বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৭
১২১. 'আলালের ঘরের দুলাল' প্রথমে কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবিবিধার্থ সংগ্রহ
- খসংবাদ প্রভাকর
- গমাসিক পত্রিকা
- ঘবঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর: গ. মাসিক পত্রিকা
প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল প্রথমে ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয় মাসিক পত্রিকায়। পত্রিকাটি প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদার যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন, ১৮৫৪ সাল থেকে।
প্যারীচাঁদ লিখতেন টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে। আলালের ঘরের দুলালকে বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ধরা হয়, যদিও প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী। এর কথ্যঘেঁষা ভাষাকে বলা হয় আলালি ভাষা।
অন্য পত্রিকাগুলো চিনে রাখুন: বিবিধার্থ সংগ্রহ রাজেন্দ্রলাল মিত্রের, সংবাদ প্রভাকর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের, বঙ্গদর্শন বঙ্কিমচন্দ্রের।
ফাঁদ বঙ্গদর্শন, কারণ সেখানে বঙ্কিমের অনেক উপন্যাস ধারাবাহিক ছাপা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গদর্শন শুরু হয় ১৮৭২ সালে, আলালের অনেক পরে।
মনে রাখুন: আলাল আর মাসিক পত্রিকা একই মানুষের হাতে: প্যারীচাঁদ মিত্র।
১২২. 'সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'- কোন কবিতার অংশ? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপরার্থে
- খপাছে লোকে কিছু বলে
- গবড় কে
- ঘসুখ
সঠিক উত্তর: ঘ. সুখ
সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে, এই চরণ কামিনী রায়ের সুখ কবিতার। কবিতায় তিনি বলেছেন, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে কেউ পৃথিবীতে আসেনি, অন্যের জন্য বাঁচাতেই প্রকৃত সুখ।
কামিনী রায় ব্রিটিশ ভারতের প্রথম নারী অনার্স স্নাতক, ১৮৮৬ সালে বেথুন কলেজ থেকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া।
তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কবিতা পাছে লোকে কিছু বলে, যেখানে লোকলজ্জার ভয়ে কাজ করতে না পারার কথা আছে। আর বড় কে কবিতাটি হরিশ্চন্দ্র মিত্রের, যার বিখ্যাত চরণ আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়।
ফাঁদ পরার্থে, কারণ পরের তরে কথাটির অর্থই পরার্থে। কিন্তু চরণটি যে কবিতায় আছে তার নাম সুখ।
মনে রাখুন: পরের তরে চরণ দেখে পরার্থে বেছে নেবেন না; কবিতার নাম সুখ।
১২৩. কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত হয়নি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅগ্নিবীণা
- খবিষের বাঁশি
- গভাঙার গান
- ঘচন্দ্রবিন্দু
সঠিক উত্তর: ক. অগ্নিবীণা
ব্রিটিশ সরকার নজরুলের পাঁচটি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করেছিল: যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা ও চন্দ্রবিন্দু। প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে কোনটি বাজেয়াপ্ত হয়নি।
