বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫২
১০২১. ‘কল্লোল’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদকের নাম কী? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবুদ্ধদেব বসু
- খদীনেশরঞ্জন দাশ
- গসজনীকান্ত দাস
- ঘপ্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর: খ. দীনেশরঞ্জন দাশ
প্রশ্নটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক জানতে চেয়েছে। কল্লোল পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে, আর এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ; সঙ্গে ছিলেন গোকুলচন্দ্র নাগ।
কল্লোল ঘিরে একদল তরুণ লেখক রবীন্দ্র প্রভাবের বাইরে নতুন ধারার সাহিত্য শুরু করেন। এই সময়কে বলে কল্লোল যুগ; এ নামে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের একটি স্মৃতিকথাও আছে।
একই সময়ের আরও দুটি পত্রিকা কল্লোলের সঙ্গী: প্রেমেন্দ্র মিত্রদের কালিকলম আর বুদ্ধদেব বসুর প্রগতি। এর বিপরীতে কল্লোলকে ব্যঙ্গ করত সজনীকান্ত দাসের শনিবারের চিঠি।
ফাঁদ হলো বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। তাঁরা কল্লোলের লেখক ছিলেন, কিন্তু সম্পাদক নন।
মনে রাখুন: কল্লোল, কালিকলম, প্রগতি: তিন পত্রিকা, তিন সম্পাদক; শনিবারের চিঠি এদের বিরোধী।
১০২২. ‘আমি এ কথা, এ ব্যথা, সুখ ব্যাকুলতা কাহার চরণতলে দিব নিছনি।।’- রবীন্দ্রনাথের এ গানে ‘নিছনি’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঅপনোদন অর্থে
- খপূজা অর্থে
- গবিলানো অর্থে
- ঘউপহার অর্থে
সঠিক উত্তর: খ. পূজা অর্থে
প্রশ্নটি রবীন্দ্রসংগীতে ব্যবহৃত একটি পুরোনো শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। নিছনি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত নির্মঞ্ছন থেকে, যার অর্থ আরতি, পূজা বা দেবতার উদ্দেশে নিবেদন।
গানের লাইনে কবি বলছেন, আমার এই কথা, ব্যথা আর সুখের ব্যাকুলতা কার চরণতলে পূজার অর্ঘ্য হিসেবে দেব। তাই এখানে নিছনি পূজা অর্থে ব্যবহৃত।
মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদেও নিছনি শব্দটি আরতি বা অর্ঘ্য অর্থে পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ এমন অনেক পুরোনো শব্দ গানে নতুন করে ব্যবহার করেছেন।
ফাঁদ হলো উপহার। কাউকে কিছু দেওয়ার ভাব থাকায় উপহার কাছাকাছি মনে হয়, কিন্তু নিছনির মূলে আছে দেবতার আরতি, তাই পূজাই সঠিক অর্থ।
মনে রাখুন: চরণতলে, অর্ঘ্য, আরতি এসব শব্দ পাশে থাকলে নিছনির অর্থ পূজা।
১০২৩. ‘ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।’- কে বলেছেন? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমোতাহের হোসেন চৌধুরী
- খরামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
- গপ্রমথ চৌধুরী
- ঘকাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর: ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
