বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪০
৭৮১. নিচের কোনটি সর্বনামের প্রকারভেদ নয়? (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কআত্মবাচক
- খব্যতিহারিক
- গসাপেক্ষবাচক
- ঘপূরণবাচক
সঠিক উত্তর: ঘ. পূরণবাচক
প্রশ্নটা সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে। ‘পূরণবাচক’ সর্বনামের কোনো প্রকার নয়; এটি সংখ্যাবাচক শব্দ বা বিশেষণের প্রকার, যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, পঞ্চম।
সর্বনামের প্রকারগুলো হলো: ব্যক্তিবাচক, আত্মবাচক, নির্দেশক, অনির্দিষ্ট, প্রশ্নবাচক, সাপেক্ষ, ব্যতিহারিক, সামগ্রিক ইত্যাদি।
উদাহরণে বুঝি: ‘আমি নিজে যাব’ বাক্যে নিজে আত্মবাচক। ‘তারা আপনা-আপনি ঝগড়া করে’ বাক্যে আপনা-আপনি ব্যতিহারিক। ‘যে আসবে সে পাবে’ বাক্যে যে আর সে সাপেক্ষ সর্বনাম।
ফাঁদ হলো ‘বাচক’ শব্দাংশ: সবগুলোর শেষে বাচক থাকায় একই দলের মনে হয়। কিন্তু পূরণবাচক বোঝায় ক্রম, কোনো নামের বদলে বসে না।
মনে রাখুন: ক্রম বোঝালে (প্রথম, দ্বিতীয়) পূরণবাচক; এটা বিশেষণ বা সংখ্যাবাচক শব্দের ভাগ।
৭৮২. যৌগিক ক্রিয়ার একটি উদাহরণ হলো - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কধীরে চলা
- খহেসে ওঠা
- গচুপ করা
- ঘকথা বলা
সঠিক উত্তর: খ. হেসে ওঠা
প্রশ্নটা যৌগিক ক্রিয়া চেনা নিয়ে। একটি অসমাপিকা ক্রিয়া আর একটি সমাপিকা ক্রিয়া মিলে যখন একটি বিশেষ অর্থ দেয়, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। ‘হেসে ওঠা’ তার উদাহরণ।
এখানে ‘হেসে’ অসমাপিকা, ‘ওঠা’ সমাপিকা। দুটো মিলে বোঝায় হঠাৎ হাসতে শুরু করা। একইভাবে: কেঁদে ফেলা, মরে যাওয়া, শুয়ে পড়া।
‘চুপ করা’ আর ‘কথা বলা’ যৌগিক নয়। এখানে বিশেষ্য বা বিশেষণের সঙ্গে করা, বলা ধাতু যুক্ত হয়েছে; এগুলোকে সংযোগ বা মিশ্র ক্রিয়া বলে।
‘ধীরে চলা’ তে ধীরে ক্রিয়াবিশেষণ, চলা সাধারণ ক্রিয়া। ফাঁদ হলো ধীরে শব্দের এ-কার, যা দেখতে অসমাপিকার মতো লাগে।
মনে রাখুন: প্রথম অংশ যদি ক্রিয়ার এ-কারান্ত রূপ (হেসে, কেঁদে, শুয়ে) হয়, তবে যৌগিক; বিশেষ্য হলে (চুপ, কথা) সংযোগ ক্রিয়া।
৭৮৩. মেঘমল্লার গ্রন্থের রচয়িতা হলেন - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কআখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘসৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর: গ. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রশ্নটা লেখক ও গ্রন্থ মেলানো নিয়ে। ‘মেঘমল্লার’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্পগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
বিভূতিভূষণের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘আরণ্যক’, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ আর ‘ইছামতী’। গল্পগ্রন্থের মধ্যে ‘মেঘমল্লার’ ও ‘মৌরীফুল’ পরীক্ষায় বেশি আসে।
