বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৮
৭৪১. প্রবেশ করার ইচ্ছাকে এককথায় কী বলা হয়? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কবিবিক্ষা
- খবিবিক্ত
- গবিবাসন
- ঘবিবর্ধন
সঠিক উত্তর: ক. বিবিক্ষা
প্রশ্নটা এককথায় প্রকাশ নিয়ে। প্রবেশ করার ইচ্ছা হলো বিবিক্ষা। সংস্কৃতে ইচ্ছা বোঝাতে ধাতুর সঙ্গে সন প্রত্যয় যোগ হয়, ফলে শব্দটি প্রায়ই ‘ক্ষা’, ‘ষা’ বা ‘সা’ দিয়ে শেষ হয়।
বিশ ধাতু মানে প্রবেশ করা, তার থেকে বিবিক্ষা। একই ছাঁচে জানার ইচ্ছা জিজ্ঞাসা, খাওয়ার ইচ্ছা বুভুক্ষা, পান করার ইচ্ছা পিপাসা, জয় করার ইচ্ছা জিগীষা, মুক্তির ইচ্ছা মুমুক্ষা।
বাকি শব্দগুলোর অর্থ আলাদা। বিবিক্ত মানে নির্জন বা আলাদা করা, বিবাসন মানে নির্বাসন, আর বিবর্ধন মানে বৃদ্ধি বা বড় করা।
ফাঁদ হলো বিবিক্ত: বিবিক্ষার সঙ্গে বানানের মিল অনেক, কিন্তু অর্থ নির্জন। ইচ্ছার শব্দ চেনার উপায় হলো ‘ক্ষা’, ‘ষা’ বা ‘সা’ দিয়ে শেষ হওয়া।
মনে রাখুন: ইচ্ছার শব্দ ক্ষা, ষা বা সা দিয়ে শেষ: বিবিক্ষা, বুভুক্ষা, মুমুক্ষা, জিগীষা, পিপাসা।
৭৪২. কোন প্রকার শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কতদ্ভব
- খদেশি
- গঅর্ধ-তৎসম
- ঘতৎসম
সঠিক উত্তর: খ. দেশি
প্রশ্নটা বাংলা শব্দভান্ডারের উৎসভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ নিয়ে। যেসব শব্দ এদেশের আদি অধিবাসীদের, যেমন কোল, মুন্ডা, সাঁওতালদের ভাষা থেকে এসেছে, সেগুলো দেশি শব্দ। এদের মূল বা উৎস সাধারণত নির্ধারণ করা যায় না।
উদাহরণ: কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, খোকা। এগুলো সংস্কৃত বা অন্য কোনো পরিচিত ভাষা থেকে আসেনি।
অন্যদিকে তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকে অবিকৃত এসেছে, যেমন চন্দ্র, সূর্য। তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে বদলে এসেছে, যেমন হস্ত থেকে হাত। অর্ধ-তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকে সামান্য বিকৃত হয়ে এসেছে, যেমন কৃষ্ণ থেকে কেষ্ট। তিনটির মূলই সংস্কৃত, অর্থাৎ নির্ধারণযোগ্য।
মনে রাখুন: সংস্কৃত থেকে এলে মূল জানা (তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব); দেশি শব্দের মূল অজানা।
৭৪৩. কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কসূর্য
- খসুনাম
- গজোছনা
- ঘজবান
সঠিক উত্তর: গ. জোছনা
প্রশ্নটা শব্দের উৎস নিয়ে। সংস্কৃত থেকে আসা বাংলা শব্দ তিন রকম: হুবহু অবিকৃত থাকলে তৎসম, সরাসরি এসে খানিকটা বদলে গেলে অর্ধ-তৎসম, আর প্রাকৃতের ভেতর দিয়ে বহু বদলে এলে তদ্ভব।
জোছনা এসেছে সংস্কৃত জ্যোৎস্না থেকে। কঠিন যুক্তবর্ণ ভেঙে উচ্চারণ সহজ হয়েছে, কিন্তু শব্দটি প্রাকৃতের ধাপ পেরিয়ে আসেনি; তাই এটি অর্ধ-তৎসম। একই দলের আরও শব্দ: গিন্নি এসেছে গৃহিণী থেকে, ছেরাদ্দ এসেছে শ্রাদ্ধ থেকে, কুচ্ছিত এসেছে কুৎসিত থেকে।
