বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৬
১০১. পাশাপাশি অবস্থিত দুটো ধ্বনির মিলনে এক ধ্বনি সৃষ্টি হওয়াকে কি বলে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৫)
- কস্বরসন্ধি
- খসন্ধি
- গব্যঞ্জন সন্ধি
- ঘবিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর: খ. সন্ধি
প্রশ্নটা সন্ধির সংজ্ঞা যাচাই করছে। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে; মিলনের ফলে কখনো দুটি ধ্বনি মিলে একটি নতুন ধ্বনি হয়, কখনো একটি লোপ পায় বা বদলায়।
সন্ধির উদ্দেশ্য উচ্চারণ সহজ ও শ্রুতিমধুর করা। যেমন বিদ্যা যোগ আলয় মিলে বিদ্যালয়, যেখানে আ আর আ মিলে একটিই আ।
স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি আর বিসর্গসন্ধি হলো সন্ধির প্রকারভেদ। স্বরের সাথে স্বরের মিলন স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনের সাথে কোনো ধ্বনির মিলন ব্যঞ্জনসন্ধি, আর বিসর্গের সাথে মিলন বিসর্গসন্ধি।
প্রশ্নে ধ্বনির ধরন বলা হয়নি, শুধু দুটি ধ্বনির মিলন বলা হয়েছে; তাই সাধারণ সংজ্ঞা সন্ধিই উত্তর। স্বরসন্ধির উদাহরণে এক ধ্বনি হওয়ার কথা বেশি শোনা যায় বলে অনেকে সেটি বেছে নেন।
মনে রাখুন: সংজ্ঞায় ধ্বনির ধরন না থাকলে উত্তর মূল নাম (সন্ধি); ধরন থাকলে তার প্রকারভেদ।
১০২. 'নাছোড়বান্দা' অর্থ প্রকাশ করে কোন বাগধারা? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কখয়ের খাঁ
- খতীর্থের কাক
- গচীনেজোঁক
- ঘমণিকাঞ্চন যোগ
সঠিক উত্তর: গ. চীনেজোঁক
প্রশ্নটা বাগধারার অর্থ জানতে চেয়েছে। নাছোড়বান্দা মানে এমন লোক যে কিছুতেই পিছু ছাড়ে না, লেগে থাকে।
চীনেজোঁক বাগধারার অর্থ ঠিক এটাই। জোঁক একবার গায়ে লাগলে সহজে ছাড়ে না; সেই ছবি থেকেই নাছোড়বান্দা লোককে চীনেজোঁক বলা হয়।
খয়ের খাঁ মানে তোষামোদকারী বা চাটুকার। তীর্থের কাক মানে প্রত্যাশী হয়ে বসে থাকা লোক। মণিকাঞ্চন যোগ মানে দুটো উপযুক্ত জিনিসের চমৎকার মিলন।
তীর্থের কাকও অপেক্ষা করে লেগে থাকে বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু তীর্থের কাকের মূল ভাব প্রত্যাশা, আর চীনেজোঁকের মূল ভাব নাছোড় লেগে থাকা।
মনে রাখুন: জোঁক যেমন গায়ে লেগে থাকে, চীনেজোঁক তেমনি নাছোড়বান্দা; একই অর্থে আঠার মতো লেগে থাকা।
১০৩. 'মৈমনসিংহ গীতিকা'র "দেওয়ানা মদিনা" পালা কার তৈরি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কমনসুর বয়াতি
- খদ্বিজ কানাই
- গনয়ান চাঁদ
- ঘচন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর: ক. মনসুর বয়াতি
প্রশ্নটা মৈমনসিংহ গীতিকার একটি পালার রচয়িতা জানতে চেয়েছে। মৈমনসিংহ গীতিকা হলো ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকগাথার সংকলন, যা চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন এবং দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
দেওয়ানা মদিনা পালার রচয়িতা মনসুর বয়াতি। এটি দেওয়ান সোনাফরের ছেলে দুলাল আর মদিনার করুণ প্রেমকাহিনি, গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় পালা।
