বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৫
৬৮১. বড় > বড্ড – এটি কোন ধরনের পরিবর্তন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবিষমীভবন
- খসমীভবন
- গব্যঞ্জনদ্বিত্ব
- ঘব্যঞ্জন-বিকৃতি
সঠিক উত্তর: গ. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
প্রশ্নটি ধ্বনি পরিবর্তনের রীতি চিনতে বলছে। কখনো জোর দেওয়ার জন্য শব্দের একটি ব্যঞ্জনধ্বনি দুবার উচ্চারিত হয়, একে বলে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব।
বড় থেকে বড্ড হয়েছে, কারণ ড ধ্বনি দ্বিগুণ হয়েছে, আর অর্থে জোর এসেছে, মানে খুব। একই রকম পাকা থেকে পাক্কা, সকাল থেকে সক্কাল, ছোট থেকে ছোট্ট।
অন্য রীতিগুলোর পার্থক্য স্পষ্ট করে নিন। সমীভবনে পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জন একরকম হয়ে যায়, যেমন জন্ম থেকে জম্ম। বিষমীভবনে দুটি একই ব্যঞ্জনের একটি বদলে যায়, যেমন লাল থেকে নাল। ব্যঞ্জনবিকৃতিতে একটি ব্যঞ্জন অন্য ব্যঞ্জনে বদলায়, যেমন কবাট থেকে কপাট।
ফাঁদ হলো সমীভবন, কারণ সেখানেও শেষে একই ব্যঞ্জন দুবার দেখা যায়। পার্থক্য হলো, সমীভবনে আগে দুটি আলাদা ব্যঞ্জন ছিল; বড় শব্দে ড ছিল একটিই, জোর দিতে দ্বিতীয়টি যোগ হয়েছে।
মনে রাখুন: মূল শব্দে একটিই ব্যঞ্জন ছিল আর জোর বোঝাতে দ্বিগুণ হলে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব: বড্ড, পাক্কা, সক্কাল, ছোট্ট।
৬৮২. ‘সপ্তকাণ্ড রামায়ণ’ বাগধারার অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- করামায়ণের সাত পর্ব
- খরামায়ণে বর্ণিত বৃক্ষ
- গরামায়ণে বর্ণিত সাতটি সমুদ্র
- ঘবৃহৎ বিষয়
সঠিক উত্তর: ঘ. বৃহৎ বিষয়
প্রশ্নটি একটি বাগধারার অর্থ জানতে চায়। সপ্তকাণ্ড রামায়ণ মানে বিরাট ব্যাপার বা বিশাল বৃত্তান্ত, তাই উত্তর বৃহৎ বিষয়।
রামায়ণ সাতটি কাণ্ডে বিভক্ত: আদি, অযোধ্যা, অরণ্য, কিষ্কিন্ধ্যা, সুন্দর, লঙ্কা ও উত্তর। পুরো রামায়ণ বলা মানে বিশাল দীর্ঘ কাহিনি বলা, তাই কোনো কিছু বড় করে বা লম্বা করে বলাকে সপ্তকাণ্ড রামায়ণ বলে। যেমন: সামান্য দেরির কারণ জানতে চাইলাম, সে সপ্তকাণ্ড রামায়ণ শুরু করল।
বাগধারার অর্থ সবসময় আক্ষরিক নয়, লাক্ষণিক। রামায়ণ থেকে আসা আরও কিছু বাগধারা: কুম্ভকর্ণের ঘুম মানে গভীর ঘুম, লঙ্কাকাণ্ড মানে তুমুল গোলমাল, রাবণের চিতা মানে চির অশান্তি।
ফাঁদ হলো রামায়ণের সাত পর্ব বিকল্পটি। এটি শব্দের আক্ষরিক অর্থ, বাগধারার অর্থ নয়।
মনে রাখুন: বাগধারার প্রশ্নে আক্ষরিক অর্থের বিকল্পটি প্রায়ই ফাঁদ; লাক্ষণিক অর্থ খুঁজুন।
৬৮৩. ‘Attested’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপ্রত্যায়িত
- খসত্যায়িত
- গপ্রত্যয়িত
- ঘসত্যয়িত
সঠিক উত্তর: খ. সত্যায়িত
প্রশ্নটি ইংরেজি দাপ্তরিক শব্দ অ্যাটেস্টেডের বাংলা পরিভাষা জানতে চায়। উত্তর সত্যায়িত।
