বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪৯
৯৬১. নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কজাত
- খগৈরিক
- গউদ্ধত
- ঘগাম্ভীর্য
সঠিক উত্তর: ঘ. গাম্ভীর্য
প্রশ্নটি পদ চেনার। গাম্ভীর্য হলো বিশেষ্য পদ, আরও নির্দিষ্টভাবে ভাববাচক বিশেষ্য। গম্ভীর বিশেষণের সঙ্গে য প্রত্যয় যোগ হয়ে গাম্ভীর্য হয়েছে, অর্থ গম্ভীর ভাব।
এই ধরনের শব্দে প্রথম স্বরের বৃদ্ধি ঘটে: গম্ভীরের অ হয়ে যায় আ। একই নিয়মে সুন্দর থেকে সৌন্দর্য, মধুর থেকে মাধুর্য, ধীর থেকে ধৈর্য। বিশেষণ থেকে এভাবে গুণ বা ভাবের নাম তৈরি হয়।
বাকি তিনটি বিশেষণ। গৈরিক মানে গেরুয়া রঙের, গিরি থেকে গঠিত। উদ্ধত মানে অহংকারী বা উগ্র। জাত মানে জন্মেছে এমন, যেমন জাত শিল্পী, নবজাত শিশু।
পরীক্ষা করার সহজ উপায়: শব্দটির আগে তার বসিয়ে দেখুন। তার গাম্ভীর্য বললে অর্থ দাঁড়ায়, কারণ এটি একটি বিষয়ের নাম; আর গৈরিক বা উদ্ধত কোনো বিশেষ্যের আগে বসে তার গুণ বলে।
মনে রাখুন: বিশেষণের প্রথম স্বর বেড়ে শেষে র্য বা য এলে সাধারণত ভাববাচক বিশেষ্য: সৌন্দর্য, মাধুর্য, ধৈর্য, গাম্ভীর্য।
৯৬২. নিচের কোন শব্দে ণত্ব বিধি অনুসারে ‘ণ’ –এর ব্যবহার হয়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ককল্যাণ
- খপ্রবণ
- গনিক্বণ
- ঘবিপণি
সঠিক উত্তর: খ. প্রবণ
প্রশ্নটি ণত্ব বিধান যাচাই করছে। ণত্ব বিধানের মূল নিয়ম: ঋ, র বা ষ-এর পরে দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়। আর এদের মাঝে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, য়, হ বা অনুস্বার থাকলেও ন বদলে ণ হয়।
প্রবণ শব্দে প্রথমে র, তারপর অ, তারপর প-বর্গের ব, তারপর আবার অ। এই ব্যবধানগুলো নিয়মে অনুমোদিত, তাই শেষের ন হয়েছে ণ। এটাই ণত্ব বিধানের প্রয়োগ।
কল্যাণ, নিক্বণ আর বিপণি শব্দে ণ-এর আগে কোথাও ঋ, র বা ষ নেই। তাই এদের ণ কোনো নিয়মে আসেনি; এগুলো স্বভাবতই মূর্ধন্য ণ যুক্ত শব্দ।
একই নিয়মের আরও উদাহরণ: শ্রবণ, অর্পণ, গ্রহণ, পরিণাম। প্রথমে খুঁজুন ঋ, র বা ষ আছে কি না, তারপর মাঝের বর্ণগুলো অনুমোদিত কি না।
মনে রাখুন: আগে ঋ, র বা ষ খুঁজুন; না পেলে ণটি স্বভাবত। প্রবণ, শ্রবণ, অর্পণ নিয়মে; কল্যাণ, বাণিজ্য, লবণ স্বভাবত।
৯৬৩. ‘মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে’ - বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয় - – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ করে
- খমিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ না করে পারে না
- গমিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না
- ঘমিথ্যাবাদীকে কেউ অপছন্দ করে না
সঠিক উত্তর: গ. মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না
প্রশ্নটি বাক্যের অর্থ ঠিক রেখে রূপ বদলানোর। ইতিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক করার নিয়ম হলো অর্থ এক রেখে বাক্যে না-বোধক শব্দ আনা, আর প্রয়োজনে অন্য শব্দকে তার বিপরীত দিয়ে বদলানো।
মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে বাক্যের অর্থ হলো এমন কেউ নেই যে তাকে পছন্দ করে। তাই সবাই বদলে হয় কেউ, অপছন্দ বদলে হয় পছন্দ, আর শেষে যোগ হয় না: মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না।
যাচাই করুন: নতুন বাক্যটি শুনে মূল অর্থ বদলেছে কি না। কেউ পছন্দ করে না আর সবাই অপছন্দ করে, দুটির অর্থ একই।
