বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৬
৭০১. 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কবুদ্ধদেব বসু
- খপ্রেমেন্দ্র মিত্র
- গআবুল হোসেন
- ঘআব্দুল কাদের
সঠিক উত্তর: ক. বুদ্ধদেব বসু
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত পত্রিকা কবিতা নিয়ে। কবিতা ছিল কবিতা-বিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা, প্রথম প্রকাশ ১৯৩৫ সালের অক্টোবরে, বাংলা আশ্বিন ১৩৪২। এর প্রাণপুরুষ ও প্রধান সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু।
শুরুর দুই বছর প্রেমেন্দ্র মিত্র বুদ্ধদেবের সঙ্গে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন; পরে তাঁর জায়গায় আসেন সমর সেন। এরপর থেকে বুদ্ধদেব বসু একাই প্রায় পঁচিশ বছর, ১৯৬০ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি চালান।
এই পত্রিকা ঘিরেই রবীন্দ্র-পরবর্তী আধুনিক কবিরা, যেমন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, পরিচিতি পান। বুদ্ধদেব বসু প্রগতি পত্রিকারও সম্পাদক ছিলেন।
ফাঁদ হলো প্রেমেন্দ্র মিত্র: তিনি শুরুতে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন ঠিকই, কিন্তু পত্রিকার নাম যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তিনি বুদ্ধদেব বসু। সাধারণ প্রশ্নে তাই উত্তর বুদ্ধদেব।
মনে রাখুন: কবিতা ও প্রগতি পত্রিকা: বুদ্ধদেব বসু। কল্লোল: দীনেশরঞ্জন দাশ। কালিকলম: প্রেমেন্দ্র মিত্র ও মুরলীধর বসু।
৭০২. শুদ্ধ বানান নয় কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কগীতাঞ্জলি
- খঅতিথি
- গকৌতুহল
- ঘসমীচীন
সঠিক উত্তর: গ. কৌতুহল
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানান নিয়ে, উল্টো করে: কোনটি অশুদ্ধ। চারটি শব্দই তৎসম, তাই সংস্কৃত বানানই মানতে হবে।
কৌতূহল শব্দে ত-এ দীর্ঘ ঊ-কার। শব্দটি এসেছে কুতূহল থেকে, যেখানেও তূ দীর্ঘ; তাই কৌতুহল লেখা ভুল, শুদ্ধ কৌতূহল।
বাকি তিনটি ঠিক: গীতাঞ্জলি, যেখানে গী দীর্ঘ আর শেষে হ্রস্ব ই-কার; অতিথি, যেখানে দুটোই হ্রস্ব ই; সমীচীন, যেখানে মী আর চী দুটোই দীর্ঘ।
ফাঁদ হলো সমীচীন: পরপর দুটি দীর্ঘ ঈ-কার দেখে অনেকে একে ভুল ভাবেন, কিন্তু এটাই শুদ্ধ। দীর্ঘ ঊ-কারের আরও উদাহরণ: ঊর্ধ্ব, ভূত, মূর্ধন্য, দূষণ।
মনে রাখুন: কৌতূহল, ভূগোল, দূরত্ব, মূর্ছনা: এসব শব্দে দীর্ঘ ঊ-কার মুখস্থ রাখুন।
৭০৩. নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কবিচারপতি
- খকবিরাজ
- গজমিদার
- ঘরাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর: গ. জমিদার
প্রশ্নটা লিঙ্গ নিয়ে। নিত্য পুরুষবাচক শব্দ হলো সেই সব শব্দ, যেগুলো প্রচলিতভাবে কেবল পুরুষ বোঝায় এবং যাদের কোনো স্ত্রীবাচক রূপ নেই।
প্রচলিত ব্যাকরণে এমন শব্দের উদাহরণ: কবিরাজ, ঢাকী, অকৃতদার, কৃতদার, বিপত্নীক। বিচারপতি, রাষ্ট্রপতি, সেনাপতির মতো পদবাচক শব্দেরও আলাদা স্ত্রীবাচক রূপ নেই; নারী এই পদে বসলেও একই শব্দ ব্যবহার হয়।
জমিদার শব্দের কিন্তু স্ত্রীবাচক রূপ আছে: জমিদারনি বা জমিদারগিন্নি। যেহেতু এর লিঙ্গান্তর সম্ভব, তাই এটি নিত্য পুরুষবাচক নয়।
