বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪১
৮০১. কোনটি শুদ্ধ বানান? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কনির্ণিমেষ
- খণির্নিমেষ
- গনির্নিমেষ
- ঘণির্ণিমেষ
সঠিক উত্তর: গ. নির্নিমেষ
নির্নিমেষ মানে পলক না ফেলে, অপলক দৃষ্টিতে। শব্দটি গঠিত নির্ উপসর্গ আর নিমেষ মিলে; নিমেষ মানে চোখের পলক।
ণত্ব বিধান অনুযায়ী ঋ, র, ষ-এর পরে একই পদে ন থাকলে তা মূর্ধন্য ণ হয়। কিন্তু সমাসবদ্ধ পদে দুটি আলাদা পদের মধ্যে এই নিয়ম খাটে না। নির্নিমেষ মানে নেই নিমেষ যার, তাই এটি সমাসবদ্ধ পদ; নিমেষ শব্দের ন দন্ত্যই থাকে। একই কারণে দুর্নাম, দুর্নীতি দন্ত্য ন দিয়ে লেখা হয়।
শব্দের শুরুর নি তো সব সময় দন্ত্য ন, কারণ বাংলায় শব্দের শুরুতে মূর্ধন্য ণ প্রায় বসে না। তাই ণ দিয়ে শুরু হওয়া দুটি বিকল্প সরাসরি বাদ।
র-এর পরে ণ হয়, এই নিয়ম মনে রেখে আর নির্ণয় শব্দের কথা ভেবে অনেকে নির্ণিমেষ লেখেন। কিন্তু নির্ণয় হলো উপসর্গ আর ধাতু মিলে গঠিত শব্দ, সেখানে ণ হয়; নির্নিমেষ সমাসবদ্ধ পদ, তাই ন। এটাই এই প্রশ্নের প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: সমাসবদ্ধ পদে ণত্ব বিধান খাটে না: নির্নিমেষ, দুর্নাম, দুর্নীতি। কিন্তু উপসর্গ যোগ ধাতুতে ণ হয়: নির্ণয়, প্রণাম, পরিণাম।
৮০২. মেছো শব্দের প্রকৃতি -প্রত্যয় কী? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কমাছ + ও
- খমাছ + উয়া >ও
- গমাছি + উয়া > ও
- ঘমেছ + ও
সঠিক উত্তর: খ. মাছ + উয়া >ও
মেছো একটি তদ্ধিত প্রত্যয়যুক্ত শব্দ: বিশেষ্য মাছের সঙ্গে উয়া প্রত্যয় যোগে মেছুয়া, তারপর চলিত রূপে মেছো।
উয়া প্রত্যয় সম্পর্ক বা পেশা বোঝায়: মেছো মানে মাছ সম্পর্কিত, যেমন মেছো বাজার, মেছো গন্ধ। প্রত্যয় যোগে প্রথম স্বর আ বদলে এ হয়েছে, মাছ থেকে মেছ।
একই নিয়মে জল যোগ উয়া থেকে জলো, বাত যোগ উয়া থেকে বেতো, আর মাঠ যোগ উয়া থেকে মেঠো।
শব্দটা মেছ দিয়ে শুরু বলে অনেকে প্রকৃতি মেছ ধরেন, বা শুধু ও প্রত্যয় ধরেন। কিন্তু মেছ কোনো মূল শব্দ নয়; প্রত্যয় উয়া, যা পরে ও হয়েছে।
মনে রাখুন: শেষে ও এবং মানে সম্পর্কিত হলে উয়া > ও ভাবুন: মেঠো (মাঠ), জলো (জল), বেতো (বাত)।
৮০৩. কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক বাংলা শব্দ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কবিধাতা
- খসপত্নী
- গবিপত্তী
- ঘসতীন
সঠিক উত্তর: ঘ. সতীন
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হলো সেই শব্দ যার কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই, শুধু নারী অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সতীন এমন একটি শব্দ: একই স্বামীর অন্য স্ত্রী, এর কোনো পুরুষ রূপ হয় না।
প্রশ্নে বলা হয়েছে বাংলা শব্দ, অর্থাৎ খাঁটি বাংলা বা তদ্ভব রূপ। সপত্নী সংস্কৃত তৎসম শব্দ, আর সতীন সেই সপত্নী থেকে আসা বাংলা তদ্ভব রূপ। তাই বাংলা শব্দ হিসেবে উত্তর সতীন।