ফাঁদ হলো পছন্দ না করে পারে না বিকল্পটি। এখানে দুটি না-বোধক মিলে অর্থ উল্টে যায়, মানে সবাই পছন্দ করে; শুধু না শব্দ থাকলেই সঠিক নেতিবাচক রূপ হয় না।
মনে রাখুন: সবাই হলে কেউ, আর ক্রিয়ার অর্থ উল্টে না যোগ করুন: সবাই অপছন্দ করে মানে কেউ পছন্দ করে না।
৯৬৪. ‘Null and Void’ –এর বাংলা পরিভাষা কী? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবাতিল
- খপালাবদল
- গমামুলি
- ঘনিরপেক্ষ
সঠিক উত্তর: ক. বাতিল
প্রশ্নটি প্রশাসনিক ও আইনি পরিভাষার। নাল অ্যান্ড ভয়েড কথাটি আইনে ব্যবহার হয়, অর্থ আইনগতভাবে অকার্যকর, যার কোনো বৈধতা নেই। এর বাংলা পরিভাষা বাতিল।
যেমন কোনো চুক্তি বা আদেশকে নাল অ্যান্ড ভয়েড ঘোষণা করা মানে সেটি বাতিল, তার আর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।
পরীক্ষায় আরও কিছু পরিভাষা আসে: এক্স অফিসিও মানে পদাধিকারবলে, বোনা ফাইডি মানে প্রকৃত বা সরল বিশ্বাসে, অ্যাড হক মানে তদর্থক বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গঠিত।
বাকি বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা। মামুলি মানে সাধারণ বা গতানুগতিক, নিরপেক্ষ মানে কোনো পক্ষ না নেওয়া, আর পালাবদল মানে পালা বা দায়িত্বের পরিবর্তন।
মনে রাখুন: Null মানে শূন্য, Void মানে ফাঁকা: আইনের চোখে যার মূল্য শূন্য, তাই বাতিল।
৯৬৫. ‘হেড মৌলভী’ কোন কোন ভাষার শব্দ যোগে গঠিত হয়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কইংরেজি + ফার্সি
- খইংরেজি + আরবি
- গতুর্কি + আরবি
- ঘইংরেজি + পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর: খ. ইংরেজি + আরবি
প্রশ্নটি মিশ্র শব্দের উৎস জানতে চেয়েছে। মিশ্র শব্দ হলো দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দ জুড়ে তৈরি শব্দ। হেড মৌলভী এমন একটি শব্দ, অর্থ প্রধান মৌলভী বা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক।
হেড শব্দটি ইংরেজি, অর্থ প্রধান। মৌলভী শব্দের মূল আরবি মৌলবি, যার অর্থ ধর্মীয় পণ্ডিত। উত্তরসূচি মূল উৎস ধরে উত্তর দিয়েছে ইংরেজি আর আরবি।
তবে জেনে রাখুন, মৌলভী শব্দটি ফারসির মাধ্যমে বাংলায় এসেছে, তাই কিছু পাঠ্য ব্যাকরণে হেড মৌলভীকে ইংরেজি আর ফারসির মিশ্রণ হিসেবেও দেখানো হয়। এই প্রশ্নে উত্তরসূচি অনুসরণ করাই নিরাপদ।
আরও মিশ্র শব্দ: হেডপণ্ডিত, ইংরেজি আর তৎসম; হাটবাজার, বাংলা আর ফারসি; রাজা বাদশা, তৎসম আর ফারসি।
মনে রাখুন: মিশ্র শব্দে প্রতিটি অংশ আলাদা করে উৎস ভাবুন: হেড ইংরেজি, পণ্ডিত তৎসম, বাজার ফারসি, মৌলভী আরবি মূলের।
৯৬৬. ‘রবীন্দ্র’ –এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- করবী + ইন্দ্র
- খরবী + ঈন্দ্র
- গরবি + ইন্দ্র
- ঘরবি + ঈন্দ্র
সঠিক উত্তর: গ. রবি + ইন্দ্র
প্রশ্নটি স্বরসন্ধির। রবীন্দ্র শব্দটি রবি আর ইন্দ্র মিলে গঠিত। রবি মানে সূর্য, ইন্দ্র মানে শ্রেষ্ঠ বা দেবরাজ।
নিয়ম হলো: ই বা ঈ-এর পরে ই বা ঈ এলে দুটি মিলে দীর্ঘ ঈ হয়, আর সেই ঈ-কার আগের বর্ণে যুক্ত হয়। রবির ই আর ইন্দ্রের ই মিলে ঈ, তাই ব-এ ঈ-কার বসে রবীন্দ্র।
একই নিয়মে অতি আর ইত মিলে অতীত, গিরি আর ইন্দ্র মিলে গিরীন্দ্র, মুনি আর ইন্দ্র মিলে মুনীন্দ্র।
ফাঁদ হলো সন্ধির পরের দীর্ঘ ঈ দেখে মূল শব্দেও ঈ বসানো। মূল শব্দ দুটিতে কোনো ঈ নেই: রবি হ্রস্ব ই, ইন্দ্র হ্রস্ব ই।
মনে রাখুন: সন্ধির পরে দীর্ঘ ঈ দেখলে মূল শব্দে হ্রস্ব ই খুঁজুন: রবীন্দ্র, অতীত, গিরীন্দ্র, মুনীন্দ্র।