সূর্য আর সুনাম সংস্কৃত রূপেই বাংলায় চলে, তাই এ দুটি তৎসম। জবান ফারসি শব্দ, অর্থ মুখের কথা বা প্রতিশ্রুতি; এটি বিদেশি শব্দ।
সুনাম শুনতে খাঁটি বাংলা মনে হলেও সু উপসর্গ আর নাম দুটোই সংস্কৃত এবং শব্দটি অবিকৃত; তাই এটিকে অর্ধ-তৎসম ভাবা ভুল।
মনে রাখুন: অর্ধ-তৎসম চিনতে মূল সংস্কৃত শব্দটা খুঁজুন: জোছনা ← জ্যোৎস্না, গিন্নি ← গৃহিণী, কেষ্ট ← কৃষ্ণ। মূলের চেনা ছাপ রেখে একটু ভাঙা হলে অর্ধ-তৎসম।
৭৪৪. 'ধাতুরূপ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- করূপতত্ত্বে
- খধ্বনিতত্ত্বে
- গবাক্যতত্ত্বে
- ঘছন্দতত্ত্বে
সঠিক উত্তর: ক. রূপতত্ত্বে
প্রশ্নটা জানতে চাইছে ব্যাকরণের কোন শাখায় ধাতুরূপ পড়ানো হয়। বাংলা ব্যাকরণের প্রধান শাখা চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব এবং অর্থতত্ত্ব।
রূপতত্ত্ব আলোচনা করে শব্দ ও পদের গঠন এবং রূপ বদল নিয়ে: শব্দ গঠন, প্রত্যয়, বিভক্তি, সমাস, কারক, বচন, লিঙ্গ, ক্রিয়ার কাল। ধাতুরূপ মানে একটি ধাতু কাল ও পুরুষ ভেদে কীভাবে রূপ বদলায়, যেমন কর্ ধাতু থেকে করি, করে, করেছিল। এটি পদের রূপ বদল, তাই রূপতত্ত্বের বিষয়।
ধ্বনিতত্ত্বে থাকে ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান। বাক্যতত্ত্বে থাকে বাক্য গঠন, বাচ্য, উক্তি, যতিচিহ্ন, বাগ্ধারা।
ছন্দতত্ত্ব ব্যাকরণের প্রধান চার শাখার কোনোটি নয়; ছন্দ কবিতার মাত্রা ও তাল নিয়ে কাজ করে। আর ধাতু শব্দটি শুনে কেউ কেউ ধ্বনিতত্ত্ব বেছে নেন, সেটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: নামে 'রূপ' থাকলে (ধাতুরূপ, শব্দরূপ, পদের রূপ) উত্তর প্রায় সবসময় রূপতত্ত্ব।
৭৪৫. যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতম অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে কী বলে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কসন্ধি
- খপ্রকৃতি
- গপ্রত্যয়
- ঘসমাস
সঠিক উত্তর: খ. প্রকৃতি
প্রশ্নটা প্রকৃতির সংজ্ঞা জানতে চায়। কোনো শব্দকে ভাঙলে দুটি অংশ পাই: মূল অংশ আর তার সঙ্গে জোড়া লাগা অংশ। যে মূল অংশকে আর ছোট করে ভাঙা যায় না, তাকে বলে প্রকৃতি।
যেমন পাঠক শব্দটি ভাঙলে পাই পঠ্ আর অক। পঠ্ আর ভাঙা যায় না, এটি প্রকৃতি; অক হলো প্রত্যয়। প্রকৃতি দুই রকম: ক্রিয়ার মূল হলে ধাতু বা ক্রিয়া প্রকৃতি, যেমন চল্, পড়্; নাম শব্দের মূল হলে নাম প্রকৃতি, যেমন ঢাকা থেকে ঢাকাই।
প্রত্যয় হলো প্রকৃতির শেষে যোগ হওয়া বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যেমন অক, অন্ত, আই। সন্ধি হলো দুটি ধ্বনির মিলন, আর সমাস হলো একাধিক পদের মিলে এক পদ হওয়া।
