বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪৮
৯৪১. “শ্রদ্ধা” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কশ্রৎ+ধা+অ+আ
- খশ্রৎ+ধা+আ
- গশ্র+ধা+আ
- ঘশ্রু+ধা+আ
সঠিক উত্তর: ক. শ্রৎ+ধা+অ+আ
প্রশ্নটি শ্রদ্ধা শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় জানতে চেয়েছে। শ্রদ্ধা গঠিত হয় শ্রৎ, ধা ধাতু, কৃৎ প্রত্যয় অ, আর স্ত্রীবাচক আ প্রত্যয় মিলে।
শ্রৎ মানে সত্য, আর ধা ধাতুর অর্থ ধারণ করা। সত্যকে ধারণ করা বা সত্যে আস্থা রাখা থেকেই শ্রদ্ধা। শ্রৎ এর ৎ আর ধা এর ধ মিলে সন্ধিতে দ্ধ হয়।
প্রথমে ধা ধাতুর সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত শব্দ তৈরি হয়, তারপর স্ত্রীলিঙ্গের আ যোগ হয়ে শ্রদ্ধা। তাই দুটি প্রত্যয়ই লাগে, অ আর আ।
ফাঁদ হলো শ্রৎ যোগ ধা যোগ আ। এতে অ প্রত্যয় বাদ পড়েছে বলে এটি অসম্পূর্ণ; প্রচলিত ব্যাকরণে পূর্ণ রূপটিই সঠিক।
মনে রাখুন: শ্রদ্ধার প্রকৃতি-প্রত্যয়ে চারটি অংশ গুনে নিন: শ্রৎ, ধা, অ, আ; তিনটি অংশের বিকল্প অসম্পূর্ণ।
৯৪২. “পুষ্পসৌরভ” কোন সমাসের উদাহরণ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কতৎপুরুষ
- খকর্মধারয়
- গঅব্যয়ীভাব
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. তৎপুরুষ
প্রশ্নটি একটি সমাসের নাম জানতে চেয়েছে। পুষ্পসৌরভ শব্দের ব্যাসবাক্য পুষ্পের সৌরভ। এখানে পূর্বপদের এর বিভক্তি লোপ পেয়েছে, আর পরপদ সৌরভের অর্থই প্রধান।
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে পরপদের অর্থ প্রধান হলে তৎপুরুষ সমাস। এর বিভক্তি লোপ পেলে বিশেষভাবে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ। একই রকম: রাজপুত্র মানে রাজার পুত্র, দেশসেবা মানে দেশের সেবা।
কর্মধারয়ে দুটি পদ একই জিনিসকে বোঝায়, যেমন নীলপদ্ম মানে নীল যে পদ্ম। এখানে পুষ্প আর সৌরভ এক জিনিস নয়, পুষ্প সৌরভের মালিক।
ফাঁদ হলো বহুব্রীহি। কিন্তু পুষ্পসৌরভ বলতে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তি বা বস্তু বোঝায় না, সৌরভকেই বোঝায়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে এর বসিয়ে অর্থ ঠিক থাকলে ষষ্ঠী তৎপুরুষ: পুষ্পের সৌরভ, রাজার পুত্র।
৯৪৩. “সূর্য” শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কঅর্ণব
- খঅর্ক
- গপ্রসূন
- ঘপল্লব
সঠিক উত্তর: খ. অর্ক
প্রশ্নটি সূর্যের একটি সমার্থক শব্দ খুঁজতে বলেছে। উত্তর অর্ক; সংস্কৃত থেকে আসা এই শব্দের অর্থ সূর্য।
সূর্যের আরও প্রচলিত প্রতিশব্দ হলো রবি, ভানু, দিবাকর, ভাস্কর, আদিত্য, তপন, মিহির ও মার্তণ্ড। পরীক্ষায় এদের যেকোনোটি ঘুরেফিরে আসে, তাই একসঙ্গে মনে রাখা ভালো।
বাকি তিনটি শব্দও তৎসম এবং শুনতে একই রকম গম্ভীর, তাই বিভ্রান্তি হয়। অর্ণব মানে সমুদ্র, প্রসূন মানে ফুল, আর পল্লব মানে গাছের নতুন পাতা।
