বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৩
৬৪১. ‘অভাব’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅকাজ
- খআবছায়া
- গআলুনি
- ঘনিখুঁত
সঠিক উত্তর: গ. আলুনি
প্রশ্নটি বাংলা উপসর্গের অর্থ চিনতে বলছে। একই উপসর্গ ভিন্ন শব্দে ভিন্ন অর্থ দেয়, তাই প্রতিটি শব্দে উপসর্গটি কী ভাব আনছে তা দেখতে হবে।
আলুনি শব্দে আ উপসর্গ যুক্ত হয়েছে নুন বা লুন শব্দের সঙ্গে, আর অর্থ দাঁড়িয়েছে লবণহীন। এখানে আ মানে অভাব। বাংলা আ উপসর্গ অভাব অর্থে বসে এমন আরও শব্দ: আকাঁড়া, আধোয়া।
অন্য শব্দগুলোতে অর্থ আলাদা। অকাজ শব্দে অ মানে নিন্দিত বা মন্দ, অর্থাৎ বাজে কাজ। আবছায়া শব্দে আ বোঝায় অস্পষ্টতা বা ক্ষীণতা। নিখুঁত শব্দে নি উপসর্গ না-বাচক ভাব আনে, খুঁত নেই এমন।
সতর্ক থাকুন, নিখুঁত শব্দেও খুঁতের অনুপস্থিতি আছে, তাই এটি বিভ্রান্তিকর। ব্যাকরণ বইয়ে নি উপসর্গকে না-বাচক বা নেতি অর্থের উদাহরণ ধরা হয়, আর অভাব অর্থের প্রচলিত উদাহরণ আলুনি।
মনে রাখুন: অভাব অর্থে আ উপসর্গের তিনটি উদাহরণ একসঙ্গে মনে রাখুন: আলুনি, আকাঁড়া, আধোয়া।
৬৪২. বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
- খরাজশেখর বসু
- গহরিচরণ দে
- ঘঅশোক মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান কে সংকলন করেন। প্রচলিত উত্তর রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ, যিনি ১৮১৭ সালে বঙ্গভাষাভিধান প্রকাশ করেন। এটি কোনো বাঙালির সংকলিত প্রথম বাংলা থেকে বাংলা অভিধান।
একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখুন। বাংলা শব্দের প্রথম অভিধান বা শব্দকোষ পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁওর, ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে ছাপা, বাংলা ও পর্তুগিজ দ্বিভাষিক। কিন্তু তিনি বিকল্পে নেই, তাই এখানে উত্তর রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।
অন্য বিকল্পগুলো বিশ শতকের অভিধানকারদের মনে করিয়ে দেয়। রাজশেখর বসু চলন্তিকা অভিধানের সংকলক, পরশুরাম ছদ্মনামের রম্যলেখক। হরিচরণ নামটি মনে করায় বঙ্গীয় শব্দকোষের সংকলক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অশোক মুখোপাধ্যায় সংসদ সমার্থশব্দকোষের সংকলক।
সবাই অভিধানের সঙ্গে যুক্ত বলেই প্রশ্নটি কঠিন মনে হয়। সময় ধরে ভাবুন: উনিশ শতকের শুরুর নামটিই প্রথম।
মনে রাখুন: প্রথম অভিধান প্রশ্নে বিকল্প দেখুন: মানোএল থাকলে তিনি, না থাকলে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।
৬৪৩. সবচেয়ে কম বয়সে কোন লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশওকত আলী
- খসেলিনা হোসেন
- গআখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- ঘসৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
প্রশ্নটি জানতে চায় সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার কে পেয়েছেন। উত্তর সৈয়দ শামসুল হক, যিনি ১৯৬৬ সালে, মাত্র ত্রিশের কোঠায় পা রাখার সময় এই পুরস্কার পান।
সমাধানের কৌশল হলো জন্মসাল আর পুরস্কারের সাল পাশাপাশি রাখা। সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে, পুরস্কার ১৯৬৬ সালে। শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৬, পুরস্কার ১৯৬৮, তখন তাঁর বয়স প্রায় বত্রিশ। সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৯৪৭, পুরস্কার ১৯৮০, বয়স প্রায় তেত্রিশ। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের জন্ম ১৯৪৩, পুরস্কার ১৯৮৩, বয়স প্রায় চল্লিশ।
সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় লেখার জন্য সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত দুটি কাব্যনাট্য পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় ও নূরলদীনের সারাজীবন।
ফাঁদ হলো শওকত আলী। তাঁর জন্ম মাত্র এক বছর পরে, তাই অনেকে তাঁকেই ভাবেন; কিন্তু তিনি পুরস্কার পান দুই বছর পরে, তাই বয়সে বড় ছিলেন।
মনে রাখুন: বয়সের প্রশ্নে পুরস্কারের সাল থেকে জন্মসাল বিয়োগ করুন; সবচেয়ে ছোট ফল যার, তিনিই উত্তর।
৬৪৪. ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসৈয়দ আলী আহসান
- খসুকান্ত ভট্টাচার্য
- গহুমায়ুন আজাদ
- ঘনির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর: গ. হুমায়ুন আজাদ
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা জানতে চায়। সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯৮৫ সালে।
শিরোনামের কবিতায় কবি আশঙ্কা করেছেন, সমাজের সুন্দর ও শুভ সবকিছু একদিন অসৎ ও নষ্ট মানুষের দখলে চলে যাবে। এই তীব্র সমাজসমালোচনাই হুমায়ুন আজাদের লেখার বৈশিষ্ট্য।
হুমায়ুন আজাদ একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী ও প্রথাবিরোধী প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অলৌকিক ইস্টিমার, আলোচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নারী, আর উপন্যাস পাক সার জমিন সাদ বাদ।
বাকি তিনজনও কবি বলে বিভ্রান্তি হয়। সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কাব্য ছাড়পত্র, নির্মলেন্দু গুণের প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আর সৈয়দ আলী আহসানের একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
মনে রাখুন: প্রথাবিরোধী হুমায়ুন আজাদের তিনটি নাম একসঙ্গে মনে রাখুন: সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, নারী, পাক সার জমিন সাদ বাদ।
৬৪৫. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কছেঁড়াতার
- খচাকা
- গবাকী ইতিহাস
- ঘকী চাহ হে শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর: ঘ. কী চাহ হে শঙ্খচিল
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক চিনতে বলছে। উত্তর মমতাজউদদীন আহমদের কী চাহ শঙ্খচিল। বিকল্পে নামের মাঝে একটি বাড়তি হে ছাপা হয়েছে; প্রশ্নপত্রেই এভাবে আছে, নাটকের নাম কী চাহ শঙ্খচিল।
মমতাজউদদীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একাধিক নাটক লিখেছেন; তাঁর স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা নাটকটিও মুক্তিযুদ্ধের। কী চাহ শঙ্খচিল তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক হিসেবে পরীক্ষায় বারবার আসে।
অন্য তিনটি নাটক বিচার করার সহজ কৌশল হলো রচনাকাল দেখা। ছেঁড়াতারের নাট্যকার তুলসী লাহিড়ী মারা যান ১৯৫৯ সালে, তাই এটি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হতেই পারে না। বাকী ইতিহাস পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকার বাদল সরকারের, ষাটের দশকের নাটক।