অগ্নিবীণা নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯২২ সালে প্রকাশিত। এতে প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, কামাল পাশার মতো বিদ্রোহী সুরের কবিতা থাকলেও বইটি বাজেয়াপ্ত হয়নি।
মনে রাখুন, বিদ্রোহী কবিতা অগ্নিবীণাতে থাকায় অনেকেই ধরে নেন বইটিও নিষিদ্ধ ছিল। এটাই প্রধান ফাঁদ।
নজরুলের বাজেয়াপ্ত বইয়ের নামগুলো ছোট ছন্দে মনে রাখা যায়: যুগের বাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়ের শিখা আর চন্দ্রবিন্দু।
মনে রাখুন: বাজেয়াপ্ত পাঁচটি: যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা, চন্দ্রবিন্দু; অগ্নিবীণা নয়।
১২৪. জসীম উদ্দীনের 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবালুচর
- খরাখালী
- গধানক্ষেত
- ঘমা যে জননী কান্দে
সঠিক উত্তর: খ. রাখালী
জসীমউদ্দীনের কবর কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালীর অন্তর্গত, যা ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
কবিতাটিতে এক বৃদ্ধ দাদু নাতিকে একে একে প্রিয়জনদের কবর দেখিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। কবি ছাত্র থাকা অবস্থাতেই এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকার বাংলা সংকলনে পাঠ্য হয়।
জসীমউদ্দীনের অন্য কাব্য: নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, ধানক্ষেত, মা যে জননী কান্দে। কবর আর নকশী কাঁথার মাঠ সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় আসে।
বাকি তিনটি বিকল্পও জসীমউদ্দীনের বই, তাই লেখক চিনে উত্তর হবে না; কবর মানেই রাখালী, এই জোড়াটি মনে রাখুন।
মনে রাখুন: কবর = রাখালী; নকশী কাঁথার মাঠ আলাদা কাহিনিকাব্য।
১২৫. গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কগৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
- খগৌড় সাহিত্যের স্বাভাবিক রীতি
- গগৌড় ভাষার লিখিত নমুনা
- ঘগৌড় ভাষার বিকৃত উচ্চারণ
সঠিক উত্তর: ক. গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
প্রাকৃত শব্দের মূল অর্থ স্বাভাবিক বা সাধারণ; প্রাচীন ভারতে সংস্কৃতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাগুলোকে প্রাকৃত বলা হতো। গৌড় অঞ্চলের মানুষের মুখে প্রচলিত প্রাকৃতই গৌড়ী প্রাকৃত।
বাংলা ভাষার উৎস নিয়ে দুটি মত আছে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড় অপভ্রংশ, তা থেকে বাংলা। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে বাংলা।
সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রে গৌড়ী রীতি নামে একটি কাব্যরীতিও আছে। তাই সাহিত্যের রীতি বিকল্পটি বিভ্রান্ত করতে পারে, কিন্তু প্রাকৃত বলতে রীতি নয়, ভাষা বোঝায়।
প্রাকৃতকে সংস্কৃতের বিকৃত রূপ ভাবাও ভুল; এটি স্বাভাবিকভাবে বিবর্তিত কথ্য ভাষা। আর এর মূল পরিচয় মুখের ভাষা, লিখিত নমুনা নয়।
মনে রাখুন: গৌড়ী শহীদুল্লাহ্র, মাগধী সুনীতিকুমারের; আর প্রাকৃত মানেই মুখের ভাষা।
১২৬. 'Glossary' শব্দের বাংলা পরিভাষা- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কজ্ঞাপনপত্র
- খসর্বসাকল্যে
- গশব্দার্থপঞ্জি
- ঘগুদামজাত
সঠিক উত্তর: গ. শব্দার্থপঞ্জি