অন্য রচয়িতাদের পালাও মনে রাখুন: মহুয়া পালা দ্বিজ কানাইয়ের, মলুয়া ও দস্যু কেনারামের পালা চন্দ্রাবতীর বলে প্রচলিত, আর চন্দ্রাবতী পালা নয়ান চাঁদ ঘোষের।
মহুয়া পালার কারণে দ্বিজ কানাই নামটা সবচেয়ে পরিচিত, তাই অনেকে সব পালাই তাঁর বলে ধরে নেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: মদিনা আর মনসুর: দুটোই ম দিয়ে শুরু।
১০৪. চন্দ্রাবতী কোন শতকের কবি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কপনেরো
- খষোলো
- গসতেরো
- ঘআঠারো
সঠিক উত্তর: খ. ষোলো
প্রশ্নটা চন্দ্রাবতীর সময়কাল জানতে চেয়েছে। চন্দ্রাবতীকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি বলা হয়, আর তিনি ষোলো শতকের কবি।
তিনি মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা, বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাতুয়ারী গ্রামে। বাবা বংশীদাস ষোলো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মনসামঙ্গল লেখেন, তাই কন্যার সময়ও সেই শতকে।
তাঁর প্রধান রচনা রামায়ণ, আর মৈমনসিংহ গীতিকার মলুয়া ও দস্যু কেনারামের পালা তাঁর রচনা বলে প্রচলিত। তাঁর নিজের জীবনের কাহিনি নিয়ে নয়ান চাঁদ ঘোষ লেখেন চন্দ্রাবতী পালা।
সতেরো বা আঠারো শতক ভেবে ভুল করা সাধারণ, কারণ গীতিকাগুলো সংগ্রহ হয়েছে বিশ শতকে। কিন্তু রচনাকাল আর সংগ্রহকাল আলাদা জিনিস।
মনে রাখুন: বাবা বংশীদাস ষোলো শতকের, মেয়ে চন্দ্রাবতীও ষোলো শতকের।
১০৫. দ্বিস্বরধ্বনিযুক্ত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কমৌল
- খস্বর্ণ
- গসোনালি
- ঘখেলা
সঠিক উত্তর: ক. মৌল
প্রশ্নটা দ্বিস্বরধ্বনি বা যৌগিক স্বরধ্বনি চিনতে বলেছে। পাশাপাশি দুটো স্বর একটানে এক অক্ষরে উচ্চারিত হলে তাকে দ্বিস্বরধ্বনি বলে।
বাংলা বর্ণমালায় দ্বিস্বরধ্বনির চিহ্ন মাত্র দুটি: ঐ, যা অ আর ই মিলে হয়, এবং ঔ, যা অ আর উ মিলে হয়।
মৌল শব্দে ম-এর সঙ্গে ঔ-কার আছে, অর্থাৎ অ আর উ মিলে একটানা উচ্চারণ। তাই মৌল দ্বিস্বরধ্বনিযুক্ত শব্দ।
স্বর্ণ, সোনালি আর খেলা শব্দে প্রতিটি স্বর আলাদা অক্ষরে উচ্চারিত হয়, কোনো ঐ বা ঔ নেই। সোনালি-তে ও আছে বলে ঔ ভেবে ভুল করা যায়, কিন্তু ও মৌলিক স্বর।
মনে রাখুন: শব্দে ঐ-কার বা ঔ-কার খুঁজুন: বৈঠা, কৈ, নৌকা, মৌমাছি সবই দ্বিস্বরযুক্ত।
১০৬. 'অশ্বের চালক' - এককথায় কী হবে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কজকি
- খসারথি
- গসাদি
- ঘঘটক
সঠিক উত্তর: গ. সাদি
প্রশ্নটা এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন যাচাই করছে। অশ্বের চালক, অর্থাৎ যে ঘোড়া চালায় বা ঘোড়ায় চড়ে, তাকে এককথায় বলে সাদি।
সাদি শব্দের অর্থ অশ্বারোহী বা ঘোড়সওয়ার। একই ধরনের আরও কিছু শব্দ: হাতির চালক মাহুত, রথের চালক সারথি, নৌকার চালক মাঝি বা কান্ডারি।
সারথি শব্দটি চালক অর্থে খুব পরিচিত বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু সারথি চালায় রথ, ঘোড়া নয়। জকি ইংরেজি শব্দ, ঘোড়দৌড়ের পেশাদার আরোহী বোঝায়, বাংলা এককথা নয়। ঘটক বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক করে দেন।
মনে রাখুন: রথে সারথি, হাতিতে মাহুত, ঘোড়ায় সাদি।