ফাঁদ হলো চাকা, কারণ এটি স্বাধীনতার পরের বাংলাদেশি নাটক। কিন্তু সেলিম আল দীনের চাকার বিষয় গরুর গাড়িতে বয়ে নেওয়া এক অজ্ঞাত লাশ ঘিরে মানুষের মানবিকতা, মুক্তিযুদ্ধ নয়।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের নাটক প্রশ্নে মমতাজউদদীন আহমদের নাম খুঁজুন: কী চাহ শঙ্খচিল, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা।
৬৪৬. তেভাগা আন্দোলনকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅক্টোপাস
- খকালো বরফ
- গক্রীতদাসের হাসি
- ঘনাঢ়াই
সঠিক উত্তর: ঘ. নাঢ়াই
প্রশ্নটি তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর শওকত আলীর নাঢ়াই।
তেভাগা আন্দোলন হয় ১৯৪৬ ও ১৯৪৭ সালে, বর্গাচাষিরা দাবি তোলেন ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ তাঁদের দিতে হবে। নাঢ়াই উপন্যাসে জোতদার ও মহাজনের শোষণের বিরুদ্ধে গ্রামের কৃষকদের লড়াই এই আন্দোলনের সঙ্গে মিশে গেছে।
শওকত আলীর সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস প্রদোষে প্রাকৃতজন, যার পটভূমি সেন আমলের শেষভাগ। তিনি ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
বাকি বিকল্পগুলো ভিন্ন পটভূমির। শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের রূপক, আর মাহমুদুল হকের কালো বরফ দেশভাগের বেদনার উপন্যাস। দেশভাগ আর তেভাগা একই সময়ের বলে কালো বরফ বিকল্পটি বিভ্রান্তিকর।
মনে রাখুন: তেভাগা শুনলে মনে করুন শওকত আলীর নাঢ়াই; শওকত ওসমান হলেন ক্রীতদাসের হাসির লেখক। দুই শওকতকে গুলিয়ে ফেলবেন না।
৬৪৭. কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার বাজেয়াপ্ত করে। কোন বইটি প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবিষের বাঁশি
- খযুগবাণী
- গভাঙার গান
- ঘপ্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর: খ. যুগবাণী
প্রশ্নটি জানতে চায় ব্রিটিশ সরকার নজরুলের কোন বই সবার আগে বাজেয়াপ্ত করে। উত্তর প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী, যা ১৯২২ সালে বাজেয়াপ্ত হয়।
যুগবাণীতে নজরুলের নবযুগ পত্রিকায় লেখা জ্বালাময়ী সম্পাদকীয় প্রবন্ধগুলো সংকলিত। ব্রিটিশবিরোধী বক্তব্যের জন্য প্রকাশের বছরেই বইটি নিষিদ্ধ হয়। একই সময়ে ধূমকেতু পত্রিকায় আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা ছাপার জেরে নজরুল গ্রেপ্তারও হন।
পরে আরও চারটি বই বাজেয়াপ্ত হয়: বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে কেবল যুগবাণীই প্রবন্ধের বই, বাকিগুলো কবিতা ও গানের।
ফাঁদ হলো বিষের বাঁশি, কারণ বাজেয়াপ্ত বইয়ের কথা উঠলে এটির নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। কিন্তু এটি নিষিদ্ধ হয় যুগবাণীর পরে।
মনে রাখুন: নজরুলের বাজেয়াপ্ত পাঁচটি বইয়ের মধ্যে একটিই গদ্য, আর সেটিই প্রথম: যুগবাণী।
৬৪৮. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির নাম কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কচৈতালী ঘূর্ণি
- খরক্তের অক্ষর
- গবায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি
- ঘ১৯৭১
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৯৭১
প্রশ্নটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা রচনার নাম জানতে চায়। উত্তর উনিশশো একাত্তর।