প্রত্যয়-ও শব্দের একটা অংশ বলে অনেকে বিভ্রান্ত হন, কিন্তু প্রত্যয় যোগ হয় বাইরে থেকে; যে অংশকে আর ভাঙা যায় না, সেটা প্রকৃতি।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: চলন্ত = চল্ + অন্ত, গায়ক = গৈ + অক, ঢাকাই = ঢাকা + আই। প্রথম অংশ প্রকৃতি, শেষ অংশ প্রত্যয়।
৭৪৬. 'আহ্বান' এর প্রকৃত উচ্চারণ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কআওভান
- খআহ্বান
- গআহবান
- ঘআবহান
সঠিক উত্তর: ক. আওভান
প্রশ্নটা বানান নয়, প্রমিত উচ্চারণ জানতে চায়। বাংলায় হ-এর সঙ্গে ব-ফলা থাকলে, মানে হ্ব যুক্তবর্ণ হলে, তা লেখার মতো উচ্চারিত হয় না; উচ্চারণ হয় ও আর ভ মিলিয়ে, ওভ।
তাই আহ্বান উচ্চারণ করি আওভান। একই নিয়মে জিহ্বা উচ্চারিত হয় জিওভা, আর বিহ্বল উচ্চারিত হয় বিওভল।
আহ্বান আর আহবান দুটি অপশন হলো লেখার রূপ, প্রকৃত উচ্চারণ নয়; আহবান বানান হিসেবেও ভুল। আবহান হ আর ব-এর জায়গা উল্টে দেওয়া একটি ভুল রূপ।
শুদ্ধ বানান আহ্বান চোখে পড়লেই অনেকে সেটাকে উত্তর ধরেন; কিন্তু প্রশ্ন চেয়েছে উচ্চারণ, বানান নয়।
মনে রাখুন: হ্ব দেখলেই উচ্চারণে ওভ বসান: আহ্বান → আওভান, জিহ্বা → জিওভা।
৭৪৭. কবাট>কপাট, ধোবা>ধোপা কিসের উদাহরণ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কধ্বনি বিপর্যয়
- খঅভিশ্রুতি
- গব্যঞ্জন চ্যুতি
- ঘব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর: ঘ. ব্যঞ্জন বিকৃতি
প্রশ্নটা ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ধরন চিনতে বলছে। শব্দের মাঝখানে কোনো ব্যঞ্জন বদলে অন্য একটি ব্যঞ্জন হয়ে গেলে তাকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
কবাট থেকে কপাট হয়েছে ব বদলে প হয়ে; ধোবা থেকে ধোপা হয়েছেও ব বদলে প হয়ে। দুটোতেই একটি ব্যঞ্জন অন্য ব্যঞ্জনে বদলেছে, কোনো ধ্বনি হারায়নি বা জায়গা বদলায়নি। আরেকটি পরিচিত উদাহরণ ধাইমা থেকে দাইমা।
ধ্বনি বিপর্যয়ে দুটি ব্যঞ্জন জায়গা বদল করে, যেমন বাক্স থেকে বাস্ক, পিশাচ থেকে পিচাশ। অভিশ্রুতিতে ই বা উ আগের স্বরের সঙ্গে মিশে স্বর বদলে দেয়, যেমন করিয়া থেকে করে। ব্যঞ্জনচ্যুতিতে পাশাপাশি দুটি একই রকম ব্যঞ্জনের একটি লোপ পায়, যেমন বড়দাদা থেকে বড়দা।
ব্যঞ্জন বদলেছে দেখে অনেকে ধ্বনি বিপর্যয় ভাবেন; কিন্তু বিপর্যয় মানে জায়গা বদল, এক ধ্বনির বদলে আরেক ধ্বনি নয়।
মনে রাখুন: জায়গা বদল হলে বিপর্যয়, হারিয়ে গেলে চ্যুতি, অন্য ব্যঞ্জন হয়ে গেলে বিকৃতি।
৭৪৮. কোনটি স্বরভক্তির উদাহরণ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কবিলিতি
- খপিরীতি
- গবসতি
- ঘজানালা
সঠিক উত্তর: খ. পিরীতি
