বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১২
২২১. ‘গায়ক’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কগা + অক
- খগৈ + অক
- গগা + য়ক
- ঘগো + অক
সঠিক উত্তর: খ. গৈ + অক
প্রশ্নটা স্বরসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম, অয়াদি সন্ধি নিয়ে। নিয়মটি হলো: এ, ঐ, ও, ঔ-এর পরে অন্য স্বর এলে এ হয় অয়, ঐ হয় আয়, ও হয় অব, আর ঔ হয় আব।
গায়ক শব্দে আছে আয়, তাই মূলে ছিল ঐ। গৈ, মানে গান করা অর্থের ধাতু, তার সঙ্গে অক প্রত্যয় যুক্ত। ঐ আর অ মিলে হয় আয় অ, তাই গৈ যোগ অক থেকে হয় গায়ক।
একই নিয়মে নৈ যোগ অক থেকে নায়ক, শে যোগ অন থেকে শয়ন, পো যোগ অন থেকে পবন, আর পৌ যোগ অক থেকে পাবক।
গা যোগ অক দেখতে সহজ মনে হলেও আ আর অ মিলে আ হয়, তাতে হতো গাক; য় আসত না। আর গো যোগ অক নিলে ও অব হয়ে হতো গবক। তাই য় দেখলেই বুঝবেন মূলে এ বা ঐ ছিল।
মনে রাখুন: শব্দে য় থাকলে মূলে এ বা ঐ খুঁজুন (শয়ন, নায়ক), ব থাকলে ও বা ঔ খুঁজুন (পবন, পাবক)।
২২২. “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কচণ্ডীদাস
- খবিদ্যাপতি
- গরামকৃষ্ণ পরমহংস
- ঘবিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর: ক. চণ্ডীদাস
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” পঙ্ক্তিটি মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত। এটি বাংলা সাহিত্যে মানবতাবাদের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি।
মধ্যযুগের সাহিত্য মূলত দেবদেবী-কেন্দ্রিক ছিল। সেখানে মানুষকেই সবার উপরে স্থান দেওয়া ছিল সাহসী ভাবনা, তাই উক্তিটি চণ্ডীদাসকে মানবতাবাদী কবির পরিচয় দিয়েছে।
চণ্ডীদাস নামে একাধিক কবি ছিলেন; বড়ু চণ্ডীদাস লিখেছেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন। পদাবলির চণ্ডীদাস রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের পদ লিখেছেন।
বিদ্যাপতিও বৈষ্ণব পদাবলির কবি, তাই দুজনকে গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল। কিন্তু বিদ্যাপতি লিখতেন ব্রজবুলি ভাষায় এবং তাঁর পরিচয় মৈথিল কোকিল।
মনে রাখুন: মানবতাবাদের দুটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি: চণ্ডীদাসের “সবার উপরে মানুষ সত্য” আর নজরুলের “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই”।
২২৩. কোন বানানটি সঠিক? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কway
- খমুমূর্ষু
- গaL
- ঘমুমুর্ষ
সঠিক উত্তর: খ. মুমূর্ষু
মুমূর্ষু মানে মৃত্যুর কাছাকাছি, মরণাপন্ন। এটি তৎসম শব্দ, সংস্কৃত মৃ ধাতু থেকে ইচ্ছা অর্থে গঠিত: যে মরতে চলেছে।
বানানের কৌশল হলো তিনটি উ-কারের জায়গা মনে রাখা। প্রথম ম-তে হ্রস্ব উ-কার, দ্বিতীয় ম-তে দীর্ঘ ঊ-কার, আর শেষের র্ষ-তে আবার হ্রস্ব উ-কার: মু, মূ, র্ষু।
র্ষ-তে ষ হয়েছে ষত্ব বিধানের নিয়মে: র-এর পরে মূর্ধন্য ষ বসে, যেমন বর্ষা, হর্ষ, ঘর্ষণ।
সাধারণ ভুল হলো দুটো উ-কারই হ্রস্ব লেখা (মুমুর্ষু) বা শেষের উ-কার বাদ দেওয়া (মুমুর্ষ)। মাঝের ঊ-কারটাই এ প্রশ্নের মূল পরীক্ষা।
