বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫৪
১০৬১. ‘হুলিয়া’ কবিতা কার রচনা? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআবুল হাসান
- খআবুল হোসেন
- গমহাদেব সাহা
- ঘনির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর: ঘ. নির্মলেন্দু গুণ
প্রশ্নটি একটি কবিতার কবি জানতে চেয়েছে। হুলিয়া নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতা, যা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই, ১৯৭০ সালে প্রকাশিত, তাতে আছে।
হুলিয়া মানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। কবিতায় মাথার ওপর হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক রাজনৈতিক কর্মীর গোপনে নিজের গ্রামে ফেরার গল্প আছে। নির্মলেন্দু গুণের আরেকটি বহুল পঠিত কবিতা স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো।
বাকি তিনজনও বাংলাদেশের কবি; আবুল হোসেন চল্লিশের দশকের, আবুল হাসান ও মহাদেব সাহা ষাট ও সত্তরের দশকের। আবুল হাসানের কাব্য রাজা যায় রাজা আসে, মহাদেব সাহার এই গৃহ এই সন্ন্যাস, আর আবুল হোসেনের নববসন্ত।
ফাঁদ আবুল হাসান আর আবুল হোসেন, নাম কাছাকাছি বলে। কিন্তু দুজনের কারও কবিতা হুলিয়া নয়।
মনে রাখুন: নির্মলেন্দু গুণ: হুলিয়া, স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো, প্রেমাংশুর রক্ত চাই।
১০৬২. নিচের কোন সাহিত্যিক আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআবুল হাসান
- খহুমায়ুন কবির
- গসোমেন চন্দ
- ঘকল্যাণ মিত্র
সঠিক উত্তর: গ. সোমেন চন্দ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন সাহিত্যিক ঢাকায় আততায়ীর হাতে নিহত হন। প্রচলিত উত্তর সোমেন চন্দ। ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী এক সম্মেলনে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে হত্যা করা হয়; তখন তাঁর বয়স মাত্র একুশ।
সোমেন চন্দ প্রগতিশীল লেখক ও কমিউনিস্ট কর্মী ছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গল্প ইঁদুর, আর উপন্যাস বন্যা।
আবুল হাসান ১৯৭৫ সালে অসুস্থ হয়ে মারা যান, আততায়ীর হাতে নয়। কল্যাণ মিত্র নাট্যকার; আততায়ীর হাতে মৃত্যুর কোনো তথ্য তাঁর ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
সাবধান থাকুন: হুমায়ুন কবির নামে দুজন আছেন। শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবির ভারতে মারা যান, কিন্তু কবি হুমায়ুন কবির ১৯৭২ সালে ঢাকায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর অবশ্য সোমেন চন্দ।
মনে রাখুন: সোমেন চন্দ: ইঁদুর গল্প, ১৯৪২ সালে ঢাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহিদ।
১০৬৩. নিম্নোক্ত কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কদেবেশ রায়ের ‘তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত’
- খসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’
- গশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘যাও পাখি’
- ঘঅভিজিৎ সেনের ‘রহুচণ্ডালের হাড়’
সঠিক উত্তর: খ. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের পরের বাংলাদেশের ছবি আছে। উত্তর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব-পশ্চিম। এর কাহিনি দেশভাগ থেকে শুরু করে দুই বাংলার মানুষের জীবন ধরে মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরের সময় পর্যন্ত এসেছে।
উপন্যাসের নামেই সূত্র আছে: পূর্ব মানে পূর্ব বাংলা, পরে বাংলাদেশ; পশ্চিম মানে পশ্চিমবঙ্গ। দুই পারের পরিবারগুলোর ভাঙন, উদ্বাস্তু জীবন আর স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা এখানে পাশাপাশি এসেছে।