৯৬৭. ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ - বাক্যে ‘চেনা’ কোন পদ? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবিশেষ্য
- খঅব্যয়
- গক্রিয়া
- ঘবিশেষণ
সঠিক উত্তর: ঘ. বিশেষণ
প্রশ্নটি বাক্যে শব্দের অবস্থান দেখে পদ চেনার। এ যে আমাদের চেনা লোক বাক্যে চেনা শব্দটি লোক বিশেষ্যের আগে বসে তার পরিচয় দিচ্ছে, কেমন লোক, চেনা লোক। যে শব্দ বিশেষ্যের দোষ, গুণ বা অবস্থা বোঝায় তা বিশেষণ।
চেনা এসেছে চিন্ ধাতু থেকে, তাই একে ক্রিয়াজাত বা কৃদন্ত বিশেষণ বলা হয়। একই রকম উদাহরণ: পড়া বই, হারানো টাকা, ভাঙা ঘর।
একই শব্দ অন্য বাক্যে অন্য পদ হতে পারে। তাকে চেনা সহজ নয় বাক্যে চেনা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য, আর আমি তাকে চিনি বাক্যে চিনি ক্রিয়া।
ফাঁদ হলো ক্রিয়া বিকল্পটি। শব্দটি ধাতু থেকে এসেছে বলে অনেকে ক্রিয়া ধরে নেন, কিন্তু এখানে কোনো কাজ ঘটছে না, শুধু লোকটির পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।
মনে রাখুন: বিশেষ্যের ঠিক আগে বসে কেমন প্রশ্নের উত্তর দিলে সেটি বিশেষণ: চেনা লোক, পড়া বই, ভাঙা ঘর।
৯৬৮. ‘প্রকর্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ - – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কউৎকর্ষতা
- খঅপকর্ষ
- গউৎকর্ষ
- ঘঅপকর্ষতা
সঠিক উত্তর: গ. উৎকর্ষ
প্রশ্নটি সমার্থক শব্দ আর শুদ্ধ শব্দরূপ দুটোই যাচাই করছে। প্রকর্ষ মানে উৎকর্ষ, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্ব বা উন্নতি। দুটি শব্দই তৎসম এবং ভাববাচক বিশেষ্য।
উৎকর্ষতা বানানটি অশুদ্ধ। উৎকর্ষ শব্দটি নিজেই একটি ভাব বা গুণের নাম, এর সঙ্গে আবার তা প্রত্যয় যোগ করলে একই অর্থ দুবার আসে। একই কারণে সৌজন্যতা, দারিদ্রতা, উৎকর্ষতা অশুদ্ধ; শুদ্ধ রূপ সৌজন্য, দারিদ্র্য, উৎকর্ষ।
অপকর্ষ মানে অবনতি বা নিকৃষ্টতা, যা প্রকর্ষের বিপরীত। অপকর্ষতা আবার সেই একই বাড়তি তা যোগের ভুল।
তাই এই প্রশ্নে দুটি ফাঁদ: বিপরীত অর্থের অপকর্ষ, আর বাড়তি তা যুক্ত অশুদ্ধ উৎকর্ষতা।
মনে রাখুন: ভাববাচক বিশেষ্যে আবার তা জুড়বেন না: সৌজন্য, দারিদ্র্য, উৎকর্ষ, ঐক্য শুদ্ধ; সৌজন্যতা, দারিদ্রতা, উৎকর্ষতা, ঐক্যতা অশুদ্ধ।
৯৬৯. কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কছায়ানট
- খচক্রবাক
- গরুদ্রমঙ্গল
- ঘবালুচর
সঠিক উত্তর: ঘ. বালুচর
প্রশ্নটি নজরুলের রচনা চেনার। বালুচর নজরুলের নয়, পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ। নামটিই গ্রামবাংলার নদীর চরের ছবি দেয়, যা জসীমউদ্দীনের কবিতার প্রধান জগৎ।
বাকি তিনটি নজরুলের। ছায়ানট আর চক্রবাক তাঁর কাব্যগ্রন্থ। রুদ্রমঙ্গল তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ; নামের মঙ্গল শব্দ শুনে মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ভাবলে ভুল হবে।
জসীমউদ্দীনের অন্য বিখ্যাত কাব্য নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট আর রাখালী। নজরুলের আরও কাব্য অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশী, সিন্ধু হিন্দোল।
এমন প্রশ্নে নামের ধরন দেখুন। চর, মাঠ, ঘাট, কাঁথা মানেই সাধারণত জসীমউদ্দীন; অগ্নি, বিষ, রুদ্র মানেই সাধারণত নজরুল।
মনে রাখুন: নামের ছবি দেখুন: চর, মাঠ, ঘাট, কাঁথা জসীমউদ্দীন; অগ্নি, বিষ, রুদ্র নজরুল।
৯৭০. ‘সবুজপত্র’ প্রকাশিত হয় কোন সালে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯০৯