বিধাতা স্ত্রীবাচক শব্দ নয়, এটি পুরুষ অর্থেই ব্যবহৃত হয়। উল্টো দিকের শ্রেণি নিত্য পুরুষবাচক, যেমন কবিরাজ, ঢাকি, অকৃতদার, বিপত্নীক; এগুলোর কোনো স্ত্রীবাচক রূপ নেই।
নিত্য স্ত্রীবাচক আরও শব্দ: সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা, বিধবা, অর্ধাঙ্গিনী।
মনে রাখুন: নিত্য স্ত্রীবাচক তালিকা: সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা, বিধবা; নিত্য পুরুষবাচক: কবিরাজ, ঢাকি, অকৃতদার, বিপত্নীক।
৮০৪. দস্ত-ব-দস্ত কথার অর্থ কী? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কবন্ধু বনাম বন্ধু
- খযেতে
- গহাতে হাতে
- ঘআস্তে আস্তে
সঠিক উত্তর: গ. হাতে হাতে
দস্ত-ব-দস্ত একটি ফারসি বাক্যাংশ, যা বাংলায় প্রবেশ করেছে। দস্ত মানে হাত, আর ব মানে সঙ্গে বা তে; তাই পুরো অর্থ হাতে হাতে।
আদালত ও দলিলের ভাষায় এটি দেখা যায়: দস্ত-ব-দস্ত হস্তান্তর মানে সরাসরি হাতে হাতে বুঝিয়ে দেওয়া।
দস্ত শব্দটি দস্তখত শব্দেও আছে, মানে হাতের লেখা বা সই। দস্তখত মনে রাখলেই দস্ত মানে হাত বোঝা সহজ।
দস্ত আর দোস্ত শব্দ শুনতে কাছাকাছি, তাই বন্ধু বনাম বন্ধু বিকল্পটি বিভ্রান্ত করার জন্য রাখা হয়েছে; দোস্ত মানে বন্ধু, দস্ত মানে হাত।
মনে রাখুন: দস্তানা হাতের মোজা, দস্তখত হাতের সই; তাই দস্ত-ব-দস্ত হাতে হাতে।
৮০৫. কোন প্রবচনটি 'হতভাগ্য' অর্থে ব্যবহৃত? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কউড়নচণ্ডী
- খছা-পোষা
- গআট কপালে
- ঘভুশণ্ডির কাক
সঠিক উত্তর: গ. আট কপালে
বাগ্ধারায় কপাল মানে ভাগ্য। আট কপালে মানে যার কপাল পোড়া, অর্থাৎ হতভাগ্য বা মন্দভাগ্য মানুষ।
উদাহরণ: আট কপালে লোকটার কোনো কাজেই সাফল্য আসে না। একই অর্থের আরও বাগ্ধারা: পোড়া কপাল, কপাল পোড়া।
উড়নচণ্ডী মানে অমিতব্যয়ী, যে বেহিসেবি খরচ করে। ছা-পোষা মানে অনেক সন্তান-পরিবার নিয়ে টানাটানিতে থাকা গরিব সংসারী মানুষ। ভুশণ্ডির কাক মানে দীর্ঘজীবী, অনেক পুরোনো ঘটনার সাক্ষী।
ছা-পোষা মানুষও কষ্টে থাকে, তাই এটিকে হতভাগ্য ভাবার ফাঁদ আছে; কিন্তু এর অর্থ পরিবারভারগ্রস্ত গরিব, ভাগ্যহীন নয়।
মনে রাখুন: কপাল শব্দযুক্ত বাগ্ধারা মানেই ভাগ্যের কথা: আট কপালে, পোড়া কপাল হতভাগ্য।
৮০৬. কোনটি বাংলা ব্যাকরণের শাখা নয়? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- করূপতত্ত্ব
- খধ্বনিতত্ত্ব
- গভাষাতত্ত্ব
- ঘবাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: গ. ভাষাতত্ত্ব
বাংলা ব্যাকরণ মূলত চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব। এগুলোকেই ব্যাকরণের শাখা বলা হয়।
ধ্বনিতত্ত্বে আসে ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান। রূপতত্ত্বে আসে শব্দ গঠন, প্রকৃতি-প্রত্যয়, সমাস, কারক-বিভক্তি। বাক্যতত্ত্বে বাক্যের গঠন, পদক্রম, বাচ্য। অর্থতত্ত্বে শব্দ ও বাক্যের অর্থ, সমার্থক ও বিপরীত শব্দ।
