বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৩
৪৪১. নবনবতিতম কোন সংখ্যার পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ক৪৯
- খ৯০
- গ৯৯
- ঘ১০৯
সঠিক উত্তর: গ. ৯৯
প্রশ্নটা পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নিয়ে। পূরণবাচক মানে ক্রম বোঝানো শব্দ, যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, দশম। কুড়ির পরের সংখ্যায় সংস্কৃত রীতিতে শব্দের শেষে তম যোগ হয়, যেমন বিংশতিতম, ত্রিংশতম।
নবনবতিতম শব্দটা ভাঙলে পাই নব, নবতি আর তম। নব মানে নয়, নবতি মানে নব্বই। নয় আর নব্বই মিলে নিরানব্বই, সঙ্গে তম, তাই নবনবতিতম মানে নিরানব্বইতম।
একই রীতিতে নবতিতম মানে নব্বইতম, ঊনপঞ্চাশত্তম মানে উনপঞ্চাশতম, আর শততম মানে একশততম।
ফাঁদ হলো নবতি দেখে নব্বই বেছে নেওয়া। সামনের নব শব্দটা নয় যোগ করছে, সেটা ভুলে গেলে চলবে না।
মনে রাখুন: দশকের নামগুলো মুখস্থ রাখুন (বিংশতি থেকে নবতি); তারপর সামনের এককের সংখ্যা যোগ করুন।
৪৪২. কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কশিউলিমালা
- খবাঁধনহারা
- গমৃত্যুক্ষুধা
- ঘকুহেলিকা
সঠিক উত্তর: ক. শিউলিমালা
প্রশ্নটা কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস চেনার। নজরুল মোট তিনটি উপন্যাস লিখেছেন: বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা আর কুহেলিকা।
শিউলিমালা উপন্যাস নয়, এটি নজরুলের একটি গল্পগ্রন্থ। তাঁর অন্য দুটি গল্পগ্রন্থ হলো ব্যথার দান আর রিক্তের বেদন।
বাঁধনহারা বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রোপন্যাস হিসেবে পরিচিত, পুরো উপন্যাসটা চিঠির আকারে লেখা। মৃত্যুক্ষুধা কৃষ্ণনগরের দরিদ্র মানুষের জীবন নিয়ে, আর কুহেলিকা রাজনৈতিক বিপ্লবের পটভূমিতে লেখা।
মনে রাখার সহজ উপায়: তিন উপন্যাস, তিন গল্পগ্রন্থ। নামের ধরন দেখে ঠিক করা যায় না, তাই তালিকা দুটি আলাদা করে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: নজরুলের উপন্যাস মাত্র তিনটি: বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা; শিউলিমালা, ব্যথার দান, রিক্তের বেদন হলো গল্পগ্রন্থ।
৪৪৩. “রোহিণী” কোন উপন্যাসের চরিত্র? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কচোখের বালি
- খকৃষ্ণকান্তের উইল
- গগৃহদাহ
- ঘচতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর: খ. কৃষ্ণকান্তের উইল
প্রশ্নটা উপন্যাসের চরিত্র চেনার। রোহিণী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “কৃষ্ণকান্তের উইল” উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র।
উপন্যাসে রোহিণী এক তরুণী বিধবা। গোবিন্দলাল তার প্রেমে পড়ে স্ত্রী ভ্রমরকে ছেড়ে যায়, আর শেষে গোবিন্দলালের হাতেই রোহিণীর মৃত্যু হয়। ভ্রমর, রোহিণী আর গোবিন্দলাল এই উপন্যাসের তিন মূল চরিত্র।
বাকি অপশনগুলোর চরিত্রও পরীক্ষায় আসে। চোখের বালির বিনোদিনী আর চতুরঙ্গের দামিনী রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি, গৃহদাহের অচলা শরৎচন্দ্রের।