প্রশ্নটি সংস্কৃতি নিয়ে একটি বিখ্যাত উক্তির রচয়িতা জানতে চেয়েছে। ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম, উক্তিটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর।
উক্তিটি তাঁর সংস্কৃতি কথা গ্রন্থের। তিনি মনে করতেন, শিক্ষিত মানুষ সংস্কৃতির মাধ্যমেই নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, যেমন সাধারণ মানুষ ধর্মের মাধ্যমে করে।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখা গোষ্ঠীর বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের লেখক। কাজী আব্দুল ওদুদও এই আন্দোলনের প্রধান মুখ, তাই তাঁকে বেছে নেওয়ার ঝোঁক থাকে।
প্রমথ চৌধুরীর নামের সঙ্গে চৌধুরী পদবির মিলও ফাঁদ। প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত উক্তি ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
মনে রাখুন: সংস্কৃতি নিয়ে উক্তি দেখলে প্রথমে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সংস্কৃতি কথা মনে করুন।
১০২৪. কোন বাক্যটি শুদ্ধ? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
- খতার কথা শুনে আমি আশ্চার্যান্বিত হলাম।
- গতোমার পরশ্রীকাতরতায় আমি মুগ্ধ।
- ঘসেদিন থেকে তিনি সেখানে আর যায় না।
সঠিক উত্তর: খ. তার কথা শুনে আমি আশ্চার্যান্বিত হলাম।
প্রশ্নটি চারটি বাক্যের মধ্যে শুদ্ধটি খুঁজতে বলেছে। এ ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি বাক্যে বানান, শব্দের অর্থ আর কর্তা ক্রিয়ার মিল আলাদা করে যাচাই করতে হয়।
আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত বাক্যে ভুল আছে; সঙ্গে অর্থে উপসর্গ স, তাই শুদ্ধ সপরিবারে। পরশ্রীকাতরতা মানে অন্যের ভালো দেখে কষ্ট পাওয়া, এমন দোষে কেউ মুগ্ধ হয় না, তাই অর্থের দিক থেকে বাক্যটি অসংগত।
তিনি সেখানে আর যায় না বাক্যে কর্তা সম্মানসূচক তিনি, তাই ক্রিয়া হবে যান। বাকি থাকে আশ্চর্যান্বিত হলাম বাক্যটি, যাতে এমন স্পষ্ট ভুল নেই।
তবে দুটি বিষয় খেয়াল রাখুন। প্রশ্নপত্রে শব্দটি আশ্চার্যান্বিত ছাপা হয়েছিল, যা মুদ্রণপ্রমাদ; শুদ্ধ বানানে চ এর পরে আ-কার নেই, আশ্চর্য। আর অনেক ব্যাকরণবিদ আশ্চর্যান্বিত শব্দটিকেই বাড়তি প্রত্যয়ের রূপ মনে করেন এবং আশ্চর্য হলাম বা বিস্মিত হলাম লিখতে বলেন। চারটির মধ্যে তুলনামূলক শুদ্ধ বাক্য হিসেবে এটিই উত্তর।
মনে রাখুন: শুদ্ধ বাক্যের প্রশ্নে তিনটি ভুল খুঁজে বাদ দিন; সঙ্গে অর্থে স, আর তিনি মানে যান, করেন, বলেন।
১০২৫. Ode কী? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশোককবিতা
- খপত্রকাব্য
- গখণ্ড কবিতা
- ঘকোরাসগান
সঠিক উত্তর: ঘ. কোরাসগান
প্রশ্নটি পাশ্চাত্য কাব্যরূপ Ode এর পরিচয় জানতে চেয়েছে। প্রাচীন গ্রিসে Ode ছিল গম্ভীর ও স্তুতিমূলক গীতিকবিতা, যা বাজনার সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে, অর্থাৎ কোরাসে গাওয়া হতো।