স্বরভক্তির আরেক নাম বিপ্রকর্ষ। উচ্চারণ সহজ করতে যুক্তব্যঞ্জনের দুটি ব্যঞ্জনের মাঝখানে একটি স্বর ঢুকে যুক্তবর্ণটা ভেঙে দেয়, এটাই স্বরভক্তি।
প্রীতি শব্দে প আর র যুক্ত হয়ে প্র। মাঝখানে ই স্বর ঢুকে হয়েছে পিরীতি। একই ভাবে রত্ন থেকে রতন, ধর্ম থেকে ধরম, স্বপ্ন থেকে স্বপন।
বিলাতি থেকে বিলিতি হয়েছে পরের ই-এর প্রভাবে আগের আ বদলে; এটি স্বরসঙ্গতি, স্বরভক্তি নয়। বসতি শব্দে কোনো যুক্তবর্ণ ভাঙেনি। জানালা পর্তুগিজ শব্দ থেকে আসা, এখানেও স্বর ঢোকানো হয়নি।
বিলিতি-তেও ই-কার দেখে অনেকে স্বরভক্তি ভাবেন; কিন্তু সেখানে নতুন স্বর ঢোকেনি, পুরনো স্বর বদলেছে।
মনে রাখুন: মূল শব্দে যুক্তবর্ণ ছিল, নতুন শব্দে তা ভেঙে মাঝে স্বর এসেছে কি না দেখুন: রত্ন → রতন, স্বপ্ন → স্বপন।
৭৪৯. কোন বানানটি 'ষ-ত্ব' বিধানের নিয়মে শুদ্ধ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কমাষ্টার
- খপোষাক
- গসংস্কার
- ঘপোষ্ট
সঠিক উত্তর: গ. সংস্কার
প্রশ্নটা ষ-ত্ব বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম যাচাই করছে: বিদেশি শব্দে কখনো ষ হয় না। ষ শুধু তৎসম, মানে সংস্কৃত শব্দে নিয়ম মেনে বসে।
মাস্টার আর পোস্ট ইংরেজি শব্দ, তাই এদের বানান স দিয়ে: মাস্টার, পোস্ট। পোশাক ফারসি শব্দ, শুদ্ধ বানান শ দিয়ে: পোশাক। তাই মাষ্টার, পোষাক, পোষ্ট তিনটিই ভুল।
সংস্কার সংস্কৃত শব্দ, সম্ আর কার মিলে মাঝে স আগম হয়েছে। ষ-ত্ব বিধানে ষ হয় অ আ ছাড়া অন্য স্বর এবং ক ও র-এর পরে; এখানে স-এর আগে আছে অনুস্বার, তাই ষ হয় না। বানান সংস্কার শুদ্ধ।
ট-এর আগে ষ বসার নিয়ম, যেমন কষ্ট, দৃষ্টি, কেবল তৎসম শব্দে খাটে। এই নিয়ম বিদেশি শব্দে টেনে আনলেই মাষ্টার, পোষ্ট এর মতো ভুল হয়; এটাই প্রশ্নের ফাঁদ।
মনে রাখুন: বিদেশি শব্দে ষ নেই: স্টেশন, পোস্ট, মাস্টার, স্টুডিও। ট-এর আগে ষ কেবল তৎসম শব্দে: কষ্ট, দৃষ্টি।
৭৫০. নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কপরিষ্কার
- খষড়ানন
- গসংস্কার
- ঘআশ্চর্য
সঠিক উত্তর: ঘ. আশ্চর্য
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি মানে যে সন্ধি কোনো সাধারণ নিয়ম মেনে হয়নি, প্রচলিত ব্যবহারের কারণে শুদ্ধ বলে মেনে নেওয়া হয়েছে।
আশ্চর্য শব্দটি এসেছে আ আর চর্য মিলে। এখানে মাঝে শ এসে বসার কোনো নিয়ম নেই, তবু শব্দটি এভাবেই চলে; তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ। একই দলের আরও শব্দ: বৃহস্পতি, বনস্পতি, তস্কর, পরস্পর, ষোড়শ, একাদশ, গোষ্পদ।
পরিষ্কার আর সংস্কার হলো স আগমের নিয়মিত উদাহরণ: পরি আর কার, সম্ আর কার মিলে মাঝে স আসে, পরিষ্কার-এ ষ-ত্ব নিয়মে তা ষ হয়। ষড়ানন হলো ষট্ আর আনন; ট বদলে ড হয়েছে স্বরের আগে বর্গের প্রথম বর্ণ তৃতীয় বর্ণ হওয়ার নিয়মে।
পরিষ্কার-এর মাঝে হঠাৎ ষ দেখে অনেকে একে নিপাতন ভাবেন; কিন্তু এটি স আগমের নিয়ম মেনেই হয়েছে।
