বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫৫
১০৮১. ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ কার কবিতা? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কশওকত ওসমান
- খসিকান্দার আবু জাফর
- গসুফিয়া কামাল
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: ঘ. শামসুর রাহমান
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের একটি বিখ্যাত কবিতার কবি জানতে চেয়েছে। তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা কবিতাটি শামসুর রাহমানের।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে, ১৯৭১ সালে, তিনি এ কবিতা লেখেন। স্বাধীনতার জন্য সাধারণ মানুষের ত্যাগের ছবি এখানে: সখিনা বিবির কপাল ভাঙা, হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়া। কবিতাটি আছে বন্দী শিবির থেকে কাব্যগ্রন্থে।
একই সময়ে লেখা তাঁর আরেক বিখ্যাত কবিতা স্বাধীনতা তুমি। দুটি কবিতার নাম প্রায় একই রকম, তাই জোড়া করে মনে রাখুন।
বাকিদের পরিচয় আলাদা। শওকত ওসমান মূলত কথাসাহিত্যিক, ক্রীতদাসের হাসির লেখক। সিকান্দার আবু জাফর সমকাল পত্রিকার সম্পাদক ও জনতার সংগ্রাম চলবেই গানের রচয়িতা। সুফিয়া কামাল সাঁঝের মায়ার কবি ও একাত্তরের ডায়েরির লেখক।
মনে রাখুন: স্বাধীনতা নিয়ে শামসুর রাহমানের জোড়া কবিতা: তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, আর স্বাধীনতা তুমি।
১০৮২. ‘দেয়াল’ রচনাটি কার? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কহুমায়ূন আহমেদ
- খতারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- গবুদ্ধদেব বসু
- ঘসেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর: ক. হুমায়ূন আহমেদ
প্রশ্নটা রচনা ও লেখক মেলানোর। দেয়াল হুমায়ূন আহমেদের শেষ উপন্যাস, তাঁর মৃত্যুর পরে ২০১৩ সালে প্রকাশিত।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলি, যার মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড। ইতিহাসনির্ভর বলে প্রকাশের আগে এর কিছু অংশ নিয়ে আদালত পর্যন্ত বিতর্ক গড়ায়।
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর বড় উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প। তাঁর সৃষ্টি হিমু ও মিসির আলি চরিত্রও পরীক্ষায় আসে।
অন্য তিনজন সহজেই বাদ যান। তারাশঙ্কর মারা যান ১৯৭১ সালে, বুদ্ধদেব বসু ১৯৭৪ সালে; পঁচাত্তরের ঘটনা নিয়ে তাঁদের লেখার প্রশ্নই নেই। সেলিনা হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস হাঙর নদী গ্রেনেড।
মনে রাখুন: হুমায়ূনের প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে, শেষ উপন্যাস দেয়াল।
১০৮৩. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কক্রীতদাসের হাসি
- খমাটি আর অশ্রু
- গহাঙর নদী গ্রেনেড
- ঘসারেং বউ
সঠিক উত্তর: গ. হাঙর নদী গ্রেনেড
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস চেনার। সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা, প্রকাশিত ১৯৭৬ সালে।
