্ট্রার গান’ কবিতায় মিথের আড়ালে দ্যোতিত হয়েছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপিতৃহারা বঙ্গবন্ধু কন্যার আবেগ
- খসন্তানহারা জননীর বেদনা
- গঅপরিসীম অপত্যস্নেহ
- ঘশিশুপুত্র রাসেল হত্যার করুণ কাহিনি
সঠিক উত্তর: ক. পিতৃহারা বঙ্গবন্ধু কন্যার আবেগ
শামসুর রাহমানের ইলেক্ট্রার গান কবিতায় গ্রিক পুরাণের চরিত্র ইলেক্ট্রাকে ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পিতৃশোক প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রিক পুরাণে ইলেক্ট্রা রাজা আগামেমননের কন্যা। তার বাবাকে নিজের ঘরেই হত্যা করা হয়, আর ইলেক্ট্রা পিতৃহত্যার শোক ও বিচারের আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়ে বাঁচে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর শেখ হাসিনার অবস্থার সঙ্গে এর মিল আছে।
মিথ বা পুরাণকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সমকালীন ঘটনা বলা আধুনিক কবিতার একটি কৌশল। এখানে ইলেক্ট্রা মানে কন্যা, আর আগামেমনন মানে নিহত পিতা।
শিশুপুত্র রাসেলের হত্যাও একই ঘটনার অংশ, তাই অপশনটি টানে; কিন্তু ইলেক্ট্রা মিথটি কন্যার পিতৃশোকের, সন্তান হারানোর নয়।
মনে রাখুন: মিথের চরিত্র কে, তার সম্পর্ক কী, সেটা জানলেই কবিতার ইঙ্গিত বোঝা যায়: ইলেক্ট্রা মানে কন্যা ও পিতৃশোক।
৫২৩. বিশ শতকের ষাটের দশকের কবিদের জন্য প্রাসঙ্গিক - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনির্দেশ্য সৌন্দর্যচেতনা
- খরূপক-প্রতীকের আড়াল
- গনির্ভীক সত্যপ্রকাশ
- ঘবিবিক্ত সমাজচেতনা
সঠিক উত্তর: গ. নির্ভীক সত্যপ্রকাশ
বিশ শতকের ষাটের দশক পূর্ব বাংলার জন্য আন্দোলনের দশক: আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, ছয় দফা, আর ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। এই সময়ের কবিরা দমনপীড়নের মধ্যেও সত্য কথা সাহসের সঙ্গে বলেছেন।
এ দশকের কবি হিসেবে পরিচিত রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা, হুমায়ুন আজাদ, আসাদ চৌধুরী প্রমুখ। আসাদ চৌধুরী ও নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় স্বাধিকার আন্দোলন আর রাজনৈতিক প্রতিবাদ সরাসরি এসেছে।
তাই ষাটের কবিদের জন্য প্রাসঙ্গিক বৈশিষ্ট্য নির্ভীক সত্যপ্রকাশ। অনির্দেশ্য সৌন্দর্যচেতনা মূলত তিরিশের কিছু কবির বা রোমান্টিক ধারার বৈশিষ্ট্য, আর বিবিক্ত মানে বিচ্ছিন্ন সমাজচেতনা, যা আন্দোলনমুখী কবিদের সঙ্গে মেলে না।
ফাঁদ হলো রূপক-প্রতীকের আড়াল, কারণ সামরিক শাসনে কেউ কেউ প্রতীক ব্যবহার করেছেন; কিন্তু দশকটির প্রধান সুর ছিল সাহসী উচ্চারণ।
মনে রাখুন: দশক ধরে কবিতার বৈশিষ্ট্য প্রশ্নে সেই দশকের রাজনৈতিক ঘটনা মনে করুন: ষাট মানে আন্দোলন ও সাহস।
৫২৪. সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কাব্যনাট্যে ‘নিলক্ষার নীল’ পদবন্ধটি প্রকাশ করেছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনন্ত নক্ষত্রবীথি
- খদৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশ
- গবিষাক্ত পৃথিবী
- ঘনীল জোৎস্না
সঠিক উত্তর: খ. দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশ
নূরলদীনের সারাজীবন সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য, প্রকাশ ১৯৮২ সালে। এর বিষয় ১৭৮২-৮৩ সালে রংপুরে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে কৃষক নেতা নূরলদীনের বিদ্রোহ।
নাটকের শুরুতেই আকাশের বর্ণনায় আসে নিলক্ষা আকাশ নীল কথাটি। রংপুর অঞ্চলের ভাষায় নিলক্ষা মানে এমন বিস্তার যার শেষ চোখে ধরা যায় না। তাই নিলক্ষার নীল বলতে বোঝায় দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে যাওয়া বিশাল নীল আকাশ।
সৈয়দ শামসুল হক এই নাটকে আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করে কৃষকের জীবন জীবন্ত করেছেন। তাঁর আরেক বিখ্যাত কাব্যনাট্য পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
পরের লাইনে তারার কথা আসে বলে অনন্ত নক্ষত্রবীথি অপশনটি টানে, আর নীল শব্দের কারণে নীল জোৎস্না; কিন্তু নিলক্ষা শব্দের মূল ভাব হলো সীমাহীন বিস্তার।
মনে রাখুন: নূরলদীন = সৈয়দ শামসুল হক, কাব্যনাট্য, রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ (১৭৮২-৮৩), প্রকাশ ১৯৮২।
৫২৫. নিচের যেটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রাপ্ত পুরস্কার বা উপাধি নয়- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপদ্মভূষণ
- খজগত্তারিণী পদক
- গএকুশে পদক
- ঘমুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক
সঠিক উত্তর: ঘ. মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক
কাজী নজরুল ইসলাম জীবদ্দশায় ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশ থেকেই বড় সম্মান পেয়েছেন। প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি তিনি পাননি।
১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক দেয়। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ দেয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি লিট দেয়, আর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার দেয় একুশে পদক।
মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক নামে কোনো পুরস্কার নজরুল পাননি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধুদের বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা দেয়, তবে নজরুল সে তালিকায় নেই।
নজরুল মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ছিলেন, তাঁর গান স্বাধীন বাংলা বেতারে বাজত; এই কারণেই অনেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা বেছে ফেলেন।
মনে রাখুন: নজরুলের সম্মান ক্রমে: ১৯৪৫ জগত্তারিণী, ১৯৬০ পদ্মভূষণ, ১৯৭৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি লিট, ১৯৭৬ একুশে পদক।
