বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪২
৮২১. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কতৃতীয়া বিভক্তি
- খপ্রথমা বিভক্তি
- গদ্বিতীয়া বিভক্তি
- ঘশূন্য বিভক্তি
সঠিক উত্তর: ক. তৃতীয়া বিভক্তি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক কোন বিভক্তির চিহ্ন। প্রচলিত ব্যাকরণে এগুলো তৃতীয়া বিভক্তি হিসেবে ধরা হয়। এগুলো আসলে অনুসর্গ, কিন্তু বিভক্তির কাজ করে বলে তৃতীয়ার চিহ্ন বলা হয়।
তৃতীয়া বিভক্তি সাধারণত করণ কারকে বসে, অর্থাৎ কী দিয়ে কাজটি হলো তা বোঝাতে, যেমন কলম দিয়ে লেখা। কর্মবাচ্যে কর্তার সঙ্গেও বসে, যেমন পুলিশ কর্তৃক চোর ধৃত হলো।
অন্য বিভক্তির চিহ্ন আলাদা। প্রথমার চিহ্ন শূন্য, এ, য় বা তে; দ্বিতীয়ার চিহ্ন কে বা রে। শূন্য বিভক্তি মানে পদে কোনো দৃশ্যমান চিহ্নই নেই, যেমন বই পড়ি বাক্যের বই।
ফাঁদ হলো দ্বিতীয়া বিভক্তি, কারণ কে আর রে ও দ্বারা আর দিয়া, সবই পদের পরে বসে। মনে রাখুন, কাকে প্রশ্নের উত্তরে কে বা রে, কী দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক।
মনে রাখুন: তৃতীয়া: দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক। দ্বিতীয়া: কে, রে। প্রথমা: শূন্য, এ, য়, তে।
৮২২. ‘অভিরাম’ শব্দের অর্থ কী? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কবিরামহীন
- খবালিশ
- গচলন
- ঘসুন্দর
সঠিক উত্তর: ঘ. সুন্দর
অভিরাম মানে সুন্দর, মনোরম, মনকে আনন্দ দেয় এমন। যেমন অভিরাম দৃশ্য মানে মনোরম দৃশ্য। শব্দটি তৎসম; অভি উপসর্গের সঙ্গে রম ধাতু, যার অর্থ আনন্দ পাওয়া।
প্রশ্নের মূল ফাঁদ বিরামহীন বিকল্পটি। অবিরাম শব্দের অর্থ বিরামহীন বা অনবরত; ব আর ভ, এই এক বর্ণের তফাতে অবিরাম আর অভিরাম সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ।
বালিশের তৎসম প্রতিশব্দ উপাধান, আর চলন মানে চলার ধরন বা গতি; অভিরামের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখার উপায়: ভ দিয়ে অভিরাম, মন ভালো করা সুন্দর; ব দিয়ে অবিরাম, যার বিরাম নেই।
মনে রাখুন: অভিরাম মানে সুন্দর, অবিরাম মানে অনবরত। এক বর্ণের তফাতে অর্থ বদলায়।
৮২৩. বাংলা কৃৎ -প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ককারক
- খলিখিত
- গবেদনা
- ঘখেলনা
সঠিক উত্তর: ঘ. খেলনা
প্রশ্নটি খুঁজছে কোন শব্দে বাংলা ধাতুর সঙ্গে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। উত্তর খেলনা: বাংলা ধাতু খেল্, তার সঙ্গে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় না।
না প্রত্যয় দিয়ে আরও তৈরি হয় ঝরনা, কান্না, বাটনা; এগুলো সবই খাঁটি বাংলা শব্দ, আর মূল অংশ একটি কাজ বোঝায়।
বাকি তিনটিতেও কৃৎ প্রত্যয় আছে, কিন্তু সেগুলো সংস্কৃত। কারক এসেছে কৃ ধাতু ও ণক প্রত্যয় থেকে, লিখিত লিখ্ ধাতু ও ক্ত প্রত্যয় থেকে, আর বেদনা বিদ্ ধাতু ও অন প্রত্যয় থেকে।
