বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৪
২৬১. কোনটি শুদ্ধ বানান? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কপোষ্ট
- খঅন্তস্থ
- গবস্তুঃত
- ঘবামুন
সঠিক উত্তর: ঘ. বামুন
বামুন বানানটি শুদ্ধ। এটা সংস্কৃত ব্রাহ্মণ শব্দের তদ্ভব রূপ; মুখের ভাষায় ভেঙে ব্রাহ্মণ থেকে বামুন হয়েছে। তদ্ভব শব্দে এমন সরল রূপই স্বীকৃত।
পোষ্ট ভুল, শুদ্ধ হলো পোস্ট। বিদেশি শব্দে ষ ব্যবহার হয় না, স হয়; যেমন পোস্ট, স্টেশন, স্টোর। ণত্ব ও ষত্ব বিধান কেবল তৎসম শব্দের জন্য।
অন্তস্থ ভুল, শুদ্ধ হলো অন্তঃস্থ, কারণ এটা অন্তঃ যোগ স্থ; বিসর্গ থেকে যায়। আর বস্তুঃত ভুল, শুদ্ধ হলো বস্তুত, যেখানে বস্তু শব্দের সঙ্গে তস্ প্রত্যয় যুক্ত; বিসর্গের কোনো জায়গা নেই।
ফাঁদ হলো দুটো উল্টো ভুল: অন্তঃস্থ শব্দে বিসর্গ বাদ পড়েছে, আর বস্তুত শব্দে অদরকারি বিসর্গ বসেছে।
মনে রাখুন: বিদেশি শব্দে সবসময় স: পোস্ট, স্টেশন, মাস্টার।
২৬২. বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- খজীবনানন্দ দাশ
- গমানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর দুর্গেশনন্দিনী, প্রকাশিত ১৮৬৫ সালে, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
এর আগে প্যারীচাঁদ মিত্র টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে আলালের ঘরের দুলাল লেখেন, যাকে প্রথম বাংলা উপন্যাস বলা হয়। কিন্তু শিল্পগুণে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের রূপ দেন বঙ্কিম, তাই জনক তিনিই।
বঙ্কিমের অন্য বিখ্যাত উপন্যাস কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ ও আনন্দমঠ। তাঁর উপাধি সাহিত্যসম্রাট।
বাকিরা পরের যুগের লেখক: বিভূতিভূষণ পথের পাঁচালীর, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পদ্মানদীর মাঝির লেখক, আর জীবনানন্দ দাশ মূলত কবি, রূপসী বাংলার জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখুন: প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদের, প্রথম সার্থক উপন্যাস ও জনক বঙ্কিম।
২৬৩. ‘শনিবারের চিঠি' কি ধরনের সাহিত্য পত্রিকা? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কমন্তব্যধর্মী
- খনীতিকথা
- গহাস্যরসাত্মক
- ঘতথ্য সমৃদ্ধ
সঠিক উত্তর: গ. হাস্যরসাত্মক
প্রশ্নটা জানতে চাইছে বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা শনিবারের চিঠির চরিত্র কেমন ছিল। শনিবারের চিঠি ছিল ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের পত্রিকা, যার প্রধান সম্পাদক হিসেবে পরিচিত সজনীকান্ত দাস।
পত্রিকাটি শুরুতে সাপ্তাহিক ছিল, পরে মাসিক হয়। এর মূল অস্ত্র ছিল ব্যঙ্গ, প্যারোডি আর বিদ্রূপ। সমকালীন লেখকদের, বিশেষ করে কল্লোল গোষ্ঠীর তরুণ লেখক ও কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে এতে প্রচুর ব্যঙ্গরচনা ছাপা হতো।
তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে হাস্যরসাত্মক শব্দটিই এর স্বভাবের সবচেয়ে কাছে। ব্যঙ্গ মানেই হাসির মোড়কে সমালোচনা।