৫২৬. চর্যাপদের অধ্যাত্মভাবনা ও সাহিত্যিক উৎকর্ষের সর্বোত্তম সমন্বয় ঘটেছে যার মাধ্যমে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কসমাজচিত্র
- খজীবনভাবনা
- গভাষা
- ঘকাব্যিকতা
সঠিক উত্তর: ক. সমাজচিত্র
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
চর্যার মূল উদ্দেশ্য গূঢ় ধর্মতত্ত্ব বা অধ্যাত্মভাবনা প্রকাশ। কিন্তু কবিরা সেই তত্ত্ব বলেছেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছবি দিয়ে: নৌকা বাওয়া, হরিণ শিকার, তাঁত বোনা, ডোমনির জীবন, ভাতের অভাব।
এই সমাজচিত্রের মাধ্যমেই তত্ত্ব আর সাহিত্যগুণ একসঙ্গে মিলেছে, তাই চর্যাপদকে সে যুগের সমাজের দলিলও বলা হয়। যেমন ভুসুকুপার পদে হরিণের মাংসই তার শত্রু, এই ছবির আড়ালে সাধনার কথা।
ভাষা অপশনটি টানে, কারণ চর্যার সন্ধ্যাভাষা বিখ্যাত; কিন্তু সন্ধ্যাভাষা তত্ত্ব গোপন রাখার উপায়, আর সাহিত্যিক উৎকর্ষ ফুটেছে জীবনের ছবিতে।
মনে রাখুন: চর্যাপদ: আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; তত্ত্ব বলা হয়েছে সমাজের ছবিতে।
৫২৭. নিচের যেটি মধ্যযুগের সাহিত্যধারার অন্তর্ভূক্ত- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপত্রসাহিত্য
- খপ্রহসন
- গপাঁচালি
- ঘগীতিকাব্য
সঠিক উত্তর: গ. পাঁচালি
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ মোটামুটি ১২০১ থেকে ১৮০০ সাল। এ সময়ের প্রধান ধারা মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, অনুবাদ সাহিত্য, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, নাথ সাহিত্য, পুঁথি ও পাঁচালি।
পাঁচালি হলো গান ও ছড়ার সুরে কাহিনি বর্ণনার রীতি। মঙ্গলকাব্যগুলো পাঁচালির ঢঙে গাওয়া হতো, আর ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়ার রীতি আজও আছে। তাই পাঁচালি মধ্যযুগের ধারা।
প্রহসন আধুনিক যুগের সৃষ্টি; মাইকেল মধুসূদন দত্তের একেই কি বলে সভ্যতা ১৮৬০ সালে প্রকাশিত। পত্রসাহিত্যও আধুনিক, যেমন রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র। আধুনিক গীতিকাব্যের সূচনা বিহারীলাল চক্রবর্তীর হাতে, তাঁকে বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
ফাঁদ হলো গীতিকাব্য, কারণ মধ্যযুগে মৈমনসিংহ গীতিকা ও বৈষ্ণব পদাবলির মতো গানধর্মী রচনা ছিল। কিন্তু গীতিকা আর আধুনিক গীতিকাব্য এক জিনিস নয়।
মনে রাখুন: মধ্যযুগ মানে মঙ্গল, পদাবলি, পুঁথি, পাঁচালি; প্রহসন, সনেট, মহাকাব্য, গীতিকাব্য ও পত্রসাহিত্য আধুনিক।
৫২৮. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ‘আল’ প্রত্যয় যে রূপ থেকে বিবর্তিত হয়েছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কআল
- খআলুষ
- গআল্যু
- ঘআলুচ
সঠিক উত্তর: ঘ. আলুচ
প্রশ্নটি তদ্ধিত প্রত্যয় আল-এর উৎস জানতে চায়। বাংলা আল প্রত্যয় এসেছে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় আলুচ্ থেকে।