ফাঁদ হলো সব বিকল্পেই কৃৎ প্রত্যয় থাকা। তাই শুধু কৃৎ কি না দেখলে হবে না, শব্দটি তৎসম নাকি খাঁটি বাংলা, সেটাও দেখতে হবে। তৎসম শব্দ মানেই সংস্কৃত প্রত্যয়।
মনে রাখুন: না প্রত্যয়ের বাংলা কৃৎ শব্দ: খেলনা, ঝরনা, কান্না, বাটনা।
৮২৪. ‘গির্জা’ কোন ভাষার শব্দ ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কফারসী
- খপর্তুগিজ
- গওলন্দাজ
- ঘপাঞ্জাবী
সঠিক উত্তর: খ. পর্তুগিজ
গির্জা শব্দটি এসেছে পর্তুগিজ ভাষার ইগ্রেজা থেকে, যার অর্থ খ্রিস্টানদের উপাসনালয়। ষোড়শ শতক থেকে পর্তুগিজ বণিক ও মিশনারিরা বাংলায় আসায় ধর্ম, খাবার আর ঘরের জিনিসের বহু শব্দ বাংলায় ঢুকে পড়ে।
এ রকম আরও পর্তুগিজ শব্দ: পাদ্রি, যিশু, আলমারি, আনারস, আলপিন, বালতি, চাবি, পেরেক। খ্রিস্টধর্ম সংক্রান্ত শব্দ দেখলে আগে পর্তুগিজের কথা ভাবুন।
অন্য ভাষার শব্দ চিনে রাখুন। ওলন্দাজ শব্দ মূলত তাসের খেলা থেকে: হরতন, রুইতন, ইস্কাপন, তুরুপ। ফারসি থেকে এসেছে খোদা, নামাজ, রোজা, দোকান; পাঞ্জাবি থেকে চাহিদা, শিখ।
ফাঁদ হলো ফারসি বিকল্পটি, কারণ উপাসনা সংক্রান্ত অনেক শব্দ, যেমন নামাজ, ফারসি থেকে এসেছে। কিন্তু খ্রিস্টানদের উপাসনালয় গির্জা এসেছে পর্তুগিজদের হাত ধরে।
মনে রাখুন: খ্রিস্টধর্ম ও ঘরোয়া জিনিসের শব্দ: পর্তুগিজ। তাসের নাম: ওলন্দাজ।
৮২৫. ‘Attested’ -এর বাংলা পরিভাষা কোনটি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসত্যায়িত
- খপ্রত্যয়িত
- গসত্যায়ন
- ঘসংলগ্ন/সংলাগ
সঠিক উত্তর: ক. সত্যায়িত
প্রশ্নটি Attested শব্দের বাংলা পরিভাষা চেয়েছে। উত্তর সত্যায়িত; কোনো কাগজের অনুলিপি মূল কপির সঙ্গে মিলিয়ে কর্মকর্তা যখন সই করে জানান এটি সত্য, তখন সেটি সত্যায়িত হয়।
লক্ষ করুন, Attested একটি বিশেষণধর্মী রূপ, তাই পরিভাষাও বিশেষণ, সত্যায়িত। বিশেষ্য Attestation শব্দের পরিভাষা সত্যায়ন।
কাছাকাছি আরেকটি জোড়া: Certified শব্দের পরিভাষা প্রত্যয়িত, আর Attached শব্দের পরিভাষা সংলগ্ন। চাকরির আবেদনে সত্যায়িত ও প্রত্যয়িত দুই শব্দই আসে, তাই গুলিয়ে যায়।
ফাঁদ হলো সত্যায়ন বিকল্পটি। অর্থ কাছাকাছি হলেও এটি বিশেষ্য; Attested শব্দের সঙ্গে মেলে বিশেষণ সত্যায়িত।
মনে রাখুন: Attested = সত্যায়িত, Attestation = সত্যায়ন, Certified = প্রত্যয়িত, Attached = সংলগ্ন।
৮২৬. কোনটি শুদ্ধ বানান ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপ্রজ্বল
- খপ্রোজ্জল
- গপ্রোজ্বল
- ঘপ্রোজ্জ্বল
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রোজ্জ্বল
প্রোজ্জ্বল শব্দটি বুঝতে এর সন্ধি ভাঙুন: প্র উপসর্গ আর উজ্জ্বল শব্দ। অ আর উ মিলে ও হয়, এটি গুণসন্ধি; তাই প্র আর উ মিলে প্রো।
উজ্জ্বল শব্দের যুক্তবর্ণটি জ্জ্ব, অর্থাৎ দুটি জ আর একটি ব-ফলা। সন্ধির পরেও এই অংশ বদলায় না, তাই পুরো শব্দ প্রোজ্জ্বল।
এখন বিকল্পগুলো মিলিয়ে দেখুন। প্রজ্বল শব্দে ও-কারও নেই, একটি জ-ও নেই; প্রোজ্জল শব্দে ব-ফলা বাদ; প্রোজ্বল শব্দে একটি জ বাদ।