মনে রাখুন: মু-মূ-র্ষু: ছোট, বড়, ছোট।
২২৪. হিমাংশু শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কহিমবাহ
- খনির্মল বাতাস
- গসূর্য
- ঘচন্দ্র
সঠিক উত্তর: ঘ. চন্দ্র
হিমাংশু শব্দটি হিম আর অংশু মিলে গঠিত। হিম মানে শীতল, অংশু মানে কিরণ বা রশ্মি। যার কিরণ শীতল, সে হলো চাঁদ।
এর ঠিক বিপরীত গঠন হলো অংশুমালী বা উষ্ণাংশু, অর্থাৎ যার কিরণ উষ্ণ: সূর্য। তাই অংশু শব্দ দেখে সূর্য ভেবে নেওয়া এখানে প্রধান ফাঁদ।
চাঁদের আরও প্রতিশব্দ: শশী, শশাঙ্ক, সুধাংশু, সুধাকর, নিশাকর, ইন্দু, বিধু, চন্দ্রমা।
হিমবাহ শব্দেও হিম আছে, তবে তা মানে বরফের নদী; শব্দের প্রথম অংশ দেখে এটিও ফাঁদ।
মনে রাখুন: অংশুর আগে হিম বা সুধা থাকলে চাঁদ, উষ্ণ বা মালী থাকলে সূর্য।
২২৫. নীচের কোনটি তৎসম শব্দ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কপছন্দ
- খধূলি
- গহিসাব
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. ধূলি
তৎসম মানে তার সমান, অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান। যে শব্দ সংস্কৃত থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলায় এসেছে, সেটাই তৎসম।
ধূলি সংস্কৃত শব্দ, বাংলায় হুবহু একই রূপে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি তৎসম। এরই পরিবর্তিত তদ্ভব রূপ হলো ধুলো।
পছন্দ ফারসি শব্দ, আর হিসাব আরবি শব্দ; দুটোই বিদেশি শব্দ, তৎসম নয়। একটি সঠিক উত্তর থাকায় কোনোটিই নয় অপশনও বাদ।
তৎসম চেনার সহজ উপায়: শব্দটির একটি চলিত বা পরিবর্তিত রূপ আছে কি না দেখুন, যেমন চন্দ্র থেকে চাঁদ, হস্ত থেকে হাত, ধূলি থেকে ধুলো।
মনে রাখুন: শব্দটির তদ্ভব জোড়া খুঁজুন: ধূলি-ধুলো, চন্দ্র-চাঁদ, মৎস্য-মাছ; জোড়া পেলে প্রথমটা তৎসম।
২২৬. ”গড্ডলিকা প্রবাহ” একটি বাগধারা।—এখানে গড্ডল মানে কি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কএকত্র
- খস্রোত
- গভেড়া
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. ভেড়া
গড্ডলিকা প্রবাহ একটি বাগ্ধারা, অর্থ অন্ধ অনুকরণ বা না বুঝে সবার পেছনে চলা। এখানে গড্ডল মানে ভেড়া, আর গড্ডলিকা মানে ভেড়ার পাল বা ভেড়ি।
ভেড়ার পালের স্বভাব হলো সামনের ভেড়া যেদিকে যায়, বাকিরা কিছু না ভেবে সেদিকেই যায়। এই দৃশ্য থেকেই বাগ্ধারাটি এসেছে।
উদাহরণ: “সবাই একই বিষয়ে পড়ছে বলে না ভেবে ভর্তি হওয়া গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসানো”।
প্রবাহ শব্দ দেখে অনেকে গড্ডল মানে স্রোত ধরে নেন; কিন্তু স্রোত বোঝায় প্রবাহ অংশ, গড্ডল নয়।
মনে রাখুন: বাগ্ধারার অর্থ জানলে শব্দের অর্থও বের হয়: অন্ধ অনুকরণ কারা করে? ভেড়ার পাল।
২২৭. উপসর্গ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কঅতি
- খচেয়ে
- গথেকে
- ঘসবগুলো
সঠিক উত্তর: ক. অতি
প্রশ্নটা উপসর্গ আর অনুসর্গের পার্থক্য যাচাই করছে। উপসর্গ বসে শব্দের আগে এবং নতুন শব্দ তৈরি করে বা অর্থ বদলায়। অনুসর্গ বসে শব্দের পরে, আর বাক্যে কারকের সম্পর্ক বোঝায়।
অতি একটি তৎসম উপসর্গ। যেমন অতি যোগে হয় অতিরিক্ত, অতিক্রম, অত্যাচার। এখানে অতি শব্দের আগে বসে আধিক্য বা অতিক্রম অর্থ যোগ করেছে।