ফাঁদ হলো অর্ণব বিকল্পটি, কারণ অর্ক আর অর্ণব দুটোই অর দিয়ে শুরু। শুরুর অক্ষর মিললেও অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা।
মনে রাখুন: সূর্যের প্রতিশব্দ: রবি, ভানু, অর্ক, দিবাকর, ভাস্কর, তপন, মিহির, আদিত্য।
৯৪৪. “হ্ম” যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কহ্+ম
- খক্+ম
- গষ্+ম
- ঘম্+হ
সঠিক উত্তর: ক. হ্+ম
প্রশ্নটি যুক্তবর্ণ হ্ম কোন দুটি বর্ণ মিলে তৈরি, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর হ্ আর ম; অর্থাৎ হসন্তযুক্ত হ-এর সঙ্গে ম যুক্ত হয়ে হ্ম হয়েছে।
যুক্তবর্ণে যে বর্ণ আগে উচ্চারিত হয় সেটি হসন্তযুক্ত থাকে, আর পরেরটি পূর্ণ বর্ণ। ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম, ব্রাহ্মী শব্দে আগে হ, তারপর ম উচ্চারিত হয়, তাই গঠন হ্ যোগ ম।
হ্ম দেখতে অনেকটা ক্ষ-এর মতো, তাই গুলিয়ে যায়। ক্ষ আসলে ক্ আর ষ মিলে, আর হ্ন হলো হ্ আর ন, যেমন চিহ্ন ও অপরাহ্ন শব্দে।
ফাঁদ হলো ম্ যোগ হ বিকল্পটি, যেখানে বর্ণ দুটি ঠিক থাকলেও ক্রম উল্টো। আর ষ্ যোগ ম দিয়ে তৈরি হয় ষ্ম, যেমন গ্রীষ্ম ও উষ্ম শব্দে।
মনে রাখুন: হ্ম = হ্ + ম (ব্রাহ্মণ), হ্ন = হ্ + ন (চিহ্ন), ক্ষ = ক্ + ষ (পক্ষ), ষ্ম = ষ্ + ম (গ্রীষ্ম)।
৯৪৫. “সদ্যোজাত” শব্দটি কিভাবে গঠিত হয়েছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কসৎ + জাত
- খসদ্যো + জাত
- গসদ্যঃ + জাত
- ঘসদ্য + জাত
সঠিক উত্তর: গ. সদ্যঃ + জাত
প্রশ্নটি সদ্যোজাত শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ জানতে চেয়েছে। সঠিক বিচ্ছেদ সদ্যঃ আর জাত; এটি বিসর্গ সন্ধি।
নিয়মটি হলো: অ-কারের পরে বিসর্গ, আর তার পরে বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ বা য র ল ব হ এর মতো ঘোষ ধ্বনি থাকলে অ আর বিসর্গ মিলে ও-কার হয়। সদ্যঃ শব্দে য-ফলার সঙ্গে অ আছে, পরের জ বর্গের তৃতীয় বর্ণ, তাই সদ্যঃ হয়ে যায় সদ্যো।
একই নিয়মে মনঃ আর রম মিলে মনোরম, তিরঃ আর ধান মিলে তিরোধান, যশঃ আর দা মিলে যশোদা।
ফাঁদ হলো সদ্যো যোগ জাত বিকল্পটি। এখানে সন্ধির ফলটাকেই বিচ্ছেদ বলে দেখানো হয়েছে; সদ্যো আলাদা কোনো শব্দ নয়, বিসর্গ থেকে ও তৈরি হয় সন্ধির সময়েই।
মনে রাখুন: মনঃ + রম = মনোরম, তিরঃ + ধান = তিরোধান, যশঃ + দা = যশোদা: সব একই বিসর্গ সন্ধি।
৯৪৬. “ব্যক্ত” শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কত্যক্ত
- খগ্রাহ্য
- গদৃঢ়
- ঘগূঢ়
সঠিক উত্তর: ঘ. গূঢ়
প্রশ্নটি ব্যক্ত শব্দের বিপরীত শব্দ চেয়েছে। ব্যক্ত মানে প্রকাশিত বা স্পষ্ট করে বলা, তাই এর বিপরীত এমন কিছু যা লুকানো ও অপ্রকাশিত। সেই অর্থ বহন করে গূঢ়।
