বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৪
৬৬১. “তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘অনন্ত প্রেম’
- খ‘উপহার’
- গ‘ব্যক্ত প্রেম’
- ঘ‘শেষ উপহার’
সঠিক উত্তর: ক. ‘অনন্ত প্রেম’
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত চরণ দেখে রবীন্দ্রনাথের কবিতা চিনতে বলছে। তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার, এই চরণ অনন্ত প্রেম কবিতার।
কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের মানসী কাব্যগ্রন্থের, যা ১৮৯০ সালে প্রকাশিত। এখানে কবি বলছেন, এই প্রেম এক জন্মের নয়; যুগ যুগ ধরে, জন্মে জন্মে একই প্রিয়জনকে তিনি ভালোবেসে আসছেন। চরণের জনমে জনমে আর যুগে যুগে শব্দগুলোই শিরোনামের অনন্ত শব্দের সূত্র।
বাকি শিরোনামগুলোও রবীন্দ্রনাথের কবিতা, তাই প্রশ্নটি কঠিন লাগে। ব্যক্ত প্রেমও মানসীরই কবিতা, আর শেষ উপহার চিত্রা কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
কৌশল হলো চরণের মূল ভাব আর শিরোনাম মেলানো: শত বার, জনমে জনমে, অনিবার, সবই সীমাহীনতার কথা, তাই অনন্ত প্রেম।
মনে রাখুন: উদ্ধৃতির মূল ভাবের শব্দ খুঁজুন, তারপর শিরোনামে মেলান: যুগে যুগে, জনমে জনমে মানে অনন্ত।
৬৬২. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপণ্ডিত
- খবিদ্যাসাগর
- গশাস্ত্রজ্ঞ
- ঘমহামহোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ঘ. মহামহোপাধ্যায়
প্রশ্নটি চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি জানতে চায়। উত্তর মহামহোপাধ্যায়, যা তিনি ১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে পান। পরে ১৯১১ সালে তিনি সিআইই উপাধিও পান।
মহামহোপাধ্যায় ছিল সংস্কৃত শাস্ত্রে পাণ্ডিত্যের জন্য সরকারের দেওয়া সম্মানসূচক উপাধি। হরপ্রসাদ ছিলেন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত, পুথি সংগ্রাহক ও ইতিহাসবিদ। তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
ফাঁদ লুকিয়ে আছে তাঁর নামেই। শাস্ত্রী অংশটি দেখে অনেকে শাস্ত্রজ্ঞ বিকল্পটি বেছে নেন। আসলে শাস্ত্রী তাঁর সংস্কৃত শিক্ষার স্বীকৃতি থেকে পাওয়া পদবি, আর মহামহোপাধ্যায় আলাদা সরকারি উপাধি।
বিদ্যাসাগর বিকল্পটিও ফাঁদ। বিদ্যাসাগর উপাধি পেয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র, সংস্কৃত কলেজ থেকে।
মনে রাখুন: হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তিনটি তথ্য একসঙ্গে: মহামহোপাধ্যায় ১৮৯৮, চর্যাপদ আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬।
৬৬৩. ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’
- খ‘ক্ষুধা ও আশা’
- গ‘কর্ণফুলি’
- ঘ‘ধানকন্যা’
সঠিক উত্তর: গ. ‘কর্ণফুলি’
প্রশ্নটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন নিয়ে লেখা উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর আলাউদ্দিন আল আজাদের কর্ণফুলী, প্রকাশিত ১৯৬২ সালে।