সময়টা লক্ষ করুন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭১ সালের মার্চে, আর তারাশঙ্কর মারা যান সেই বছরের চোদ্দোই সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ যুদ্ধ চলাকালেই তিনি এটি লেখেন, আর নামেও সেই বছরটি রেখেছেন।
তারাশঙ্কর রাঢ় বাংলার জীবনের রূপকার। তাঁর প্রথম উপন্যাস চৈতালী ঘূর্ণি, আর বিখ্যাত উপন্যাস গণদেবতা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ও আরোগ্য নিকেতন। গণদেবতার জন্য তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান।
ফাঁদ হলো চৈতালী ঘূর্ণি, কারণ এটিও তারাশঙ্করের উপন্যাস। কিন্তু এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত, মুক্তিযুদ্ধের চার দশক আগে।
মনে রাখুন: যুদ্ধ চলাকালে লেখা, নামেও সেই বছর: তারাশঙ্করের উনিশশো একাত্তর।
৬৪৯. ‘সোমত্ত’ শব্দটির উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসোপান
- খসমর্থ
- গসোল্লাস
- ঘসওয়ার
সঠিক উত্তর: খ. সমর্থ
প্রশ্নটি একটি তদ্ভব শব্দের মূল তৎসম রূপ খুঁজতে বলছে। সোমত্ত শব্দের অর্থ যৌবনপ্রাপ্ত, পূর্ণবয়স্ক; যেমন সোমত্ত মেয়ে। এটি এসেছে তৎসম শব্দ সমর্থ থেকে।
সমর্থ মানে সক্ষম, যে কাজ করতে পারে এমন বয়সে পৌঁছেছে। মুখে মুখে উচ্চারণের সময় শুরুর অ হয়ে গেছে ও, আর র্থ যুক্তব্যঞ্জনটি সহজ হয়ে দ্বিত্ব ত্ত হয়েছে। এভাবে সমর্থ থেকে সোমত্ত।
তৎসম শব্দ ভেঙে এভাবে তৈরি হওয়া শব্দকে তদ্ভব বলে। একই ধাঁচের আরও উদাহরণ: হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ, কর্ম থেকে কাম।
বাকি বিকল্পগুলোর শুরুতেও সো বা স আছে, তাই শব্দের চেহারা মিলিয়ে ভুল হয়। কিন্তু অর্থ মেলে কেবল সমর্থের সঙ্গে।
মনে রাখুন: তদ্ভব শব্দের উৎস খুঁজতে অর্থ মেলান, শুধু বানানের চেহারা নয়: সোমত্ত মানে সক্ষম বয়সী, তাই সমর্থ।
৬৫০. নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে কী বলে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কযৌগিক ধ্বনি
- খঅক্ষর
- গবর্ণ
- ঘমৌলিক স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর: খ. অক্ষর
প্রশ্নটি ধ্বনিতত্ত্বের একটি সংজ্ঞা চিনতে বলছে। নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে, অর্থাৎ একবারের ঝোঁকে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলে। ইংরেজিতে একে সিলেবল বলে।
উদাহরণ নিন কলম শব্দটি। উচ্চারণে দুই ঝোঁকে বলি ক আর লম, তাই কলম শব্দে দুটি অক্ষর। একটি অক্ষরে একটি মাত্র স্বর থাকতে পারে, সঙ্গে আগে বা পরে ব্যঞ্জন থাকতে পারে।
সাধারণ কথায় অক্ষর আর বর্ণকে আমরা একই ভাবি, কিন্তু ব্যাকরণে দুটো আলাদা। বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত চিহ্ন, আর অক্ষর হলো উচ্চারণের একক।
ফাঁদ হলো বর্ণ বিকল্পটি, ঠিক এই দৈনন্দিন অর্থের গোলমালের কারণে। যৌগিক স্বর আর মৌলিক স্বর শুধু স্বরধ্বনির শ্রেণি, ধ্বনিগুচ্ছ বোঝায় না।
মনে রাখুন: শব্দে কটি অক্ষর, তা গুনতে কটি স্বরধ্বনি আছে দেখুন; প্রতিটি স্বর ঘিরে একটি অক্ষর।
৬৫১. ইংরেজি ভাষায় জীবনানন্দ দাশের ওপর গ্রন্থ লিখেছেন কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কডব্লিউ বি ইয়েটস
- খক্লিনটন বি সিলি
- গঅরুন্ধতী রায়
- ঘঅমিতাভ ঘোষ
