বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪৬
৯০১. নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কনিষ্পন্দ
- খনিষ্পন্ন
- গনিষ্ফল
- ঘনিস্পৃহ
সঠিক উত্তর: ক. নিষ্পন্দ
প্রশ্নটা অশুদ্ধ বানান খুঁজতে বলছে। নিষ্পন্দ অশুদ্ধ; শুদ্ধ বানান নিস্পন্দ, মানে স্পন্দনহীন বা নিশ্চল।
সব কটি শব্দ নিঃ উপসর্গের বিসর্গ সন্ধি থেকে এসেছে। নিয়ম: ই বা উ-এর পরের বিসর্গের পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ ষ হয়। তাই নিঃ আর পন্ন মিলে নিষ্পন্ন, নিঃ আর ফল মিলে নিষ্ফল।
কিন্তু বিসর্গের পরে স্ত, স্থ, স্প জাতীয় যুক্ত ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ লোপ পায়। নিঃ আর স্পন্দ মিলে নিস্পন্দ, নিঃ আর স্পৃহ মিলে নিস্পৃহ, নিঃ আর স্তব্ধ মিলে নিস্তব্ধ।
নিষ্পন্ন দেখে অনেকে নিস্পৃহ-কে ভুল ভাবেন। পরের বর্ণটি একক প না যুক্ত স্প, তা দেখলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
মনে রাখুন: পরে একা প বা ফ হলে ষ্প, ষ্ফ; পরে স্প হলে কেবল স্প: নিস্পন্দ, নিস্পৃহ, নিস্তব্ধ।
৯০২. কোনটি তৎপুরুষ সমাস? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কমধুমাখা
- খভালোমন্দ
- গযথাসাধ্য
- ঘসত্যনিষ্ঠ
সঠিক উত্তর: ক. মধুমাখা
প্রশ্নটা তৎপুরুষ সমাস চিনতে বলছে। তৎপুরুষে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
মধুমাখা মানে মধু দিয়ে মাখা। পূর্বপদ মধুর সঙ্গে দিয়ে অনুসর্গ, মানে তৃতীয়া বিভক্তি, লোপ পেয়েছে; অর্থ প্রধান মাখা। তাই এটি তৃতীয়া তৎপুরুষ। একই ধরনের: মনগড়া মানে মন দিয়ে গড়া, শ্রমলব্ধ মানে শ্রম দিয়ে লব্ধ।
ভালোমন্দ মানে ভালো ও মন্দ, দুই পদের অর্থই প্রধান, তাই দ্বন্দ্ব সমাস। যথাসাধ্য মানে সাধ্যকে অতিক্রম না করে, পূর্বপদ অব্যয় যথা প্রধান, তাই অব্যয়ীভাব।
সত্যনিষ্ঠ মানে সত্যে নিষ্ঠা যার, অর্থাৎ তৃতীয় এক ব্যক্তিকে বোঝায়, তাই বহুব্রীহি। সত্যে শব্দে সপ্তমী বিভক্তি দেখে অনেকে সপ্তমী তৎপুরুষ ভাবেন; কিন্তু অর্থে প্রধান হলো যে ব্যক্তির নিষ্ঠা আছে, সে।
মনে রাখুন: দিয়ে, দ্বারা লোপ পেলে তৃতীয়া তৎপুরুষ: মধুমাখা, মনগড়া, শ্রমলব্ধ।
৯০৩. 'উদ্ধার' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কউদ্ + হার
- খউৎ + ধার
- গউত + হার
- ঘউৎ + হার
সঠিক উত্তর: ঘ. উৎ + হার
প্রশ্নটা ব্যঞ্জন সন্ধির একটি নিয়ম যাচাই করছে। উদ্ধার শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ উৎ আর হার।
নিয়ম: ত্ বা দ্-এর পরে হ থাকলে ত্ বা দ্ বদলে দ হয়, আর হ বদলে ধ হয়। দুটো মিলে দ্ধ। তাই উৎ আর হার মিলে উদ্ধার।
একই নিয়মে উৎ আর হত মিলে উদ্ধত, পদ্ আর হতি মিলে পদ্ধতি, তৎ আর হিত মিলে তদ্ধিত। সব জায়গায় শেষে দ্ধ দেখা যায়।