ফাঁদ হলো বিচারপতি বা রাষ্ট্রপতি: আজকাল নারীরাও এসব পদে বসেন বলে অনেকে এগুলোকে লিঙ্গান্তরযোগ্য ভাবেন। কিন্তু শব্দের আলাদা স্ত্রীরূপ তৈরি হয় না, শব্দটাই একই থাকে।
মনে রাখুন: নিত্য পুরুষবাচক: কবিরাজ, ঢাকী, অকৃতদার, কৃতদার, বিপত্নীক। নিত্য স্ত্রীবাচক: সতীন, সৎমা, এয়ো, বিধবা।
৭০৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নৃত্যনাট্য কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কতাসের দেশ
- খচণ্ডালিকা
- গরক্তকরবী
- ঘডাকঘর
সঠিক উত্তর: খ. চণ্ডালিকা
প্রশ্নটা রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য নিয়ে। নৃত্যনাট্যে কাহিনি এগোয় নাচ আর গানের মাধ্যমে; সংলাপও সুরে গাওয়া হয়।
রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষ পর্বে কয়েকটি নৃত্যনাট্য লেখেন: চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা ও শ্যামা। চণ্ডালিকা বৌদ্ধ কাহিনি অবলম্বনে লেখা: চণ্ডাল কন্যা প্রকৃতি বৌদ্ধ ভিক্ষু আনন্দকে জল দিয়ে মানুষের মর্যাদা খুঁজে পায়। আগে এটি নাটক হিসেবে লেখা হয়েছিল, পরে নৃত্যনাট্য রূপ পায়।
রক্তকরবী আর ডাকঘর রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত সাংকেতিক বা রূপক নাটক। ডাকঘরের নায়ক অমল, রক্তকরবীর নায়িকা নন্দিনী।
ফাঁদ হলো তাসের দেশ: এতে প্রচুর গান আর নাচ আছে, মঞ্চেও নাচের রূপে হয়; তবু এটি একটি গীতিবহুল নাটক, রবীন্দ্র নৃত্যনাট্যের প্রচলিত তালিকায় পড়ে না।
মনে রাখুন: রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য মনে রাখুন: চিত্রা-চণ্ডা-শ্যামা।
৭০৫. fray লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র" এটি (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কসরল বাক্য
- খজটিল বাক্য
- গযৌগিক বাক্য
- ঘমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর: ক. সরল বাক্য
প্রশ্নটা বাক্যের গঠন নিয়ে। বাক্য তিন রকম: সরল, জটিল আর যৌগিক। কোন বাক্য কোন ধরনের, তা ঠিক হয় সমাপিকা ক্রিয়া ও খণ্ডবাক্যের সংখ্যা দেখে।
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা আর একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, সেটি সরল বাক্য। এখানে বাক্যটির কর্তা একটি বিশেষণযুক্ত লোক, আর ক্রিয়া উহ্য হন বা হয়: সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। কোনো যে-সে বা যিনি-তিনি জাতীয় সংযোগ নেই, তাই এটি সরল বাক্য।
একে জটিল করলে হয়: যিনি বিদ্বান, তিনি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। যৌগিক করলে হয়: তিনি বিদ্বান, তাই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
ফাঁদ হলো মিশ্র বাক্য: এটি জটিল বাক্যেরই আরেক নাম, আলাদা কোনো শ্রেণি নয়। ক্রিয়া উহ্য থাকলেও বাক্যটি সরলই থাকে।
মনে রাখুন: যে-সে, যিনি-তিনি থাকলে জটিল; এবং, কিন্তু, তাই থাকলে যৌগিক; একটি ক্রিয়া মাত্র থাকলে সরল।
৭০৬. 'Galaxy' শব্দের বাংলা পরিভাষা- (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কগ্রহাণু
- খনক্ষত্রবীথি
- গতারাপুঞ্জ
- ঘনীহারিকা
