বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৮
৫৪১. “আমরা আলোচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।” উক্তিগুলো কার রচিত? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খআবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
- গবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
- ঘমহিউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর: গ. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ থেকে নেওয়া। এটি ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজবন্দি বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমেদ মুক্তির দাবিতে অনশনের সিদ্ধান্ত নেন। অনশন শুরুর আগেই তাঁদের ঢাকা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়, আর সেখানেই অনশন চলে। মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও অনশন না ভাঙার এই দৃঢ় সিদ্ধান্তের কথা বইটিতে লেখা আছে।
এখানেই ফাঁদ: মহিউদ্দিন আহমেদ অনশনের সঙ্গী ছিলেন, তাই তাঁর নাম দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন। কিন্তু উক্তিগুলো লেখা বঙ্গবন্ধুর কলমে। বঙ্গবন্ধুর অন্য দুটি বই কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীন।
মনে রাখুন: ‘অনশন’, ‘জেল’, ‘১৯৫২’, ‘আমরা ঠিক করেছি’: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৫৪২. 'লাজুক' কোন ধরনের শব্দ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কমৌলিক শব্দ
- খরূঢ়ি শব্দ
- গযৌগিক শব্দ
- ঘযোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর: গ. যৌগিক শব্দ
অর্থ অনুযায়ী শব্দ তিন রকম: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। যে শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ মিলিয়েই আসল অর্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
লাজুক শব্দটি গঠিত লাজ এবং উক প্রত্যয় মিলে। লাজ মানে লজ্জা, আর উক প্রত্যয় বোঝায় যার ওই স্বভাব আছে। তাই লাজুক মানে যার লজ্জা বেশি, যা শব্দের আক্ষরিক অর্থের সাথে হুবহু মেলে। সুতরাং এটি যৌগিক শব্দ।
রূঢ়ি শব্দে আক্ষরিক অর্থ আর আসল অর্থ আলাদা, যেমন হস্তী মানে আক্ষরিকভাবে হাত আছে যার, কিন্তু বোঝায় হাতি। যোগরূঢ় শব্দে আক্ষরিক অর্থের একটি বিশেষ অর্থ চলে, যেমন পঙ্কজ মানে পদ্ম।
মৌলিক শব্দ ভাঙা যায় না, যেমন গোলাপ, নাক। লাজুক ভাঙা যায় বলে এটি মৌলিক নয়।
মনে রাখুন: আক্ষরিক অর্থ = আসল অর্থ → যৌগিক; আক্ষরিক অর্থ ছাড়িয়ে অন্য অর্থ → রূঢ়ি; আক্ষরিক অর্থের একটি বিশেষ অর্থ → যোগরূঢ়।
৫৪৩. 'চকোলেট' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কফরাসি
- খতুর্কি
- গপর্তুগিজ
- ঘমেক্সিকান
সঠিক উত্তর: ঘ. মেক্সিকান
চকোলেট শব্দের আদি উৎস মেক্সিকোর আদিবাসী আজটেকদের নাহুয়াতল ভাষা। সেখানে কোকোর তৈরি পানীয়কে বলা হতো শোকোলাতল জাতীয় একটি শব্দে।
স্প্যানিশরা মেক্সিকো জয়ের পর শব্দটি ইউরোপে নিয়ে যায়, সেখান থেকে ইংরেজি হয়ে বাংলায় আসে। বাংলা ব্যাকরণে বিদেশি শব্দের তালিকায় তাই চকোলেট মেক্সিকান শব্দ হিসেবে পড়ানো হয়।