শব্দে দ্ধ দেখে অনেকে উৎ আর ধার ভাবেন। উৎ আর ধৃত মিলে উদ্ধৃত হয় ঠিকই, কিন্তু উদ্ধার শব্দের মূলে আছে হৃ ধাতু থেকে হার, মানে হরণ বা তুলে আনা; ধার নয়। তাই সঠিক বিচ্ছেদ উৎ আর হার।
মনে রাখুন: দ্ধ দেখলে ত্/দ্ + হ ভাবুন: উদ্ধার, পদ্ধতি, উদ্ধত।
৯০৪. 'লিপিমালা' কে রচনা করেন? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- ককাশীরাম দাস
- খদ্বিজরাম দেব
- গরামরাম বসু
- ঘমুত্তরাম বসু
সঠিক উত্তর: গ. রামরাম বসু
প্রশ্নটা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের যুগের গদ্যসাহিত্য থেকে এসেছে। লিপিমালা রচনা করেন রামরাম বসু, প্রকাশিত হয় ১৮০২ সালে।
রামরাম বসু ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের পণ্ডিত ছিলেন এবং উইলিয়াম কেরির সহযোগী। তাঁর প্রথম বই রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র, ১৮০১ সালে প্রকাশিত, যাকে বাঙালির লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ বলা হয়। লিপিমালা হলো চিঠির আকারে লেখা গদ্যগ্রন্থ, যেখানে পত্ররচনার নমুনা দেখানো হয়েছে।
একই যুগের আরেক পরিচিত নাম মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, যাঁর বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ আর প্রবোধচন্দ্রিকা প্রায়ই প্রশ্নে আসে।
ফাঁদ হলো কাশীরাম দাস। তিনি মধ্যযুগের কবি, বাংলা মহাভারতের অনুবাদক; আধুনিক গদ্যের সাথে তাঁর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: রামরাম বসুর দুই বই: প্রতাপাদিত্য ১৮০১, লিপিমালা ১৮০২।
৯০৫. 'ক্ষ্ম' এই যুক্ত বর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কহ+ম
- খক+ষ+ম
- গক+ষ
- ঘখ+ম
সঠিক উত্তর: খ. ক+ষ+ম
প্রশ্নটা যুক্তবর্ণ ভেঙে দেখতে বলছে। ক্ষ্ম আসলে তিনটি বর্ণের সমষ্টি: ক, ষ আর ম।
আগে জানি, ক্ষ নিজেই একটা যুক্তবর্ণ: ক্ আর ষ্ মিলে ক্ষ। এর সাথে ম ফলা যুক্ত হলে হয় ক্ষ্ম। তাই ক্ষ্ম মানে ক্ যোগ ষ্ যোগ ম। যেমন লক্ষ্মী, সূক্ষ্ম, যক্ষ্মা।
ফাঁদ হলো হ যোগ ম। এটা দিয়ে হয় হ্ম, যা দেখতে কিছুটা ক্ষ্ম-এর মতো; যেমন ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম। দুটো চেহারার মিল থেকে অনেকে ভুল করেন।
আরেকটা ফাঁদ শুধু ক যোগ ষ; এতে ম ফলা বাদ পড়ে যায়, ফলে হয় শুধু ক্ষ।
মনে রাখুন: ক্ষ্ম আছে লক্ষ্মী, সূক্ষ্ম, যক্ষ্মায়; হ্ম আছে ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মায়।
৯০৬. কোনটি রূঢ়ি শব্দ? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কজলধি
- খমধুর
- গকর্তব্য
- ঘপ্রবীণ
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রবীণ