ভাষাতত্ত্ব বা ভাষাবিজ্ঞান হলো সব ভাষার গঠন, উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে আলাদা একটি বিদ্যা। এটা ব্যাকরণের চেয়ে অনেক বড় পরিসরের বিষয়, ব্যাকরণের একটি শাখা নয়।
নামের শেষে তত্ত্ব শব্দটি দেখে সবগুলোকে একই দলের মনে হয়; এটাই ফাঁদ। মনে রাখুন, ব্যাকরণের শাখা চারটি, ভাষাতত্ত্ব তাদের মধ্যে নেই।
মনে রাখুন: চার শাখা মনে রাখুন: ধ্বনি, রূপ, বাক্য, অর্থ। এর বাইরে কিছু থাকলেই সেটা উত্তর।
৮০৭. 'ক্ষীয়মাণ' এর বিপরীত শব্দ কি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবর্ধমান
- খবৃহৎ
- গবহিষ্ণু
- ঘবৃদ্ধিপ্রাপ্ত
সঠিক উত্তর: ক. বর্ধমান
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দের। ক্ষীয়মাণ মানে যা ক্রমশ ক্ষয় হচ্ছে বা কমে যাচ্ছে। এর উল্টো হলো যা ক্রমশ বাড়ছে, অর্থাৎ বর্ধমান।
দুটো শব্দই একই ছাঁচে তৈরি: ক্ষী ধাতুর সঙ্গে মান যোগে ক্ষীয়মাণ, আর বৃধ্ ধাতুর সঙ্গে মান যোগে বর্ধমান। মান প্রত্যয় বোঝায় কাজটি চলমান। তাই কমতে থাকার উল্টো বাড়তে থাকা।
বানানে খেয়াল রাখুন: ক্ষ-এর ভেতরে ষ আছে বলে ণত্ব বিধানে প্রমিত বানান ক্ষীয়মাণ, মূর্ধন্য ণ দিয়ে। বর্ধমানে র থাকলেও মাঝে ধ থাকায় দন্ত্য ন-ই থাকে।
ফাঁদ হলো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত আর বৃহৎ। বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মানে ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে, চলমান বাড়া নয়; আর বৃহৎ-এর বিপরীত ক্ষুদ্র।
মনে রাখুন: মান প্রত্যয়ের জোড়া মিলিয়ে নিন: ক্ষীয়মাণ ↔ বর্ধমান, উদীয়মান ↔ অস্তায়মান।
৮০৮. 'ঐহিক' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কপাঞ্জেরী
- খসম্মিলিত
- গরেনেসাঁ
- ঘপারত্রিক
সঠিক উত্তর: ঘ. পারত্রিক
ঐহিক শব্দটি এসেছে ইহ থেকে, মানে এই জগৎ। তাই ঐহিক মানে ইহলোক বা এই জীবনসম্পর্কিত।
এর বিপরীত হলো পরলোকসম্পর্কিত, আর সেই শব্দটি পারত্রিক। পরত্র মানে পরলোকে, তা থেকে পারত্রিক। একই অর্থে পারলৌকিক শব্দও চলে।
জোড়াটা মনে রাখুন: ইহলৌকিক বা ঐহিক এর বিপরীত পারলৌকিক বা পারত্রিক।
বাকি তিনটি অপশন একেবারে ভিন্ন ধরনের শব্দ: পাঞ্জেরী নাবিক বা পথপ্রদর্শক, রেনেসাঁ নবজাগরণ, আর সম্মিলিত মানে একত্রিত। এগুলো শুধু বিভ্রান্ত করার জন্য।
মনে রাখুন: ইহ থেকে ঐহিক, পরত্র থেকে পারত্রিক; একই ছাঁচ ইহলৌকিক ↔ পারলৌকিক।
৮০৯. কোনটি শুদ্ধ বানান? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কতুহায়ন
- খত্রিহায়ণ
- গত্রিহায়ণ
- ঘতৃহায়ণ
সঠিক উত্তর: খ. ত্রিহায়ণ
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানানের, আর শব্দটি ত্রিহায়ণ, মানে তিন বছর বয়সী। ত্রি মানে তিন, হায়ন মানে বছর।