১০৭. 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য কার শাসন আমলে রচিত হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কগিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- খআলাউদ্দিন হোসেন শাহ
- গফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
- ঘশামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর: ক. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
প্রশ্নটা মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান ইউসুফ-জোলেখা কোন সুলতানের সময়ে রচিত, তা জানতে চেয়েছে। কাব্যটি লেখেন শাহ মুহম্মদ সগীর, যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি হিসেবে পরিচিত।
কবি কাব্যে গৌড়ের সুলতানের প্রশস্তি করেছেন, যাকে গবেষকেরা গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ বলে শনাক্ত করেছেন। তিনি ১৩৮৯ থেকে ১৪১০ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন, তাই কাব্যটি চৌদ্দ শতকের শেষ থেকে পনেরো শতকের শুরুর রচনা।
মনে রাখুন, গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান, আর তাঁর সঙ্গে পারস্যের কবি হাফিজের পত্রালাপের কাহিনিও প্রসিদ্ধ।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নাম বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বেশি শোনা যায় বলে অনেকে সেটি বেছে নেন, কিন্তু তিনি এর প্রায় একশো বছর পরের।
মনে রাখুন: সগীর আর গিয়াসউদ্দিন: দুটো নামেই গ-এর ছোঁয়া, আর দুজনেই চৌদ্দ শতকের শেষের।
১০৮. 'বিদ্রোহী' কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কধূর্জটি
- খইসরাফিল
- গঅর্ফিয়াস
- ঘনটরাজ
সঠিক উত্তর: গ. অর্ফিয়াস
প্রশ্নে প্রতীচ্য মানে পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা। নজরুল বিদ্রোহী কবিতায় হিন্দু, মুসলিম, গ্রিক নানা পুরাণের চরিত্র ব্যবহার করেছেন; প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোনটি পশ্চিমা পুরাণ থেকে।
অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের অমর সংগীতশিল্পী, যার বাঁশি বা বীণার সুরে পশুপাখি, গাছপালা পর্যন্ত মুগ্ধ হতো। কবিতায় আছে, আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী। গ্রিক পুরাণ পাশ্চাত্য পুরাণ, তাই উত্তর অর্ফিয়াস।
ধূর্জটি আর নটরাজ দুটোই শিবের নাম, অর্থাৎ ভারতীয় হিন্দু পুরাণের। ইসরাফিল ইসলামি ঐতিহ্যের ফেরেশতা, যিনি কিয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁ দেবেন।
চারটি নামই বিদ্রোহী কবিতায় আছে, তাই শুধু কবিতায় আছে কি না দেখে উত্তর হবে না; দেখতে হবে কোনটি পশ্চিমা।
মনে রাখুন: প্রতীচ্য মানে পশ্চিম, প্রাচ্য মানে পূর্ব; গ্রিক-রোমান নাম খুঁজলেই উত্তর।
১০৯. ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ আছে কোন বাক্যে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কভালো করে কাজ কর।
- খতোমার কাছে এসেছি।
- গআমার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
- ঘসে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসেছে
সঠিক উত্তর: ক. ভালো করে কাজ কর।