সরকারি কাজে কাগজপত্রের ফটোকপি মূল কপির সঙ্গে মিল আছে বলে কর্মকর্তা স্বাক্ষর দিলে তাকে সত্যায়িত করা বলে। শব্দটি সত্য থেকে এসেছে: সত্য বলে স্বীকার করা।
এর কাছাকাছি আরেকটি পরিভাষা প্রত্যয়িত, যা ইংরেজি সার্টিফায়েডের বাংলা। প্রত্যয় মানে বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা, তার সঙ্গে ইত যোগে প্রত্যয়িত।
বাকি দুটি বিকল্প আসলে এই দুটি শব্দের ভুল বানান। প্রত্যায়িত আর সত্যয়িত দুটোতেই আ-কার ভুল জায়গায়; শুদ্ধ রূপ প্রত্যয়িত আর সত্যায়িত।
মনে রাখুন: অ্যাটেস্টেড আর সার্টিফায়েড জোড়ায় মনে রাখুন: সত্য থেকে সত্যায়িত, প্রত্যয় থেকে প্রত্যয়িত।
৬৮৪. ‘ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি।’-এ বাক্যে ‘ডেকে ডেকে’ কোন অর্থ প্রকাশ করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅসহায়ত্ব
- খবিরক্তি
- গকালের বিস্তার
- ঘপৌনঃপুনিকতা
সঠিক উত্তর: ঘ. পৌনঃপুনিকতা
প্রশ্নটি দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ নিয়ে। একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে, আর কোন শব্দ দুবার বসছে তার উপর নির্ভর করে অর্থ বদলায়।
এখানে দুবার বসেছে অসমাপিকা ক্রিয়া ‘ডেকে’। অসমাপিকা ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি সাধারণত বোঝায় কাজটি বারবার হচ্ছে। ‘ডেকে ডেকে হয়রান’ মানে একবার নয়, বহুবার ডেকে ক্লান্ত হয়ে পড়া। বারবার ঘটাকেই ব্যাকরণে বলে পৌনঃপুনিকতা।
একই ধরনের উদাহরণ: ভেবে ভেবে সারা হলাম, খুঁজে খুঁজে পেলাম না, হেঁটে হেঁটে পা ব্যথা। প্রতিটিতে কাজটির পুনরাবৃত্তি বোঝানো হয়েছে।
ফাঁদ হলো বাক্যের ‘হয়রান’ শব্দটি। হয়রান দেখে বিরক্তি বা অসহায়ত্ব মনে হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন শুধু ‘ডেকে ডেকে’ অংশের অর্থ জানতে চেয়েছে।
মনে রাখুন: অসমাপিকা ক্রিয়া দুবার বসলে প্রায় সবসময় বারবার করা বোঝায়: ভেবে ভেবে, খুঁজে খুঁজে।
৬৮৫. ভুল বানান কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কভূবন
- খঅন্তঃসার
- গমুহূর্ত
- ঘঅদ্ভুত
সঠিক উত্তর: ক. ভূবন
প্রশ্নটি তৎসম শব্দে হ্রস্ব উ-কার আর দীর্ঘ ঊ-কারের পার্থক্য পরীক্ষা করছে। তৎসম শব্দের বানান সংস্কৃত মূল অনুযায়ী হয়, তাই প্রতিটি শব্দের প্রচলিত শুদ্ধ রূপ মনে রাখতে হয়।
পৃথিবী অর্থে ‘ভূ’ শব্দে দীর্ঘ ঊ-কার, তাই অনেকে ‘ভুবন’ শব্দেও দীর্ঘ ঊ-কার বসান। কিন্তু শুদ্ধ বানান ভুবন, ভ-এ হ্রস্ব উ-কার। তাই ভূবন বানানটি ভুল।
বাকিগুলো শুদ্ধ। অন্তঃসার শব্দে বিসর্গের পরে স থাকায় বিসর্গ বজায় থাকে। মুহূর্ত শব্দে ম-এ হ্রস্ব উ-কার আর হ-এ দীর্ঘ ঊ-কার। অদ্ভুত শব্দে দ্ভ-এ হ্রস্ব উ-কার।
ফাঁদ হলো মুহূর্ত শব্দটি। এতে দুই ধরনের উ-কার একসঙ্গে থাকায় একে ভুল মনে হয়, অথচ এটিই শুদ্ধ রূপ।
মনে রাখুন: ‘ভূ’ মানে পৃথিবী দীর্ঘ ঊ, কিন্তু ভুবন হ্রস্ব উ। একই দলে: মুকুল, কুসুম, মুহুর্মুহু।