চেয়ে আর থেকে হলো অনুসর্গ। যেমন, তোমার চেয়ে সে লম্বা, বাড়ি থেকে এলাম। এরা শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে, নতুন শব্দ তৈরি করে না।
চেয়ে আর থেকে অব্যয়ের মতো দেখতে বলে অনেকে এদেরও উপসর্গ ভাবেন, তাই সবগুলো বেছে নেন। অবস্থান দেখলেই ফাঁদ এড়ানো যায়: আগে বসলে উপসর্গ, পরে বসলে অনুসর্গ।
মনে রাখুন: উপসর্গ শব্দের সঙ্গে জুড়ে এক শব্দ হয় (অতিক্রম, অত্যন্ত, অতীত); অনুসর্গ আলাদা শব্দ হয়ে পরে বসে।
২২৮. “বঙ্গ দর্শন” পত্রিকা কোন সালে প্রথম প্রকাশিত হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- ক১৯৬২ সালে
- খ১৮৭২ সালে
- গ১৯৮২ সালে
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৭২ সালে
প্রশ্নটা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রকাশকাল জানতে চাইছে। বঙ্গদর্শন প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭২ সালে, বাংলা ১২৭৯ সনের বৈশাখে।
এটি ছিল মাসিক পত্রিকা। বঙ্কিমের বিষবৃক্ষ, চন্দ্রশেখর, কৃষ্ণকান্তের উইল ও আনন্দমঠের মতো উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে এখানে বেরিয়েছিল, আর এই পত্রিকা ঘিরে একদল লেখক গড়ে ওঠেন।
পরে ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় নবপর্যায় বঙ্গদর্শন প্রকাশিত হয়। এই দুই সাল গুলিয়ে ফেলা থেকে সাবধান।
অপশনের ১৯৬২ আর ১৯৮২ সাল ১৮৭২-এর শেষ দুই অঙ্ক রেখে শতক বদলে বানানো ফাঁদ; বঙ্কিম মারা যান ১৮৯৪ সালে, তাই বিশ শতকের কোনো সাল তাঁর পত্রিকার প্রথম প্রকাশ হতে পারে না।
মনে রাখুন: বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সাল, আর ঠিক এক শতক পরে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান; এভাবে জোড়া মনে রাখা যায়।
২২৯. কোনটি বিশেষণবাচক শব্দ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কজীবনী
- খজীবন
- গজীবিকা
- ঘজীবাণু
সঠিক উত্তর: ক. জীবনী
প্রশ্নটা চারটি কাছাকাছি শব্দের মধ্যে কোনটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তা জানতে চাইছে। এখানে উত্তর জীবনী।
জীবনী শব্দের দুটি পদ আছে। বিশেষ্য হিসেবে এর অর্থ জীবনচরিত, কারও জীবনের লিখিত বিবরণ। আবার বিশেষণ হিসেবে এর অর্থ জীবনদায়ক বা প্রাণশক্তি জোগায় এমন, যেমন জীবনীশক্তি শব্দে। জীবনীশক্তি মানে প্রাণশক্তি, এখানে জীবনী শক্তিকে বিশেষিত করেছে।
জীবন, জীবিকা আর জীবাণু তিনটিই শুধু বিশেষ্য। জীবন মানে বেঁচে থাকা, জীবিকা মানে রুজিরোজগার, আর জীবাণু মানে অণুজীব।
জীবনী বললে সাধারণত শুধু জীবনচরিত মনে পড়ে বলে অনেকে এটাকে বিশেষ্য ভেবে বাদ দেন। অভিধানে এর বিশেষণ রূপটিও আছে, আর সেটাই এখানে পরীক্ষা করা হয়েছে।
মনে রাখুন: শব্দটা অন্য একটি বিশেষ্যের আগে বসে তার গুণ বোঝাতে পারে কি না দেখুন: জীবনীশক্তি হয়, কিন্তু জীবিকাশক্তি বা জীবাণুশক্তি দিয়ে গুণ বোঝায় না।
২৩০. কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কআপনি আসবেন
- খআমরা যাচ্ছি
- গতোরা যাসনে
- ঘওরা কি করে?
সঠিক উত্তর: ঘ. ওরা কি করে?