গ্রিক কবি পিন্ডারের ওড এই কোরাস রীতির সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। সেই উৎস ধরে প্রচলিত উত্তর কোরাসগান।
পরে ইংরেজি সাহিত্যে ওড হয়ে ওঠে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবকে সম্বোধন করে লেখা গম্ভীর গীতিকবিতা, যেমন কিটসের Ode to a Nightingale। বাংলায় একে স্তোত্রকবিতাও বলা হয়।
ফাঁদ হলো শোককবিতা। মৃত্যুশোকের কবিতার নাম Elegy, আর পত্রের আকারে লেখা কবিতা Epistle; এগুলো Ode নয়।
মনে রাখুন: কাব্যরূপের ইংরেজি নাম জোড়ায় মনে রাখুন: Elegy শোক, Epistle পত্র, Sonnet চতুর্দশপদী, Ode স্তুতি বা কোরাস।
১০২৬. মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
- খআধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
- গধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
- ঘধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: ঘ. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
প্রশ্নটি ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম জানতে চেয়েছে। তাঁর গ্রন্থের নাম ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।
এই বইয়ে তিনি আধুনিক ধ্বনিবিজ্ঞানের পদ্ধতিতে বাংলা ধ্বনির উচ্চারণ বিশ্লেষণ করেছেন; বাংলা ধ্বনিতত্ত্বের পাঠে এটি মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে গণ্য।
আবদুল হাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তাঁর অন্য পরিচিত বই তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, ভাষা ও সাহিত্য, বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন।
বাকি তিনটি নাম শুনতে প্রায় একই রকম, তাই এখানে মনে রাখার কৌশল হলো পুরো নামে দুটি অংশ: ধ্বনিবিজ্ঞান এবং বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।
মনে রাখুন: আবদুল হাইয়ের কয়েকটি বইয়ের নামে দুটি অংশ ও দিয়ে যুক্ত: ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, ভাষা ও সাহিত্য।
১০২৭. কোনটি ‘অগ্নি’র সমার্থক শব্দ নয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপাবক
- খবহ্নি
- গহুতাশন
- ঘপ্রজ্বলিত
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রজ্বলিত
প্রশ্নটি অগ্নির প্রতিশব্দ চিনতে চেয়েছে, তবে উল্টো দিক থেকে: কোনটি প্রতিশব্দ নয়। অগ্নির পরিচিত প্রতিশব্দ পাবক, বহ্নি, হুতাশন, অনল, কৃশানু, বৈশ্বানর।
পাবক মানে যে পবিত্র করে, হুতাশন মানে যে আহুতি গ্রহণ করে; এগুলো আগুনের নাম। প্রজ্বলিত কিন্তু আগুনের নাম নয়, এটি বিশেষণ, মানে জ্বলন্ত বা জ্বালানো হয়েছে এমন।
প্রতিশব্দ হতে হলে শব্দটিকে একই পদ হতে হয়, এখানে বিশেষ্য। প্রজ্বলিত আগুনের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও বিশেষ্য নয়, তাই প্রতিশব্দ নয়।
ফাঁদ হলো সম্পর্কিত শব্দ দেখে প্রতিশব্দ ভাবা। অনিল শব্দটিও সাবধান, এর অর্থ বাতাস, আগুন নয়।
মনে রাখুন: প্রতিশব্দের প্রশ্নে পদ মিলিয়ে দেখুন: বিশেষ্যের প্রতিশব্দ বিশেষ্যই হবে।