অন্য তিনটির বিষয় আলাদা। দেবেশ রায়ের তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত উত্তরবঙ্গের তিস্তা অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের কাহিনি। অভিজিৎ সেনের রহু চণ্ডালের হাড় যাযাবর বাজিকর সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের যাও পাখি পশ্চিমবঙ্গের পটভূমির উপন্যাস।
চারটিই পশ্চিমবঙ্গের লেখকের উপন্যাস বলে বিভ্রান্তি হয়। বাংলাদেশ শব্দ শুনলে খুঁজুন কোন উপন্যাসের কাহিনি সীমান্ত পেরিয়ে পূর্ব বাংলায় এসেছে।
মনে রাখুন: নামেই উত্তর: পূর্ব-পশ্চিম মানে দুই বাংলা, তাই বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এখানেই।
১০৬৪. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপ্রতিযোগিতা
- খসহযোগীতা
- গশ্রদ্ধাঞ্জলী
- ঘপ্রতিযোগীতা
সঠিক উত্তর: ক. প্রতিযোগিতা
প্রশ্নটি ই-কার আর ঈ-কারের নিয়ম যাচাই করছে। শুদ্ধ বানান প্রতিযোগিতা। মূল শব্দ প্রতিযোগী, শেষে দীর্ঘ ঈ। এটি ইন্ প্রত্যয়ে গঠিত ঈ-কারান্ত শব্দ; এমন শব্দে তা বা ত্ব প্রত্যয় যোগ হলে শেষের ঈ-কার হ্রস্ব ই-কার হয়ে যায়।
এই নিয়মে প্রতিযোগী থেকে প্রতিযোগিতা, সহযোগী থেকে সহযোগিতা, দায়ী থেকে দায়িত্ব, মন্ত্রী থেকে মন্ত্রিত্ব, প্রাণী থেকে প্রাণিজগৎ। তাই সহযোগীতা বানানও ভুল।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শব্দের শেষে হ্রস্ব ই, কারণ অঞ্জলি শব্দটিই হ্রস্ব ই দিয়ে লেখা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলী লিখলে ভুল।
ফাঁদ হলো প্রতিযোগীতা। মূল শব্দ প্রতিযোগী মনে রেখে অনেকে তা যোগ করার পরও দীর্ঘ ঈ রেখে দেন।
মনে রাখুন: ইন্ প্রত্যয়ান্ত ঈ-কারান্ত শব্দে (প্রতিযোগী, মন্ত্রী, প্রাণী) তা, ত্ব বা সমাসে অন্য শব্দ জুড়লে ঈ হ্রস্ব হয়: দায়িত্ব, মন্ত্রিসভা, প্রাণিবিদ্যা। সব ঈ-কারান্ত শব্দে নয়, যেমন নদীতীর।
১০৬৫. কোনটি শুদ্ধ বানান? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কস্বশুর
- খশ্বসুর
- গশশুর
- ঘশ্বশুর
সঠিক উত্তর: ঘ. শ্বশুর
প্রশ্নটি একটি তৎসম শব্দের বানান যাচাই করছে। শুদ্ধ বানান শ্বশুর। প্রথম অক্ষরে শ-এর সঙ্গে ব-ফলা, অর্থাৎ শ্ব; দ্বিতীয় অক্ষরে তালব্য শ।
শব্দটি সংস্কৃত শ্বশুর থেকে এসেছে, তাই দুটি শ-ই তালব্য। শব্দের শুরুতে ব-ফলা থাকলে সাধারণত তা উচ্চারিত হয় না; এ কারণেই অনেকে ব-ফলা বাদ দিয়ে শশুর লেখেন।
একই রকম আরও শব্দ: শ্বাস, স্বাদ, স্বামী, দ্বার। সব জায়গায় ব-ফলা লেখায় থাকে, উচ্চারণে চাপা পড়ে। শ্বশুরের স্ত্রীলিঙ্গ শাশুড়ি, সেখানে আর ব-ফলা নেই।
ফাঁদ দুটি: প্রথম অক্ষরে দন্ত্য স বসানো, যেমন স্বশুর; আর দ্বিতীয় অক্ষরে দন্ত্য স বসানো, যেমন শ্বসুর।
মনে রাখুন: ব-ফলা লেখায় থাকে, উচ্চারণে প্রায় শোনা যায় না: শ্বশুর, শ্বাস, স্বামী, দ্বার।
১০৬৬. ‘চর্যাপদ’ কত সালে আবিষ্কৃত হয়? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক১৮০০
- খ১৮৫৭
- গ১৯০৭
- ঘ১৯০৯
সঠিক উত্তর: গ. ১৯০৭
প্রশ্নটা বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারের সাল জানতে চেয়েছে। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
আবিষ্কারের নয় বছর পর, ১৯১৬ সালে, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। বইটির নাম ছিল হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।
আবিষ্কার আর প্রকাশ, এই দুটি সাল আলাদা করে মনে রাখা জরুরি, কারণ পরীক্ষায় দুটোই আসে। আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬।