প্রশ্নটা সর্বনামের পুরুষভেদ যাচাই করছে। বাংলায় পুরুষ তিন রকম: উত্তম পুরুষ হলো বক্তা নিজে, মধ্যম পুরুষ হলো যাকে বলা হচ্ছে, আর নাম পুরুষ হলো যার কথা বলা হচ্ছে।
ওরা কি করে বাক্যে ওরা সামনে উপস্থিত নয় এমন অন্য লোকদের বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ যাদের সম্পর্কে কথা হচ্ছে। তাই ওরা নাম পুরুষ। সে, তিনি, তারা, এরা, ওরা সবই নাম পুরুষ।
আমরা যাচ্ছি বাক্যে বক্তা নিজে, তাই উত্তম পুরুষ। তোরা যাসনে বাক্যে যাদের সরাসরি বলা হচ্ছে, তাই মধ্যম পুরুষের তুচ্ছার্থক রূপ।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ আপনি। আপনি শুনতে সম্মানসূচক ও দূরের মনে হয়, কিন্তু আপনি দিয়ে সামনের শ্রোতাকেই বলা হয়, তাই এটি মধ্যম পুরুষের সম্ভ্রমাত্মক রূপ, নাম পুরুষ নয়।
মনে রাখুন: আমি-আমরা উত্তম; তুমি-তুই-আপনি মধ্যম; বাকি সব সর্বনাম ও যেকোনো নাম বা বিশেষ্য নাম পুরুষ।
২৩১. কোন শব্দে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কঠগী
- খপাঠক
- গপানাস
- ঘসেলামী
সঠিক উত্তর: খ. পাঠক
প্রশ্নটা কৃৎ প্রত্যয় আর তদ্ধিত প্রত্যয়ের পার্থক্য যাচাই করছে। ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যোগ হয় তা কৃৎ প্রত্যয়, আর শব্দের সঙ্গে যে প্রত্যয় যোগ হয় তা তদ্ধিত প্রত্যয়।
পাঠক শব্দের মূলে আছে পঠ্ ধাতু, যার অর্থ পড়া। পঠ্ ধাতুর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যোগে হয়েছে পাঠক, মানে যে পড়ে। একইভাবে নী ধাতু থেকে নায়ক, গৈ ধাতু থেকে গায়ক।
ঠগী এসেছে ঠগ শব্দ থেকে, সেলামী এসেছে সেলাম শব্দ থেকে, দুটোতেই ঈ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে শব্দের সঙ্গে, তাই তদ্ধিত প্রত্যয়। পানাস অপশনটি সম্ভবত পানসে, যা পানি শব্দের সঙ্গে সে প্রত্যয় যোগে গঠিত, এটিও তদ্ধিত।
ঠগী বা সেলামী দেখলে ক্রিয়ার মতো মনে হতে পারে, কিন্তু ঠগ আর সেলাম নিজেরাই বিশেষ্য শব্দ, ধাতু নয়। মূলটা ক্রিয়ার ভাব না জিনিসের নাম, সেটা দেখলেই কৃৎ আর তদ্ধিত আলাদা করা যায়।
মনে রাখুন: একই ছাঁচে কৃৎ প্রত্যয়: নী থেকে নায়ক, গৈ থেকে গায়ক, লিখ্ থেকে লেখক।
২৩২. বাংলাদেশে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি কে রচনা করেছেন? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কনুরুল মোমেন
- খআসকার ইবনে শাইখ
- গমুনীর চৌধুরী
- ঘসিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর: ঘ. সিকান্দার আবু জাফর
প্রশ্নটা বাংলাদেশে রচিত সিরাজউদ্দৌলা নাটকের নাট্যকার জানতে চাইছে। এর রচয়িতা সিকান্দার আবু জাফর, নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
নাটকটি পলাশীর যুদ্ধ ও বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন নিয়ে লেখা ঐতিহাসিক নাটক। এতে বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে দেশপ্রেমের সুর জোরালো। সিকান্দার আবু জাফর সমকাল পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, আর জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটিও তাঁর লেখা।