এখানে ণত্ব বিধান কাজ করে। ঋ, র বা ষ-এর পরে ন এলে তা ণ হয়, যদি মাঝে শুধু স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, য়, হ বা ং থাকে। ত্রি-তে র আছে, আর মাঝে আছে হ ও য়, যারা বাধা দেয় না। তাই ন হয়ে যায় ণ।
একই নিয়মে লেখা হয় দ্বিহায়ণী, অগ্রহায়ণ, রামায়ণ। মাঝে ত-বর্গ বা চ-বর্গের বর্ণ এলে কিন্তু ন বদলায় না, যেমন দর্শন বা অর্চনা।
ত্রি শব্দে র-ফলা, ঋ-কার নয়; তাই তৃহায়ণ ভুল। ত্রিহায়ন লিখে দন্ত্য ন রাখলেও ভুল, এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: অগ্রহায়ণ আর রামায়ণের বানান মনে থাকলে ত্রিহায়ণও মনে থাকবে: র-এর পরে হ, য় পেরিয়ে ণ।
৮১০. লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কসাহেব
- খসঙ্গী
- গবেয়াই
- ঘকবিরাজ
সঠিক উত্তর: ঘ. কবিরাজ
প্রশ্নটা লিঙ্গান্তরের। কিছু শব্দ শুধু পুরুষ বোঝায়, এদের স্ত্রীবাচক রূপ নেই; এদের বলে নিত্য পুংলিঙ্গ। কবিরাজ এমনই একটি শব্দ।
কারণটা সামাজিক ও ঐতিহ্যগত: আগে এসব পেশা বা অবস্থা কেবল পুরুষের ছিল, তাই ভাষায় স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি হয়নি। নিত্য পুংলিঙ্গের আরও উদাহরণ: ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, বিপত্নীক, পুরোহিত।
উল্টো দিকে নিত্য স্ত্রীলিঙ্গও আছে, যাদের পুরুষবাচক রূপ নেই: সতীন, সৎমা, এয়ো, বিধবা, অর্ধাঙ্গিনী।
বাকি তিনটির স্ত্রীবাচক রূপ আছে: সাহেব থেকে বিবি, সঙ্গী থেকে সঙ্গিনী, বেয়াই থেকে বেয়াইন। সাহেব-বিবি জোড়াটি ভিন্ন শব্দে হয় বলে অনেকে ভুল করে ভাবেন এর লিঙ্গান্তর নেই।
মনে রাখুন: নিত্য পুংলিঙ্গ: কবিরাজ, ঢাকী, কৃতদার, বিপত্নীক, পুরোহিত। নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ: সতীন, সৎমা, এয়ো, বিধবা।
৮১১. 'ঝাঁকের কই' বাগ্ধারাটির অর্থ- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কঅসম্ভব চালাক
- খবর্ষাকালীন মাছ
- গএকই দলের লোক
- ঘএকতাই বল
সঠিক উত্তর: গ. একই দলের লোক
ঝাঁকের কই একটি বাগ্ধারা, মানে একই দলের লোক। কই মাছ ঝাঁক বেঁধে চলে; ঝাঁক থেকে একটি কইকে আলাদা করে চেনা যায় না।
সেই ছবি থেকে কথাটির অর্থ দাঁড়িয়েছে: যে মানুষ একই দলের, একই স্বভাবের বা একই গোত্রের। যেমন: ওরা সবাই ঝাঁকের কই, কাউকে আলাদা করে দোষ দিয়ে লাভ নেই।
বাগ্ধারার অর্থ আক্ষরিক নয়, প্রতীকী। তাই কই মাছ দেখে বর্ষাকালীন মাছ বেছে নিলে ভুল হবে; এটাই এখানকার ফাঁদ।
কাছাকাছি আরেকটি বাগ্ধারা হলো এক গোয়ালের গরু, অর্থও প্রায় একই: একই দলের বা স্বভাবের লোক।
মনে রাখুন: ঝাঁক, গোয়াল, দল: প্রাণীর দলবদ্ধ ছবি থাকলে অর্থ সাধারণত একই দলের লোক।
৮১২. রাজা রামমোহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কী? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কমাগধীয় ব্যাকরণ
- খমাতৃভাষা ব্যাকরণ
- গভাষা ও ব্যাকরণ
- ঘগৌড়ীয় ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর: ঘ. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