সঠিক উত্তর: খ. নক্ষত্রবীথি
প্রশ্নটা পারিভাষিক শব্দ নিয়ে। Galaxy মানে কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্যাস আর ধূলিকণার বিশাল জগৎ, যেমন আমাদের আকাশগঙ্গা বা মিল্কি ওয়ে।
বাংলা একাডেমির পরিভাষায় Galaxy-র বাংলা ছায়াপথ, নক্ষত্রবীথিও বলা হয়। বীথি মানে সারি বা পথ; নক্ষত্রের সারি দিয়ে তৈরি পথ, তাই নক্ষত্রবীথি।
অন্য অপশনগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলাদা জিনিস: গ্রহাণু মানে Asteroid, নীহারিকা মানে Nebula, আর তারাপুঞ্জ মানে Star cluster, অর্থাৎ ছায়াপথের ভেতরের নক্ষত্রগুচ্ছ।
ফাঁদ হলো নীহারিকা আর তারাপুঞ্জ: দুটোই আকাশের উজ্জ্বল মেঘের মতো দেখায়, কিন্তু আকারে ছায়াপথের অনেক ছোট অংশ।
মনে রাখুন: Galaxy = ছায়াপথ বা নক্ষত্রবীথি; Nebula = নীহারিকা; Asteroid = গ্রহাণু।
৭০৭. 'রোহিণী' কোন উপন্যাসের নায়িকা? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কচোখের বালি
- খকৃষ্ণকান্তের উইল
- গগৃহদাহ
- ঘচতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর: খ. কৃষ্ণকান্তের উইল
প্রশ্নটা উপন্যাসের চরিত্র নিয়ে। রোহিণী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের নায়িকা।
কাহিনিতে তরুণী বিধবা রোহিণী জমিদার কৃষ্ণকান্তের উইল চুরিতে জড়িয়ে পড়ে, আর গোবিন্দলালের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভ্রমর-গোবিন্দলালের সংসার ভেঙে দেয়। শেষে গোবিন্দলালের গুলিতে রোহিণী মারা যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৮ সালে।
অন্য উপন্যাসগুলোর নায়িকা: চোখের বালিতে বিনোদিনী, চতুরঙ্গতে দামিনী; দুটোই রবীন্দ্রনাথের। গৃহদাহ শরৎচন্দ্রের, নায়িকা অচলা।
ফাঁদ হলো চোখের বালি: সেখানেও এক তরুণী বিধবা বিনোদিনী সংসারে টানাপোড়েন আনে। বিধবা নায়িকা দেখে দুটো গুলিয়ে ফেলবেন না।
মনে রাখুন: কৃষ্ণকান্তের উইলের দুই নারী: রোহিণী ও ভ্রমর। কপালকুণ্ডলা, দুর্গেশনন্দিনী, বিষবৃক্ষ (কুন্দনন্দিনী) বঙ্কিমের আরও কাজ।
৭০৮. নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কগোলাপ
- খগায়ক
- গহাত
- ঘফুল
সঠিক উত্তর: খ. গায়ক
প্রশ্নটা গঠন অনুযায়ী শব্দের শ্রেণি নিয়ে। যে শব্দকে ভেঙে আর ছোট কোনো অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন গোলাপ, হাত, ফুল, মা, পাখি।
গায়ক শব্দকে ভাঙা যায়: গৈ ধাতু, অর্থাৎ গান করা, তার সঙ্গে ণক বা অক প্রত্যয় যোগে গায়ক। যে শব্দ ধাতু বা শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় বা অন্য শব্দ জুড়ে তৈরি, তাকে সাধিত শব্দ বলে। তাই গায়ক সাধিত, মৌলিক নয়।
একই প্রত্যয়ে তৈরি আরও শব্দ: নায়ক, পাঠক, লেখক। এদের মূলে আছে নী, পঠ্, লিখ্ ধাতু।
গোলাপ শব্দটা দেখে অনেকে গোল আর আপ ভাগ করতে চান, কিন্তু সেগুলো আলাদা অর্থ দেয় না; গোলাপ ফারসি থেকে আসা একটি মৌলিক শব্দ।
মনে রাখুন: শেষে অক, আই, আনো, তা, ত্ব থাকলে আগে সাধিত শব্দ সন্দেহ করুন: গায়ক, চড়াই, পড়ানো।
৭০৯. স্বভাবতই 'ষ' হয়েছে কোন শব্দে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কমহর্ষি
- খমুমূর্ষু
- গআষাঢ়
- ঘবৃষ্টি