অর্থের দিক থেকে শব্দ তিন রকম: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। যৌগিক শব্দে প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ মিলেই শব্দের অর্থ হয়। রূঢ়ি শব্দে প্রকৃতি-প্রত্যয়ের অর্থ ছেড়ে শব্দটি সম্পূর্ণ নতুন অর্থ নেয়।
প্রবীণ শব্দটা গঠিত প্র উপসর্গ আর বীণা থেকে; গঠন অনুযায়ী অর্থ হওয়ার কথা বীণা বাজাতে দক্ষ। কিন্তু বাংলায় প্রবীণ মানে বয়স্ক বা অভিজ্ঞ ব্যক্তি। মূল অর্থ বদলে গেছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ। একই রকম আরও উদাহরণ হস্তী, গবেষণা, বাঁশি।
মধুর আর কর্তব্য যৌগিক শব্দ: মধু যোগ র মানে মধুর মতো মিষ্টি, আর কৃ ধাতু যোগ তব্য মানে যা করা উচিত; গঠনের অর্থই শব্দের অর্থ।
ফাঁদ হলো জলধি। জল ধারণ করে যে, এই অর্থে পুকুর বা হ্রদও হতে পারত, কিন্তু শব্দটি শুধু সমুদ্র বোঝায়। গঠনের অর্থ আছে, তবে একটি নির্দিষ্ট অর্থে সীমিত; তাই এটি যোগরূঢ়, রূঢ়ি নয়।
মনে রাখুন: গঠনের অর্থ = প্রচলিত অর্থ হলে যৌগিক; অর্থ পুরো বদলালে রূঢ়ি; অর্থ সংকুচিত হলে যোগরূঢ়।
৯০৭. 'জাগরিত ' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কজাগৃ + ত
- খজাদ + রিত
- গজাগৃ + ইত
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. জাগৃ + ইত
প্রশ্নটা কৃৎ প্রত্যয় যাচাই করছে। জাগরিত শব্দের অর্থ জেগে ওঠা বা জাগ্রত। শব্দটা সংস্কৃত জাগৃ ধাতু থেকে এসেছে, আর তাতে যুক্ত হয়েছে ক্ত প্রত্যয়।
ক্ত প্রত্যয় অতীত বা সমাপ্তি বোঝায়, যেমন পঠ্ যোগ ক্ত মিলে পঠিত। অনেক ধাতুতে ক্ত যোগের সময় মাঝে একটা ই আসে, একে ইট্ আগম বলে; তাই বাংলা বইয়ে প্রত্যয়টা ইত হিসেবে লেখা হয়। জাগৃ ধাতুর ঋ গুণ হয়ে অর হয়, তারপর ইত যুক্ত হয়ে হয় জাগরিত।
তাই প্রকৃতি জাগৃ আর প্রত্যয় ইত, অর্থাৎ জাগৃ যোগ ইত। একই ছাঁচের আরও শব্দ: পঠিত, লিখিত, চলিত।
জাগৃ যোগ ত দেখলে মনে হতে পারে ঠিক, কিন্তু এতে মাঝের ই আসে না, ফলে জাগরিত রূপটি তৈরি হয় না। কোনোটিই নয় বিকল্পটিও ভুল, কারণ সঠিক বিশ্লেষণটি তালিকায় আছে।
মনে রাখুন: -ইত দিয়ে শেষ হওয়া তৎসম বিশেষণ প্রায়ই ধাতু + ক্ত (ইত): পঠিত, লিখিত, জাগরিত।
৯০৮. 'দৈনিক' শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কদৈ +এক
- খদৈ + নিক
- গদিন + এক
- ঘদৈঃ + নিক
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা দৈনিক শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ চেয়েছে, কিন্তু দৈনিক আসলে সন্ধিতে তৈরি শব্দই নয়। এটি তৈরি হয়েছে তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে: দিন শব্দের সাথে ইক প্রত্যয়, সংস্কৃত ব্যাকরণে যাকে ষ্ণিক বলা হয়।
এই প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বরের বৃদ্ধি হয়: ই বা ঈ হয়ে যায় ঐ, অ হয়ে যায় আ, উ হয়ে যায় ঔ। তাই দিন যোগ ইক মিলে দি-র ই বদলে দৈ, আর ন-এর সাথে ইক বসে হয় দৈনিক, মানে প্রতিদিনের।