সংস্কৃতে আলুচ্ প্রত্যয় যোগে হয় দয়া থেকে দয়ালু, শ্রদ্ধা থেকে শ্রদ্ধালু, নিদ্রা থেকে নিদ্রালু। সংস্কৃত প্রত্যয়ের শেষে যে চ্ থাকে তা ইৎ বা চিহ্নমাত্র, শব্দে বসে না; বসে শুধু আলু।
বাংলায় এসে আলু আরও ক্ষয়ে গিয়ে আল হয়েছে। তাই দয়ালু থেকে লোকমুখে দয়াল, যেমন দয়াল বাবা। একইভাবে আল যুক্ত হয়ে বোঝায় ভাবযুক্ত বা স্বভাববিশিষ্ট কেউ।
আল অপশনটি প্রশ্নেরই পুনরাবৃত্তি, তাই সেটি উত্তর হতে পারে না; আলুষ বা আল্যু নামে কোনো প্রত্যয় নেই।
মনে রাখুন: আলুচ্ প্রত্যয়ের উদাহরণ: দয়ালু, শ্রদ্ধালু, নিদ্রালু, কৃপালু, তন্দ্রালু।
৫২৯. নিচের যেটি বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত নয়- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅন্তরীপ
- খদ্বীপ
- গঅপয়া
- ঘঅনুতাপ
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুতাপ
বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রধান থাকে না, তৃতীয় কোনো অর্থ বোঝায়। ব্যাসবাক্যে সাধারণত থাকে যার বা যে।
অন্তরীপ: অন্তর্গত অপ বা জল যার, অর্থাৎ তিন দিকে জলঘেরা স্থলভাগ। দ্বীপ: দুই দিকে বা চারদিকে অপ যার। দুটোই বহুব্রীহি, কারণ বোঝাচ্ছে জল নয়, স্থলভাগ।
অপয়া: নেই পয় যার, মানে যার ভাগ্য ভালো নয়; এটি নঞ্ বহুব্রীহি।
অনুতাপ: পশ্চাৎ তাপ, অর্থাৎ কাজের পরে আসা অনুশোচনা। এখানে অনু অব্যয় অর্থ দিচ্ছে পশ্চাৎ, তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাস, বহুব্রীহি নয়। অপয়ার শুরুতে অ দেখে নঞ্ তৎপুরুষ ভাবা একটি সাধারণ ভুল, কিন্তু যার থাকলে তা বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: অনু, উপ, প্রতি, যথা, আ ইত্যাদি অব্যয় পূর্বপদে থেকে অর্থ দিলে অব্যয়ীভাব: অনুতাপ, উপকূল, প্রতিদিন, যথাশক্তি।
৫৩০. 'তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা আশা করা যায়নি।' বাক্যটি যে বাচ্যের উদাহরণ - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ককর্তৃবাচ্য
- খভাববাচ্য
- গকর্মকর্তৃবাচ্য
- ঘকর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর: খ. ভাববাচ্য
বাচ্য নির্ণয়ে দেখতে হয় বাক্যে কর্তা, কর্ম না ক্রিয়ার ভাব প্রধান। ভাববাচ্যে কর্তা প্রায়ই উহ্য বা গৌণ থাকে, কর্ম থাকে না বা প্রধান নয়, আর ক্রিয়ার ভাবটাই মুখ্য; ক্রিয়া সাধারণত করা যায়, হয়, যাওয়া হয় ধরনের।
এখানে মূল বাক্য হলো তা আশা করা যায়নি। কে আশা করেনি, সেই কর্তা নেই; গুরুত্ব পেয়েছে আশা করা যায়নি এই ভাবটি। প্রথম অংশ তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, এখানেও কর্তা তোমাকে দিয়ে গৌণ হয়ে আছে, আর হবে ক্রিয়াটি প্রধান।
এই দুটি বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে বাক্যটি ভাববাচ্যের উদাহরণ। ভাববাচ্যের পরিচিত উদাহরণ: আমার খাওয়া হলো না, আমাকে এখন যেতে হবে, এ পথে চলা যায় না।