১০২৮. বিভা : কিরণ : : সুবলিত :? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসুবিদিত
- খসুগঠিত
- গসুবিনীত
- ঘবিধিত
সঠিক উত্তর: খ. সুগঠিত
প্রশ্নটি শব্দের সম্পর্ক মেলাতে বলেছে। বিভা আর কিরণ দুটোরই অর্থ আলো বা দীপ্তি, অর্থাৎ এরা সমার্থক। তাই দ্বিতীয় জোড়াতেও সুবলিত শব্দের সমার্থক শব্দ খুঁজতে হবে।
সুবলিত মানে সুন্দরভাবে গঠিত, সুডৌল বা সুগঠিত, যেমন সুবলিত দেহ। তাই উত্তর সুগঠিত।
অনুপাতের প্রশ্নে আগে প্রথম জোড়ার সম্পর্ক ঠিক করুন: সমার্থক, বিপরীত, অংশ ও পূর্ণ, নাকি কাজ ও কর্তা। তারপর একই সম্পর্ক দ্বিতীয় জোড়ায় বসান।
ফাঁদ হলো সুবিদিত আর সুবিনীত। সু দিয়ে শুরু বলে শব্দগুলো দেখতে কাছাকাছি, কিন্তু অর্থ আলাদা।
মনে রাখুন: অনুপাতের প্রশ্নে আগে প্রথম জোড়ার সম্পর্কের নাম দিন, তারপর সেটাই দ্বিতীয় জোড়ায় খুঁজুন।
১০২৯. ”পুরষ্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত ‘অপরিস্কার”। – বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে- (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপ্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
- খপ্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
- গদুটোই অশুদ্ধ
- ঘদুটোই শুদ্ধ
সঠিক উত্তর: গ. দুটোই অশুদ্ধ
প্রশ্নটা ষ আর স-এর ব্যবহার যাচাই করছে, ষত্ব বিধানের একটি পরিচিত নিয়ম দিয়ে। শুদ্ধ বানান পুরস্কার আর অপরিষ্কার; প্রশ্নে দুটিতেই স আর ষ উল্টো লেখা হয়েছে, তাই দুটোই অশুদ্ধ।
পুরস্কার এসেছে পুরঃ আর কার মিলে। বিসর্গের আগে অ-কার বা আ-কার থাকলে পরে ক এলে সাধারণত বিসর্গ স হয়ে যায়; যেমন নমস্কার, ভাস্কর। তাই পুরস্কারে দন্ত্য স।
পরিষ্কার শব্দে ক-এর আগে ই-কার আছে। ই-কার বা উ-কারের পরে এ জায়গায় মূর্ধন্য ষ বসে; যেমন নিষ্কাম, দুষ্কর, আবিষ্কার। অপরিষ্কার শব্দটি পরিষ্কারের আগে অ বসিয়ে তৈরি, তাই এখানেও মূর্ধন্য ষ।
মনে রাখার উপায়: ক-এর ঠিক আগের স্বরটি দেখুন। অ বা আ হলে দন্ত্য স, ই বা উ হলে মূর্ধন্য ষ। পুর শব্দে উ দেখে অনেকে ষ লেখেন, কিন্তু বিসর্গের ঠিক আগের স্বর র-এর অ, উ নয়।
মনে রাখুন: ক-এর আগে অ বা আ থাকলে স্ক, ই বা উ থাকলে ষ্ক: নমস্কার, পুরস্কার; কিন্তু নিষ্কাম, দুষ্কর, পরিষ্কার।
১০৩০. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কমনীষী
- খমনিষি
- গমনীষি
- ঘমনিষী
সঠিক উত্তর: ক. মনীষী
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের ই-কার ঈ-কার যাচাই করছে। শুদ্ধ বানান মনীষী, যেখানে নী আর ষী দুটোতেই দীর্ঘ ঈ-কার।
শব্দটি এসেছে মনীষা থেকে, যার অর্থ প্রজ্ঞা বা গভীর বুদ্ধি। মূল শব্দ মনীষায় নী দীর্ঘ, তাই মনীষীতেও নী দীর্ঘ থাকে।
শেষের ষী দীর্ঘ হওয়ার কারণ ইন্ প্রত্যয়। ইন্ প্রত্যয়ে গঠিত শব্দ বাংলায় দীর্ঘ ঈ-কারে শেষ হয়: যেমন গুণী, জ্ঞানী, মন্ত্রী, প্রাণী।