ফাঁদ হলো প্রজ্বল, কারণ প্রজ্বলিত আর প্রজ্বলন শব্দ এভাবেই লেখা হয়। ওগুলো প্র উপসর্গ আর জ্বল্ ধাতু থেকে, উজ্জ্বল থেকে নয়; তাই সেখানে এক জ আর ও-কার নেই।
মনে রাখুন: অ + উ = ও: প্র + উজ্জ্বল = প্রোজ্জ্বল, সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়, পর + উপকার = পরোপকার।
৮২৭. ‘জোছনা’ কোন শ্রেণীর শব্দ ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কযৌগিক
- খতৎসম
- গদেশী
- ঘঅর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর: ঘ. অর্ধ-তৎসম
প্রশ্নটি জোছনা শব্দের উৎসগত শ্রেণি জানতে চেয়েছে। শব্দটি এসেছে সংস্কৃত জ্যোৎস্না থেকে, তবে উচ্চারণে কিছুটা বদলে। এমন সামান্য বদলে যাওয়া সংস্কৃত শব্দকে বলে অর্ধ-তৎসম।
অর্ধ-তৎসম আর তদ্ভবের তফাতটা মনে রাখুন। তদ্ভব শব্দ প্রাকৃতের ভেতর দিয়ে বহু বদলে আসে, যেমন হস্ত থেকে হাত; অর্ধ-তৎসম শব্দ সরাসরি সংস্কৃত থেকে নিয়ে মুখে মুখে একটু বদলে যায়, যেমন গৃহিণী থেকে গিন্নি, কৃষ্ণ থেকে কেষ্ট, বৈষ্ণব থেকে বোষ্টম।
তৎসম হতে হলে সংস্কৃত রূপ অবিকল থাকতে হয়, যেমন জ্যোৎস্না নিজে। দেশি শব্দ এসেছে এ দেশের আদি অধিবাসীদের ভাষা থেকে, যেমন কুলা, ঢেঁকি, ডাব।
যৌগিক বিকল্পটি আসলে অন্য ভাগের নাম। অর্থ অনুযায়ী শব্দের ভাগে যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ় আসে; উৎস অনুযায়ী ভাগের সঙ্গে এটি মেলে না।
মনে রাখুন: সংস্কৃত শব্দ মুখে মুখে একটু বদলালে অর্ধ-তৎসম: জোছনা, গিন্নি, কেষ্ট, বোষ্টম।
৮২৮. ‘জিজীবিষা’ শব্দটি দিয়ে বোঝায়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কজয়ের ইচ্ছা
- খহত্যার ইচ্ছা
- গবেঁচে থাকার ইচ্ছা
- ঘশোনার ইচ্ছা
সঠিক উত্তর: গ. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
জিজীবিষা মানে বেঁচে থাকার ইচ্ছা। শব্দটি এসেছে জীব ধাতু থেকে, যার অর্থ বেঁচে থাকা; সংস্কৃতে কোনো কাজের ইচ্ছা বোঝাতে ধাতুর প্রথম অংশ দ্বিত্ব হয় আর সন প্রত্যয় যোগ হয়ে এমন বিশেষ্য তৈরি হয়।
এই ধাঁচে আরও কয়েকটি শব্দ প্রায়ই আসে: জিগীষা মানে জয়ের ইচ্ছা, জিঘাংসা মানে হত্যার ইচ্ছা, শুশ্রূষা মূল অর্থে শোনার ইচ্ছা, পরে সেবা অর্থে প্রচলিত। আরও আছে পিপাসা মানে পান করার ইচ্ছা, বুভুক্ষা মানে খাওয়ার ইচ্ছা।
কৌশল হলো ধাতুটা চিনে নেওয়া। জিজীবিষায় জীব অর্থাৎ বাঁচা, জিগীষায় জি অর্থাৎ জয়, জিঘাংসায় হন্ অর্থাৎ হত্যা।
ফাঁদ হলো জয়ের ইচ্ছা, কারণ জিগীষা আর জিজীবিষা দেখতে প্রায় এক রকম। মাঝে জী আর বি থাকলে জীবন, গী থাকলে জয়।
মনে রাখুন: জিজীবিষা বাঁচা, জিগীষা জয়, জিঘাংসা হত্যা, পিপাসা পান, বুভুক্ষা খাওয়া, শুশ্রূষা শোনা।
৮২৯. ‘সর্বাঙ্গীণ’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি -প্রত্যয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসর্বঙ্গ + ঈন
- খসর্ব + অঙ্গীন
- গসর্ব + ঙ্গীন
- ঘসর্বাঙ্গ + ঈন
সঠিক উত্তর: ঘ. সর্বাঙ্গ + ঈন