৬৮৬. ‘যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।’-এটি কোন ধরনের বাক্য? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসরল বাক্য
- খজটিল বাক্য
- গযৌগিক বাক্য
- ঘখণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর: খ. জটিল বাক্য
প্রশ্নটি গঠন অনুযায়ী বাক্যের শ্রেণি চিনতে চেয়েছে: সরল, জটিল আর যৌগিক। একটি স্বাধীন খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক নির্ভরশীল খণ্ডবাক্য থাকলে বাক্যটি জটিল বা মিশ্র বাক্য।
এখানে ‘যিনি বিদ্বান’ অংশটি একা দাঁড়াতে পারে না, এটি পরের অংশের উপর নির্ভরশীল; তাই এটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য। ‘তিনি সর্বত্র আদরণীয়’ হলো প্রধান খণ্ডবাক্য।
যিনি আর তিনি, যে আর সে, যখন আর তখন, যদি আর তবে: এমন জোড়া সাপেক্ষ শব্দ দেখলেই বাক্যটি জটিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একই বাক্যের সরল রূপ হবে বিদ্বান ব্যক্তি সর্বত্র আদরণীয়।
ফাঁদ হলো যৌগিক বাক্য। যৌগিক বাক্যে দুটি অংশই স্বাধীন থাকে এবং এবং, কিন্তু, অথবা ধরনের অব্যয়ে যুক্ত হয়; এখানে একটি অংশ অন্যটির উপর নির্ভরশীল।
মনে রাখুন: যে-সে, যিনি-তিনি, যখন-তখন, যদি-তবে জোড়া দেখলে আগে জটিল বাক্য ভাবুন।
৬৮৭. ‘চিকিৎসাশাস্ত্র’ কোন সমাস? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককর্মধারয়
- খবহুব্রীহি
- গঅব্যয়ীভাব
- ঘতৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: ক. কর্মধারয়
প্রশ্নটি সমাস চেনার। সমস্ত পদ ভেঙে ব্যাসবাক্য তৈরি করলেই সমাসটি ধরা পড়ে।
চিকিৎসাশাস্ত্র মানে চিকিৎসা বিষয়ক শাস্ত্র। ব্যাসবাক্যের মাঝের ‘বিষয়ক’ পদটি সমাস হওয়ার সময় লোপ পেয়েছে। পূর্বপদের পরে থাকা মধ্যপদ লোপ পেলে এবং পরপদের অর্থ প্রধান হলে তাকে বলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
একই নিয়মের উদাহরণ: সিংহাসন মানে সিংহ চিহ্নিত আসন, ঘিভাত মানে ঘি মাখা ভাত, স্মৃতিসৌধ মানে স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ। প্রতিটিতে মাঝের একটি পদ উধাও।
ফাঁদ হলো তৎপুরুষ। ‘চিকিৎসার শাস্ত্র’ ভেঙে ষষ্ঠী তৎপুরুষ মনে হতে পারে, কিন্তু প্রচলিত ব্যাকরণ ও পরীক্ষার উত্তরে এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে মাঝখানে বিষয়ক, চিহ্নিত, মাখা, রক্ষার্থে ধরনের শব্দ বসাতে হলে সেটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
৬৮৮. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কচৌবেরিয়া গ্রাম, নদীয়া
- খকাঁঠালপাড়া গ্রাম, চব্বিশ পরগনা
- গবীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
- ঘদেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি
সঠিক উত্তর: গ. বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