মনে রাখুন: নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির তালিকা মুখস্থ রাখুন: আশ্চর্য, বৃহস্পতি, বনস্পতি, তস্কর, পরস্পর, গোষ্পদ, ষোড়শ, একাদশ, পতঞ্জলি।
৭৫১. 'পশ্বাধম' শব্দটির সঠিক সন্ধি -বিচ্ছেদ কী? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কপশু + অধম
- খপশ্ম + অধম
- গপশ + ধম
- ঘপশু + ধম
সঠিক উত্তর: ক. পশু + অধম
এটি স্বরসন্ধির একটি নিয়ম: উ বা ঊ-কারের পরে উ ছাড়া অন্য কোনো স্বর এলে আগের উ বদলে ব-ফলা হয়, আর পরের স্বরটি ব-ফলার সঙ্গে যুক্ত হয়।
পশু শব্দের শেষে উ, আর অধম শব্দের শুরুতে অ। উ বদলে ব-ফলা হয়ে শ-এর সঙ্গে লাগে, হয় শ্ব, তারপর বসে অধম। প্রশ্নে লেখা রূপ পশ্বাধম, কোনো কোনো বইয়ে পশ্বধম; দুই ক্ষেত্রেই বিচ্ছেদ পশু আর অধম। অর্থ: পশুর চেয়েও অধম।
একই নিয়মে সু আর অল্প মিলে স্বল্প, অনু আর এষণ মিলে অন্বেষণ, তনু আর ঈ মিলে তন্বী।
পশ্বাধম-এর মাঝে শ্ব দেখে অনেকে পশ্ম বা পশ ধরে ভাঙেন, কিন্তু এগুলো কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ নয়; মূল শব্দ পশু।
মনে রাখুন: সন্ধিযুক্ত শব্দে ব-ফলা (শ্ব, ন্ব, স্ব) দেখলে আগের শব্দটি উ-কারান্ত ধরে ভাঙুন: পশু, সু, অনু, তনু।
৭৫২. কোনটি আ প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কগায়িকা
- খনায়িকা
- গপ্রথমা
- ঘবালিকা
সঠিক উত্তর: গ. প্রথমা
প্রশ্নটা স্ত্রীবাচক শব্দ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে। তৎসম পুরুষবাচক শব্দের শেষে আ প্রত্যয় যোগ করে অনেক স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি হয়।
প্রথম শব্দের শেষে আ যোগ করে হয়েছে প্রথমা, মূল শব্দের আর কোনো বদল ছাড়াই। একই নিয়মে অজ থেকে অজা, কোকিল থেকে কোকিলা, প্রিয় থেকে প্রিয়া, চতুর থেকে চতুরা।
গায়িকা, নায়িকা, বালিকা একটু আলাদা দলের: যে পুরুষবাচক শব্দের শেষে অক আছে, তার স্ত্রীবাচক রূপে অক বদলে হয় ইকা। গায়ক থেকে গায়িকা, নায়ক থেকে নায়িকা, বালক থেকে বালিকা। পরীক্ষায় এগুলো ইকা প্রত্যয়ের উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।
তিনটি শব্দের শেষে আ-কার থাকায় অনেকে ভাবেন সবগুলোই আ প্রত্যয়। পার্থক্য হলো: সরাসরি আ যোগ হয়েছে কেবল প্রথমা-তে, বাকিগুলোতে অক বদলে ইকা হয়েছে।
মনে রাখুন: শেষে অক থাকলে ইকা (গায়ক → গায়িকা); সাধারণ অ-কারান্ত শব্দে শুধু আ (প্রিয় → প্রিয়া, প্রথম → প্রথমা)।
৭৫৩. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কচোখে চোখে
- খঘেউ ঘেউ
- গকেউ কেউ
- ঘচুপচাপ
সঠিক উত্তর: খ. ঘেউ ঘেউ