পর্তুগিজ শব্দের উদাহরণ আনারস, আলপিন, বালতি, চাবি; ফরাসি শব্দ কার্তুজ, রেস্তোরাঁ; তুর্কি শব্দ চাকর, দারোগা, বাবুর্চি। এদের সাথে গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: পর্তুগিজ শব্দে সাধারণত গৃহস্থালি জিনিস (চাবি, বালতি), তুর্কিতে পদবি (দারোগা), আর চকোলেট মেক্সিকো।
৫৪৪. ভাবাধিকরণে সবসময় কোন বিভক্তি যুক্ত হয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ক৫মী
- খ৬ষ্ঠী
- গ৭মী
- ঘ৩য়া
সঠিক উত্তর: গ. ৭মী
অধিকরণ কারকের একটি ভাগ হলো ভাবাধিকরণ। যখন একটি কাজ ঘটার ফলে বা সময়ে আরেকটি কাজ ঘটে, তখন প্রথম কাজটির ভাবকে অধিকরণ ধরা হয়।
ভাবাধিকরণে সবসময় সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়, অর্থাৎ এ, য়, তে বা এতে। যেমন: সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়। এখানে সূর্যোদয় ঘটার সাথে সাথেই অন্ধকার দূর হওয়ার কাজটি ঘটছে, তাই সূর্যোদয়ে ভাবাধিকরণ।
আরও উদাহরণ: সূর্যাস্তে অন্ধকার নামে, কান্নায় শোক কমে। দুই ক্ষেত্রেই প্রথম কাজটি ঘটার ফলে দ্বিতীয় কাজটি ঘটছে, আর প্রথম পদে সপ্তমী বিভক্তি এ বা য় যুক্ত। অধিকরণ মানেই আধার বা সময়, আর আধার বোঝাতে বাংলায় সপ্তমী বিভক্তিই চলে।
মনে রাখুন: অধিকরণ ও ভাবাধিকরণে প্রায় সবসময় সপ্তমী; উদাহরণ: সূর্যোদয়ে, সূর্যাস্তে, কান্নায়।
৫৪৫. “টাকাটা ধার দিয়ে তুমি আমার মুখ রেখেছ”- এ বাক্যে ‘মুখ’ কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কসুনাম
- খপ্রত্যঙ্গ বিশেষ
- গমূল্য
- ঘসম্মান
সঠিক উত্তর: ঘ. সম্মান
মুখ শব্দের আক্ষরিক অর্থ শরীরের একটি অঙ্গ, কিন্তু বাংলায় শব্দটি নানা প্রসঙ্গে নানা অর্থ দেয়। মুখ রাখা একটি বাগ্ধারা, এর অর্থ সম্মান বা মান রক্ষা করা।
বাক্যে বক্তা বিপদে টাকার দরকারে ছিলেন। ধার দিয়ে অন্যজন তাঁকে অপমান বা লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন, অর্থাৎ তাঁর সম্মান রক্ষা করেছেন।
একই শব্দের অন্য প্রয়োগ: মুখ পোড়ানো মানে বদনাম করা, মুখ চাওয়া মানে কারও দিকে তাকিয়ে থাকা বা ভরসা করা, মুখে চুনকালি মানে অপমান।
সুনামকে অনেকে কাছাকাছি অর্থ ভাবেন। কিন্তু সুনাম হলো সমাজে ভালো খ্যাতি; এখানে প্রসঙ্গ তাৎক্ষণিক লজ্জা থেকে মান বাঁচানো, তাই সম্মানই সবচেয়ে উপযুক্ত।
মনে রাখুন: ‘মুখ রাখা / মুখ বাঁচানো’ = মান রক্ষা; ‘মুখ পোড়ানো’ = মান নষ্ট।
৫৪৬. 'আশীবিষ' কোন বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কব্যধিকরণ বহুব্রীহি
- খসমানাধিকরণ বহুব্রীহি
- গব্যতিহার বহুব্রীহি
- ঘপ্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
আশীবিষ মানে সাপ। এর ব্যাসবাক্য: আশীতে বিষ যার। আশী মানে সাপের দাঁত।
বহুব্রীহি সমাসে যদি পূর্বপদ ও পরপদ দুটোই বিশেষ্য হয়, এবং পূর্বপদে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি থাকে, তবে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি বলে। আশী আর বিষ দুটোই বিশেষ্য, আর আশীতে পদে সপ্তমী বিভক্তি, তাই এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।
সমানাধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হয়, যেমন হত শ্রী যার, হতশ্রী। ব্যতিহারে পরস্পর একই কাজ বোঝায়, যেমন লাঠালাঠি। প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহিতে শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয়, যেমন একচোখা।
আরেকটি পরিচিত উদাহরণ: কথায় সর্বস্ব যার, কথাসর্বস্ব। এটিও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: বিশেষণ + বিশেষ্য = সমানাধিকরণ; বিশেষ্য + বিশেষ্য = ব্যধিকরণ।
৫৪৭. 'নয়ন' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কী? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ক√নী + অনট্
- খ√নে + অনট্
- গ√নী + অট্
- ঘ√নে + অয়ন
সঠিক উত্তর: ক. √নী + অনট্
নয়ন শব্দটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ে গঠিত। মূল ধাতু হলো নী, মানে নিয়ে যাওয়া বা পরিচালনা করা; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনট্ প্রত্যয়। তাই নয়নের প্রকৃতি-প্রত্যয় নী ধাতু যোগ অনট্।
অনট্ প্রত্যয়ের ট্ লোপ পায়, থাকে অন। এর আগে ধাতুর ঈ গুণ হয়ে এ হয়: নী থেকে নে। তারপর সন্ধির নিয়মে এ আর অ মিলে হয় অয়: নে যোগ অন সমান নয়ন।
একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ: শী যোগ অনট্ সমান শয়ন, ভূ যোগ অনট্ সমান ভবন, শ্রু যোগ অনট্ সমান শ্রবণ।
ফাঁদ হলো √নে যোগ অনট্ বেছে নেওয়া। মূল ধাতু নী, নে নয়; নে হলো গুণ হওয়ার পরের রূপ। আর নে যোগ অন আসলে সন্ধিবিচ্ছেদের ধাপ, প্রকৃতি-প্রত্যয় নয়।
মনে রাখুন: ই/ঈ-কারান্ত ধাতু + অনট্ = অয়ন: শী → শয়ন, নী → নয়ন।
৫৪৮. বাক্যের প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা কয় প্রকার? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ক২
- খ৩
- গ৪
- ঘ৬
সঠিক উত্তর: খ. ৩
কর্তাকে দুইভাবে ভাগ করা হয়। ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য অনুসারে কর্তা চার প্রকার। আর বাক্যের প্রকাশভঙ্গি, মানে বাচ্য অনুসারে কর্তা তিন প্রকার।
প্রকাশভঙ্গি অনুসারে তিন প্রকার: কর্মবাচ্যের কর্তা, যেমন পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে। ভাববাচ্যের কর্তা, যেমন আমার খাওয়া হলো। আর কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা, যেমন বাঁশি বাজে।
অন্যদিকে ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য অনুসারে চার প্রকার হলো মুখ্য কর্তা, প্রযোজক কর্তা, প্রযোজ্য কর্তা আর ব্যতিহার কর্তা।
ফাঁদ হলো চার বেছে নেওয়া, কারণ কর্তার চার প্রকারভেদ বেশি পরিচিত। প্রশ্নের মূল শব্দ প্রকাশভঙ্গি, তাই উত্তর তিন।
মনে রাখুন: প্রকাশভঙ্গি শুনলেই বাচ্য: কর্ম, ভাব, কর্ম-কর্তৃ = ৩।
৫৪৯. 'ব্রহ্মপুত্র' শব্দে 'হ্ম' যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণ রয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কক, ষ
- খম,হ
- গহ, ম
- ঘম, ম
সঠিক উত্তর: গ. হ, ম
ব্রহ্মপুত্র শব্দের হ্ম যুক্তবর্ণটি গঠিত হ ও ম মিলে। লেখায় আগে হ, পরে ম। দেখতে অনেকটা ক্ষ এর মতো লাগে বলে প্রশ্নটা জনপ্রিয়।
