বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৩
২৪১. 'মাগো ভাবনা কেন' গানটির গীতিকার কে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কআপেল মাহমুদ
- খগৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
- গআব্দুল গাফফার চৌধুরী
- ঘগাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর: খ. গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বিখ্যাত গান মাগো ভাবনা কেন-এর গীতিকার জানতে চাইছে। গানটি লিখেছেন কলকাতার গীতিকবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, আর গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
গানের পরের চরণ, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে, তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি। এতে মাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে দেশের ছেলেরা প্রয়োজনে লড়তে জানে।
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শোনো একটি মুজিবরের থেকে গানটিও লিখেছিলেন, যার সুরকার ও শিল্পী অংশুমান রায়। এ ছাড়া কফি হাউসের সেই আড্ডাটা গানও তাঁর লেখা।
আপেল মাহমুদ এখানে ফাঁদ। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও সুরকার; মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি গানের সুরকার তিনি, গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
মনে রাখুন: গৌরীপ্রসন্নের দুই মুক্তিযুদ্ধের গান জোড়া মনে রাখুন: মাগো ভাবনা কেন আর শোনো একটি মুজিবরের থেকে।
২৪২. খনার বচন এর মূল ভাব কি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কসামাজিক মঙ্গলবোধ
- খরাষ্ট্র পরিচালনা নীতি
- গশুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
প্রশ্নটা খনার বচনের মূল সুর জানতে চাইছে। খনার বচন ছোট ছোট ছড়ার আকারে লোকজ জ্ঞান: কখন কী চাষ করতে হবে, আবহাওয়া কেমন হবে, কীভাবে সংসার ও জীবন চালাতে হবে।
যেমন, যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ। আবার কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত। এসব বচনে দৈনন্দিন জীবন সঠিকভাবে চালানোর ব্যবহারিক নির্দেশনা আছে।
তাই অপশনগুলোর মধ্যে খনার বচনের মূল ভাব হিসেবে শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি সবচেয়ে মানানসই। কৃষি, স্বাস্থ্য, আবহাওয়া, সংসার সবকিছুর পরামর্শের লক্ষ্য একটাই: ঠিকভাবে জীবন চালানো।
সামাজিক মঙ্গলবোধ কাছাকাছি মনে হলেও খনার বচন সমাজ সংস্কারের কথা বলে না, বলে ব্যক্তি ও কৃষক পরিবারের ব্যবহারিক জীবনের কথা। রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি এতে নেই।
মনে রাখুন: খনার বচন মানেই চাষবাস ও সংসারের ব্যবহারিক উপদেশ; রাষ্ট্র বা সমাজ সংস্কারের কথা নয়।
২৪৩. কোন শব্দটি অশুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কত্রিভুজ
- খশূন্য
- গপূন্য
- ঘভূবন
সঠিক উত্তর: গ. পূন্য
প্রশ্নটা উ-কার আর ঊ-কার এবং ণত্ব বিধানের বানান যাচাই করছে। পূন্য বানানটি অশুদ্ধ, শুদ্ধ বানান পুণ্য।
পুণ্য শব্দে প-এর সঙ্গে হ্রস্ব উ-কার, আর পরে মূর্ধন্য ণ। এখানে ণ স্বভাবতই বসে, যেমন পুণ্য, পণ্য, অরণ্য, লাবণ্য। পূন্য বানানে দুটো ভুল: দীর্ঘ ঊ-কার আর দন্ত্য ন।
অন্যদিকে শূন্য বানানে দীর্ঘ ঊ-কার আর দন্ত্য ন, এটাই শুদ্ধ। শূন্য আর পুণ্য দেখতে কাছাকাছি বলেই এই ফাঁদ। ত্রিভুজ বানানে হ্রস্ব উ-কার, শুদ্ধ।