দ্বিরুক্তি মানে একটি শব্দ দুবার ব্যবহার। বাংলায় দ্বিরুক্তি তিন রকম: শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি আর ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি তৈরি হয় কোনো প্রাণীর ডাক, বস্তুর শব্দ বা অনুভূতিকে অনুকরণ করে। কুকুরের ডাক ঘেউ ঘেউ, কাকের ডাক কা কা, বাতাসের শব্দ শন শন, বৃষ্টির শব্দ টাপুর টুপুর।
চোখে চোখে হলো বিভক্তিযুক্ত পদের দ্বিরুক্তি, মানে পদের দ্বিরুক্তি। কেউ কেউ সর্বনামের দ্বিরুক্তি, যা দিয়ে কয়েকজন বোঝায়। চুপচাপ হলো অর্থপূর্ণ শব্দ চুপ-এর সঙ্গে প্রায় একই ধ্বনি জুড়ে তৈরি শব্দের দ্বিরুক্তি; কোনো শব্দের অনুকরণ নয়।
চুপচাপ শুনতে ধ্বনির মতো লাগে বলে অনেকে এটি বেছে নেন; কিন্তু চুপ নিজেই অর্থপূর্ণ শব্দ, কোনো আওয়াজের নকল নয়।
মনে রাখুন: জিজ্ঞেস করুন: শব্দটা কি কোনো আওয়াজের নকল? হ্যাঁ হলে ধ্বন্যাত্মক: ঘেউ ঘেউ, কা কা, শন শন, ঝমঝম।
৭৫৪. কোন সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কনিত্য
- খপ্রাদি
- গউপপদ
- ঘঅলুক
সঠিক উত্তর: ঘ. অলুক
সমাস হলে সাধারণত সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি লোপ পায়, যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন। কিন্তু যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে বলে অলুক সমাস।
যেমন দুধে ও ভাতে মিলে দুধেভাতে, ঘিয়ে ভাজা মিলে ঘিয়েভাজা, গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে তা গায়েহলুদ। প্রতিটিতে এ বিভক্তি সমাসের পরেও থেকে গেছে। অলুক শব্দের অর্থই হলো লুক বা লোপ হয় না।
নিত্য সমাসে সমস্যমান পদ দিয়ে ব্যাসবাক্য হয় না, যেমন অন্য গ্রাম থেকে গ্রামান্তর। প্রাদি সমাসে প্র, পরি, অনু ইত্যাদির সঙ্গে কৃদন্ত পদ মেলে, যেমন প্রকৃষ্ট বচন থেকে প্রবচন। উপপদ সমাসে কৃদন্ত পদের আগের পদ উপপদ হয়, যেমন কুম্ভ করে যে, কুম্ভকার। এদের কোনোটিতে বিভক্তি টিকে থাকে না।
নামটাই সূত্র: লুক মানে লোপ, অলুক মানে লোপ নয়। এটা মনে রাখলে অন্য অপশনে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।
মনে রাখুন: সমাসবদ্ধ পদের ভেতরে এ, র, য়ে ইত্যাদি বিভক্তি দেখা গেলেই অলুক: হাতেখড়ি, ঘোড়ার ডিম, মাটির মানুষ।
৭৫৫. 'ডাক্তার ডাক' বাক্যটিতে 'ডাক্তার' কোন কারকে কোন বিভক্তি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- ককর্মে ষষ্ঠী
- খকর্মে শূন্য
- গকর্তায় শূন্য
- ঘসম্বন্ধে ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর: খ. কর্মে শূন্য
কারক চিনতে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করি। ডাক্তার ডাক বাক্যে ক্রিয়া ডাক। কাকে ডাকব? উত্তর আসে ডাক্তারকে। যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, সে কর্ম; তাই ডাক্তার কর্মকারক।
এবার বিভক্তি দেখি। ডাক্তার শব্দের সঙ্গে কোনো কে, রে বা এ লাগানো নেই। বিভক্তি দৃশ্যমান না থাকলে বলা হয় শূন্য বিভক্তি। তাই উত্তর কর্মে শূন্য।