উপন্যাসের কেন্দ্রে বুড়ি নামে গ্রামের এক মা। মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে তিনি নিজের প্রতিবন্ধী ছেলেকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেন। এই আত্মত্যাগের কাহিনি নিয়ে চাষী নজরুল ইসলাম চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন।
একটা সহজ হিসাব কাজে লাগে: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ১৯৭১ সালের পরেই লেখা হবে। ক্রীতদাসের হাসি আর সারেং বৌ দুটোই ১৯৬২ সালের, তাই এগুলো মুক্তিযুদ্ধের হতে পারে না।
ক্রীতদাসের হাসি শওকত ওসমানের রূপক উপন্যাস, আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের প্রতিবাদ। সারেং বৌ শহীদুল্লা কায়সারের, উপকূলের এক নাবিকের স্ত্রীর সংগ্রামের কাহিনি। আর মাটি আর অশ্রু নামটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসের প্রচলিত তালিকায় পাওয়া যায় না।
মনে রাখুন: সাল দেখুন: ১৯৭১ সালের আগে প্রকাশিত কোনো উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক হতে পারে না।
১০৮৪. ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’ এ গানের প্রথম সুরকার কে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কআবদুল গাফফার চৌধুরী
- খআসাদ চৌধুরী
- গআলতাফ মাহমুদ
- ঘআবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর: ঘ. আবদুল লতিফ
প্রশ্নটা একুশের গানের ইতিহাস নিয়ে। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি লেখেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, ১৯৫২ সালে, প্রথমে কবিতা হিসেবে।
কবিতাটিতে প্রথম সুর দেন আবদুল লতিফ, এবং কিছুদিন সে সুরেই গানটি গাওয়া হয়। পরে আলতাফ মাহমুদ নতুন সুর দেন, আর আজ প্রভাতফেরিতে যে সুরটি গাওয়া হয়, সেটি তাঁরই।
তাই প্রশ্নের প্রথম শব্দটিই আসল। শুধু সুরকার জানতে চাইলে প্রচলিত উত্তর আলতাফ মাহমুদ; প্রথম সুরকার জানতে চাইলে আবদুল লতিফ।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী গানের রচয়িতা, সুরকার নন। আসাদ চৌধুরী কবি; এ গানের রচনা বা সুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই, পদবির মিল দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
মনে রাখুন: রচয়িতা গাফ্ফার চৌধুরী, প্রথম সুর আবদুল লতিফ, বর্তমান সুর আলতাফ মাহমুদ।
১০৮৫. ১৯৮৫ সালে নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক কে পান? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কসৈয়দ আলী আহসান
- খসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- গসৈয়দ শামসুল হক
- ঘসিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর: ক. সৈয়দ আলী আহসান
প্রশ্নটা একটি নির্দিষ্ট বছরের সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে। ১৯৮৫ সালে নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক পান কবি ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান।
পদকটি সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের নামে। এর আগে ১৯৮২ সালে তিনি একুশে পদকও পেয়েছিলেন।
এ ধরনের প্রশ্নে মৃত্যুসাল দিয়ে দ্রুত বাদ দেওয়া যায়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মারা যান ১৯৭১ সালে, সিকান্দার আবু জাফর ১৯৭৫ সালে; ১৯৮৫ সালের পদক তাঁদের পাওয়ার কথা নয়।