- খ১৯১০
- গ১৯১৪
- ঘ১৯২১
সঠিক উত্তর: গ. ১৯১৪
প্রশ্নটি একটি পত্রিকার প্রকাশকাল জানতে চেয়েছে। প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। এই পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতি প্রতিষ্ঠা পায়।
সবুজপত্রে রবীন্দ্রনাথও চলিত ভাষায় লিখতে শুরু করেন; তাঁর ঘরে বাইরে উপন্যাস এখানেই ধারাবাহিক ছাপা হয়। প্রমথ চৌধুরী নিজে বীরবল ছদ্মনামে এতে প্রবন্ধ লিখতেন।
সময়রেখায় মিলিয়ে নিন: বঙ্কিমচন্দ্রের বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সালে, সবুজপত্র ১৯১৪ সালে, নজরুলের ধূমকেতু ১৯২২ সালে, আর কল্লোল ১৯২৩ সালে।
মনে রাখার সহজ সূত্র: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর বছরেই সবুজপত্রের যাত্রা।
মনে রাখুন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বছর ১৯১৪ আর সবুজপত্রের বছর একই।
৯৭১. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক - (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসুবচন নির্বাসনে
- খরক্তাক্ত প্রান্তর
- গনূরলদীনের সারা জীবন
- ঘপায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর: ঘ. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক চেনার। সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা কাব্যনাট্য। এক গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর মাতবরের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর জেগে ওঠা আর মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পায়ের আওয়াজই এর মূল কাহিনি।
সৈয়দ শামসুল হকের আরেকটি বিখ্যাত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারাজীবন, কিন্তু এটি মুক্তিযুদ্ধ নয়, ইংরেজ আমলে রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নায়ক নূরলদীনকে নিয়ে।
মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিতে লেখা ঐতিহাসিক নাটক। আবদুল্লাহ আল মামুনের সুবচন নির্বাসনে স্বাধীনতার পরের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে লেখা।
ফাঁদ নূরলদীনের সারাজীবন। একই লেখকের, একই ধরনের কাব্যনাট্য এবং বিদ্রোহের গল্প বলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক মনে হয়।
মনে রাখুন: সৈয়দ শামসুল হকের দুই কাব্যনাট্য আলাদা করুন: পায়ের আওয়াজ মুক্তিযুদ্ধ, নূরলদীন কৃষক বিদ্রোহ।
৯৭২. কোনটি জসীমউদ্দীনের নাটক? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- করাখালী
- খমাটির কান্না
- গবেদের মেয়ে
- ঘবোবা কাহিনী
সঠিক উত্তর: গ. বেদের মেয়ে
প্রশ্নটি জসীমউদ্দীনের নাটক চেনার। বেদের মেয়ে তাঁর নাটক, বেদে সম্প্রদায়ের জীবন আর প্রেম নিয়ে লেখা। জসীমউদ্দীন মূলত কবি হলেও কয়েকটি নাটকও লিখেছেন, যেমন পদ্মাপার, মধুমালা, পল্লীবধূ।
বাকি তিনটির ধরন আলাদা। রাখালী তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। মাটির কান্না একটি কাব্যগ্রন্থ। বোবা কাহিনী তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
জসীমউদ্দীনের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি কাহিনিকাব্য নকশী কাঁথার মাঠ আর সোজন বাদিয়ার ঘাট; এগুলোও পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ফাঁদ বোবা কাহিনী। নামে কাহিনী শব্দ থাকায় অনেকে একে নাটক ভাবেন, কিন্তু এটি উপন্যাস।