ফাঁদ হলো বিধবা নারী চরিত্র দেখে চোখের বালির বিনোদিনীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। রোহিণী মানেই বঙ্কিম।
মনে রাখুন: রোহিণী আর ভ্রমর একসাথে মনে রাখুন: দুজনেই কৃষ্ণকান্তের উইলে।
৪৪৪. বাংলা ভাষা নিচের কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কইন্দো-ইরানীয়
- খইন্দো-ইউরোপীয়
- গবাল্টো-স্লাভিক
- ঘআফ্রো-এশীয়
সঠিক উত্তর: খ. ইন্দো-ইউরোপীয়
প্রশ্নটা বাংলা ভাষার উৎস নিয়ে। পৃথিবীর ভাষাগুলোকে কয়েকটি বড় ভাষাবংশ বা ভাষাগোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়। বাংলা যে মূল ভাষাবংশে পড়ে, তা হলো ইন্দো-ইউরোপীয়।
এই বংশ থেকে ধাপে ধাপে বাংলা এসেছে। ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে শতম শাখা, তা থেকে ইন্দো-ইরানীয় বা আর্য, তা থেকে ভারতীয় আর্য। এরপর প্রাচীন ভারতীয় আর্য, প্রাকৃত, মাগধী অপভ্রংশ পেরিয়ে প্রায় এক হাজার বছর আগে বাংলার জন্ম।
ইংরেজি, ফারসি, হিন্দি, রুশ, ফরাসি সবই এই একই ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের ভাষা, তাই এদের অনেক শব্দে মিল দেখা যায়।
ফাঁদ হলো ইন্দো-ইরানীয়। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের ভেতরের একটি শাখা মাত্র, মূল ভাষাগোষ্ঠী নয়। প্রশ্ন মূল গোষ্ঠী জানতে চাইলে উত্তর ইন্দো-ইউরোপীয়।
মনে রাখুন: মূল বংশ জানতে চাইলে সবচেয়ে বড় নামটা বেছে নিন: ইন্দো-ইউরোপীয়।
৪৪৫. ’যেমন কর্ম তেমন ফল।’ (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপারস্পরিক সর্বনাম
- খক্রিয়া বিশেষণ
- গসাপেক্ষ সর্বনাম
- ঘযোজক
সঠিক উত্তর: গ. সাপেক্ষ সর্বনাম
প্রশ্নটা জানতে চাইছে যেমন আর তেমন শব্দ দুটি কোন ধরনের পদ। দুটি সর্বনাম যখন জোড়ায় এসে একটি অন্যটির উপর নির্ভর করে বাক্যের দুই অংশ জুড়ে দেয়, তখন তাকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন কর্ম তেমন ফল বাক্যে যেমন বললেই তেমন শোনার অপেক্ষা থাকে; একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ। তাই এরা সাপেক্ষ সর্বনাম।
একই রকম আরও জোড়া: যে সে, যিনি তিনি, যত তত, যারা তারা। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না, যে পরিশ্রম করে সে সফল হয়।
ফাঁদ হলো পারস্পরিক সর্বনাম। পারস্পরিক মানে একে অপরকে বোঝানো, যেমন নিজেরা নিজেরা, পরস্পর; সেখানে নির্ভরশীল জোড়া নেই।
মনে রাখুন: জোড়ায় জোড়ায় যে-সে, যত-তত, যেমন-তেমন দেখলেই সাপেক্ষ সর্বনাম।
৪৪৬. প্রতিশব্দ নয়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবলাহক
- খজীমূত
- গবারিদ
- ঘউদক
সঠিক উত্তর: ঘ. উদক
প্রশ্নটা চাইছে কোন শব্দটি বাকিগুলোর প্রতিশব্দ নয়। এখানে তিনটি শব্দের অর্থ মেঘ, একটির অর্থ পানি।
বলাহক, জীমূত আর বারিদ তিনটিই মেঘের প্রতিশব্দ। বারিদ মানে যে বারি বা পানি দেয়, অর্থাৎ মেঘ। একই রকম জলদ, নীরদ, অম্বুদ, তোয়দ, পয়োদ সবই মেঘ।
উদক মানে পানি বা জল। পানির আরও প্রতিশব্দ: বারি, সলিল, অম্বু, নীর, তোয়, পয়ঃ।
ফাঁদ হলো বারিদ আর বারি। বারি মানে পানি, কিন্তু বারি যোগ দ মানে পানি দেয় যে, অর্থাৎ মেঘ। শব্দের শেষে দ দেখলে বুঝবেন দাতা।