প্রশ্নে বাংলাদেশে শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশভাগের আগে কলকাতায় শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তও সিরাজদ্দৌলা নামে নাটক লিখেছিলেন।
মুনীর চৌধুরীর নাম ঐতিহাসিক নাটকের সঙ্গে আসে বলে অনেকে ভুল করেন; তাঁর ঐতিহাসিক নাটক হলো পানিপথের যুদ্ধ নিয়ে রক্তাক্ত প্রান্তর, আর বিখ্যাত নাটক কবর।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটক জোড়া: সিরাজউদ্দৌলা = সিকান্দার আবু জাফর; রক্তাক্ত প্রান্তর = মুনীর চৌধুরী।
২৩৩. "দ্রবণ" শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে পাওয়া যায়- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কদ্র + অন
- খদ্রো + অন
- গদ্র + ওন
- ঘদ্রো + বন
সঠিক উত্তর: খ. দ্রো + অন
প্রশ্নটা স্বরসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম যাচাই করছে: ও-কারের পরে অন্য স্বর এলে ও বদলে অব হয়।
দ্রবণ ভাঙলে পাই দ্রো আর অন। দ্রো-এর শেষে ও, তার পরে অ। নিয়ম অনুযায়ী ও আর অ মিলে হয় অব। তাই দ্র এর সঙ্গে অব, তারপর ন, অর্থাৎ দ্রবন; আর র-এর প্রভাবে ণত্ব বিধিতে ন হয়ে যায় ণ, ফলে দ্রবণ।
একই নিয়মে পো আর অন মিলে হয় পবন, ভো আর অন মিলে ভবন, শ্রো আর অন মিলে শ্রবণ। এ ধরনের নিয়মকে অযাদি সন্ধি বলে: এ থেকে অয়, ও থেকে অব, ঐ থেকে আয়, ঔ থেকে আব।
দ্র আর অন সাধারণ যোগ মনে হলেও তাতে ব আসার কোনো কারণ থাকে না। আবার দ্রো আর বন ভাঙলে ব দুবার এসে যায়। ব আসে সন্ধির নিয়ম থেকেই, তাই বিচ্ছেদে ব থাকবে না।
মনে রাখুন: শব্দে অব বা অয় দেখলে বিচ্ছেদে ও বা এ ফিরিয়ে আনুন: পবন = পো + অন, নয়ন = নে + অন।
২৩৪. "হেড মৌলভী" কোন কোন ভাষার শব্দ সহযোগে গঠিত? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কইংরেজী+ ফার্সি
- খইংরেজী+ আরবি
- গইংরেজী + তুর্কি
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. ইংরেজী+ ফার্সি
প্রশ্নটা মিশ্র শব্দ যাচাই করছে, মানে দুই ভিন্ন ভাষার শব্দ জুড়ে তৈরি শব্দ। পাঠ্য ব্যাকরণের তালিকায় হেড-মৌলভি গঠিত ইংরেজি আর ফারসি শব্দে।
হেড ইংরেজি Head শব্দ, অর্থ প্রধান। মৌলভি শব্দটি বাংলায় এসেছে ফারসি থেকে, অর্থ ধর্মীয় শিক্ষক বা আলেম। দুটো জুড়ে হেড-মৌলভি মানে প্রধান মৌলভি।
একই তালিকায় আছে হেড-পণ্ডিত, যা ইংরেজি আর তৎসম শব্দে গঠিত, আর রাজা-বাদশা, যা তৎসম আর ফারসি শব্দে।
মৌলভি শব্দের মূল আরবি মাওলা শব্দে, তাই অনেকে ইংরেজি আর আরবি বেছে নেন। কিন্তু বাংলা শব্দের উৎস নির্ণয়ে দেখা হয় শব্দটা কোন ভাষা হয়ে বাংলায় ঢুকেছে, আর পাঠ্য ব্যাকরণে মৌলভি ফারসি হিসেবেই ধরা।
মনে রাখুন: পাঠ্য তালিকার জোড়াগুলো মুখস্থ রাখুন: হেড-মৌলভি ইংরেজি-ফারসি, হেড-পণ্ডিত ইংরেজি-তৎসম, রাজা-বাদশা তৎসম-ফারসি, চৌ-হদ্দি ফারসি-আরবি।
২৩৫. কোন চরণটি সঠিক? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কধন ধান্য পুষ্পে ভরা
- খধন্য ধান্যে পুষ্পে ভরা
- গধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
- ঘসবকটি
সঠিক উত্তর: ক. ধন ধান্য পুষ্পে ভরা