বাকি সালগুলো অন্য ঘটনার। ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, আর ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ। ১৯০৯ সালের সঙ্গে চর্যাপদের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: চর্যাপদ: আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬, আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, স্থান নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার।
১০৬৭. বাংলা সাহিত্যের পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে, ____ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ। (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক৪৫০-৬৫০
- খ৬৫০-৮৫০
- গ৬৫০-১২০০
- ঘ৬৫০-১২৫০
সঠিক উত্তর: গ. ৬৫০-১২০০
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ জানতে চেয়েছে। প্রচলিত বিভাগে তিন যুগ: প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ আর আধুনিক যুগ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন যুগ ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
এই যুগের প্রধান নিদর্শন চর্যাপদ। শহীদুল্লাহ চর্যার প্রাচীনতম পদের রচনাকাল সপ্তম শতকে ধরেছেন বলে শুরুটা ৬৫০ সাল।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর শুরু ধরেছেন ৯৫০ সালে, তবে শেষ দুজনের মতেই ১২০০ সাল। এরপর মধ্যযুগ চলে ১৮০০ সাল পর্যন্ত, যার শুরুর দেড়শো বছরকে অন্ধকার যুগ বলা হয়।
বিকল্পে ৬৫০ থেকে ১২৫০ রাখা হয়েছে শুরু মিলিয়ে ফাঁদ পাততে। শুরু ঠিক হলেও শেষ ১২০০, ১২৫০ নয়।
মনে রাখুন: শহীদুল্লাহ ৬৫০, সুনীতি ৯৫০; শেষ দুজনেরই ১২০০।
১০৬৮. মধ্যযুগের কবি নন কে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কজয়নন্দী
- খবড়ু চণ্ডীদাস
- গগোবিন্দ দাস
- ঘজ্ঞান দাস
সঠিক উত্তর: ক. জয়নন্দী
প্রশ্নটা মধ্যযুগের কবিদের চেনার। বাদ দেওয়ার কৌশলে উত্তর পাওয়া যায়, কারণ বাকি তিনজন মধ্যযুগের সবচেয়ে পরিচিত কবিদের মধ্যে পড়েন।
বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কবি, যাকে মধ্যযুগের প্রথম বাংলা কাব্য ধরা হয়। জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির দুই প্রধান কবি; জ্ঞানদাস লিখতেন মূলত বাংলায়, গোবিন্দদাস ব্রজবুলিতে।
এই তিনজন বাদ গেলে থাকে জয়নন্দী, তাই প্রচলিত উত্তর এটিই। তবে সতর্ক থাকুন: চৈতন্যমঙ্গল কাব্যের কবি জয়ানন্দ মধ্যযুগেরই কবি; নামটি জয়ানন্দ ধরলে প্রশ্নটি ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়।
পরীক্ষায় নামের বানান খুঁটিয়ে দেখুন। জয়নন্দী নামে কোনো সুপরিচিত মধ্যযুগীয় কবি নেই বলেই গাইডগুলো এ বিকল্পকে উত্তর ধরে।
মনে রাখুন: বৈষ্ণব পদাবলির চার বড় কবি: বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস; এঁদের কেউ এলে মধ্যযুগ।
১০৬৯. বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বলতে- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক১১৯৯-১২৫০ পর্যন্ত
- খ১২০১-১৩৫০ পর্যন্ত
- গ১২৫০-১৩৫০ পর্যন্ত
- ঘ১২৫০-১৪৫০ পর্যন্ত
সঠিক উত্তর: খ. ১২০১-১৩৫০ পর্যন্ত
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সময়সীমা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত মতে তা ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ, প্রায় দেড়শো বছর।
এ নাম দেওয়ার কারণ, এই সময়ের কোনো উল্লেখযোগ্য বাংলা সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায়নি। তেরো শতকের শুরুতে তুর্কি আক্রমণ ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে এর কারণ হিসেবে ধরা হয়।
হিসাবটা সহজ: প্রাচীন যুগ শেষ ১২০০ সালে, তাই অন্ধকার যুগ শুরু ১২০১ থেকে। আর ১৩৫০ সালের পর থেকে আবার সাহিত্য পাওয়া যায়, যেমন বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