গূঢ় মানে গোপন, রহস্যময়, সহজে বোঝা যায় না এমন। গূঢ় রহস্য, গূঢ় অর্থ কথাগুলোতে এই ভাবটাই পাই। ব্যক্ত শব্দের আরেকটি বিপরীত অব্যক্ত।
বাকি শব্দগুলোর নিজেদের আলাদা বিপরীত আছে: গ্রাহ্য শব্দের বিপরীত অগ্রাহ্য, দৃঢ় শব্দের বিপরীত শিথিল, আর ত্যক্ত মানে পরিত্যক্ত বা বিরক্ত।
ফাঁদ হলো ত্যক্ত বিকল্পটি, কারণ ব্যক্ত আর ত্যক্ত শুনতে প্রায় এক রকম। ধ্বনির মিল দেখে বিপরীত শব্দ বাছাই করা যায় না, অর্থ মেলাতে হয়।
মনে রাখুন: ব্যক্ত বনাম গূঢ় বা অব্যক্ত; প্রকাশ্য বনাম গোপন।
৯৪৭. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কচামার
- খধারালো
- গমোড়ক
- ঘপোষ্টাই
সঠিক উত্তর: গ. মোড়ক
প্রশ্নটি খুঁজছে কোন শব্দে বাংলা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। মনে রাখুন, ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে প্রত্যয় বসলে কৃৎ, আর নামশব্দের সঙ্গে বসলে তদ্ধিত।
মোড়ক শব্দে ক্রিয়ামূল মুড়্, মানে মোড়ানো, তার সঙ্গে অক প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। একই অক প্রত্যয়ে ঝলক আর চমক শব্দও গঠিত। তাই মোড়ক বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
বাকিগুলো নামশব্দ থেকে তৈরি। চাম শব্দের সঙ্গে আর মিলে চামার, ধার শব্দের সঙ্গে আলো মিলে ধারালো, আর পুষ্ট শব্দের সঙ্গে আই মিলে পোষ্টাই; এগুলো সবই তদ্ধিত প্রত্যয়।
কৌশল হলো শব্দটি ভেঙে দেখা, মূল অংশটা কোনো কাজ বোঝায় নাকি বস্তু বা গুণ বোঝায়। মোড়া একটি কাজ, কিন্তু চাম, ধার, পুষ্ট কাজ নয়।
মনে রাখুন: অক প্রত্যয়ের কৃৎ শব্দ: মোড়ক, ঝলক, চমক। আলো প্রত্যয়ের তদ্ধিত শব্দ: ধারালো, জমকালো।
৯৪৮. কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কআকাঙ্ক্ষা
- খযোগ্যতা
- গআসক্তি
- ঘআসত্তি
সঠিক উত্তর: গ. আসক্তি
সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ: আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা আর আসত্তি। প্রশ্নের আসক্তি শব্দটি দেখতে আসত্তির মতো হলেও ব্যাকরণের কোনো পরিভাষা নয়; তাই এটিই উত্তর।
আকাঙ্ক্ষা মানে বাক্যের পুরো ভাব বোঝার জন্য এক পদের পর আরেক পদ শোনার আগ্রহ। যোগ্যতা মানে পদগুলোর অর্থ মিলে একটি বাস্তবসম্মত ভাব তৈরি হওয়া; সূর্য পশ্চিমে ওঠে বাক্যে এই যোগ্যতা নেই।
আসত্তি মানে পদগুলো ঠিক ক্রমে পাশাপাশি সাজানো থাকা, যাতে অর্থ বুঝতে বাধা না হয়। আর আসক্তি মানে কোনো কিছুর প্রতি অনুরাগ বা নেশা, যেমন টাকার প্রতি আসক্তি।
ফাঁদ হলো দুটি কাছাকাছি বানান। মনে রাখুন, ত্ত দিয়ে আসত্তি বাক্যের গুণ, আর ক্ত দিয়ে আসক্তি মনের টান।
মনে রাখুন: সার্থক বাক্যের তিন গুণ: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা।
৯৪৯. গঠনরীতিতে “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” কাব্য মূলত - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপদাবলি
- খধামালি
- গগ্রেমগীতি
- ঘনাট্যগীতি
সঠিক উত্তর: ঘ. নাট্যগীতি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের গঠন কেমন। কাব্যটি কৃষ্ণ, রাধা আর দূতী বড়াই, এই তিন চরিত্রের উক্তি-প্রত্যুক্তিতে এগিয়েছে, আর গাওয়ার জন্য রাগ ও তাল উল্লেখ করে লেখা। সংলাপ আর গান মিলে এর গঠন তাই নাট্যগীতি।
কাব্যটি তেরোটি খণ্ডে বিভক্ত, যেমন জন্মখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, রাধাবিরহ। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।
এর পুথি পাওয়া যায় ১৩১৬ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৯০৯ সালে, বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে; আবিষ্কারক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে এটি প্রকাশিত হয় ১৩২৩ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৯১৬ সালে।
ফাঁদ হলো পদাবলি বিকল্পটি। চণ্ডীদাস নামটি বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে জড়িত বলে অনেকে পদাবলি বেছে নেন, কিন্তু পদাবলি আলাদা আলাদা গীতিকবিতা, আর শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটানা কাহিনির সংলাপধর্মী কাব্য। বিকল্পে ছাপা গ্রেমগীতি শব্দটি আসলে প্রেমগীতি; এটি প্রশ্নপত্রেরই ছাপার ভুল।
মনে রাখুন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: বড়ু চণ্ডীদাস, তিন চরিত্র, তেরো খণ্ড, ১৯০৯ সালে আবিষ্কার, ১৯১৬ সালে প্রকাশ।
৯৫০. “সন্ধ্যাভাষা” কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কচর্যাপদ
- খপদাবলি
- গমঙ্গলকাব্য
- ঘরোমান্সকাব্য
সঠিক উত্তর: ক. চর্যাপদ
সন্ধ্যাভাষা কথাটি যুক্ত বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের সঙ্গে। চর্যাপদের ভাষা আর অর্থ দুটোই আলো-আঁধারির মতো, কিছুটা বোঝা যায়, কিছুটা যায় না; তাই একে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়।
এই নাম দেন চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকেরা তাঁদের গোপন সাধনতত্ত্ব রূপক আর প্রতীকের আড়ালে লিখেছিলেন, যাতে বাইরের মানুষ সহজে না বোঝে; তাই ভাষাটি দ্ব্যর্থক।
অন্য সাহিত্যধারার ভাষাগত পরিচয় আলাদা। বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে যুক্ত ব্রজবুলি, মঙ্গলকাব্য লেখা মধ্যযুগের সাধারণ বাংলায়, আর রোমান্সকাব্য মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের প্রণয়োপাখ্যান, যার বড় অংশ আরাকান রাজসভায় রচিত।
ফাঁদ হলো পদাবলি বিকল্পটি, কারণ পদাবলিরও আলাদা নামের একটি ভাষা আছে। মনে রাখুন, পদাবলির ভাষা ব্রজবুলি আর চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।