প্রশ্নটি সর্বাঙ্গীণ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় জানতে চেয়েছে। আগে সর্ব আর অঙ্গ মিলে সর্বাঙ্গ, তারপর তার সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ঈন যোগ হয়ে সর্বাঙ্গীণ। তাই প্রকৃতি সর্বাঙ্গ, প্রত্যয় ঈন।
প্রত্যয়টি দন্ত্য ন দিয়ে ঈন, তবু শব্দে মূর্ধন্য ণ কেন? এখানে ণত্ব বিধান কাজ করছে। র-এর পরে মাঝখানে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ বা প-বর্গের বর্ণ থাকলেও পরের ন মূর্ধন্য ণ হয়। সর্বাঙ্গীণ শব্দে র-এর পরে ব, আ, ঙ, গ, ঈ আছে, এদের কোনোটিই বাধা দেয় না।
তুলনা করুন: প্রাচীন আর অর্বাচীন শব্দেও একই ঈন প্রত্যয় আর র আছে, কিন্তু মাঝে চ-বর্গের চ বাধা দেয়, তাই সেখানে দন্ত্য ন। কুলীন শব্দে র-ই নেই, তাই দন্ত্য ন।
বিকল্প যাচাই: সর্বঙ্গ কোনো শব্দ নয়, কারণ সর্ব আর অঙ্গের সন্ধিতে আ-কার আসে। অঙ্গীন বা ঙ্গীন কোনো প্রত্যয় নয়; শব্দের মাঝখান কেটে প্রত্যয় বানানো যায় না।
মনে রাখুন: সর্বাঙ্গ + ঈন = সর্বাঙ্গীণ; একই ঈন প্রত্যয়ে কুলীন, প্রাচীন, অর্বাচীন, যেখানে দন্ত্য ন থাকে।
৮৩০. অন্যের রচনা থেকে চুরি করাকে বলা হয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কবেতসবৃত্তি
- খপতঙ্গবৃত্তি
- গজলৌকাবৃত্তি
- ঘকুম্ভিলকবৃত্তি
সঠিক উত্তর: ঘ. কুম্ভিলকবৃত্তি
অন্যের লেখা বা ভাব চুরি করে নিজের নামে চালানোকে বলে কুম্ভিলকবৃত্তি। সংস্কৃতে কুম্ভিলক মানে চোর, বিশেষ করে যে অন্যের রচনা চুরি করে; ইংরেজিতে একে plagiarism বলে।
বেতসবৃত্তি মানে বেতগাছের মতো স্বভাব; ঝড় এলে বেত নুয়ে পড়ে, ঝড় গেলে আবার সোজা হয়। তাই শব্দটি বোঝায় সুবিধামতো নত হওয়া বা তোষামোদের স্বভাব।
পতঙ্গবৃত্তি আর জলৌকাবৃত্তি শব্দে পতঙ্গ মানে পোকা বা ফড়িং আর জলৌকা মানে জোঁক; লেখা চুরির সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফাঁদ হলো বেতসবৃত্তি, কারণ এটিও পরীক্ষায় বহুল জিজ্ঞাসিত বৃত্তি শব্দ। বৃত্তি শব্দের আগের অংশটাই আসল অর্থ বলে দেয়, তাই সেটা চিনে নিন।
মনে রাখুন: কুম্ভিলক মানে চোর, তাই লেখা চুরি কুম্ভিলকবৃত্তি। বেতসবৃত্তি মানে তোষামোদ।
৮৩১. ‘ঊর্ণনাভ’ শব্দটি দিয়ে বোঝায়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কটিকটিকি
- খতেলেপোকা
- গউইপোকা
- ঘমাকড়সা
সঠিক উত্তর: ঘ. মাকড়সা
ঊর্ণনাভ মানে মাকড়সা। শব্দটি দুই অংশে ভাঙে: ঊর্ণা মানে পশম বা সুতো, আর নাভ এসেছে নাভি থেকে। যার নাভি থেকে সুতো বের হয়, সে ঊর্ণনাভ।
মাকড়সা পেটের দিক থেকে সুতো বের করে জাল বোনে, তাই নামটা একেবারে বর্ণনামূলক। অংশগুলোর বাইরের একটি প্রাণীকে বোঝায় বলে এটি বহুব্রীহি ধাঁচের নাম। মাকড়সার আরেক তৎসম নাম লূতা।
বাকি প্রাণীগুলোর সঙ্গে সুতো বোনার যোগ নেই। টিকটিকির তৎসম নাম গৃহগোধিকা, তেলেপোকার আরেক নাম আরশোলা, আর উইপোকা মাটি দিয়ে ঢিবি বানায়, সুতো দিয়ে নয়।
ফাঁদ হলো উইপোকা, কারণ উইও বাসা বানায়। কিন্তু শব্দে ঊর্ণা অর্থাৎ সুতো আছে, আর সুতোর জাল বোনে শুধু মাকড়সা।