উপন্যাসটির পটভূমি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর। নদীর পাড়ে আর পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবন, শ্রম আর সংগ্রাম এতে তুলে ধরা হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো চারটি বিকল্পই আলাউদ্দিন আল আজাদের রচনা, তাই লেখক দেখে উত্তর পাওয়া যাবে না, বিষয় দেখতে হবে। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র তাঁর প্রথম উপন্যাস, ১৯৬০ সালের, একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রেমের কাহিনি। ক্ষুধা ও আশা ১৯৬৪ সালের উপন্যাস। ধানকন্যা তাঁর ১৯৫১ সালের গল্পগ্রন্থ, উপন্যাসই নয়।
ফাঁদ হলো ধানকন্যা, কারণ নামটা গ্রামীণ বা আদিবাসী জীবনের কথা মনে করায়। কিন্তু এটি গল্পগ্রন্থ।
মনে রাখুন: সব বিকল্প একই লেখকের হলে বিষয় আর ধরন মেলান: নদী আর পাহাড়ের মানুষ মানে কর্ণফুলী।
৬৬৪. ‘নীল লোহিত’ কোন লেখকের ছদ্মনাম? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅরুণ মিত্র
- খসমরেশ বসু
- গসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- ঘসমরেশ মজুমদার
সঠিক উত্তর: গ. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রশ্নটি একটি ছদ্মনামের আসল মানুষকে চিনতে বলছে। নীললোহিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
নীললোহিত নামে সুনীল ভ্রমণ আর অভিযানের স্বাদের অনেক উপন্যাস লিখেছেন, যার কথক এক চিরকালীন সাতাশ বছরের বেকার যুবক। এ ছাড়া তিনি সনাতন পাঠক আর নীল উপাধ্যায় নামেও লিখতেন। সুনীলের বিখ্যাত উপন্যাস সেই সময়, প্রথম আলো, পূর্ব-পশ্চিম।
সমরেশ নামের দুজন লেখক বিকল্পে আছেন, আর এটাই ফাঁদ। সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট ও ভ্রমর, নীললোহিত নয়। সমরেশ মজুমদারের বিখ্যাত উপন্যাস উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ। অরুণ মিত্র ছিলেন কবি ও ফরাসি সাহিত্যের অনুবাদক।
ছদ্মনামের প্রশ্নে পাশের তথ্যগুলোও আসে: প্রমথ চৌধুরী বীরবল, রাজশেখর বসু পরশুরাম, আর সমরেশ বসু কালকূট।
মনে রাখুন: সুনীলের তিন ছদ্মনামেই নীল বা পাঠক আছে; নামের নীল থেকেই নীললোহিত মনে রাখুন।
৬৬৫. বাগযন্ত্রের অংশ কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কস্বরযন্ত্র
- খফুসফুস
- গদাঁত
- ঘউপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবকটি
প্রশ্নটি জানতে চায় বাগযন্ত্রের অংশ কোনগুলো। ধ্বনি উচ্চারণে শরীরের যেসব প্রত্যঙ্গ কাজ করে, তাদের একসঙ্গে বাগযন্ত্র বলে।
ধ্বনি তৈরির পথটা দেখুন। ফুসফুস থেকে বাতাস বের হয়, তাই ফুসফুস হলো বাতাসের উৎস। গলায় স্বরযন্ত্রে থাকে স্বরতন্ত্রী, যা কেঁপে আওয়াজ তৈরি করে। তারপর মুখে জিহ্বা, তালু, দাঁত, ঠোঁট আর নাক সেই বাতাসকে নানাভাবে বাধা দিয়ে আলাদা আলাদা ধ্বনি গড়ে।
তাই ফুসফুস, স্বরযন্ত্র, দাঁত, তিনটিই বাগযন্ত্রের অংশ, আর উত্তর উপরের সবকটি। দাঁতের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিকে বলে দন্ত্য ধ্বনি, যেমন ত, থ, দ, ধ।
ভুল হয় তখন, যখন কেউ শুধু মুখের ভেতরের অঙ্গকে বাগযন্ত্র ভাবেন আর ফুসফুস বাদ দেন। কিন্তু বাতাস ছাড়া কোনো ধ্বনিই হয় না।
মনে রাখুন: সবকটি বিকল্প থাকলে আগে দেখুন প্রতিটি আলাদাভাবে ঠিক কি না; তিনটিই ঠিক হলে উত্তর সবকটি।