ভুলটা সাধারণত হয় শেষ অক্ষরে। মনে রাখুন, এ ধরনের শব্দ সমাসের প্রথমে বসলে আবার হ্রস্ব হয়, যেমন মন্ত্রিসভা, প্রাণিবিদ্যা; কিন্তু একক শব্দ মনীষীতে দুটোই দীর্ঘ।
মনে রাখুন: ইন্ প্রত্যয়ের শব্দ শেষে দীর্ঘ ঈ: গুণী, জ্ঞানী, মন্ত্রী, মনীষী; সমাসের প্রথমে গেলে হ্রস্ব: মন্ত্রিসভা।
১০৩১. কোন বাক্যটি শুদ্ধ? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কদৈন্যতা সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়
- খদৈন্য সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়
- গদৈন্যতা সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়
- ঘদৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. দৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়
প্রশ্নটা শুদ্ধ বাক্য চেনার, আর ভুলটা লুকিয়ে আছে দুটি শব্দে: দৈন্য আর মহত্ত্ব। চারটি বাক্য এই দুই শব্দের চার রকম জোড়া; দুটো শব্দই শুদ্ধ আছে শুধু শেষ বিকল্পে।
দীন মানে গরিব, এর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে দৈন্য, অর্থাৎ দীনতা। দৈন্য নিজেই ভাববাচক বিশেষ্য, তাই এর সঙ্গে আবার তা যোগ করলে একই কাজ দুবার হয়। দৈন্যতা তাই অশুদ্ধ; একই ভুল হয় সৌজন্যতা, উৎকর্ষতা, দারিদ্র্যতা শব্দেও।
মহত্ত্ব শব্দটি মহৎ আর ত্ব প্রত্যয় মিলে। মহৎ শব্দের শেষে ত আছে, ত্ব প্রত্যয়েও ত আছে, তাই দুটি ত পাশাপাশি বসে। একই নিয়মে তৎ থেকে তত্ত্ব, সৎ থেকে সত্ত্ব।
ফাঁদ হলো একটি ভুল ধরে বাকিটা খেয়াল না করা। দৈন্য ঠিক করলেও মহত্ব রেখে দিলে বাক্য অশুদ্ধ থাকে; দুটো শব্দই আলাদাভাবে যাচাই করুন।
মনে রাখুন: ভাববাচক বিশেষ্যে আবার তা নয়: দৈন্য, সৌজন্য, উৎকর্ষ, দারিদ্র্য। ৎ যোগ ত্ব হলে ত্ত্ব: মহত্ত্ব, তত্ত্ব, সত্ত্ব।
১০৩২. ‘Consumer goods’ –এর উপযুক্ত বাংলা পরিভাষা কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কভোক্তার কল্যাণ
- খভোগ্যপণ্য
- গক্রয়কৃত পণ্য
- ঘক্রেতার গুণাগুণ
সঠিক উত্তর: খ. ভোগ্যপণ্য
প্রশ্নটা ইংরেজি পরিভাষার বাংলা জানতে চেয়েছে। কনজিউমার গুডস মানে ভোগ্যপণ্য: যে পণ্য মানুষ সরাসরি ভোগ বা ব্যবহারের জন্য কেনে, যেমন চাল, তেল, সাবান, কাপড়।
শব্দ দুটি ভেঙে দেখলেই উত্তর মেলে। গুডস মানে পণ্য বা দ্রব্য। কনজিউমার মানে ভোক্তা, কিন্তু পরিভাষায় বিশেষণ হিসেবে এর রূপ হয় ভোগ্য, অর্থাৎ ভোগের উপযোগী। তাই ভোগ্যপণ্য।
অর্থনীতিতে এর পাশাপাশি আরেকটি ধারণা মূলধনী পণ্য, ইংরেজিতে ক্যাপিটাল গুডস: যে পণ্য দিয়ে অন্য পণ্য তৈরি হয়, যেমন কারখানার যন্ত্র।
বাকি বিকল্পগুলো কনজিউমার শব্দটিকে ধরে বানানো ফাঁদ। ভোক্তার কল্যাণে গুডস শব্দের অর্থই নেই, ক্রয়কৃত পণ্য শুধু কেনা জিনিস বোঝায়, আর ক্রেতার গুণাগুণ পুরো অর্থই পাল্টে দেয়। তা ছাড়া ক্রয়কৃত শব্দটিও অশুদ্ধ, শুদ্ধ রূপ ক্রীত।
মনে রাখুন: পরিভাষা প্রশ্নে ইংরেজি শব্দ ভেঙে প্রতিটির অর্থ বসান: কনজিউমার ভোগ্য, গুডস পণ্য।