একই ছাঁচের আরও শব্দ: ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক, বেদ থেকে বৈদিক, মুখ থেকে মৌখিক, সমাজ থেকে সামাজিক। এদের কোনোটিই সন্ধি নয়।
বিকল্পের দিন যোগ এক বিচ্ছেদটা ভুল, কারণ এক বলে এখানে কোনো অংশ নেই এবং দিন আর এক সন্ধি করলে দৈনিক হয় না। তাই কোনো বিকল্পই শুদ্ধ নয়; পরীক্ষক সম্ভবত দিন-এর সাথে প্রত্যয়ের ধারণাটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন।
মনে রাখুন: শেষে -ইক আর শুরুর স্বর বদলে ঐ/আ/ঔ হলে শব্দটি সন্ধি নয়, তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত: বৈদিক, মৌখিক, দৈনিক।
৯০৯. 'ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কধ্বনিতত্ত্বে
- খরূপতত্ত্বে
- গবাক্যতত্ত্বে
- ঘঅর্থতত্ত্বে
সঠিক উত্তর: খ. রূপতত্ত্বে
বাংলা ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য অংশ চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব। প্রশ্নটা জানতে চাইছে ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ কোন অংশে পড়ে।
রূপতত্ত্বে শব্দের গঠন ও রূপ বদলের আলোচনা হয়: শব্দ, পদ, প্রকৃতি-প্রত্যয়, বিভক্তি, বচন, লিঙ্গ, পুরুষ, কারক, ক্রিয়ার কাল ও ধাতু। ক্রিয়ার কাল আর পুরুষ অনুযায়ী ক্রিয়াপদের রূপ বদলায়, যেমন করি, করেছি, করবে; তাই এটি রূপতত্ত্বের বিষয়।
ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয় ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান। বাক্যতত্ত্বে আসে বাক্যের গঠন, উক্তি, বাচ্য, যতিচিহ্ন। অর্থতত্ত্বে শব্দ ও বাক্যের অর্থ, বাগ্ধারা।
বাক্যতত্ত্ব ভেবে অনেকে ভুল করেন, কারণ ক্রিয়া তো বাক্যেরই অংশ। কিন্তু কাল ও পুরুষে ক্রিয়ার রূপ বদল হলো শব্দের রূপের বিষয়, বাক্যের গঠনের নয়।
মনে রাখুন: যা শব্দের রূপ বদলায় (বিভক্তি, প্রত্যয়, কাল, পুরুষ, বচন, লিঙ্গ, কারক) সবই রূপতত্ত্ব।
৯১০. 'কুল কাঠের আগুন' বাগধারাটির সঠিক অর্থ কি? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কতীব্র জ্বালা
- খকাঠের পুতুল
- গকূপমণ্ডূক
- ঘএলাহী কাণ্ড
সঠিক উত্তর: ক. তীব্র জ্বালা
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ যাচাই করছে। কুল কাঠের আগুন মানে তীব্র জ্বালা, এমন যন্ত্রণা যা সহজে নেভে না।
কুল বা বরই গাছের কাঠ পুড়লে সেই আগুন খুব গনগনে হয় আর অনেকক্ষণ জ্বলতে থাকে। সেখান থেকেই বাগ্ধারাটা এসেছে: যে কষ্ট বা জ্বালা দীর্ঘ সময় ধরে তীব্রভাবে পোড়ায়। যেমন, সন্তান হারানোর শোক তার কাছে কুল কাঠের আগুন হয়ে আছে।
বিকল্পের অন্যগুলোও আলাদা বাগ্ধারার অর্থ বা নিজেই বাগ্ধারা: কাঠের পুতুল মানে নিজের ইচ্ছাশক্তিহীন লোক, কূপমণ্ডূক মানে সীমিত জ্ঞানের মানুষ, আর এলাহি কাণ্ড মানে বিরাট আয়োজন।