৬৬৬. রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককরণ কারক
- খসম্প্রদান কারক
- গঅপাদান কারক
- ঘঅধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর: খ. সম্প্রদান কারক
প্রশ্নটি কারক নিয়ে রবীন্দ্রনাথের একটি মত জানতে চায়। রবীন্দ্রনাথ সম্প্রদান কারককে আলাদা কারক হিসেবে রাখার পক্ষে ছিলেন না।
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয়টি: কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ। স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান করা হলে যাকে দেওয়া হয়, সে সম্প্রদান; যেমন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
যুক্তিটা হলো, সংস্কৃতে সম্প্রদানের নিজস্ব বিভক্তি আছে, কিন্তু বাংলায় সম্প্রদানে কে বিভক্তি বসে, ঠিক কর্ম কারকের মতো। রূপে কোনো পার্থক্য না থাকায় বাংলায় একে আলাদা কারক রাখার প্রয়োজন রবীন্দ্রনাথ দেখেননি।
অন্য কারকগুলোর বাংলায় নিজস্ব চেহারা আছে: করণে দিয়ে বা দ্বারা, অপাদানে থেকে বা হতে, অধিকরণে এ বা তে। তাই এগুলো বাদ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনি।
মনে রাখুন: যে কারকের বাংলায় আলাদা বিভক্তি নেই, সেটিকেই বাদ দেওয়ার কথা উঠেছিল: সম্প্রদান, যার বিভক্তি কর্মের মতোই কে।
৬৬৭. কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কহিত্তিক ও তুখারিক
- খতামিল ও দ্রাবিড়
- গআর্য ও অনার্য
- ঘমাগধী ও গৌড়ী
সঠিক উত্তর: ক. হিত্তিক ও তুখারিক
প্রশ্নটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শাখা নিয়ে। এই ভাষাবংশকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: কেন্তুম আর শতম। নাম দুটি এসেছে একশো সংখ্যার শব্দ থেকে; লাতিনে একশো কেন্তুম, আর আবেস্তা ভাষায় সতম।
কেন্তুম শাখার ভাষাগুলো প্রধানত ইউরোপের: গ্রিক, ইতালীয় বা লাতিন, কেলটিক, জার্মানিক। কিন্তু এই শাখার দুটি ভাষা প্রচলিত ছিল এশিয়ায়: হিত্তীয় বা হিত্তিক, যা চলত আনাতোলিয়া অর্থাৎ বর্তমান তুরস্কে, আর তুখারীয় বা তুখারিক, যা চলত মধ্য এশিয়ার তারিম অববাহিকায়।
অন্যদিকে শতম শাখায় আছে ইন্দো-ইরানীয়, বাল্টো-স্লাভিক, আর্মেনীয়, আলবেনীয়। বাংলা এই শতম শাখারই ইন্দো-ইরানীয় ধারা থেকে এসেছে।
ফাঁদ হলো মাগধী ও গৌড়ী। এগুলো আমাদের পরিচিত প্রাকৃত, বাংলার উৎস হিসেবে আলোচিত, তাই চোখে পড়ে। কিন্তু এরা শতম শাখার ভারতীয় ধারার, কেন্তুমের নয়।
মনে রাখুন: কেন্তুমের এশিয়ার জোড়া মনে রাখুন হি আর তু দিয়ে: হিত্তিক ও তুখারিক।
৬৬৮. ‘রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’–এর অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কতেজি কুমিরকে রুখে দিই
- খবৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
- গগাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
- ঘভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
সঠিক উত্তর: গ. গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
প্রশ্নটি চর্যাপদের একটি চরণের অর্থ জানতে চায়। রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই, এই চরণে রুখ মানে বৃক্ষ বা গাছ, তেন্তুলি মানে তেঁতুল, আর কুমীরে খাই মানে কুমিরে খায়।