ফাঁদ হলো ১২৫০ থেকে ১৩৫০, কারণ শেষটা মিলে যায়। শুরুটা প্রাচীন যুগের শেষের ঠিক পরের বছর, ১২০১।
মনে রাখুন: প্রাচীন যুগ যেখানে শেষ, তার পরের বছর থেকে অন্ধকার যুগ: ১২০১ থেকে ১৩৫০।
১০৭০. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যক্ষ কে ছিলেন? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কউইলিয়াম কেরি
- খলর্ড ওয়েলেসলি
- গমৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
- ঘরামরাম বসু
সঠিক উত্তর: ক. উইলিয়াম কেরি
প্রশ্নটা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগ নিয়ে, যেখান থেকে বাংলা গদ্যের প্রথম পাঠ্যবইগুলো তৈরি হয়। এর অধ্যক্ষ বা প্রধান ছিলেন উইলিয়াম কেরি।
১৮০০ সালে কলকাতায় লর্ড ওয়েলেসলি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে ইংরেজ কর্মচারীরা এদেশের ভাষা শিখতে পারেন। ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ চালু হলে কেরি এর দায়িত্ব পান।
কেরির অধীনে পণ্ডিত ও মুনশিরা পাঠ্যবই লিখতেন। রামরাম বসুর প্রতাপাদিত্য চরিত্র, ১৮০১ সালে প্রকাশিত, বাঙালির লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন বিভাগের প্রধান পণ্ডিত।
ফাঁদ হলো লর্ড ওয়েলেসলি। তিনি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও তখনকার গভর্নর জেনারেল, কিন্তু বাংলা বিভাগের প্রধান নন।
মনে রাখুন: প্রতিষ্ঠাতা ওয়েলেসলি, বাংলা বিভাগের প্রধান কেরি, প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয়।
১০৭১. বাংলা সাহিত্যের জনক হিসেবে কার নাম চির স্মরণীয়? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কমাইকেল মধুসূদন দত্ত
- খরাজা রামমোহন রায়
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের পথিকৃৎদের পরিচিত উপাধি নিয়ে। প্রশ্নে বাংলা সাহিত্যের জনক বলা হলেও প্রচলিত উপাধিটি হলো বাংলা গদ্যের জনক, আর তা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
বিদ্যাসাগরের আগেও বাংলা গদ্য ছিল, কিন্তু তা ছিল আড়ষ্ট। তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন এবং বাক্যে ছন্দ ও সৌন্দর্য আনেন। এ কারণে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বাংলা ভাষার প্রথম যথার্থ শিল্পী বলেছেন।
অন্যদের পরিচয় আলাদা। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেট আনেন। রাজা রামমোহন রায় ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্যসম্রাট নামে পরিচিত।
ফাঁদ হলো সাহিত্যের জনক কথাটিতে মধুসূদন বা বঙ্কিমকে বেছে নেওয়া। এ ধরনের প্রশ্নে বাক্যের ভাষা ঢিলেঢালা হলেও পরিচিত উপাধির সঙ্গে মিলিয়ে উত্তর দিতে হয়।
মনে রাখুন: জনক উপাধি দেখলে মেলান: গদ্যের জনক বিদ্যাসাগর, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিম, অমিত্রাক্ষরের প্রবর্তক মধুসূদন।
১০৭২. মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা নয় কোনটি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কতিলোত্তমা কাব্য
- খমেঘনাদ বধ কাব্য
- গবেতাল পঞ্চবিংশতি
- ঘবীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর: গ. বেতাল পঞ্চবিংশতি
প্রশ্নটা মধুসূদনের রচনা চেনার, উল্টো দিক থেকে। চারটির তিনটিই মধুসূদনের কাব্য; বেতাল পঞ্চবিংশতি তাঁর নয়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
বেতাল পঞ্চবিংশতি ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত, হিন্দি বেতাল পচ্চীসী অবলম্বনে রচিত গদ্যগ্রন্থ। এতেই বিদ্যাসাগর প্রথম বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন।