রাজা রামমোহন রায় বাংলায় যে ব্যাকরণ লিখেছিলেন তার নাম গৌড়ীয় ব্যাকরণ। এটি ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
এর আগে, ১৮২৬ সালে, তিনি ইংরেজিতে বাংলা ভাষার একটি ব্যাকরণ লিখেছিলেন, Bengali Grammar in the English Language। পরে সেটিরই বাংলা রূপ গৌড়ীয় ব্যাকরণ। গৌড় হলো প্রাচীন বাংলার একটি নাম, তাই গৌড়ীয় মানে বাংলা।
বাঙালির লেখা বাংলা ভাষায় প্রথম উল্লেখযোগ্য ব্যাকরণ হিসেবে এটি পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। আর বাংলা ভাষার প্রথম মুদ্রিত ব্যাকরণ লিখেছিলেন ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড, ১৭৭৮ সালে, ইংরেজিতে।
মাগধীয় ব্যাকরণ নামের সঙ্গে মিল খুঁজে বিভ্রান্ত হবেন না; গৌড় শব্দটি বাংলার সঙ্গে যুক্ত, তাই উত্তর গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
মনে রাখুন: গৌড় মানে বাংলা: রামমোহনের বাংলা ব্যাকরণ গৌড়ীয় ব্যাকরণ, ১৮৩৩।
৮১৩. মৌলিক শব্দ কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কশীতল
- খগোলাপ
- গমেয়ে
- ঘগৌরব
সঠিক উত্তর: খ. গোলাপ
মৌলিক শব্দ হলো সেই শব্দ, যাকে আর ভাঙা যায় না; অর্থাৎ যার প্রকৃতি ও প্রত্যয় আলাদা করা যায় না। যেমন: গোলাপ, নাক, লাল, তিন, হাত।
উল্টো দিকে সাধিত শব্দ তৈরি হয় প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যোগে, বা সমাস ও উপসর্গ দিয়ে। এদের ভেঙে মূল অংশ দেখানো যায়।
শীতল হলো শীত শব্দের সঙ্গে ল প্রত্যয়। গৌরব হলো গুরু শব্দের সঙ্গে ষ্ণ বা অ প্রত্যয়, গুরু থেকে গৌরব। মেয়ে একটি তদ্ভব শব্দ, সংস্কৃত থেকে রূপ বদলে এসেছে; পাঠ্যবইয়ের মৌলিক শব্দের উদাহরণে এটি থাকে না। গোলাপ শব্দটি কোনোভাবেই ভাঙা যায় না, তাই এটিই নিশ্চিত মৌলিক শব্দ।
পাঠ্যবইয়ে মৌলিক শব্দের উদাহরণ হিসেবে গোলাপ সরাসরি দেওয়া থাকে, তাই এটি পরীক্ষার পরিচিত উত্তর।
মনে রাখুন: মৌলিক শব্দের পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ মুখস্থ রাখুন: গোলাপ, নাক, লাল, তিন।
৮১৪. কোন শব্দটি ফারসি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কমুসাফির
- খতকদির
- গপেরেশান
- ঘমজলুম
সঠিক উত্তর: গ. পেরেশান
প্রশ্নটা শব্দের উৎস নিয়ে। বাংলায় আরবি ও ফারসি দুই ভাষারই প্রচুর শব্দ আছে, আর দুটো প্রায়ই গুলিয়ে যায়। এখানে পেরেশান ফারসি শব্দ, মানে হয়রান বা বিপর্যস্ত।
বাকি তিনটি আরবি: মুসাফির মানে পথিক, তকদির মানে ভাগ্য, মজলুম মানে অত্যাচারিত। ধর্ম, আইন ও আদালত সংক্রান্ত অনেক শব্দ আরবি থেকে এসেছে।
চেনার একটা কৌশল: আরবি শব্দে প্রায়ই মু বা ম দিয়ে শুরু হওয়া গঠন থাকে, যেমন মুসাফির, মজলুম, মুনশি, মোকদ্দমা। ফারসি শব্দের উদাহরণ: পেরেশান, দরবার, নামাজ, রোজা, দোকান।