ফাঁদ হলো মন্তব্যধর্মী বিকল্প। পত্রিকাটি সমালোচনা করত ঠিকই, কিন্তু সেটা সাধারণ মন্তব্য নয়, হাসি আর বিদ্রূপের ভঙ্গিতে।
মনে রাখুন: পত্রিকার নামে চিঠি থাকলেও এর পরিচয় ব্যঙ্গ: শনিবারের চিঠি = সজনীকান্ত দাস = হাস্যরস ও বিদ্রূপ।
২৬৪. বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কত? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- ক৬টি
- খ৭টি
- গ৮টি
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. ৭টি
প্রশ্নটা বর্ণ নয়, ধ্বনি নিয়ে। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি, কিন্তু উচ্চারণে আলাদা মৌলিক স্বরধ্বনি মাত্র ৭টি: অ, আ, ই, উ, এ, ও এবং অ্যা।
বাকি স্বরবর্ণগুলো মৌলিক নয় কেন? ঈ আর ঊ উচ্চারণে ই আর উ থেকে আলাদা নয়। ঋ আসলে র আর ই মিলে রি-এর মতো উচ্চারিত হয়। ঐ আর ঔ দুটি স্বর মিলে তৈরি যৌগিক স্বর: অই আর অউ।
উল্টো দিকে অ্যা ধ্বনির কোনো আলাদা বর্ণ নেই, তবু এটা একটা মৌলিক স্বরধ্বনি, যেমন ব্যাগ, এক শব্দের উচ্চারণে।
ফাঁদ হলো ৬ বা ৮ বেছে নেওয়া। অ্যা-কে বাদ দিলে ৬ আসে, আর ঐ বা ঔ-কে মৌলিক ধরলে সংখ্যা বেড়ে যায়।
মনে রাখুন: মৌলিক স্বরধ্বনি মনে রাখুন: অ আ ই উ এ ও অ্যা; ঐ ও ঔ হলো যৌগিক স্বরের লিখিত রূপ।
২৬৫. ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কবর্ণ
- খশব্দ
- গঅক্ষর
- ঘধ্বনি
সঠিক উত্তর: ঘ. ধ্বনি
প্রশ্নটা জানতে চাইছে ভাষার সবচেয়ে ছোট অংশ কোনটি। ভাষা আসলে মুখের উচ্চারণ, আর উচ্চারণকে ভাঙতে ভাঙতে শেষে যে ক্ষুদ্রতম অংশ পাই, সেটাই ধ্বনি।
ধ্বনি মিলে তৈরি হয় শব্দ, শব্দ মিলে বাক্য। আর ধ্বনিকে লিখে দেখানোর চিহ্নকে বলে বর্ণ। তাই বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক, ভাষার মূল একক নয়।
অক্ষর মানে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত শব্দাংশ, যেমন কলম শব্দে ক আর লম দুটি অক্ষর। এটা ধ্বনির চেয়ে বড়।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ বর্ণ। লেখায় বর্ণ সবচেয়ে ছোট মনে হয়, কিন্তু ভাষার মূল উপাদান উচ্চারিত ধ্বনি, লেখা নয়।
মনে রাখুন: মনে রাখুন: ভাষার মূল উপাদান ও ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি; বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক শব্দ।
২৬৬. নিচের কোন শব্দটি নিত্য সমাসের উদাহরণ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কএকটি মাত্র
- খঅনুকূল
- গআনাগোনা
- ঘরামেশ্বর
সঠিক উত্তর: ক. একটি মাত্র
প্রশ্নটা নিত্য সমাস চিনতে বলছে। যে সমাসের পদগুলো সবসময় একসাথে থাকে এবং নিজেদের পদ দিয়ে ব্যাসবাক্য করা যায় না, অন্য শব্দ যোগ করে অর্থ বোঝাতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
যেমন অন্য গ্রাম মানে গ্রামান্তর, অন্য দেশ মানে দেশান্তর, কেবল দর্শন মানে দর্শনমাত্র। এখানে অন্তর বা মাত্র ভেঙে লিখলে অর্থ দাঁড়ায় না, তাই অন্য বা কেবল শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়।
বিকল্প ক-তে একটি মাত্র দেওয়া আছে, যেটা আসলে একমাত্র শব্দের অর্থ বোঝানোর রূপ। একমাত্র শব্দের মাত্র অংশকে আলাদা করে ব্যাসবাক্য হয় না, তাই এটাই নিত্য সমাসের উদাহরণ।