প্রশ্নটা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানের প্রথম চরণের সঠিক রূপ জানতে চাইছে। মূল চরণ হলো: ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা।
এখানে ধনধান্য একটি দ্বন্দ্ব সমাস, ধন আর ধান্য মিলে, অর্থ সম্পদ আর শস্য। ধনধান্য ও পুষ্প দিয়ে ভরা, তাই কোনো শব্দে আলাদা এ বিভক্তি লাগে না।
অপশনগুলোর মধ্যে প্রথমটি মূলের সবচেয়ে কাছে; ধন আর ধান্য সেখানে ঠিক আছে, ধান্যে বা ধন্য বসানো হয়নি। পুষ্পে অংশের এ-কার সম্ভবত ছাপার বা লেখার ভুল।
দ্বিতীয় অপশনে ধন্য লেখা, যার অর্থ কৃতার্থ, ধান নয়। তৃতীয়টিতে ধান্যে লেখা, এতে মূলের ধনধান্য ভেঙে যায়। গানটা সুর করে মনে রাখলে এ ধরনের ফাঁদ সহজেই ধরা পড়ে।
মনে রাখুন: চরণ নিয়ে প্রশ্নে গানের সুরে মনে মনে গেয়ে দেখুন; অতিরিক্ত এ বা য-ফলা কানে খটকা লাগে।
২৩৬. "নষ্ট হবার স্বভাব যার" এক কথায় কি হবে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কনিদাঘ
- খনষ্টমাস
- গনশ্বর
- ঘবিনশ্বর
সঠিক উত্তর: গ. নশ্বর
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ যাচাই করছে। নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার, তাকে বলে নশ্বর।
নশ্বর এসেছে নশ্ ধাতু থেকে, যার অর্থ নষ্ট হওয়া, সঙ্গে বর প্রত্যয়। এর বিপরীত শব্দ অবিনশ্বর, অর্থ যা কখনো নষ্ট হয় না। যেমন, মানুষের দেহ নশ্বর, কিন্তু তার কীর্তি অবিনশ্বর হতে পারে।
বিনশ্বর শব্দটিও বি উপসর্গ যোগে প্রায় একই অর্থ দেয়, কিন্তু প্রচলিত এক কথায় প্রকাশের তালিকায় নষ্ট হবার স্বভাব যার, তার উত্তর নশ্বর। অবিনশ্বর শব্দটি বেশি চেনা বলে বিনশ্বরকে অনেকে বেছে নেন।
নিদাঘ মানে গ্রীষ্মকাল, নষ্টমাস কোনো প্রচলিত শব্দই নয়।
মনে রাখুন: স্বভাব বোঝাতে বর প্রত্যয়: নশ্ থেকে নশ্বর, ঈশ্ থেকে ঈশ্বর, স্থা থেকে স্থাবর।
২৩৭. "সংশয়" এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কবিস্ময়
- খনির্ভর
- গপ্রত্যয়
- ঘদ্বিধা
সঠিক উত্তর: গ. প্রত্যয়
প্রশ্নটা সংশয় শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ চাইছে। সংশয় মানে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা, আর এর বিপরীত হলো প্রত্যয়, মানে দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা।
যেমন, তার কথায় আমার সংশয় জাগল; উল্টো দিকে, তার কথায় আমার প্রত্যয় জন্মাল। নিশ্চয় শব্দটিও সংশয়ের বিপরীত হিসেবে চলে।
দ্বিধা মানে দোটানা, যা সংশয়ের কাছাকাছি অর্থের, মানে সমার্থক দিকের শব্দ, বিপরীত নয়।
এখানে সাবধান: প্রত্যয় শব্দের আরেক অর্থ ব্যাকরণের প্রত্যয়, যা ধাতু বা শব্দের পরে বসে। বিপরীত শব্দের প্রশ্নে প্রত্যয় মানে বিশ্বাস।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দ খুঁজতে আগে শব্দটার অর্থ এক শব্দে বলুন (সংশয় = সন্দেহ), তারপর তার উল্টো খুঁজুন।
২৩৮. বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কশব্দ
- খকারক
- গক্রিয়াপদ
- ঘপদ
সঠিক উত্তর: ঘ. পদ
প্রশ্নটা পদের সংজ্ঞা যাচাই করছে। বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে। অর্থাৎ শব্দ বা ধাতু বাক্যে বসার যোগ্য হয় বিভক্তি যোগ হলে, আর তখন তার নাম পদ।