মজার ব্যাপার হলো, বাংলা উচ্চারণে হ্ম শোনায় উল্টো, ম্হ এর মতো: ব্রহ্ম বলি ব্রোম্হো, ব্রাহ্মণ বলি ব্রাম্হোন। কিন্তু বানানে বর্ণের ক্রম হ তারপর ম। একই যুক্তবর্ণ আছে ব্রাহ্মণ আর ব্রহ্মা শব্দে।
ক্ষ গঠিত হয় ক আর ষ মিলে, যেমন পক্ষ। আবার হ্ন গঠিত হয় হ আর ন মিলে, যেমন চিহ্ন, অপরাহ্ন। এগুলো দেখতে কাছাকাছি বলে গুলিয়ে যায়।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো ম আর হ, মানে উল্টো ক্রম। উচ্চারণে ম আগে শোনায় বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু লেখার যুক্তবর্ণে আগে হ, পরে ম।
মনে রাখুন: হ্ম = হ + ম (ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ); হ্ন = হ + ন (চিহ্ন); ক্ষ = ক + ষ।
৫৫০. 'ক' বর্গের ধ্বনিসমূহের উচ্চারণ স্থান কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কজিহ্বামূল
- খঅগ্রতালু
- গপশ্চাৎ দন্তমূল
- ঘঅগ্রদন্তমূল
সঠিক উত্তর: ক. জিহ্বামূল
ক, খ, গ, ঘ, ঙ, এই ক-বর্গের ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বার পেছনের অংশ, মানে জিহ্বামূল, নরম তালুর কাছে উঠে বাতাস আটকায়। তাই এদের উচ্চারণস্থান জিহ্বামূল, আর এদের বলা হয় জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য ধ্বনি।
প্রতিটি বর্গের নিজস্ব উচ্চারণস্থান আছে। চ-বর্গ অগ্রতালু থেকে, তাই তালব্য। ট-বর্গ পশ্চাৎ দন্তমূল থেকে, তাই মূর্ধন্য। ত-বর্গ অগ্রদন্তমূল থেকে, তাই দন্ত্য। আর প-বর্গ দুই ঠোঁটে, তাই ওষ্ঠ্য।
নিজে উচ্চারণ করে দেখলেই বোঝা যায়: ক বলার সময় জিহ্বার গোড়া উপরে ওঠে, ত বলার সময় জিহ্বার ডগা দাঁতের গোড়ায় লাগে।
ফাঁদ হলো অগ্রতালু, যা চ-বর্গের উচ্চারণস্থান। বর্গের ক্রমে উচ্চারণস্থান মুখের ভেতর থেকে বাইরের দিকে আসে: জিহ্বামূল, তালু, মূর্ধা, দাঁত, ঠোঁট।
মনে রাখুন: বর্গের ক্রম = মুখের ভেতর থেকে বাইরে: ক জিহ্বামূল, চ তালু, ট মূর্ধা, ত দাঁত, প ঠোঁট।
৫৫১. 'শশাঙ্ক'-এর সমার্থক শব্দ কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কসমুদ্র
- খসূর্য
- গসৈকত
- ঘচাঁদ
সঠিক উত্তর: ঘ. চাঁদ
শশাঙ্ক শব্দের অর্থ চাঁদ। শব্দটি গঠিত শশ আর অঙ্ক মিলে: শশ মানে খরগোশ, অঙ্ক মানে চিহ্ন বা কোল। চাঁদের গায়ে খরগোশের মতো কালো দাগ দেখা যায় বলে চাঁদকে বলা হয় শশাঙ্ক, মানে যার কোলে খরগোশ।
চাঁদের আরও সমার্থক শব্দ: শশধর, শশী, সুধাংশু, হিমাংশু, নিশাকর, ইন্দু, সোম। এগুলোর অনেকগুলোতেই শশ বা নিশা আছে, যা চাঁদ চেনার সূত্র।
সূর্যের সমার্থক শব্দ আবার আলাদা: দিবাকর, ভাস্কর, রবি, তপন। শশাঙ্ক আর দিবাকর দুটোই সংস্কৃত বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: শশ (খরগোশ) দেখলেই চাঁদ: শশাঙ্ক, শশধর, শশী।
৫৫২. নিচের যেটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কমৌমাছি
- খভ্রাতৃস্নেহ
- গস্বর্ণসৌধ
- ঘদ্রুতগামী
সঠিক উত্তর: ক. মৌমাছি
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদটি লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে। যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন, এখানে মাঝের চিহ্নিত শব্দটি বাদ গেছে।