মনে রাখুন: চর্যাপদ: সন্ধ্যাভাষা; পদাবলি: ব্রজবুলি। নাম দুটি জোড়ায় মনে রাখুন।
৯৫১. দৌলত উজির বাহরাম খান কোন কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কফরিদপুর
- খসিলেট
- গকৃষ্ণনগর
- ঘচট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর: ঘ. চট্টগ্রাম
প্রশ্নটি মধ্যযুগের কবি দৌলত উজির বাহরাম খানের অঞ্চল জানতে চেয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন; তাঁর বিখ্যাত কাব্য লায়লী-মজনু।
দৌলত উজির তাঁর প্রকৃত নামের অংশ নয়, একটি উপাধি, যা তিনি চট্টগ্রামের তৎকালীন শাসকের কাছ থেকে পান। ফারসি কাহিনি অবলম্বনে লেখা লায়লী-মজনু মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি প্রধান নিদর্শন।
মধ্যযুগে চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চল মুসলমান কবিদের প্রণয়কাব্যের বড় কেন্দ্র ছিল। দৌলত কাজীও চট্টগ্রামের কবি, তাঁর কাব্য সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
কৃষ্ণনগর বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ সেটিও মধ্যযুগের সাহিত্যের একটি কেন্দ্র; তবে সেখানকার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, বাহরাম খান নন।
মনে রাখুন: লায়লী-মজনু মানেই দৌলত উজির বাহরাম খান, আর তিনি চট্টগ্রামের।
৯৫২. “চন্দ্রাবতী” কী? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কনাটক
- খকাব্য
- গপদাবলী
- ঘপালাগান
সঠিক উত্তর: খ. কাব্য
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে চন্দ্রাবতী কোন ধরনের রচনা। প্রচলিত ও প্রত্যাশিত উত্তর কাব্য: আরাকান রাজসভার অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুর চন্দ্রাবতী নামে একটি প্রণয়কাব্য লেখেন।
কাব্যটি রূপকথাধর্মী একটি প্রেমকাহিনি, যার একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। মাগন ঠাকুর ছিলেন আরাকানের প্রধান অমাত্য ও কবি আলাওলের পৃষ্ঠপোষক; তাঁর নির্দেশে আলাওল পদ্মাবতী আর সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল লেখেন।
সতর্ক থাকুন, চন্দ্রাবতী নামটি আরও দুই জায়গায় আসে। ষোড়শ শতকের নারী কবি চন্দ্রাবতী, যিনি চন্দ্রাবতীর রামায়ণ লেখেন; আর ময়মনসিংহ গীতিকায় এই কবির জীবন নিয়ে চন্দ্রাবতী নামে একটি পালাও আছে।
এ কারণে পালাগান বিকল্পটিও একেবারে অযৌক্তিক নয়, তবে বিসিএসের প্রচলিত উত্তর মাগন ঠাকুরের কাব্য ধরেই দেওয়া হয়। নাটক বা পদাবলির সঙ্গে নামটির কোনো পরিচিত যোগ নেই।
মনে রাখুন: আরাকানের অমাত্য কবি কোরেশী মাগন ঠাকুর, কাব্য চন্দ্রাবতী।
৯৫৩. “বিদ্যাপতি” কোন রাজসভার কবি ছিলেন? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- করোসাঙ্গ
- খকৃষ্ণনগর
- গবিক্রমপুর
- ঘমিথিলা