গ্লসারি মানে কোনো বই বা বিষয়ের কঠিন ও বিশেষ শব্দগুলোর অর্থসহ তালিকা, সাধারণত বইয়ের শেষে থাকে। তাই এর বাংলা পরিভাষা শব্দার্থপঞ্জি, কোথাও শব্দকোষ বা টীকাপঞ্জি।
শব্দটি ভাঙলে অর্থ পরিষ্কার: শব্দার্থ মানে শব্দের অর্থ, পঞ্জি মানে তালিকা। তাই শব্দার্থপঞ্জি মানে শব্দের অর্থের তালিকা।
অন্য বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা। জ্ঞাপনপত্র মানে কিছু জানানোর জন্য লেখা পত্র; সর্বসাকল্যে মানে সব মিলিয়ে বা মোটের উপর; গুদামজাত মানে গুদামে মজুত করা।
পরিভাষার প্রশ্নে বাংলা শব্দটি ভেঙে তার আক্ষরিক অর্থ ইংরেজি শব্দের কাজের সঙ্গে মেলান; তাহলেই ভুল বিকল্প বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: পঞ্জি মানে তালিকা: শব্দার্থপঞ্জি গ্লসারি, গ্রন্থপঞ্জি বিবলিওগ্রাফি।
১২৭. 'ঐক্যমত' শব্দটি কোন বিবেচনায় অশুদ্ধ নয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমতের ঐক্য - এভাবে সমাসসাধিত ধরলে
- খএকমত+য - এভাবে প্রত্যয়সাধিত ধরলে
- গঐক্য+মত - এভাবে উপসর্গসাধিত ধরলে
- ঘঐক্যমত শব্দটিকে পারিভাষিক শব্দ ধরলে
সঠিক উত্তর: ক. মতের ঐক্য - এভাবে সমাসসাধিত ধরলে
প্রমিত ব্যাকরণে শুদ্ধ রূপ দুটি: ঐকমত্য এবং মতৈক্য। ঐকমত্য গঠিত একমত শব্দের সঙ্গে য প্রত্যয় যোগে, যেখানে প্রথম স্বর এ বৃদ্ধি পেয়ে ঐ হয়েছে। মতৈক্য গঠিত মত আর ঐক্য মিলে, অ আর ঐ মিলে ঐ হয়ে।
ঐক্যমত শব্দটি এই দুই নিয়মের কোনোটিতেই পড়ে না, তাই সাধারণভাবে একে অশুদ্ধ ধরা হয়। তবে ঐক্য আর মত দুটি পদ জুড়ে একটি সমাসবদ্ধ পদ ধরলে, যার অর্থ মতের ঐক্য, তখন শব্দটি গঠনগতভাবে দাঁড়িয়ে যায়।
সমাসে পদ উল্টো ক্রমে বসার দৃষ্টান্ত বাংলায় আছে, যেমন রাজপথ মানে পথের রাজা। একই যুক্তিতে ঐক্যমত মানে মতের ঐক্য।
অন্য বিকল্পের যুক্তি টেকে না। একমত আর য প্রত্যয় থেকে হয় ঐকমত্য, ঐক্যমত নয়; ঐক্য কোনো উপসর্গ নয়; আর পারিভাষিক শব্দ হওয়া মানেই শুদ্ধ হওয়া নয়।
মনে রাখুন: নিরাপদ বানান ঐকমত্য বা মতৈক্য; ঐক্যমত টেকে কেবল সমাস হিসেবে ধরলে।
১২৮. ১৯৩৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বানান সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবানানকে উচ্চারণের কাছাকাছি নেওয়া
- খবানানের ঐতিহ্যকে বজায় রাখা
- গবানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
- ঘবানানে বিকল্প বর্জন করা
সঠিক উত্তর: গ. বানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
১৯৩৫ সালে রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একটি বানান সংস্কার সমিতি গঠন করে, আর ১৯৩৬ সালে প্রকাশ করে বাংলা বানানের নিয়ম। তখন একই শব্দ নানা জনে নানা বানানে লিখতেন।
এই বিশৃঙ্খলা দূর করে বানানে সমতা আনার জন্য একটি লিখিত নিয়মমালা তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের বানানে নিয়ম ঠিক করা হয়; তৎসম শব্দের বানান মূলত আগের মতোই রাখা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে বাংলা একাডেমি ১৯৯২ সালে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে।