মৌমাছির ব্যাসবাক্য: মৌ আশ্রিত মাছি, বা মৌ সংগ্রহকারী মাছি। মাঝের আশ্রিত বা সংগ্রহকারী পদটি লোপ পেয়ে হয়েছে মৌমাছি। পাঠ্যবইয়ে এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের প্রচলিত উদাহরণ।
ভ্রাতৃস্নেহ হলো ভ্রাতার প্রতি স্নেহ, অর্থাৎ ষষ্ঠী তৎপুরুষ। দ্রুতগামী মানে দ্রুত গমন করে যে, এটি উপপদ তৎপুরুষ।
সতর্কতা: স্বর্ণসৌধকে স্বর্ণ নির্মিত সৌধ ধরলে সেটিও একই ধরনের সমাস হয়, যেমন স্বর্ণাঙ্গুরীয়। তবে পরীক্ষায় প্রত্যাশিত উত্তর মৌমাছি।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে ‘মিশ্রিত, আশ্রিত, নির্মিত, চিহ্নিত’ জাতীয় শব্দ মাঝখানে থাকলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
৫৫৩. ’ব্যঞ্জনা’ শব্দে ’ন’ স্বাভাবিক উচ্চারণ স্থান পাল্টে হয়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কদন্তমূলীয়
- খপ্রতিবেষ্টিত
- গতালব্য
- ঘজিহ্বমূলীয়
সঠিক উত্তর: ক. দন্তমূলীয়
প্রশ্নটি ধ্বনির উচ্চারণ স্থান নিয়ে। ব্যঞ্জনা শব্দে নাসিক্য ধ্বনিটি লেখা হয় ঞ দিয়ে, যা বর্ণমালায় চ-বর্গের বা তালব্য বর্ণ। প্রশ্নে এই নাসিক্য ধ্বনিটিকেই ন বলা হয়েছে।
কিন্তু প্রমিত বাংলা উচ্চারণে চ, ছ, জ, ঝ এর আগে যুক্ত ঞ আসলে উচ্চারিত হয় ন এর মতো। তাই ব্যঞ্জনা উচ্চারণ হয় ব্যান্জোনা ধরনের। অঞ্চল, অঞ্জন, পঞ্চম শব্দেও একই ঘটনা।
বাংলায় ন এর উচ্চারণ স্থান দন্তমূল, অর্থাৎ ওপরের দাঁতের গোড়া। লেখায় তালব্য ঞ থাকলেও উচ্চারণ স্থান পাল্টে দন্তমূলীয় হয়ে যায়, তাই উত্তর দন্তমূলীয়।
তালব্য বিকল্পটি ফাঁদ: লেখা ঞ তালব্য বর্ণ বলে অনেকে তালব্য বেছে নেন, কিন্তু প্রশ্ন জানতে চেয়েছে বদলে যাওয়া উচ্চারণ স্থান।
মনে রাখুন: ঞ্চ, ঞ্জ যুক্তবর্ণে ঞ পড়া হয় ন এর মতো, অর্থাৎ দন্তমূলীয়।
৫৫৪. অন্যোন্য সমীভবনের একটি দৃষ্টান্ত হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কবড্ড
- খউচ্ছ্বাস
- গবিলিতি
- ঘBey
সঠিক উত্তর: খ. উচ্ছ্বাস
সমীভবন মানে পাশাপাশি থাকা দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি একে অপরের প্রভাবে এক রকম বা কাছাকাছি হয়ে যাওয়া। এর তিন ভাগ: প্রগত, পরাগত আর অন্যোন্য।
প্রগত সমীভবনে আগের ধ্বনি পরের ধ্বনিকে বদলায়, যেমন পদ্ম থেকে পদ্দ। পরাগত সমীভবনে পরের ধ্বনি আগেরটিকে বদলায়, যেমন তৎ ও জন্য মিলে তজ্জন্য।
অন্যোন্য বা পারস্পরিক সমীভবনে দুটি ধ্বনিই একে অপরের প্রভাবে বদলে যায়। পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ: সত্য থেকে সচ্চ, বিদ্যা থেকে বিজ্জা। উৎ ও শ্বাস মিলে উচ্ছ্বাস হওয়ার সময়ও ত বদলে চ হয় আর শ বদলে ছ হয়; দুটিই বদলায় বলে এটি অন্যোন্য সমীভবনের দৃষ্টান্ত।
বিলিতি শব্দে বদল ঘটেছে স্বরধ্বনিতে, বিলাতি থেকে বিলিতি; এটি স্বরসঙ্গতি, সমীভবন নয়।
মনে রাখুন: ‘অন্যোন্য’ মানে পরস্পর: দুই ধ্বনিই বদলালে অন্যোন্য সমীভবন।
৫৫৫. ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কডেকে ডেকে
- খবারে বারে
- গযায় যায়
- ঘদেখতে দেখতে
সঠিক উত্তর: গ. যায় যায়