সঠিক উত্তর: খ. ক্লিনটন বি সিলি
প্রশ্নটি জানতে চায় জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে ইংরেজিতে গ্রন্থ কে লিখেছেন। উত্তর মার্কিন গবেষক ক্লিনটন বি সিলি, আর তাঁর বইয়ের নাম আ পোয়েট অ্যাপার্ট, জীবনানন্দের সাহিত্যিক জীবনী।
সিলি ষাটের দশকে পিস কোরের স্বেচ্ছাসেবক হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং বরিশালে কাজ করেন, যা জীবনানন্দেরও শহর। পরে তিনি জীবনানন্দকে নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি মাইকেল মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্যও ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।
বাকি তিনজনও বাংলা বা ভারতের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভ্রান্তি হয়। ইয়েটস রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি গীতাঞ্জলির ভূমিকা লিখেছিলেন। অরুন্ধতী রায় দ্য গড অব স্মল থিংস উপন্যাসের লেখক, আর অমিতাভ ঘোষের দ্য হাংরি টাইড সুন্দরবনের পটভূমিতে লেখা।
ফাঁদ হলো ইয়েটস, কারণ তিনি বাংলা কবিতার ইংরেজি পরিচিতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাঁর সম্পর্ক রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে, জীবনানন্দের সঙ্গে নয়।
মনে রাখুন: জীবনানন্দ আর ইংরেজি বই একসঙ্গে এলে উত্তর ক্লিনটন সিলি; রবীন্দ্রনাথ আর ইংরেজি এলে ইয়েটস।
৬৫২. ‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’ – এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ হবে- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবাবা ছেলেকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও
- খবাবা ছেলেকে বললেন যে, তোমার দীর্ঘয়ু হোক
- গবাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
- ঘবাবা ছেলেকে বললেন যে, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি
সঠিক উত্তর: গ. বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
প্রশ্নটি পরোক্ষ উক্তিকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে বদলাতে বলছে। প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা হুবহু উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে বসে, আর তার আগে কমা দিয়ে বলা হয় কে কাকে বললেন।
দীর্ঘায়ু কামনা করা মানে আশীর্বাদ করা। বাবা ছেলেকে আশীর্বাদ করলে মুখে যা বলবেন তা হলো তুমি দীর্ঘজীবী হও। তাই সঠিক রূপ: বাবা ছেলেকে বললেন, তারপর উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে তুমি দীর্ঘজীবী হও।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে যে সংযোজক বসে না; যে বসে পরোক্ষ উক্তিতে। আর বক্তার কথায় শ্রোতাকে সরাসরি তুমি বলে সম্বোধন করা হয়। একই নিয়মে আশীর্বাদের অন্য বাক্য হয় সুখী হও, ভালো থেকো।
ফাঁদ হলো যে দিয়ে শুরু হওয়া দুটি বিকল্প। দেখতে প্রত্যক্ষ উক্তির মতো লাগলেও এগুলোতে উদ্ধৃতিচিহ্ন নেই, যে আছে, তাই এগুলো আসলে পরোক্ষ উক্তির গঠন।
মনে রাখুন: পরোক্ষ উক্তির আশীর্বাদ, অনুরোধ বা আদেশকে প্রত্যক্ষে নিতে ভাবুন বক্তা মুখে ঠিক কী বলতেন; সেটিই উদ্ধৃতিচিহ্নে বসান, যে বাদ দিন।
৬৫৩. ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকাটি কোন স্থান থেকে প্রকাশিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঢাকার পল্টন