লক্ষ করুন, এখানে ভূবন বানানটিও ভুল; শুদ্ধ বানান ভুবন, হ্রস্ব উ-কারে। ভুবন আর ত্রিভুজ দুটোতেই ভ-এ হ্রস্ব উ-কার। তবে প্রচলিত উত্তর পূন্য, আর একাধিক ভুলের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
মনে রাখুন: জোড়া মুখস্থ: শূন্য-তে লম্বা ঊ আর দন্ত্য ন, পুণ্য-তে ছোট উ আর মূর্ধন্য ণ; একটা মনে থাকলে অন্যটা উল্টো।
২৪৪. কোনটি মৌলিক শব্দ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কমানব
- খধাতব
- গএকাত্ম
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনটিই নয়
প্রশ্নটা মৌলিক শব্দ চিনতে বলছে। যে শব্দকে ভাঙলে আর কোনো অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায় না, তা মৌলিক শব্দ, যেমন হাত, মা, গোলাপ। আর যে শব্দ প্রত্যয়, উপসর্গ বা সমাস দিয়ে গঠিত, তা সাধিত শব্দ।
মানব শব্দ এসেছে মনু থেকে, মনু শব্দের সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগে, অর্থ মনুর বংশধর। ধাতব এসেছে ধাতু শব্দের সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগে। দুটোই তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত সাধিত শব্দ।
একাত্ম শব্দ এসেছে এক আর আত্মা মিলে, অর্থ একই আত্মা যার, তাই এটিও সমাসে গঠিত সাধিত শব্দ।
মানব শব্দটা এত চেনা যে একে মৌলিক মনে হয়, কিন্তু এর ভেতরে মনু লুকিয়ে আছে। তিনটিই সাধিত, তাই উত্তর কোনোটিই নয়।
মনে রাখুন: তদ্ধিত অ প্রত্যয়ে প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়: মনু থেকে মানব, ধাতু থেকে ধাতব, শিব থেকে শৈব, দনু থেকে দানব।
২৪৫. নিচের কোন শব্দে ণ-ত্ব বিধি অনুসারে 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কবিপণি
- খনিক্বণ
- গপ্রবণ
- ঘকল্যাণ
সঠিক উত্তর: গ. প্রবণ
প্রশ্নটা জানতে চাইছে কোন শব্দে ণ এসেছে ণত্ব বিধানের নিয়ম মেনে, আর কোনগুলোতে ণ শব্দের স্বভাবতই। দুটো আলাদা জিনিস।
ণত্ব বিধানের নিয়ম: ঋ, র, ষ-এর পরে দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়। আর এদের মাঝখানে স্বরবর্ণ, য়, হ, ক-বর্গ বা প-বর্গের বর্ণ থাকলেও ন বদলে ণ হয়।
প্রবণ শব্দে প্র-এর র আছে, তারপর অ, তারপর প-বর্গের ব, তারপর অ, তারপর ণ। মাঝখানে শুধু স্বর আর প-বর্গ, তাই নিয়ম অনুযায়ী ন হয়েছে ণ। একই নিয়মে শ্রবণ, ভ্রমণ, অর্পণ।
বিপণি, নিক্বণ আর কল্যাণ শব্দে ঋ, র বা ষ নেই, তবু ণ আছে। এগুলো স্বভাবত ণ, মানে শব্দের নিজস্ব বানান, নিয়ম থেকে আসেনি। এই শব্দগুলো মুখস্থ রাখতে হয়, যেমন বাণিজ্য, লবণ, গণনা, পুণ্য।
মনে রাখুন: আগে দেখুন শব্দে ঋ, র বা ষ আছে কি না; না থাকলে ণ স্বভাবত, নিয়মের নয়।
২৪৬. কোন বাক্যটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কদৈন্যতা সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়
- খদৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়
- গদৈন্য সর্বদা মহত্বে পরিচায়ক নয়
- ঘদৈন্যতা সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়।
সঠিক উত্তর: খ. দৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়
প্রশ্নটা শুদ্ধ বাক্য চিনতে বলছে, আর এখানে দুটি সাধারণ ভুল লুকানো: দৈন্যতা আর মহত্ব।