একই শব্দ দুবার বসলে তাকে দ্বিরুক্তি বলে। ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি বাক্যে কখনো বিশেষণ, কখনো ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষণ হলে তা কোনো বিশেষ্যের দোষ, গুণ বা অবস্থা বোঝায়।
যায় যায় এর প্রয়োগ: রোগীর যায় যায় অবস্থা। এখানে যায় যায় অবস্থা নামের বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, তাই এটি বিশেষণ। এ রকম আরেকটি: তার মরো মরো অবস্থা।
ডেকে ডেকে আর দেখতে দেখতে বাক্যে ক্রিয়ার ধরন বা সময় বোঝায়, যেমন ডেকে ডেকে হয়রান হলাম, দেখতে দেখতে বছর গেল। এগুলো ক্রিয়াবিশেষণ। আর বারে বারে ক্রিয়া নয়, বার নামক বিশেষ্যের দ্বিরুক্তি।
ক্রিয়াপদ দেখে অনেকে ডেকে ডেকে বা দেখতে দেখতে বেছে নেন; পরীক্ষা করুন পদটি বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, নাকি ক্রিয়াকে।
মনে রাখুন: দ্বিরুক্তির পরে বিশেষ্য (অবস্থা, ভাব) থাকলে বিশেষণ; পরে ক্রিয়া থাকলে ক্রিয়াবিশেষণ।
৫৫৬. মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় যে ধরনের সাহিত্যকর্ম (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কপ্রহসন
- খউপন্যাস
- গট্রাজেডি
- ঘপ্রবন্ধ
সঠিক উত্তর: গ. ট্রাজেডি
মীর মশাররফ হোসেন উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। তিনি উপন্যাস, নাটক, প্রহসন ও প্রবন্ধ, সব ধারাতেই লিখেছেন।
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস বিষাদ-সিন্ধু, কারবালার কাহিনি নিয়ে লেখা। প্রহসনের মধ্যে আছে এর উপায় কি এবং ভাই ভাই এইত চাই। প্রবন্ধগ্রন্থ গো-জীবন, আর নাটক জমীদার দর্পণ ও বসন্তকুমারী নাটক।
ট্রাজেডি হিসেবে আলাদা কোনো রচনার জন্য তিনি পরিচিত নন। বাংলা ট্রাজেডি নাটক বলতে সাধারণত মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী নাটককে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি ধরা হয়।
বিষাদ-সিন্ধু করুণ রসের বলে অনেকে ট্রাজেডি ভেবে ভুল করেন, কিন্তু সেটি উপন্যাস, নাটক নয়।
মনে রাখুন: মশাররফ = বিষাদ-সিন্ধু (উপন্যাস), জমীদার দর্পণ (নাটক), গো-জীবন (প্রবন্ধ), এর উপায় কি (প্রহসন)।
৫৫৭. ‘যাচ্ঞা’ এর ধাতু অংশ হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- ক√ যাচ্
- খ√যাঞ
- গ√যা
- ঘ√যাচা
সঠিক উত্তর: ক. √ যাচ্
যাচ্ঞা মানে প্রার্থনা বা চাওয়া। শব্দটি গঠিত হয়েছে যাচ্ ধাতুর সাথে না প্রত্যয় যোগে, যার অর্থ চাওয়া।
যাচ্ আর না পাশাপাশি বসলে ন বদলে ঞ হয়ে যায়, কারণ চ তালব্য বর্ণ, আর তার পরের নাসিক্যও তালব্য ঞ রূপ নেয়। তাই যাচ্ ও না থেকে হয় যাচ্ঞা। একই ধাতু থেকে আসে যাচক, অযাচিত, যাচাই।
√যাঞ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ শব্দে ঞ চোখে পড়ে; কিন্তু ঞ এসেছে প্রত্যয়ের ন থেকে, ধাতুর অংশ নয়।
মনে রাখুন: একই ধাতুর অন্য শব্দ মনে করুন: যাচক, অযাচিত; সবখানে ‘যাচ্’।
৫৫৮. ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘ প্রগতি’র অন্যতম সম্পাদক ছিলেন- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কনরেশ সেনগুপ্ত
- খবুদ্ধদেব বসু
- গআশুতোষ ভট্টাচার্য
- ঘমনীশ ঘটক
সঠিক উত্তর: খ. বুদ্ধদেব বসু