বাকি থাকে দুই সৈয়দ। সৈয়দ শামসুল হক বিখ্যাত সব্যসাচী লেখক, কিন্তু ১৯৮৫ সালের এই পদকের প্রাপক হিসেবে নাম সৈয়দ আলী আহসানের। একই পদবির কয়েকজনকে পাশাপাশি রেখে বিভ্রান্ত করাই এখানে কৌশল।
মনে রাখুন: পুরস্কারের সাল দেওয়া থাকলে আগে মৃত্যুসাল দিয়ে বাদ দিন।
১০৮৬. প্রাণদ : জল : : মহীজ : ? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কসম্বর
- খগ্রহ
- গনিঃসর্গ
- ঘঅশ্ব
সঠিক উত্তর: খ. গ্রহ
প্রশ্নটা শব্দের অর্থভিত্তিক সম্পর্ক বা অ্যানালজি। প্রথম জোড়ার সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়ায় বসাতে হবে। প্রাণদ শব্দের অর্থ যে প্রাণ দেয়; জল প্রাণ দেয় বলে প্রাণদ জলের একটি প্রতিশব্দ।
একই নিয়মে মহীজ ভেঙে দেখি: মহী মানে পৃথিবী, জ মানে জাত। অর্থাৎ যা পৃথিবী থেকে জন্মেছে। এর দুটি প্রচলিত অর্থ: বৃক্ষ, আর মঙ্গল গ্রহ, কারণ পুরাণে মঙ্গলকে পৃথিবীর সন্তান বলা হয়।
বিকল্পে বৃক্ষ নেই, কিন্তু গ্রহ আছে। তাই মহীজের অর্থ হিসেবে গ্রহ বসবে, ঠিক যেমন প্রাণদের অর্থ জল।
বাকি বিকল্পগুলো মহীজের অর্থ নয়। সম্বর এক জাতের বড় হরিণ, নিসর্গ মানে প্রকৃতি, আর অশ্ব মানে ঘোড়া। নিসর্গ শুনে প্রকৃতি বা পৃথিবীর কথা মনে হয় বলে এটি ফাঁদ। প্রশ্নপত্রে বানানটি নিঃসর্গ ছাপা হয়েছে, তবে শুদ্ধ রূপ বিসর্গ ছাড়া নিসর্গ।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে জ মানে জাত: মহীজ পৃথিবীজাত, জলজ জলে জাত, পঙ্কজ পাঁকে জাত পদ্ম।
১০৮৭. চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা ? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কঅক্ষরবৃত্ত
- খমাত্রাবৃত্ত
- গস্বরবৃত্ত
- ঘঅমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর: খ. মাত্রাবৃত্ত
প্রশ্নটি চর্যাপদের ছন্দ জানতে চেয়েছে। প্রচলিত ও পরীক্ষায় গৃহীত উত্তর মাত্রাবৃত্ত।
চর্যার পদগুলো রাগ-রাগিণীর সুরে গাওয়ার জন্য লেখা; প্রতিটি পদের মাথায় রাগের নাম দেওয়া আছে। গানের তালে মাত্রা গুনে পর্ব সাজানো হয়েছে বলে পণ্ডিতেরা একে মাত্রাবৃত্তের আদিরূপ বলেন। এখানে পয়ার ধাঁচের চালও দেখা যায়, তাই কেউ কেউ ভিন্ন মত দেন।
বাকি ছন্দগুলোর সময়কাল মিলিয়ে দেখুন। অক্ষরবৃত্ত বা পয়ার মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ও অনুবাদ কাব্যে পূর্ণ বিকাশ পায়। স্বরবৃত্ত লোকছড়ার ছন্দ। আর অমিত্রাক্ষর ছন্দ মধুসূদন উনিশ শতকে প্রবর্তন করেন।
সবচেয়ে সহজে বাদ যায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ বিকল্পটি, কারণ তা চর্যাপদের প্রায় আটশো বছর পরের। আর পয়ারের চাল দেখে অক্ষরবৃত্ত ভাবাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্রাচীন যুগ মাত্রাবৃত্ত, মধ্যযুগ পয়ার, উনিশ শতক অমিত্রাক্ষর: ছন্দের ক্রম যুগের ক্রমে।
১০৮৮. কবিওয়ালা ও শায়েরের উদ্ভব ঘটে কখন? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কআঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
- খষোড়শ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে
- গসপ্তদশ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে
- ঘউনিশ শতকের শেষার্ধে ও বিংশ শতকের প্রথমার্ধে