কর্মকারকে কে বিভক্তি বসতে পারে, যেমন ডাক্তারকে ডাকো; কিন্তু চলতি কথায় অনেক সময় বিভক্তি বাদ যায়, যেমন বই পড়ি, ভাত খাই, ডাক্তার ডাকো। এগুলো সবই কর্মে শূন্য।
বাক্যের শুরুতে ডাক্তার থাকায় অনেকে একে কর্তা ভাবেন। কিন্তু এখানে কর্তা উহ্য তুমি; ডাকার কাজটা ডাক্তার করছে না, ডাক্তারকে ডাকা হচ্ছে।
মনে রাখুন: আদেশবাচক বাক্যে কর্তা সাধারণত উহ্য তুমি থাকে; তাই শুরুর বিশেষ্যটা প্রায়ই কর্ম। বই পড়ো, ভাত খাও, ডাক্তার ডাকো: সবই কর্মে শূন্য।
৭৫৬. আঘাত পায়নি এমন বোঝাতে কোনটি হবে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কঅনাহত
- খঅনাঘাত
- গসর্বংসহা
- ঘঅবিনশ্বর
সঠিক উত্তর: ক. অনাহত
প্রশ্নটা এককথায় প্রকাশ। আহত মানে আঘাতপ্রাপ্ত। তার আগে না-বোধক উপসর্গ অন যোগ করলে হয় অনাহত, মানে যে আঘাত পায়নি।
সংস্কৃতে না-বোধক অ উপসর্গ স্বরবর্ণের আগে এলে হয় অন্। তাই অন্ আর আহত মিলে অনাহত। একই ভাবে অন্ আর আদি মিলে অনাদি, অন্ আর ঈশ্বর মিলে অনীশ্বর।
অনাঘাত কোনো প্রচলিত শুদ্ধ শব্দ নয়; যার ঘ্রাণ নেওয়া হয়নি তাকে বলে অনাঘ্রাত। সর্বংসহা মানে যে সব কিছু সহ্য করে, যেমন পৃথিবী। অবিনশ্বর মানে যার বিনাশ নেই।
আঘাত শব্দের সঙ্গে মিল দেখে অনেকে অনাঘাত বেছে নেন। কিন্তু আঘাত থেকে বিশেষণ হয় আহত, তাই আঘাত পায়নি মানে অনাহত।
মনে রাখুন: অ উপসর্গ স্বরের আগে অন্ হয়: অনাহত, অনাদি, অনিচ্ছা, অনুপস্থিত।
৭৫৭. প্রত্যেক ভাষার কয়টি মৌলিক অংশ আছে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কদুটি
- খতিনটি
- গচারটি
- ঘপাঁচটি
সঠিক উত্তর: গ. চারটি
প্রশ্নটা ভাষার গঠন নিয়ে। প্রচলিত ব্যাকরণ বই অনুযায়ী প্রত্যেক ভাষার চারটি মৌলিক অংশ: ধ্বনি, শব্দ, বাক্য আর অর্থ।
এগুলো একটার ওপর আরেকটা দাঁড়িয়ে থাকে। ধ্বনি মিলে শব্দ, শব্দ মিলে বাক্য, আর বাক্য প্রকাশ করে অর্থ। এই চার অংশ থেকেই ব্যাকরণের চার শাখা: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।
কিছু পুরনো বইয়ে অর্থ বাদ দিয়ে তিনটি অংশের কথা বলা আছে: ধ্বনি, শব্দ, বাক্য। তবে এই পরীক্ষার উত্তর চারটি ধরে দেওয়া হয়েছে, এবং ব্যাকরণের চার শাখার সঙ্গেও এটাই মেলে।
তিনটি বেছে নেওয়াই এখানে মূল ফাঁদ; অর্থকে ভুলে গেলে এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: ব্যাকরণের শাখা চারটি, ভাষার মৌলিক অংশও চারটি: একটার সঙ্গে আরেকটা মিলিয়ে মনে রাখুন।
৭৫৮. কোনগুলি দেশি শব্দ? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কহস্ত, মস্তক
- খগিন্নী, গতর
- গখোকা,চাঁপা
- ঘচাঁদ , ভাত
সঠিক উত্তর: গ. খোকা,চাঁপা