মেঘমল্লার একটি রাগের নাম, যা বর্ষার সঙ্গে জড়িত। গান বা রাগের নাম শুনে অনেকে রবীন্দ্রনাথকে বেছে নেন; এটাই প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: বর্ষা ও প্রকৃতির নামে বিভূতিভূষণের বই: মেঘমল্লার, মৌরীফুল, আরণ্যক, ইছামতী।
৭৮৪. 'গৃহ' শব্দের সমার্থক নয় - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কনিকেতন
- খসদন
- গনীর
- ঘধাম
সঠিক উত্তর: গ. নীর
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ নিয়ে, তবে উল্টো দিক থেকে: কোনটি গৃহের সমার্থক নয়। উত্তর ‘নীর’, কারণ নীর মানে জল বা পানি।
গৃহের সমার্থক শব্দ অনেক: নিকেতন, সদন, ধাম, আলয়, ভবন, নিলয়, আবাস, নিবাস। যেমন ‘শান্তিনিকেতন’ বা ‘বঙ্গভবন’ শব্দে এগুলো ঘর বা বাড়ি অর্থে বসেছে।
ফাঁদ হলো ‘নীড়’ আর ‘নীর’ এর মিল। নীড় মানে পাখির বাসা, যা বাসস্থানের কাছাকাছি অর্থ; কিন্তু দন্ত্য ন আর র দিয়ে ‘নীর’ মানে জল। নীরদ মানে মেঘ, যে জল দেয়।
মনে রাখুন: নীর (র) = জল, নীড় (ড়) = বাসা। বানানের একটি অক্ষরে অর্থ বদলে যায়।
৭৮৫. ‘এ গাঁর চাষী নিঘুম রাতে বাঁশের বাঁশীর সুরে, ওইনা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে!’ চরণ দুটি যে বিখ্যাত রচনার অন্তর্গত - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কনকশী কাঁথার মাঠ
- খমহুয়া
- গচক্রবাক
- ঘদেওয়ানা মদিনা
সঠিক উত্তর: ক. নকশী কাঁথার মাঠ
প্রশ্নটা কবিতার চরণ থেকে রচনা চেনা নিয়ে। চরণ দুটি জসীমউদ্দীনের কাহিনিকাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ থেকে নেওয়া, যা প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
কাব্যের শুরুতে দুটি গ্রাম আর মাঝের ধু ধু মাঠের বর্ণনা আছে। এক গাঁয়ের চাষী ছেলে রূপাই আর অন্য গাঁয়ের মেয়ে সাজুর প্রেমই এর কাহিনি। চরণে সেই দুই গাঁয়ের টানের কথাই বলা হয়েছে।
‘মহুয়া’ ও ‘দেওয়ানা মদিনা’ ময়মনসিংহ গীতিকার পালা, যেগুলো সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে এবং সম্পাদনা করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রামীণ প্রেমকাহিনি বলে এগুলো ফাঁদ।
‘চক্রবাক’ কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ। জসীমউদ্দীনের আরেক বিখ্যাত কাহিনিকাব্য ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ও মনে রাখুন।
মনে রাখুন: দুই গাঁ, মাঝে মাঠ, চাষী ছেলে: দেখলেই নকশী কাঁথার মাঠ।
৭৮৬. নিচের যে গুচ্ছে ভাষার অপপ্রয়োগের কোনো দৃষ্টান্ত নেই- (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কজন্মবার্ষিক ,কেবল, স্বোপার্জিত
- খসর্বজনীন, অত্রস্থান , কর্তৃপক্ষ
- গসবিনয়ে ,একত্র, সাম্প্রতিক
- ঘপরিবারবর্গ , স্বনামধন্য, ঐক্যবদ্ধ
সঠিক উত্তর: গ. সবিনয়ে ,একত্র, সাম্প্রতিক