অনুসর্গ হলো যে অব্যয় শব্দ বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে কারকের সম্পর্ক বোঝায়। উৎস অনুযায়ী অনুসর্গ দুই রকম: নামজাত, যা বিশেষ্য থেকে এসেছে, আর ক্রিয়াজাত, যা অসমাপিকা ক্রিয়া থেকে এসেছে।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ: দিয়ে, করে, থেকে, হতে, চেয়ে, ধরে, পেয়ে। ভালো করে কাজ কর বাক্যে করে শব্দটি করিয়া ক্রিয়া থেকে এসেছে, তাই এটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
কাছে, পক্ষে আর জন্য তিনটিই বিশেষ্য থেকে আসা, তাই নামজাত অনুসর্গ। যেমন কাছে এসেছে কক্ষ থেকে, পক্ষে এসেছে পক্ষ থেকে।
জন্য শব্দটি কারণ বোঝায় বলে অনেকে একে ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ভাবেন, কিন্তু এটি নামজাত। মূল প্রশ্ন সবসময়: শব্দটি কোনো ক্রিয়ার অসমাপিকা রূপ কি না।
মনে রাখুন: শব্দটির পেছনে দিয়া, করিয়া, থাকিয়া, চাহিয়া এমন অসমাপিকা রূপ থাকলে ক্রিয়াজাত।
১১০. কোন দুটি শব্দ 'পদ্ম' শব্দের সমার্থক? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কউদক, পয়ঃ
- খনলিন, রাজীব
- গজায়া, দার
- ঘমিহির, মিত্র
সঠিক উত্তর: খ. নলিন, রাজীব
প্রশ্নে ছাপা আছে পর, কিন্তু কোনো অপশনই পর মানে অন্য বা অনাত্মীয়ের সমার্থক নয়। অপশন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় মূল শব্দ পদ্ম, তাই এখানে পদ্মের সমার্থক জোড়া খুঁজতে হবে।
নলিন ও রাজীব দুটোই পদ্মের প্রতিশব্দ। পদ্মের আরও প্রতিশব্দ: কমল, পঙ্কজ, অরবিন্দ, শতদল, উৎপল, কুবলয়, সরোজ।
বাকি জোড়াগুলোও কোনো না কোনো শব্দের সমার্থক, যা চিনে রাখা দরকার। উদক ও পয়ঃ মানে পানি। জায়া ও দার মানে স্ত্রী। মিহির ও মিত্র মানে সূর্য।
প্রতিটি জোড়া নিজের মধ্যে সমার্থক বলে না পড়ে চোখ বুলালে যেকোনো একটিকে ঠিক মনে হতে পারে; তাই আগে মূল শব্দের অর্থ নিশ্চিত করুন।
মনে রাখুন: পদ্মের অনেক প্রতিশব্দের মানে পাঁক বা জলে জন্মানো: পঙ্কজ, সরোজ, নীরজ, অম্বুজ; এ ছাড়া কমল, নলিন, রাজীব, শতদল।
১১১. 'Epistemology' শব্দের বাংলা পরিভাষা কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কজ্ঞানতত্ত্ব
- খবাগর্থতত্ত্ব
- গভূতত্ত্ব
- ঘপ্রত্নতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: ক. জ্ঞানতত্ত্ব
প্রশ্নটা ইংরেজি পরিভাষার বাংলা জানতে চেয়েছে। Epistemology দর্শনের সেই শাখা যা জ্ঞানের প্রকৃতি, উৎস ও সীমা নিয়ে আলোচনা করে; এর বাংলা পরিভাষা জ্ঞানতত্ত্ব।
শব্দটি গ্রিক episteme, মানে জ্ঞান, আর logy, মানে বিদ্যা বা তত্ত্ব থেকে এসেছে। তাই অংশ ধরে অনুবাদ করলেও দাঁড়ায় জ্ঞানতত্ত্ব।
বাকি পরিভাষাগুলো: Semantics হলো বাগর্থতত্ত্ব বা শব্দার্থতত্ত্ব, Geology হলো ভূতত্ত্ব, Archaeology হলো প্রত্নতত্ত্ব। সব অপশনে তত্ত্ব শব্দ থাকায় শব্দের প্রথম অংশটাই আসল সূত্র।
মনে রাখুন: -logy মানে তত্ত্ব; সামনের অংশটার অর্থ জানলেই পরিভাষা মেলে: geo ভূ, archaeo প্রাচীন, episteme জ্ঞান।
১১২. অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কচাঁপা
- খচীনা
- গচামচ
- ঘচাল
সঠিক উত্তর: ক. চাঁপা
প্রশ্নটা বাংলা অভিধানে শব্দ সাজানোর নিয়ম যাচাই করছে। চারটি শব্দই চ দিয়ে শুরু, তাই পরের চিহ্নগুলো তুলনা করতে হবে।