বাকিগুলোর স্বাভাবিক ব্যাসবাক্য হয়। আনাগোনা মানে আসা-যাওয়া, এটি দ্বন্দ্ব সমাস; অনুকূল অব্যয়ীভাব সমাস; রামেশ্বর ভাঙা যায় রাম ও ঈশ্বর দিয়ে।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: অন্য যুগ = যুগান্তর, অন্য মত = মতান্তর, কেবল নাম = নামমাত্র। শেষে অন্তর বা মাত্র থাকলে আগে নিত্য সমাস ভাবুন।
২৬৭. ‘হেলায় সুযোগ হারিও না' বাক্যে নিম্নরেখ (হেলায়) শব্দটি কারকে কোন বিভক্তি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কঅপাদানে ৭মী
- খকরণে ৭মী
- গকর্মকারকে ৭মী
- ঘঅধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর: খ. করণে ৭মী
প্রশ্নটা কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের। হেলায় সুযোগ হারিও না বাক্যে প্রশ্ন করি: কী দিয়ে বা কিসের দ্বারা সুযোগ হারানো? উত্তর আসে হেলা দিয়ে, মানে অবহেলার দ্বারা। যার দ্বারা কাজটি ঘটে, সেটাই করণ কারক।
এবার বিভক্তি দেখি। হেলা শব্দের সাথে য় যুক্ত হয়েছে। এ, য়, তে, এতে এগুলো সপ্তমী বিভক্তির চিহ্ন। তাই হেলায় হলো করণে সপ্তমী।
একই ধরনের উদাহরণ: টাকায় কী না হয়, মানে টাকা দিয়ে; চোখে দেখি, মানে চোখ দিয়ে। এখানেও এ বা য় থাকলেও কাজটা হচ্ছে সেই জিনিস দিয়ে, তাই করণে সপ্তমী।
ফাঁদ হলো অধিকরণে সপ্তমী। য় দেখলেই অনেকে স্থান বা কাল ভেবে অধিকরণ ধরেন, কিন্তু হেলা কোনো স্থান বা সময় নয়, কাজের উপায়।
মনে রাখুন: কারক ধরতে প্রশ্ন করুন, বিভক্তি ধরতে শব্দের শেষটা দেখুন; দুটো মিলিয়ে নাম দিন: টাকায়, চোখে, হেলায় সবই করণে সপ্তমী।
২৬৮. ‘লোকসাহিত্য' সংগ্রহে অবদান রেখেছেন কে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- ককেশবচন্দ্র সেন
- খরজনীকান্ত সেন
- গদীনেশচন্দ্র সেন
- ঘহীরালাল সেন
সঠিক উত্তর: গ. দীনেশচন্দ্র সেন
প্রশ্নটা লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও প্রকাশে অবদান নিয়ে। বাংলা লোকসাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাম দীনেশচন্দ্র সেন, যাঁর সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
মৈমনসিংহ গীতিকার পালাগুলো গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে, আর দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ করেন। এতে মহুয়া, মলুয়া, কাজলরেখার মতো পালা আছে। পরে পূর্ববঙ্গ গীতিকাও তাঁর হাতে প্রকাশ পায়।
তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাজ বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে প্রথম দিকের বড় গ্রন্থ।
বাকি তিনজনও সেন পদবির, তাই বিভ্রান্তি হয়। কেশবচন্দ্র সেন ব্রাহ্ম সমাজের নেতা, রজনীকান্ত সেন গীতিকবি, হীরালাল সেন উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ।
মনে রাখুন: গীতিকা দেখলেই দীনেশচন্দ্র সেন; মাঠে সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে।
২৬৯. 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কভাতি
- খঅনল