মনে রাখুন: ঊর্ণা অর্থাৎ সুতো নাভিতে যার: ঊর্ণনাভ, মানে মাকড়সা। আরেক নাম লূতা।
৮৩২. বাংলা আধুনিক উপন্যাস-এর প্রবর্তক ছিলেন- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- করবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খপ্যারীচাঁদ মিত্র
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘবঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ঘ. বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়
প্রশ্নটি বাংলা আধুনিক বা সার্থক উপন্যাসের প্রবর্তক জানতে চেয়েছে। উত্তর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত তাঁর দুর্গেশনন্দিনী বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
সার্থক বলা হয় কারণ এতেই প্রথম সুগঠিত কাহিনি, পূর্ণাঙ্গ চরিত্র আর পরিকল্পিত পরিণতি পাওয়া যায়। এর আগের রচনাগুলো ছিল বেশি নকশাধর্মী বা উপদেশমূলক।
ফাঁদ হলো প্যারীচাঁদ মিত্র। ১৮৫৮ সালে বই আকারে প্রকাশিত তাঁর আলালের ঘরের দুলালকে অনেকে বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস বলেন; কিন্তু প্রথম আর প্রথম সার্থক এক কথা নয়।
বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক হলেও উপন্যাস লেখেননি। রবীন্দ্রনাথ উপন্যাস লিখেছেন বঙ্কিমের পরে, আর তিনি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের জন্য পরিচিত, প্রবর্তক হিসেবে নন।
মনে রাখুন: প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত: আলালের ঘরের দুলাল। প্রথম সার্থক উপন্যাস: দুর্গেশনন্দিনী, ১৮৬৫।
৮৩৩. কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো – বাক্যদ্বয় কোন রচনা থেকে উদ্ধৃত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কনৌকাডুবি
- খচোখের বালি
- গযোগাযোগ
- ঘশেষের কবিতা
সঠিক উত্তর: গ. যোগাযোগ
উদ্ধৃত বাক্য দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাসের সূচনা অংশের। এখানে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, মূল কাহিনি শুরুর আগেই তার প্রস্তুতি ও পটভূমি তৈরি হয়ে থাকে।
সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর প্রস্তুতি শুরু হয় সকালেই, সলতে পাকানোর মধ্য দিয়ে। তেমনি কুমুদিনী আর মধুসূদনের বিয়ের গল্পের আগে লেখক দুই পরিবারের, চাটুজ্জে আর ঘোষালদের, পুরোনো ইতিহাস শোনান।
যোগাযোগ বিচিত্রা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে বের হয়; শুরুতে এর নাম ছিল তিনপুরুষ, বই আকারে প্রকাশ ১৯২৯ সালে। একই বছর বই হয়ে বের হয় শেষের কবিতা, তাই দুটো প্রায়ই গুলিয়ে যায়।
নৌকাডুবি আর চোখের বালিও রবীন্দ্রনাথের, কিন্তু উদ্ধৃতিটি সেগুলোর নয়। চোখের বালি বিধবা বিনোদিনীর গল্প, নৌকাডুবি নৌকাডুবির পর রমেশ আর কমলার ভুল পরিচয়ের গল্প।
মনে রাখুন: যোগাযোগ: কুমুদিনী, মধুসূদন, বিপ্রদাস; বিচিত্রায় ধারাবাহিক, আগের নাম তিনপুরুষ।
৮৩৪. মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কএকটি কালো মেয়ের কথা