যেমন, বই একটি শব্দ। বাক্যে বসাতে গেলে লাগে বিভক্তি: বইটি, বইয়ের, বইয়ে। আবার পড়্ একটি ধাতু, এর সঙ্গে বিভক্তি যোগে হয় পড়ি, পড়ে, পড়ছে। এগুলো সবই পদ।
বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দই তাই আসলে পদ। প্রচলিত ব্যাকরণে পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া। নতুন পাঠ্য ব্যাকরণে অব্যয়কে ভেঙে পদকে আট ভাগে দেখানো হয়েছে।
শব্দ অপশনটি ফাঁদ, কারণ বিভক্তি যোগের আগের অবস্থাকে শব্দ বলে। কারক হলো ক্রিয়ার সঙ্গে পদের সম্পর্ক, আর ক্রিয়াপদ পদের পাঁচ ভাগের একটি মাত্র।
মনে রাখুন: বাক্যে যা বসেছে তা-ই পদ; অভিধানে যা আছে তা শব্দ।
২৩৯. কোন দ্বিরুক্তি শব্দজুটি বহুবচন সংকেত করে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কনরম নরম হাত
- খগরম গরম ভাত
- গপাকা পাকা আম
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. পাকা পাকা আম
প্রশ্নটা দ্বিরুক্তি শব্দের অর্থভেদ যাচাই করছে। একই বিশেষণ পরপর দুবার বসলে নানা অর্থ হয়, তার একটি হলো বহুবচন।
পাকা পাকা আম মানে অনেকগুলো পাকা আম। এখানে দ্বিরুক্তি বিশেষ্যের সংখ্যা বাড়িয়ে বহুবচন বোঝাচ্ছে। একইভাবে বড় বড় বাড়ি, ভালো ভালো ছেলে, লাল লাল ফুল।
নরম নরম হাত বললে হাতের সংখ্যা বাড়ে না, বোঝায় হাতের নরম ভাব, মানে গুণের তীব্রতা বা কিছুটা নরম ধরনের। গরম গরম ভাত মানে সদ্য রান্না করা, তাজা গরম ভাত; এটিও অবস্থার জোর বোঝায়।
তিনটি অপশনই দেখতে এক রকম, তাই প্রশ্ন করুন: দ্বিরুক্তি কি জিনিসের সংখ্যা বাড়াচ্ছে, নাকি গুণ বা অবস্থার মাত্রা? সংখ্যা বাড়ালে বহুবচন।
মনে রাখুন: প্রশ্ন করুন জিনিসটা কি একটার বেশি? বড় বড় বাড়ি, লাল লাল ফুল, পাকা পাকা আম: সবই বহুবচন।
২৪০. বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কভদ্রার্জুন
- খপদ্মাবতী
- গশর্মিষ্ঠা
- ঘকৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর: খ. পদ্মাবতী
প্রশ্নটা মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটকগুলোর মধ্যে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি কোনটি, তা জানতে চাইছে। প্রচলিত উত্তর পদ্মাবতী, প্রকাশ ১৮৬০ সালে।
পদ্মাবতী নাটকের কাহিনি গ্রিক পুরাণের সোনার আপেল নিয়ে তিন দেবীর বিবাদের গল্প থেকে নেওয়া, ভারতীয় পটভূমিতে সাজানো। মিলনান্তক বলে এটি কমেডি। এই নাটকেই মধুসূদন প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করেন।
মধুসূদনের অন্য নাটকগুলোর পরিচয়ও একসঙ্গে মনে রাখুন: শর্মিষ্ঠা ১৮৫৯ সালে, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক; কৃষ্ণকুমারী ১৮৬১ সালে, প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি; আর একেই কি বলে সভ্যতা হলো প্রহসন।
ভদ্রার্জুন তারাচরণ শিকদারের লেখা, ১৮৫২ সালের প্রথম দিকের মৌলিক বাংলা নাটক; প্রথম শব্দটি দেখে একে বেছে নেওয়া ফাঁদ। শর্মিষ্ঠা প্রথম সার্থক নাটক, কমেডি নয়।
মনে রাখুন: মধুসূদনের ক্রম: শর্মিষ্ঠা নাটক, পদ্মাবতী কমেডি, কৃষ্ণকুমারী ট্র্যাজেডি; পরপর তিন বছর ১৮৫৯, ১৮৬০, ১৮৬১।