মনে রাখুন: জসীমউদ্দীনের নাটক: বেদের মেয়ে, পদ্মাপার, মধুমালা, পল্লীবধূ; উপন্যাস একটাই, বোবা কাহিনী।
৯৭৩. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্মপ্রচারক -এর প্রভাব অপরিসীম? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশ্রীচৈতন্যদেব
- খশ্রীকৃষ্ণ
- গআদিনাথ
- ঘমনোহর দাশ
সঠিক উত্তর: ক. শ্রীচৈতন্যদেব
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্মপ্রচারকের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। উত্তর শ্রীচৈতন্যদেব। তাঁর প্রচারিত গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে বৈষ্ণব পদাবলি সমৃদ্ধ হয় এবং বাংলা জীবনী সাহিত্যের সূচনা ঘটে।
তাঁর প্রভাব এত গভীর যে মধ্যযুগকে চৈতন্যপূর্ব যুগ আর চৈতন্যোত্তর যুগ, এভাবে ভাগ করা হয়। তাঁর জীবন নিয়ে বাংলায় প্রথম গ্রন্থ বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত; আর কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত সবচেয়ে বিখ্যাত চৈতন্যজীবনী।
শ্রীকৃষ্ণ ধর্মপ্রচারক নন, পৌরাণিক দেবতা; তাঁকে নিয়ে কাব্য লেখা হয়েছে, যেমন বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। আদিনাথ নাথধর্মে শিবের নাম; নাথসাহিত্য ছিল, কিন্তু তার প্রভাব সীমিত।
ফাঁদ শ্রীকৃষ্ণ বিকল্পটি। বৈষ্ণব সাহিত্যের কেন্দ্রে কৃষ্ণ আছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কাব্যের বিষয়, প্রচারক নন; প্রচারক চৈতন্যদেব।
মনে রাখুন: মধ্যযুগের ভাগ মনে রাখুন: চৈতন্যপূর্ব আর চৈতন্যোত্তর। জীবনী সাহিত্য মানেই চৈতন্যজীবনী।
৯৭৪. মুনীর চৌধুরীর অনূদিত নাটক কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ককবর
- খচিঠি
- গরক্তাক্ত প্রান্তর
- ঘমুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর: ঘ. মুখরা রমণী বশীকরণ
প্রশ্নটি মুনীর চৌধুরীর মৌলিক আর অনূদিত নাটক আলাদা করার। মুখরা রমণী বশীকরণ তাঁর অনূদিত নাটক; মূল নাটক শেক্সপিয়রের দ্য টেমিং অব দ্য শ্রু। নামেই অর্থ পরিষ্কার: মুখরা মানে ঝগড়াটে, বশীকরণ মানে বশে আনা।
কবর, চিঠি আর রক্তাক্ত প্রান্তর মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক। কবর ১৯৫৩ সালে কারাগারে বসে লেখা ভাষা আন্দোলনের নাটক, আর রক্তাক্ত প্রান্তর পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিতে লেখা।
অনুবাদ নাটক চেনার সূত্র হলো বিদেশি কাহিনির ছাপ। মুখরা রমণী বশীকরণে ঝগড়াটে স্ত্রীকে বশে আনার যে গল্প, তা শেক্সপিয়রের কমেডি থেকে নেওয়া।
ফাঁদ কবর বিকল্পটি। কবর তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক বলে অনেকে না পড়েই বেছে নেন, কিন্তু এটি মৌলিক, অনূদিত নয়।
মনে রাখুন: মুনীর চৌধুরী: মৌলিক কবর, চিঠি, রক্তাক্ত প্রান্তর; অনূদিত মুখরা রমণী বশীকরণ।
৯৭৫. কোনটি উপন্যাস নয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদিবারাত্রির কাব্য
- খহাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- গকবিতার কথা
- ঘপথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর: গ. কবিতার কথা
প্রশ্নটি রচনার ধরন চেনার। কবিতার কথা জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ, উপন্যাস নয়। এতে তিনি কবিতা কী, কবি কে, এসব নিয়ে নিজের ভাবনা লিখেছেন; বিখ্যাত উক্তি সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি এই বইয়েরই।