- খতেইশ নম্বর তৈলচিত্র
- গআয়নামতির পালা
- ঘইছামতী
সঠিক উত্তর: ক. একটি কালো মেয়ের কথা
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস খুঁজতে বলেছে। উত্তর একটি কালো মেয়ের কথা, যা পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখেন।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের তালিকায় আরও যেগুলো বেশি আসে: আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত, সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড, হুমায়ূন আহমেদের জোছনা ও জননীর গল্প।
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র আলাউদ্দিন আল আজাদের উপন্যাস, এক শিল্পীর জীবন ও দাম্পত্য নিয়ে; ইছামতী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ইছামতী নদীতীরের নীলকর আমলের জনজীবন নিয়ে। দুটোই মুক্তিযুদ্ধের অনেক আগে লেখা।
আয়নামতির পালা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের পরিচিত তালিকায় নেই। সাধারণ কৌশল হলো প্রকাশকাল মেলানো: একাত্তরের আগে লেখা উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক হতে পারে না।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস চেনার সহজ উপায়: প্রকাশকাল ১৯৭১ বা তার পরে কি না দেখুন।
৮৩৫. ‘কালো বরফ’ উপন্যাস বিষয়: (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কতেভাগা আন্দোলন
- খভাষা আন্দোলন
- গমুক্তিযুদ্ধ
- ঘদেশভাগ
সঠিক উত্তর: ঘ. দেশভাগ
কালো বরফ মাহমুদুল হকের উপন্যাস, এর বিষয় দেশভাগ। কাহিনির কেন্দ্রে এক মানুষ, যিনি দেশভাগের পর শৈশবের ঘরবাড়ি ছেড়ে পূর্ববঙ্গে চলে আসেন, আর বড় হয়েও সেই হারানো শৈশবের স্মৃতি বয়ে বেড়ান।
উপন্যাসটি বর্তমান আর অতীতের মধ্যে পালাবদল করে এগোয়: একদিকে বর্তমানের ক্লান্ত জীবন, অন্যদিকে ফেলে আসা শৈশব। দেশভাগে শিকড় হারানোর বেদনাই এর মূল সুর।
মাহমুদুল হকের আরেকটি পরিচিত উপন্যাস জীবন আমার বোন, যার পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ; তাই মুক্তিযুদ্ধ বিকল্পটি এখানে বড় ফাঁদ। ভাষা আন্দোলনের পরিচিত উপন্যাস জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন।
তেভাগা আন্দোলন ছিল বর্গাচাষিদের ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ দাবির আন্দোলন; কালো বরফের কাহিনির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: মাহমুদুল হক: কালো বরফ দেশভাগ, জীবন আমার বোন মুক্তিযুদ্ধ।
৮৩৬. ‘ঢাকা প্রকাশ’ সাপ্তাহিক পত্রিকাটির সম্পাদক কে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ককৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
- খরামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
- গশামসুর রাহমান
- ঘসিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর: ক. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ঢাকা প্রকাশ সাপ্তাহিক পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার বাবুবাজার থেকে প্রকাশিত হয়। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সদ্ভাবশতক কাব্যের কবি; এতে ফারসি কবি হাফিজ, সাদি প্রমুখের নীতিকবিতার প্রভাব আছে। তাই সাহিত্য আর সাংবাদিকতা, দুই ধরনের প্রশ্নেই তাঁর নাম আসে।
অন্য সম্পাদকদের পত্রিকা আলাদা। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় প্রবাসী ও ইংরেজি মডার্ন রিভিউর সম্পাদক; সিকান্দার আবু জাফর ১৯৫৭ সালে সমকাল পত্রিকা বের করেন; শামসুর রাহমান কবি হিসেবে বেশি পরিচিত, তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক ছিলেন।
কৌশল হলো সাল মিলিয়ে নেওয়া। ১৮৬১ সালের পত্রিকার প্রথম সম্পাদক বিশ শতকের শামসুর রাহমান বা সিকান্দার আবু জাফর হতে পারেন না; সময়ের হিসাবেই দুটি বিকল্প বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: ঢাকা প্রকাশ ১৮৬১, প্রথম সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, সদ্ভাবশতকের কবি।
৮৩৭. ‘জীবনস্মৃতি’ কার রচনা? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘরোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জীবনস্মৃতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, ১৯১২ সালে প্রকাশিত। এতে তিনি শৈশব থেকে যৌবনের শুরু পর্যন্ত নিজের বেড়ে ওঠা, পরিবার, শিক্ষা আর কবি হয়ে ওঠার স্মৃতি লিখেছেন।
রবীন্দ্রনাথের আরেকটি স্মৃতিকথা ছেলেবেলা, ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, যা ছোটদের জন্য সহজ ভাষায় লেখা। আত্মপরিচয় নামেও তাঁর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
অন্যদের সঙ্গে মিলিয়ে রাখুন: বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী বিদ্যাসাগর চরিত; বিভূতিভূষণ বিখ্যাত পথের পাঁচালী ও আরণ্যকের জন্য; রোকেয়ার পরিচিত রচনা সুলতানার স্বপ্ন, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ।
ফাঁদ হলো বিদ্যাসাগর, কারণ তাঁরও আত্মজীবনী আছে, আর স্মৃতি শব্দটি যে কারও আত্মকথার মতো শোনায়। নামটা মুখস্থ রাখুন: জীবনস্মৃতি মানেই রবীন্দ্রনাথ।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকথা: জীবনস্মৃতি ১৯১২, ছেলেবেলা ১৯৪০।
৮৩৮. দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপ্যারীচাঁদ মিত্র
- খমাইকেল মধুসূদন দত্ত
- গপ্রমথ চৌধুরী
- ঘদ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর: খ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটক ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়; এর বিষয় নীলকর সাহেবদের হাতে বাংলার চাষিদের ওপর অত্যাচার। নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৬১ সালে।
অনুবাদটি অনুবাদকের নাম ছাড়া, শুধু এক দেশীয় ব্যক্তির অনুবাদ বলে প্রকাশিত হয়েছিল; তবু অনুবাদক হিসেবে মধুসূদনের নামই প্রচলিত। প্রকাশের দায় নেন পাদ্রি জেমস লং, এবং এ জন্য মামলায় তিনি কারাদণ্ড ও জরিমানার শাস্তি পান।