প্রশ্নটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান জানতে চেয়েছে। তিনি ১৮২০ সালে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ আর সুষম বাক্যগঠনের মধ্য দিয়ে বাংলা গদ্যকে শিল্পরূপ দেওয়ায় তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
বিকল্পগুলোর বাকি তিনটি জায়গাও বিখ্যাত সাহিত্যিকদের জন্মস্থান। চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের, হুগলির দেবানন্দপুর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের, আর নদীয়ার চৌবেড়িয়া নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের জন্মস্থান।
তাই এ ধরনের প্রশ্নে জন্মস্থানগুলো জোড়ায় জোড়ায় মনে রাখা লাভজনক, কারণ পরীক্ষায় একটির বদলে অন্যটি বিকল্প হিসেবে আসে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ কাঁঠালপাড়া, কারণ বঙ্কিমচন্দ্র আর বিদ্যাসাগর একই যুগের এবং দুজনের নাম প্রায়ই একসঙ্গে আসে।
মনে রাখুন: বীরসিংহের সিংহ বিদ্যাসাগর; কাঁঠালপাড়া বঙ্কিম, দেবানন্দপুর শরৎ, চৌবেড়িয়া দীনবন্ধু।
৬৮৯. ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয় (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬
- খ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
- গ১৯ মার্চ ১৯২৬
- ঘ২৬ মার্চ ১৯২৭
সঠিক উত্তর: খ. ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
প্রশ্নটি মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠার তারিখ জানতে চেয়েছে। সংগঠনটি ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক তরুণ শিক্ষক ও লেখকদের উদ্যোগে।
এই সংগঠনকে ঘিরে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তার নাম বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন, আর মুখপত্র ছিল বার্ষিক পত্রিকা ‘শিখা’। শিখার মূলমন্ত্র ছিল: জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।
আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল প্রমুখ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরীক্ষায় তারিখ, মুখপত্র আর আন্দোলনের নাম তিনটিই আসে।
ফাঁদ হলো বিকল্পগুলোতে একই উনিশ তারিখ রেখে শুধু মাস বদলে দেওয়া। জানুয়ারি মনে রাখলেই বাকিগুলো বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: উনিশে জানুয়ারি, উনিশশো ছাব্বিশ: বুদ্ধির মুক্তির জন্মদিন।
৬৯০. ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার লেখা? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কএস. ওয়াজেদ আলী
- খআবুল হাসেম
- গআবুল মনসুর আহমদ
- ঘআবুল হুসেন
সঠিক উত্তর: গ. আবুল মনসুর আহমদ
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক স্মৃতিকথার লেখক জানতে চেয়েছে। ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ লিখেছেন আবুল মনসুর আহমদ, যিনি একাধারে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও ব্যঙ্গসাহিত্যিক।