সঠিক উত্তর: গ. আষাঢ়
প্রশ্নটা ষত্ব বিধান নিয়ে। তৎসম শব্দে কিছু নিয়মের কারণে দন্ত্য স মূর্ধন্য ষ হয়ে যায়। আর কিছু শব্দে কোনো নিয়ম ছাড়াই ষ থাকে; তাকে বলে স্বভাবত ষ।
আষাঢ় শব্দে ষ-এর আগে আছে আ, যা কোনো ষত্ব নিয়মে পড়ে না; আবার ষ-এর সঙ্গে ট বা ঠ যুক্তও নেই। তাই এখানে ষ স্বভাবতই, শব্দের মূল থেকেই। একই রকম আরও শব্দ: ষোড়শ, পাষাণ, ভাষা, অভিলাষ, পৌষ, ঊষা।
বাকি তিনটিতে নিয়মে ষ হয়েছে। ঋ বা ঋ-কারের পর ষ হয়: ঋষি থেকে মহর্ষি, বৃষ্টি। বৃষ্টিতে আবার ট-এর সঙ্গে যুক্ত বলেও ষ। মুমূর্ষুতে র-এর পরে প্রত্যয়ের স মূর্ধন্য ষ হয়েছে।
ফাঁদ হলো মহর্ষি: মহা আর ঋষি মিলে শব্দটা হয়েছে, আর ঋষিতে ঋ-এর পর ষ নিয়মেই আসে।
মনে রাখুন: স্বভাবত ষ-এর তালিকা মনে রাখুন: আষাঢ়, ষোড়শ, পাষাণ, ভাষা, পৌষ, ঊষা, অভিলাষ।
৭১০. নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কলাফ > ফাল
- খপ্রীতি > পিরিতি
- গদেশি > দিশি
- ঘলাল > নাল
সঠিক উত্তর: ঘ. লাল > নাল
প্রশ্নটা ধ্বনি পরিবর্তন নিয়ে। একটি শব্দে দুটি একই ব্যঞ্জন পাশাপাশি বা কাছাকাছি থাকলে উচ্চারণে একঘেয়ে লাগে, তাই একটি বদলে অন্য ব্যঞ্জন হয়ে যায়। এর নাম বিষমীভবন, অর্থাৎ সমান ধ্বনিকে অসমান করা।
লাল শব্দে দুটি ল। প্রথম ল বদলে ন হয়ে লোকমুখে নাল হয়েছে। একইভাবে শরীর থেকে শরীল, যেখানে দুটি র-এর একটি ল হয়েছে।
অন্যগুলো আলাদা প্রক্রিয়া: লাফ থেকে ফাল হলো ধ্বনি বিপর্যাস, যেখানে দুটি ব্যঞ্জন জায়গা বদল করে। প্রীতি থেকে পিরিতি হলো স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ, যুক্তব্যঞ্জনের মাঝে স্বর ঢোকে। দেশি থেকে দিশি হলো স্বরসংগতি, এক স্বরের প্রভাবে আরেক স্বর বদলায়।
ফাঁদ হলো লাফ থেকে ফাল: এখানেও ব্যঞ্জন বদলেছে মনে হয়, কিন্তু নতুন ধ্বনি আসেনি, শুধু ল আর ফ জায়গা বদলেছে। বিষমীভবনে একই ধ্বনির একটি অন্য ধ্বনি হয়ে যায়।
মনে রাখুন: বিষমীভবনের দুটি উদাহরণ মুখস্থ রাখুন: লাল > নাল, শরীর > শরীল।
৭১১. কোন প্রখ্যাত পণ্ডিত ইংরেজিতে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কব্রাসি হ্যালহেড
- খপি আচার্য
- গপি জে হার্টজ
- ঘডব্লিউ প্রেস
সঠিক উত্তর: ক. ব্রাসি হ্যালহেড
প্রশ্নটা বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাস যাচাই করছে। ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ লেখেন নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। বইয়ের নাম A Grammar of the Bengal Language, প্রকাশিত ১৭৭৮ সালে হুগলি থেকে।
এই বইয়েই প্রথম বাংলা হরফ ধাতব ছাঁচে ছাপা হয়। হরফ তৈরি করেছিলেন চার্লস উইলকিন্স, তাঁকে সাহায্য করেন পঞ্চানন কর্মকার। তাই বইটি বাংলা মুদ্রণের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ এটা নয়। তার আগে ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দা আসসুম্পসাঁও পর্তুগিজ ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ লেখেন, লিসবন থেকে ছাপা। আর বাঙালির লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রাজা রামমোহন রায়ের গৌড়ীয় ব্যাকরণ, ১৮৩৩ সালে।