ফাঁদ উচ্চারণের কাছাকাছি নেওয়ার বিকল্পটি। কিছু নিয়মে বানান সরল হলেও কমিটির মূল কাজ ছিল নিয়ম বেঁধে দেওয়া, উচ্চারণ অনুযায়ী বানান করা নয়।
মনে রাখুন: ১৯৩৬ মানে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বানানের নিয়ম; উদ্দেশ্য নিয়ম বেঁধে সমতা আনা।
১২৯. অভিধানে ং, ঃ, ঁ, - এই বর্ণগুলোর অবস্থান কোথায়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কস্বরবর্ণের আগে
- খস্বরবর্ণের শেষে
- গব্যঞ্জনবর্ণের শেষে
- ঘএদের নির্দিষ্ট অবস্থান নেই
সঠিক উত্তর: খ. স্বরবর্ণের শেষে
বাংলা অভিধানে শব্দ সাজানো হয় বর্ণের নির্দিষ্ট ক্রম ধরে। এ ক্রমে অনুস্বার, বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু বসে স্বরবর্ণের শেষে, অর্থাৎ ঔ-এর পরে এবং ক-এর আগে।
এর ফলে একই আদ্যক্ষরের শব্দের মধ্যে অনুস্বার বা বিসর্গযুক্ত শব্দ আগে আসে। যেমন অংশ শব্দটি অকাল শব্দের আগে পাবেন, কারণ অনুস্বার ক-এর আগে বসে।
এগুলো স্বরও নয়, পূর্ণ ব্যঞ্জনও নয়, পরাশ্রয়ী বর্ণ; তবু অভিধানে এদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে।
ফাঁদ এদের নির্দিষ্ট অবস্থান নেই বিকল্পটি, কারণ এরা আলাদা স্বাধীন বর্ণ নয়। কিন্তু অভিধানের বর্ণক্রমে এদের স্থান ঠিক করা আছে।
মনে রাখুন: অভিধানে ক্রম: স্বরবর্ণ, তারপর ং ঃ ঁ, তারপর ব্যঞ্জনবর্ণ; তাই অংশ আগে, অকাল পরে।
১৩০. পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে 'স্মরণ' শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি ঘটে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কস-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়
- খণ-এর উচ্চারণ ন হয়ে যায়
- গম-ফলার উচ্চারণ ম হয়ে যায়
- ঘশুরুতে নাসিক্য উচ্চারণ হয় না
সঠিক উত্তর: ক. স-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়
প্রশ্নটি স্মরণ শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ নিয়ে। শব্দের শুরুতে ম-ফলাযুক্ত স্ম থাকলে ম আলাদা করে উচ্চারিত হয় না, আর স এখানে দন্ত্য স নয়, শ-এর মতো শোনায়। ফলে শব্দটি শোনায় শরোন।
প্রদত্ত উত্তর অনুযায়ী পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে স্মরণ শব্দে স-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়, অর্থাৎ শরোন। তুলনা করুন, স্মৃতি শব্দে স-এর পরে র-ধ্বনি থাকায় স দন্ত্যই থাকে।
সাবধান: মান উচ্চারণে শুরুর স্ম-তে সামান্য নাসিক্যভাব থাকে, শঁরোন; পূর্ববঙ্গের মুখে সেই নাসিক্যভাবও প্রায় থাকে না। এ কারণে কোনো কোনো গাইড নাসিক্য উচ্চারণ হয় না বিকল্পটিকে উত্তর ধরে; প্রশ্নটি নিয়ে মতভেদ আছে।
ণ সব বাংলা উচ্চারণেই ন-এর মতো শোনায়, তাই এটি পূর্ববঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয়। আর ম-ফলা শব্দের শুরুতে পূর্ণ ম হিসেবে উচ্চারিত হয় না।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুতে ম-ফলা নীরব থাকে; স্মরণ শব্দে স্ম শোনায় শ-এর মতো: শরোন।
১৩১. 'গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগ্ধারার 'গড্ডল' শব্দের অর্থ কী? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কনদী
- খস্রোত
- গভেড়া
- ঘমশা
সঠিক উত্তর: গ. ভেড়া