দৈন্য শব্দটাই দীন শব্দ থেকে য প্রত্যয় যোগে গঠিত ভাববাচক বিশেষ্য, অর্থ দীনতা। এর সঙ্গে আবার তা প্রত্যয় জুড়ে দৈন্যতা লিখলে একই অর্থের প্রত্যয় দুবার বসে, যা অশুদ্ধ। একই ভুল সৌজন্যতা, ঔদার্যতা, দারিদ্র্যতায়।
মহত্ত্ব শব্দ এসেছে মহৎ আর ত্ব প্রত্যয় মিলে। মহতের ৎ বদলে ত হয়, আর তার সঙ্গে ত্ব বসে, তাই দুটো ত, বানান মহত্ত্ব। মহত্ব বানানে একটা ত হারিয়ে গেছে।
এ দুটো মিলিয়ে একমাত্র দ্বিতীয় বাক্যটি শুদ্ধ। তৃতীয় বাক্যে মহত্বে লেখা, যাতে বানান ভুলের সঙ্গে বিভক্তিও ভুল: হওয়া উচিত মহত্ত্বের।
মনে রাখুন: য প্রত্যয়ের শব্দে আবার তা বসে না: দৈন্য, সৌজন্য, দারিদ্র্য, ঔদার্য; আর ৎ-এর পরে ত্ব বসলে দুটি ত: মহত্ত্ব, সত্ত্ব।
২৪৭. “মাটির ময়না” চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কতারেক মাসুদ
- খহুমায়ূন আহমেদ
- গআলমগীর কবির
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. তারেক মাসুদ
প্রশ্নটা মাটির ময়না চলচ্চিত্রের পরিচালক জানতে চাইছে। এর নির্মাতা তারেক মাসুদ, ছবিটি মুক্তি পায় ২০০২ সালে।
ছবিটি ষাটের দশকের শেষে, মুক্তিযুদ্ধের আগের উত্তাল সময়ে এক মাদ্রাসাছাত্র আনুর চোখে দেখা পরিবার ও সমাজের গল্প। এটি অনেকটা পরিচালকের নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া।
মাটির ময়না কান চলচ্চিত্র উৎসবের ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগে দেখানো হয় এবং সেখানে আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কার পায়। অস্কারে বিদেশি ভাষার ছবি বিভাগে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রথম ছবিও এটি। তারেক মাসুদের আরেকটি বিখ্যাত কাজ মুক্তির গান, আর তাঁর শেষ ছবি রানওয়ে।
হুমায়ূন আহমেদও চলচ্চিত্র বানিয়েছেন, যেমন আগুনের পরশমণি ও শ্যামল ছায়া, তাই নামটা বিভ্রান্ত করতে পারে। আলমগীর কবির সত্তরের দশকের নির্মাতা, তাঁর বিখ্যাত ছবি ধীরে বহে মেঘনা।
মনে রাখুন: তারেক মাসুদের তিন ছবি: মুক্তির গান, মাটির ময়না, রানওয়ে।
২৪৮. 'নীলদর্পণ' নাটকটির মূল বিষয়বস্তু কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কভাষা আন্দোলন
- খনীলকরদের অত্যাচার
- গঅসহযোগ আন্দোলন
- ঘতেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর: খ. নীলকরদের অত্যাচার
প্রশ্নটা দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকের বিষয় জানতে চাইছে। নাটকটির মূল বিষয় বাংলার কৃষকদের ওপর ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচার।
নীলদর্পণ প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে, ঢাকা থেকে। নীলকররা কৃষকদের জোর করে নীল চাষ করাত, দাদন দিয়ে ঋণের ফাঁদে ফেলত আর অবাধ্য হলে নির্যাতন করত। নাটকে সেই নিপীড়নের নির্মম ছবি উঠে এসেছে।
নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের দায়ে পাদরি জেমস লং-এর কারাদণ্ড ও জরিমানা হয়। অনুবাদক হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাম প্রচলিত। নাটকটি নীল বিদ্রোহের পক্ষে জনমত গড়ে তোলে।
অন্য অপশনগুলো সময়ের দিক থেকেই অসম্ভব: অসহযোগ আন্দোলন ১৯২০ সালে, তেভাগা আন্দোলন ১৯৪৬ সালে আর ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে, নাটক রচনার অনেক পরে।
মনে রাখুন: নামেই বিষয়: নীল চাষের দর্পণ বা আয়না, মানে নীলকরদের অত্যাচারের প্রতিচ্ছবি।
২৪৯. কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কপদ্মরাগ
- খপদ্মপুরাণ
- গপদ্মগোখরা