প্রশ্নে ইংরেজিতে শব্দটা মূল সূত্র। কোন ভাষায় লেখা আর কে প্রথম, এই দুটো গুলিয়ে ফেলাই এ ধরনের প্রশ্নের প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: পর্তুগিজে মানোএল (১৭৪৩), ইংরেজিতে হ্যালহেড (১৭৭৮), বাঙালির লেখা রামমোহন (১৮৩৩)।
৭১২. বাংলা ভাষায় কতটি যতি চিহ্নের প্রচলন রয়েছে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- ক১০ টি
- খ১১ টি
- গ১২ টি
- ঘ১৩ টি
সঠিক উত্তর: গ. ১২ টি
প্রশ্নটা বাংলা বিরাম বা যতিচিহ্নের সংখ্যা জানতে চায়। যতিচিহ্ন বাক্যে থামার জায়গা আর ভাব বোঝায়। প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণের তালিকায় এমন চিহ্ন ১২টি।
এগুলো হলো কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাশ, ড্যাশ, হাইফেন, ইলেক বা লোপচিহ্ন, উদ্ধরণচিহ্ন আর বন্ধনী। এর মধ্যে বাক্যের শেষে বসে তিনটি: দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন আর বিস্ময়চিহ্ন।
থামার সময়ও মনে রাখার মতো: কমায় এক বলতে যে সময় লাগে, সেমিকোলনে তার দ্বিগুণ, আর দাঁড়িতে এক সেকেন্ড।
ফাঁদ হলো ১৩। নতুন কিছু ব্যাকরণ বইয়ে বিকল্পচিহ্ন, মানে তির্যক রেখা, আলাদা করে যোগ করায় ১৩টি গোনা হয়। তাই উৎসভেদে উত্তর ভিন্ন হতে পারে; প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর ১২।
মনে রাখুন: শেষে ৩, মাঝে ৫, অন্যান্য ৪: মোট ১২।
৭১৩. 'তস্কর' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কসাধু
- খলস্কর
- গনিরীহ
- ঘনির্লোভ
সঠিক উত্তর: ক. সাধু
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। তস্কর মানে চোর, যে গোপনে অন্যের জিনিস নেয়। এর বিপরীত শব্দ সাধু, মানে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ।
বিপরীত শব্দ বাছতে মূল শব্দের মূল ভাব ধরতে হয়। তস্করের মূল ভাব অসততা, তাই বিপরীত হবে সততা বোঝানো শব্দ। একই জোড়া আরও আছে: চোর আর সাধু, দুর্জন আর সজ্জন।
নির্লোভ শব্দটা কাছাকাছি মনে হয়, কারণ চোর লোভী। কিন্তু নির্লোভের বিপরীত লোভী বা লুব্ধ, তস্কর নয়। নিরীহের বিপরীত হিংস্র বা উগ্র।
ফাঁদ হলো লস্কর। উচ্চারণে তস্করের সঙ্গে মিল থাকলেও লস্কর মানে নাবিক বা সৈনিক; অর্থের কোনো বিপরীত সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দে মূল ভাব খুঁজুন: চোর মানে অসৎ, তাই উত্তর সৎ বা সাধু।
৭১৪. 'ভূত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কভাষা
- খপেত্নী
- গভোতা
- ঘভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর: ঘ. ভবিষ্যৎ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। এখানে ভূত মানে প্রেতাত্মা নয়, মানে অতীত বা যা হয়ে গেছে। ভূতকাল কথাটায় এই অর্থই আছে। তাই এর বিপরীত ভবিষ্যৎ, মানে যা হবে।
ভূ ধাতুর অর্থ হওয়া; ভূত মানে যা হয়েছে, ভবিষ্যৎ মানে যা হবে, আর বর্তমান মানে যা এখন আছে। এই তিনে মিলে কাল।
এক শব্দের একাধিক অর্থ থাকলে বিপরীত শব্দ বাছতে হয় বিকল্পগুলো দেখে। বিকল্পে ভবিষ্যৎ আছে, তাই এখানে ভূতের অতীত অর্থটাই ধরা হয়েছে।
ফাঁদ হলো পেত্নী। প্রেত অর্থে ভূতের স্ত্রীবাচক রূপ পেত্নী, কিন্তু স্ত্রীবাচক শব্দ বিপরীত শব্দ নয়।