প্রশ্নটা ভাষার অপপ্রয়োগ, মানে ভুল বা বাহুল্যপূর্ণ শব্দ চেনা নিয়ে। যে গুচ্ছের তিনটি শব্দই শুদ্ধ, সেটাই উত্তর: সবিনয়ে, একত্র, সাম্প্রতিক।
ক গুচ্ছে ‘জন্মবার্ষিক’ ভুল, শুদ্ধ হলো জন্মবার্ষিকী। খ গুচ্ছে ‘অত্রস্থান’ ভুল, কারণ অত্র মানেই এখানে; শুধু অত্র লিখলেই হয়।
ঘ গুচ্ছে ‘পরিবারবর্গ’ বাহুল্য দোষের উদাহরণ। পরিবার শব্দটি নিজেই সমষ্টি বোঝায়, তার সঙ্গে আবার বর্গ যোগ করা অপ্রয়োজনীয়; যেমন ‘সকল সদস্যবৃন্দ’ লেখাও ভুল।
গ গুচ্ছে মনে রাখার বিষয়: ‘একত্র’ শুদ্ধ, কিন্তু ‘একত্রিত’ অশুদ্ধ। ‘সাম্প্রতিক’ শুদ্ধ, ‘সাম্প্রতিককালে’ লেখাও চলে। ফাঁদ হলো ঘ গুচ্ছ, কারণ পরিবারবর্গ কথাটা এত প্রচলিত যে ভুল চোখে পড়ে না।
মনে রাখুন: সমষ্টিবাচক শব্দে (পরিবার, সকল) বর্গ, বৃন্দ, গণ জুড়লে বাহুল্য দোষ হয়।
৭৮৭. 'আনন্দাশ্রু' যে সমাসের উদাহরণ - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কদ্বন্দ্ব
- খদ্বিগু
- গনিত্য
- ঘকর্মধারয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কর্মধারয়
প্রশ্নটা সমাস নির্ণয় নিয়ে। ‘আনন্দাশ্রু’ এর ব্যাসবাক্য হলো আনন্দজনিত অশ্রু। মাঝের ‘জনিত’ পদটি লোপ পেয়েছে, তাই এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ বাদ যায় আর পরপদের অর্থ প্রধান থাকে। যেমন সিংহাসন মানে সিংহ চিহ্নিত আসন, ঘিভাত মানে ঘি মাখা ভাত, স্মৃতিসৌধ মানে স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ।
সন্ধির দিক থেকেও শব্দটি দেখা যায়: আনন্দ যোগ অশ্রু, অ আর অ মিলে আ। তবে প্রশ্ন সমাস নিয়ে।
ফাঁদ হলো দ্বন্দ্ব: আনন্দ আর অশ্রু দুটো বিশেষ্য দেখে অনেকে আনন্দ ও অশ্রু ভাবেন। কিন্তু অর্থ দাঁড়ায় এক রকম অশ্রু, তাই পরপদ প্রধান কর্মধারয়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে মাঝে ‘জনিত, চিহ্নিত, মাখা, রক্ষার্থে’ বসালে অর্থ পূর্ণ হলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
৭৮৮. লোকজ শব্দ 'দইয়ল' এর প্রমিত রূপ হলো - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কদেওয়াল
- খদয়াল
- গদোয়েল
- ঘদইওয়ালা
সঠিক উত্তর: গ. দোয়েল
প্রশ্নটা আঞ্চলিক বা লোকজ শব্দের প্রমিত রূপ নিয়ে। ‘দইয়ল’ হলো জাতীয় পাখি ‘দোয়েল’ এর লোকজ উচ্চারণ।
গ্রামাঞ্চলে দোয়েলকে দইয়ল, দয়েল বা দুয়েল বলা হয়। প্রমিত বাংলায় লেখা হয় দোয়েল, যা বাংলাদেশের জাতীয় পাখি।
লোকজ শব্দে সাধারণত স্বরধ্বনি বদলে যায়, কিন্তু ব্যঞ্জনের কাঠামো একই থাকে: দ, য়, ল। এই কাঠামো ধরে মেলালেই প্রমিত রূপ পাওয়া যায়।
ফাঁদ হলো দয়াল ও দেওয়াল: অক্ষরের মিল প্রায় একই, কিন্তু অর্থ আলাদা। দইওয়ালা আবার ‘দই’ শব্দ দেখে বিভ্রান্ত করার জন্য।
মনে রাখুন: লোকজ শব্দের ব্যঞ্জনগুলো ধরে স্বর বদলে দেখুন; দইয়ল → দোয়েল।
৭৮৯. This year, 22 Sraban 1426 was the.... death anniversary of Rabindranath Tagore. (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- ক75th