কর্মবাচ্যে কর্ম প্রধান হয়ে কর্তার জায়গায় বসে, যেমন চোরটি ধরা পড়েছে বা আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। এখানে তা শব্দটি কর্মের মতো দেখায় বলে কর্মবাচ্য ভাবার ঝুঁকি আছে, কিন্তু বাক্যের জোর আশা করার ভাবের উপর।
মনে রাখুন: দিয়ে, দ্বারা দিয়ে কর্তা গৌণ আর ক্রিয়া হয় বা যায় দিয়ে শেষ হলে সাধারণত ভাববাচ্য: আমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
৫৩১. পাঠের বর্জনকৃত অংশ নির্দেশে ব্যবহৃত হয় - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ক’ - চিহ্ন
- খ() - চিহ্ন
- গ... - চিহ্ন
- ঘ“ ” - চিহ্ন
সঠিক উত্তর: গ. ... - চিহ্ন
কোনো লেখা উদ্ধৃত করার সময় মাঝখানের বা শেষের কিছু অংশ বাদ দিলে সেই বাদ পড়া জায়গায় পরপর তিনটি বিন্দু বসানো হয়। একে বলে বর্জন চিহ্ন বা ত্রিবিন্দু।
যেমন: তিনি বললেন, আমি আসব ... তবে দেরি হবে। এখানে তিনটি বিন্দু দেখাচ্ছে যে মাঝের কিছু কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।
অন্য চিহ্নগুলোর কাজ আলাদা। ঊর্ধ্বকমা বর্ণ বা অক্ষর লোপ বোঝায়, যেমন মা’র। বন্ধনী ব্যাখ্যামূলক কথা আলাদা করে। উদ্ধৃতি চিহ্ন কারও হুবহু কথা উদ্ধৃত করে।
ঊর্ধ্বকমাও লোপ বোঝায় বলে বিভ্রান্তি হয়; কিন্তু ঊর্ধ্বকমা শব্দের ভেতরের বর্ণলোপ, আর ত্রিবিন্দু বাক্যের অংশ বা পাঠের অংশ বর্জন।
মনে রাখুন: শব্দের ভেতর লোপ = ঊর্ধ্বকমা, বাক্যের অংশ লোপ = তিন বিন্দু।
৫৩২. কোনটি 'পরপদ' প্রধান সমাস? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ককর্মধারয়
- খঅব্যয়ীভাব
- গদ্বন্দ্ব
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. কর্মধারয়
সমাস চেনার সহজ উপায় হলো দেখা, সমস্তপদে কোন পদের অর্থ প্রধান। পূর্বপদ, পরপদ, দুটোই, নাকি কোনোটাই নয়, এর উপর ভিত্তি করে সমাস ভাগ হয়।
কর্মধারয় সমাসে বিশেষণ আর বিশেষ্যের মিলন হয়, এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে। যেমন নীলপদ্ম মানে নীল যে পদ্ম; এখানে পদ্মটাই মূল কথা। তৎপুরুষ সমাসও পরপদ প্রধান।
অব্যয়ীভাবে পূর্বপদের অর্থ প্রধান, যেমন উপকূল মানে কূলের সমীপে। দ্বন্দ্বে দুটো পদের অর্থই প্রধান, যেমন মা-বাবা। বহুব্রীহিতে কোনো পদের অর্থ নয়, অন্য কিছু বোঝায়, যেমন পীতাম্বর মানে শ্রীকৃষ্ণ।
এই প্রশ্নে তৎপুরুষ অপশনে নেই, তাই পরপদ প্রধান হিসেবে কর্মধারয়ই সঠিক।
মনে রাখুন: পরপদ প্রধান: কর্মধারয় ও তৎপুরুষ; পূর্বপদ: অব্যয়ীভাব; উভয়: দ্বন্দ্ব; অন্য: বহুব্রীহি।
৫৩৩. ‘অনুধাবন’ সমস্তপদটির 'অনু' পূর্বপদটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কবিরোধ
- খপশ্চাৎ
- গঅতিপ্রাপ্ত
- ঘঈষৎ
সঠিক উত্তর: খ. পশ্চাৎ
অনু একটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ। শব্দের আগে বসে এটি কয়েকটি অর্থ দেয়: পশ্চাৎ বা পরে, সাদৃশ্য, প্রতি, আর বারবার।