কাঠ শব্দের মিল দেখে অনেকে কাঠের পুতুল বেছে নেন; কিন্তু অর্থে দুটোর কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: আগুন দিয়ে জ্বালা: কুল কাঠের আগুন, তুষের আগুন; দুটোই দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট বোঝায়।
৯১১. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কচানক্য
- খচাণক্য
- গচানোক্য
- ঘচাণোক্য
সঠিক উত্তর: খ. চাণক্য
প্রশ্নটা চাণক্য শব্দের শুদ্ধ বানান যাচাই করছে। চাণক্য প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও অর্থশাস্ত্রের রচয়িতা, যিনি কৌটিল্য নামেও পরিচিত।
শব্দটা তৎসম, আর এতে মূর্ধন্য ণ স্বভাবতই আছে, কোনো নিয়ম মেনে আসেনি। সংস্কৃতে তাঁর পিতার নাম চণক, আর চণকের পুত্র অর্থে চাণক্য। একই রকম স্বভাবত মূর্ধন্য ণ আছে কণা, গণ, বাণিজ্য, মাণিক্য, লবণ শব্দে।
এছাড়া চা-এর পরের অক্ষর ণ-এ কোনো ও-কার নেই; উচ্চারণে চানোক্কো শোনায় বলে অনেকে ও-কার বসিয়ে ফেলেন। তাই শুদ্ধ বানান চাণক্য।
দন্ত্য ন দিয়ে চানক্য লেখা সবচেয়ে সাধারণ ভুল, কারণ বাংলা উচ্চারণে ন আর ণ-এর পার্থক্য শোনা যায় না।
মনে রাখুন: স্বভাবত মূর্ধন্য ণ-এর শব্দ: চাণক্য, মাণিক্য, বাণিজ্য, কণা, গণ, লবণ, বীণা।
৯১২. 'রোহিণী' কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কগোরা
- খযোগাযোগ
- গদত্তা
- ঘকৃষ্ণকান্তের উইল
সঠিক উত্তর: ঘ. কৃষ্ণকান্তের উইল
রোহিণী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস কৃষ্ণকান্তের উইল-এর কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র। উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসে জমিদার কৃষ্ণকান্তের ভাইপো গোবিন্দলাল সুন্দরী বিধবা রোহিণীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্ত্রী ভ্রমরকে ছেড়ে যান। শেষে গোবিন্দলালের হাতেই রোহিণীর মৃত্যু হয়। ভ্রমর, গোবিন্দলাল আর রোহিণী এই উপন্যাসের প্রধান তিন চরিত্র।
বাকি তিন বই অন্য লেখকের: গোরা আর যোগাযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস, আর দত্তা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। দত্তার নায়িকা বিজয়া, যোগাযোগের কুমুদিনী, আর গোরার নায়ক গোরা নিজেই।
বঙ্কিমের চরিত্রের প্রশ্নে কুন্দনন্দিনী আর সূর্যমুখী, যারা বিষবৃক্ষ উপন্যাসের, প্রায়ই রোহিণীর সাথে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: বঙ্কিমের নারী চরিত্র: রোহিণী ও ভ্রমর (কৃষ্ণকান্তের উইল), কুন্দনন্দিনী ও সূর্যমুখী (বিষবৃক্ষ), কপালকুণ্ডলা।
৯১৩. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কঅনুসূয়া
- খঅণুসূয়া
- গঅনসূয়া
- ঘঅনূসূয়া
সঠিক উত্তর: গ. অনসূয়া