মধুসূদনের তিনটি কাব্য এক সারিতে মনে রাখুন: তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য ১৮৬০, অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা প্রথম কাব্য; মেঘনাদবধ কাব্য ১৮৬১, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য; বীরাঙ্গনা ১৮৬২, পত্রকাব্য।
ফাঁদ হলো পুরাণ বা কাহিনিনির্ভর নাম দেখে সবগুলোকে একই লেখকের ভাবা। পদ্য না গদ্য, সেটা দেখুন: মধুসূদনের এই তিনটিই কাব্য, বেতাল পঞ্চবিংশতি গদ্য।
মনে রাখুন: মধুসূদনের কাব্য পরপর তিন বছরে: ১৮৬০ তিলোত্তমাসম্ভব, ১৮৬১ মেঘনাদবধ, ১৮৬২ বীরাঙ্গনা।
১০৭৩. কুলীন কুলসর্বস্ব নাটকটি কার লেখা? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কমাইকেল মধুসূদন দত্ত
- খদীনবন্ধু মিত্র
- গরামনারায়ণ তর্করত্ন
- ঘরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: গ. রামনারায়ণ তর্করত্ন
প্রশ্নটা নাটক ও নাট্যকার মেলানোর। কুলীনকুলসর্বস্ব নাটকটি লিখেছেন রামনারায়ণ তর্করত্ন, প্রকাশিত ১৮৫৪ সালে।
নাটকটির বিষয় কৌলীন্য প্রথা: কুলীন পাত্রের হাতে একসঙ্গে একাধিক মেয়েকে তুলে দেওয়ার কুপ্রথাকে এতে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। একে বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে ধরা হয়।
নাটক লেখায় দক্ষতার জন্য তিনি নাটুকে রামনারায়ণ নামে পরিচিত হন। আরেকটি পরিচিত তথ্য: তাঁর রত্নাবলী নাটকের অভিনয় দেখেই মধুসূদন বাংলা নাটক লেখায় আগ্রহী হন।
অন্য তিনজনও নাট্যকার, তাই নাম দেখে বাদ দেওয়া যায় না; প্রত্যেকের বিখ্যাত নাটক মনে রাখতে হয়। মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা, দীনবন্ধুর নীলদর্পণ, রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী।
মনে রাখুন: প্রথম মৌলিক নাটক কুলীনকুলসর্বস্ব, প্রথম সার্থক নাটক মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা।
১০৭৪. ‘নীল দর্পণ’ নাটকটির বিষবস্তু কি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কনীলকরদের অত্যাচার
- খভাষা আন্দোলন
- গঅসহযোগ আন্দোলন
- ঘতে-ভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর: ক. নীলকরদের অত্যাচার
প্রশ্নটা দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকের বিষয় জানতে চেয়েছে। নাটকটির বিষয় নীলকরদের অত্যাচার, অর্থাৎ ইংরেজ নীলকরেরা কীভাবে বাংলার চাষিদের জোর করে নীল চাষ করাত। প্রশ্নপত্রে শব্দটি বিষবস্তু ছাপা হয়েছিল; শুদ্ধ শব্দ বিষয়বস্তু।
নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে, ঢাকা থেকে, যখন বাংলায় নীল বিদ্রোহ চলছে। নবীনমাধবের পরিবারের দুর্দশার মধ্য দিয়ে এতে নীলচাষিদের কষ্ট তুলে ধরা হয়েছে।
এর ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন পাদরি জেমস লং, যার জন্য তাঁকে আদালতে সাজা পেতে হয়। নাটকটি নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ায় বড় ভূমিকা রাখে।
বাকি তিনটি আন্দোলন সময়ের হিসাবেই বাদ পড়ে। অসহযোগ আন্দোলন বিশ শতকের বিশের দশকে, তেভাগা আন্দোলন চল্লিশের দশকে, আর ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে; নীলদর্পণ লেখা হয়েছে এগুলোর বহু আগে।
মনে রাখুন: সাল মিলিয়ে বাদ দিন: উনিশ শতকের বইয়ে বিশ শতকের আন্দোলন আসতে পারে না।
১০৭৫. ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসটি কার লেখা? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কআলাওল
- খকাজী দীন মহম্মদ
- গকাজী মোতাহের হোসেন
- ঘরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্নটা উপন্যাস ও লেখক মেলানোর। ঘরে বাইরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস, প্রকাশিত ১৯১৬ সালে।