মনে রাখুন: শেষে দ থাকলে মেঘ (বারিদ, জলদ, নীরদ, অম্বুদ); দ ছাড়া পানি (বারি, জল, নীর, অম্বু)।
৪৪৭. ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যে মোট কয়টি পত্র সংকলিত আছে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ক৯টি
- খ১১টি
- গ১৩টি
- ঘ১০৪টি
সঠিক উত্তর: খ. ১১টি
প্রশ্নটা মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য “বীরাঙ্গনা” নিয়ে। এই কাব্যে মোট এগারোটি পত্র আছে।
বীরাঙ্গনা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। পৌরাণিক নারীরা তাঁদের স্বামী বা প্রেমিককে চিঠি লিখছেন, যেমন শকুন্তলা লিখছেন দুষ্মন্তকে। চিঠিগুলো অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা, আর আদর্শ ছিল রোমান কবি ওভিদের “হেরোইদিস”।
মধুসূদন একুশটি পত্র লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু প্রকাশ করেছিলেন এগারোটি। তাই একুশ আর এগারো দুটো সংখ্যাই মনে রাখুন; প্রশ্নে সংকলিত পত্র চাইলে উত্তর এগারো।
মধুসূদনের অন্য পরিচিত কাব্য: মেঘনাদবধ কাব্য, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য আর চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
মনে রাখুন: বীরাঙ্গনা: পরিকল্পনা ২১, প্রকাশ ১১। সংকলিত পত্র চাইলে ১১।
৪৪৮. ‘ভার্যা’র বিপরীত শব্দ কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কদার
- খদয়িত
- গবনিতা
- ঘজায়া
সঠিক উত্তর: খ. দয়িত
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দের। ভার্যা মানে স্ত্রী, তাই এর বিপরীত শব্দ হবে স্বামী বোঝায় এমন শব্দ।
অপশনগুলোর মধ্যে দয়িত মানে প্রিয়জন বা স্বামী। দয়িত শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ দয়িতা, মানে প্রিয়া বা স্ত্রী। তাই ভার্যার বিপরীত দয়িত।
বাকি তিনটি শব্দ, দার, বনিতা আর জায়া, সবই স্ত্রীর প্রতিশব্দ। অর্থাৎ এগুলো ভার্যার সমার্থক, বিপরীত নয়।
স্বামীর আরও প্রতিশব্দ: পতি, ভর্তা, কান্ত। স্ত্রীর আরও প্রতিশব্দ: পত্নী, কলত্র, সহধর্মিণী।
মনে রাখুন: চারটির মধ্যে তিনটি একই অর্থের হলে বাকি একটিই বিপরীত।
৪৪৯. নিচের কোনটি সমার্থক নয়? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কঢাকের কাঠি-খয়ের খাঁ
- খঅকাল কুষ্মান্ড-আমড়া কাঠের ঢেঁকি
- গআটকপালে-ইঁদুর কপালে
- ঘগোঁফ খেজুরে-কাছাঢিলা
সঠিক উত্তর: ঘ. গোঁফ খেজুরে-কাছাঢিলা
প্রশ্নটা বাগ্ধারার জোড়া নিয়ে। প্রতিটি অপশনে দুটি বাগ্ধারা আছে; যে জোড়ার দুটির অর্থ মেলে না, সেটিই উত্তর।
ঢাকের কাঠি আর খয়ের খাঁ দুটোই তোষামোদকারী বা মোসাহেব বোঝায়। অকাল কুষ্মাণ্ড আর আমড়া কাঠের ঢেঁকি দুটোই অপদার্থ বা অকেজো লোক। আটকপালে আর ইঁদুর কপালে দুটোই হতভাগ্য।
কিন্তু গোঁফ খেজুরে মানে নিতান্ত অলস, যে মুখে পড়া খেজুরও নিজে খায় না। আর কাছাঢিলা মানে অসাবধান বা ঢিলেঢালা স্বভাবের লোক। অর্থ কাছাকাছি মনে হলেও এক নয়, তাই এই জোড়াটি সমার্থক নয়।
এই ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি বাগ্ধারার অর্থ এক শব্দে লিখে ফেলুন, তারপর জোড়া মেলান।
মনে রাখুন: প্রতিটি বাগ্ধারার অর্থ এক শব্দে বসান; যে জোড়ায় দুটি আলাদা শব্দ আসে, সেটিই উত্তর।
৪৫০. ”রেসেনার শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?” (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কতুর্কি
- খফরাসি
- গপর্তুগিজ
- ঘওলন্দাজ
সঠিক উত্তর: খ. ফরাসি
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। ছাপা শব্দটি রেসেনার বিকৃত হয়ে গেছে; এটি রেস্তোরাঁ বা রেনেসাঁ, যেটাই হোক, দুটোই ফরাসি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
রেস্তোরাঁ ফরাসি restaurant থেকে, আর রেনেসাঁ ফরাসি renaissance থেকে, যার মানে নবজাগরণ। শব্দের শেষে নাসিক্য আঁ বা সাঁ ধ্বনি অনেক সময় ফরাসি উৎসের চিহ্ন।
বাংলায় আরও কয়েকটি ফরাসি শব্দ: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, বুর্জোয়া। ওলন্দাজ থেকে এসেছে তাসের নাম হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, তুরুপ; পর্তুগিজ থেকে আলমারি, চাবি, বালতি, পাউরুটি।
ফাঁদ হলো পর্তুগিজ। বাংলায় পর্তুগিজ শব্দ বেশি পরিচিত বলে সব ইউরোপীয় শব্দকে পর্তুগিজ ভেবে বসা সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: তাসের শব্দ ওলন্দাজ, ঘরের জিনিস পর্তুগিজ, আঁ-সাঁ ধ্বনির শব্দ ফরাসি।
৪৫১. নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কআরেক ফাল্গুন
- খআগুনের পরশমণি
- গহাঙর নদী গ্রেনেড
- ঘরাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর: ক. আরেক ফাল্গুন
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস চেনার। চারটির মধ্যে আরেক ফাল্গুন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নয়, এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা।
আরেক ফাল্গুন জহির রায়হানের উপন্যাস। এর পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পরের একুশে ফেব্রুয়ারি পালন। ফাল্গুন মাসেই একুশে ফেব্রুয়ারি পড়ে, সেখান থেকেই নাম।
বাকি তিনটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদের, ঢাকায় গেরিলা যোদ্ধাদের কাহিনি। হাঙর নদী গ্রেনেড সেলিনা হোসেনের, এক মায়ের আত্মত্যাগ নিয়ে। রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশার, যিনি নিজে একাত্তরে শহিদ হন।
জহির রায়হানের নাম দেখে ফাঁদে পড়বেন না। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে “স্টপ জেনোসাইড” প্রামাণ্যচিত্র বানিয়েছেন, কিন্তু আরেক ফাল্গুন ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস।
মনে রাখুন: নামে ফাল্গুন বা একুশ থাকলে আগে ভাষা আন্দোলনের কথা ভাবুন।
৪৫২. ‘Agora’ শব্দের বাংলা পরিভাষা- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপণ্য
- খপণ্যাগার
- গমুদি
- ঘমুদিখানা
সঠিক উত্তর: খ. পণ্যাগার
প্রশ্নটা ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষা নিয়ে। Agora শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিস থেকে; সেখানে শহরের যে খোলা জায়গায় হাট বসত আর লোকজন জড়ো হতো, তাকে বলা হতো agora।
অর্থাৎ agora একটি জায়গার নাম, যেখানে পণ্য কেনাবেচা হয়। বাংলায় পণ্য আর আগার, মানে ঘর বা স্থান, মিলে পণ্যাগার; এটি স্থানবাচক শব্দ বলে agora-র সবচেয়ে কাছাকাছি পরিভাষা।