অনুধাবন শব্দে অনু মানে পশ্চাৎ। ধাবন মানে দৌড়ানো, তাই অনুধাবন মূলত পেছনে পেছনে ধাবন বা অনুসরণ। সেখান থেকে অর্থ দাঁড়িয়েছে কোনো বিষয়ের পেছনে লেগে থেকে তা বুঝে নেওয়া।
একই অর্থে অনু আছে অনুগমন, অনুসরণ, অনুতাপ শব্দে। সাদৃশ্য অর্থে আছে অনুরূপ, অনুকরণ; প্রতি অর্থে অনুদিন; বারবার অর্থে অনুক্ষণ।
ঈষৎ অর্থ দেয় আ উপসর্গ, যেমন আরক্ত মানে ঈষৎ লাল। বিরোধ অর্থ দেয় প্রতি বা বি, যেমন প্রতিবাদ। তাই এগুলো অনুর অর্থ নয়।
মনে রাখুন: অনু দেখলেই প্রথমে পশ্চাৎ ভাবুন: অনুগমন, অনুসরণ, অনুধাবন।
৫৩৪. নিচের কোনগুলো পরাশ্রয়ী বর্ণ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কঙ,ঞ
- খং, ঃ
- গশ,ঘ
- ঘর, ঢ়
সঠিক উত্তর: খ. ং, ঃ
যে বর্ণ নিজে স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয় না, অন্য বর্ণের আশ্রয়ে উচ্চারিত হয়, তাকে পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে। বাংলায় এমন বর্ণ তিনটি: অনুস্বার, বিসর্গ আর চন্দ্রবিন্দু।
অনুস্বার আর বিসর্গ সবসময় কোনো স্বর বা ব্যঞ্জনের পরে বসে। যেমন রং শব্দে ং বসেছে র এর পরে, আর দুঃখ শব্দে ঃ বসেছে দু এর পরে। চন্দ্রবিন্দু বসে বর্ণের মাথায়, যেমন চাঁদ।
এই তিনটি বর্ণ এককভাবে লিখে উচ্চারণ করা যায় না, আগে বা সাথে অন্য বর্ণ লাগে। এদের মধ্যে অনুস্বার আর বিসর্গকে অযোগবাহ বর্ণও বলা হয়।
ঙ আর ঞ নাসিক্য বর্ণ, এরা স্বাধীন ব্যঞ্জন। তাই নাসিক্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: পরাশ্রয়ী তিন বর্ণ: ং ঃ ঁ। এরা কখনো শব্দের শুরুতে একা বসে না।
৫৩৫. নিচের কোন বানানটি সঠিক? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কজিগিয়া
- খজাগীষা
- গজিগীষা
- ঘজীগিয়া
সঠিক উত্তর: গ. জিগীষা
জিগীষা একটি তৎসম শব্দ, অর্থ জয় করার ইচ্ছা। সংস্কৃত জি ধাতু থেকে ইচ্ছা অর্থে সন্ প্রত্যয় যোগে এর জন্ম।
বানানটা এভাবে মনে রাখুন: প্রথমে জ এ হ্রস্ব ই-কার, তারপর গ এ দীর্ঘ ঈ-কার, আর শেষে মূর্ধন্য ষ। জি, গী, ষা।
একই গঠনে তৈরি আরও শব্দ: জিজ্ঞাসা মানে জানার ইচ্ছা, পিপাসা মানে পান করার ইচ্ছা, বুভুক্ষা মানে খাওয়ার ইচ্ছা, মুমূর্ষা মানে মরার ইচ্ছা। এগুলোর বিশেষণ রূপ যথাক্রমে জিজ্ঞাসু, পিপাসু, বুভুক্ষু, মুমূর্ষু; জিগীষার বিশেষণ জিগীষু।
ভুল বানানগুলোতে হয় প্রথম অক্ষরে দীর্ঘ ঈ-কার বা আ-কার দেওয়া হয়েছে, নয়তো ষ এর জায়গায় অন্য বর্ণ বসেছে।
মনে রাখুন: জয়ের ইচ্ছা জিগীষা, জানার ইচ্ছা জিজ্ঞাসা; দুটোতেই প্রথম অক্ষর হ্রস্ব ই-কার।
৫৩৬. কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লিখিত নয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কশ্মশান
- খপ্রজ্বল
- গআকাঙ্ক্ষা
- ঘআষাঢ়
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা চেয়েছে কোন বানানটা শুদ্ধ নয়। কিন্তু যেভাবে অপশনগুলো লেখা আছে, তাতে শ্মশান, আকাঙ্ক্ষা ও আষাঢ় তিনটিই বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী শুদ্ধ। তাই এখানে নিশ্চিত একটি উত্তর বাছা যাচ্ছে না।