- ঘসবকটি
সঠিক উত্তর: গ. পদ্মগোখরা
প্রশ্নটা কাজী নজরুল ইসলামের গল্প চিনতে বলছে। তিনটি অপশনই পদ্ম দিয়ে শুরু, তাই লেখক মেলানোই আসল কাজ। পদ্মগোখরা নজরুলের লেখা গল্প।
পদ্মগোখরা আছে নজরুলের গল্পগ্রন্থ শিউলিমালায়। নজরুলের অন্য গল্পগ্রন্থ হলো ব্যথার দান ও রিক্তের বেদন। এ ছাড়া তাঁর উপন্যাস বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।
পদ্মরাগ বেগম রোকেয়ার উপন্যাস। পদ্মপুরাণ বা পদ্মাপুরাণ হলো মনসামঙ্গল কাব্যের আরেক নাম, যেমন বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণ; এটি মধ্যযুগের কাব্য, নজরুলের নয়।
শুরুর পদ্ম শব্দের মিলের জন্যই এখানে সবকটি বেছে নেওয়ার ফাঁদ; প্রতিটির লেখক আলাদা।
মনে রাখুন: নজরুলের তিন গল্পগ্রন্থ: ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলিমালা; পদ্মগোখরা শিউলিমালায়।
২৫০. রাজা রামমোহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কগৌড়ীয় ব্যাকরণ
- খমাগধীয় ব্যাকরণ
- গভাষা ও ব্যাকরণ
- ঘমাতৃভাষা
সঠিক উত্তর: ক. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
প্রশ্নটা রাজা রামমোহন রায়ের লেখা বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের নাম জানতে চাইছে। বইটির নাম গৌড়ীয় ব্যাকরণ, প্রকাশ ১৮৩৩ সালে।
গৌড় ছিল প্রাচীন বাংলার একটি নাম, তাই গৌড়ীয় মানে বাংলা ভাষার। এটি বাঙালির লেখা প্রথম দিকের বাংলা ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ হিসেবে পরিচিত।
এর আগে ১৮২৬ সালে রামমোহন ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লিখেছিলেন, Bengali Grammar in the English Language। আর বাংলা ভাষার প্রথম মুদ্রিত ব্যাকরণ ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁওর লেখা, পর্তুগিজ ভাষায়।
ভাষা ও ব্যাকরণ বা মাতৃভাষা নামগুলো সাধারণ শোনায়, তাই বিভ্রান্তি হয়; কিন্তু রামমোহনের বইয়ের নামের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার নাম গৌড় জড়িত।
মনে রাখুন: গৌড় = প্রাচীন বাংলা; রামমোহনের বাংলা ব্যাকরণও তাই গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
২৫১. 'চৌ-হদ্দি' শব্দটি কোন কোন ভাষার শব্দযোগে হয়েছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কসংস্কৃত + আরবি
- খফারসি + আরবি
- গসংস্কৃত + ফারসি
- ঘবাংলা + আরবি
সঠিক উত্তর: খ. ফারসি + আরবি
প্রশ্নটা মিশ্র শব্দের উৎস যাচাই করছে। চৌহদ্দি শব্দ গঠিত ফারসি চৌ আর আরবি হদ্দ মিলে।
চৌ ফারসি শব্দ, অর্থ চার। হদ্দ আরবি শব্দ, অর্থ সীমা। তাই চৌহদ্দি মানে চার দিকের সীমা, যেমন জমির দলিলে চৌহদ্দি লেখা থাকে: উত্তরে কার জমি, দক্ষিণে কী, ইত্যাদি।
পাঠ্য ব্যাকরণের মিশ্র শব্দের তালিকায় এর পাশেই আছে রাজা-বাদশা, যা তৎসম ও ফারসি, হাট-বাজার, যা বাংলা ও ফারসি, আর হেড-মৌলভি, যা ইংরেজি ও ফারসি।
চৌ শুনতে বাংলা চার বা সংস্কৃত চতুঃ-এর মতো লাগে বলে অনেকে সংস্কৃত বা বাংলা বেছে নেন। কিন্তু চৌ রূপটি ফারসি থেকে এসেছে।
মনে রাখুন: মিশ্র শব্দের জোড়া: চৌহদ্দি ফারসি-আরবি, রাজা-বাদশা তৎসম-ফারসি, হাট-বাজার বাংলা-ফারসি, হেড-মৌলভি ইংরেজি-ফারসি।
২৫২. Who has written the famous novel 'Pather Panchali'? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কSatyajit Ray
- খBibhutibhushan Bandyopadhyay