মনে রাখুন: ভূতকাল-ভবিষ্যৎকাল জোড়া মনে রাখলেই হয়।
৭১৫. নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কআশীবিষ
- খকানাকানি
- গহাতেনাতে
- ঘহাতে খড়ি
সঠিক উত্তর: খ. কানাকানি
প্রশ্নটা ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস চিনতে বলছে। ক্রিয়ার পারস্পরিক বিনিময় বোঝাতে একই শব্দ দুবার বসে যে বহুব্রীহি হয়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি বলে। সাধারণত পূর্বপদে আ আর উত্তরপদে ই যুক্ত হয়।
কানাকানি মানে কানে কানে যে কথা, মানে একে অপরের কানে কথা বলা। এখানে কান শব্দ দুবার এসেছে আর কাজটা পারস্পরিক; তাই এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি। একই রকম: হাতাহাতি, লাঠালাঠি, কোলাকুলি, গলাগলি।
আশীবিষ মানে আশীতে, অর্থাৎ দাঁতে বিষ যার, মানে সাপ; এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি। হাতেখড়ি মানে হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে; বিভক্তি লোপ পায়নি বলে এটি অলুক বহুব্রীহি।
ফাঁদ হলো হাতেনাতে। শব্দটায় হাত-নাত জোড়ার মতো শোনায়, কিন্তু এতে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি বা পারস্পরিক ক্রিয়া নেই।
মনে রাখুন: আ-ই জোড়া (কানাকানি, হাতাহাতি, লাঠালাঠি) দেখলেই ব্যতিহার বহুব্রীহি।
৭১৬. 'অনুতাপ' পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কঅনুতে যে তাপ
- খতাপের অণু
- গতাপের ক্ষুদ্র
- ঘঅনুরূপ তাপ
সঠিক উত্তর: ক. অনুতে যে তাপ
প্রশ্নটা অনুতাপ শব্দের ব্যাসবাক্য জানতে চায়। এখানে অনু একটি উপসর্গ, অর্থ পশ্চাৎ বা পরে। অনুতাপ মানে কাজ করে ফেলার পরে যে মনস্তাপ, মানে পরে অনুশোচনা।
উপসর্গ পূর্বপদ হয়ে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে প্রাদি সমাস বলে। ব্যাকরণে এর প্রচলিত ব্যাসবাক্য পশ্চাৎ যে তাপ। প্রশ্নের অনুতে যে তাপ বিকল্পটি একই কথা বলছে, অনু অর্থাৎ পশ্চাতে যে তাপ।
একই ধাঁচের প্রাদি সমাস: প্রগতি মানে প্রকৃষ্ট যে গতি, প্রবচন মানে প্রকৃষ্ট যে বচন, অনুগমন মানে পশ্চাৎ গমন।
ফাঁদ হলো তাপের অণু। এখানে অণু, মানে ক্ষুদ্র কণা, আর উপসর্গ অনু আলাদা শব্দ; বানানের মিল দেখে গুলিয়ে ফেললেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: অনু উপসর্গ = পশ্চাৎ; অনু দিয়ে শুরু শব্দের ব্যাসবাক্যে সাধারণত পশ্চাৎ বসে: অনুগমন, অনুতাপ।
৭১৭. 'Forgery' শব্দের বাংলা পরিভাষা - (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কফৌজদারি
- খবলপ্রয়োগকারী
- গদালালি
- ঘজালিয়াতি
সঠিক উত্তর: ঘ. জালিয়াতি
প্রশ্নটা প্রশাসনিক পরিভাষা যাচাই করছে। Forgery মানে প্রতারণার উদ্দেশ্যে নকল দলিল, সই বা মুদ্রা তৈরি করা। এর বাংলা পরিভাষা জালিয়াতি।
ব্যাংকে চেকের সই নকল করা বা ভুয়া কাগজ বানানো forgery-র সাধারণ উদাহরণ; যে এমন করে তাকে forger বা জালিয়াত বলে।
অন্য বিকল্পগুলোরও নিজস্ব ইংরেজি আছে: ফৌজদারি মানে criminal, দালালি মানে brokerage, আর বলপ্রয়োগ মানে coercion।