পরিভাষার প্রশ্নে খেয়াল করুন শব্দটি বস্তু বোঝায় না স্থান। পণ্য মানে commodity বা goods, যা বিক্রি হয়; বিক্রির জায়গা নয়।
এই প্রশ্নে কোচিং কি-গুলোতে পণ্য আর পণ্যাগার নিয়ে মতভেদ আছে, আর পরিভাষা তালিকায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অর্থের যুক্তিতে, যেহেতু agora একটি স্থান, পণ্যাগারই বেশি গ্রহণযোগ্য।
মনে রাখুন: আগার যুক্ত শব্দ মানেই স্থান: গ্রন্থাগার, কারাগার, পণ্যাগার।
৪৫৩. 'সাত ঘাটের কানাকড়ি' প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ কী? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- ককপট মমতা
- খবড় রকমের ক্ষতি করা
- গঘোর শত্রুতা
- ঘঅকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ
সঠিক উত্তর: ঘ. অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ
সাত ঘাটের কানাকড়ি একটি বাগ্ধারা বা প্রবাদ, যার অর্থ অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ, অর্থাৎ অনেক জায়গা ঘুরে জোগাড় করা অতি সামান্য ও মূল্যহীন জিনিস।
কানাকড়ি মানে ফুটো বা ভাঙা কড়ি; একসময় কড়ি ছিল মুদ্রা, আর কানাকড়ি ছিল প্রায় মূল্যহীন। সাত ঘাট মানে অনেক জায়গা। সব মিলিয়ে, বহু কষ্টে নানা জায়গা থেকে জড়ো করা তুচ্ছ সঞ্চয়।
যেমন: সারা জীবন খেটে যা জমিয়েছেন, তা সাত ঘাটের কানাকড়ি ছাড়া কিছু নয়।
ফাঁদ হলো সাত ঘাটের জল খাওয়া বাগ্ধারার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা, যার অর্থ নানা জায়গায় ঘুরে হয়রান হওয়া বা নানা অভিজ্ঞতা অর্জন। অন্য অপশনগুলোর জন্য আলাদা বাগ্ধারা আছে, যেমন কপট মমতার জন্য মায়াকান্না।
মনে রাখুন: কানাকড়ি মানেই তুচ্ছ; তাই 'কানাকড়ি' আছে এমন বাগ্ধারায় মূল্যহীনতার অর্থ খুঁজুন।
৪৫৪. Ode কী? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- ককোরাস গান
- খগাথা কাহিনী
- গখণ্ড কবিতা
- ঘশোক কবিতা
সঠিক উত্তর: ক. কোরাস গান
Ode বা স্তোত্রকবিতা হলো গাম্ভীর্যপূর্ণ এক ধরনের গীতিকবিতা, যাতে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবকে সম্বোধন করে প্রশংসা বা আবেগ প্রকাশ করা হয়।
এর জন্ম প্রাচীন গ্রিসে। সেখানে পিন্ডারের ওডগুলো কোরাস বা সমবেত দল নাচ ও গানের সঙ্গে পরিবেশন করত। এই উৎসের কারণেই পরীক্ষায় Ode এর অর্থ হিসেবে কোরাস গান ধরা হয়।
ইংরেজিতে কিটসের Ode to a Nightingale আর শেলির Ode to the West Wind বিখ্যাত উদাহরণ।
ফাঁদ হলো শোক কবিতা; শোককবিতা হলো Elegy, যেমন গ্রে-র Elegy Written in a Country Churchyard। আর গাথা কাহিনী হলো Ballad।
মনে রাখুন: Ode = স্তোত্র/কোরাস গান, Elegy = শোক, Ballad = গাথা, Sonnet = ১৪ লাইন।
৪৫৫. সন্ধির প্রধান সুবিধা কি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি
- খউচ্চারণের সুবিধা
- গশব্দগত মাধুর্য সৃষ্টি
- ঘলেখার সুবিধা
সঠিক উত্তর: খ. উচ্চারণের সুবিধা
প্রশ্নটা সন্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে। পাশাপাশি দুটি ধ্বনি মিলে যখন একটি ধ্বনি হয় বা একটি বদলে যায়, তাকে সন্ধি বলে। যেমন বিদ্যা আর আলয় মিলে বিদ্যালয়।