তাই সোজা অর্থ: গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়। চরণটি কুক্কুরীপার পদের। কুমির গাছে উঠে তেঁতুল খায়, এমন অসম্ভব ছবি দিয়ে চর্যাকারেরা সাধনার গূঢ় তত্ত্ব বলতেন। এই আলো-আঁধারি ভাষাকে বলে সন্ধ্যাভাষা।
পুরোনো বাংলার শব্দ এখনকার শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে পড়লেই অর্থ বোঝা যায়: তেন্তুলি থেকে তেঁতুল, কুমীর থেকে কুমির।
ফাঁদ হলো বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল বিকল্পটি। রুখ আর তেঁতুল ঠিক ধরা হলেও এতে কুমির নেই, তাই অর্থ অসম্পূর্ণ।
মনে রাখুন: চর্যার চরণের অর্থ প্রশ্নে প্রতিটি শব্দকে আধুনিক রূপে মেলান; যে বিকল্পে সব শব্দের অর্থ আছে সেটিই উত্তর।
৬৬৯. কত সালে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৮৬০
- খ১৮৬১
- গ১৮৬৫
- ঘ১৮৬৭
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৬৫
প্রশ্নটি দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রকাশকাল জানতে চায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস এবং বঙ্কিমের প্রথম বাংলা উপন্যাস।
একটা পার্থক্য মনে রাখুন। প্রথম বাংলা উপন্যাস হিসেবে ধরা হয় প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল; কিন্তু শিল্পগুণে পরিপূর্ণ প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী।
বিকল্পের অন্য সালগুলো কাছাকাছি সময়ের বড় ঘটনার সঙ্গে গুলিয়ে যায়। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয় দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ, ১৮৬১ সালে মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্য। দুর্গেশনন্দিনীর পরের বছর, ১৮৬৬ সালে, বের হয় বঙ্কিমের কপালকুণ্ডলা।
তাই সময়রেখায় সাজিয়ে মনে রাখুন: নীলদর্পণ, তারপর মেঘনাদবধ, তারপর দুর্গেশনন্দিনী, তারপর কপালকুণ্ডলা।
মনে রাখুন: বঙ্কিমের প্রথম দুটি উপন্যাস পরপর দুই বছরে: দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫, কপালকুণ্ডলা ১৮৬৬।
৬৭০. বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের নাম কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবেগম রোকেয়া
- খকাদম্বরী দেবী
- গস্বর্ণকুমারী দেবী
- ঘনূরুন্নাহার ফয়জুন্নেসা
সঠিক উত্তর: গ. স্বর্ণকুমারী দেবী
প্রশ্নটি জানতে চায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে। প্রচলিত উত্তর স্বর্ণকুমারী দেবী, যাঁর দীপনির্বাণ বাঙালি নারীর লেখা প্রথম উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
স্বর্ণকুমারী দেবী রবীন্দ্রনাথের বড় বোন। তিনি দীর্ঘদিন ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। দীপনির্বাণ প্রথমে লেখকের নাম ছাড়া প্রকাশিত হয়েছিল।
একটি সূক্ষ্ম তথ্য: কেউ কেউ মিশনারি হানা ক্যাথরিন মুলেন্সের ফুলমণি ও করুণার বিবরণকে, যা ১৮৫২ সালের, নারীর লেখা প্রথম বাংলা উপন্যাস বলেন। তবে তিনি বিকল্পে নেই, আর বাঙালি নারী হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি স্বর্ণকুমারীর।
অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালে, তাই তিনি প্রথম হতে পারেন না; তাঁর উপন্যাস পদ্মরাগ। কাদম্বরী দেবী জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী, কোনো উপন্যাস লেখেননি। আর ফয়জুন্নেসা নামটি নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে মনে করায়, যাঁর রূপজালাল ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত; তিনি প্রথম মুসলিম নারী সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখুন: প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী, প্রথম মুসলিম মহিলা সাহিত্যিক ফয়জুন্নেছা: দুটো আলাদা প্রশ্ন, আলাদা উত্তর।
৬৭১. ‘আমার দেখা নয়াচীন’ কে লিখেছেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কমওলানা ভাসানী
- খআবুল ফজল
- গশহীদুল্লা কায়সার
- ঘশেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর: ঘ. শেখ মুজিবুর রহমান
প্রশ্নটি একটি ভ্রমণগ্রন্থের লেখক জানতে চায়। আমার দেখা নয়াচীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা।
১৯৫২ সালে তিনি চীনে অনুষ্ঠিত একটি শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে সে দেশ সফর করেন। সদ্য বিপ্লবের পর নতুন চীনের সমাজ, অর্থনীতি আর মানুষের জীবন তিনি যেভাবে দেখেছেন, তা-ই এই বইয়ে লেখা। বইটি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
বঙ্গবন্ধুর লেখা তিনটি বই একসঙ্গে মনে রাখুন: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, প্রকাশিত ২০১২ সালে; কারাগারের রোজনামচা, ২০১৭ সালে; আর আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ সালে।
বাকি বিকল্পগুলো ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ। আবুল ফজলের উপন্যাস রাঙা প্রভাত, আর শহীদুল্লা কায়সারের সংশপ্তক ও সারেং বৌ। মওলানা ভাসানীর চীনঘনিষ্ঠ রাজনীতির কথা মনে করে অনেকে তাঁকে বেছে নেন, কিন্তু বইটি তাঁর নয়।
মনে রাখুন: বঙ্গবন্ধুর তিন বই প্রকাশের ক্রমে: আত্মজীবনী, রোজনামচা, নয়াচীন।
৬৭২. মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘মনসামঙ্গল’
- খ‘মনসাবিজয়’
- গ‘পদ্মপুরাণ’
- ঘ‘পদ্মাবতী’
সঠিক উত্তর: গ. ‘পদ্মপুরাণ’
প্রশ্নটি জানতে চায় মনসা দেবীকে নিয়ে বিজয়গুপ্তের কাব্যের নাম। বরিশালের কবি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ; বিকল্পে নামটি পদ্মপুরাণ বানানে ছাপা।
মনসা দেবীর আরেক নাম পদ্মা, তাই তাঁর কাহিনির কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। কাহিনির কেন্দ্রে চাঁদ সওদাগর, বেহুলা আর লখিন্দর; মনসার পূজা না করায় চাঁদ সওদাগরের সঙ্গে দেবীর দ্বন্দ্বই এর মূল কথা।
মনসামঙ্গল হলো পুরো ধারার নাম, যে ধারায় অনেক কবি লিখেছেন। আলাদা কবির কাব্যের আলাদা নাম আছে: বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের কাব্যের নাম মনসাবিজয়।
দুটি ফাঁদ আছে। মনসামঙ্গল ধারার নাম, নির্দিষ্ট কাব্যের নাম নয়। আর পদ্মাবতী আলাওলের অনুবাদ কাব্য, যার সঙ্গে মনসা বা পদ্মা দেবীর কোনো সম্পর্ক নেই; শুধু নামের মিল।
মনে রাখুন: মনসামঙ্গলের কবি আর কাব্যের নাম জোড়ায়: বিজয়গুপ্ত পদ্মাপুরাণ, বিপ্রদাস মনসাবিজয়।
৬৭৩. ‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়’- কে রচনা করেন এই কাব্যাংশ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসুধীন্দ্রনাথ দত্ত
- খপ্রেমেন্দ্র মিত্র
- গসমর সেন
- ঘজীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর: ঘ. জীবনানন্দ দাশ
প্রশ্নটি একটি চরণ দেখে কবিকে চিনতে বলছে। মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়, এটি জীবনানন্দ দাশের মানুষের মৃত্যু হলে কবিতার চরণ।
এখানে মানুষ আর মানব শব্দের সূক্ষ্ম পার্থক্যটাই মূল ভাব। একজন ব্যক্তি মানুষ মারা যায়, কিন্তু মানবজাতি আর তার অভিজ্ঞতার ধারা টিকে থাকে। ইতিহাস আর সময়চেতনার এমন ভাবনা জীবনানন্দের পরিণত কবিতার বৈশিষ্ট্য।
চারজন কবিই ত্রিশের দশকের আধুনিক বাংলা কবিতার ধারার, তাই প্রশ্নটি কঠিন লাগে। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের বিখ্যাত কাব্য অর্কেস্ট্রা ও সংবর্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথমা, আর সমর সেনের কয়েকটি কবিতা।
জীবনানন্দের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন আর রূপসী বাংলা। তাঁকে রূপসী বাংলার কবি ও নির্জনতম কবি বলা হয়।
মনে রাখুন: চরণে ইতিহাস, সময়, মৃত্যু আর মানবধারার ভাবনা থাকলে আগে জীবনানন্দের কথা ভাবুন।
৬৭৪. দৌলত উজির বাহরাম খান সাহিত্যসৃষ্টিতে কার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- খকোরেশী মাগন ঠাকুর
- গসুলতান বরবক শাহ
- ঘজমিদার নিজাম শাহ
সঠিক উত্তর: ঘ. জমিদার নিজাম শাহ
প্রশ্নটি মধ্যযুগের কবি ও তাঁর পৃষ্ঠপোষক মেলাতে বলছে। দৌলত উজির বাহরাম খান চট্টগ্রামের শাসক নিজাম শাহ সুরের পৃষ্ঠপোষকতা পান।
বাহরাম খানের বাবা ছিলেন নিজাম শাহ সুরের উজির। বাবার মৃত্যুর পর নিজাম শাহ অল্প বয়সী বাহরামকে উজির পদে বসান, আর এই পদ থেকেই তাঁর নামের দৌলত উজির অংশ। তাঁর বিখ্যাত কাব্য লায়লী-মজনু, ফারসি কবি জামির কাহিনি অবলম্বনে লেখা প্রণয়কাব্য।
বাকি পৃষ্ঠপোষকেরা অন্য কবির। সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সময়ে শাহ মুহম্মদ সগীর লেখেন ইউসুফ-জোলেখা। সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহ মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেন, যিনি লেখেন শ্রীকৃষ্ণবিজয়। আর আরাকানের মন্ত্রী মাগন ঠাকুর ছিলেন আলাওলের পদ্মাবতীর পৃষ্ঠপোষক।
এই চার জোড়া একসঙ্গে মুখস্থ করলে পৃষ্ঠপোষকতার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
মনে রাখুন: উজির পদ পেয়েছিলেন নিজাম শাহের কাছে, তাই দৌলত উজির বাহরাম খানের পৃষ্ঠপোষক নিজাম শাহ।
৬৭৫. চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান কোথায়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবাংলাদেশ
- খনেপাল
- গউড়িষ্যা
- ঘভুটান
সঠিক উত্তর: খ. নেপাল
প্রশ্নটি জানতে চায় চর্যাপদ কোথায় পাওয়া যায়। উত্তর নেপাল। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তিনি এটি প্রকাশ করেন হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে। পরে ১৯২৬ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখান চর্যার ভাষা বাংলারই আদি রূপ।
বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি কেন, এই প্রশ্ন থেকেই ফাঁদ তৈরি হয়। তুর্কি আক্রমণের সময় বৌদ্ধ সাধকেরা পুথি নিয়ে নেপাল ও তিব্বতে চলে যান বলে ধারণা করা হয়, তাই পুথিটি মিলেছে নেপালে।
চর্যার তিব্বতি অনুবাদ খুঁজে পান প্রবোধচন্দ্র বাগচী, তাই তিব্বত নামটিও আসে; কিন্তু মূল পুথির প্রাপ্তিস্থান নেপাল।
মনে রাখুন: চর্যাপদের দুটি সাল জোড়ায় মনে রাখুন: আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬; স্থান নেপাল।
৬৭৬. কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককাঁদো নদী কাঁদো
- খ‘নেকড়ে অরণ্যে’
- গরাঙা প্রভাত
- ঘ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’
সঠিক উত্তর: খ. ‘নেকড়ে অরণ্যে’
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর শওকত ওসমানের নেকড়ে অরণ্যে, প্রকাশিত ১৯৭৩ সালে।
উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের বন্দিশিবিরে আটক নারীদের ওপর নির্যাতনের মর্মান্তিক চিত্র আছে। শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও লিখেছেন, যেমন জাহান্নাম হইতে বিদায় উপন্যাস।
অন্য তিনটি উপন্যাস সময় দেখেই বাদ দেওয়া যায়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালের, আবুল ফজলের রাঙা প্রভাত ১৯৫৭ সালের, দুটোই মুক্তিযুদ্ধের আগে লেখা। শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন ঐতিহাসিক উপন্যাস, যার পটভূমি সেন আমলের শেষভাগ।
ফাঁদ হলো রাঙা প্রভাত, কারণ নামটা নতুন ভোর বা স্বাধীনতার মতো শোনায়। কিন্তু এটি ১৯৫৭ সালের রচনা।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস খুঁজতে প্রকাশকাল দেখুন: একাত্তরের আগের বই কখনো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক হতে পারে না।
৬৭৭. ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- করফিক আজাদ
- খশঙ্খ ঘোষ
- গশক্তি চট্টোপাধ্যায়
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: খ. শঙ্খ ঘোষ
প্রশ্নটি একটি কাব্যগ্রন্থের কবি জানতে চায়। মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে পশ্চিমবঙ্গের কবি শঙ্খ ঘোষের কাব্যগ্রন্থ।
শিরোনামেই ভাবটা আছে: ভোগবাদী শহরে বিজ্ঞাপনের ভিড়ে মানুষের আসল মুখ হারিয়ে যায়। শঙ্খ ঘোষ এমন সমাজসচেতন, সংযত ভাষার কবিতার জন্য পরিচিত। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ বাবরের প্রার্থনা, আরও আছে দিনগুলি রাতগুলি।
বাকি তিনজনও আধুনিক কবি বলে বিভ্রান্তি হয়। রফিক আজাদের বিখ্যাত কাব্য চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো, আর শামসুর রাহমানের বন্দী শিবির থেকে।
নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন কবির নামের সঙ্গে বাবরের প্রার্থনা জড়িত; সেই কবিরই মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।
মনে রাখুন: শঙ্খ ঘোষের দুটি নাম জোড়ায় মনে রাখুন: বাবরের প্রার্থনা আর মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।