উপন্যাসটির পটভূমি বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশি আন্দোলন। তিন প্রধান চরিত্র: উদার জমিদার নিখিলেশ, তাঁর স্ত্রী বিমলা আর জ্বালাময়ী নেতা সন্দীপ। কাহিনি এগিয়েছে তিনজনের আত্মকথনের মধ্য দিয়ে।
রবীন্দ্রনাথের আরও কয়েকটি উপন্যাস একসাথে মনে রাখুন: চোখের বালি, গোরা, চতুরঙ্গ, যোগাযোগ, শেষের কবিতা। এর মধ্যে চতুরঙ্গও ঘরে বাইরের মতো ১৯১৬ সালের।
বাকিদের সময় আর পরিচয় মিলিয়েই বাদ দেওয়া যায়। আলাওল সতেরো শতকের কবি, বাংলা উপন্যাসের জন্মের অনেক আগের। কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন বিজ্ঞানী ও প্রাবন্ধিক, আর কাজী দীন মুহম্মদের সঙ্গেও এ উপন্যাসের সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: ঘরে বাইরের তিন চরিত্র নিখিলেশ, বিমলা, সন্দীপ; চরিত্রের নাম দিয়েও প্রশ্ন আসে।
১০৭৬. সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রবন্ধ গ্রন্থ কোনটি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কপঞ্চতন্ত্র
- খকালান্তর
- গপ্রবন্ধ সংগ্রহ
- ঘশাশ্বত বঙ্গ
সঠিক উত্তর: ক. পঞ্চতন্ত্র
প্রশ্নটা সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রবন্ধগ্রন্থ চেনার। পঞ্চতন্ত্র তাঁর রম্য প্রবন্ধের সংকলন, যেখানে হালকা চালে দেশ বিদেশের অভিজ্ঞতা আর নানা বিষয়ে লিখেছেন।
মুজতবা আলী বহু ভাষা জানতেন, আর রসবোধে ভরা লেখার জন্য বিখ্যাত। তাঁর প্রথম বই দেশে বিদেশে, আফগানিস্তানের ভ্রমণকাহিনি। আরও আছে উপন্যাস শবনম আর গল্পগ্রন্থ চাচা কাহিনী।
পঞ্চতন্ত্র নামটি প্রাচীন সংস্কৃত নীতিগল্পের বইয়েরও নাম, তবে বাংলা সাহিত্যের প্রশ্নে প্রবন্ধগ্রন্থ পঞ্চতন্ত্র বলতে মুজতবা আলীর বইটিই বোঝায়।
অন্য বিকল্পগুলো অন্যের। কালান্তর রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগ্রন্থ, শাশ্বত বঙ্গ কাজী আবদুল ওদুদের। প্রবন্ধ সংগ্রহ একটি সাধারণ শিরোনাম, মুজতবা আলীর পরিচিত কোনো বইয়ের নাম নয়।
মনে রাখুন: মুজতবা আলী মানে রম্যরচনা: দেশে বিদেশে, পঞ্চতন্ত্র, চাচা কাহিনী, শবনম।
১০৭৭. ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কঅক্ষয়কুমার দত্ত
- খপ্যারীচাঁদ মিত্র
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘসৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর: ক. অক্ষয়কুমার দত্ত
প্রশ্নটা উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার সম্পাদক জানতে চেয়েছে। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৮৪৩ সালে অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
পত্রিকাটি ছিল দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র; উদ্দেশ্য ব্রাহ্মধর্মের প্রচার। তবে অক্ষয়কুমার দত্ত এতে বিজ্ঞান, দর্শন ও সমাজ নিয়ে লিখে বাংলা প্রবন্ধের মান অনেক উঁচুতে তোলেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং পরে এর পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, তাই নামটি চেনা লাগে। কিন্তু প্রথম ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে অক্ষয়কুমার দত্তের নামই উত্তর।
প্যারীচাঁদ মিত্র রাধানাথ শিকদারের সঙ্গে মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যেখানে আলালের ঘরের দুলাল ছাপা হয়। আর সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মই ১৯০৪ সালে, পত্রিকাটি শুরুর ষাট বছরেরও পরে।
মনে রাখুন: তত্ত্ববোধিনী: প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত, সাল ১৮৪৩।
১০৭৮. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ককবর