নীলদর্পণ নীলবিদ্রোহের সময় জনমত গড়তে বড় ভূমিকা রাখে, তাই বাংলা নাটকের ইতিহাসে এটি বিশেষ জায়গা পেয়েছে।
ফাঁদ হলো প্যারীচাঁদ মিত্র, কারণ দীনবন্ধু আর প্যারীচাঁদ দুজনেরই পদবি মিত্র। প্রমথ চৌধুরী চলিত রীতির সবুজপত্রের সম্পাদক, আর দ্বিজেন্দ্রলাল রায় নিজেই নাট্যকার ও গীতিকার; নীলদর্পণের অনুবাদের সঙ্গে তাঁদের যোগ নেই।
মনে রাখুন: নীলদর্পণ: দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০, ইংরেজি অনুবাদ মধুসূদন, প্রকাশক জেমস লং।
৮৩৯. সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি -চরণ দুটির রচয়িতা কে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কচণ্ডীচরণ মুনশী
- খকাজী নজরুল ইসলাম
- গরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘমদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর: ঘ. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, এই চরণ দুটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের আমার পণ কবিতার। কবিতাটি তাঁর শিশুপাঠ্য বই শিশুশিক্ষার অংশ।
মদনমোহন তর্কালঙ্কার উনিশ শতকের পণ্ডিত, বিদ্যাসাগরের সহপাঠী ও বন্ধু। ছোটদের জন্য সহজ ছন্দে নীতিকথা লেখায় তিনি অগ্রণী; তাঁর আরেকটি বিখ্যাত পঙক্তি পাখী সব করে রব, রাতি পোহাইল।
ভাষাটা খেয়াল করুন: উঠিয়া সাধু ক্রিয়ারূপ, যা উনিশ শতকের শিশুপাঠ্যের বৈশিষ্ট্য। চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের গদ্যলেখক, তোতা ইতিহাসের রচয়িতা; তিনি পদ্যের জন্য পরিচিত নন।
ফাঁদ হলো রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল, কারণ তাঁরাও ছোটদের জন্য অনেক কবিতা লিখেছেন। কিন্তু এই নীতিকবিতাটি তাঁদের আগের, শিশুশিক্ষা যুগের।
মনে রাখুন: মদনমোহন: শিশুশিক্ষা, আমার পণ, পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল।
৮৪০. চর্যাপদে কোন ধর্মমতের কথা আছে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কখ্রিস্টধর্ম
- খপ্যাগনিজম
- গজৈনধর্ম
- ঘবৌদ্ধধর্ম
সঠিক উত্তর: ঘ. বৌদ্ধধর্ম
চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের লেখা সাধনসংগীত, তাই এতে বৌদ্ধধর্মের তত্ত্বই আছে। চর্যা মানে আচরণ; কোন আচরণে সাধনায় সিদ্ধি আসে, পদগুলো সেই কথা বলে।
সাধকেরা গোপন সাধনতত্ত্ব সরাসরি না বলে নৌকা, নদী, হরিণ, তাঁত বোনার মতো দৈনন্দিন ছবির রূপকে লিখেছেন। এ কারণেই এর ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়।
১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন, আর ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে তা প্রকাশিত হয়।
জৈনধর্মের সঙ্গে চর্যাপদের যোগ নেই, যদিও প্রাচীন ভারতে দুটোই বৈদিক ধারার বাইরের ধর্ম বলে গুলিয়ে যায়। খ্রিস্টধর্ম বা প্যাগনিজমের সঙ্গে তো কোনো সম্পর্কই নেই।
মনে রাখুন: চর্যাপদ: বৌদ্ধ সহজিয়া, সন্ধ্যাভাষা, ১৯০৭ আবিষ্কার, ১৯১৬ প্রকাশ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।