সঠিক উত্তর: ঘ. মিথিলা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বিদ্যাপতি কোন রাজসভার কবি ছিলেন। উত্তর মিথিলা; তিনি মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি ছিলেন।
বিদ্যাপতি বাঙালি ছিলেন না, তাঁর পদ রচিত মৈথিলি ভাষায়। তবু বাংলার বৈষ্ণব পদাবলিতে তাঁর প্রভাব এত বড় যে তাঁর পদের অনুকরণেই বাংলায় ব্রজবুলি ভাষায় পদ লেখা শুরু হয়। তাঁকে মৈথিল কোকিল ও অভিনব জয়দেব বলা হয়।
অন্য রাজসভাগুলো অন্য কবিদের সঙ্গে যুক্ত। রোসাঙ্গ মানে আরাকান রাজসভা, যেখানে দৌলত কাজী আর আলাওল লিখেছেন; কৃষ্ণনগরে ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ভারতচন্দ্র।
ফাঁদ হলো রোসাঙ্গ, কারণ মধ্যযুগের রাজসভা বললেই অনেকের আগে আরাকানের কথা মনে আসে। বৈষ্ণব পদ আর মৈথিলি ভাষা দেখলে মিথিলা মনে রাখুন।
মনে রাখুন: বিদ্যাপতি: মিথিলা, রাজা শিবসিংহ, মৈথিল কোকিল, অভিনব জয়দেব।
৯৫৪. কোনটি বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখা? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কআত্মচরিত
- খআত্মকথা
- গআত্মজিজ্ঞাসা
- ঘআমার কথা
সঠিক উত্তর: ক. আত্মচরিত
প্রশ্নটি বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখার নাম চেয়েছে। প্রত্যাশিত উত্তর আত্মচরিত। তবে জেনে রাখুন, বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীর প্রকৃত নাম বিদ্যাসাগর চরিত, স্বরচিত; এটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
বিদ্যাসাগর চরিত বইয়ে তিনি নিজের জন্ম, বাল্যকাল আর পড়াশোনার কথা লিখেছেন। বিকল্পগুলোর মধ্যে আত্মচরিত নামটিই এর সবচেয়ে কাছাকাছি, কারণ আত্মচরিত মানেই নিজের চরিত বা জীবনকথা।
পরীক্ষার আরেকটি তথ্য: আত্মচরিত নামে আলাদা একটি বিখ্যাত আত্মজীবনী আছে, সেটি ব্রাহ্মসমাজের নেতা শিবনাথ শাস্ত্রীর। তাই অন্য প্রশ্নে আত্মচরিতের লেখক জানতে চাইলে শিবনাথ শাস্ত্রী লিখুন।
বাকি তিনটি নাম বিদ্যাসাগরের রচনার সঙ্গে মেলে না; শুধু আত্ম শব্দটি দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। উত্তর বাছাইয়ের সূত্র হলো চরিত শব্দটি, যা বিদ্যাসাগরের বইয়ের নামেই আছে।
মনে রাখুন: বিদ্যাসাগর চরিত: বিদ্যাসাগর; আত্মচরিত: শিবনাথ শাস্ত্রী; জীবনস্মৃতি: রবীন্দ্রনাথ।
৯৫৫. অম্বর এর প্রতিশব্দ কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপৃথিবী
- খজল
- গসমুদ্র
- ঘআকাশ
সঠিক উত্তর: ঘ. আকাশ
প্রশ্নটি অম্বর শব্দের প্রতিশব্দ চেয়েছে। অম্বর মানে আকাশ; এর অন্য প্রতিশব্দ গগন, নভ, ব্যোম, অন্তরীক্ষ।
অম্বর শব্দের আরেকটি অর্থ বস্ত্র বা কাপড়। পীতাম্বর মানে হলুদ বস্ত্র পরা, আর দিগম্বর মানে দিকই যার বস্ত্র, অর্থাৎ বস্ত্রহীন। পরীক্ষায় দুই অর্থই আসে, তবে এই বিকল্পগুলোর মধ্যে মেলে শুধু আকাশ।