বাংলা একাডেমির অভিধানে বর্ণক্রমে চন্দ্রবিন্দু, অনুস্বার ও বিসর্গ স্বরবর্ণের পরে কিন্তু ব্যঞ্জনবর্ণের আগে বসে। তাই একই বর্ণ ও কারের পর চন্দ্রবিন্দু থাকলে সেই শব্দ ব্যঞ্জনযুক্ত শব্দের আগে আসে।
চাঁপা, চামচ আর চাল তিনটিতেই চা আছে। চাঁপায় চা-এর পরে চন্দ্রবিন্দু, অন্য দুটিতে চা-এর পরে ম আর ল, যারা ব্যঞ্জন। তাই চাঁপা সবার আগে। চীনা আসবে সবার শেষে, কারণ ঈ-কার আ-কারের পরে।
চন্দ্রবিন্দুকে উপেক্ষা করে শুধু ম আর ল তুলনা করলে চামচকে প্রথম মনে হয়; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: অভিধানে ঁ ং ঃ থাকা শব্দ একই বর্ণের ব্যঞ্জনযুক্ত শব্দের আগে বসে: আঁকা আগে, আকাশ পরে।
১১৩. কবি আল মাহমুদ প্রয়াত হন কোন তারিখে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- ক১৫ মার্চ ২০১৬
- খ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
- গ১৫ মার্চ ২০২০
- ঘ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
প্রশ্নটা কবি আল মাহমুদের মৃত্যুর তারিখ জানতে চেয়েছে। আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মারা যান।
তাঁর জন্ম ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইলে। আসল নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। লোক লোকান্তর, কালের কলস আর সোনালি কাবিন তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, আর কাবিলের বোন ও উপমহাদেশ তাঁর উপন্যাস।
অপশনগুলোতে ১৫ তারিখটা সব জায়গায় রেখে মাস আর বছর বদলানো হয়েছে। তাই শুধু তারিখ নয়, মাস ফেব্রুয়ারি আর বছর ২০১৯ দুটোই মনে রাখতে হবে।
মনে রাখুন: ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতেই বিদায় নেন সোনালি কাবিনের কবি।
১১৪. উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- কগুণমান
- খঅনুমান
- গচলমান
- ঘবুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর: খ. অনুমান
উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে, আর প্রত্যয় বসে শব্দ বা ধাতুর পরে। তাই উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ চিনতে হলে শব্দের শুরুতে প্র, পরা, অনু, অপ, সম, নি জাতীয় কোনো অংশ আছে কিনা দেখতে হয়।
অনুমান শব্দটি তৎসম উপসর্গ অনু আর মান মিলে তৈরি। অনু উপসর্গ পশ্চাৎ বা সদৃশ অর্থ দেয়; মান মানে পরিমাপ বা ধারণা। ফলে অনুমান মানে কোনো কিছুর ভিত্তিতে পরে করা ধারণা।
বাকি তিনটিতে মান অংশটা শেষে বসেছে। বুদ্ধিমান হলো বুদ্ধি যোগ মান, এখানে মান হলো মতুপ প্রত্যয়জাত, অর্থ বুদ্ধি আছে যার। চলমান হলো চল ধাতু যোগ মান প্রত্যয়, মানে যা চলছে। গুণমান হলো গুণ আর মান দুটি শব্দের সমাস, মানে গুণের মান।
ফাঁদ হলো চারটি শব্দেই মান থাকা। মান যেখানে শেষে প্রত্যয় হিসেবে আছে সেগুলো প্রত্যয়জাত; শুধু অনুমান-এ শুরুতে উপসর্গ আছে।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুটা দেখুন: অনু-, প্র-, পরা-, অপ-, সম্- থাকলে উপসর্গ; শেষে -মান, -বান থাকলে প্রত্যয়।
১১৫. 'গণ্ডুষ' অর্থ কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- ককেঁচো
- খজোঁক
- গশুরু করা
- ঘঅল্প পানি