- খ80 th
- গ78 th
- ঘ81 th
সঠিক উত্তর: গ. 78 th
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মারা যান ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ, ইংরেজি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট, কলকাতার জোড়াসাঁকোয়। প্রতি বছর ২২ শ্রাবণ তাঁর প্রয়াণ দিবস পালিত হয়।
কততম মৃত্যুবার্ষিকী তা বের করতে বর্তমান বছর থেকে মৃত্যুর বছর বিয়োগ করতে হয়। ১৪২৬ বিয়োগ ১৩৪৮ সমান ৭৮। ইংরেজি হিসাবেও ২০১৯ বিয়োগ ১৯৪১ সমান ৭৮।
তাই ২২ শ্রাবণ ১৪২৬, অর্থাৎ ২০১৯ সালের আগস্টে, ছিল রবীন্দ্রনাথের ৭৮তম প্রয়াণবার্ষিকী।
৮০ বা ৮১ আসে জন্ম আর মৃত্যুর তথ্য গুলিয়ে ফেললে; তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুবার্ষিকী গোনা হয় মৃত্যুর বছর থেকে।
মনে রাখুন: বঙ্গাব্দে বিয়োগ: ১৪২৬ − ১৩৪৮ = ৭৮; ইংরেজিতে বছর − ১৯৪১।
৭৯০. সাধু ভাষা থেকে চলিত বাংলায় লিখতে কোন পদযুগলের পরিবর্তন ঘটে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কবিশেষ্য ও বিশেষণ
- খবিশেষণ ও ক্রিয়া
- গবিশেষ্য ও সর্বনাম
- ঘসর্বনাম ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ. সর্বনাম ও ক্রিয়া
প্রশ্নটি সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য জানতে চাইছে। সাধু থেকে চলিত রূপে লিখতে মূলত দুই ধরনের পদ বদলায়: সর্বনাম আর ক্রিয়াপদ। এ দুটির রূপ বদলালেই বাক্যের ভাষা চলিত হয়ে যায়।
সর্বনামের উদাহরণ: তাহারা হয় তারা, যাহা হয় যা, ইহা হয় এটা বা এ, উহাকে হয় ওকে। ক্রিয়াপদের উদাহরণ: করিতেছি হয় করছি, খাইয়াছিল হয় খেয়েছিল, যাইবে হয় যাবে।
বিশেষ্য ও বিশেষণ সাধারণত একই থাকে; শুধু কিছু তৎসম শব্দের বদলে তদ্ভব বা দেশি শব্দ বসানো হয়, যেমন শুষ্ক থেকে শুকনো। এটি নিয়মিত রূপান্তর নয়, শব্দ বাছাইয়ের ব্যাপার।
অনুসর্গও কিছুটা বদলায়, যেমন হইতে বদলে হয় থেকে, দিয়া বদলে হয় দিয়ে। কিন্তু অপশনের জোড়াগুলোর মধ্যে সর্বনাম ও ক্রিয়াই সঠিক। ফাঁদ হলো বিশেষণ ও ক্রিয়া বেছে নেওয়া; ক্রিয়া ঠিক থাকলেও বিশেষণ নিয়মিত বদলায় না।
মনে রাখুন: সাধু থেকে চলিত: সর্বনাম ও ক্রিয়া বদলায় (তাহারা → তারা, করিয়াছিল → করেছিল); বিশেষ্য-বিশেষণ সাধারণত একই থাকে।
৭৯১. শব্দার্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ সমষ্টিকে ভাগ করা যায়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- ক২ ভাগে
- খ৩ ভাগে
- গ৪ ভাগে
- ঘ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর: খ. ৩ ভাগে
প্রশ্নটা শব্দের অর্থ কীভাবে তৈরি হয়, তার ভিত্তিতে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ জানতে চেয়েছে। অর্থ অনুসারে বাংলা শব্দ তিন ভাগে ভাগ করা হয়: যৌগিক, রূঢ়ি এবং যোগরূঢ়।