ফাঁদ হলো জল আর সমুদ্র। অম্বু মানে জল, আর অম্বুধি মানে সমুদ্র; অম্বর আর অম্বু শুনতে কাছাকাছি বলে ভুল হয়।
পৃথিবীর প্রতিশব্দ ধরা, বসুধা, মেদিনী; অম্বরের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই, বরং অর্থে প্রায় উল্টো দিকের।
মনে রাখুন: আকাশ: অম্বর, গগন, নভ, ব্যোম, অন্তরীক্ষ। জল: অম্বু, বারি, সলিল।
৯৫৬. ‘বন্ধন’ শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কব + ন্ + ধ + ন্
- খবন্ + ধন্
- গব + ন্ধ + ন
- ঘবান্ + ধন্
সঠিক উত্তর: খ. বন্ + ধন্
প্রশ্নটি অক্ষর বা সিলেবল বোঝার। অক্ষর হলো শ্বাসের এক ঝোঁকে একসঙ্গে উচ্চারিত ধ্বনির গুচ্ছ। তাই অক্ষর ভাগ করতে হয় লেখা দেখে নয়, উচ্চারণ শুনে।
বন্ধন উচ্চারণ করলে দুই ঝোঁকে ভাঙে: প্রথমে বন্, তারপর ধন্। দুটি অক্ষরই বদ্ধ, কারণ দুটির শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি ন্ আছে। তাই সঠিক অক্ষর বিন্যাস বন্ আর ধন্।
অক্ষর বিন্যাস আর বর্ণ বিশ্লেষণ আলাদা। ব, ন্, ধ, ন্ এভাবে ভাঙা হলো বর্ণ বা ধ্বনি আলাদা করা; ব, ন্ধ, ন হলো লেখার যুক্তবর্ণ অনুযায়ী ভাগ। কোনোটিই উচ্চারণের ঝোঁক দেখায় না।
একই নিয়মে কলম হয় ক আর লম্, আর বাংলা হয় বাং আর লা। মুখে উচ্চারণ করে কয়টি ঝোঁক পড়ছে গুনলেই অক্ষর পাওয়া যায়।
মনে রাখুন: অক্ষর গুনতে শব্দটি জোরে বলুন, প্রতিটি ঝোঁক একটি অক্ষর: কলম হয় ক আর লম্, বাংলা হয় বাং আর লা।
৯৫৭. বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৭টি
- খ৯টি
- গ১০টি
- ঘ৮টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ৮টি
প্রশ্নটি বর্ণের মাত্রা নিয়ে। বাংলা বর্ণমালার পঞ্চাশটি বর্ণকে মাত্রা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা আর মাত্রাহীন।
অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি: স্বরবর্ণের ঋ, আর ব্যঞ্জনবর্ণের খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ। এদের মাথার রেখা পুরো বর্ণ জুড়ে নয়, অর্ধেক জুড়ে থাকে।
মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি: এ, ঐ, ও, ঔ, ঙ, ঞ, ৎ, অনুস্বার, বিসর্গ আর চন্দ্রবিন্দু। বাকি ৩২টি পূর্ণমাত্রার। যোগফল মিলিয়ে নিন: বত্রিশ, আট আর দশ মিলে পঞ্চাশ।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ১০টি বিকল্পটি, কারণ মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০। আর ঋ স্বরবর্ণ বলে ভুলে গেলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৭।
মনে রাখুন: ৩২ যোগ ৮ যোগ ১০ সমান ৫০; যেকোনো দুটি মনে থাকলে তৃতীয়টি বের হয়ে আসে।
৯৫৮. ‘বিজ্ঞান’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কজ্ + ঞ
- খঞ + গ
- গঞ + জ
- ঘগ + ঞ
সঠিক উত্তর: ক. জ্ + ঞ