সঠিক উত্তর: ঘ. অল্প পানি
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। শব্দটির প্রমিত বানান গণ্ডূষ, দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে। এর অর্থ এক কোষ বা এক চুমুক পরিমাণ জল, মানে মুখে একবারে যতটুকু জল নেওয়া যায়।
সাহিত্যে এক গণ্ডূষ জল কথাটি খুব অল্প পরিমাণ জল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। কুলকুচি করার জন্য মুখে নেওয়া জলকেও গণ্ডূষ বলে। তাই এখানে সঠিক অর্থ অল্প পানি।
এ ধরনের অপরিচিত তৎসম শব্দের প্রশ্নে শব্দের ধ্বনি দেখে আন্দাজ না করে অর্থ মুখস্থ রাখা জরুরি। কাছাকাছি শব্দ: গণ্ডূপদ মানে কেঁচো, আর জলৌকা মানে জোঁক।
ফাঁদ হলো গণ্ডূষ আর গণ্ডূপদ গুলিয়ে ফেলা। গণ্ডূপদ মানে কেঁচো, তাই অনেকে কেঁচো দাগিয়ে ফেলেন।
মনে রাখুন: গণ্ডূষে জল, গণ্ডূপদে পা: পা-ওয়ালা শব্দটি কেঁচো।
১১৬. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নয় কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৫)
- ক'আরেক ফাল্গুন'
- খ'কবর'
- গ'আর্তনাদ'
- ঘ'চিলেকোঠার সেপাই'
সঠিক উত্তর: ঘ. 'চিলেকোঠার সেপাই'
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন রচনা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা নয়। এমন প্রশ্নে প্রতিটি রচনার লেখক ও বিষয় মনে রাখতে হয়।
জহির রায়হানের উপন্যাস আরেক ফাল্গুন ভাষা আন্দোলনের পরের বছর শহিদ দিবস পালনের ঘটনা নিয়ে লেখা। মুনীর চৌধুরীর নাটক কবর ১৯৫৩ সালে জেলে বসে লেখা, ভাষাশহিদদের নিয়ে। শওকত ওসমানের উপন্যাস আর্তনাদও ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক।
অন্যদিকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান। তাই এটি ভাষা আন্দোলনের রচনা নয়।
ফাঁদ হলো আর্তনাদ নামটি কম পরিচিত হওয়ায় একে বাদ দেওয়া। কিন্তু চিলেকোঠার সেপাই নিশ্চিতভাবে উনসত্তরের উপন্যাস।
মনে রাখুন: ইলিয়াসের দুই উপন্যাস মনে রাখুন: চিলেকোঠার সেপাই (উনসত্তর), খোয়াবনামা (তেভাগা ও দেশভাগ)।
১১৭. ’লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান।’- এখানে ’ভণই’ শব্দের অর্থ কী? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবলে
- খভাবে
- গচায়
- ঘদেখে
সঠিক উত্তর: ক. বলে
চরণটি চর্যাপদের প্রথম পদ থেকে, লুইপার রচনা। এখানে ভণই মানে বলে বা বলেন; সংস্কৃত ভণ ধাতুর অর্থ বলা।
পুরো চরণের অর্থ দাঁড়ায়: লুই বলেন, গুরুকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও। পুছিঅ মানে জিজ্ঞেস করে, জান মানে জানো।
চর্যার প্রায় প্রতিটি পদের শেষে কবি নিজের নাম জুড়ে দিয়ে বলেন অমুক ভণই, অর্থাৎ অমুক বলেন। কবির নাম যুক্ত এই অংশকে বলে ভণিতা, শব্দটিও এসেছে একই ভণ ধাতু থেকে।
ভাবে বা দেখে বিকল্পগুলো শুনতে কাছাকাছি মনে হতে পারে, কিন্তু ভণ ধাতু কেবল বলা বোঝায়।
মনে রাখুন: চর্যায় কবির নামের পরে ভণই এলে অর্থ সবসময় বলেন; ভণিতা শব্দও এখান থেকে।
১১৮. ’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের অংশ নয় কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কনৌকা খণ্ড
- খহার খণ্ড
- গরাধা বিরহ
- ঘপ্রণয় খণ্ড