ফাঁদ হলো ফৌজদারি। জালিয়াতি অপরাধ বলে ফৌজদারি মামলা হয়, কিন্তু ফৌজদারি শব্দটা অপরাধ-সংক্রান্ত আইনের নাম, forgery-র পরিভাষা নয়।
মনে রাখুন: forge মানে নকল গড়া, forgery মানে জাল করা।
৭১৮. 'নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার' এক কথায় হবে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কনিদাঘ
- খনষ্টমান
- গবিনশ্বর
- ঘনশ্বর
সঠিক উত্তর: ঘ. নশ্বর
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ যাচাই করছে। নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার, তাকে বলে নশ্বর। যেমন মানুষের দেহ নশ্বর।
নশ্ ধাতুর অর্থ নষ্ট হওয়া; এর সঙ্গে বর প্রত্যয় যোগে নশ্বর, মানে যা নষ্ট হয়। এর বিপরীত অবিনশ্বর, মানে যা কখনো নষ্ট হয় না।
বিনশ্বর শব্দেও প্রায় একই অর্থ, তবে তাতে বি উপসর্গ যুক্ত, যা বিনাশ হওয়ার ভাব বোঝায়। নষ্ট হওয়ার স্বভাব কথাটার প্রচলিত এক কথায় প্রকাশ নশ্বর।
ফাঁদ হলো নষ্টমান, যা শুনতে ঠিক মনে হলেও বাংলায় এমন শব্দ নেই। নিদাঘ মানে গ্রীষ্মকাল।
মনে রাখুন: নশ্বর বনাম অবিনশ্বর জোড়া মনে রাখুন: যা নষ্ট হয় আর যা হয় না।
৭১৯. সাপের খোলসকে এক কথায় বলা হয়- (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কঅজিন
- খছলম
- গনির্মোক
- ঘআইস
সঠিক উত্তর: গ. নির্মোক
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ যাচাই করছে। সাপের খোলসকে বলে নির্মোক। সাপ বছরে কয়েকবার পুরোনো চামড়া ছেড়ে ফেলে, সেই ছাড়া চামড়াই নির্মোক।
শব্দটায় নির্ উপসর্গ আর মুচ্ ধাতু, যার অর্থ মুক্ত হওয়া বা ছেড়ে দেওয়া; যে আবরণ ছেড়ে দেওয়া হয়, তা-ই নির্মোক।
একই ধরনের আরও এক কথা: হরিণ বা পশুর চামড়া অজিন, আর দাঁতে বিষ যার, মানে সাপ, তাকে বলে আশীবিষ। পরীক্ষায় অজিন ও নির্মোক প্রায় একসঙ্গে আসে।
ফাঁদ হলো অজিন। দুটোই প্রাণীর চামড়া বোঝায়, কিন্তু অজিন হলো হরিণ বা পশুর চামড়া, সাপের খোলস নয়।
মনে রাখুন: সাপ = নির্মোক, হরিণ = অজিন; জোড়ায় মুখস্থ রাখুন।
৭২০. বাংলা সাহিত্যের আদি কবি কে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কলুইপা
- খকাহ্নপা
- গঢেণ্ডণপা
- ঘভুসুকুপা
সঠিক উত্তর: ক. লুইপা
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ নিয়ে। বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদ, আর চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা। এ কারণে তাঁকে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়।
চর্যাপদ ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, আর ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন। এতে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের লেখা পদ আছে।
সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্নপা, ১৩টি; দ্বিতীয় ভুসুকুপা, ৮টি। লুইপার পদ ২টি, এর একটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
ফাঁদ হলো কাহ্নপা। সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন বলে অনেকে তাঁকেই আদি কবি ভাবেন; কিন্তু আদি মানে প্রথম, আর প্রথম পদটি লুইপার।
মনে রাখুন: আদি = প্রথম পদ = লুইপা; সবচেয়ে বেশি = কাহ্নপা।