- খপায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- গজন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
- ঘওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর: ক. কবর
প্রশ্নটা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক চিনতে চেয়েছে। উত্তর মুনীর চৌধুরীর কবর, যা তিনি ১৯৫৩ সালে কারাগারে বসে লেখেন।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম বার্ষিকীতে কারাবন্দিরা অভিনয় করবেন বলে সহবন্দি রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে নাটকটি লেখা হয়, আর জেলখানাতেই এটি প্রথম অভিনীত হয়।
নাটকে একুশের শহিদদের লাশ রাতের অন্ধকারে গোপনে কবর দিতে চায় ক্ষমতাসীনেরা, আর শহিদেরা কবরে যেতে অস্বীকার করে উঠে দাঁড়ায়। এই প্রতিবাদের ছবিই নাটকের প্রাণ।
বাকি তিনটি নাটক স্বাধীনতার পরের। সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য; জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন সেলিম আল দীনের আর ওরা কদম আলী মামুনুর রশীদের, দুটোই সত্তরের দশকের নাটক।
মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলনের নাটক মানেই আগে মনে আনুন মুনীর চৌধুরীর কবর; উপন্যাস হলে জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন।
১০৭৯. ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ কার ছদ্মনাম? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কদীনবন্ধু মিত্র
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গপ্রমথ চৌধুরী
- ঘজীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্নটা সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম নিয়ে। ভানুসিংহ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম।
কিশোর বয়সে রবীন্দ্রনাথ এই নামে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির ঢঙে রাধা কৃষ্ণের প্রেমের পদ লেখেন। পরে এগুলো ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী নামে বই হয়ে প্রকাশিত হয়, ১৮৮৪ সালে।
নামটার মধ্যেই সূত্র আছে: ভানু মানে সূর্য, আর রবি মানেও সূর্য। আর পদবি ঠাকুর তো রবীন্দ্রনাথেরই।
সাবধান, ঠাকুর পদবি দেখলেই রবীন্দ্রনাথ নয়: টেকচাঁদ ঠাকুর প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম। প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম বীরবল, আর দীনবন্ধু মিত্র ও জীবনানন্দ দাশের পরিচিত কোনো ছদ্মনাম নেই।
মনে রাখুন: ছদ্মনামে অর্থ খুঁজুন: ভানু মানে রবি, তাই ভানুসিংহ রবীন্দ্রনাথ।
১০৮০. কোন কাব্যটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কচৈতালী
- খরাখালী
- গফণিমনসা
- ঘআলো পৃথিবী
সঠিক উত্তর: খ. রাখালী
প্রশ্নটা পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ চেনার। রাখালী তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯২৭ সালে।
এ বইয়েই আছে তাঁর বিখ্যাত কবিতা কবর, যা তিনি ছাত্রাবস্থায় লেখেন এবং যা ছাত্র থাকতেই প্রবেশিকার পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।
তাঁর অন্য বিখ্যাত বই নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট, দুটি কাহিনিকাব্য; আরও আছে বালুচর ও ধানখেত। নাম শুনলেই গ্রামবাংলার ছবি ভাসে, এটাই তাঁর বই চেনার উপায়।
চৈতালী রবীন্দ্রনাথের কাব্য, ফণিমনসা নজরুলের। আলো পৃথিবী নামে জসীমউদ্দীনের কোনো কাব্যগ্রন্থ নেই। রাখাল, মাঠ, চর, ধান, এই শব্দগুলো দেখলে জসীমউদ্দীনকে মনে করুন।
মনে রাখুন: গ্রামের শব্দ মানে জসীমউদ্দীন: রাখালী, বালুচর, ধানখেত, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট।