বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫৬
১১০১. কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কহরতাল
- খপালাবদল
- গউত্তীর্ণ পঞ্চাশে
- ঘঅন্বিষ্ট স্বদেশ
সঠিক উত্তর: ক. হরতাল
প্রশ্নটা লেখক ও রচনা মেলানোর। সুকান্ত ভট্টাচার্য একুশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যান, তাই তাঁর বেশির ভাগ বই প্রকাশিত হয়েছে মৃত্যুর পরে। এর একটি হরতাল, প্রকাশিত ১৯৬২ সালে।
মাত্র এগারো বছর বয়সে লেখা তাঁর গীতিনাট্য রাখাল ছেলে পরে এই হরতাল বইতেই সংকলিত হয়।
তাঁর অন্য বইগুলো হলো ছাড়পত্র, পূর্বাভাস, ঘুম নেই, মিঠেকড়া, অভিযান ও গীতিগুচ্ছ। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছাড়পত্র প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে, তাঁর মৃত্যুর বছরেই।
বাকি তিনটি নাম সুকান্তের রচনার তালিকায় নেই। হরতাল শব্দটা রাজনৈতিক শোনায়; গণমানুষের কবি সুকান্তের সঙ্গে নামটা মিলিয়ে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: সুকান্তের বই একসাথে: ছাড়পত্র, পূর্বাভাস, ঘুম নেই, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ।
১১০২. ‘ঢাকের কাঠি’ বাগধারার অর্থ কি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ককপট ব্যক্তি
- খঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
- গহতভাগ্য
- ঘমোসাহেব
সঠিক উত্তর: ঘ. মোসাহেব
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ জানতে চেয়েছে। ঢাকের কাঠি মানে মোসাহেব, অর্থাৎ যে লোক ক্ষমতাবান কারও পাশে থেকে সারাক্ষণ তার গুণগান গায়।
ঢাক নিজে বাজে না, কাঠির আঘাতেই শব্দ হয়। কাঠি যেমন ঢাক বাজিয়ে তোলে, মোসাহেবও তেমনি প্রভুর নামের ঢাক পেটায়, অর্থাৎ প্রচার করে বেড়ায়। ছবিটা মনে রাখলে অর্থ ভুলবেন না।
কাছাকাছি একটি বাগ্ধারা ঢাকের বাঁয়া, যার অর্থ অপ্রয়োজনীয় বা অপদার্থ লোক। আরেকটি ঢাক ঢাক গুড় গুড়, মানে লুকোচুরি বা গোপন রাখার চেষ্টা।
অন্য বিকল্পগুলোর জন্য আলাদা বাগ্ধারা আছে। কপট ব্যক্তি বোঝাতে বকধার্মিক বা বিড়াল তপস্বী, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বোঝাতে হরিহর আত্মা, আর হতভাগ্য বোঝাতে কপালপোড়া।
মনে রাখুন: ঢাক দিয়ে তিনটি বাগ্ধারা একসাথে শিখুন: ঢাকের কাঠি মোসাহেব, ঢাকের বাঁয়া অপদার্থ, ঢাক ঢাক গুড় গুড় লুকোচুরি।
১১০৩. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ককুন্দনন্দিনী
- খশ্যামাসুন্দরী
- গবিমলা
- ঘরোহিনী
সঠিক উত্তর: ক. কুন্দনন্দিনী
প্রশ্নটা বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের চরিত্র চেনার। বিষবৃক্ষের কেন্দ্রে আছেন জমিদার নগেন্দ্রনাথ, তাঁর স্ত্রী সূর্যমুখী আর অনাথ বিধবা কুন্দনন্দিনী।
নগেন্দ্রনাথ কুন্দনন্দিনীকে আশ্রয় দেন, পরে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করেন। এতে সংসারে যে অশান্তি জন্মায়, সেটাই উপন্যাসের নামের বিষবৃক্ষ। শেষে কুন্দনন্দিনী বিষ খেয়ে মারা যায়।
অন্য তিনটি নামও বঙ্কিমের চরিত্র, তবে অন্য উপন্যাসের। শ্যামাসুন্দরী কপালকুণ্ডলা উপন্যাসে নবকুমারের বোন; বিমলা দুর্গেশনন্দিনীর চরিত্র; রোহিণী কৃষ্ণকান্তের উইলের আলোচিত বিধবা নারী।
ফাঁদ হলো রোহিণী, কারণ কুন্দনন্দিনীর মতো রোহিণীও এক বিধবাকে ঘিরে প্রেম আর সংসার ভাঙার কাহিনির কেন্দ্রে। দুটি উপন্যাসের কাহিনি কাছাকাছি বলে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: বঙ্কিমের উপন্যাস চিনুন নায়িকা দিয়ে: কুন্দনন্দিনী বিষবৃক্ষ, রোহিণী কৃষ্ণকান্তের উইল, তিলোত্তমা দুর্গেশনন্দিনী।
১১০৪. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কপিপিলিকা
- খপিপীলিকা
- গপীপিলিকা
- ঘপিপিলীকা
সঠিক উত্তর: খ. পিপীলিকা
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের ই-কার আর ঈ-কারের অবস্থান যাচাই করছে। পিপীলিকা মানে পিঁপড়া। তৎসম শব্দে মূল সংস্কৃত বানান অপরিবর্তিত থাকে, তাই এখানে শব্দটির গঠন মনে রাখতে হয়।
শব্দটিতে তিনটি ই ধ্বনি: পি, পী, লি। এর মধ্যে মাঝেরটি, অর্থাৎ দ্বিতীয় পী, দীর্ঘ ঈ-কার; প্রথম পি আর লি হ্রস্ব ই-কার।
সহজ কৌশল: দীর্ঘ ঈ-কার মাঝখানে, দুপাশে হ্রস্ব। ছোট পি, বড় পী, ছোট লি, তারপর কা।
সবচেয়ে বেশি ভুল হয় সব ই-কার হ্রস্ব লিখে, অর্থাৎ পিপিলিকা। চলিত পিঁপড়া শব্দে হ্রস্ব ই-কার দেখে এই ভুলটা হয়।
মনে রাখুন: ছোট বড় ছোট: পি পী লি।
১১০৫. গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কএজরা পাউন্ড
- খটি.এস.এলিয়ট
- গডব্লিউ. বি. ইয়েটস
- ঘকীটস
সঠিক উত্তর: গ. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
প্রশ্নটা রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি গীতাঞ্জলির প্রকাশের ইতিহাস নিয়ে। ১৯১২ সালে লন্ডনে ইংরেজি গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয়, পুরো নাম গীতাঞ্জলি সং অফারিংস। এর ভূমিকা লেখেন আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস।
রবীন্দ্রনাথ নিজেই কবিতাগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। পাণ্ডুলিপি পড়ে মুগ্ধ ইয়েটস প্রকাশের ব্যবস্থায় সাহায্য করেন এবং ভূমিকা লেখেন; এ কারণেই গাইডে তাঁকে সম্পাদক বলা হয়।
এই বইয়ের জন্যই রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান, প্রথম এশীয় হিসেবে।
ফাঁদ হলো এজরা পাউন্ড। তিনিও তখন লন্ডনে রবীন্দ্রনাথের কবিতার প্রশংসা করেন এবং মার্কিন একটি কবিতা পত্রিকায় কয়েকটি অনুবাদ ছাপাতে উদ্যোগী হন, কিন্তু বইয়ের ভূমিকা ইয়েটসের।
মনে রাখুন: গীতাঞ্জলি ইংরেজি ১৯১২, ভূমিকা ইয়েটস, নোবেল ১৯১৩।
১১০৬. ‘The Origin and Development of Bengali Language’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
- খড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- গহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- ঘস্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর: খ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
প্রশ্নটা বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে লেখা সবচেয়ে বিখ্যাত ইংরেজি গবেষণাগ্রন্থের লেখক জানতে চেয়েছে। দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ লিখেছেন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়; প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
এ বইয়ে তিনি দেখান, বাংলা ভাষা এসেছে মাগধী প্রাকৃত ও অপভ্রংশের ধারা থেকে। সংক্ষেপে বইটিকে ওডিবিএল বলা হয়।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এ বিষয়ে ভিন্নমত দেন: তাঁর মতে বাংলার উৎস গৌড়ী প্রাকৃত। তাঁর বিখ্যাত বই বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। দুই পণ্ডিতের নাম তাই একই প্রশ্নে পাশাপাশি আসে।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত, আর জর্জ গ্রিয়ারসন ভারতের ভাষা জরিপের জন্য। দুজনেই ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন বলে নাম গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: ইংরেজি নামের ওডিবিএল সুনীতিকুমারের, বাংলা নামের বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত শহীদুল্লাহর।
১১০৭. বাংলা গদ্যের জনক কে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গউইলিয়াম কেরী
- ঘরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রশ্নটি বাংলা গদ্যের জনক জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। গদ্য তাঁর আগেও লেখা হয়েছে, কিন্তু তিনিই প্রথম একে শিল্পসম্মত রূপ দেন।
বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে কমা, সেমিকোলনের মতো যতিচিহ্নের সুষ্ঠু ও নিয়মিত ব্যবহার চালু করেন এবং বাক্যকে ছন্দময় ও সুশৃঙ্খল করেন। তাঁর বেতাল পঞ্চবিংশতি ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত হয়।
উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক হিসেবে ১৮০১ সালে কথোপকথন লেখেন; তিনি গদ্যের প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষক, কিন্তু জনক নন। বঙ্কিমচন্দ্র উপন্যাসের জনক, আর রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পের।
ফাঁদ হলো উইলিয়াম কেরি বিকল্পটি। আগে লিখেছেন বলে অনেকে তাঁকেই জনক ভাবেন, কিন্তু জনক উপাধি দেওয়া হয় গদ্যকে শিল্পরূপ দেওয়ার জন্য, আগে লেখার জন্য নয়।
মনে রাখুন: জনকের তালিকা: গদ্য বিদ্যাসাগর, উপন্যাস বঙ্কিম, ছোটগল্প রবীন্দ্রনাথ, সনেট মধুসূদন।
১১০৮. ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের লেখক কে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খতারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
- গশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঘআনন্দমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রশ্নটি আনন্দমঠ উপন্যাসের লেখক জানতে চেয়েছে। উত্তর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; উপন্যাসটি ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
আনন্দমঠের পটভূমি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর আর সন্ন্যাসী বিদ্রোহ। এই উপন্যাসেই আছে বন্দে মাতরম গান। দেবী চৌধুরানী আর সীতারামের সঙ্গে মিলিয়ে একে বঙ্কিমের দেশাত্মবোধক ত্রয়ী বলা হয়।
অন্যদের প্রধান উপন্যাসগুলো আলাদা করে মনে রাখুন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণদেবতা, কবি, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা; শরৎচন্দ্রের দেবদাস, শ্রীকান্ত, পথের দাবী।
ফাঁদ হলো আনন্দমোহন বাগচী বিকল্পটি। লেখকের নামে আনন্দ শব্দ আছে বলে বইয়ের নামের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার প্রলোভন তৈরি হয়, কিন্তু নামের মিল দিয়ে লেখক ঠিক হয় না।
মনে রাখুন: বঙ্কিমের ত্রয়ী: আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী, সীতারাম।
১১০৯. ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কোন কাব্যের অন্তর্গত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কদোলনচাঁপা
- খবিষের বাঁশী
- গসাম্যবাদী
- ঘঅগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর: ঘ. অগ্নিবীণা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থে আছে। উত্তর অগ্নিবীণা, যা নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯২২ সালে প্রকাশিত।
বিদ্রোহী প্রথম ছাপা হয় ১৯২২ সালের জানুয়ারিতে সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায়; সে বছরই অক্টোবরে বের হয় অগ্নিবীণা। প্রলয়োল্লাস কবিতাও এই বইয়ে আছে।
নজরুলের প্রথম দিকের বইগুলো পরপর বছরে বের হয়েছে: অগ্নিবীণা ১৯২২, দোলনচাঁপা ১৯২৩, বিষের বাঁশী ১৯২৪, সাম্যবাদী ১৯২৫। ক্রম মনে থাকলে প্রথম কাব্যগ্রন্থ নিয়ে প্রশ্নও সহজ হয়।
ফাঁদ হলো বিষের বাঁশী বিকল্পটি। নামটাও বিদ্রোহী ধাঁচের এবং বইটি সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল, তাই মনে হয় বিদ্রোহী এখানেই থাকবে।
মনে রাখুন: অগ্নিবীণার আগুনে জন্ম বিদ্রোহীর: প্রথম কাব্য, প্রথম ঝড়।
১১১০. তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মেছিলেন কোন কবি? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কজসীমউদ্দীন
- খফররুখ আহমদ
- গআবুল হাসান
- ঘশহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর: ক. জসীমউদ্দীন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে তাম্বুলখানা গ্রামে কোন কবির জন্ম। উত্তর পল্লীকবি জসীমউদ্দীন; তিনি ১৯০৩ সালে ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরের গোবিন্দপুরে, আর জন্ম মাতুলালয় তাম্বুলখানায়। নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট তাঁর বিখ্যাত কাব্য, আর কবর কবিতাটি তাঁর ছাত্রাবস্থাতেই প্রবেশিকার পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।
অন্য কবিদের জন্মস্থান: ফররুখ আহমদ মাগুরার মাঝআইল গ্রামে, আবুল হাসান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়, শহীদ কাদরী কলকাতায়।
এখানে চারটি বিকল্পেই কবির নাম, তাই জন্মস্থানই একমাত্র পার্থক্য। মনে রাখার সূত্র: তাম্বুল মানে পান, আর পান-সুপারির গ্রামীণ ছবি পল্লিকবির সঙ্গেই মানায়।
মনে রাখুন: তাম্বুলখানা মানে ফরিদপুর আর পল্লীকবি; গোবিন্দপুর তাঁর পৈতৃক গ্রাম।
১১১১. ‘ছিন্নপত্রে’র অধিকাংশ পত্র কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কইন্দিরা দেবী
- খকাদম্বরী দেবী
- গমৃণালিনী দেবী
- ঘমৈত্রেয়ী দেবী
সঠিক উত্তর: ক. ইন্দিরা দেবী
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রের বেশির ভাগ চিঠি কাকে লেখা। উত্তর ইন্দিরা দেবী, রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্রী, মানে মেজদাদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে।
এই চিঠিগুলো লেখা হয় যখন রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসরে জমিদারি দেখাশোনা করছিলেন। পদ্মার চর, গ্রামের মানুষ আর প্রকৃতির বর্ণনায় চিঠিগুলো সাহিত্য হয়ে উঠেছে; বই আকারে বের হয় ১৯১২ সালে।
অন্য তিন নারীর পরিচয়: কাদম্বরী দেবী রবীন্দ্রনাথের বৌদি, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী; মৃণালিনী দেবী তাঁর স্ত্রী; আর মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর স্নেহভাজন লেখিকা, যাঁর মংপুতে রবীন্দ্রনাথ বইটি বিখ্যাত।
ফাঁদ হলো মৃণালিনী দেবী বিকল্পটি, কারণ স্ত্রীকে চিঠি লেখাই স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু ছিন্নপত্রের বেশির ভাগ চিঠির প্রাপক ইন্দিরা দেবী।
মনে রাখুন: ছিন্নপত্রের ইন্দিরা: শিলাইদহের পদ্মা থেকে ভাইঝিকে লেখা চিঠি।
১১১২. মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ কোন ধরনের কাব্য? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কমহাকাব্য
- খসনেট
- গপত্রকাব্য
- ঘগীতিকাব্য
সঠিক উত্তর: গ. পত্রকাব্য
প্রশ্নটি মধুসূদনের বীরাঙ্গনা কাব্যের ধরন জানতে চেয়েছে। এটি পত্রকাব্য, মানে চিঠির আকারে লেখা কাব্য; ১৮৬২ সালে প্রকাশিত।
বইটিতে এগারোটি পত্র আছে। শকুন্তলা, তারা, দ্রৌপদী, কৈকেয়ীর মতো পৌরাণিক নারীরা স্বামী বা প্রিয়জনকে চিঠি লিখছেন। রোমান কবি ওভিডের হিরোইদেস এর আদর্শ, আর এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।
মধুসূদনের অন্য কাব্যগুলোর ধরন আলাদা: মেঘনাদবধ কাব্য মহাকাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী সনেট, আর ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
ফাঁদ হলো গীতিকাব্য বিকল্পটি। ব্রজাঙ্গনা আর বীরাঙ্গনা নাম প্রায় একরকম, আর ব্রজাঙ্গনা গীতিকাব্য; তাই দুটো গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: বীরাঙ্গনা চিঠি লেখে, ব্রজাঙ্গনা গান গায়।
১১১৩. আলাওলের ‘তোহফা’ কোন ধরনের কাব্য? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কআত্মজীবনী
- খপ্রণয়কাব্য
- গনীতিকাব্য
- ঘজঙ্গনামা
সঠিক উত্তর: গ. নীতিকাব্য
প্রশ্নটি আলাওলের তোহফা কাব্যের ধরন জানতে চেয়েছে। তোহফা একটি নীতিকাব্য; ফারসি কবি ইউসুফ গদার তোহফাতুন নেসায়েহ গ্রন্থ অবলম্বনে লেখা।
তোহফা শব্দের অর্থ উপহার। কাব্যে ধর্মীয় আচার, নৈতিকতা আর সামাজিক আচরণের উপদেশ আছে। আলাওল আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন এবং সেখান থেকেই এসব কাব্য লেখেন।
আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য পদ্মাবতী, মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ অবলম্বনে লেখা প্রণয়কাব্য। সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামালও প্রণয়কাব্য। আর জঙ্গনামা হলো কারবালার যুদ্ধ নিয়ে লেখা যুদ্ধকাব্য, যেমন হায়াত মামুদের জঙ্গনামা।
ফাঁদ হলো প্রণয়কাব্য বিকল্পটি। আলাওল মানেই পদ্মাবতীর প্রেমকাহিনি মনে পড়ে, কিন্তু তোহফা উপদেশমূলক নীতিকাব্য।
মনে রাখুন: তোহফা মানে উপহার: আলাওলের উপহার নীতির উপদেশ।
১১১৪. ‘উজবুক’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কফার্সি
- খতুর্কি
- গপর্তুগিজ
- ঘআরবি
সঠিক উত্তর: খ. তুর্কি
প্রশ্নটি উজবুক শব্দের উৎস ভাষা জানতে চেয়েছে। উজবুক তুর্কি শব্দ; মূলে উজবেক জাতির নাম, বাংলায় অর্থ দাঁড়িয়েছে বোকা বা আহাম্মক।
মোগল আমলে তুর্কি ভাষার কিছু শব্দ বাংলায় আসে। উজবুকের সঙ্গে আরও কয়েকটি তুর্কি শব্দ মনে রাখুন: চাকু, কাঁচি, বাবুর্চি, বেগম, দারোগা, কুলি।
অন্য ভাষার পরিচিত শব্দ: ফারসি থেকে খোদা, নামাজ, রোজা, দরবার; আরবি থেকে আদালত, কলম, কিতাব, হাকিম; পর্তুগিজ থেকে আলমারি, চাবি, বালতি, গির্জা।
ফাঁদ হলো ফারসি বিকল্পটি। মুসলিম শাসনামলের বেশির ভাগ বিদেশি শব্দ ফারসি থেকে আসায় অনেকে সব শব্দকেই ফারসি ধরে নেন, কিন্তু উজবুক তুর্কি।
মনে রাখুন: তুর্কি শব্দের ছড়া: উজবুক বাবুর্চি চাকু কাঁচি নিয়ে বেগমের কাছে।
১১১৫. সমাসবদ্ধ শব্দ ‘আনত’ কোন সমাসের উদাহরণ? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কবহুব্রীহি
- খকর্মধারয়
- গসুপসুপা
- ঘঅব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর: ঘ. অব্যয়ীভাব
প্রশ্নটি আনত শব্দের সমাস জানতে চেয়েছে। আনত মানে ঈষৎ নত, একটু ঝুঁকে থাকা। এখানে ঈষৎ অর্থে অব্যয় আ পূর্বপদ হয়েছে।
নিয়ম হলো, পূর্বপদ অব্যয় হলে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হলে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। আনত শব্দে নত হওয়ার মাত্রাটুকুই, মানে ঈষৎ, মূল অর্থ বহন করছে।
একই রকম উদাহরণ: আরক্তিম মানে ঈষৎ রক্তিম, উপকূল মানে কূলের সমীপে, প্রতিদিন মানে দিন দিন, যথাশক্তি মানে শক্তিকে অতিক্রম না করে। কিছু ব্যাকরণে আনতকে প্রাদি সমাসও বলা হয়, তবে প্রদত্ত বিকল্পে অব্যয়ীভাবই সঠিক।
ফাঁদ হলো কর্মধারয় বিকল্পটি। বিশেষণের মতো দেখায় বলে অনেকে কর্মধারয় ভাবেন, কিন্তু কর্মধারয়ে বিশেষণ ও বিশেষ্য থাকে, এখানে পূর্বপদ একটি অব্যয়।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: আরক্তিম (ঈষৎ রক্তিম), উপকূল (কূলের সমীপে), প্রতিদিন (দিন দিন), যথাশক্তি।
১১১৬. অশোক সৈয়দ কার ছদ্মনাম? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কআবদুল মান্নান সৈয়দ
- খসৈয়দ আজিজুল হক
- গআবু সয়ীদ আইয়ুব
- ঘসৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: ক. আবদুল মান্নান সৈয়দ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে অশোক সৈয়দ কার ছদ্মনাম। উত্তর আবদুল মান্নান সৈয়দ, ষাটের দশকের কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক।
তাঁর প্রথম কাব্য জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ পরাবাস্তব ধাঁচের কবিতার জন্য আলোচিত। গবেষক হিসেবে তিনি জীবনানন্দ দাশ আর নজরুলকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
ছদ্মনামের আরও কিছু জোড়া মনে রাখুন: নীললোহিত হলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, যাযাবর হলো বিনয় মুখোপাধ্যায়, বনফুল হলো বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
ফাঁদ হলো সৈয়দ শামসুল হক বিকল্পটি। সৈয়দ পদবি মিলে যায় এবং তিনি বহু ধারার লেখক, কিন্তু অশোক সৈয়দ নামটি আবদুল মান্নান সৈয়দের।
মনে রাখুন: অশোক সৈয়দ আর আবদুল মান্নান সৈয়দ: দুই নামেই শেষে সৈয়দ।
১১১৭. সন্ধি-সাধিত শব্দ ‘পরস্পর’ কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কব্যঞ্জন ধ্বনি
- খস্বরধ্বনি
- গনিপাতনে সিদ্ধ
- ঘবিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর: গ. নিপাতনে সিদ্ধ
প্রশ্নটি পরস্পর শব্দের সন্ধি কোন ধরনের তা জানতে চেয়েছে। পরস্পর এসেছে পর আর পর থেকে, মাঝে একটি স যুক্ত হয়েছে।
স্বর, ব্যঞ্জন বা বিসর্গ সন্ধির কোনো নিয়মে র আর প-এর মাঝে স আসে না। যে সন্ধি নিয়ম না মেনে প্রচলনের জোরে সিদ্ধ, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। তাই পরস্পর নিপাতনে সিদ্ধ।
একই রকম উদাহরণ: বৃহৎ আর পতি থেকে বৃহস্পতি, বন আর পতি থেকে বনস্পতি, আ আর চর্য থেকে আশ্চর্য, গো আর পদ থেকে গোষ্পদ। মাঝে অপ্রত্যাশিত স বা ষ এলে নিপাতন ভাবুন।