- গChintha Lakshmi Sinhaarachchi
- ঘK. Roy and Margaret Chatterjee
সঠিক উত্তর: খ. Bibhutibhushan Bandyopadhyay
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত উপন্যাস পথের পাঁচালীর লেখক নিয়ে। উপন্যাসটি লিখেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বই আকারে প্রকাশ ১৯২৯ সালে।
গ্রামবাংলার দরিদ্র পরিবারের শিশু অপু আর তার দিদি দুর্গার বেড়ে ওঠাই এর কাহিনি। এর পরের খণ্ড অপরাজিত। বিভূতিভূষণের অন্য বিখ্যাত রচনা আরণ্যক, ইছামতী ও চাঁদের পাহাড়।
সত্যজিৎ রায় ১৯৫৫ সালে এই উপন্যাস থেকে পথের পাঁচালী চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তিনি পরিচালক, লেখক নন।
এটাই মূল ফাঁদ: চলচ্চিত্রের খ্যাতির কারণে অনেকে সত্যজিৎ রায়কে লেখক ভেবে বসেন। বাকি দুই অপশনের নাম শুধু বিভ্রান্তির জন্য।
মনে রাখুন: উপন্যাস বিভূতিভূষণের, চলচ্চিত্র সত্যজিতের।
২৫৩. চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় কে অনুবাদ করেন? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কমুনিদত্ত
- খপ্রবোধচন্দ্র বাগচী
- গকীর্তিচন্দ্ৰ
- ঘহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর: গ. কীর্তিচন্দ্ৰ
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। এই অনুবাদের সূত্র ধরেই পরে চর্যাপদের বেশ কিছু হারানো ও খণ্ডিত পদের পাঠ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
মূল ঘটনাগুলো এভাবে: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশ করেন। মুনিদত্ত পদগুলোর সংস্কৃত টীকা লেখেন।
আর প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদটি আবিষ্কার ও প্রকাশ করেন। অর্থাৎ বাগচী অনুবাদটি খুঁজে পান, কিন্তু অনুবাদক কীর্তিচন্দ্র।
এখানে প্রধান ফাঁদ প্রবোধচন্দ্র বাগচী, কারণ তাঁর নাম তিব্বতি অনুবাদের সঙ্গে জড়িত; আরেক ফাঁদ মুনিদত্ত, যিনি অনুবাদ নয়, টীকা লিখেছেন।
মনে রাখুন: আবিষ্কার শাস্ত্রী, টীকা মুনিদত্ত, অনুবাদ কীর্তিচন্দ্র, অনুবাদের খোঁজ বাগচী।
২৫৪. কোন কবির মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
- খমুকুন্দরাম চক্রবর্তী
- গনারায়ণ সেন
- ঘমানিক দত্ত
সঠিক উত্তর: ক. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সমাপ্তি ধরা হয় ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মাধ্যমে, ১৭৬০ সালে। তাঁকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বলা হয়।
তাঁর প্রধান কাব্য অন্নদামঙ্গল, আর রায়গুণাকর উপাধি দিয়েছিলেন নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। ১৭৬০ সালের পর থেকে প্রায় ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ, যার প্রধান কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
অন্য কবিরাও মঙ্গলকাব্যের, তবে মধ্যযুগের মাঝের দিকের। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি, উপাধি কবিকঙ্কণ। মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি হিসেবে পরিচিত।
ফাঁদ হলো মুকুন্দরাম: মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলে অনেকে তাঁকে মধ্যযুগের শেষ কবি ভাবেন, কিন্তু তিনি ষোড়শ শতকের।
মনে রাখুন: মধ্যযুগ শেষ ১৭৬০, ভারতচন্দ্রের মৃত্যুতে; যুগসন্ধির কবি ঈশ্বর গুপ্ত।
২৫৫. ‘খনার বচন' কোন যুগে সমৃদ্ধি লাভ করে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কপ্রাচীন যুগ