- গঅংশ
- ঘজ্যোতি
সঠিক উত্তর: খ. অনল
প্রশ্নটা আগুন শব্দের সমার্থক শব্দ খুঁজতে বলছে। আগুনের প্রচলিত সমার্থক শব্দ: অনল, অগ্নি, পাবক, বহ্নি, হুতাশন, দহন। তাই উত্তর অনল।
বিকল্পগুলোর মধ্যে ভাতি আর জ্যোতি দুটোই আলো বা দীপ্তি বোঝায়। আগুন থেকে আলো আসে বলে এগুলো কাছাকাছি মনে হয়, কিন্তু অর্থ এক নয়।
অংশ মানে ভাগ বা খণ্ড, আগুনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কাছাকাছি দেখতে অংশু শব্দের অর্থ কিরণ বা রশ্মি, সেটাও আগুন নয়।
ফাঁদ হলো জ্যোতি: আলো আর আগুন আলাদা ধারণা, সমার্থক প্রশ্নে অর্থের মিল পুরোপুরি থাকতে হয়।
মনে রাখুন: আগুনের সমার্থক মনে রাখুন: অনল, অগ্নি, পাবক, বহ্নি, হুতাশন; আলোর সমার্থক: জ্যোতি, ভাতি, দীপ্তি, প্রভা।
২৭০. সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য কোন পদে বেশি দেখা যায়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কবিশেষ্য ও ক্রিয়া
- খবিশেষণ ও ক্রিয়া
- গবিশেষ্য ও বিশেষণ
- ঘক্রিয়া ও সর্বনাম
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্রিয়া ও সর্বনাম
প্রশ্নটা সাধু ও চলিত রীতির মূল পার্থক্য কোথায়, তা জানতে চাইছে। দুই রীতির সবচেয়ে বেশি পার্থক্য দেখা যায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদে।
সর্বনামে: সাধুতে তাহারা, তাহাদের, যাহা, ইহা; চলিতে তারা, তাদের, যা, এটা। ক্রিয়াপদে: সাধুতে করিতেছিলাম, খাইয়া, যাইবে; চলিতে করছিলাম, খেয়ে, যাবে।
বিশেষ্য আর বিশেষণে পার্থক্য তুলনামূলক কম। কিছু তৎসম শব্দ সাধুতে বেশি আসে, কিন্তু ভাত, মানুষ, সুন্দর ধরনের শব্দ দুই রীতিতেই একই থাকে।
তাই সাধু থেকে চলিতে রূপান্তরের প্রশ্নে আগে সর্বনাম আর ক্রিয়া বদলান। ভুল বিকল্পগুলোতে বিশেষ্য বা বিশেষণ ঢোকানো হয়েছে, যেগুলো মূল পার্থক্যের জায়গা নয়।
মনে রাখুন: সাধু থেকে চলিত করতে প্রথমেই সর্বনাম আর ক্রিয়ার রূপ বদলান; তাতেই বেশিরভাগ কাজ হয়ে যায়।
২৭১. কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কত্রিভুজ
- খশুণ্য
- গপূণ্য
- ঘভূবন
সঠিক উত্তর: ক. ত্রিভুজ
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানান খুঁজতে বলছে। ত্রিভুজ শব্দটি ত্রি আর ভুজ মিলে তৈরি: তিনটি বাহু যার। ভুজ শব্দে উ-কার হ্রস্ব, তাই ত্রিভুজ শুদ্ধ।
শুণ্য ভুল, শুদ্ধ রূপ শূন্য। এখানে শ-এ দীর্ঘ ঊ-কার, আর ণ নয়, দন্ত্য ন। শূন্য শব্দে ন-এর আগে ঋ, র বা ষ নেই, তাই ণত্ব বিধানে মূর্ধন্য ণ হওয়ার কারণ নেই।
পূণ্য ভুল, শুদ্ধ রূপ পুণ্য। এখানে প-এ হ্রস্ব উ-কার, আর ণ ঠিক আছে। ভূবন ভুল, শুদ্ধ রূপ ভুবন; ভ-এ হ্রস্ব উ-কার।
এই প্রশ্নে ফাঁদ হলো উ-কার আর ঊ-কারের অদলবদল: শূন্যে দীর্ঘ, পুণ্য ও ভুবনে হ্রস্ব। জোড়ায় মনে রাখলে ভুল হয় না।
মনে রাখুন: জোড়ায় মুখস্থ: শূন্য (দীর্ঘ), পুণ্য (হ্রস্ব), ভুবন (হ্রস্ব), ভূমি (দীর্ঘ)।
২৭২. কোন উপসর্গটি 'বাংলা' ও 'তৎসম' উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কঅ
- খনা
- গবে
- ঘসু
সঠিক উত্তর: ঘ. সু