বইটিতে তিনি ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত নিজের চোখে দেখা রাজনীতির বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর আরেকটি আত্মজীবনী ‘আত্মকথা’।
সাহিত্যে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ব্যঙ্গরচনার জন্য: ‘আয়না’ আর ‘ফুড কনফারেন্স’ তাঁর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ।
ফাঁদ হলো বিকল্পের আবুল হাসেম, প্রচলিত বানানে আবুল হাশিম। তিনিও রাজনীতিবিদ ও মুসলিম লীগ নেতা ছিলেন বলে রাজনীতির স্মৃতিকথা তাঁর মনে হতে পারে, কিন্তু এই বইটি তাঁর নয়।
মনে রাখুন: রাজনীতির পঞ্চাশ বছর মানেই আবুল মনসুর আহমদ, যিনি আয়না আর ফুড কনফারেন্সের ব্যঙ্গকার।
৬৯১. “ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”-কে এই দামাল ছেলে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খকামাল পাশা
- গচিত্তরঞ্জন দাস
- ঘসুভাষ বসু
সঠিক উত্তর: খ. কামাল পাশা
প্রশ্নের চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার, যা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নি-বীণা’র অন্তর্গত। এখানে ‘দামাল ছেলে’ বলতে তুরস্কের মুস্তফা কামাল পাশাকে বোঝানো হয়েছে।
প্রথম মহাযুদ্ধের পরে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে তুরস্কের স্বাধীনতাযুদ্ধে কামাল পাশার বীরত্ব নজরুলকে মুগ্ধ করেছিল। কবিতায় দেশমাতাকে ‘পাগলি মা’ আর তাঁর সাহসী সন্তানকে ‘দামাল ছেলে’ বলা হয়েছে।
অগ্নি-বীণায় তুর্কি বীরদের নিয়ে আরও একটি কবিতা আছে, ‘আনোয়ার’। আর চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুতে নজরুল লেখেন ‘চিত্তনামা’।
ফাঁদ হলো কাজী নজরুল ইসলাম নিজে। নজরুল কবিতাটির কবি, কবিতার নায়ক নন।
মনে রাখুন: অগ্নি-বীণায় তুরস্কের দুই বীর: কামাল পাশা আর আনোয়ার।
৬৯২. সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘শনিবারের চিঠি’
- খরবিবারের ডাক
- গবিজলি
- ঘবঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর: ক. ‘শনিবারের চিঠি’
প্রশ্নটি সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর ‘শনিবারের চিঠি’, বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে আলোচিত ব্যঙ্গাত্মক সাময়িকী।
শনিবারের চিঠি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিল। কল্লোল গোষ্ঠীর আধুনিক লেখক আর কাজী নজরুল ইসলামও এর ব্যঙ্গের লক্ষ্য হয়েছিলেন।
অন্য পত্রিকাগুলোর পরিচয় আলাদা। ‘বঙ্গদর্শন’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৮৭২ সালে প্রকাশিত। সাপ্তাহিক ‘বিজলী’তে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রথম ছাপা হয়।
ফাঁদ হলো ‘রবিবারের ডাক’। শনিবারের সঙ্গে মিল রেখে দিনের নাম দিয়ে বানানো এই নামটি সজনীকান্তের পত্রিকা নয়।
মনে রাখুন: সজনী আর শনি, দুটোই স দিয়ে শুরু: সজনীকান্তের শনিবারের চিঠি।