১০৩৩. ‘জল’ শব্দের সমার্থক নয় কোনটি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসলিল
- খউদক
- গজলধি
- ঘনীর
সঠিক উত্তর: গ. জলধি
প্রশ্নটা জলের প্রতিশব্দ চেনার, উল্টো দিক থেকে। সলিল, উদক আর নীর তিনটিই জলের প্রতিশব্দ; জলধি জলের প্রতিশব্দ নয়, এর অর্থ সমুদ্র।
জলধি শব্দটি ভাঙলে দাঁড়ায় জল আর ধি, যেখানে ধি এসেছে ধা ধাতু থেকে, মানে ধারণ করা। অর্থাৎ যে জল ধারণ করে, সে জলধি, মানে সাগর।
একই ছাঁচে সমুদ্রের আরও প্রতিশব্দ: বারিধি, পয়োধি, অম্বুধি, জলনিধি। শেষে ধি বা নিধি দেখলেই বুঝবেন জলের আধার, জল নয়।
ফাঁদ হলো জলধির মধ্যে জল শব্দটি দেখে একে প্রতিশব্দ ধরে নেওয়া। জলের আরও প্রতিশব্দ মনে রাখুন: বারি, অম্বু, পয়ঃ, তোয়।
মনে রাখুন: ধি বা নিধি দিয়ে শেষ মানে আধার: জলধি, বারিধি, পয়োধি সবই সমুদ্র।
১০৩৪. কোন শব্দজোড়া বিপরীতার্থক নয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কঅনুলোম-প্রতিলোম
- খনশ্বর-শাশ্বত
- গগরিষ্ঠ-লঘিষ্ঠ
- ঘহৃষ্ট-পুষ্ট
সঠিক উত্তর: ঘ. হৃষ্ট-পুষ্ট
প্রশ্নটা বিপরীতার্থক শব্দজোড়া চেনার, উল্টো দিক থেকে। প্রথম তিনটি জোড়ার দুটি শব্দ পরস্পরের উল্টো অর্থ বোঝায়, কিন্তু হৃষ্ট আর পুষ্ট উল্টো নয়।
অনুলোম মানে স্বাভাবিক ক্রমে, প্রতিলোম মানে উল্টো ক্রমে। নশ্বর মানে যা নষ্ট হয়, শাশ্বত মানে যা চিরকাল থাকে। গরিষ্ঠ মানে সবচেয়ে বড়, লঘিষ্ঠ মানে সবচেয়ে ছোট; গণিতের গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক আর লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক থেকেই শব্দ দুটি চেনা।
হৃষ্ট মানে আনন্দিত, পুষ্ট মানে পরিপুষ্ট বা সবল। দুটি একসাথে বসে হৃষ্টপুষ্ট, অর্থাৎ মোটাসোটা ও প্রফুল্ল। এটি সহচর শব্দের জোড়া, বিপরীতার্থক নয়।
চেনার কৌশল: জোড়াটি একটানা একটি শব্দ হিসেবে বলা যায় কি না দেখুন। হৃষ্টপুষ্ট, মোটাসোটা, ধনদৌলত এভাবে বলা যায়; কিন্তু নশ্বর শাশ্বত একসাথে একটি অর্থ দেয় না।
মনে রাখুন: জোড়াটা একসাথে এক শব্দ হয়ে চললে সহচর শব্দ, বিপরীত নয়: হৃষ্টপুষ্ট, মোটাসোটা।
১০৩৫. ‘পরশ্ব’ শব্দটির অর্থ কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপরশু
- খপরের ধন
- গকোকিল
- ঘপার্শববর্তী
সঠিক উত্তর: ক. পরশু
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। পরশ্ব মানে পরশু, অর্থাৎ আগামীকালের পরের দিন। চলিত পরশু শব্দটি এই পরশ্ব থেকেই এসেছে।
শব্দটি দুই অংশে বোঝা যায়: পর মানে পরের, আর শ্ব এসেছে সংস্কৃত শ্বঃ থেকে, যার অর্থ আগামীকাল। তাই আগামীকালের পরের দিন হলো পরশ্ব।
কাছাকাছি শোনায় এমন একটি শব্দ পরস্ব, দন্ত্য স দিয়ে। স্ব মানে নিজের ধন, তাই পরস্ব মানে পরের ধন। তালব্য শ আর দন্ত্য স বদলালেই অর্থ পাল্টে যায়, এটাই প্রশ্নের মূল ফাঁদ।
কোকিলের প্রতিশব্দ পিক বা পরভৃত, আর পার্শ্ববর্তী শব্দের মূল পার্শ্ব। দুটোই শুনতে কাছাকাছি বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে, কিন্তু পরশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: শ্বঃ মানে আগামীকাল, তাই পরশ্ব পরশু; স্ব মানে নিজের ধন, তাই পরস্ব পরের ধন।