নামাজ, রোজা ধর্মীয় শব্দ হলেও ফারসি; তাই শুধু ধর্মীয় অর্থ দেখে আরবি ধরে নেওয়া একটা বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: মু বা ম দিয়ে শুরু করা গঠন (মুসাফির, মজলুম, মুনশি) সাধারণত আরবি।
৮১৫. জ্যেষ্ঠের বর্তমানে কনিষ্ঠের বিয়েকে এক শব্দে বলে - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কপরিবেদন
- খপরিবন্ধন
- গপরিচারণ
- ঘপরিপয়ন
সঠিক উত্তর: ক. পরিবেদন
বড় ভাই অবিবাহিত থাকা অবস্থায় ছোট ভাইয়ের বিয়েকে এক কথায় বলে পরিবেদন। এটি সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দ।
প্রাচীন সমাজে এই রীতি নিন্দনীয় মনে করা হতো, তাই এর আলাদা নাম তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট আরেকটি শব্দ পরিবেত্তা, মানে যে ছোট ভাই বড় ভাইয়ের আগে বিয়ে করে।
বাকি তিনটি অপশন শুধু পরি উপসর্গ দেখে বানানো শব্দ, যাতে পরীক্ষার্থী বিভ্রান্ত হন। পরিচারণ মানে সেবা বা পরিচর্যা, এক কথায় প্রকাশের এই অর্থের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার উপায়: বেদন শব্দটি বিবাহ অর্থে আসে, যেমন পরিবেদন।
মনে রাখুন: পরিবেদন (রীতি) আর পরিবেত্তা (যে করে): জোড়া হিসেবে মনে রাখুন।
৮১৬. যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদের দ্বারা সমাহার বোঝায় তাকে বলে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কদ্বন্দ্ব সমাস
- খবহুব্রীহি সমাস
- গদ্বিগু সমাস
- ঘরুপক সমাস
সঠিক উত্তর: গ. দ্বিগু সমাস
সমাসের যে রূপে প্রথম পদটি সংখ্যা বোঝায় এবং পুরো সমস্তপদটি একটি সমষ্টি বা সমাহার বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
উদাহরণ: তিন মাথার সমাহার তেমাথা, শত অব্দের সমাহার শতাব্দী, সপ্ত অহের সমাহার সপ্তাহ, তিন ফলের সমাহার ত্রিফলা। প্রতিটিতে সংখ্যা আগে, আর মিলিয়ে একটি সমষ্টি।
দ্বিগু আসলে কর্মধারয় সমাসের একটি ভাগ হিসেবেও বিবেচিত, কারণ এতেও বিশেষণ ও বিশেষ্যের মিলন হয়; পার্থক্য হলো বিশেষণটি সংখ্যা।
ফাঁদ হলো সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। দোতলা বা চৌচালা জাতীয় শব্দে সংখ্যা আগে থাকলেও সমাসটি অন্য কিছুকে বোঝায়, যেমন দো তলা যার সেই বাড়ি; সমাহার বোঝায় না, তাই ওটা বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: দ্বিগুর উদাহরণ: তেমাথা, শতাব্দী, সপ্তাহ, ত্রিফলা, চৌরাস্তা, পঞ্চবটী।
৮১৭. আফতাব শব্দের সমার্থক কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কঅর্ণব
- খরাতুল
- গজলধি
- ঘঅর্ক
সঠিক উত্তর: ঘ. অর্ক
আফতাব একটি ফারসি শব্দ, মানে সূর্য। তাই এর সমার্থক শব্দ খুঁজতে হবে সূর্যের প্রতিশব্দের মধ্য থেকে।
সূর্যের প্রতিশব্দ: অর্ক, রবি, ভানু, দিবাকর, ভাস্কর, আদিত্য, তপন, মার্তণ্ড, প্রভাকর। অপশনে আছে অর্ক, তাই এটিই উত্তর।
বাকি অপশনগুলো ফাঁদ। অর্ণব আর জলধি দুটোই সাগরের প্রতিশব্দ। রাতুল মানে লাল বা রক্তবর্ণ।