গড্ডল শব্দের অর্থ ভেড়া, আর গড্ডলিকা মানে ভেড়ার পাল। ভেড়ার পাল সামনের ভেড়াকে না ভেবে অনুসরণ করে, এমনকি সে খাদে পড়লেও।
তাই গড্ডলিকা প্রবাহ বাগ্ধারার অর্থ অন্ধ অনুকরণ, বিচার বিবেচনা ছাড়াই সবাই যা করছে তা-ই করা। যেমন: গড্ডলিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে নিজে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নাও।
প্রাণীর নামের এমন আরও বাগ্ধারা আছে: কূপমণ্ডূক, মণ্ডূক মানে ব্যাঙ, অর্থ সীমিত জ্ঞানের মানুষ; দুধের মাছি, অর্থ সুসময়ের বন্ধু।
ফাঁদ স্রোত বা নদী, কারণ বাগ্ধারায় প্রবাহ শব্দটি আছে। কিন্তু প্রবাহ এখানে দলবেঁধে চলাকে বোঝায়, আর গড্ডল মানে ভেড়াই।
মনে রাখুন: বাগ্ধারার কঠিন শব্দটির আক্ষরিক অর্থ জানলে পুরো অর্থ বেরিয়ে আসে: গড্ডল ভেড়া, মণ্ডূক ব্যাঙ।
১৩২. 'এমন পিরিতি কভু নাহি দেখি শুনি।/পরানে পরান বান্ধা আপনা আপনি।।' কার লেখা? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবিদ্যাপতি
- খচণ্ডীদাস
- গজ্ঞানদাস
- ঘগোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর: খ. চণ্ডীদাস
এমন পিরিতি কভু নাহি দেখি শুনি, পরানে পরান বান্ধা আপনা আপনি, এই পদটি বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের। রাধা কৃষ্ণের প্রেম এতটাই গভীর যে দুজনের প্রাণ আপনা থেকেই বাঁধা পড়েছে, এই ভাবই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
চণ্ডীদাসের পদের ভাষা সহজ বাংলা, আবেগ গভীর আর আন্তরিক। মানবতার বাণী হিসেবে খ্যাত সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই চরণটিও চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত।
অন্য বৈষ্ণব কবিদের চিনে রাখুন: বিদ্যাপতি মৈথিলী ভাষায় লিখতেন, তাঁকে বলা হয় অভিনব জয়দেব; গোবিন্দদাস ব্রজবুলিতে লিখতেন, বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য; জ্ঞানদাস বাংলায় লিখতেন, চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
ফাঁদ জ্ঞানদাস, কারণ তাঁর পদের ভাব চণ্ডীদাসের খুব কাছাকাছি। কিন্তু এই বিখ্যাত চরণটি চণ্ডীদাসের।
মনে রাখুন: বিদ্যাপতি আর গোবিন্দদাস এক জোড়া, চণ্ডীদাস আর জ্ঞানদাস আরেক জোড়া।
১৩৩. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত বাংলা বইগুলো- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
- খফারসি বইয়ের অনুবাদ
- গইংরেজি বইয়ের অনুবাদ
- ঘপণ্ডিতদের রচিত মৌলিক গ্রন্থ
সঠিক উত্তর: ক. সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে লেখা বাংলা বইগুলোর প্রধান উৎস কী। ১৮০০ সালে কলকাতায় এই কলেজ খোলা হয় ইংরেজ সিভিলিয়ানদের দেশীয় ভাষা শেখানোর জন্য, আর উইলিয়াম কেরির তত্ত্বাবধানে পণ্ডিত ও মুনশিরা তাঁদের জন্য পাঠ্যবই লেখেন।
এই বইগুলোর বড় অংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা অনুসরণ। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের বত্রিশ সিংহাসন আর গোলোকনাথ শর্মার হিতোপদেশ এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ।