বাকি তিনটি উপন্যাস। দিবারাত্রির কাব্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের, আর পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এখানে দুটি নামই ফাঁদ তৈরি করে। দিবারাত্রির কাব্য নামে কাব্য শব্দ থাকলেও এটি উপন্যাস; আর কবিতার কথা নামে কবিতা থাকলেও এটি কাব্য বা উপন্যাস নয়, প্রবন্ধ।
নাম দেখে ধরন অনুমান না করে লেখক আর বই একসঙ্গে মনে রাখুন। মজার মিল: তিন উপন্যাসের লেখকের পদবিই বন্দ্যোপাধ্যায়।
মনে রাখুন: তিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন উপন্যাস; জীবনানন্দের কবিতার কথা প্রবন্ধ।
৯৭৬. ‘বিষাদ সিন্ধু’ একটি - - (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কগবেষণা গ্রন্থ
- খধর্মবিষয়ক প্রবন্ধ
- গইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
- ঘআত্মজীবনী
সঠিক উত্তর: গ. ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত গ্রন্থের ধরন জানতে চেয়েছে। মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। কারবালার যুদ্ধ আর ইমাম হাসান ও হোসেনের করুণ পরিণতি এর মূল কাহিনি।
বইটি তিন পর্বে লেখা: মহরম পর্ব, উদ্ধার পর্ব আর এজিদ বধ পর্ব। ঘটনা ইতিহাস থেকে নেওয়া হলেও লেখক কল্পনা আর আবেগ মিশিয়ে একে উপন্যাস করেছেন, তাই একে ইতিহাস গ্রন্থ নয়, ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস বলা হয়।
মীর মশাররফ হোসেনের অন্য পরিচিত রচনা জমীদার দর্পণ নাটক আর গাজী মিয়াঁর বস্তানী। তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবনী নামে আলাদা বই।
ফাঁদ ধর্মবিষয়ক প্রবন্ধ বিকল্পটি। বিষয় ধর্মীয় ইতিহাস বলে অনেকে একে ধর্মগ্রন্থ বা প্রবন্ধ ভাবেন, কিন্তু এর গঠন কাহিনিনির্ভর উপন্যাসের।
মনে রাখুন: বিষাদ সিন্ধু মানে কারবালা, তিন পর্ব, ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস; লেখক মীর মশাররফ হোসেন।
৯৭৭. মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত সালে মৃত্যুবরণ করেন? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৭৫৬
- খ১৭৫২
- গ১৭৬০
- ঘ১৭৬২
সঠিক উত্তর: গ. ১৭৬০
প্রশ্নটি একটি সাল জানতে চেয়েছে। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যান ১৭৬০ সালে। তাঁর মৃত্যুর সাল দিয়েই সাধারণত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সমাপ্তি ধরা হয়, তাই তাঁকে মধ্যযুগের শেষ কবি বলা হয়।
তিনি নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন; রাজাই তাঁকে রায়গুণাকর উপাধি দেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গল, যার একটি অংশ বিদ্যাসুন্দর।
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ, মানে মধ্যযুগ আর আধুনিক যুগের মাঝের পর্ব; এ সময় কবিগান ও টপ্পার জনপ্রিয়তা ছিল।
ফাঁদ ১৭৫৬ ও ১৭৫৭-এর আশপাশের সাল। পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭ সালে, সেটি ইতিহাসের বড় সাল বলে অনেকে কাছাকাছি সাল বেছে নেন; কিন্তু ভারতচন্দ্রের মৃত্যু তার তিন বছর পরে।
মনে রাখুন: পলাশীর তিন বছর পর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু: ১৭৫৭ যোগ ৩ সমান ১৭৬০।
৯৭৮. ‘তোহফা’ কাব্যটি কে রচনা করেন? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদৌলত কাজী
- খমাগন ঠাকুর
- গসাবিরিদ খান
- ঘআলাওল
সঠিক উত্তর: ঘ. আলাওল
প্রশ্নটি মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার কবিদের কাব্য চেনার। তোহফা আলাওলের রচনা, একটি নীতিকাব্য, যেখানে ইসলামি আচার আর নৈতিক উপদেশ বলা হয়েছে; এটি একটি ফারসি গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