শ্মশান বানানে প্রথমে শ আর ম এর যুক্তবর্ণ, শেষে দন্ত্য ন। অনেকে ণত্ব বিধান ভেবে শেষে মূর্ধন্য ণ দেন, কিন্তু র, ঋ বা ষ এর প্রভাব না থাকায় এখানে দন্ত্য ন-ই ঠিক।
আকাঙ্ক্ষা বানানে ঙ এর সাথে ক্ষ যুক্ত হয়, মানে ঙ্ক্ষ। আষাঢ় তৎসম শব্দ, লেখা হয় মূর্ধন্য ষ দিয়ে, আর শেষে ড-এ বিন্দু দেওয়া ঢ়।
জ্বল ধাতুর শব্দে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় জ দুবার লেখায়। শুদ্ধ রূপ প্রজ্বলিত ও প্রজ্বলন, এক জ দিয়ে; দুই জ লাগে উজ্জ্বল জাতীয় শব্দে, কারণ সেখানে উৎ এর ত জ হয়ে যায়।
মনে রাখুন: জ্বল ধাতুতে উপসর্গ প্র বসলে এক জ (প্রজ্বলিত), উৎ বসলে দুই জ (উজ্জ্বল)।
৫৩৭. 'সুতি কাপড় অনেক দিন টিকে' কোন বাচ্য? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ককর্তৃবাচ্য
- খকর্মকর্তৃবাচ্য
- গভাববাচ্য
- ঘকর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর: খ. কর্মকর্তৃবাচ্য
যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মপদই কর্তার মতো কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। সাধারণত বস্তুর গুণ বা স্বভাব বোঝাতে এমন বাক্য হয়।
সুতি কাপড় অনেক দিন টিকে বাক্যে কে কাপড়টা টিকিয়ে রাখছে, তা বলা নেই। কাপড় আসলে কর্ম, কিন্তু বাক্যে সেটাই কর্তার জায়গায় বসেছে, আর ক্রিয়া টিকে সেই অনুযায়ী চলেছে।
একই রকম উদাহরণ: বাঁশি বাজে, কলসি ভরে, কাচের গ্লাস সহজে ভাঙে। প্রতিটিতে বাজানো, ভরা বা ভাঙার কর্তা নেই, কর্মই কর্তা।
কর্মবাচ্যে কর্তা থাকে বা থাকতে পারে এবং ক্রিয়ায় হওয়া বা যাওয়া যুক্ত হয়, যেমন কাপড়টি ধোয়া হলো। ভাববাচ্যে ক্রিয়ার ভাবই প্রধান, যেমন আমার যাওয়া হবে না। তাই এ দুটো এখানে খাটে না।
মনে রাখুন: কর্তা নেই, বস্তু নিজেই কিছু করছে বলে মনে হয় (বাঁশি বাজে, কলসি ভরে): কর্মকর্তৃবাচ্য।
৫৩৮. 'এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে'। কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে কবি আঠারো প্রত্যাশা করেছেন? (i) উদ্দীপনা (ii) সেবাব্রত (iii) সাহসিকতা (iv) চলার দুর্বার (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কi, ii, iii, iv
- খiv
- গi ও ii
- ঘii ও iii
সঠিক উত্তর: ক. i, ii, iii, iv
পঙ্ক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আঠারো বছর বয়স কবিতার শেষ লাইন। কবিতাটি তাঁর ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সের নানা গুণ তুলে ধরেছেন: এ বয়স ভয় পায় না, দুঃসাহসে মাথা তোলে, রক্তদানের পুণ্য জানে, অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে, আর কোনো বাধায় থেমে যায় না।
এই গুণগুলোই প্রশ্নের চারটি বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে। প্রাণশক্তি আর উদ্দীপনা, মানুষের সেবায় আত্মত্যাগ, সাহসিকতা, আর দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলা। এসবের জন্যই কবি চান দেশের বুকে আঠারো নেমে আসুক।