প্রশ্নটা অনসূয়া শব্দের বানান যাচাই করছে। অনসূয়া মানে যার মনে অসূয়া বা ঈর্ষা নেই; পুরাণে অত্রি মুনির স্ত্রী, আর কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম-এ শকুন্তলার এক সখীর নামও অনসূয়া।
শব্দটা ভেঙে দেখি: না-বোধক অন্ আর অসূয়া, মানে হিংসা। স্বরবর্ণের আগে না-বোধক অ হয়ে যায় অন্, তাই অন্ যোগ অসূয়া মিলে অনসূয়া। এখানে ন-এর পরে কোনো উ-কার নেই, আর স-এ দীর্ঘ ঊ-কার।
প্রশ্নে অশুদ্ধ বানান চাওয়া হয়েছে বলে ছাপা আছে, কিন্তু তাহলে তিনটি বিকল্পই অশুদ্ধ হয়। তাই প্রশ্নটি আসলে শুদ্ধ বানান চেয়েছে বলে ধরা হয়েছে, আর শুদ্ধ বানান অনসূয়া।
সবচেয়ে প্রচলিত ভুল অনুসূয়া, কারণ অনু উপসর্গের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু অনু মানে পশ্চাৎ বা অনুসরণ; এখানে অর্থ না-বোধক, তাই অন্।
মনে রাখুন: না-বোধক অ স্বরবর্ণের আগে অন্ হয়: অনন্ত, অনাচার, অনসূয়া।
৯১৪. নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কসুকেশী
- খসুকেশীনী
- গসুকেশা
- ঘসুকেশিনী
সঠিক উত্তর: খ. সুকেশীনী
প্রশ্নটা ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের স্ত্রীবাচক রূপের বানান যাচাই করছে। সুকেশিনী মানে সুন্দর চুলের অধিকারিণী নারী।
সংস্কৃতে কেশ থেকে কেশিন্, মানে কেশযুক্ত। ইন্ দিয়ে শেষ হওয়া শব্দের স্ত্রীলিঙ্গে ন-এর পরে ঈ যুক্ত হয়ে হয় -ইনী। তাই শি-তে হ্রস্ব ই-কার, নী-তে দীর্ঘ ঈ-কার: সুকেশিনী। একই নিয়মে মায়াবিনী, অভিমানিনী, তপস্বিনী, বিদেশিনী।
সুকেশীনী বানানে শি-র জায়গায় দীর্ঘ শী বসানো হয়েছে, যা নিয়মের বিরুদ্ধে; তাই এটিই অশুদ্ধ। সুকেশী বানানটি শুদ্ধ, কারণ এখানে ঈ প্রত্যয় সরাসরি কেশের সাথে যুক্ত হয়েছে, যেমন সুন্দরী।
দুই ঈ-কারের প্রবণতা থেকে এই ভুল হয়। মনে রাখার উপায়: -িনী শব্দে প্রথমটা ছোট, শেষেরটা বড়।
মনে রাখুন: -ইনী শব্দে প্রথমে হ্রস্ব ই-কার: মায়াবিনী, অভিমানিনী, বিদেশিনী, সুকেশিনী।
৯১৫. 'তণ্ডুল' শব্দটির অর্থ কি? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- করুটি
- খআটা
- গচুলা
- ঘচাল
সঠিক উত্তর: ঘ. চাল
তণ্ডুল একটি তৎসম শব্দ, যার অর্থ চাল, অর্থাৎ ধানের খোসা ছাড়ানো দানা।
সংস্কৃত থেকে আসা খাবারের এমন কয়েকটি শব্দ প্রায়ই প্রশ্নে আসে: অন্ন মানে ভাত, গোধূম মানে গম, পিষ্টক মানে পিঠা, আর তণ্ডুল মানে চাল। চালের গুঁড়োকে বলে তণ্ডুলচূর্ণ।
প্রশ্নের বিকল্পগুলো সবই রান্নাঘরের জিনিস, তাই বিভ্রান্তি হয়। আটার তৎসম রূপ গোধূমচূর্ণ, আর চুলার তৎসম শব্দ চুল্লি। তণ্ডুলের অর্থ শুধু চাল।
মনে রাখুন: অন্ন ভাত, তণ্ডুল চাল, গোধূম গম, পিষ্টক পিঠা: চারটি একসাথে মুখস্থ করুন।
৯১৬. ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- ককড়কড়
- খমরমর
- গনরনর
- ঘদরদর