প্রশ্নটা এমন উপসর্গ খুঁজছে যা খাঁটি বাংলা উপসর্গের তালিকায় আছে, আবার তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গের তালিকাতেও আছে। বাংলা উপসর্গ ২১টি, তৎসম উপসর্গ ২০টি।
দুই তালিকাতেই আছে এমন উপসর্গ হলো সু, আ, বি, নি। যেমন বাংলা উপসর্গ হিসেবে সু: সুখবর, সুনজর; তৎসম উপসর্গ হিসেবে সু: সুশীল, সুগন্ধ।
অ শুধু বাংলা উপসর্গ, যেমন অকাজ, অচেনা। তৎসম উপসর্গের বিশটির তালিকায় অ নেই।
না আর বে বাংলা বা তৎসম কোনোটাই নয়, এগুলো ফারসি উপসর্গ। যেমন নাবালক, নারাজ; বেহায়া, বেআদব। এদের বিদেশি বলে চিনতে পারলেই সহজে বাদ দেওয়া যায়।
মনে রাখুন: বাংলা আর তৎসম দুই তালিকায় কমন চারটি: আ, সু, বি, নি।
২৭৩. নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কত
- খড
- গঢ
- ঘ(অস্পষ্ট)
সঠিক উত্তর: গ. ঢ
প্রশ্নটা মহাপ্রাণ ধ্বনি চিনতে বলছে। যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখ দিয়ে বাতাস জোরে বের হয়, তাকে মহাপ্রাণ বলে; বাতাস কম বের হলে অল্পপ্রাণ।
স্পর্শ ব্যঞ্জনের প্রতিটি বর্গে প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণ, দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ। যেমন ট-বর্গে ট আর ড অল্পপ্রাণ, ঠ আর ঢ মহাপ্রাণ।
তাই ঢ হলো ট-বর্গের চতুর্থ বর্ণ, ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি। ত হলো ত-বর্গের প্রথম বর্ণ, অঘোষ অল্পপ্রাণ; ড হলো ট-বর্গের তৃতীয় বর্ণ, ঘোষ অল্পপ্রাণ।
সহজ পরীক্ষা: মুখের সামনে হাত রেখে উচ্চারণ করুন। ড আর ঢ বললে ঢ-তে বাতাসের ধাক্কা বেশি টের পাবেন, ঠিক যেমন ক আর খ-তে।
মনে রাখুন: প্রতি বর্গের জোড় সংখ্যার বর্ণ (২য়, ৪র্থ) মহাপ্রাণ; বিজোড় (১ম, ৩য়) অল্পপ্রাণ।
২৭৪. 'অভয়া' চরিত্রটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে রয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কপল্লী সমাজ
- খশ্রীকান্ত
- গচন্দ্রনাথ
- ঘপথের দাবী
সঠিক উত্তর: খ. শ্রীকান্ত
প্রশ্নটা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের চরিত্র চিনতে বলছে। অভয়া চরিত্রটি আছে শ্রীকান্ত উপন্যাসে, এর দ্বিতীয় পর্বে, যেখানে শ্রীকান্ত বার্মা বা রেঙ্গুন যাত্রা করে।
অভয়া এক সাহসী নারী, যে নির্যাতনকারী স্বামীকে ছেড়ে ভালোবাসার মানুষ রোহিণীর সাথে নতুন জীবন শুরু করে। সমাজের প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে তার সিদ্ধান্তের জন্যই চরিত্রটি আলোচিত।
শ্রীকান্ত উপন্যাসের অন্য বিখ্যাত চরিত্র: রাজলক্ষ্মী বা পিয়ারী বাইজি, ইন্দ্রনাথ, অন্নদাদিদি। চার পর্বে লেখা এই উপন্যাসকে অনেকে শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক রচনা বলেন।
অন্য উপন্যাসের চরিত্রগুলো মিলিয়ে রাখুন: পল্লীসমাজে রমেশ ও রমা, পথের দাবীতে সব্যসাচী ও ভারতী, চন্দ্রনাথে চন্দ্রনাথ ও সরযূ।
মনে রাখুন: শ্রীকান্তের প্রধান নারী চরিত্রগুলো মনে রাখুন: রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, কমললতা।
২৭৫. 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশী হয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কচলিত রীতি