প্রশ্নটি যুক্তবর্ণ জ্ঞ-এর গঠন জানতে চেয়েছে। জ্ঞ তৈরি হয় জ আর ঞ মিলে, মানে হসন্ত যুক্ত জ্ আর তার পরে ঞ। তাই বিজ্ঞান শব্দটি ভাঙলে বি, জ্ঞ, আন।
সমস্যা তৈরি করে উচ্চারণ। বাংলায় জ্ঞ উচ্চারণ হয় অনেকটা গ্যঁ-এর মতো, যেমন বিগ্যাঁন। এই উচ্চারণ শুনে অনেকে ভাবেন এতে গ আছে, কিন্তু লেখার গঠনে গ নেই।
আরেকটি কাছাকাছি যুক্তবর্ণ ঞ্জ, যা ঞ আর জ মিলে তৈরি, যেমন গঞ্জ, অঞ্জলি। ক্রম উল্টে গেলে বর্ণটাই বদলে যায়।
জ্ঞ আছে এমন আরও শব্দ: জ্ঞান, প্রজ্ঞা, যজ্ঞ, আজ্ঞা। সবখানেই গঠন জ আর ঞ।
মনে রাখুন: জ্ঞান শব্দটি মনে রাখুন: জ্ঞ মানেই জ আর ঞ। উল্টো ক্রম ঞ আর জ দিলে হয় ঞ্জ, যেমন গঞ্জ।
৯৫৯. নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসভাসদ
- খশুভেচ্ছা
- গফলবান
- ঘতন্বী
সঠিক উত্তর: খ. শুভেচ্ছা
প্রশ্নটি প্রত্যয় আর সন্ধির পার্থক্য যাচাই করছে। প্রত্যয় হলো শব্দ বা ধাতুর শেষে যুক্ত হওয়া এমন অংশ, যার নিজের আলাদা অর্থ নেই। আর সন্ধিতে দুটি পূর্ণ শব্দ পাশাপাশি এসে ধ্বনি মিলে যায়।
শুভেচ্ছা হলো শুভ আর ইচ্ছা, দুটিই অর্থপূর্ণ শব্দ। অ আর ই মিলে এ হয়েছে, এটি স্বরসন্ধি। তাই শুভেচ্ছা প্রত্যয়যোগে নয়, সন্ধিতে গঠিত।
বাকি তিনটি প্রত্যয়ে গঠিত। ফলবান হলো ফল আর বান প্রত্যয়। তন্বী হলো তনু আর স্ত্রীপ্রত্যয় ঈ। সভাসদ হলো সভা শব্দের সঙ্গে সদ্ ধাতু ও কৃৎ প্রত্যয়, যার অর্থ সভায় যিনি বসেন।
চেনার কৌশল: যুক্ত হওয়া অংশটি কি নিজে একটি শব্দ? ইচ্ছা নিজে শব্দ, তাই সন্ধি। বান বা ঈ নিজে শব্দ নয়, তাই প্রত্যয়।
মনে রাখুন: অ বা আ আর ই বা ঈ মিলে এ: শুভেচ্ছা, নরেশ, মহেশ, গণেশ; এগুলো সন্ধি, প্রত্যয় নয়।
৯৬০. বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কজনশ্রুতি
- খঅনমনীয়
- গখাসমহল
- ঘতপোবন
সঠিক উত্তর: ক. জনশ্রুতি
প্রশ্নটি বহুব্রীহি সমাস চেনার। বহুব্রীহিতে সমস্ত পদের কোনো অংশের অর্থ প্রধান হয় না, প্রধান হয় তৃতীয় কোনো বস্তু বা ব্যক্তি; ব্যাসবাক্যে সাধারণত যে বা যার শব্দটি আসে।
উত্তরসূচিতে বহুব্রীহি ধরা হয়েছে জনশ্রুতি। এই ব্যাখ্যায় জনশ্রুতি মানে জনের মুখে শোনা যায় যে কথা; প্রধান অর্থ জন বা শ্রুতি নয়, বরং লোকমুখে চলা একটি খবর বা রটনা।
বাকিগুলোর প্রচলিত বিশ্লেষণ: খাসমহল মানে খাস যে মহল, কর্মধারয়। তপোবন মানে তপের নিমিত্ত বন, চতুর্থী তৎপুরুষ। অনমনীয় মানে নয় নমনীয়, নঞ তৎপুরুষ।
সতর্ক থাকুন: এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে গাইডগুলোতে মতভেদ আছে। অনেক ব্যাকরণে জনশ্রুতিকে তৎপুরুষ ধরা হয়, আর কোনো কোনো গাইড অনমনীয়কে উত্তর দেয়। পরীক্ষায় এই প্রশ্ন এলে উত্তরসূচির জনশ্রুতিই মনে রাখুন।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে যে, যার, যাতে এলে বহুব্রীহির সম্ভাবনা: নীলকণ্ঠ মানে নীল কণ্ঠ যার, দশানন মানে দশ আনন যার।