৬৯৩. 'সাত ঘাটের কানাকড়ি' প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ কী? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- ককপট মমতা
- খবড় রকমের ক্ষতি করা
- গঘোর শত্রুতা
- ঘঅকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ
সঠিক উত্তর: ঘ. অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ
সাত ঘাটের কানাকড়ি একটি বাগ্ধারা বা প্রবাদ, যার অর্থ অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ, অর্থাৎ অনেক জায়গা ঘুরে জোগাড় করা অতি সামান্য ও মূল্যহীন জিনিস।
কানাকড়ি মানে ফুটো বা ভাঙা কড়ি; একসময় কড়ি ছিল মুদ্রা, আর কানাকড়ি ছিল প্রায় মূল্যহীন। সাত ঘাট মানে অনেক জায়গা। সব মিলিয়ে, বহু কষ্টে নানা জায়গা থেকে জড়ো করা তুচ্ছ সঞ্চয়।
যেমন: সারা জীবন খেটে যা জমিয়েছেন, তা সাত ঘাটের কানাকড়ি ছাড়া কিছু নয়।
ফাঁদ হলো সাত ঘাটের জল খাওয়া বাগ্ধারার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা, যার অর্থ নানা জায়গায় ঘুরে হয়রান হওয়া বা নানা অভিজ্ঞতা অর্জন। অন্য অপশনগুলোর জন্য আলাদা বাগ্ধারা আছে, যেমন কপট মমতার জন্য মায়াকান্না।
মনে রাখুন: কানাকড়ি মানেই তুচ্ছ; তাই 'কানাকড়ি' আছে এমন বাগ্ধারায় মূল্যহীনতার অর্থ খুঁজুন।
৬৯৪. Ode কী? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- ককোরাস গান
- খগাথা কাহিনী
- গখণ্ড কবিতা
- ঘশোক কবিতা
সঠিক উত্তর: ক. কোরাস গান
Ode বা স্তোত্রকবিতা হলো গাম্ভীর্যপূর্ণ এক ধরনের গীতিকবিতা, যাতে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবকে সম্বোধন করে প্রশংসা বা আবেগ প্রকাশ করা হয়।
এর জন্ম প্রাচীন গ্রিসে। সেখানে পিন্ডারের ওডগুলো কোরাস বা সমবেত দল নাচ ও গানের সঙ্গে পরিবেশন করত। এই উৎসের কারণেই পরীক্ষায় Ode এর অর্থ হিসেবে কোরাস গান ধরা হয়।
ইংরেজিতে কিটসের Ode to a Nightingale আর শেলির Ode to the West Wind বিখ্যাত উদাহরণ।
ফাঁদ হলো শোক কবিতা; শোককবিতা হলো Elegy, যেমন গ্রে-র Elegy Written in a Country Churchyard। আর গাথা কাহিনী হলো Ballad।
মনে রাখুন: Ode = স্তোত্র/কোরাস গান, Elegy = শোক, Ballad = গাথা, Sonnet = ১৪ লাইন।
৬৯৫. সন্ধির প্রধান সুবিধা কি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি
- খউচ্চারণের সুবিধা
- গশব্দগত মাধুর্য সৃষ্টি
- ঘলেখার সুবিধা
সঠিক উত্তর: খ. উচ্চারণের সুবিধা
প্রশ্নটা সন্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে। পাশাপাশি দুটি ধ্বনি মিলে যখন একটি ধ্বনি হয় বা একটি বদলে যায়, তাকে সন্ধি বলে। যেমন বিদ্যা আর আলয় মিলে বিদ্যালয়।
এই মিলন কেন ঘটে? দুটো স্বর বা ব্যঞ্জন পাশাপাশি এলে আলাদা আলাদা উচ্চারণ করতে জিভকে বাড়তি কষ্ট করতে হয়। মুখ স্বাভাবিকভাবেই সহজ পথ খোঁজে, তাই ধ্বনি দুটি জুড়ে যায়। এজন্য ব্যাকরণে সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য বলা হয় উচ্চারণের সহজতা।