ফারসি থেকেও কিছু অনুবাদ হয়েছিল, যেমন চণ্ডীচরণ মুনশির তোতা ইতিহাস। রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্রের মতো মৌলিক রচনাও ছিল। কিন্তু সংখ্যায় ও গুরুত্বে সংস্কৃত উৎসই প্রধান, তাই উত্তর সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ।
ফাঁদ হলো রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্রের কথা মনে পড়ায় মৌলিক গ্রন্থের বিকল্পটি বেছে নেওয়া। দু একটি মৌলিক বই থাকলেও পর্বটির সাধারণ বৈশিষ্ট্য অনুবাদ, বিশেষ করে সংস্কৃত থেকে।
মনে রাখুন: ফোর্ট উইলিয়াম মানেই পাঠ্যবই, আর পাঠ্যবই মানেই প্রধানত সংস্কৃত থেকে অনুবাদ; ব্যতিক্রম হিসেবে মনে রাখুন রামরাম বসুর মৌলিক রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
১৩৪. সাহিত্যের রূপ ও রীতির বিচারে কোন গ্রন্থটি ব্যতিক্রম? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবাংলা কাব্য
- খদিবারাত্রির কাব্য
- গশেষের কবিতা
- ঘনদী ও নারী
সঠিক উত্তর: ক. বাংলা কাব্য
প্রশ্নটি চারটি বইয়ের মধ্যে রূপ বা ধরনের দিক থেকে আলাদা বইটি খুঁজতে বলেছে। তাই নামের মিল নয়, প্রতিটি বই সাহিত্যের কোন শাখার, সেটা দেখতে হবে।
দিবারাত্রির কাব্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস, শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস, আর নদী ও নারী হুমায়ুন কবিরের উপন্যাস। তিনটিই কথাসাহিত্য।
হুমায়ুন কবিরের বাংলার কাব্য একটি সাহিত্য সমালোচনার বই, অর্থাৎ প্রবন্ধধর্মী রচনা। প্রশ্নপত্রে নামটি বাংলা কাব্য ছাপা হয়েছে, তবে বইটির প্রকৃত নাম বাংলার কাব্য। এটি উপন্যাস নয় বলে এটিই ব্যতিক্রম।
ফাঁদ হলো নামের ভেতরের কাব্য বা কবিতা শব্দ। দিবারাত্রির কাব্য আর শেষের কবিতা শুনে কাব্যগ্রন্থ মনে হয়, কিন্তু দুটিই উপন্যাস। নামে কাব্য থাকলেই বই কাব্য হয় না।
মনে রাখুন: নামে কাব্য বা কবিতা দেখে ধরন ঠিক করবেন না; দিবারাত্রির কাব্য ও শেষের কবিতা দুটিই উপন্যাস।
১৩৫. 'বিরাট গরু-ছাগলের হাট' - ব্যানারে লেখা এই শিরোনামকে অপপ্রয়োগ বলা যায় না কেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবিরাট শব্দটি হাটকে বিশেষিত করছে
- খবিরাট শব্দটি গরু-ছাগলকে বিশেষিত করছে
- গবিশেষণের অবস্থান যে-কোনো জায়গায় হতে পারে
- ঘবহুল ব্যবহারে প্রয়োগ-অশুদ্ধতা হারিয়েছে
সঠিক উত্তর: ক. বিরাট শব্দটি হাটকে বিশেষিত করছে
প্রশ্নটি বিশেষণের প্রয়োগ নিয়ে। বিরাট বিশেষণটি কোন বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, সেটা ঠিক করলেই বোঝা যায় শিরোনামটি অপপ্রয়োগ কি না।
গরু ছাগলের হাট একটি শব্দগুচ্ছ, যার প্রধান শব্দ হাট; গরু ছাগলের অংশটি শুধু বলে দেয় কিসের হাট। পুরো গুচ্ছের আগে বসা বিরাট বিশেষণ তাই প্রধান শব্দ হাটকেই বিশেষিত করছে। মানে দাঁড়ায়, গরু ছাগলের একটি বড় হাট।
বিরাট যদি গরু ছাগলকে বিশেষিত করত, তাহলে অর্থ হতো বিশাল আকারের গরু ছাগল, আর তখনই শিরোনামটি অপপ্রয়োগ হতো। কিন্তু ব্যানারের উদ্দেশ্য হাটের আয়তন বোঝানো, তাই প্রয়োগটি শুদ্ধ।
ফাঁদ হলো বিশেষণের ঠিক পাশের শব্দটিকেই তার বিশেষ্য ধরে নেওয়া। ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের আগে বসা বিশেষণ প্রায়ই পুরো গুচ্ছের প্রধান বিশেষ্যকে বিশেষিত করে, যেমন নতুন বইয়ের দোকান বললে দোকানটি নতুন, এই অর্থও হয়।