এই মিলন কেন ঘটে? দুটো স্বর বা ব্যঞ্জন পাশাপাশি এলে আলাদা আলাদা উচ্চারণ করতে জিভকে বাড়তি কষ্ট করতে হয়। মুখ স্বাভাবিকভাবেই সহজ পথ খোঁজে, তাই ধ্বনি দুটি জুড়ে যায়। এজন্য ব্যাকরণে সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য বলা হয় উচ্চারণের সহজতা।
উচ্চারণ সহজ হলে শুনতেও মধুর লাগে, তাই ধ্বনিগত মাধুর্য সন্ধির দ্বিতীয় উদ্দেশ্য। কিন্তু সেটা উচ্চারণ সহজ হওয়ারই ফল, প্রধান কারণ নয়।
ফাঁদ হলো ধ্বনিগত মাধুর্য: কথাটা সত্য, কিন্তু প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে প্রধান সুবিধা। আর সন্ধি ধ্বনির মিলন, শব্দের বা লেখার নয়; তাই শব্দগত মাধুর্য বা লেখার সুবিধা ভুল।
মনে রাখুন: সন্ধি = ধ্বনির মিলন; প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চারণ সহজ করা, দ্বিতীয়টি ধ্বনিমাধুর্য।
৪৫৬. 'কুইনাইন' কোন ভাষার শব্দ? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কপর্তুগিজ
- খগ্রিক
- গতুর্কি
- ঘপেরু
সঠিক উত্তর: ঘ. পেরু
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। বাংলা ব্যাকরণে কুইনাইন শব্দটিকে পেরুভীয় শব্দ, অর্থাৎ পেরু দেশের ভাষা থেকে আসা শব্দ বলা হয়।
কারণটা ইতিহাসে। ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন তৈরি হয় সিনকোনা গাছের ছাল থেকে, আর এই গাছ দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ অঞ্চলের, বিশেষ করে পেরুর। সেখানকার কেচুয়া ভাষায় ছালকে বলা হতো কিনা; সেখান থেকে স্প্যানিশ ও ইংরেজি হয়ে কুইনাইন শব্দটি আমাদের কাছে এসেছে।
পাশের তথ্যগুলোও মনে রাখুন: আনারস, আলমারি, চাবি, বালতি পর্তুগিজ; কাঁচি, চাকু, দারোগা তুর্কি; দাম, সুড়ঙ্গ গ্রিক।
ফাঁদ হলো পর্তুগিজ: ওষুধ ও ফলের অনেক শব্দ পর্তুগিজ থেকে এসেছে বলে সবাই সেদিকে ঝোঁকে, কিন্তু কুইনাইন পেরুর।
মনে রাখুন: ভিনদেশি শব্দের প্রশ্নে কুইনাইন দেখলেই পেরু।
৪৫৭. মেঘ এর সঠিক সমার্থক শব্দ নয় কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কপাদপ
- খবারিদ
- গayn
- ঘজলদ
সঠিক উত্তর: ক. পাদপ
প্রশ্নটা মেঘের সমার্থক শব্দ নিয়ে, তবে উল্টো করে: কোনটি মেঘ বোঝায় না, সেটা খুঁজতে হবে।
মেঘের বেশির ভাগ সমার্থক শব্দ গঠিত হয়েছে জল দেয় বা জল ধরে এই অর্থে। বারি মানে জল, দ মানে যে দেয়: বারিদ। একইভাবে জলদ, নীরদ, অম্বুদ, পয়োদ, জলধর। এর বাইরে ঘন, জীমূত, মেঘমালাও মেঘ বোঝায়।
পাদপ শব্দের অর্থ গাছ। পাদ মানে পা, অর্থাৎ শিকড়; প মানে যে পান করে। যে পা দিয়ে, মানে শিকড় দিয়ে জল পান করে, সে পাদপ। তাই এটি মেঘের সমার্থক নয়।
শব্দের শেষে দ দেখলে বুঝবেন দাতা: জলদ, বারিদ, নীরদ মেঘ। শেষে প দেখলে পানকারী: পাদপ গাছ। এই দ আর প গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: শেষে দ (দাতা) = মেঘ: জলদ, বারিদ, নীরদ, অম্বুদ। শেষে প = পানকারী: পাদপ (গাছ)।
৪৫৮. 'আকুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কউত্তরণ
- খবিদীর্ণ
- গপ্রসারণ
- ঘঅপকর্ষ