প্রগতি পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। এর যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিত কুমার দত্ত, তখন দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
কলকাতার কল্লোল পত্রিকার মতো প্রগতিও রবীন্দ্র-প্রভাবমুক্ত আধুনিক সাহিত্যের মুখপত্র ছিল। পরে বুদ্ধদেব বসু কলকাতা থেকে কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যা আধুনিক বাংলা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা।
অন্য নামগুলো একই যুগের লেখক বা গবেষক, তাই বিভ্রান্তি তৈরি করে। মনীশ ঘটক কল্লোল যুগের কবি, আর আশুতোষ ভট্টাচার্য লোকসাহিত্যের গবেষক।
মনে রাখুন: বুদ্ধদেব বসুর দুই পত্রিকা: ঢাকায় প্রগতি, কলকাতায় কবিতা।
৫৫৯. ডাক ও খনার বচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কছন্দ-বৈচিত্র্য
- খহাস্যরস
- গবিদেশী শব্দের আধিক্য
- ঘভণিতার উপস্থিতি
সঠিক উত্তর: ঘ. ভণিতার উপস্থিতি
ডাক ও খনার বচন বাংলা লোকসাহিত্যের প্রাচীন ধারা। এগুলো ছোট ছড়ার মতো উক্তি, যাতে কৃষি, আবহাওয়া, জ্যোতিষ আর দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান রয়েছে।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ভণিতা, অর্থাৎ রচয়িতার নাম যুক্ত করা। বচনের শেষে প্রায়ই থাকে কহে ডাক বা বলে খনা, এভাবে বক্তার নাম জানিয়ে দেওয়া হয়। মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ও পদাবলিতেও ভণিতার রীতি দেখা যায়।
খনার একটি পরিচিত বচন: যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্য দেশ। বচনগুলো সরল ছন্দে লেখা, তবে ছন্দের বৈচিত্র্য বা হাস্যরস এদের মূল বৈশিষ্ট্য নয়, আর বিদেশি শব্দও প্রায় নেই।
মনে রাখুন: রচয়িতার নাম রচনার ভেতরে থাকলে তাকে ভণিতা বলে; ডাক-খনা, চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য সবখানেই আছে।
৫৬০. নিচের যে গুচ্ছে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটেনি- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কঅধীন, অজ্ঞানতা
- খতনুদেহ, পান্তাভাত
- গসমসাময়িক কালে, জন্মবার্ষিক
- ঘভাষী ও সবান্ধব
সঠিক উত্তর: ঘ. ভাষী ও সবান্ধব
অপপ্রয়োগ মানে শব্দের ভুল ব্যবহার। এর দুটি সাধারণ রূপ: ভুল শব্দগঠন, আর বাহুল্য দোষ, অর্থাৎ একই অর্থের শব্দ দুবার ব্যবহার।
অধীন শব্দটি ঠিক, কিন্তু অজ্ঞানতা ভুল; শুদ্ধ রূপ অজ্ঞতা বা অজ্ঞান। তনু মানেই দেহ, তাই তনুদেহ বাহুল্য; পান্তা মানেই পানিতে ভেজানো ভাত, তাই পান্তাভাতও বাহুল্য।
সমসাময়িক মানেই একই কালের, তাই সমসাময়িক কালে বাহুল্য। আর বার্ষিক বিশেষণ, বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান বোঝাতে শুদ্ধ রূপ জন্মবার্ষিকী।
শেষ গুচ্ছের ভাষী, যেমন বাংলাভাষী, এবং সবান্ধব, অর্থাৎ বন্ধুসহ, দুটিই শুদ্ধ। তাই এই গুচ্ছে কোনো অপপ্রয়োগ নেই। পান্তাভাত মুখের ভাষায় এত চলে যে অনেকে একে শুদ্ধ ভাবেন, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: দুই শব্দের একটি অন্যটির অর্থ ধারণ করলে বাহুল্য: তনুদেহ, সমসাময়িক কালে, অশ্রুজল।