- খমধ্য যুগের শেষে
- গপ্রাচীন যুগের শেষে
- ঘমধ্যযুগের শুরুতে
সঠিক উত্তর: গ. প্রাচীন যুগের শেষে
খনার বচন কৃষি, আবহাওয়া ও দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ছোট ছোট ছড়া, মুখে মুখে প্রচলিত। যেমন, যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্য দেশ।
প্রচলিত গবেষণা মত অনুযায়ী খনার বচন রচিত হয়েছিল মোটামুটি নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে, অর্থাৎ চর্যাপদের সমকালে, প্রাচীন যুগের শেষ দিকে। প্রাচীন যুগ ধরা হয় মোটামুটি ৬৫০ বা ৯৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত।
লোকমুখে প্রচলিত বলে এর সঠিক সময় নির্ধারণ কঠিন। পরবর্তী শতাব্দীর পুঁথিতেও খনার অনেক বচন সংকলিত হয়েছে, তাই কোনো কোনো গাইড একে অন্ধকার যুগ বা মধ্যযুগের শুরুর সঙ্গে যুক্ত করে।
পরীক্ষায় তাই দুটো অপশন নিয়ে দ্বিধা হয়। রচনাকালের প্রচলিত মত ধরলে উত্তর প্রাচীন যুগের শেষে। পুরো প্রাচীন যুগ বা মধ্যযুগের শেষ, এই দুটো স্পষ্টভাবেই ভুল।
মনে রাখুন: খনার বচন চর্যার শেষ দিকের; মুখে মুখে চলে এসেছে মধ্যযুগ পেরিয়ে।
২৫৬. কোন ঔপন্যাসিকের চারটি উপন্যাস একত্রে সংকলিত হয়েছে ‘শতবর্ষ' নামে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গরমেশচন্দ্র দত্ত
- ঘতারাশঙ্কর
সঠিক উত্তর: গ. রমেশচন্দ্র দত্ত
রমেশচন্দ্র দত্তের চারটি ঐতিহাসিক উপন্যাস একত্রে শতবর্ষ নামে সংকলিত হয় ১৮৭৯ সালে। উপন্যাস চারটি হলো বঙ্গবিজেতা, মাধবীকঙ্কণ, মহারাষ্ট্র জীবন-প্রভাত এবং রাজপুত জীবন-সন্ধ্যা।
চারটির পটভূমি মোগল আমলের প্রায় একশো বছর, আকবর থেকে আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত; সেই থেকেই সংকলনের নাম শতবর্ষ।
রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন আইসিএস কর্মকর্তা ও ইতিহাসবিদ। তিনি সামাজিক উপন্যাস সংসার ও সমাজ লেখেন, ঋগ্বেদের বাংলা অনুবাদ করেন, আর ইংরেজিতে লেখেন The Economic History of India।
ফাঁদ হলো বঙ্কিমচন্দ্র: ঐতিহাসিক উপন্যাসের কথা শুনলেই তাঁর নাম মনে আসে, কিন্তু তাঁর উপন্যাসের এমন কোনো সংকলন শতবর্ষ নামে নেই। রমেশচন্দ্র বঙ্কিমের অনুপ্রেরণাতেই বাংলায় লিখতে শুরু করেন।
মনে রাখুন: চার উপন্যাসে একশো বছরের মোগল ইতিহাস: শতবর্ষ, রমেশচন্দ্র দত্ত।
২৫৭. বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের আঞ্চলিক কথ্য রীতি / উপভাষার নাম কি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কবাঙ্গালি
- খবরেন্দ্রি
- গপূর্বি
- ঘকামরূপি
সঠিক উত্তর: ক. বাঙ্গালি
ভাষাবিদ সুকুমার সেন বাংলা ভাষার উপভাষাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন: বঙ্গালী, রাঢ়ী, বরেন্দ্রী, কামরূপী ও ঝাড়খণ্ডী। এর মধ্যে বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলের উপভাষা বঙ্গালী।
বঙ্গালী উপভাষার এলাকা ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত। তাই দক্ষিণাঞ্চলের কথ্যরীতি এই ভাগেই পড়ে।
বরেন্দ্রী হলো উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, দিনাজপুর ও পাবনা অঞ্চলের উপভাষা। কামরূপী উত্তর-পূর্বের রংপুর ও জলপাইগুড়ি অঞ্চলের। রাঢ়ী পশ্চিমবঙ্গের, যার ভিত্তিতে প্রমিত চলিত ভাষা গড়ে উঠেছে।
পূর্বি নামে কোনো উপভাষা এই শ্রেণিবিভাগে নেই; এটা পূর্ব শব্দ দেখে বানানো ফাঁদ।