সঠিক উত্তর: ক. আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কবিওয়ালা ও শায়েরদের উদ্ভব কখন। উত্তর আঠারো শতকের শেষার্ধ ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধ, যে সময়কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়।
১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুতে মধ্যযুগের অবসান ধরা হয়, আর ১৮৬০ সালের দিকে মধুসূদনের হাতে আধুনিক কাব্যের সূচনা। মাঝের প্রায় একশো বছর বড় কোনো ধারা ছিল না; এই ফাঁকে কবিগান, টপ্পা, পাঁচালি আর শায়েরদের দোভাষী পুঁথি জনপ্রিয় হয়।
কবিওয়ালারা দুই দলে ভাগ হয়ে মুখে মুখে গানের লড়াই করতেন; শায়েরেরা আরবি-ফারসি মেশানো দোভাষী বাংলায় পুঁথি লিখতেন। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে এই যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
তৃতীয় বিকল্প সপ্তদশ শতকের শেষার্ধ ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধ নিজেই অসংগত, কারণ একই শতকের শেষার্ধ প্রথমার্ধের আগে আসতে পারে না। ষোড়শ বা বিংশ শতকের বিকল্পগুলো যুগসন্ধির সময়সীমার বাইরে।
মনে রাখুন: যুগসন্ধি = ভারতচন্দ্রের মৃত্যু থেকে মধুসূদন পর্যন্ত, ১৭৬০ থেকে ১৮৬০।
১০৮৯. কবি গানের প্রথম কবি কে? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কগোঁজলা গুই
- খহরু ঠাকুর
- গভবানী ঘোষ
- ঘনিতাই বৈরাগী
সঠিক উত্তর: ক. গোঁজলা গুই
প্রশ্নটি কবিগানের প্রথম কবির নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর গোঁজলা গুই; সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁকে কবিগানের আদিগুরু বলা হয়।
কবিগান আঠারো শতকের শেষ থেকে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে জনপ্রিয় হয়। দুই দল কবিয়াল মঞ্চে মুখে মুখে প্রশ্নোত্তরের গানে লড়াই করতেন। গোঁজলা গুইয়ের শিষ্যদের হাত ধরে এই ধারা ছড়িয়ে পড়ে।
পরের প্রজন্মের বিখ্যাত কবিয়ালদের মধ্যে আছেন হরু ঠাকুর, ভবানী বেনে, নিতাই বৈরাগী, ভোলা ময়রা আর পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত এন্টনি ফিরিঙ্গি। এঁরা সবাই খ্যাতিমান, কিন্তু প্রথম নন।
ফাঁদ হলো হরু ঠাকুর বিকল্পটি। কবিয়ালদের মধ্যে তাঁর নাম সবচেয়ে পরিচিত, তাই অনেকে তাঁকেই প্রথম ভাবেন।
মনে রাখুন: কবিগানের ক্রম: গোঁজলা গুই প্রথম, তারপর হরু ঠাকুর, ভবানী বেনে, নিতাই বৈরাগী, ভোলা ময়রা, এন্টনি।
১০৯০. ‘কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?’ কার লেখা? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ককৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
- খঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- গকামিনী রায়
- ঘযতীন্দ্রমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর: ক. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ চরণটি কার লেখা। উত্তর কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার; চরণটি তাঁর নীতিকবিতার বই সদ্ভাব শতক থেকে।
পুরো ভাবটা হলো: হে পথিক, দীর্ঘ পথ দেখে কেন থেমে যাচ্ছ? চেষ্টা ছাড়া কার মনের ইচ্ছা পূর্ণ হয়? পরের চরণ উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ। পান্থ মানে পথিক, ক্ষান্ত মানে বিরত, হেরি মানে দেখে।