সঠিক উত্তর: গ. প্রসারণ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ নিয়ে। আকুঞ্চন মানে গুটিয়ে যাওয়া, সংকুচিত হওয়া বা ভাঁজ পড়া। যেমন ঠান্ডায় ধাতু আকুঞ্চিত হয়।
এর ঠিক উল্টো ঘটনা হলো ছড়িয়ে যাওয়া বা বিস্তৃত হওয়া, যাকে বলে প্রসারণ। তাপে ধাতুর প্রসারণ হয়, ঠান্ডায় আকুঞ্চন হয়; বিজ্ঞানের এই জোড়াটা মনে রাখলেই উত্তর মেলে।
একই ধরনের আরও জোড়া: সংকোচন আর প্রসারণ, আকুঞ্চন আর প্রসারণ, উৎকর্ষ আর অপকর্ষ।
ফাঁদ হলো অপকর্ষ: এটি নিজেই একটি জোড়ার অংশ, কিন্তু তার বিপরীত উৎকর্ষ, আকুঞ্চন নয়।
মনে রাখুন: তাপে প্রসারণ, ঠান্ডায় আকুঞ্চন: পদার্থবিজ্ঞানের জোড়াটাই উত্তর।
৪৫৯. 'সম্পূর্ণরূপে বিবেচনা করা হয় নাই এমন' এটিকে এক শব্দে প্রকাশ করা যায় কোন শব্দে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কঅসমর্থিত
- খঅসমাপ্ত
- গঅসমীক্ষিত
- ঘঅসম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর: গ. অসমীক্ষিত
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ নিয়ে। সমীক্ষা মানে সম্যক বা ভালোভাবে দেখা, পুরোপুরি বিবেচনা করা। যা ভালোভাবে বিবেচনা করা হয়েছে তা সমীক্ষিত।
এর আগে না-অর্থের অ বসালে হয় অসমীক্ষিত, মানে যা সম্পূর্ণরূপে বিবেচনা করা হয়নি। সম, ঈক্ষ মানে দেখা, আর ত প্রত্যয়: এই তিনটি অংশ মিলেই অর্থটা আসে।
অন্য অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: অসমর্থিত মানে যাকে সমর্থন করা হয়নি, অসমাপ্ত মানে শেষ হয়নি, অসম্পূর্ণ মানে পূর্ণ নয়।
ফাঁদ হলো অসম্পূর্ণ: প্রশ্নে সম্পূর্ণরূপে কথাটা দেখে অনেকে এটিই বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্নের মূল ক্রিয়া বিবেচনা করা, আর বিবেচনার শব্দ হলো সমীক্ষা।
মনে রাখুন: ঈক্ষ ধাতু মানে দেখা: সমীক্ষা, পরীক্ষা, নিরীক্ষা, প্রতীক্ষা। বিবেচনা না করা মানেই অসমীক্ষিত।
৪৬০. 'লৌকিক ছন্দ' কাকে বলে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কপদ্ম ছন্দকে
- খস্বরবৃত্তকে
- গমাত্রাবৃত্তকে
- ঘঅক্ষরবৃত্তকে
সঠিক উত্তর: খ. স্বরবৃত্তকে
প্রশ্নটা বাংলা ছন্দের অন্য নাম নিয়ে। বাংলা কবিতায় তিনটি প্রধান ছন্দ: স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর অক্ষরবৃত্ত। এদের প্রত্যেকের একাধিক নাম আছে।
স্বরবৃত্ত ছন্দকে বলা হয় লৌকিক ছন্দ বা ছড়ার ছন্দ, কারণ গ্রামবাংলার ছড়া আর লোকমুখের গান এই ছন্দেই রচিত। যেমন: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান। এর আরেক নাম দলবৃত্ত, আর এটি শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ; প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
মাত্রাবৃত্তকে বলে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ, আর অক্ষরবৃত্তকে বলে তানপ্রধান ছন্দ বা মিশ্রকলাবৃত্ত। পয়ার হলো অক্ষরবৃত্তেরই একটি রূপ।
ফাঁদ হলো অক্ষরবৃত্ত বা পয়ার: মধ্যযুগের পাঁচালি পয়ারে লেখা বলে অনেকে একে লোকছন্দ ভাবেন। কিন্তু লৌকিক বা ছড়ার ছন্দ নাম কেবল স্বরবৃত্তের।
মনে রাখুন: ছড়া = লোক = স্বরবৃত্ত। শ্বাসাঘাত, দলবৃত্ত, লৌকিক সব এক ছন্দের নাম।