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রণয় খণ্ড
বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য তেরোটি অংশে বিভক্ত। বারোটি অংশের নাম খণ্ড, আর শেষ অংশটির নাম রাধাবিরহ, যাকে খণ্ড বলা হয় না।
খণ্ডগুলো ক্রমে: জন্ম, তাম্বুল, দান, নৌকা, ভার, ছত্র, বৃন্দাবন, কালিয়দমন, যমুনা, হার, বাণ ও বংশী খণ্ড; শেষে রাধাবিরহ।
এ তালিকায় প্রণয় খণ্ড নামে কোনো অংশ নেই। কাব্যটি রাধা কৃষ্ণের প্রণয়কাহিনি বলে নামটা বিশ্বাসযোগ্য শোনায়, এটাই ফাঁদ।
তালিকা মনে রাখার কৌশল: কাহিনির জিনিসপত্র ধরে এগোন। পান মানে তাম্বুল, তারপর দান, নৌকা, ভার, ছাতা, হার, বাণ আর বাঁশি।
মনে রাখুন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: বারো খণ্ড আর এক রাধাবিরহ, মোট তেরো।
১১৯. বিবৃত স্বরধ্বনি বলতে বোঝায় - (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কযে স্বরধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁট বেশি খোলে
- খযে স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ উঁচু হয়
- গযে স্বরধ্বনি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়
- ঘযে স্বরধ্বনি উচ্চারণে বিকৃতি ঘটে
সঠিক উত্তর: ক. যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁট বেশি খোলে
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ কতটা উঁচু বা নিচু থাকে এবং মুখ কতটা খোলে, তার ভিত্তিতে স্বরকে সংবৃত ও বিবৃত ভাগ করা হয়। বিবৃত মানে খোলা।
যে স্বর উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে নিচে নামে এবং মুখ ও ঠোঁট বেশি খোলে, সেটি বিবৃত স্বরধ্বনি; যেমন আ। এর একটু ওপরে অ্যা ও অ, এদের বলে অর্ধবিবৃত।
উল্টো দিকে, জিভ উঁচুতে উঠে মুখ কম খুললে সংবৃত স্বর, যেমন ই ও উ; আর এ ও ও হলো অর্ধসংবৃত।
ফাঁদ শব্দের মিল। বিবৃত আর বিকৃত শুনতে কাছাকাছি, তাই বিকৃতি বা অবিকৃত উচ্চারণের বিকল্প দুটি টানতে পারে; কিন্তু এখানে বিবৃত মানে খোলা, বিকৃতি নয়।
মনে রাখুন: সংবৃত মানে বন্ধ, বিবৃত মানে খোলা; আ বলতে মুখ সবচেয়ে বেশি খোলে।
১২০. মনোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও অভিধান প্রকাশের আগে কত বছর ধরে শব্দ সংগ্রহ করেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক২-৩ বছর
- খ৫-৭ বছর
- গ৯-১০ বছর
- ঘ১৪-১৫ বছর
সঠিক উত্তর: গ. ৯-১০ বছর
পর্তুগিজ পাদ্রি মনোয়েল দা আসসুম্পসাঁও ঢাকার কাছে ভাওয়াল অঞ্চলে থাকার সময় বাংলা শব্দ সংগ্রহ ও ব্যাকরণ রচনার কাজ করেন, ১৭৩৪ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত।
কাজটি ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন থেকে রোমান হরফে ছাপা হয়, বাংলা পর্তুগিজ শব্দকোষ ও বাংলা ব্যাকরণ হিসেবে। এটিকে প্রথম মুদ্রিত বাংলা শব্দকোষ ধরা হয়।
হিসাব: ১৭৩৪ থেকে ১৭৪২, দুই প্রান্তের সাল ধরে গুনলে নয়টি বছর জুড়ে কাজ চলেছে। ছাপা হওয়ার সাল ১৭৪৩ পর্যন্ত ধরলে হয় দশ বছর। তাই উত্তর ৯ থেকে ১০ বছর।
অন্য বিকল্পগুলো এই সময়সীমার সঙ্গে মেলে না: ২ থেকে ৩ বা ৫ থেকে ৭ বছর অনেক কম, আর ১৪ থেকে ১৫ বছর অনেক বেশি।
মনে রাখুন: ভাওয়াল ১৭৩৪ থেকে লিসবন ১৭৪৩: সাল গুনলে ৯ থেকে ১০ বছর।