উচ্চারণ সহজ হলে শুনতেও মধুর লাগে, তাই ধ্বনিগত মাধুর্য সন্ধির দ্বিতীয় উদ্দেশ্য। কিন্তু সেটা উচ্চারণ সহজ হওয়ারই ফল, প্রধান কারণ নয়।
ফাঁদ হলো ধ্বনিগত মাধুর্য: কথাটা সত্য, কিন্তু প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে প্রধান সুবিধা। আর সন্ধি ধ্বনির মিলন, শব্দের বা লেখার নয়; তাই শব্দগত মাধুর্য বা লেখার সুবিধা ভুল।
মনে রাখুন: সন্ধি = ধ্বনির মিলন; প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চারণ সহজ করা, দ্বিতীয়টি ধ্বনিমাধুর্য।
৬৯৬. 'কুইনাইন' কোন ভাষার শব্দ? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কপর্তুগিজ
- খগ্রিক
- গতুর্কি
- ঘপেরু
সঠিক উত্তর: ঘ. পেরু
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। বাংলা ব্যাকরণে কুইনাইন শব্দটিকে পেরুভীয় শব্দ, অর্থাৎ পেরু দেশের ভাষা থেকে আসা শব্দ বলা হয়।
কারণটা ইতিহাসে। ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন তৈরি হয় সিনকোনা গাছের ছাল থেকে, আর এই গাছ দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ অঞ্চলের, বিশেষ করে পেরুর। সেখানকার কেচুয়া ভাষায় ছালকে বলা হতো কিনা; সেখান থেকে স্প্যানিশ ও ইংরেজি হয়ে কুইনাইন শব্দটি আমাদের কাছে এসেছে।
পাশের তথ্যগুলোও মনে রাখুন: আনারস, আলমারি, চাবি, বালতি পর্তুগিজ; কাঁচি, চাকু, দারোগা তুর্কি; দাম, সুড়ঙ্গ গ্রিক।
ফাঁদ হলো পর্তুগিজ: ওষুধ ও ফলের অনেক শব্দ পর্তুগিজ থেকে এসেছে বলে সবাই সেদিকে ঝোঁকে, কিন্তু কুইনাইন পেরুর।
মনে রাখুন: ভিনদেশি শব্দের প্রশ্নে কুইনাইন দেখলেই পেরু।
৬৯৭. মেঘ এর সঠিক সমার্থক শব্দ নয় কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কপাদপ
- খবারিদ
- গayn
- ঘজলদ
সঠিক উত্তর: ক. পাদপ
প্রশ্নটা মেঘের সমার্থক শব্দ নিয়ে, তবে উল্টো করে: কোনটি মেঘ বোঝায় না, সেটা খুঁজতে হবে।
মেঘের বেশির ভাগ সমার্থক শব্দ গঠিত হয়েছে জল দেয় বা জল ধরে এই অর্থে। বারি মানে জল, দ মানে যে দেয়: বারিদ। একইভাবে জলদ, নীরদ, অম্বুদ, পয়োদ, জলধর। এর বাইরে ঘন, জীমূত, মেঘমালাও মেঘ বোঝায়।
পাদপ শব্দের অর্থ গাছ। পাদ মানে পা, অর্থাৎ শিকড়; প মানে যে পান করে। যে পা দিয়ে, মানে শিকড় দিয়ে জল পান করে, সে পাদপ। তাই এটি মেঘের সমার্থক নয়।
শব্দের শেষে দ দেখলে বুঝবেন দাতা: জলদ, বারিদ, নীরদ মেঘ। শেষে প দেখলে পানকারী: পাদপ গাছ। এই দ আর প গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: শেষে দ (দাতা) = মেঘ: জলদ, বারিদ, নীরদ, অম্বুদ। শেষে প = পানকারী: পাদপ (গাছ)।
৬৯৮. 'আকুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কউত্তরণ
- খবিদীর্ণ
- গপ্রসারণ
- ঘঅপকর্ষ
সঠিক উত্তর: গ. প্রসারণ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ নিয়ে। আকুঞ্চন মানে গুটিয়ে যাওয়া, সংকুচিত হওয়া বা ভাঁজ পড়া। যেমন ঠান্ডায় ধাতু আকুঞ্চিত হয়।
এর ঠিক উল্টো ঘটনা হলো ছড়িয়ে যাওয়া বা বিস্তৃত হওয়া, যাকে বলে প্রসারণ। তাপে ধাতুর প্রসারণ হয়, ঠান্ডায় আকুঞ্চন হয়; বিজ্ঞানের এই জোড়াটা মনে রাখলেই উত্তর মেলে।
একই ধরনের আরও জোড়া: সংকোচন আর প্রসারণ, আকুঞ্চন আর প্রসারণ, উৎকর্ষ আর অপকর্ষ।
ফাঁদ হলো অপকর্ষ: এটি নিজেই একটি জোড়ার অংশ, কিন্তু তার বিপরীত উৎকর্ষ, আকুঞ্চন নয়।
মনে রাখুন: তাপে প্রসারণ, ঠান্ডায় আকুঞ্চন: পদার্থবিজ্ঞানের জোড়াটাই উত্তর।
৬৯৯. 'সম্পূর্ণরূপে বিবেচনা করা হয় নাই এমন' এটিকে এক শব্দে প্রকাশ করা যায় কোন শব্দে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কঅসমর্থিত
- খঅসমাপ্ত
- গঅসমীক্ষিত
- ঘঅসম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর: গ. অসমীক্ষিত
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ নিয়ে। সমীক্ষা মানে সম্যক বা ভালোভাবে দেখা, পুরোপুরি বিবেচনা করা। যা ভালোভাবে বিবেচনা করা হয়েছে তা সমীক্ষিত।
এর আগে না-অর্থের অ বসালে হয় অসমীক্ষিত, মানে যা সম্পূর্ণরূপে বিবেচনা করা হয়নি। সম, ঈক্ষ মানে দেখা, আর ত প্রত্যয়: এই তিনটি অংশ মিলেই অর্থটা আসে।
অন্য অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: অসমর্থিত মানে যাকে সমর্থন করা হয়নি, অসমাপ্ত মানে শেষ হয়নি, অসম্পূর্ণ মানে পূর্ণ নয়।
ফাঁদ হলো অসম্পূর্ণ: প্রশ্নে সম্পূর্ণরূপে কথাটা দেখে অনেকে এটিই বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্নের মূল ক্রিয়া বিবেচনা করা, আর বিবেচনার শব্দ হলো সমীক্ষা।
মনে রাখুন: ঈক্ষ ধাতু মানে দেখা: সমীক্ষা, পরীক্ষা, নিরীক্ষা, প্রতীক্ষা। বিবেচনা না করা মানেই অসমীক্ষিত।
৭০০. 'লৌকিক ছন্দ' কাকে বলে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কপদ্ম ছন্দকে
- খস্বরবৃত্তকে
- গমাত্রাবৃত্তকে
- ঘঅক্ষরবৃত্তকে
সঠিক উত্তর: খ. স্বরবৃত্তকে
প্রশ্নটা বাংলা ছন্দের অন্য নাম নিয়ে। বাংলা কবিতায় তিনটি প্রধান ছন্দ: স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর অক্ষরবৃত্ত। এদের প্রত্যেকের একাধিক নাম আছে।
স্বরবৃত্ত ছন্দকে বলা হয় লৌকিক ছন্দ বা ছড়ার ছন্দ, কারণ গ্রামবাংলার ছড়া আর লোকমুখের গান এই ছন্দেই রচিত। যেমন: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান। এর আরেক নাম দলবৃত্ত, আর এটি শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ; প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
মাত্রাবৃত্তকে বলে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ, আর অক্ষরবৃত্তকে বলে তানপ্রধান ছন্দ বা মিশ্রকলাবৃত্ত। পয়ার হলো অক্ষরবৃত্তেরই একটি রূপ।
ফাঁদ হলো অক্ষরবৃত্ত বা পয়ার: মধ্যযুগের পাঁচালি পয়ারে লেখা বলে অনেকে একে লোকছন্দ ভাবেন। কিন্তু লৌকিক বা ছড়ার ছন্দ নাম কেবল স্বরবৃত্তের।
মনে রাখুন: ছড়া = লোক = স্বরবৃত্ত। শ্বাসাঘাত, দলবৃত্ত, লৌকিক সব এক ছন্দের নাম।