যৌগিক শব্দে প্রকৃতি আর প্রত্যয়ের অর্থ মিলেই শব্দের অর্থ হয়, যেমন গায়ক মানে যে গান করে। রূঢ়ি শব্দে ব্যুৎপত্তির অর্থ থেকে সরে গিয়ে অন্য একটি অর্থ প্রচলিত হয়ে যায়, যেমন হস্তী শব্দের মূল অর্থ হাত আছে যার, কিন্তু বোঝায় শুধু হাতি।
যোগরূঢ় শব্দে সমাসের পদগুলোর অর্থ থাকে, কিন্তু শব্দটি একটি বিশেষ অর্থেই আটকে যায়। যেমন পঙ্কজ মানে পাঁকে জন্মায় যা, তবু এটি শুধু পদ্মকেই বোঝায়।
গঠন অনুসারে শব্দ দুই ভাগ, মৌলিক ও সাধিত; আর উৎস অনুসারে পাঁচ ভাগ। এই দুই হিসাব গুলিয়ে ফেললেই ২ বা ৫ বেছে নেওয়ার ভুল হয়।
মনে রাখুন: মনে রাখুন সংখ্যার জোড়: গঠনে ২, অর্থে ৩, উৎসে ৫।
৭৯২. পর্তুগিজ ভাষা থেকে নিম্নোক্ত কোন শব্দটি বাংলা ভাষায় আত্তীকরণ করা হয়েছে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কটেবিল
- খচেয়ার
- গবালতি
- ঘশরবত
সঠিক উত্তর: গ. বালতি
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। ষোড়শ শতক থেকে পর্তুগিজ বণিক ও মিশনারিরা বাংলায় আসায় বেশ কিছু পর্তুগিজ শব্দ বাংলায় স্থায়ী হয়ে গেছে।
বালতি শব্দটি এসেছে পর্তুগিজ বালদে শব্দ থেকে। একই উৎসের আরও পরিচিত শব্দ হলো আলমারি, আনারস, চাবি, পাউরুটি, গির্জা, পাদ্রি, বোতাম।
টেবিল আর চেয়ার এসেছে ইংরেজি থেকে, আর শরবত আরবি উৎসের শব্দ। তাই পর্তুগিজ শব্দ শুধু বালতি।
চেয়ার-টেবিল আসবাব বলে অনেকে আলমারির মতো পর্তুগিজ ভাবেন; এখানেই ফাঁদ।
মনে রাখুন: পর্তুগিজ শব্দ মনে রাখার ছড়া: আলমারিতে চাবি, বালতিতে আনারস, গির্জায় পাদ্রি।
৭৯৩. অপলাপ শব্দের অর্থ কি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কঅস্বীকার
- খমিথ্যা
- গপ্রলাপ
- ঘঅসদালাপ
সঠিক উত্তর: ক. অস্বীকার
প্রশ্নটা শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। অপলাপ শব্দের অর্থ অস্বীকার করা বা সত্যকে গোপন করা।
শব্দটি গঠিত অপ উপসর্গ আর লপ্ ধাতু মিলে; লপ্ মানে বলা, আর অপ উপসর্গ বিপরীত বা মন্দ অর্থ আনে। তাই অপলাপ মানে যা আছে তাকে না বলা।
সবচেয়ে পরিচিত প্রয়োগ: সত্যের অপলাপ করা উচিত নয়, অর্থাৎ সত্যকে অস্বীকার করা উচিত নয়।
শব্দের শেষে লাপ দেখে অনেকে প্রলাপ বা অসদালাপ বেছে নেন। আর মিথ্যা অর্থটি কাছাকাছি মনে হলেও অভিধানগত অর্থ অস্বীকার।
মনে রাখুন: সত্যের অপলাপ বাক্যাংশটি মনে রাখলেই অর্থ পরিষ্কার: সত্যকে অস্বীকার।
৭৯৪. নিম্নের কোনটি তৎসম শব্দ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কমুড়ি
- খআম
- গদধি
- ঘকলম
সঠিক উত্তর: গ. দধি
তৎসম মানে সংস্কৃতের সমান: যে শব্দ সংস্কৃত থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলায় এসেছে। দধি সংস্কৃতে যেমন, বাংলাতেও ঠিক তেমন, তাই এটি তৎসম।
আম তৎসম নয়, তদ্ভব। এটি সংস্কৃত আম্র থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। তদ্ভব মানে সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের পথ ঘুরে বদলে যাওয়া শব্দ।