নীতিকবিতার বিখ্যাত চরণগুলো জোড়ায় মনে রাখুন। পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি লিখেছেন কামিনী রায়। কতরূপ স্নেহ করি দেশের কুকুর ধরি লিখেছেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই লিখেছেন যতীন্দ্রমোহন বাগচী।
ফাঁদ হলো কামিনী রায় বিকল্পটি, কারণ তাঁর কবিতাও উপদেশমূলক ও পরিশ্রমের কথা বলে। কিন্তু পান্থ আর মনোরথের চরণটি কৃষ্ণচন্দ্রের।
মনে রাখুন: পান্থ আর মনোরথ মানে কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের সদ্ভাব শতক।
১০৯১. কোন চরণটি সঠিক? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
- খধন্য ধান্যে পুষ্পে ভরা
- গধণ্যে ধান্যে পুষ্প ভরা
- ঘধন্যে ধান্য পুষ্পে ভরা
সঠিক উত্তর: ক. ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
প্রশ্নটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানের প্রথম চরণের শুদ্ধ রূপ জানতে চেয়েছে। গানটি আমাদের এই বসুন্ধরা চরণে এগিয়ে যায়, আর তিনটি শব্দ লাগে: ধন, ধান্য আর পুষ্প।
মূল গানে চরণটি ধনধান্য পুষ্প ভরা। বিকল্পগুলোর কোনোটি হুবহু তা নয়, তবে ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা বিকল্পে তিনটি শব্দই ঠিক আছে, শুধু বিভক্তি যুক্ত; প্রচলিত উত্তরও এটি।
বাকিগুলোর ভুল শব্দের অর্থে। ধন মানে সম্পদ, আর ধন্য মানে কৃতার্থ বা প্রশংসিত; দেশ সম্পদে ভরা, কৃতার্থতায় নয়। আর ধন শব্দে দন্ত্য ন, কারণ ণত্ব বিধানের কোনো শর্ত এখানে নেই; তাই ধণ্যে বানানটাই ভুল।
ফাঁদ হলো ধন্য ধান্যে পুষ্পে ভরা বিকল্পটি। ধন্য আর ধান্য শুনতে একই রকম, তাই গানের সুরে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: মনে রাখুন তিন সম্পদ: ধন, ধান্য, পুষ্প। ধন্য শব্দ এই গানে নেই।
১০৯২. কোন বানানটি শুদ্ধ নয়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কদরিদ্রতা
- খউপযোগিতা
- গশ্রদ্ধাঞ্জলি
- ঘউর্দ্ধ
সঠিক উত্তর: ঘ. উর্দ্ধ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন বানানটি শুদ্ধ নয়। উত্তর উর্দ্ধ। শুদ্ধ বানান ঊর্ধ্ব, আর এতে দুটো ভুল একসঙ্গে আছে।
প্রথম ভুল কারে: শব্দের শুরুতে দীর্ঘ ঊ, হ্রস্ব উ নয়। দ্বিতীয় ভুল যুক্তবর্ণে: শুদ্ধ রূপে রেফ, তারপর ধ আর ব-ফলা; উর্দ্ধ বানানে দ আর ধ জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা মূল শব্দে নেই। একই নিয়মে ঊর্ধ্বতন, ঊর্ধ্বগামী, ঊর্ধ্বমুখী।
বাকি তিনটি বানান শুদ্ধ। উপযোগিতা শব্দে ইন্ ভাগান্ত নিয়মে উপযোগী-র দীর্ঘ ঈ হ্রস্ব হয়েছে, যেমন প্রতিযোগিতা, মন্ত্রিসভা। শ্রদ্ধাঞ্জলি এসেছে শ্রদ্ধা আর অঞ্জলি থেকে, আ আর অ মিলে আ। দরিদ্রতা অভিধানে গৃহীত, যদিও প্রমিত বিশেষ্য দারিদ্র্য।
দরিদ্রতা বিকল্পে অনেকে আটকে যান, কারণ দারিদ্র্য বেশি শুদ্ধ শোনায়। কিন্তু প্রশ্ন বানানের, আর দরিদ্রতা বানান হিসেবে ভুল নয়; ভুলটা স্পষ্টভাবে উর্দ্ধ বানানে।
মনে রাখুন: ঊর্ধ্ব পরিবারে সবখানে দীর্ঘ ঊ আর র্ধ্ব: ঊর্ধ্বতন, ঊর্ধ্বগামী। ইন্ ভাগান্ত: গুণী থেকে গুণিজন, মন্ত্রী থেকে মন্ত্রিসভা।
১০৯৩. ‘গৃহী’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কসংসারী