- খসাধু রীতি
- গমিশ্র রীতি
- ঘআঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর: খ. সাধু রীতি
প্রশ্নটা জানতে চাইছে তৎসম শব্দ, অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত রূপে আসা শব্দ, কোন রীতিতে বেশি ব্যবহৃত হয়। উত্তর সাধু রীতি।
সাধু রীতি গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক; এতে তৎসম শব্দের প্রাধান্য থাকে, যেমন হস্ত, মস্তক, গৃহ, চন্দ্র। চলিত রীতিতে একই অর্থে বেশি আসে তদ্ভব শব্দ, যেমন হাত, মাথা, ঘর, চাঁদ।
সাধু রীতি তাই দলিল, পুরোনো সাহিত্য আর আনুষ্ঠানিক লেখায় দেখা যায়, আর চলিত রীতি মুখের ভাষার কাছাকাছি।
ফাঁদ হলো চলিত রীতি। আজকাল চলিতেও তৎসম শব্দ আসে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে সাধু রীতিতেই এর ব্যবহার বেশি।
মনে রাখুন: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর, তাই তৎসম শব্দপ্রধান; চলিত রীতি সহজ, তাই তদ্ভব শব্দপ্রধান।
২৭৬. সমাস ভাষাকে কি করে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কসংক্ষেপ করে
- খবিস্তৃত করে
- গঅর্থপূর্ণ করে
- ঘঅর্থের রূপান্তর ঘটায়
সঠিক উত্তর: ক. সংক্ষেপ করে
প্রশ্নটা সমাসের মূল কাজ জানতে চাইছে। সমাস মানে সংক্ষেপ: পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদ মিলে একটি পদ হয়ে যায়।
যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে হয় সিংহাসন, বিলাত থেকে ফেরত থেকে হয় বিলাতফেরত। কয়েকটি শব্দের কথা এক শব্দেই বলা যায়, ফলে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও গতিশীল হয়।
সমাসের অর্থ হলো সংক্ষেপ, আর যে বাক্য দিয়ে সমস্তপদের অর্থ খুলে বলা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে।
ফাঁদ হলো অর্থপূর্ণ করে বা অর্থের রূপান্তর ঘটায় বিকল্প। সমাসে অর্থ একই থাকে, শুধু প্রকাশ ছোট হয়। বহুব্রীহিতে নতুন অর্থ আসে ঠিকই, কিন্তু সব সমাসের সাধারণ কাজ সংক্ষেপণ।
মনে রাখুন: সমাস শব্দের আক্ষরিক অর্থই সংক্ষেপ; এর উল্টো প্রক্রিয়া হলো ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য।
২৭৭. ‘একাদশে বৃহস্পতি' অর্থ কি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কআশার কথা
- খসৌভাগ্যের বিষয়
- গমজা পাওয়া
- ঘআনন্দের বিষয়
সঠিক উত্তর: খ. সৌভাগ্যের বিষয়
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ জানতে চাইছে। একাদশে বৃহস্পতি মানে সৌভাগ্যের বিষয় বা সুসময়।
এর উৎস জ্যোতিষ বিশ্বাস: কারও কোষ্ঠীর একাদশ ঘরে বৃহস্পতি গ্রহ থাকলে তা খুব শুভ বলে ধরা হতো। সেখান থেকে কথাটির অর্থ দাঁড়িয়েছে ভাগ্য খুলে যাওয়া।
উদাহরণ: লটারিতে পুরস্কার আর চাকরির নিয়োগপত্র একই দিনে পেয়ে তার এখন একাদশে বৃহস্পতি।
আশার কথা বা আনন্দের বিষয় কাছাকাছি শোনালেও বাগ্ধারাটির মূল ভাব ভাগ্য বা সৌভাগ্য, শুধু আশা বা আনন্দ নয়।
মনে রাখুন: গ্রহ-নক্ষত্রের বাগ্ধারা ভাগ্যের কথা বলে: একাদশে বৃহস্পতি = সৌভাগ্য।