- খনওগাঁর পরিসর
- গকুষ্টিয়ার কুমারখালী
- ঘময়মনসিংহের ত্রিশাল
সঠিক উত্তর: গ. কুষ্টিয়ার কুমারখালী
প্রশ্নটি জানতে চায় গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কোথা থেকে প্রকাশিত হতো। উত্তর কুষ্টিয়ার কুমারখালী।
কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ১৮৬৩ সালে কুমারখালী থেকে পত্রিকাটি বের করেন। শহর নয়, একটি গ্রাম থেকে বের হয়ে এটি জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের খবর প্রকাশ করত, তাই একে গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বলা হয়। মীর মশাররফ হোসেনও এই পত্রিকায় লিখতেন।
নাম থেকেই একটা সূত্র পাওয়া যায়: গ্রামবার্তা মানে গ্রামের খবর, তাই ঢাকার মতো শহরের বিকল্প বাদ দেওয়া সহজ।
বাকি দুটি স্থান অন্য সাহিত্যিকের স্মৃতিচিহ্ন। নওগাঁর পতিসরে রবীন্দ্রনাথের জমিদারির কাছারিবাড়ি, আর ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুলের কৈশোরের স্মৃতি। খ্যাতনামা স্থান দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। বিকল্পে ছাপা নওগাঁর পরিসর আসলে নওগাঁর পতিসর; এটি প্রশ্নপত্রেরই ছাপার ভুল।
মনে রাখুন: গ্রামবার্তা, কাঙাল হরিনাথ, কুমারখালী: তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
৬৫৪. জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে কাকে কেন্দ্র করে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশ্রীচৈতন্যদেব
- খকাহ্নপা
- গবিদ্যাপতি
- ঘরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
সঠিক উত্তর: ক. শ্রীচৈতন্যদেব
প্রশ্নটি মধ্যযুগের জীবনী সাহিত্যের উৎস জানতে চায়। বাংলায় জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে শ্রীচৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে।
চৈতন্যদেব ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক ও প্রচারক। তাঁর প্রভাব এত বিশাল ছিল যে তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে একের পর এক কাব্য লেখা হয়, যাদের বলে চৈতন্যজীবনী। মধ্যযুগে মানুষকে কেন্দ্র করে সাহিত্য লেখার এটাই প্রথম বড় ধারা, কারণ এর আগে সাহিত্যের কেন্দ্রে থাকতেন দেবদেবী।
বাংলায় প্রথম চৈতন্যজীবনী বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত। সবচেয়ে বিখ্যাতটি কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত। লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গলও এই ধারার।
বাকি তিনজনকে কেন্দ্র করে এমন ধারা গড়ে ওঠেনি। কাহ্নপা চর্যাপদের কবি, বিদ্যাপতি মিথিলার বৈষ্ণব পদকর্তা, আর রামকৃষ্ণ পরমহংস উনিশ শতকের সাধক, মধ্যযুগের অনেক পরের মানুষ।
মনে রাখুন: মধ্যযুগে জীবনী মানেই চৈতন্যজীবনী: প্রথমটি বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত।
৬৫৫. চর্যাপদের টীকাকারের নাম কি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কমীননাথ
- খপ্রবোধচন্দ্র বাগচী
- গহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- ঘমুনিদত্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. মুনিদত্ত
প্রশ্নটি জানতে চায় চর্যাপদের টীকা কে লিখেছেন। উত্তর মুনিদত্ত, যিনি চর্যার পদগুলোর সংস্কৃত টীকা রচনা করেন।