- খসঞ্চয়ী
- গসংস্থিতি
- ঘসন্ন্যাসী
সঠিক উত্তর: ঘ. সন্ন্যাসী
প্রশ্নটি গৃহী শব্দের বিপরীত শব্দ জানতে চেয়েছে। গৃহী মানে যে গৃহে বাস করে, সংসারী বা গৃহস্থ। এর বিপরীত সন্ন্যাসী, যে সংসার ত্যাগ করেছে।
বিপরীত শব্দ খোঁজার নিয়ম হলো, আগে মূল শব্দের অর্থ স্থির করা, তারপর সেই অর্থের উল্টো খোঁজা। গৃহী ও সন্ন্যাসী জীবনের দুই বিপরীত পথ; প্রাচীন আশ্রম ব্যবস্থায় গার্হস্থ্য আর সন্ন্যাস আলাদা পর্যায়।
সংসারী গৃহীর সমার্থক, বিপরীত নয়। সঞ্চয়ী মানে যে জমায়, এর বিপরীত অপচয়ী বা অমিতব্যয়ী। সংস্থিতি মানে অবস্থান বা স্থিতি, গৃহীর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
ফাঁদ হলো সংসারী বিকল্পটি। শব্দটা গৃহীর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ বলে চোখে পড়ে, কিন্তু এটি সমার্থক; প্রশ্ন চেয়েছে বিপরীত।
মনে রাখুন: জোড়া মনে রাখুন: গৃহী বনাম সন্ন্যাসী, সঞ্চয়ী বনাম অপচয়ী।
১০৯৪. Excise duty -র পরিভাষা কোনটি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কঅতিরিক্ত কর
- খআবগারি শুল্ক
- গঅর্পিত দায়িত্ব
- ঘঅতিরিক্ত কর্তব্য
সঠিক উত্তর: খ. আবগারি শুল্ক
প্রশ্নটি ইংরেজি এক্সাইজ ডিউটি পরিভাষার বাংলা জানতে চেয়েছে। উত্তর আবগারি শুল্ক, যা দেশের ভেতরে উৎপাদিত বা বিক্রীত পণ্যের ওপর আরোপিত কর।
আবগারি শব্দ ফারসি থেকে এসেছে; মূলে এটি মদ চোলাইয়ের সঙ্গে যুক্ত, আর ব্রিটিশ আমলে মদ ও মাদকদ্রব্যের ওপর কর হিসেবে চালু হয়। এখনো সরকারের শুল্ক ও আবগারি বিভাগ নামে এই শব্দ টিকে আছে।
কাছাকাছি পরিভাষা: কাস্টমস ডিউটি মানে আমদানি বা রপ্তানি শুল্ক, যা সীমান্তে আদায় হয়। সারচার্জ মানে অতিরিক্ত কর বা অধিকর। অ্যাসাইনড ডিউটি মানে অর্পিত দায়িত্ব।
ফাঁদ হলো অতিরিক্ত কর বিকল্পটি। এক্সাইজ শব্দের শুরুটা এক্সট্রার মতো শোনায় বলে অনেকে অতিরিক্ত ভাবেন, কিন্তু অতিরিক্ত কর হলো সারচার্জ।
মনে রাখুন: সীমান্তে আদায় Customs, দেশের ভেতরের পণ্যে Excise; দুটোই শুল্ক, জায়গা আলাদা।
১০৯৫. কোন বাক্যটি শুদ্ধ? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কতোমার গোপন কথা শোনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
- খদরিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।
- গসলজ্জিত হাসি হেসে মেয়েটি উত্তর দিল।
- ঘসর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করা উচিত।
সঠিক উত্তর: খ. দরিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।
প্রশ্নটি শুদ্ধ বাক্য খুঁজতে বলেছে। প্রদত্ত উত্তর দরিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা। দরিদ্রতা শব্দটি বাংলা একাডেমির অভিধানে গৃহীত, তাই বাক্যটি শুদ্ধ ধরা হয়; তবে প্রমিত ও বেশি প্রচলিত রূপ দারিদ্র্য।
তৃতীয় বাক্যে সলজ্জিত শব্দটি ভুল। লজ্জা শব্দের সঙ্গে স উপসর্গ যোগে হয় সলজ্জ, মানে লজ্জাসহ; এর সঙ্গে আবার ইত প্রত্যয় লাগে না। শুদ্ধ: সলজ্জ হাসি হেসে মেয়েটি উত্তর দিল।
চতুর্থ বাক্যে বাহুল্যতা ভুল। বাহুল্য শব্দটি নিজেই ভাববাচক বিশেষ্য (বহুল থেকে য প্রত্যয়), এর সঙ্গে আবার তা প্রত্যয় যোগ করলে একই কাজের দুটি প্রত্যয় হয়ে বাহুল্য দোষ ঘটে; একই ভুল সৌজন্যতা, দারিদ্র্যতা। শুদ্ধ: সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করা উচিত।