৬৭৮. আসমান কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপর্তুগিজ
- খফরাসি
- গআরবি
- ঘফারসি
সঠিক উত্তর: ঘ. ফারসি
প্রশ্নটি বিদেশি শব্দের উৎস জানতে চায়। আসমান শব্দটি ফারসি, অর্থ আকাশ।
মুসলিম শাসনামলে প্রশাসন আর সংস্কৃতির ভাষা ছিল ফারসি, তাই অনেক ফারসি শব্দ বাংলায় ঢুকে গেছে। ধর্মীয় অনুষঙ্গের অনেক শব্দও আরবি নয়, ফারসি: খোদা, নামাজ, রোজা, বেহেশত, দোজখ, ফেরেশতা।
আরবি শব্দের উদাহরণ আল্লাহ, ইসলাম, কোরআন, হাকিম। আরবিতে আকাশকে বলে সামা, আসমান নয়। পর্তুগিজ থেকে এসেছে আলমারি, চাবি, বালতি, আনারস; ফরাসি থেকে কার্তুজ, রেস্তোরাঁ, বুর্জোয়া।
ফাঁদ হলো আরবি বিকল্পটি। আসমান শব্দটি ধর্মীয় আলোচনায় বেশি শোনা যায় বলে অনেকে আরবি ভাবেন, কিন্তু এটি ফারসি।
মনে রাখুন: ধর্মীয় অনুষঙ্গের শব্দ মানেই আরবি নয়: নামাজ, রোজা, খোদা, আসমান ফারসি।
৬৭৯. নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কআ
- খই
- গএ
- ঘঅ্যা
সঠিক উত্তর: ক. আ
প্রশ্নটি স্বরধ্বনির উচ্চারণ অনুযায়ী শ্রেণি জানতে চায়। জিভ কতটা উঁচু বা নিচু থাকে, তা দিয়ে ভাগ হয় উচ্চ, মধ্য, নিম্ন; আর মুখ কতটা খোলে, তা দিয়ে ভাগ হয় সংবৃত বা বিবৃত।
আ উচ্চারণের সময় জিভ সবচেয়ে নিচে থাকে আর মুখ সবচেয়ে বেশি খোলে। তাই আ হলো নিম্ন ও বিবৃত স্বরধ্বনি।
অন্যগুলোর অবস্থান মিলিয়ে দেখুন। ই উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে ওপরে, মুখ প্রায় বন্ধ, তাই উচ্চ ও সংবৃত। এ উচ্চ-মধ্য ও অর্ধ-সংবৃত। অ্যা নিম্ন-মধ্য ও অর্ধ-বিবৃত।
ফাঁদ হলো অ্যা। এটি আ-এর খুব কাছাকাছি, মুখও বেশ খোলে, তাই কিছু গাইডে একে উত্তর দেওয়া হয়। কিন্তু অ্যা পুরোপুরি নিম্ন নয়, নিম্ন-মধ্য; সবচেয়ে নিচে কেবল আ।
মনে রাখুন: জিভ যত নিচে, মুখ তত খোলা: ই থেকে এ, অ্যা হয়ে আ পর্যন্ত মুখ ক্রমে খোলে।
৬৮০. ‘জিজীবিষা’ শব্দটির অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কজীবননাশের ইচ্ছা
- খবেঁচে থাকার ইচ্ছা
- গজীবনকে জানার ইচ্ছা
- ঘজীবন-জীবিকার পথ
সঠিক উত্তর: খ. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
প্রশ্নটি একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চায়। জিজীবিষা মানে বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
শব্দটি জীব ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ বাঁচা। সংস্কৃতে কোনো কাজ করার ইচ্ছা বোঝাতে ধাতুর রূপ বদলে এমন শব্দ গড়া হয়, যাকে ইচ্ছাবাচক বা সন্নন্ত শব্দ বলে। তাই জিজীবিষা মানে বাঁচার ইচ্ছা।
একই ধাঁচের আরও শব্দ শিখে রাখুন: জিজ্ঞাসা মানে জানার ইচ্ছা, জিগীষা মানে জয়ের ইচ্ছা, বুভুক্ষা মানে খাওয়ার ইচ্ছা, পিপাসা মানে পান করার ইচ্ছা, মুমূর্ষা মানে মরার ইচ্ছা, আর জিঘাংসা মানে হত্যার ইচ্ছা।
ফাঁদ হলো জীবনকে জানার ইচ্ছা বিকল্পটি। জানার ইচ্ছার শব্দ জিজ্ঞাসা, আর জিজীবিষা আর জিজ্ঞাসা দুটোই জি দিয়ে শুরু হওয়ায় গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: ইচ্ছাবাচক শব্দের ধাতুটা খুঁজুন: জীব মানে বাঁচা, তাই জিজীবিষা; জ্ঞা মানে জানা, তাই জিজ্ঞাসা।