চর্যাপদের ভাষা সন্ধ্যাভাষা, অর্থাৎ আলো-আঁধারি, যার একটা বাইরের অর্থ আর একটা ভেতরের সাধনতত্ত্বের অর্থ। এই গূঢ় অর্থ বোঝাতেই মুনিদত্ত সংস্কৃতে টীকা লেখেন।
অন্য দুই গবেষকের ভূমিকা আলাদা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশ করেন। প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
ফাঁদ হলো হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, কারণ চর্যাপদের সঙ্গে তাঁর নামই সবচেয়ে বেশি জড়িত। কিন্তু তিনি আবিষ্কারক ও সম্পাদক, টীকাকার নন।
মনে রাখুন: চর্যাপদের চার ভূমিকা: আবিষ্কার হরপ্রসাদ, টীকা মুনিদত্ত, তিব্বতি অনুবাদ প্রবোধচন্দ্র, বাংলা ভাষার নিদর্শন প্রমাণ সুনীতিকুমার।
৬৫৬. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কপুরষ্কার
- খআবিস্কার
- গসময়পোযোগী
- ঘস্বত্ব
সঠিক উত্তর: ঘ. স্বত্ব
প্রশ্নটি বিসর্গ সন্ধি, ষত্ব বিধান আর স্বরসন্ধির নিয়ম দিয়ে শুদ্ধ বানান চিনতে বলছে। চারটির মধ্যে শুদ্ধ কেবল স্বত্ব, যার অর্থ মালিকানা বা অধিকার। স্ব শব্দের সঙ্গে ত্ব প্রত্যয় যোগে এটি গঠিত।
পুরস্কার আর আবিষ্কার দুটিতেই বিসর্গ সন্ধি আছে, কিন্তু ফল আলাদা। পুরঃ আর কার মিলে পুরস্কার, কারণ এই শব্দে অ-কারের পরের বিসর্গ ক-এর আগে দন্ত্য স হয়ে যায়; যেমন নমস্কার, তিরস্কার। সব শব্দে অবশ্য বিসর্গ বদলায় না, মনঃকষ্ট শব্দে বিসর্গ অটুট থাকে। আবিঃ আর কার মিলে আবিষ্কার, কারণ ই-কারের পরের বিসর্গ ক-এর আগে মূর্ধন্য ষ হয়; যেমন বহিষ্কার, নিষ্কৃতি।
সময়োপযোগী শব্দটি সময় আর উপযোগী মিলে গঠিত। অ আর উ মিলে হয় ও, তাই ও-কার বসে য়-এর গায়ে: সময়োপযোগী।
ফাঁদ হলো পুরষ্কার আর আবিস্কার, যেখানে স আর ষ অদলবদল হয়েছে। মনে রাখুন: বিসর্গ বদলে শিস্ধ্বনি হলে আগে অ-কার থাকলে স, আগে ই বা উ-কার থাকলে ষ।
মনে রাখুন: বিসর্গ বদলে শিস্ধ্বনি হলে আগে অ-কার থাকলে স: পুরস্কার, নমস্কার, তিরস্কার। আগে ই বা উ-কার থাকলে ষ: আবিষ্কার, বহিষ্কার, দুষ্কর।
৬৫৭. ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কভূমিপুত্র
- খমাটির জাহাজ
- গকাঁটাতারে প্রজাপতি
- ঘচিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর: ঘ. চিলেকোঠার সেপাই
প্রশ্নটি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই, প্রকাশিত ১৯৮৬ সালে।
উপন্যাসটি পুরান ঢাকার চিলেকোঠায় থাকা ওসমান আর মিছিলের সাহসী মানুষ হাড্ডি খিজিরকে ঘিরে। শহরের মিছিল থেকে গ্রামের কৃষক আন্দোলন পর্যন্ত ঊনসত্তরের উত্তাল সময়টা এতে ধরা আছে। এটি ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস; দ্বিতীয়টি খোয়াবনামা।
অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন লেখকের ভিন্ন বিষয়ের উপন্যাস। মাটির জাহাজ মাহমুদুল হকের উপন্যাস। কাঁটাতারে প্রজাপতি সেলিনা হোসেনের উপন্যাস। কোনোটিই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের উপন্যাস হিসেবে পরিচিত নয়।
এক কথায় মনে রাখুন: ঊনসত্তর মানে চিলেকোঠার সেপাই, আর লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
মনে রাখুন: ইলিয়াসের মাত্র দুটি উপন্যাস: চিলেকোঠার সেপাই মানে ঊনসত্তর, খোয়াবনামা মানে গ্রামবাংলার স্বপ্ন আর বাস্তবতা।
৬৫৮. কোনটি নামধাতুর উদাহরণ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কচল্