তবে তোমার গোপন কথা শোনা আমার পক্ষে সম্ভব নয় বিকল্পটিও ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধই মনে হয়। গাইডগুলো একবাক্যে দরিদ্রতার বাক্যটিকে উত্তর ধরে, তাই সেটিই দেওয়া হলো; তবে প্রশ্নটি বিতর্কিত।
মনে রাখুন: বিশেষ্যের পর আবার তা যোগ করা যায় না: বাহুল্যতা, সৌজন্যতা, দারিদ্র্যতা সবই ভুল।
১০৯৬. ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ এটি কোন বাক্য? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কসরল
- খমিশ্র বা জটিল
- গযৌগিক
- ঘসংযুক্ত
সঠিক উত্তর: খ. মিশ্র বা জটিল
প্রশ্নটা বাক্যের গঠন চিনতে চেয়েছে। গঠন অনুযায়ী বাংলা বাক্য তিন রকম: সরল, জটিল বা মিশ্র, আর যৌগিক। কোনটি কোন ধরন, তা বোঝার চাবি হলো সমাপিকা ক্রিয়া কয়টি এবং খণ্ডবাক্যগুলো কীভাবে যুক্ত।
এই বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া আছে: আসবে এবং ভাঙল। তুমি আসবে অংশটির নিজস্ব কর্তা ও ক্রিয়া আছে, কিন্তু বলে শব্দটি একে কারণ হিসেবে পরের অংশের সঙ্গে বেঁধে দিয়েছে। তাই এটি একা দাঁড়াতে পারে না, এটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
সখিনা বিবির কপাল ভাঙল অংশটিই মূল বক্তব্য, এটি প্রধান খণ্ডবাক্য। একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকলে বাক্যটি মিশ্র বা জটিল। হে স্বাধীনতা অংশটি শুধু সম্বোধন, আলাদা খণ্ডবাক্য নয়।
ফাঁদ হলো বাক্যটি ছোট দেখে সরল বাক্য ধরে নেওয়া। সরল বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া থাকে মাত্র একটি, এখানে দুটি। আবার যৌগিক হতে হলে দুটি অংশকেই স্বাধীন পূর্ণ বাক্য হতে হতো, যা এবং, কিন্তু, অথবা জাতীয় অব্যয়ে জোড়া লাগে।
মনে রাখুন: দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে সংযোগটা দেখুন: যে, যদি, যখন, বলে, কারণ জাতীয় শব্দে জোড়া হলে জটিল; এবং, কিন্তু, অথবায় জোড়া হলে যৌগিক।
১০৯৭. কোনটি ‘অগ্নি’-র সমার্থক শব্দ নয়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কপাবক
- খবৈশ্বানর
- গসর্বশুচি
- ঘপ্রজ্বলিত
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রজ্বলিত
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ চেনার, তবে উল্টো দিক থেকে: কোনটি অগ্নির প্রতিশব্দ নয়। এ ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি শব্দ বিশেষ্য না বিশেষণ, সেটাও দেখতে হয়।
পাবক শব্দের মূল অর্থ যা পবিত্র করে; আগুন সব কিছু শুদ্ধ করে বলে অগ্নির এই নাম। বৈশ্বানর বেদে বহুল ব্যবহৃত অগ্নির নাম। সর্বশুচি শব্দেও শুচি অংশটি অগ্নিকে বোঝায়। তিনটিই অগ্নির নাম, অর্থাৎ বিশেষ্য।
প্রজ্বলিত মানে যা জ্বলছে বা জ্বালানো হয়েছে। এটি বিশেষণ, আগুনের অবস্থা বোঝায়, আগুনের নাম নয়; যেমন প্রজ্বলিত প্রদীপ, প্রজ্বলিত চুলা।
ফাঁদ হলো আগুনের সঙ্গে সম্পর্ক দেখে প্রজ্বলিতকে প্রতিশব্দ ভেবে ফেলা। সম্পর্কিত শব্দ আর সমার্থক শব্দ এক নয়। অগ্নির আরও প্রতিশব্দ মনে রাখুন: অনল, বহ্নি, হুতাশন, কৃশানু।
মনে রাখুন: সমার্থক শব্দ খুঁজলে আগে পদ মিলিয়ে নিন: মূল শব্দ বিশেষ্য হলে বিশেষণটি বাদ।