মনে রাখুন: উত্তরে বরেন্দ্রী, উত্তর-পূর্বে কামরূপী, পশ্চিমে রাঢ়ী, বাকি পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গালী।
২৫৮. কোন বর্ণে (মাত্রার উপর ভিত্তি করে) ৬টি মাত্রাহীন বর্ণ হয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কস্বরবর্ণ
- খব্যঞ্জনবর্ণ
- গঅর্ধমাত্রার বর্ণ
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. ব্যঞ্জনবর্ণ
মাত্রা হলো বর্ণের মাথার উপরের আনুভূমিক রেখা। এর ভিত্তিতে বাংলা ৫০টি বর্ণ তিন ভাগে পড়ে: পূর্ণমাত্রা ৩২টি, অর্ধমাত্রা ৮টি, আর মাত্রাহীন ১০টি।
মাত্রাহীন ১০টি বর্ণের মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি: এ, ঐ, ও, ঔ। আর ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি: ঙ, ঞ, খণ্ড ত, অনুস্বার, বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু। তাই ৬টি মাত্রাহীন বর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণে।
অর্ধমাত্রার ৮টি বর্ণের মধ্যে স্বরবর্ণ মাত্র ১টি, ঋ; বাকি ৭টি ব্যঞ্জন: খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ।
ফাঁদ হলো স্বরবর্ণ: মাত্রাহীন স্বরবর্ণও আছে, কিন্তু সংখ্যায় ৪টি, ৬টি নয়। আর অর্ধমাত্রার বর্ণ নিজেই একটা মাত্রাভিত্তিক ভাগ, তাতে মাত্রাহীন বর্ণ থাকার প্রশ্নই নেই।
মনে রাখুন: মাত্রাহীন ১০ = স্বর ৪ (এ ঐ ও ঔ) + ব্যঞ্জন ৬ (ঙ ঞ ৎ ং ঃ ঁ)।
২৫৯. ‘অতঃপর' শব্দের মূলশব্দ কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কঅনন্তর
- খঅতএব
- গঅত্র
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনটিই নয়
অতঃপর শব্দটি বিসর্গ সন্ধিতে গঠিত: অতঃ যোগ পর। অতঃ এসেছে সংস্কৃত অতস্ থেকে, যার অর্থ এই কারণে বা এখান থেকে। তাই এর মূল বা প্রকৃতি হলো অতঃ, সঙ্গে পর।
বিসর্গের পরে প, ফ থাকলে বিসর্গ অনেক সময় অপরিবর্তিত থাকে; তাই অতঃপর বানানে বিসর্গ বসে। একই নিয়মে গঠিত শব্দ: মনঃপূত, শিরঃপীড়া।
অপশনের অনন্তর শব্দের অর্থ এরপর বা তারপর; এটা অতঃপর শব্দের সমার্থক, মূলশব্দ নয়। অতএব মানে এই কারণে, আর অত্র মানে এখানে; দুটোই আলাদা স্বাধীন শব্দ।
যেহেতু কোনো অপশনেই অতঃ বা অতস্ নেই, উত্তর কোনটিই নয়। ফাঁদ হলো অনন্তর: অর্থ মিলে যায় বলে একে মূলশব্দ ভেবে বসা।
মনে রাখুন: মূলশব্দ খুঁজতে শব্দটা ভাঙুন; সমার্থক শব্দ মূল হতে পারে না।
২৬০. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কস্বাধীকার
- খবিবাদমান
- গতরুচ্ছায়া
- ঘভূবন
সঠিক উত্তর: গ. তরুচ্ছায়া
তরুচ্ছায়া বানানটি শুদ্ধ। এটা ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে গঠিত: তরু যোগ ছায়া। স্বরবর্ণের পরে ছ থাকলে ছ দ্বিত্ব হয়ে চ্ছ হয়, তাই তরুচ্ছায়া।
একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ: পরিচ্ছেদ, বিচ্ছেদ, আচ্ছাদন। এই নিয়ম মনে রাখলে তরুছায়া লেখার ভুল হবে না।
বাকি তিনটি ভুল। স্বাধিকার হবে হ্রস্ব ই-কারে, কারণ এটা স্ব যোগ অধিকার; অধিকার শব্দেই হ্রস্ব ই। ভুবন শব্দে উ-কার হ্রস্ব, ভূ দিয়ে নয়।
বিবাদমান লিখলেও শুদ্ধ রূপ বিবদমান, অর্থাৎ যারা বিবাদে লিপ্ত; বদ্ ধাতুর সঙ্গে মান প্রত্যয়। বিবাদ শব্দের প্রভাবে আ-কার বসিয়ে ফেলা একটা পরিচিত ফাঁদ।
মনে রাখুন: স্বরের পরে ছ এলেই চ্ছ: তরুচ্ছায়া, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছেদ, আচ্ছাদন।