১০৩৬. বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৭ টি
- খ৯টি
- গ১১ টি
- ঘ১৩ টি
সঠিক উত্তর: ক. ৭ টি
প্রশ্নটা বাংলা ধ্বনিতত্ত্বের একটি মৌলিক বিষয়: যে স্বরধ্বনিকে আর ভাঙা যায় না, তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। বাংলায় এমন স্বরধ্বনি ৭টি।
সাতটি হলো অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা আর ও। লক্ষ করুন, অ্যা ধ্বনির আলাদা বর্ণ নেই, তবু এটি মৌলিক স্বরধ্বনি; যেমন দেখা শব্দের দে উচ্চারণে।
অন্যদিকে স্বরবর্ণ ১১টি। ঈ আর ঊ উচ্চারণে ই আর উ-এর মতোই শোনায়, আলাদা ধ্বনি দেয় না; ঋ উচ্চারণে রি; আর ঐ ও ঔ যৌগিক স্বর, যেমন অ আর ই মিলে ঐ।
ফাঁদ হলো ১১, কারণ স্বরবর্ণের সংখ্যা মুখস্থ থাকে। বর্ণ আর ধ্বনি আলাদা জিনিস: বর্ণ লেখার চিহ্ন, ধ্বনি উচ্চারণের একক।
মনে রাখুন: অ আ ই উ এ অ্যা ও: সাতটি মৌলিক স্বর; স্বরবর্ণ এগারো।
১০৩৭. বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন হয় না নিম্নোক্ত কোন উপায়ে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসমাস দ্বারা
- খলিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
- গউপসর্গ যোগে
- ঘক, খ, ও গ তিন উপায়েই হয়
সঠিক উত্তর: খ. লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
প্রশ্নটা শব্দ গঠনের উপায় নিয়ে। নতুন অর্থের নতুন শব্দ তৈরির প্রধান উপায় হলো উপসর্গ, প্রত্যয়, সমাস ও সন্ধি। প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী লিঙ্গ পরিবর্তন এই তালিকায় পড়ে না।
উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে: হার শব্দের আগে প্র বসে প্রহার, আ বসে আহার, বি বসে বিহার। সমাস একাধিক শব্দ জুড়ে নতুন শব্দ বানায়: সিংহ চিহ্নিত আসন মিলে সিংহাসন।
লিঙ্গ পরিবর্তনে বাঘ থেকে বাঘিনী, দেব থেকে দেবী হয়। এতে মূল অর্থ বদলায় না, শুধু পুরুষ না নারী সেটা বোঝানো হয়। তাই গাইডগুলো একে শব্দ সাধনের উপায় ধরে না।
সতর্কতা: কিছু ব্যাকরণ বইয়ে লিঙ্গ ও বচন পরিবর্তনকেও শব্দ গঠনের মধ্যে ধরা হয়। তবু পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর লিঙ্গ পরিবর্তন; সমাস আর উপসর্গ যে নতুন শব্দ তৈরি করে, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।
মনে রাখুন: শব্দ গঠনের চার প্রধান পথ: উপসর্গ (অপমান), প্রত্যয় (ঘরামি), সমাস (রাজপুত্র), সন্ধি (বিদ্যালয়)।
১০৩৮. ‘লবণ’ শব্দের বিশেষ্য কোনটি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কনুন
- খলবণাক্ত
- গলাবণ্য
- ঘললিত
সঠিক উত্তর: ক. নুন
প্রশ্নটা শব্দের পদ ও রূপ নিয়ে, তবে প্রশ্নের ভাষা কিছুটা অস্পষ্ট, কারণ লবণ নিজেই বিশেষ্য। প্রচলিত উত্তর নুন: একই অর্থের বিশেষ্য, যা লবণ থেকেই ভেঙে এসেছে।