১০৯৮. কোনটি সঠিক বানান? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কনিশিথিনী
- খনীশিথিনী
- গনিশীথিনী
- ঘনিশিথিনি
সঠিক উত্তর: গ. নিশীথিনী
প্রশ্নটা ই-কার আর ঈ-কারের শুদ্ধ ব্যবহার যাচাই করছে। নিশীথিনী শব্দের অর্থ রাত্রি; এটি গড়ে উঠেছে নিশীথ শব্দের সঙ্গে স্ত্রীবাচক ইনী প্রত্যয় যোগে।
মূল শব্দ নিশীথ, যার অর্থ গভীর রাত। এর বানানে নি-তে হ্রস্ব ই-কার আর শী-তে দীর্ঘ ঈ-কার। মূল শব্দের এই বানান নতুন শব্দেও অবিকল থাকে।
এরপর ইনী প্রত্যয় যুক্ত হলে শেষে নী আসে দীর্ঘ ঈ-কারে, যেমন যামিনী, কামিনী, মায়াবিনী। তাই পুরো বানান নিশীথিনী: নি হ্রস্ব, শী দীর্ঘ, থি হ্রস্ব, নী দীর্ঘ।
সবচেয়ে বেশি ভুল হয় শী অক্ষরে। নিশি শব্দে হ্রস্ব ই-কার দেখে অনেকে নিশিথিনী লেখেন, কিন্তু এখানে মূল শব্দটি নিশি নয়, নিশীথ।
মনে রাখুন: মূল শব্দ চিনে নিন, তার বানান বদলায় না; স্ত্রীবাচক ইনী প্রত্যয়ে শেষে সবসময় নী (যামিনী, কামিনী)।
১০৯৯. কোনটি ‘কোলন’? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক;
- খ:
- গ=
- ঘ” ”
সঠিক উত্তর: খ. :
প্রশ্নটা যতিচিহ্নের নাম আর আকার মেলানোর। কোলন হলো ওপর নিচে বসানো দুটি বিন্দু। এর কাজ জানিয়ে দেওয়া যে সামনে কোনো ব্যাখ্যা, উদাহরণ বা তালিকা আসছে।
যেমন পদ পাঁচ প্রকার, এ কথার পরে কোলন দিয়ে তালিকা শুরু হয়: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া। কোলনে প্রায় এক সেকেন্ড থামতে হয়।
সেমিকোলনে ওপরে বিন্দু আর নিচে কমা থাকে; এটি কমার চেয়ে বেশি বিরতি দিয়ে সম্পর্কিত দুটি বাক্যাংশ জোড়ে। সমান চিহ্ন যতিচিহ্নই নয়, এটি গণিতের চিহ্ন। আর উল্টো কমার মতো জোড়া চিহ্নটি উদ্ধৃতিচিহ্ন, যা কারও কথা হুবহু তুলে ধরে।
ফাঁদ হলো কোলন আর সেমিকোলন গুলিয়ে ফেলা। মনে রাখুন, দুটি বিন্দু মানে কোলন; নিচের বিন্দুর জায়গায় কমা থাকলে সেটা সেমিকোলন।
মনে রাখুন: দুই বিন্দু কোলন, বিন্দু আর কমা সেমিকোলন; সেমি মানে আধা, তাই অর্ধেকটা কমা।
১১০০. বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট পত্রিকা ‘কল্লোল’ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক১৯২৩ সালে
- খ১৯২৪ সালে
- গ১৯২৫ সালে
- ঘ১৯২৭ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ১৯২৩ সালে
প্রশ্নটা বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের একটি মোড় ঘোরানো পত্রিকার প্রকাশকাল জানতে চেয়েছে। কল্লোল প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে, বাংলা ১৩৩০ সনে।
পত্রিকাটি চালু করেন দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ। এর চারপাশে গড়ে ওঠা তরুণ লেখকগোষ্ঠী রবীন্দ্র প্রভাবের বাইরে নতুন ধারার সাহিত্য খুঁজছিলেন; এ সময়টিকে বলা হয় কল্লোল যুগ।
এর ঠিক পরের বছর, ১৯২৪ সালে, শুরু হয় শনিবারের চিঠি, যা কল্লোলের লেখকদের তীব্র সমালোচনা করত। ১৯২৬ সালে আসে কালিকলম, একই আধুনিক ধারার আরেক পত্রিকা।
ফাঁদ হলো ১৯২৪ সাল, কারণ শনিবারের চিঠির বছরটি কাছাকাছি। মনে রাখুন, আগে কল্লোল, তার জবাবে পরের বছর শনিবারের চিঠি।
মনে রাখুন: সবুজপত্র ১৯১৪, কল্লোল ১৯২৩, শনিবারের চিঠি ১৯২৪, কালিকলম ১৯২৬: ক্রমটা একসাথে মনে রাখুন।