দেশি শব্দ হলো সেই শব্দ, যা বাংলাভাষী অঞ্চলের আদি অধিবাসীদের ভাষা, যেমন কোল, মুন্ডা বা সাঁওতালি থেকে এসেছে; সংস্কৃত বা বিদেশি ভাষার সঙ্গে এদের যোগ নেই। পরিচিত উদাহরণ: কুলা, গঞ্জ, চোঙা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, খোকা।
অপশনগুলো ভাগ করি। হস্ত ও মস্তক অবিকৃত সংস্কৃত শব্দ, অর্থাৎ তৎসম। গিন্নি এসেছে গৃহিণী থেকে, গতর এসেছে গাত্র থেকে, আর চাঁদ চন্দ্র থেকে, ভাত ভক্ত থেকে; এগুলো সবই তদ্ভব।
বাকি থাকে খোকা ও চাঁপা। খোকা নিশ্চিতভাবে দেশি শব্দ। চাঁপাকে অনেক বই দেশি শব্দের তালিকায় রাখে, যদিও কোনো কোনো অভিধান একে সংস্কৃত চম্পক থেকে আসা দেখায়। চারটি জোড়ার মধ্যে কেবল এটিতেই দেশি শব্দ আছে, তাই উত্তর খোকা, চাঁপা।
ফাঁদ হলো গিন্নি, গতর বা চাঁদ, ভাত: এগুলো খাঁটি বাংলার মতো শোনায় বলে অনেকে দেশি ভাবেন, কিন্তু আসলে সংস্কৃত থেকে বদলে আসা তদ্ভব শব্দ।
মনে রাখুন: সংস্কৃত মূল খুঁজে পেলে শব্দটি তৎসম বা তদ্ভব; মূল না পেলে আর বিদেশি না হলে দেশি। আরও দেশি শব্দ: কুলা, ঢেঁকি, ডাব, ডাগর, ঝাঁটা।
৭৫৯. বিধি শব্দটির বিপরীত শব্দ কোনটি? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কনিষেধ
- খবৃহৎ
- গক্ষুদ্র
- ঘঅধিক
সঠিক উত্তর: ক. নিষেধ
প্রশ্নটি বিপরীত শব্দের। বিধি মানে নিয়ম বা যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর উল্টো হলো নিষেধ, মানে যা করতে মানা।
এই জোড়াটি বিধি-নিষেধ শব্দবন্ধে একসঙ্গে ব্যবহার হয়, যেমন সরকার নতুন বিধি-নিষেধ জারি করেছে। করণীয় আর বর্জনীয়, দুই দিক মিলেই শব্দটি গঠিত।
বাকি তিনটি অপশন অন্য জোড়ার অংশ: বৃহৎ এর বিপরীত ক্ষুদ্র, আর অধিক এর বিপরীত অল্প বা ন্যূন। এখানে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র একে অপরের বিপরীত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মনে রাখুন: জোড়া শব্দ মনে রাখুন: বিধি-নিষেধ, আবির্ভাব-তিরোভাব, আদান-প্রদান।
৭৬০. সূর্য শব্দটির বিপরীত শব্দ কোনটি? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কতপন
- খপবন
- গকানন
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি সূর্য শব্দের বিপরীত শব্দ চায়। সূর্য একটি বস্তুর নাম, এর কোনো প্রচলিত বিপরীত শব্দ অপশনগুলোতে নেই।
তপন আসলে সূর্যেরই আরেক নাম, অর্থাৎ সমার্থক শব্দ, বিপরীত নয়। সূর্যের আরও সমার্থক: রবি, ভানু, দিবাকর, আদিত্য, মার্তণ্ড, অংশুমালী।
পবন মানে বাতাস আর কানন মানে বন; এদের সঙ্গে সূর্যের বিপরীত সম্পর্ক নেই। তাই সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।
ফাঁদ হলো তপন: পরিচিত শব্দ দেখে অনেকে সমার্থক আর বিপরীত গুলিয়ে ফেলেন। প্রশ্ন সমার্থক না বিপরীত চাইছে, আগে সেটি ভালো করে পড়ুন।
মনে রাখুন: অপশনে সমার্থক শব্দ থাকলে বিপরীতের প্রশ্নে সেটি সবার আগে বাদ দিন।