২৭৮. সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কনারীর মূল্য
- খরায়তের কথা
- গবীরবলের হালখাতা
- ঘতেল নুন লাকড়ী
সঠিক উত্তর: গ. বীরবলের হালখাতা
বাংলা গদ্যে চলিত রীতিকে সাহিত্যের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর ছদ্মনাম বীরবল, আর বীরবলের হালখাতা গ্রন্থকেই সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ ধরা হয়।
প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সালে সবুজপত্র পত্রিকা প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে চলিত গদ্যরীতি সাহিত্যে জায়গা পায়। এই চলিত রীতিতে লেখা তাঁর প্রবন্ধের সংকলন বীরবলের হালখাতা।
বিকল্পের তেল-নুন-লকড়ি আর রায়তের কথাও প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ, তাই এগুলোই বড় ফাঁদ। কিন্তু প্রথম চলিত গ্রন্থের স্বীকৃতি বীরবলের হালখাতার।
নারীর মূল্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধগ্রন্থ, যা তিনি অনিলা দেবী ছদ্মনামে লেখেন।
মনে রাখুন: প্রশ্নে 'চলিত ভাষা' আর 'প্রথম' থাকলে নামের ভেতর 'বীরবল' খুঁজুন; বীরবল মানেই প্রমথ চৌধুরী।
২৭৯. 'একদিন পাপের ফল ফলবে'- এখানে 'একদিন' কোন কারকে কোন বিভক্তি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কঅধিকরণে শূন্য
- খঅধিকরণে ২য়া
- গঅধিকরণে ৩য়া
- ঘঅধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর: ক. অধিকরণে শূন্য
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময় বা স্থানকে বলে অধিকরণ কারক। সময় বোঝালে তাকে বলে কালাধিকরণ।
বাক্যে প্রশ্ন করি: পাপের ফল কখন ফলবে? উত্তর: একদিন। তাই একদিন কালাধিকরণ কারক।
একদিন শব্দের সঙ্গে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যেমন এ, তে, য় যুক্ত নেই; শব্দটি যেমন আছে তেমনই বসেছে। এমন হলে বলা হয় শূন্য বিভক্তি। তাই উত্তর: অধিকরণে শূন্য বিভক্তি।
সময়বাচক শব্দে সপ্তমী বা এ বিভক্তি বেশি দেখা যায়, যেমন সকালে, রাতে; তাই অনেকে অধিকরণে সপ্তমী বেছে নেন। কিন্তু এখানে একদিন শব্দে এ যুক্ত নেই।
মনে রাখুন: কখন প্রশ্নের উত্তর হলে অধিকরণ; শব্দে কোনো চিহ্ন না থাকলে শূন্য। যেমন: রবিবার দোকান বন্ধ, আজ বৃষ্টি হবে।
২৮০. 'রাতের মধ্যভাগ' এক কথায় প্রকাশ কি হবে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কমাঝরাত্রি
- খমধ্যাহ্ন
- গমহানিশা
- ঘঅনামাশী
সঠিক উত্তর: গ. মহানিশা
এক কথায় প্রকাশে একটি বাক্যাংশকে একটি নির্দিষ্ট শব্দে বলা হয়। রাতের মধ্যভাগ বা গভীর রাতকে এক কথায় বলে মহানিশা।
নিশা মানে রাত। মহা যুক্ত হয়ে মহানিশা বোঝায় রাতের সবচেয়ে গভীর অংশ, অর্থাৎ মধ্যরাত। একই অর্থে নিশীথ শব্দও ব্যবহৃত হয়।
দিনের মধ্যভাগকে বলে মধ্যাহ্ন, আর দিনের শেষ ভাগকে অপরাহ্ণ। তাই মধ্যাহ্ন দিনের, রাতের নয়।
মাঝরাত্রি অর্থে কাছাকাছি হলেও এটি সাধারণ সমাসবদ্ধ শব্দ, এক কথায় প্রকাশের নির্দিষ্ট শব্দ নয়। আর চতুর্থ বিকল্পটি সম্ভবত অমানিশা, যার অর্থ অমাবস্যার অন্ধকার রাত।
মনে রাখুন: মধ্যাহ্ন দিনের মাঝ, মহানিশা রাতের মাঝ, অমানিশা চাঁদহীন রাত।