মুড়ি বাংলার নিজস্ব দেশি শব্দ, আর কলম আরবি কলম থেকে আসা বিদেশি শব্দ।
তৎসম চেনার সহজ কৌশল: শব্দটির কোনো ভাঙা চলিত রূপ আছে কি না দেখুন। দধি থেকে দই হয়েছে, তাই দধি মূল তৎসম, দই তদ্ভব।
মনে রাখুন: জোড়া মনে রাখুন: দধি তৎসম, দই তদ্ভব; চন্দ্র তৎসম, চাঁদ তদ্ভব; হস্ত তৎসম, হাত তদ্ভব।
৭৯৫. 'জঙ্গম' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কস্থাবর
- খঅরণ্য
- গসমুদ্র
- ঘপর্বত
সঠিক উত্তর: ক. স্থাবর
জঙ্গম মানে যা চলাফেরা করতে পারে, অর্থাৎ চলমান বা সচল। এর বিপরীত হলো স্থাবর, মানে যা এক জায়গায় স্থির থাকে।
সম্পত্তির ভাষায় এই জোড়াটি খুব পরিচিত: জমি-বাড়ি হলো স্থাবর সম্পত্তি, আর টাকা-গয়না-গাড়ি অস্থাবর বা জঙ্গম সম্পত্তি।
অরণ্য, সমুদ্র, পর্বত স্থির জিনিসের উদাহরণ হতে পারে, কিন্তু এগুলো বিশেষ্য, জঙ্গম শব্দের বিপরীত শব্দ নয়। বিপরীত শব্দ একই ধরনের গুণ উল্টে দেয়।
মনে রাখুন: স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির কথা ভাবুন; জঙ্গম হলো অস্থাবরেরই আরেক নাম।
৭৯৬. 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীতার্থক শব্দ- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কস্তব্ধ
- খহীনবল
- গমাথা নত করা
- ঘবিনয়
সঠিক উত্তর: ঘ. বিনয়
ঔদ্ধত্য মানে অহংকারী, উদ্ধত বা অবিনীত আচরণ। এর বিপরীত গুণ হলো বিনয়, মানে নম্রতা।
শব্দটি এসেছে উদ্ধত থেকে, ষ্ণ্য প্রত্যয়ে উদ্ধতের ভাব ঔদ্ধত্য। বানানে দ আর ধ যুক্ত হয়ে দ্ধ, এটা খেয়াল রাখা দরকার।
মাথা নত করা ভাবের দিক থেকে কাছাকাছি হলেও এটি একটি বাক্যাংশ, একক বিপরীত শব্দ নয়। বিপরীত শব্দ হতে হয় একই পদের একটি শব্দ, তাই বিনয়ই সেরা উত্তর।
মনে রাখুন: শব্দজোড়া হিসেবে মনে রাখুন: উদ্ধত-বিনীত, ঔদ্ধত্য-বিনয়।
৭৯৭. প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কউপমিত
- খউপমেয়
- গরূপক
- ঘউপমান
সঠিক উত্তর: খ. উপমেয়
উপমা অলংকারে চারটি অংশ থাকে: উপমেয়, উপমান, সাধারণ ধর্ম আর তুলনাবাচক শব্দ। যাকে তুলনা করা হয়, অর্থাৎ সামনে উপস্থিত প্রত্যক্ষ বস্তু, তাকে বলে উপমেয়।
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা সাধারণত সামনে নেই বা পরোক্ষ, তাকে বলে উপমান। যেমন মুখখানি চাঁদের মতো সুন্দর: মুখ উপমেয়, চাঁদ উপমান, সুন্দর সাধারণ ধর্ম, মতো তুলনাবাচক শব্দ।
উপমিত হলো সমাসের নাম, যেখানে উপমেয় আর উপমান মিলে সমাস হয় কিন্তু সাধারণ ধর্ম উল্লেখ থাকে না, যেমন পুরুষসিংহ। রূপক একটি আলাদা অলংকার বা সমাস।
উপমেয় আর উপমান উল্টে ফেলাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: উপমেয় = যাকে মেপে দেখা হচ্ছে (সামনের জিনিস); উপমান = মাপকাঠি (চাঁদ, সিংহ, পদ্ম)।
৭৯৮. কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কতেমাথা
- খবিস্কুট
- গহাতাহাতি
- ঘমনগড়া
সঠিক উত্তর: গ. হাতাহাতি
বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রধান থাকে না, বরং তারা মিলে অন্য কিছু বোঝায়। এর একটি প্রকার ব্যতিহার বহুব্রীহি: একই শব্দ দুবার বসে পরস্পর একই কাজ করা বোঝায়।
হাতাহাতি মানে হাতে হাতে যে লড়াই, অর্থাৎ দুই পক্ষ পরস্পরকে হাত দিয়ে আঘাত করছে। একই রকম শব্দ লাঠালাঠি, কানাকানি, চুলোচুলি।
তেমাথা মানে তিন মাথার সমাহার, এটি দ্বিগু সমাস; সংখ্যাবাচক শব্দ আগে থাকলে আর সমাহার বোঝালে দ্বিগু। মনগড়া মানে মন দিয়ে গড়া, তৃতীয়া তৎপুরুষ।
বিস্কুট বিদেশি শব্দ, বাংলায় এটি কোনো সমাস নয়। হাতাহাতিতে দুই শব্দ দেখে অনেকে দ্বন্দ্ব ভাবেন, কিন্তু পরস্পর ক্রিয়া বোঝালে তা ব্যতিহার বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: শব্দের মাঝে আ আর শেষে ই (লাঠালাঠি, হাতাহাতি, কাড়াকাড়ি) দেখলে ব্যতিহার বহুব্রীহি ভাবুন।
৭৯৯. 'অগ্নি' এর সমার্থক নয়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কপাবক
- খসর্বশুচি
- গবৈশ্বানর
- ঘপ্রজ্বলিত
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রজ্বলিত
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোনটি অগ্নি শব্দের সমার্থক নয়। অগ্নির প্রতিশব্দ হলো আগুন, অনল, পাবক, বহ্নি, হুতাশন, বৈশ্বানর ইত্যাদি।
পাবক মানে যে পবিত্র করে, আর বৈশ্বানর হলো বৈদিক সাহিত্যে অগ্নির নাম। আগুন সব কিছু শুচি করে, এই ধারণা থেকে অগ্নিকে শুচি বলা হয়; সর্বশুচিও সেই ভাবেরই শব্দ।
প্রজ্বলিত মানে জ্বলন্ত বা যা জ্বালানো হয়েছে। এটি একটি বিশেষণ, আগুনের অবস্থা বোঝায়, কিন্তু আগুনের নাম নয়। তাই এটি অগ্নির সমার্থক নয়।
আগুনের সঙ্গে সম্পর্ক দেখে অনেকে প্রজ্বলিতকে সমার্থক ভাবেন; কিন্তু সমার্থক শব্দ হতে হয় একই পদের, একই অর্থের।
মনে রাখুন: অগ্নির প্রতিশব্দ ছড়া: অনল পাবক বহ্নি হুতাশন বৈশ্বানর।
৮০০. 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- ক√দৃশ্ + অনীয়
- খদৃশ্য + নীয়
- গ√দৃশ্ + ARI
- ঘদৃশ্য + অনীয়
সঠিক উত্তর: ক. √দৃশ্ + অনীয়
দর্শনীয় একটি কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ, অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগে তৈরি। এর প্রকৃতি দৃশ্ ধাতু, আর প্রত্যয় অনীয়।
অনীয় প্রত্যয় যোগ হলে ধাতুর স্বরে গুণ হয়: দৃশ্ ধাতুর ঋ-কার বদলে হয় অর্, তাই দৃশ্ হয়ে যায় দর্শ্। এরপর অনীয় যোগে দর্শনীয়, আর ন মূর্ধন্য হয় না।
অনীয় প্রত্যয় যোগ্য বা উচিত অর্থ দেয়: দর্শনীয় মানে দেখার যোগ্য। একই নিয়মে করণীয়, পানীয়, পূজনীয়, স্মরণীয়।
দৃশ্য নিজেই একটি প্রত্যয়যুক্ত শব্দ, ধাতু নয়; তাই দৃশ্য যোগ কিছু লিখলে প্রকৃতি ভুল হয়। ধাতুর আগে মূল চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে অনীয় আর অর্থ যোগ্য বা উচিত হলে প্রকৃতি ধাতু: √কৃ+অনীয় = করণীয়, √পা+অনীয় = পানীয়।