অর্ক আর অর্ণব শব্দ দুটো দেখতে কাছাকাছি, এখানেই অনেকে ভুল করেন। অর্ক সূর্য, অর্ণব সাগর।
মনে রাখুন: সূর্যের প্রতিশব্দ: অর্ক, রবি, ভানু, তপন, দিবাকর, ভাস্কর, আদিত্য, আফতাব।
৮১৮. বৃষ্টি এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কী হবে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবৃষ্ +তি
- খবৃষ +টি
- গবৃশ + টি
- ঘবৃ +টি
সঠিক উত্তর: ক. বৃষ্ +তি
বৃষ্টি শব্দটি তৈরি হয়েছে বৃষ্ ধাতুর সঙ্গে তি যুক্ত হয়ে। তাই এর বিচ্ছেদ বৃষ্ যোগ তি।
এখানে কাজ করছে ষ-এর পরের ত-বর্গ বদলের নিয়ম: ষ্-এর পরে ত থাকলে তা ট হয়ে যায়, আর থ থাকলে ঠ। তাই বৃষ্ যোগ তি মিলে হয় বৃষ্টি।
একই নিয়মে: কৃষ্ যোগ তি হয় কৃষ্টি, ষষ্ যোগ থ হয় ষষ্ঠ, আকৃষ্ যোগ ত হয় আকৃষ্ট।
ফাঁদ হলো বৃষ যোগ টি। শব্দে ট দেখা যায় বলে অনেকে মনে করেন টি আলাদা অংশ; কিন্তু ট এসেছে ত বদলে, তাই মূল অংশ তি।
মনে রাখুন: ষ্ট দেখলেই ভাবুন ষ্ + ত; ষ্ঠ দেখলে ষ্ + থ।
৮১৯. দোলনা শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কদোল + অনা
- খদোল +না
- গবৃশ+টি
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনটিই নয়
দোলনা একটি কৃদন্ত শব্দ, মানে ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যোগে তৈরি। এর প্রকৃতি দুল্ ধাতু, আর প্রত্যয় অনা।
অনা প্রত্যয় যোগ হলে ধাতুর উ-কার গুণ হয়ে ও-কার হয়: দুল্ থেকে দোল্, তারপর অনা যোগে দোলনা। ধাতুর স্বর এভাবে বদলানোকে গুণ বলে, যেমন √শুন্ থেকে শোনা, √খুল্ থেকে খোলা।
অপশনে আছে দোল যোগ অনা আর দোল যোগ না। দুটোতেই প্রকৃতি হিসেবে দোল লেখা হয়েছে, যা ধাতু নয়, ধাতুর পরিবর্তিত রূপ। প্রকৃতি-প্রত্যয়ে মূল ধাতু দুল্ লিখতে হয়।
তাই প্রদত্ত কোনো গঠনই পুরোপুরি শুদ্ধ নয়, উত্তর কোনটিই নয়। গ অপশনটি আগের সন্ধির প্রশ্নের শব্দ, এখানে অপ্রাসঙ্গিক।
মনে রাখুন: প্রকৃতি-প্রত্যয়ে ক্রিয়ামূল সবসময় মূল রূপে লিখুন: দোল নয়, √দুল্।
৮২০. ক্ষুধিত পাষাণ কোন সমাস? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবহুব্রীহি
- খকর্মধারয়
- গতৎপুরুষ
- ঘদ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর: খ. কর্মধারয়
ক্ষুধিত পাষাণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্পের নাম। ব্যাকরণে এর ব্যাসবাক্য: ক্ষুধিত যে পাষাণ। এটি কর্মধারয় সমাস।
কর্মধারয়ে বিশেষণ আর বিশেষ্য মিলে একটি পদ হয়, আর পরপদের অর্থই প্রধান। এখানে ক্ষুধিত বিশেষণ, পাষাণ বিশেষ্য; পুরো শব্দটি পাষাণকেই বোঝায়।
চেনার কৌশল: ব্যাসবাক্যে যে বা যিনি দিয়ে ভাঙা যায়, যেমন নীল যে পদ্ম তা নীলপদ্ম, মহান যে আত্মা তা মহাত্মা।
বহুব্রীহি হতো যদি শব্দটি তৃতীয় কাউকে বোঝাত; কিন্তু এখানে পাষাণই প্রধান, তাই বহুব্রীহি নয়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে 'যে' বসালেই মানে দাঁড়ালে কর্মধারয়: নীল যে পদ্ম, ক্ষুধিত যে পাষাণ।