- খকর্
- গবেতা
- ঘপড়ু
সঠিক উত্তর: গ. বেতা
প্রশ্নটি নামধাতু চিনতে বলছে। বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের সঙ্গে আ প্রত্যয় যোগে যে ধাতু তৈরি হয়, তাকে নামধাতু বলে।
বেত একটি বিশেষ্য, অর্থাৎ বেতের লাঠি। এর সঙ্গে আ যোগ হয়ে হয়েছে বেতা ধাতু, যার থেকে ক্রিয়া বেতানো, মানে বেত দিয়ে মারা। শব্দ থেকে ধাতু হয়েছে বলেই এটি নামধাতু।
একই নিয়মে ঘুম থেকে ঘুমা, তাই ঘুমানো; হাত থেকে হাতা, তাই হাতানো; ধমক থেকে ধমকা, তাই ধমকানো।
অন্যদিকে চল্, কর্, পড়্ মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু; এদের আর ভাঙা যায় না, কোনো শব্দ থেকেও আসেনি। চেনা ক্রিয়ার মূল বলে এগুলোকেই অনেকে বেছে নেন, কিন্তু নামধাতু হতে হলে আগে একটি নাম বা শব্দ থাকতে হবে। বিকল্পে ছাপা পড়ু আসলে পড়্ ধাতু; হসন্তের জায়গায় উ-কার ছাপা হয়েছে, প্রশ্নপত্রেই এমন।
মনে রাখুন: ধাতুটির পেছনে কোনো চেনা বিশেষ্য বা বিশেষণ লুকিয়ে আছে কি না দেখুন; থাকলে নামধাতু, না থাকলে মৌলিক।
৬৫৯. গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগধারায় ‘গড্ডল’ শব্দের অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কস্রোত
- খভেড়া
- গএকত্র
- ঘভাসা
সঠিক উত্তর: খ. ভেড়া
প্রশ্নটি একটি বাগধারার ভেতরের শব্দের আক্ষরিক অর্থ জানতে চায়। গড্ডল শব্দের অর্থ ভেড়া, আর গড্ডলিকা মানে ভেড়ার পাল বা সারি।
ভেড়ার পালে সামনের ভেড়া যেদিকে যায়, পেছনের সবাই চোখ বুজে সেদিকেই চলে। তাই গড্ডলিকা প্রবাহ বাগধারার অর্থ বিচার না করে অন্ধভাবে অন্যকে অনুসরণ করা। যেমন: ফ্যাশনের গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ো না।
বাগধারার অর্থ বুঝতে তার আক্ষরিক ছবিটা মাথায় আনুন; ভেড়ার সারির ছবি থেকেই অন্ধ অনুকরণের অর্থ এসেছে।
ফাঁদ হলো স্রোত বিকল্পটি। স্রোত আসলে প্রবাহ শব্দের অর্থ, গড্ডল শব্দের নয়। আর একত্র বিকল্পটি ভেড়ার দল বেঁধে চলার ভাব থেকে আসা বিভ্রান্তি।
মনে রাখুন: বাগধারার শব্দার্থ জিজ্ঞেস করলে প্রতিটি শব্দ আলাদা করুন: গড্ডল ভেড়া, প্রবাহ স্রোত।
৬৬০. ‘তাতে সমাজজীবন চলে না।’ – এ বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কতাতে সমাজজীবন চলে।
- খতাতে না সমাজজীবন চলে।
- গতাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
- ঘতাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে।
সঠিক উত্তর: গ. তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
প্রশ্নটি নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে বলছে। শর্ত হলো অর্থ একটুও বদলাবে না, শুধু না-বোধক গঠন বদলে হ্যাঁ-বোধক গঠন হবে।
তাতে সমাজজীবন চলে না, মানে সমাজজীবন থেমে যায়। এই অর্থ হ্যাঁ-বোধক ভাবে বলতে চলে না-এর বদলে বিপরীত অর্থের শব্দ অচল ব্যবহার করি: তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
এই রূপান্তরের কৌশল হলো না-যুক্ত অংশের একটি বিপরীতার্থক শব্দ খোঁজা। যেমন সে ধনী নয় হয় সে গরিব, কাজটা সহজ নয় হয় কাজটা কঠিন।
ফাঁদ হলো তাতে সমাজজীবন চলে বিকল্পটি। এটি অস্তিবাচক ঠিকই, কিন্তু শুধু না তুলে দেওয়ায় অর্থ উল্টে গেছে।
মনে রাখুন: না-যুক্ত ক্রিয়া বা বিশেষণের বিপরীত শব্দ বসান: চলে না হয় অচল হয়, ধনী নয় হয় গরিব।