আলাওল আরাকান রাজসভার সবচেয়ে বড় কবি। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য পদ্মাবতী; আরও আছে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সেকান্দরনামা ও হপ্তপয়কর।
অন্যরাও একই অঞ্চলের বা একই যুগের কবি। দৌলত কাজী লিখেছেন সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, যা অসমাপ্ত ছিল এবং পরে আলাওল শেষ করেন। মাগন ঠাকুর আরাকানের অমাত্য ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক, তাঁর কাব্য চন্দ্রাবতী। সাবিরিদ খানের কাব্য বিদ্যাসুন্দর ও রসুলবিজয়।
ফাঁদ দৌলত কাজী, কারণ তিনি আর আলাওল একই রাজসভার এবং একই কাব্যের সঙ্গে যুক্ত।
মনে রাখুন: আরাকান মানে দৌলত কাজী আর আলাওল; নীতিকাব্য তোহফা আর পদ্মাবতী আলাওলের।
৯৭৯. এন্টনি ফিরিঙ্গি কী জাতীয় সাহিত্যের রচয়িতা? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ককবিগান
- খপুঁথি সাহিত্য
- গনাথ সাহিত্য
- ঘবৈষ্ণব পদ সাহিত্য
সঠিক উত্তর: ক. কবিগান
প্রশ্নটি একজন কবির সাহিত্যধারা জানতে চেয়েছে। এন্টনি ফিরিঙ্গি ছিলেন কবিয়াল, মানে কবিগানের শিল্পী। তিনি পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত, তবু বাংলায় কবিগান গেয়ে খ্যাতি পান।
কবিগান হলো দুই দলের মধ্যে গানের লড়াই। এক দল গানে প্রশ্ন বা খোঁচা দেয়, অন্য দল তাৎক্ষণিক গান বেঁধে উত্তর দেয়। আঠারো শতকের শেষ আর উনিশ শতকে, যুগসন্ধিক্ষণে, এর জনপ্রিয়তা ছিল সবচেয়ে বেশি।
অন্য বিখ্যাত কবিয়াল হরু ঠাকুর, ভোলা ময়রা, রাম বসু। এন্টনি ফিরিঙ্গি আর ভোলা ময়রার কবির লড়াই বিশেষ পরিচিত।
ফাঁদ পুঁথি সাহিত্য, কারণ বিদেশি বংশের মানুষ বলে অনেকে তাঁকে অন্য ধারায় ফেলেন। কিন্তু পুঁথি, নাথ বা বৈষ্ণব পদের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত নয়।
মনে রাখুন: কবিয়াল মানে কবিগানের লড়াই: এন্টনি ফিরিঙ্গি বনাম ভোলা ময়রা মনে রাখুন।
৯৮০. ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটির প্রণেতা - – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কউইলিয়াম কেরি
- খগোলকনাথ শর্মা
- গরামরাম বসু
- ঘহরপ্রসাদ রায়
সঠিক উত্তর: গ. রামরাম বসু
প্রশ্নটি একটি প্রাচীন গদ্যগ্রন্থের লেখক জানতে চেয়েছে। রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র লিখেছেন রামরাম বসু, ১৮০১ সালে। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের মুনশি ছিলেন।
বইটির গুরুত্ব হলো, এটি বাঙালির লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ এবং প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থগুলোর একটি। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের জীবনকাহিনি এর বিষয়।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অন্য লেখকদের বই আলাদা করে মনে রাখুন। উইলিয়াম কেরির কথোপকথন ও ইতিহাসমালা, গোলকনাথ শর্মার হিতোপদেশ, হরপ্রসাদ রায়ের পুরুষপরীক্ষা।
ফাঁদ উইলিয়াম কেরি, কারণ তিনি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানেই এসব বই লেখা হয়। কিন্তু রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্রের লেখক রামরাম বসু।
মনে রাখুন: ফোর্ট উইলিয়ামের প্রথম মৌলিক গদ্য: রামরাম বসু, রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র, ১৮০১।