সঠিক উত্তর: ক. কড়কড়
প্রশ্নটা ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ চিনতে বলছে। কোনো প্রাকৃতিক বা কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণে তৈরি শব্দ পরপর দুবার বসলে তাকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত বলে।
কড়কড় হলো মেঘ ডাকা বা বাজ পড়ার শব্দের অনুকরণ: আকাশে কড়কড় করে বাজ পড়ল। একটা আসল ধ্বনিকে নকল করছে বলে এটিই স্পষ্ট ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত। একই রকম ঝমঝম বৃষ্টি, শনশন বাতাস, ঘেউ ঘেউ কুকুর, টুং টাং ঘণ্টা।
মরমর কোনো শব্দের অনুকরণ নয়; এটি মরো মরো অবস্থা বোঝায়, যেমন রোগীর মরমর অবস্থা। দরদর মূলত অবিরাম ঝরে পড়ার অবস্থা বোঝায়, যেমন দরদর করে ঘাম ঝরছে; এখানে আসল কোনো ধ্বনির অনুকরণ নেই।
ফাঁদ হলো দরদর, কারণ শুনতে ধ্বনির মতো লাগে। কিন্তু প্রশ্নে সবচেয়ে নিখুঁত উত্তর কড়কড়, যা সরাসরি একটি বাস্তব শব্দের নকল।
মনে রাখুন: কানে শোনা যায় এমন শব্দের নকল হলে ধ্বন্যাত্মক: কড়কড়, ঝমঝম, শনশন, ঘেউ ঘেউ।
৯১৭. কোনটি তৎসম শব্দ? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কআনারস
- খচেয়ার
- গহস্ত
- ঘটেবিল
সঠিক উত্তর: গ. হস্ত
তৎসম শব্দ মানে যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়া সরাসরি বাংলায় এসেছে। তৎ মানে তার, সম মানে সমান: অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
হস্ত সংস্কৃত শব্দ, মানে হাত, এবং বাংলায় অবিকৃত অবস্থায় ব্যবহৃত হয়; তাই এটি তৎসম। এর তদ্ভব রূপ হলো হাত: সংস্কৃত হস্ত থেকে প্রাকৃত হত্থ হয়ে বাংলায় হাত। একই রকম জোড়: চন্দ্র থেকে চাঁদ, মৎস্য থেকে মাছ।
বাকি তিনটি বিদেশি শব্দ। আনারস এসেছে পর্তুগিজ ভাষা থেকে, আর চেয়ার ও টেবিল ইংরেজি থেকে।
আনারস দেশি ফলের নাম বলে অনেকে একে বাংলা বা তৎসম ভাবেন। কিন্তু এটি পর্তুগিজ উৎসের, যেমন পেঁপে, আলমারি, চাবিও পর্তুগিজ।
মনে রাখুন: পর্তুগিজ শব্দ মনে রাখুন: আনারস, পেঁপে, আলমারি, চাবি, বালতি, গির্জা।
৯১৮. যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটিকে কি পদ বলে? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কসমস্ত পদ
- খপূর্ব পদ
- গউত্তর পদ
- ঘসমস্যমান পদ
সঠিক উত্তর: ঘ. সমস্যমান পদ
সমাসের প্রতিটি অংশের আলাদা নাম আছে, আর প্রশ্নটা সেই পরিভাষা যাচাই করছে। যে যে পদ মিলে সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে বলে সমস্যমান পদ।
উদাহরণ দেখি: সিংহ চিহ্নিত আসন মিলে সিংহাসন। এখানে সিংহ আর আসন দুটোই সমস্যমান পদ। প্রথমটি, সিংহ, হলো পূর্বপদ; পরেরটি, আসন, হলো উত্তরপদ বা পরপদ।