সংস্কৃত লবণ লোকমুখে বদলে লোণ, তারপর নুন হয়েছে। তাই নুন লবণের তদ্ভব রূপ, অর্থ হুবহু এক এবং পদও বিশেষ্য। নুন খাই যার, গুণ গাই তার, এই প্রবাদে নুন মানে লবণই।
লবণাক্ত বিশেষণ, মানে লবণযুক্ত; যেমন লবণাক্ত পানি। ললিতও বিশেষণ, মানে মনোহর বা সুন্দর, লবণের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
লাবণ্য নিয়ে সাবধান। এটি বিশেষ্য এবং লবণ থেকেই গঠিত, তবে এর অর্থ সৌন্দর্য বা কমনীয়তা; অর্থ বদলে গেছে বলে প্রচলিত উত্তরে এটি ধরা হয় না। কিছু বইয়ে লাবণ্যকেই উত্তর বলা হয়, তাই প্রশ্নটি বিতর্কিত।
মনে রাখুন: পদ চিনতে প্রশ্ন করুন শব্দটি কোনো কিছুর নাম, না গুণ বোঝায়: লবণাক্ত গুণ, নুন নাম।
১০৩৯. কোনটি বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কযোগ্যতা
- খআকাঙ্ক্ষা
- গআসক্তি
- ঘআসত্তি
সঠিক উত্তর: গ. আসক্তি
প্রশ্নটা বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে। একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা। আসক্তি এর মধ্যে নেই।
আকাঙ্ক্ষা মানে বাক্যের অর্থ পুরো বোঝার জন্য পরের শব্দ শোনার আগ্রহ; শুধু আমি ভাত বললে আগ্রহ মেটে না। আসত্তি মানে পদগুলো ঠিক ক্রমে পাশাপাশি বসা। যোগ্যতা মানে অর্থের সংগতি; সূর্য পশ্চিমে ওঠে, এ বাক্যে যোগ্যতা নেই।
আসক্তি শব্দের অর্থ অনুরাগ বা প্রবল টান, যেমন নেশার প্রতি আসক্তি। এর সঙ্গে বাক্যের গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফাঁদ হলো আসত্তি আর আসক্তি, দুটির বানান প্রায় এক। আসত্তিতে ত্ত, মানে নৈকট্য; আসক্তিতে ক্ত, মানে অনুরাগ। একটি অক্ষরের তফাতে পুরো অর্থ বদলে যায়।
মনে রাখুন: বাক্যের তিন গুণ মুখস্থ রাখুন: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা; তালিকার বাইরে যা, সেটাই উত্তর।
১০৪০. নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়সাধিত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপ্রলয়
- খখণ্ডিত
- গনিঃশ্বাস
- ঘঅনুপম
সঠিক উত্তর: খ. খণ্ডিত
প্রশ্নটা চিনতে বলছে কোন শব্দটি প্রত্যয় যোগে তৈরি। মূল কথা: প্রত্যয় বসে শব্দ বা ধাতুর শেষে, আর উপসর্গ বসে শুরুতে। খণ্ডিত শব্দে খণ্ডের পরে ইত প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে, তাই এটি প্রত্যয়সাধিত।
খণ্ডিত মানে খণ্ড করা হয়েছে এমন। একই রকম গঠনের আরও শব্দ: পুষ্পিত, কুসুমিত, তরঙ্গিত; প্রতিটিতে শেষে ইত লেগে নতুন বিশেষণ তৈরি হয়েছে।
বাকি তিনটি শব্দের পরিবর্তন শুরুতে বা অন্যভাবে। প্রলয় শব্দে লয়ের আগে প্র উপসর্গ, নিঃশ্বাস শব্দে শ্বাসের আগে নিঃ উপসর্গ। অনুপম শব্দের অর্থ যার উপমা নেই; না বোঝানো অংশ আর উপমা জুড়ে এটি সমাসে তৈরি।
ফাঁদ হলো অনুপম। শুরুতে অনু দেখে অনেকে অনু উপসর্গ ভাবেন, কেউ আবার শেষের ম দেখে প্রত্যয় খোঁজেন। আসলে শব্দটি না আর উপমা জুড়ে তৈরি, প্রত্যয়ে নয়।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুতে বাড়তি অংশ উপসর্গ, শেষে বাড়তি অংশ প্রত্যয়: পুষ্পিত, কুসুমিত, খণ্ডিত।