মনে রাখুন: বিশেষণের লক্ষ্য খুঁজতে প্রশ্ন করুন: কী বিরাট? উত্তর হাট হলে প্রয়োগ শুদ্ধ।
১৩৬. 'অজর' শব্দের বিপরীত কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅমলিন
- খবার্ধক্য
- গঅমর
- ঘব্যাধিগ্রস্ত
সঠিক উত্তর: খ. বার্ধক্য
প্রশ্নটি অজর শব্দের বিপরীত শব্দ জানতে চেয়েছে। অজর গঠিত না বোধক অ এবং জরা মিলে, আর জরা মানে বার্ধক্য। তাই অজর মানে যার জরা নেই, যে কখনো বুড়ো হয় না।
বিপরীত ভাবটি তাই জরা বা বার্ধক্য। বিশেষণ হিসেবে নিখুঁত বিপরীত শব্দ হতো জরাগ্রস্ত, কিন্তু সেটি বিকল্পে নেই। তাই জরা ধারণাটি যে বিকল্পে আছে, সেই বার্ধক্যকে উত্তর ধরা হয়েছে।
অমর আর অজর প্রায়ই একসঙ্গে আসে, যেমন অজর অমর, কিন্তু অমরের বিপরীত মরণশীল; জরার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। একইভাবে অমলিনের বিপরীত মলিন।
ফাঁদ হলো অ দিয়ে শুরু হওয়া অমর বা অমলিন বেছে নেওয়া। এরা অজরের মতোই না বোধক শব্দ, বিপরীত নয়। উল্লেখ্য, প্রকাশিত একটি সমাধানে এই প্রশ্নটি বাতিল হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মনে রাখুন: অ দিয়ে গড়া শব্দের বিপরীত পেতে অ সরান: অজর থেকে জরাগ্রস্ত, অমর থেকে মরণশীল, অমলিন থেকে মলিন।
১৩৭. 'ব্যাং' শব্দটি 'ং' দিয়ে লিখতে হবে, কারণ- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কএর হসন্ত উচ্চারণ ং হয়
- খ্যা-এর পর ং হয়
- গ' ং’ বাংলা ভাষার নিজস্ব বর্ণ
- ঘব্যাং একটি একাক্ষর শব্দ
সঠিক উত্তর: ক. এর হসন্ত উচ্চারণ ং হয়
প্রশ্নটি অনুস্বার আর ঙ লেখার নিয়ম নিয়ে। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের নিয়ম হলো, শব্দের শেষে ঙ ধ্বনি হসন্ত হয়ে উচ্চারিত হলে অনুস্বার লেখা হয়।
ব্যাং শব্দের শেষে ঙ ধ্বনির পরে কোনো স্বর উচ্চারিত হয় না, ধ্বনিটি হসন্ত। তাই লেখা হয় ব্যাং। একইভাবে রং, সং, ঢং, পালং।
কিন্তু পরে স্বর বা বিভক্তি এলে ধ্বনিটি আর হসন্ত থাকে না, তখন ঙ লেখা হয়। যেমন ব্যাঙের, রঙের, ঢঙে, ব্যাঙাচি। অর্থাৎ বানান ঠিক করে উচ্চারণ, শব্দের অক্ষরসংখ্যা নয়।
ফাঁদ হলো একাক্ষর শব্দের বিকল্পটি। ব্যাং একাক্ষর ঠিকই, কিন্তু দুই অক্ষরের পালং শব্দের শেষেও অনুস্বার বসে। তাই আসল কারণ হসন্ত উচ্চারণ।
মনে রাখুন: শেষে হসন্ত হলে ং, পরে স্বর বা বিভক্তি এলে ঙ: রং কিন্তু রঙিন, ব্যাং কিন্তু ব্যাঙের, ঢং কিন্তু ঢঙে।
১৩৮. 'সে কৌতুক করার কৌতূহল সংবরণ করতে পারল না।'- এই বাক্য কী কারণে ত্রুটিপূর্ণ? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবানান ভুল আছে
- খবাক্যের পদবিন্যাস যথাযথ নয়
- গঅর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি
- ঘবিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে
সঠিক উত্তর: গ. অর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি
প্রশ্নটি বাক্যের ত্রুটির ধরন চিনতে বলেছে। বাক্যে কৌতুক আর কৌতূহল, কাছাকাছি শোনায় এমন দুটি শব্দ আছে, কিন্তু এদের অর্থ আলাদা।
কৌতুক মানে রসিকতা বা মজা, আর কৌতূহল মানে কিছু জানার আগ্রহ। কৌতুক করার কৌতূহল বললে দাঁড়ায় রসিকতা করার জানার আগ্রহ, যা অর্থসংগত নয়। শুদ্ধ রূপ হতে পারে, সে কৌতুক করার লোভ সংবরণ করতে পারল না।