সমাস হওয়ার পর যে একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়, যেমন সিংহাসন, তাকে বলে সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদ। আর সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায়, তাকে বলে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য।
সমস্ত পদ আর সমস্যমান পদ শুনতে কাছাকাছি বলে সহজেই গুলিয়ে যায়। মনে রাখুন, সমস্ত মানে পুরোটা, তাই সমস্ত পদ হলো চূড়ান্ত একটি শব্দ।
মনে রাখুন: অংশ হলে সমস্যমান, পুরোটা হলে সমস্ত, ভেঙে লিখলে ব্যাসবাক্য।
৯১৯. 'কোথায় থাকা হয়' এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কভাববাচ্য
- খকর্মবাচ্য
- গকর্তৃবাচ্য
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. ভাববাচ্য
বাচ্য মানে বাক্যে কর্তা, কর্ম না ক্রিয়ার ভাব, কোনটি প্রধান। যে বাক্যে কর্তা বা কর্ম নয়, ক্রিয়ার ভাবটাই প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে বলে ভাববাচ্য।
কোথায় থাকা হয় বাক্যে কে থাকে, তা বলা নেই; কর্তা উহ্য। প্রধান হয়ে আছে থাকার কাজটি। ভাববাচ্যের পরিচিত গঠন হলো ক্রিয়ার ক্রিয়াবিশেষ্য রূপ, যেমন থাকা, খাওয়া, যাওয়া, তার সাথে হয়, হলো, হবে। যেমন আমার খাওয়া হলো, এবার যাওয়া যাক।
কর্মবাচ্যে কর্মই প্রধান থাকে, যেমন চিঠিটি লেখা হয়েছে; এখানে চিঠি কর্ম। কোথায় থাকা হয় বাক্যে কোনো কর্ম নেই, তাই এটি কর্মবাচ্য নয়।
হয় দেখে অনেকে কর্মবাচ্য ভেবে ফেলেন। পরীক্ষা করার উপায়: বাক্যে কর্ম আছে কি না দেখুন। কর্ম না থাকলে, শুধু ক্রিয়ার ভাব থাকলে, সেটি ভাববাচ্য।
মনে রাখুন: ক্রিয়াবিশেষ্য (থাকা, খাওয়া, যাওয়া) + হয়/হলো/হবে, আর কোনো কর্ম নেই: ভাববাচ্য।
৯২০. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘মতিচূর’ কোন ধরনের রচনা? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপ্রবন্ধ
- খউপন্যাস
- গনাটক
- ঘআত্মজীবনী
সঠিক উত্তর: ক. প্রবন্ধ
প্রশ্নটি বেগম রোকেয়ার একটি গ্রন্থের ধরন জানতে চেয়েছে। মতিচূর রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রবন্ধগ্রন্থ, যা দুই খণ্ডে প্রকাশিত।
এর প্রবন্ধগুলোতে তিনি নারীশিক্ষা, নারীর আত্মনির্ভরতা আর সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন। অর্ধাঙ্গী, স্ত্রীজাতির অবনতি এর মতো বিখ্যাত প্রবন্ধ এতে আছে।
রোকেয়ার অন্য রচনাগুলো ধরন মিলিয়ে মনে রাখুন: পদ্মরাগ উপন্যাস, সুলতানার স্বপ্ন নামে পরিচিত ইংরেজি কল্পকাহিনি, আর অবরোধবাসিনী পর্দাপ্রথার নির্যাতনের বাস্তব ঘটনার সংকলন।
ফাঁদ হলো উপন্যাস। রোকেয়ার উপন্যাস পদ্মরাগ, মতিচূর নয়; আর মতিচূরে কাহিনি, সংলাপ বা নিজের জীবনকথা নেই, আছে যুক্তিনির্ভর প্রবন্ধ।
মনে রাখুন: রোকেয়ার চার রচনা চার ধরন: মতিচূর প্রবন্ধ, পদ্মরাগ উপন্যাস, Sultana's Dream ইংরেজি গল্প, অবরোধবাসিনী নকশা।