শুধু একটা বা দুটো বৈশিষ্ট্য বেছে নেওয়া ফাঁদ; কবিতার মূল সুর হলো তারুণ্যের সব শক্তির সমন্বয়, তাই চারটিই সঠিক।
মনে রাখুন: আঠারো বছর বয়স কবিতার প্রশ্নে তারুণ্যের সব ইতিবাচক গুণ সাধারণত সঠিক।
৫৩৯. সনেটের বৈশিষ্ট্য- i. চৌদ্দ চরণবিশিষ্ট ii. প্রতি চরণে চৌদ্দ মাত্রা iii. তিন পর্ব। নিচের কোনটি সঠিক? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কi, ii, iii
- খi
- গi ও ii
- ঘii ও iii
সঠিক উত্তর: গ. i ও ii
সনেট হলো চৌদ্দ চরণের এক ধরনের গীতিকবিতা, যা এসেছে ইতালি থেকে। বাংলায় প্রথম সনেট লেখেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আর তিনি এর নাম দেন চতুর্দশপদী কবিতা।
বাংলা সনেটে চরণ থাকে চৌদ্দটি, আর প্রতিটি চরণে সাধারণত চৌদ্দ মাত্রা বা অক্ষর। তাই প্রথম দুটি বৈশিষ্ট্য সঠিক।
সনেটের গঠন দুই ভাগে, তিন ভাগে নয়। প্রথম আট চরণকে বলে অষ্টক, যেখানে ভাব তৈরি হয়; পরের ছয় চরণকে বলে ষটক, যেখানে ভাবের পরিণতি আসে।
তাই তিন পর্ব কথাটা ভুল, আর উত্তর i ও ii। মধুসূদনের চতুর্দশপদী কবিতাবলী প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে; কপোতাক্ষ নদ এর বিখ্যাত সনেট।
মনে রাখুন: সনেট = ১৪ চরণ, প্রতি চরণে ১৪ মাত্রা, ভাগ ৮ + ৬।
৫৪০. 'মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম, তার চেয়ে রত্ন নাই আর'। এই কবিতাংশের ভাব নিচের কোন কবিতায় প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কজীবন-সঙ্গীত
- খআমার পরিচয়
- গতাহারেই পড়ে মনে
- ঘকপোতাক্ষ
সঠিক উত্তর: ঘ. কপোতাক্ষ
কবিতাংশটির ভাব হলো: মণি, মুক্তা, সোনা সবই তুচ্ছ, স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে মূল্যবান রত্ন আর নেই। অর্থাৎ এখানে স্বদেশপ্রেমই মূল সুর।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেট কপোতাক্ষ নদ লেখা হয়েছিল ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে বসে। দূর প্রবাসে কবি শৈশবের নদ কপোতাক্ষকে স্মরণ করে বলেন, বহু দেশে বহু নদ দেখলেও কোনোটিই তার তৃষ্ণা মেটায়নি। জন্মভূমির প্রতি এই টানই কবিতাংশের ভাবের সাথে মিলে যায়।
অন্য কবিতাগুলোর মূল ভাব আলাদা। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন-সঙ্গীত কর্মময় জীবনের আহ্বান, সুফিয়া কামালের তাহারেই পড়ে মনে বসন্ত ও প্রকৃতি নিয়ে কবিমনের বেদনা, আর সৈয়দ শামসুল হকের আমার পরিচয় বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয়।
আমার পরিচয় কবিতাটিও দেশের কথা বলে, তাই অনেকে সেটি বেছে নেন। কিন্তু সেখানে মূল বিষয় জাতিসত্তার পরিচয়; সব রত্নের চেয়ে স্বদেশের প্রেমকে বড় করে দেখার আবেগ কপোতাক্ষ নদেই প্রকট।
মনে রাখুন: ভাব-মেলানো প্রশ্নে প্রতিটি কবিতার এক শব্দের মূল ভাব মনে রাখুন: জীবন-সঙ্গীত = কর্ম, কপোতাক্ষ নদ = স্বদেশপ্রেম।