বাক্যের বানান ঠিক আছে: কৌতুক শব্দে হ্রস্ব উ, কৌতূহল শব্দে দীর্ঘ ঊ। পদক্রমও কর্তা, কর্ম, ক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়মে আছে। তাই ত্রুটি অর্থের, মানে অর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি।
ফাঁদ হলো বানান ভুলের বিকল্পটি, কারণ এই দুটি শব্দের বানান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। এখানে বানান শুদ্ধ; সমস্যা শব্দ বাছাইয়ে।
মনে রাখুন: শুদ্ধ বাক্যের তিন শর্ত আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা; শব্দের অর্থ প্রসঙ্গে না মিললে যোগ্যতা নষ্ট হয়।
১৩৯. 'নিত্য তোমার যে ফুল ফোটে ফুলবনে'-এখানে 'নিত্য' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅতিশয়
- খচিরন্তন
- গপ্রকৃতি
- ঘঅহরহ
সঠিক উত্তর: ঘ. অহরহ
প্রশ্নটি প্রসঙ্গ অনুযায়ী প্রতিশব্দ চেয়েছে। নিত্য শব্দের দুটি অর্থ আছে: প্রতিদিন বা সবসময়, আর চিরস্থায়ী বা শাশ্বত। কোন অর্থটি খাটবে, তা বাক্যই ঠিক করে দেয়।
নিত্য তোমার যে ফুল ফোটে ফুলবনে, এখানে বলা হচ্ছে ফুলবনে প্রতিদিন, অবিরাম যে ফুল ফোটে। ফুল চিরকাল টেকে না, রোজ রোজ ফোটে। তাই অর্থ সবসময় বা প্রতিনিয়ত, যার প্রতিশব্দ অহরহ।
অহরহ শব্দের অর্থ দিনরাত বা সর্বদা। প্রত্যহ, অনবরত, সতত শব্দগুলোও এই অর্থের কাছাকাছি।
ফাঁদ হলো চিরন্তন। নিত্যের একটি অর্থ চিরন্তন ঠিকই, যেমন নিত্য সত্য, কিন্তু রোজ ফুল ফোটার প্রসঙ্গে সেই অর্থ খাটে না।
মনে রাখুন: একাধিক অর্থের শব্দে বাক্যের প্রসঙ্গ দেখে অর্থ বাছুন; এখানে ফুল রোজ ফোটে, চিরকাল থাকে না।
১৪০. বাক্যের মধ্যে শব্দ অবস্থান করে কীভাবে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ককর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
- খঅর্থ ও ভাব অনুযায়ী
- গবর্গ বা গুচ্ছ আকারে
- ঘস্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে
সঠিক উত্তর: ক. কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
প্রশ্নটি বাক্যে শব্দের অবস্থান বা পদক্রম নিয়ে। প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী বাংলা বাক্যে শব্দ বসে কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস মেনে, অর্থাৎ সাধারণ ক্রম কর্তা, তারপর কর্ম, শেষে ক্রিয়া।
যেমন, আমি ভাত খাই। কর্তা আমি শুরুতে, কর্ম ভাত মাঝে, আর ক্রিয়া খাই শেষে। বিশেষণ বসে বিশেষ্যের আগে, ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়ার আগে। এই ক্রম এলোমেলো হলে বাক্যের আসত্তি নষ্ট হয়।
তবে মাধ্যমিক স্তরের নতুন ব্যাকরণ বইয়ে বলা হয়েছে, বাক্যে শব্দ আলাদা আলাদা না থেকে বর্গ বা গুচ্ছ আকারে থাকে, যেমন বিশেষ্যবর্গ, ক্রিয়াবর্গ। তাই বর্গের বিকল্পটিও যুক্তিসংগত, আর এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মতভেদ আছে।
পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস। অর্থ ও ভাব কিংবা স্বাধীন পদের পরিচয়, এ দুটি শব্দের অবস্থান ঠিক করার নিয়ম নয়।
মনে রাখুন: বাংলা বাক্যের মূল ছক মনে রাখুন: কর্তা, কর্ম, ক্রিয়া; ইংরেজির মতো ক্রিয়া মাঝে বসে না।