ফাঁদ হলো বিসর্গ সন্ধি বিকল্পটি। স আর ষ সাধারণত বিসর্গ থেকে আসে, যেমন নমঃ আর কার থেকে নমস্কার, তাই অনেকে বিসর্গ ভাবেন। কিন্তু পর শব্দে কোনো বিসর্গ নেই।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: বৃহস্পতি (বৃহৎ + পতি), বনস্পতি (বন + পতি), আশ্চর্য (আ + চর্য), গোষ্পদ (গো + পদ)।
১১১৮. ‘অদিতি’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কপৃথ্বী
- খনীর
- গক্ষিতি
- ঘঅবনী
সঠিক উত্তর: খ. নীর
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন শব্দ অদিতির সমার্থক নয়। অদিতি মানে পৃথিবী; পুরাণে অদিতি দেবতাদের মাতা, আর সেই অর্থ থেকে পৃথিবী বোঝায়।
পৃথিবীর প্রতিশব্দ অনেক: পৃথ্বী, ক্ষিতি, অবনী, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, মেদিনী, ধরা। তাই পৃথ্বী, ক্ষিতি আর অবনী তিনটিই অদিতির সমার্থক।
নীর মানে পানি বা জল। জলের প্রতিশব্দ বারি, সলিল, অম্বু, নীর, পানীয়। তাই নীর এই দলে পড়ে না, আর এটাই উত্তর।
এ ধরনের প্রশ্নে নয় বা নেই শব্দটা খেয়াল করুন। তাড়াহুড়ায় সমার্থক শব্দ খুঁজতে গেলে পৃথ্বী বা ক্ষিতি বিকল্পে চোখ আটকে যায়, অথচ ওগুলো সঠিক প্রতিশব্দ।
মনে রাখুন: পঞ্চভূত মনে রাখুন: ক্ষিতি মাটি, অপ জল, তেজ আগুন, মরুৎ বাতাস, ব্যোম আকাশ। নীর জলের দলে।
১১১৯. ‘পরাগলী মহাভারত’ খ্যাত গ্রন্থের অনুবাদকের নাম কী? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কসঞ্চয়
- খকবীন্দ্র পরমেশ্বর
- গশ্রীকর নন্দী
- ঘকাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর: খ. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
প্রশ্নটি পরাগলী মহাভারতের অনুবাদকের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সেনাপতি ও চট্টগ্রামের শাসক পরাগল খাঁর আদেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত অনুবাদ করেন। পৃষ্ঠপোষকের নামেই বইটির নাম হয় পরাগলী মহাভারত।
পরে পরাগল খাঁর ছেলে ছুটি খাঁর আদেশে শ্রীকর নন্দী মহাভারতের অশ্বমেধ পর্ব অনুবাদ করেন; তার নাম ছুটিখানী মহাভারত। সপ্তদশ শতকের কাশীরাম দাসের মহাভারত সবচেয়ে জনপ্রিয়; আর সঞ্জয়কেও মহাভারতের প্রাচীন অনুবাদক বলা হয়।
ফাঁদ হলো শ্রীকর নন্দী বিকল্পটি। বাবা ও ছেলে দুজনের নামেই আলাদা মহাভারত হয়েছে, তাই অনুবাদক অদলবদল হয়ে যায়।
মনে রাখুন: বাবা পরাগল, কবি পরমেশ্বর; ছেলে ছুটি, কবি শ্রীকর। দুই প-তে দুই প।
১১২০. ‘বটতলার উপন্যাস’ গ্রন্থের লেখকের নাম কী? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কদিলারা হাশেম
- খরাজিয়া খান
- গরিজিয়া রহমান
- ঘসেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর: খ. রাজিয়া খান
প্রশ্নটি বটতলার উপন্যাস বইয়ের লেখক জানতে চেয়েছে। উত্তর রাজিয়া খান; এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস, অল্প বয়সে লেখা।
রাজিয়া খান আমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং ইংরেজিতেও কবিতা লিখেছেন। তাঁর আরেকটি আলোচিত উপন্যাস অনুকল্প।
অন্য লেখিকাদের প্রধান বই আলাদা করে মনে রাখুন। দিলারা হাশেমের ঘর মন জানালা, রিজিয়া রহমানের রক্তের অক্ষর ও বং থেকে বাংলা, আর সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড ও পোকামাকড়ের ঘরবসতি।
ফাঁদ হলো রিজিয়া রহমান বিকল্পটি। রাজিয়া আর রিজিয়া নাম প্রায় একই শোনায়, দুজনেই ঔপন্যাসিক; তাই এক অক্ষরের তফাতে উত্তর ভুল হয়।
মনে রাখুন: রাজিয়ার বটতলা, রিজিয়ার রক্তের অক্ষর: আ-কার আর ই-কারে তফাত।